সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

কাঠমিস্ত্রির ছেলে সাজিবুল, সব বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গে, পেয়েছেন চার কোটি টাকার ফান্ড

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৯:২২
ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের মো. সাজিবুল ইসলাম
ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের মো. সাজিবুল ইসলাম

ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের মো. সাজিবুল ইসলাম প্রায় চার কোটি টাকার ফিন্যান্সিয়াল এইড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গ কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৫ সালে তাঁর এই ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। কাঠমিস্ত্রি বাবার সংসারে বেড়ে ওঠা সাজিবুলের প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে ছিল অনলাইনে শেখা, ইংরেজির দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদেশে ভর্তির সঠিক তথ্য খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা। 

 

আজকের পত্রিকায় ২০২৫ সালের ৩১ মে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে সাজিবুল জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সবচেয়ে বড় বাধা ছিল সঠিক দিকনির্দেশনা ও তথ্যের অভাব। ইংরেজিতে কথা বলার পরিবেশও ছিল সীমিত। এসব বাধা পেরিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেন। তাঁর আর্থিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকা বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

সাজিবুলের বাবা মো. রুহুল আমিন পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। মা হালিমা বেগম গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের পরিবারে ছোটবেলা থেকেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা করেছেন তিনি। স্থানীয় ২১০ নম্বর চর শশিভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু। পরে বরিশালের কর্ণকাঠী ইজ্জাতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। আব্দুর রসিদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণি শেষ করার পর গ্রামের বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

 

বিদেশে পড়ার আগ্রহ তৈরিতে বড় ভাই মো. আল আমিনের ভূমিকা ছিল। বড় ভাই স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সাজিবুলও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। উচ্চমাধ্যমিকের পর দেশের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে আবেদনের জন্য নিজেকে তৈরি করেন তিনি।

বড় ভাইয়ের পরামর্শে নেক্সটজেন অ্যাব্রড থেকে এসএটি ও ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন সাজিবুল। ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে ব্যবহার করেন ইউটিউব ও অনলাইনে বিনা মূল্যে পাওয়া শিক্ষাসামগ্রী। কলেজ বোর্ডের বিগফিউচার প্ল্যাটফর্মে খোঁজ করতে গিয়ে গেটিসবার্গ কলেজ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে সেখানে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা পান।

এই প্রস্তুতির আগেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। করোনাকালে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় এক বছর মাস্ক বিক্রি করেন সাজিবুল। সংসারের সেই সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি চালিয়ে যান।

 

উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করতে চান সাজিবুল। নিজ গ্রামের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে চান, যাতে তথ্য ও দিকনির্দেশনার অভাবে অন্য শিক্ষার্থীদের পথ আটকে না যায়।
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের মো. সাজিবুল ইসলাম
কাঠমিস্ত্রির ছেলে সাজিবুল, সব বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গে, পেয়েছেন চার কোটি টাকার ফান্ড

ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের মো. সাজিবুল ইসলাম প্রায় চার কোটি টাকার ফিন্যান্সিয়াল এইড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গ কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৫ সালে তাঁর এই ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। কাঠমিস্ত্রি বাবার সংসারে বেড়ে ওঠা সাজিবুলের প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে ছিল অনলাইনে শেখা, ইংরেজির দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদেশে ভর্তির সঠিক তথ্য খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা।    আজকের পত্রিকায় ২০২৫ সালের ৩১ মে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে সাজিবুল জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সবচেয়ে বড় বাধা ছিল সঠিক দিকনির্দেশনা ও তথ্যের অভাব। ইংরেজিতে কথা বলার পরিবেশও ছিল সীমিত। এসব বাধা পেরিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেন। তাঁর আর্থিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকা বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।  সাজিবুলের বাবা মো. রুহুল আমিন পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। মা হালিমা বেগম গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের পরিবারে ছোটবেলা থেকেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা করেছেন তিনি। স্থানীয় ২১০ নম্বর চর শশিভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু। পরে বরিশালের কর্ণকাঠী ইজ্জাতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। আব্দুর রসিদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণি শেষ করার পর গ্রামের বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।   বিদেশে পড়ার আগ্রহ তৈরিতে বড় ভাই মো. আল আমিনের ভূমিকা ছিল। বড় ভাই স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সাজিবুলও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। উচ্চমাধ্যমিকের পর দেশের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে আবেদনের জন্য নিজেকে তৈরি করেন তিনি। বড় ভাইয়ের পরামর্শে নেক্সটজেন অ্যাব্রড থেকে এসএটি ও ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন সাজিবুল। ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে ব্যবহার করেন ইউটিউব ও অনলাইনে বিনা মূল্যে পাওয়া শিক্ষাসামগ্রী। কলেজ বোর্ডের বিগফিউচার প্ল্যাটফর্মে খোঁজ করতে গিয়ে গেটিসবার্গ কলেজ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে সেখানে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা পান। এই প্রস্তুতির আগেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। করোনাকালে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় এক বছর মাস্ক বিক্রি করেন সাজিবুল। সংসারের সেই সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি চালিয়ে যান।   উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করতে চান সাজিবুল। নিজ গ্রামের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে চান, যাতে তথ্য ও দিকনির্দেশনার অভাবে অন্য শিক্ষার্থীদের পথ আটকে না যায়।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৯:২২
বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে বছরে ৩৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড

ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পিএইচডি ফান্ডিং, বছরে ন্যূনতম ৩৫,১০০ ডলারের সুযোগ

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

১৫ দিনের মধ্যে এসএসসিতে ফেল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মে নতুন পরিবর্তন

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চান! শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারের আবেদন নিয়ে জেনে নিন নতুন নিয়ম

চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদব
সিলেটের চা শ্রমিকের মেয়ে শান্তা এখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী, পড়ছেন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদব যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেছেন। তিনি ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্সেস ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন গত ২ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সাবেক এই শিক্ষার্থীর হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরুর তথ্য জানিয়েছে।  শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রিনা যাদব লংলা চা বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত আয় ও শিক্ষার সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা শান্তা স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে এসএসসি এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন বলে জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন শান্তা। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে পড়েছেন। চা বাগানে বেড়ে ওঠার সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও সুযোগ বাড়ানোর কাজে আগ্রহী করেছে।  জাগোনিউজ২৪ গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, শান্তা উচ্চশিক্ষার জন্য ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। নিজের লক্ষ্য ও গবেষণার আগ্রহ বিবেচনায় তিনি হার্ভার্ডকে বেছে নেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর বৃত্তির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। জাগোনিউজ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এ দায়িত্বের মাধ্যমে চা বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।  হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিবরণ অনুযায়ী, গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি প্রোগ্রামে সীমিত সম্পদের পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য গবেষণা, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা শেখানো হয়। এর একটি প্রধান অংশ হলো শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে গবেষণা এবং সেই গবেষণার ভিত্তিতে স্নাতকোত্তর অভিসন্দর্ভ তৈরি করা।  শান্তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে নিজের চা বাগানের মানুষের জন্য কাজ করা। জাগোনিউজ২৪-কে তাঁর বাবা ও মা জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি বিশেষ করে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান। হার্ভার্ডে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাজে লাগানোই তাঁর লক্ষ্য।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৭:২২
ট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে

চুয়েটে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অসহযোগ, ২০ দিন ধরে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ

টেক্সাসে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিনা ফিতে কলেজে আবেদনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন

মাস্টার্স ছাড়াই ফুল ফান্ড পিএইচডির সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রে

মাস্টার্স ছাড়াই ফুল ফান্ড পিএইচডির সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে, জানুন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরির অনুমতি
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরির অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এফ-১ ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে অন্তত ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হতে পারে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ৭ অক্টোবর রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। সাধারণত এফ-১ ভিসাধারীরা পড়াশোনার সময় নির্দিষ্ট শর্তে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে যোগ্য ডিগ্রিধারীরা অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের সময় পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন।   এই কর্মসূচি অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত জীবন শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনেকে ওপিটির মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি কর্মভিসার জন্য চেষ্টা করেন। নতুন প্রস্তাবের কারণে এই পথ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের খরচ প্রায় ৫০০ ডলারের কাছাকাছি হলেও প্রস্তাবিত ফি অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পর চাকরি খোঁজা ও কর্মজীবন শুরু করার পরিকল্পনায় বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি কোন কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।   প্রশাসনের যুক্তি, নতুন ফি দিয়ে জালিয়াতি ঠেকানো, অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা, এত বড় অঙ্কের ফি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পড়াশোনার খরচ মেটাতে পরিবারের সঞ্চয়, শিক্ষা ঋণ বা সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য প্রস্তাবটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।   বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করা প্রয়োজন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিক করণীয় হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা, ওপিটি আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সরকারি নিয়মের আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। নতুন ফি প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এর কার্যকর হওয়ার তারিখ, প্রযোজ্য শিক্ষার্থীর শ্রেণি এবং বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৭:৭
যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে পিএইচডি শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য ফান্ডিংসহ গবেষণা

যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডিংয়ে পিএইচডি! আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগে নতুন বাধা, ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত

নিউইয়র্কের স্কুলে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার

নিউইয়র্কের স্কুলে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিশেষ ছাড়, অনলাইনে পড়ার সুযোগ

0 Comments