স্বল্পমূল্যে আইইএলটিএস কোর্স করাবে ছাত্রশিবির, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য দুই মাসের অনলাইন বেসিক আইইএলটিএস ও ‘রোড টু হায়ার স্টাডি কোর্স ২০২৬’ আয়োজন করছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, কোর্সের নিবন্ধন ফি দেড় হাজার টাকা। নিবন্ধন শেষ হবে ২৭ অক্টোবর, ক্লাস শুরু হবে ২৮ অক্টোবর।
সপ্তাহে তিন দিন শনিবার, সোমবার ও বুধবার রাত ৯টায় জুমে সরাসরি ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। দুই মাসে মোট ২৪টি ক্লাস রাখা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস চলবে এক ঘণ্টা।
আইইএলটিএস প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে চারটি বিশেষ সেশন থাকবে। প্রতিটি সেশনের মেয়াদ দুই ঘণ্টা। অংশগ্রহণকারীদের এসব সেশনের ভিডিও রেকর্ডিংও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন ইঞ্জিনিয়ার নাঈম হোসেন। আয়োজকদের পরিচিতিতে তাঁকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাবেক প্রশিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আইইএলটিএস ব্যান্ড স্কোর ৮ দশমিক ৫ বলে জানানো হয়েছে। সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদ দেওয়া হবে।
আগ্রহীরা ছাত্রশিবিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত কোর্সের ঘোষণায় দেওয়া অনলাইন আবেদন ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। ২০ অক্টোবর ওই পেজ ও সংগঠনের মাসিক প্রকাশনা ছাত্র সংবাদে কোর্সের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পাঠ্যক্রম জানতে আয়োজকদের দেওয়া সিলেবাসও দেখা যাবে।
সূত্র: দি ডেইলি ক্যাম্পাস
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সিদ্দিকী যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার অব পাবলিক পলিসি প্রোগ্রামে পড়াশোনা শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে এই উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জয়েন্ট জাপান ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রামের সহায়তা পেয়েছেন বলে নিজের প্রকাশিত বক্তব্যে জানিয়েছেন। ইসরাতের এই অর্জনের কথা জানিয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিও। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বার্তায় তাঁকে আইন বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রাক্তনী হিসেবে উল্লেখ করে অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছে। অক্সফোর্ডের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, ইসরাত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও আন্তর্জাতিক আইনে বিশেষায়িত এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। স্নাতকে তিনি ‘ম্যাগনা কাম লাউডে’ সম্মাননা অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী। আইন পেশার পাশাপাশি উন্নয়ন খাতে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অক্সফোর্ডের পরিচিতিতে বলা হয়েছে, লিঙ্গভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন ইসরাত। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়ন খাতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও নীতি সংস্কার, গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজে যুক্ত হন তিনি। আইন ও নীতির পরিবর্তন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসরাতের নীতিগত আগ্রহের মধ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষের পৃথক প্রয়োজন বিবেচনায় শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিচার খাতের সংস্কার এবং আইন ও নীতির পরিবর্তনকে কার্যকর জনসেবায় রূপ দেওয়া। আইন বিষয়ে পড়াশোনা ও উন্নয়ন খাতে কাজের অভিজ্ঞতার পর এবার অক্সফোর্ডে জননীতি নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন তিনি। সূত্র: ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি
স্বল্পমূল্যে আইইএলটিএস কোর্স করাবে ছাত্রশিবির, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
ইতালিতে স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষা! জেনে নিন টপ ইউনিভার্সিটির তালিকা
যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ছাড়াই পিএইচডির সুযোগ, জানুন বিস্তারিত তালিকা
বাংলাদেশিসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার ফ্রান্স এক্সিলেন্স আইফেল বৃত্তির ২০২৭ সালের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মনোনীত প্রার্থীদের আবেদন ক্যাম্পাস ফ্রান্সে জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ জানুয়ারি ২০২৭। তবে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগেই যোগাযোগ করতে হবে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আকৃষ্ট করা। বৃত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ক্যাম্পাস ফ্রান্স। এতে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসিক ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পান। ক্যাম্পাস ফ্রান্সের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মাস্টার্স পর্যায়ের বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ১ হাজার ২০০ ইউরো এবং পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার ১০০ ইউরো ভাতা পান। এর পাশাপাশি কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াত, ইন্স্যুরেন্স, আবাসন খুঁজতে সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সুবিধা রয়েছে। আবাসন খুঁজতে সহায়তা পাওয়ার অর্থ বিনা ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত হওয়া নয়। তবে এই সুযোগকে শর্তহীনভাবে ‘বিনা খরচে পড়াশোনা’ বলা সঠিক নয়। ক্যাম্পাস ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে, আইফেল কর্মসূচি সরাসরি টিউশন ফি বহন করে না। ফলে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সে ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে কি না এবং অন্য কোনো খরচ দিতে হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। এই বৃত্তিতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন জমা দিতে পারেন না। প্রথমে ফ্রান্সের সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ ও সমর্থন করলে তারাই নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বৃত্তির আবেদন পাঠায়। তাই ৬ জানুয়ারির কেন্দ্রীয় সময়সীমার অপেক্ষা না করে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাছাইয়ের সময়সূচি জেনে নেওয়া প্রয়োজন। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পরিকল্পনা ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনার জন্য ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশ অথবা ফরাসি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নির্বাচিত কোর্সের ভর্তি, ভাষাগত যোগ্যতা ও বৃত্তির শর্ত মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মনোনয়ন পাওয়ার পরও চূড়ান্ত বৃত্তি নিশ্চিত হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের চূড়ান্ত নোটিশ, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বাড়বে কিস্তির চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রিতে আবেদনের সুযোগ, জেনে নিন আবেদন এর সময়
দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমপ্রধান দেশের শিক্ষার্থীদের ফুল ফান্ডে যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ! জানুন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। টিউশন ফি, বইপত্র, আবাসন, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জানাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের আবেদন চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষা বিভাগ জানায়, ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার আবেদনপত্র সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই আবেদনপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার খরচ মেটাতে বিভিন্ন ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আবেদনপত্রটি নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু করা হয়েছে। এই আবেদনের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীরা অনুদান, শিক্ষাঋণ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগভিত্তিক সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। অনুদানের অর্থ সাধারণত নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ফেরত দিতে হয় না। অন্যদিকে, শিক্ষাঋণ গ্রহণ করলে ঋণের শর্ত অনুযায়ী তা পরিশোধ করতে হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগভিত্তিক সহায়তা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। আবেদন করলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পরিবারের সন্তান উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের উচিত আগেভাগে আর্থিক সহায়তার নিয়ম জেনে নেওয়া। ইতোমধ্যে কলেজে পড়ছেন—এমন শিক্ষার্থীরাও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করতে পারেন। আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি শিক্ষাসহায়তা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নিজের হিসাব তৈরি করে সঠিক শিক্ষাবর্ষের আবেদনপত্র নির্বাচন করতে হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শুরু হওয়া শিক্ষার জন্য ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনপত্র প্রযোজ্য। আবেদনপত্র পূরণের সময় শিক্ষার্থীর পরিচয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং করসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। নির্ভরশীল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অভিভাবকের তথ্যও জমা দিতে হতে পারে। কোন তথ্য প্রয়োজন হবে, তা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনে সাধারণত ২০২৫ সালের করসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। তাই আবেদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। আবেদনপত্র পূরণ করতে কোনো ফি লাগে না। সরকারি ওয়েবসাইটের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন জমা দেওয়ার জন্য টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা ডট গভ—এখান থেকেই আবেদন ও নির্দেশনা পাওয়া যাবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ফলাফল দেখা যায়। কিছু আবেদন প্রক্রিয়াকরণে এক থেকে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এরপর শিক্ষার্থী তাঁর আবেদনের সারসংক্ষেপে সম্ভাব্য সহায়তার তথ্য দেখতে পারবেন। তবে এটি চূড়ান্ত অর্থ অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। কলেজে ভর্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যাচাই শেষে প্রকৃত সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। ফেডারেল পর্যায়ে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০২৮ সালের ৩০ জুন। তবে অঙ্গরাজ্য, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাসহায়তা কর্মসূচির সময়সীমা এর আগেই শেষ হতে পারে। কিছু সহায়তা সীমিত অর্থের কারণে আগে আবেদনকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তাই শেষ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করা এবং নিজের অঙ্গরাজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়সীমা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশে ৩০ টি ফুল ফান্ড স্কলারশিপ, জেনে নিন আবেদনের সময় ও বিস্তারিত
নোবেলজয়ী পার্লমুটারের সঙ্গে গবেষণাপত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ