নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় খলনায়ক ও চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দীর্ঘ ২৯ বছর পর তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার করা একটি বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম গণমাধ্যমকে আদালতের এই আদেশ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তোলার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি মরদেহের নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। পুলিশের এই আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি ও নির্দেশনা জারি করেন।
পুলিশের করা ওই আবেদনে বলা হয়, এই মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম আদালতে জানিয়েছেন যে তিনি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে মামলাটি পরিচালনা করছেন। আবেদনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নীলা চৌধুরী, তাঁর স্বামী কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের ইস্কাটন প্লাজায় সালমান শাহর বাসায় গিয়েছিলেন। তখন সালমানের স্ত্রী সামিরা হক ও গৃহকর্মী আবুল তাঁদের জানান যে সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন, যার কারণে তাঁরা আবার গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যান।
এর কিছু সময় পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় যে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে তাঁরা সালমান শাহকে শয়নকক্ষের খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তাঁকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে সালমান শাহকে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয় এবং ওই দিনই রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল।
পুলিশের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দীর্ঘ ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় এখন একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহর মরদেহ আবার কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। অবশেষে গত ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে রমনা থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
হলিউড তারকা টম ক্রুজ ও অভিনেত্রী কেটি হোমসের একমাত্র মেয়ে সুরি ক্রুজ আনুষ্ঠানিকভাবে বাবার পদবি বাদ দিয়ে নিজের আইনি নাম পরিবর্তন করেছেন। এখন থেকে তার নাম সুরি নোয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভোটার নিবন্ধনের নথিতে এই নতুন নামই ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ২০ বছর বয়সী সুরি পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে মিউজিক্যাল থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ভোটার নিবন্ধনের সময় তিনি ‘সুরি নোয়েল’ নামে নিবন্ধন করেন। পেনসিলভানিয়ার নিয়ম অনুযায়ী ভোটার নিবন্ধনে অবশ্যই ব্যক্তির আইনগত নাম ব্যবহার করতে হয়। তবে পেনসিলভানিয়ায় তার নামে কোনো নাম পরিবর্তনের আবেদন জমা পড়েনি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, কলেজে যাওয়ার আগে নিউইয়র্কেই তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় নাম পরিবর্তন সম্পন্ন করেন। ‘নোয়েল’ নামটি তার মা কেটি হোমসের মধ্য নাম। সুরি ২০২৪ সালে হাইস্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও ‘সুরি নোয়েল’ নাম ব্যবহার করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন মঞ্চনাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও একই নাম ব্যবহার করতে দেখা যায় তাকে। সর্বশেষ সরকারি নথিতে সেই নামই আইনগত পরিচয় হিসেবে উঠে এসেছে। টম ক্রুজ ও কেটি হোমস ২০০৬ সালে বিয়ে করেন এবং একই বছর সুরির জন্ম হয়। ২০১২ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর সুরি মায়ের সঙ্গেই নিউইয়র্কে বড় হন। দীর্ঘদিন ধরেই টম ক্রুজ ও সুরির মধ্যে দূরত্বের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত টম ক্রুজ বা কেটি হোমস কেউই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশ্বখ্যাত নিউ জিল্যান্ডের অভিনেতা স্যার স্যাম নিল, যিনি জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রে ড. অ্যালান গ্র্যান্ট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান, ৭৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মৃত্যু ছিল “আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত”; তবে স্বস্তির বিষয় ছিল, দীর্ঘদিন রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর মৃত্যুর সময় তিনি ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। ১৯৪৭ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া স্যাম নিল শৈশবে পরিবারের সঙ্গে নিউ জিল্যান্ডে চলে যান। সত্তরের দশকে অভিনয়জীবন শুরু করে তিনি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে দেড় শতাধিক চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালের Sleeping Dogs তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এনে দেয়, আর ১৯৯৩ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত Jurassic Park-এ অভিনয় তাকে বিশ্বখ্যাত তারকায় পরিণত করে। Jurassic Park ছাড়াও The Piano, Dead Calm, The Hunt for Red October, Event Horizon, The Horse Whisperer, Peaky Blinders এবং The Tudors–এর মতো চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে তার অভিনয় সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি নাইটহুড লাভ করেন এবং কর্মজীবনে একাধিক গোল্ডেন গ্লোব ও এমি মনোনয়ন অর্জন করেন। ২০২৩ সালে স্যাম নিল প্রকাশ্যে জানান যে তিনি বিরল ধরনের টি-সেল লিম্ফোমায় আক্রান্ত। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পরীক্ষামূলক থেরাপির পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি জানান, তার শরীরে আর ক্যানসারের কোনো চিহ্ন নেই। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময়ও তিনি ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ, অভিনেত্রী লরা ডার্ন, নিকোল কিডম্যান, সিলিয়ান মারফি, রিচার্ড ই. গ্রান্টসহ অসংখ্য সহকর্মী ও শিল্পী তাকে অসাধারণ প্রতিভাবান, বিনয়ী এবং মানবিক একজন শিল্পী হিসেবে স্মরণ করেছেন। নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও তাকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে অভিহিত করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরে স্যাম নিল একজন সফল আঙুরখামারের মালিক, পরিবেশ-সচেতন উদ্যোক্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতির জন্যও পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগৎ হারাল এমন একজন অভিনেতাকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম দর্শকের মনে তার অভিনয়ের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন।
কয়েক মাসের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট এবং কানসাস সিটি চিফসের তারকা ফুটবলার ট্র্যাভিস কেলসি। গত মঙ্গলবার সিএনএনের কাছে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলোর দাবি, আগামী বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনে বিয়ের প্রস্তুতিমূলক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর শুক্রবার হবে মূল আয়োজন, যা ভোর ৪টা পর্যন্ত চলতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশে কর্মীদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। তারা বেশ কয়েকটি রহস্যময় বাক্স ভেন্যুতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক কর্মী বলেন, ‘আমার মুখ বন্ধ, আমি কিছুই বলতে পারব না।’ এই বহুল আলোচিত বিয়ে এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন নিউইয়র্ক সিটি গ্রীষ্মকালীন নানা আয়োজন ও উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। দেশটির বাস্কেটবল দল নিউইয়র্ক নিক্স দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার পর এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাশাপাশি ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরে পর্যটকদেরও উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। শহরে টেইলর সুইফটের ভক্তদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মীও অবস্থান নিয়েছেন। তবে কয়েক দিন আগ পর্যন্ত এই গোপন আয়োজন সম্পর্কে গণমাধ্যমের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এমনকি আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই অনুষ্ঠানস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলেও জানা গেছে। ট্র্যাভিস কেলসির সতীর্থ এবং ‘টাইট এন্ড ইউনিভার্সিটি’র (টিইউ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জর্জ কিটল জানিয়েছেন, তিনি বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পেলেও অনুষ্ঠানটি কোথায় হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। গত সপ্তাহে ‘এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিটল বলেন, ‘আমি গত রাতে ট্র্যাভিসকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু সে শুধু হেসে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।’ তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন তিনি। কিটলের ভাষ্য, টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি অতিথিদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিয়েতে কোনো ধরনের উপহার না আনতে।