সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

ডিগ্রি থাকলেও নিউইয়র্কে এবার বিনামূল্যে কলেজ, নতুন ক্যারিয়ারের দরজা খুলছে হাজারো মানুষের জন্য

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৭:৪০
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও নতুন ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা করেছেন, ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা আগে অন্য বিষয়ে কলেজ ডিগ্রি অর্জন করলেও এখন নির্দিষ্ট উচ্চ চাহিদার বিষয়ে বিনামূল্যে সহযোগী ডিগ্রি নিতে পারবেন।

 

নতুন এই সুবিধা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া বসন্তকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। এর আওতায় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অনুমোদিত কর্মমুখী সহযোগী ডিগ্রি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ থাকবে। টিউশন, ফি, বই ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের খরচও কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হবে।

 

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যারা মাঝপথে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দেওয়া। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে যেসব পেশায় কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

নিউইয়র্কের প্রশাসন বলছে, আগে কলেজ ডিগ্রি থাকলে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী সরকারি এই বিনামূল্যের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারতেন না। নতুন সিদ্ধান্তে সেই বাধা সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন ব্যক্তি আগে ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান, মানবিক বা অন্য কোনো বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেও এখন নতুন উচ্চ চাহিদার ক্ষেত্রে সহযোগী ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, যদি তিনি অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করেন।

 

এর ফলে নিউইয়র্কে বসবাসকারী অনেক অভিবাসী ও দক্ষিণ এশীয় পরিবারের জন্যও সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা বিদেশে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে চাকরি পাচ্ছেন না, তারা নতুন কোনো কর্মমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

 

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনামূল্যের কলেজ সুবিধা নয়। আবেদনকারীকে নিউইয়র্কের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং অনুমোদিত উচ্চ চাহিদার সহযোগী ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াও আলাদা হতে পারে।

 

নতুন সম্প্রসারণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিউইয়র্ক সরকার এখন শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে বড় বিষয় হিসেবে দেখছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে কিছু পুরোনো কাজের চাহিদা কমতে পারে, আবার সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নতুন দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন বাড়তে পারে।

 

এই বাস্তবতায় কর্মীদের শুধু আগের ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।গভর্নর হোকুলের প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চালু হওয়া রিকানেক্ট কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে কমিউনিটি কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। নতুন সম্প্রসারণের ফলে আরও কয়েক দশ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

 

আগের কর্মসূচিতে মূলত এমন প্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্য করা হয়েছিল যাদের আগে কলেজ ডিগ্রি ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। ফলে ক্যারিয়ারের মাঝপথে থাকা একজন কর্মীও নতুন বিষয়ে পড়াশোনা করে নিজের পেশাগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারবেন।

 

বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কে নার্সিংসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশায় কর্মীর চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রেও দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ডিগ্রি থাকলেও নিউইয়র্কে এবার বিনামূল্যে কলেজ, নতুন ক্যারিয়ারের দরজা খুলছে হাজারো মানুষের জন্য

নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও নতুন ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা করেছেন, ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা আগে অন্য বিষয়ে কলেজ ডিগ্রি অর্জন করলেও এখন নির্দিষ্ট উচ্চ চাহিদার বিষয়ে বিনামূল্যে সহযোগী ডিগ্রি নিতে পারবেন।   নতুন এই সুবিধা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া বসন্তকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। এর আওতায় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অনুমোদিত কর্মমুখী সহযোগী ডিগ্রি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ থাকবে। টিউশন, ফি, বই ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের খরচও কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হবে।   এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যারা মাঝপথে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দেওয়া। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে যেসব পেশায় কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।   নিউইয়র্কের প্রশাসন বলছে, আগে কলেজ ডিগ্রি থাকলে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী সরকারি এই বিনামূল্যের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারতেন না। নতুন সিদ্ধান্তে সেই বাধা সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন ব্যক্তি আগে ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান, মানবিক বা অন্য কোনো বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেও এখন নতুন উচ্চ চাহিদার ক্ষেত্রে সহযোগী ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, যদি তিনি অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করেন।   এর ফলে নিউইয়র্কে বসবাসকারী অনেক অভিবাসী ও দক্ষিণ এশীয় পরিবারের জন্যও সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা বিদেশে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে চাকরি পাচ্ছেন না, তারা নতুন কোনো কর্মমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনামূল্যের কলেজ সুবিধা নয়। আবেদনকারীকে নিউইয়র্কের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং অনুমোদিত উচ্চ চাহিদার সহযোগী ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াও আলাদা হতে পারে।   নতুন সম্প্রসারণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিউইয়র্ক সরকার এখন শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে বড় বিষয় হিসেবে দেখছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে কিছু পুরোনো কাজের চাহিদা কমতে পারে, আবার সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নতুন দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন বাড়তে পারে।   এই বাস্তবতায় কর্মীদের শুধু আগের ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।গভর্নর হোকুলের প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চালু হওয়া রিকানেক্ট কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে কমিউনিটি কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। নতুন সম্প্রসারণের ফলে আরও কয়েক দশ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   আগের কর্মসূচিতে মূলত এমন প্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্য করা হয়েছিল যাদের আগে কলেজ ডিগ্রি ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। ফলে ক্যারিয়ারের মাঝপথে থাকা একজন কর্মীও নতুন বিষয়ে পড়াশোনা করে নিজের পেশাগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারবেন।   বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কে নার্সিংসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশায় কর্মীর চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রেও দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৭:৪০
ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাংকিং ক্যারিয়ার ছেড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছেন নায়লা শারাফ। ছবি: সংগৃহীত

বুয়েটের ডিগ্রি, বিসিএস ক্যাডারের চাকরি ছেড়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নায়লা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে ঢাবিকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নেওয়ার আহ্বান

কম সিজিপিএ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে

কম সিজিপিএতেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করুন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, জেনে নিন শর্ত

ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ভাতা ও টিউশন সহায়তার সুযোগ
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স-পিএইচডিতে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ভাতা ও টিউশন সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গবেষণা, শিক্ষকতা কিংবা পেশাগত বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ভাতা, টিউশন সহায়তা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকিও পাওয়া যেতে পারে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের ন্যূনতম ভাতা ২৪ হাজার ৭২০ ডলার। ডক্টরাল পর্যায়ে এই ন্যূনতম ভাতা ২৭ হাজার ১৯২ ডলার।   নয় মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট পর্যায়ের ন্যূনতম ভাতা ১৮ হাজার ৫৪০ ডলার এবং ডক্টরাল পর্যায়ে ২০ হাজার ৩৯২ ডলার। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ন্যূনতম ভাতার পরিমাণ। কোনো কোনো একাডেমিক প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীর পর্যায় ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এর চেয়ে বেশি ভাতা দিতে পারে।   অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ মূলত পড়াশোনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার একটি ব্যবস্থা। এর মধ্যে রয়েছে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট ইনস্ট্রাক্টর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ।   অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ একাডেমিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে এসব পদে সুযোগ পান। কখনো ভর্তির প্রস্তাবের সঙ্গেই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। আবার কখনো শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই সবার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা অর্থায়ন নিশ্চিত—এমন নয়।   সাধারণভাবে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সপ্তাহে ১০ থেকে ২০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কাজের ধরন ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে ভাতার পরিমাণ এবং অন্যান্য সুবিধাও নির্ধারিত হয়।   টিউশন সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট টিউশন সাপোর্ট প্রোগ্রাম অনুযায়ী, পূর্ণ টিউশন সহায়তার জন্য সাধারণভাবে অর্ধকালীন একটি অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, দুটি এক-চতুর্থাংশ সময়ের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ অথবা একটি এক-চতুর্থাংশ সময়ের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় ফেলোশিপ থাকতে হয়।   এ জন্য শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি থাকতে হবে এবং সন্তোষজনক একাডেমিক অবস্থান বজায় রাখতে হবে। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ধরন, কাজের সময় ও ভাতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে।   টিউশন সহায়তার আওতায় ডিগ্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য কোর্সের টিউশন নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট হারে পরিশোধ করা হয়। তবে সব ধরনের বাধ্যতামূলক ফি এর আওতায় পড়ে না। স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটি, স্বাস্থ্যসেবা বা রিক্রিয়েশন সেন্টারের মতো বিভিন্ন ফি শিক্ষার্থীকে নিজেকেই দিতে হতে পারে, যদি বিভাগ থেকে আলাদা ব্যবস্থা না থাকে।   এ ছাড়া কোনো কোর্সের টিউশন নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট হারের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থী বা তাঁর বিভাগকে বহন করতে হতে পারে। তাই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রস্তাব পাওয়ার পর কোন খরচগুলো সহায়তার আওতায় রয়েছে, তা ভালোভাবে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এসব সুযোগের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়, যদি আবেদনকারী নির্ধারিত কোনো অব্যাহতির আওতায় না থাকেন। গ্রহণযোগ্য পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে টোফেল, একাডেমিক আইইএলটিএস এবং পিটিই একাডেমিক।   তবে প্রয়োজনীয় স্কোর ও অন্যান্য ভর্তি শর্ত প্রোগ্রামভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যে বিষয়ে আবেদন করা হবে, সেই বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখে যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।   টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা গ্র্যাজুয়েট ইনস্ট্রাক্টর পদে অতিরিক্ত ভাষাগত মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। যাঁদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় এবং যাঁরা শ্রেণিকক্ষ বা ল্যাবে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের ইংরেজিতে কার্যকরভাবে যোগাযোগের সক্ষমতা থাকতে হবে।   এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্ট্রাকশনাল অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট কর্মসূচির মূল্যায়নে অংশ নিতে হতে পারে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা এবং পাঠদানের অনুমোদন পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়।   আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের পছন্দের বিষয় অনুযায়ী গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর ওই প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা দেখে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের খালি পদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।   বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা ও অতিরিক্ত নথির প্রয়োজনীয়তা একাডেমিক প্রোগ্রামভেদে নির্ধারিত হয়। একইভাবে জিআরই প্রয়োজন কি না, সেটিও প্রোগ্রাম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ফলে সব বিভাগের জন্য একই সময়সীমা বা অভিন্ন পরীক্ষার শর্ত ধরে আবেদন করা ঠিক হবে না।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নথি দেওয়ার আগে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শিক্ষাবর্ষের ব্যয় বহনের মতো অর্থায়নের প্রমাণ দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তার ঘোষণা কিংবা অর্থায়নের চিঠি ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে প্রাথমিক ভর্তি আবেদন পর্যালোচনার সময় এই আর্থিক নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:১৩
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি.ফিল প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের গ্রাম থেকে অক্সফোর্ডের গবেষণাগারে: নতুন অধ্যায়ে বিজ্ঞানী উজ্জ্বল

আইইএলটিএসে ৯-এ ৯, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও কৌশল জানালেন মুস্তাবীন নূর

আইইএলটিএসে ৯-এ ৯, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও কৌশল জানালেন মুস্তাবীন নূর

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে রাজ্যভেদে বড় পার্থক্য, শীর্ষে ভার্মন্ট

যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য

আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বিশ্বের শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। ছবি: সংগৃহীত
১১৯ দল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা ছয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বিশ্বের শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১১৯টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এ সাফল্য অর্জন করেছে দলটি।    ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ দলের আট সদস্যের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা হলেন মুর্শিদা জাহান মিতু, নূর আয়শা চৌধুরী, আরকানুল ইসলাম আকিক, সাদিয়া ইসলাম বাধন, সাইফা সাবা হোসাইন এবং কুর্চি রহমান লুবা। দলের অন্য দুই সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটন ত্রিপুরা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানি তাকবিম এশা।    প্রতিযোগিতার শুরুতে ১১৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে দলটি শীর্ষ ৩০-এ জায়গা করে নেয়। এরপর প্রস্তাবিত সমাধান বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের জন্য দলটি ১ হাজার ইউরোর বীজ অনুদান পায়। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস ধরে মাঠপর্যায়ের কাজ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হয়।    ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’-এর প্রকল্পটি মূলত পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহার করে টেকসই মাছ চাষব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রকল্পটির লক্ষ্য পুকুরের পাড়ের ভাঙন কমানো, পানির মান উন্নত করা এবং পাটের বর্জ্য ও উপজাতকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্রাকার ও পরিবেশবান্ধব জলজ খাদ্যব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে পাটজাত উপকরণ, জৈব কয়লা এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ চাষকে আরও টেকসই করার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে।    আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জটি নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনজেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ যৌথভাবে আয়োজন করে। ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ১৭টি অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০টি দল নির্বাচিত হয়েছিল। ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনজেনে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।    প্রকল্পটির উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ দলটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে তার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা তাদের কাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমানও প্রকল্পের উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা, পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন।    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষ ছয়ে পৌঁছানোকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি ও জলজ খাদ্যব্যবস্থার সমস্যা থেকে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:৪৭
অটো পেমেন্টে যুক্ত হলে স্টুডেন্ট লোনের সুদ ১ শতাংশ কমানোর সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা দপ্তর

স্টুডেন্ট লোনে সুদ কমানোর সুযোগ বাড়ল, বাড়ানো হলো আবেদনের সময়সীমা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বসেরা অক্সফোর্ডে মাস্টার্সের  সুযোগ পেলেন ফারিহা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বসেরা অক্সফোর্ডে মাস্টার্সের সুযোগ পেলেন ফারিহা

আইসিইউতে নুরনবী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপের কামড়, আইসিইউতে নুরনবী

0 Comments