সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
অপরাধ

সাবেক সঙ্গীর ধাক্কায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী, ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৭:৪২
জেনিন কাজমি
জেনিন কাজমি

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে সাবেক সঙ্গীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন জেনিন কাজমি। তাঁর জীবনের এই মর্মান্তিক ঘটনা পারিবারিক সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি ভোরে গ্লাসগোর ডালমারনক এলাকায় সাবেক সঙ্গী ব্যারি শ্যাঙ্কলির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সম্পর্কের অবনতি এবং ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে জেনিনের সঙ্গে শ্যাঙ্কলির সংঘাত তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্যাঙ্কলি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি সিঁড়ির রেলিং টপকে নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে।


চিকিৎসার পর জেনিন জানতে পারেন, এই আঘাতের কারণে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন না। তাঁকে হুইলচেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা করতে হয়। আকস্মিক এই বিপর্যয় তাঁর দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গভীর পরিবর্তন নিয়ে আসে।

 

তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে।

 

তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে।

 

২০২০ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের লিসবনে ভ্রমণের সময়ও তাঁদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আদালতের নথিতে জেনিনকে ধাক্কা দেওয়া, তাঁর ফোন ভেঙে ফেলা এবং তাঁকে আঘাত করার মতো অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। পরবর্তী সময়েও তাঁদের মধ্যে নির্যাতনমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল বলে বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেনিনের সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ হয়েছিল। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, শ্যাঙ্কলি তাঁকে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে স্মৃতি ফিরে আসার পর জেনিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।

 

২০২৪ সালের ২৮ জুন গ্লাসগোর উচ্চ আদালতের বিচারকমণ্ডলী শ্যাঙ্কলিকে সাবেক সঙ্গীর প্রতি ধারাবাহিক নির্যাতনমূলক আচরণসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই বছরের ২৫ জুলাই বিচারক তাঁকে ১৪ বছরের বর্ধিত সাজা দেন। এর মধ্যে ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং পরবর্তী এক বছরের বর্ধিত মেয়াদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জেনিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাঁর কাছে যাওয়ার ওপরও অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

 

জেনিনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভয় দেখানো, সামাজিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ, পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা এবং মানসিক চাপও নির্যাতনের অংশ হতে পারে।

 

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্যাতনের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

জেনিন কাজমির জীবনের এই ঘটনা তাই শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত দুর্ভোগের কাহিনি নয়; এটি সহিংস সম্পর্ক থেকে সুরক্ষা, অপরাধের বিচার এবং নির্যাতিত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অপরাধ

View more
আইসিইর হাতে আটক
আইসিইর হাতে ভুলভাবে আটক হলে ৫ লাখ ডলার, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে বিনা পরোয়ানায় বা যথেষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইনড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ। এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন নিউ জার্সির প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান।    বিলটির মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা বা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিনা পরোয়ানায় এবং যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা আটক করলে, সেই নাগরিক যেন আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ পান। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তাই এটিকে ইতোমধ্যে কার্যকর আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অঙ্ক। প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালতে কোনো নাগরিকের দাবি প্রমাণিত হলে তাঁকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আটকের প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তিসংগত আইনজীবীর ফি ও আদালতের খরচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনামূলক বা ঘোষণামূলক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।   উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি প্রথম দিনের পর আরও পাঁচ দিন আটক থাকেন, তাহলে প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অঙ্ক হবে ১০ লাখ ডলার—আইনটি কার্যকর হওয়া এবং আদালতে দাবি প্রমাণিত হওয়ার শর্তে।    প্রস্তাবিত আইনটি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ বা তার পরের সময়ের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আইনটি পাস হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নাগরিকেরা অতীতের কিছু আটক-ঘটনার জন্যও মামলা করার সুযোগ পেতে পারেন। মামলা দায়েরের জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা রাখা হয়েছে। বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ধরনের মামলায় ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’ বা ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’কে দায় এড়ানোর প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে এসব মামলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তার সার্বভৌম দায়মুক্তির সুরক্ষা ত্যাগ করবে।    বিলটির পটভূমিতে রয়েছে অভিবাসন অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদের ভুলভাবে আটক করার অভিযোগ। প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রোপাবলিকার একটি অনুসন্ধানে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর পর থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিক আটক হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।   ওই তালিকায় শিশু এবং অভিবাসন অভিযান ভিডিও করার সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া; এটি কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অবৈধ আটক প্রমাণিত ব্যক্তির সংখ্যা নয়।    বিলটি শুধু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে একটি নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত তহবিলের যেসব অর্থ এখনো বরাদ্দ বা ব্যয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি, সেগুলো স্থায়ীভাবে বাতিল করার বিধানও রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি একদিকে নাগরিকদের আইনি প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে অভিবাসন প্রয়োগে ব্যবহৃত অর্থের বিষয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৮:৫৭
সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক।

টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ভরসায় ঘুম, পুলিশের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘুম ভাঙল চালকের!

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে আবাসিক কলেজ

মাদক দেওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ, নিউইয়র্কে কলেজছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

জেনিন কাজমি

সাবেক সঙ্গীর ধাক্কায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী, ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড

পাতালরেল স্টেশনে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত
ম্যানহাটনের পাতালরেল স্টেশনে গুলিতে নিহত একজন, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মিডটাউন ম্যানহাটনের একটি পাতালরেল স্টেশনে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর সন্দেহভাজনকে খুঁজছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ২১ মিনিটে সপ্তম অ্যাভিনিউ ও পশ্চিম ৫৩তম স্ট্রিটের পাতালরেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি ব্রডওয়ের কয়েকটি থিয়েটার ও কার্নেগি হলের কাছাকাছি।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে গুলি চালানো হয়। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি ট্রেনে গড়ায় এবং পরে আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। তবে গুলিগুলো ঠিক ট্রেনের ভেতরে নাকি প্ল্যাটফর্মে ছোড়া হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রাথমিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি।   গুলিতে আহত ব্যক্তির বুকে আঘাত লাগে। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    পুলিশ সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে তাঁকে লাল রঙের ট্র্যাকস্যুট, কালো ভেস্ট ও কালো মুখোশ পরা অবস্থায় দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যান এবং সপ্তম অ্যাভিনিউ ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে যান। ঘটনার পরপরই কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।    ঘটনার তদন্তের কারণে নিউইয়র্কের গণপরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি জানিয়েছিল, পুলিশি তদন্ত চলাকালে সি, ডি ও ই লাইনের ট্রেনগুলো সপ্তম অ্যাভিনিউ স্টেশন এড়িয়ে চলছিল। ই লাইনের কিছু ট্রেনকে বিকল্প পথে পরিচালনা করা হয় এবং এ, সি, ডি, ই ও এফ লাইনে বিলম্ব দেখা দেয়।    পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। কারও কাছে এ ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য থাকলে এনওয়াইপিডি ক্রাইম স্টপার্সের নম্বর ১-৮০০-৫৭৭-টিপস (৮৪৭৭)-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্প্যানিশ ভাষায় তথ্য দেওয়ার জন্যও আলাদা নম্বর রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:৪
পশ্চিম তীরে হা মলার শিকার ওয়াশিংটন পোস্টের আলোকচিত্রী

ওয়াশিংটন পোস্টের নারী সাংবাদিককে পিটিয়ে আ হ ত করল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা

আর্থিক প্রতারণার একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনায়

৭৮ মাসের সাজা, তবু কারাগারের ফোনে ফাঁস ৯৩ বছরের নারীর ৪৫ হাজার ডলারের চেকের রহস্য

উনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লক্ষ্যা যাদব

ফ্লোরিডায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারতীয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, শনাক্তে গাড়ির ক্যামেরার তথ্য

নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস।
স্বামীর আগের বিয়ের খবর জানার পর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার দুইজন

চট্টগ্রামে স্বামীর আগের বিয়ের তথ্য জানার পর এক নারীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস তদন্তের পর এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্বামীসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।   নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁর বয়স ২৮ বছর। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংস্থাটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।   পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট সিগন্যাল এলাকার বাসায় থাকতেন।   তদন্তকারীদের দাবি, রাজা মিয়া বিয়ের আগে নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর জান্নাতুল জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। এ তথ্য জানার পর তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা মিয়া এবং পরিচিত মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।   তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রথমে দাম্পত্য বিরোধ মেটাতে তাঁরা কালুরঘাট সেতুর কাছে এক কবিরাজের কাছে যান। সেখানে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে তাতেও বিরোধ না মেটায় জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পিবিআইয়ের দাবি।   ঘটনার দিন ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজা মিয়া ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই একটি সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন মুসলিম উদ্দিন, আরমান এবং রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুক্কুর আহমেদ। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে যায়।   পিবিআইয়ের দাবি, রাত আটটার দিকে নৌকার মধ্যে রাজা মিয়া ও জান্নাতুলের মধ্যে আবারও তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজা মিয়া স্ত্রীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তাঁর মুখ চেপে ধরা হয় এবং আরমান রশি দিয়ে তাঁর গলায় চাপ দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এতে জান্নাতুলের মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।   তদন্তকারীদের আরও দাবি, হত্যার পর জান্নাতুলের হাত-পা বেঁধে মরদেহ একটি বস্তায় ভরা হয়। পরে কর্ণফুলী থানার কালারপোল এলাকার কাছে শিকলবাহা খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   ২ আগস্ট কর্ণফুলী থানার অধীন শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনার পর রাজা মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপর জান্নাতুলের মা সায়েরা খাতুন কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন।   প্রাথমিকভাবে সদরঘাট নৌ-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছিল। পরে ৬ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্র ব্যবহার করে পিবিআইয়ের একটি দল টেকনাফ থেকে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্কুর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা সাম্পান নৌকাটি জব্দ করা হয়।   পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুসলিম উদ্দিন বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মামলার অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।   পিবিআই জানিয়েছে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া ও আরমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার পরিকল্পনা, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:৩২
মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা

গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

তরুণীকে স্পর্শের অভিযোগে সড়কে মারধর, ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় কারাগারে দুজন!

হারমিন্দর গিল

পাউন্ডল্যান্ডে ২৬ দিনে ২৫ হাজার পাউন্ড আত্মসাৎ, ভারতীয় কর্মীর সাজা

0 Comments