সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২১:৪৩
১৯৯১ সালে কাগলিয়ারিতে এইচআইভি নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে চুমু দেন চিকিৎসক ফার্নান্দো আইউতি। ছবি: সংগৃহীত
১৯৯১ সালে কাগলিয়ারিতে এইচআইভি নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে চুমু দেন চিকিৎসক ফার্নান্দো আইউতি। ছবি: সংগৃহীত

১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে ইতালির কাগলিয়ারিতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এমন এক দৃশ্যের জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে এইচআইভি ও এইডস নিয়ে সামাজিক ভয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। ইতালীয় রোগপ্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ ফার্নান্দো আইউতি এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ২৫ বছর বয়সী রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে প্রকাশ্যে ঠোঁটে চুমু দেন।

 

ঘটনাটি ঘটে ১৯৯১ সালের ২ ডিসেম্বর কাগলিয়ারি মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এইডস বিষয়ক একটি সম্মেলনে। সে সময় এইচআইভি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভুল ধারণা ছিল। বিশেষ করে চুম্বন বা লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। আইউতি ও ইয়ারদিনো সেই ভয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতীকী বার্তা দিতে নিজেদের উদ্যোগেই এই চুম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

 

আইউতি ছিলেন ইতালির এইচআইভি ও এইডস গবেষণা এবং জনসচেতনতার অন্যতম পরিচিত চিকিৎসক। সম্মেলনের সময় এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে ইয়ারদিনোর কাছে যান এবং তাকে আলিঙ্গন করে চুমু দেন। একজন ফটোসাংবাদিক সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করেন। পরে ছবিটি ইতালির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ইয়ারদিনো তখন ২৫ বছর বয়সী ছিলেন এবং কয়েক বছর ধরে এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। পরে তিনি জানান, সেই চুম্বনের সিদ্ধান্তটি তারা আগের রাতেই নিয়েছিলেন। কারণ শুধু কথা বলা বা বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় দূর করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, একটি প্রতীকী ঘটনা মানুষের কাছে বিষয়টি আরও সরাসরি পৌঁছে দিতে পারে।

 

সেই সময় এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের ঘিরে সামাজিক বৈষম্য ছিল ব্যাপক। অনেকে ভুলভাবে মনে করতেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা, আলিঙ্গন করা কিংবা একই পরিবেশে থাকার মাধ্যমেও এইচআইভি ছড়াতে পারে। এমন ভুল ধারণার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নানা ধরনের বঞ্চনা ও দূরত্বের মুখোমুখি হতেন। ইয়ারদিনো পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তখন সামাজিক কলঙ্ক অনেক মানুষের জীবনে সংক্রমণের চেয়েও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

আইউতি ও ইয়ারদিনোর সেই ছবি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইতালি ছাড়াও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশিত হয়। একসময়ের বিতর্কিত সেই দৃশ্য পরে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে সচেতনতার প্রতীকে পরিণত হয়।

 

তবে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিকও রয়েছে। এইচআইভি সাধারণ চুম্বন, আলিঙ্গন বা দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় না। ভাইরাসটি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের শারীরিক তরল, যেমন রক্ত, বীর্য, যোনি ও মলদ্বারের তরল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। লালায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সাধারণ চুম্বনের মাধ্যমে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি নেই।

 

১৯৯১ সালে এই বিষয়গুলো নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আজকের মতো পরিষ্কার ধারণা ছিল না। ফলে আইউতির প্রকাশ্য চুম্বনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মানুষের ভয় ও ভুল ধারণার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।

 

ইয়ারদিনো পরবর্তী সময়েও এইচআইভি সচেতনতা ও বৈষম্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। আইউতি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুর পর ইয়ারদিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করে সেই ঐতিহাসিক চুম্বনের কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেই মুহূর্তকে তাদের দীর্ঘদিনের সচেতনতা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও কাগলিয়ারির সেই ছবিটি এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের প্রতি বৈষম্য দূর করার আলোচনায় ফিরে আসে। কারণ ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের একজন রোগীকে চুমু দেওয়ার ছবি ছিল না, বরং এমন এক সময়ে সামাজিক ভয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান ছিল, যখন এইচআইভি সম্পর্কে ভুল তথ্য মানুষের আচরণ ও সামাজিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছিল।

 

সূত্র: এএনএসএ, কোরিয়েরে দেলা সেরা


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া ব্যথার ওষুধের বোতল প্রত্যাহার
অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া ব্যথার ওষুধের ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি বোতল প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনা ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যামাজন বিক্রি হওয়া নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১ লাখ ১২ হাজার ৯৩২টি বোতল ব্যথানাশক ওষুধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।   প্রত্যাহারের আওতায় থাকা ওষুধটির নাম অ্যামাজন বেসিক কেয়ার অতিরিক্ত শক্তির অ্যাসিটামিনোফেন। প্রতিটি বড়িতে ৫০০ মিলিগ্রাম ওষুধ রয়েছে। অ্যাসিটামিনোফেন সাধারণত ব্যথা কমাতে ও জ্বর নামাতে ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের অ্যাসিটামিনোফেন বা আমাজনের সব ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রত্যাহারের আওতায় নেই। নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাচের বোতলই চিহ্নিত করা হয়েছে।   ওষুধটি তৈরি করেছে অরোবিন্দো ফার্মা ইউএসএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অ্যামাজন ডটকম সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানটি ওষুধটি বিতরণ করেছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় ওষুধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ২০০, ৫০০ ও ১,০০০ বড়ির বোতল এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে।   ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগই প্রত্যাহারের প্রধান কারণ। বড়ির স্বাভাবিক চেহারা বদলে গেলে তা ওষুধের গুণগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এই ঘটনার কারণে কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যাহারের ঝুঁকির মাত্রাও তখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।   যাঁরা অ্যামাজন থেকে এই ওষুধ কিনেছেন, তাঁদের বোতলের গায়ে লেখা নাম, বড়ির সংখ্যা, ব্যাচ নম্বর এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মিলিয়ে দেখা জরুরি্।২০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৫০৪০এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।   ৫০০ বড়ির বোতলের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে পাঁচটি ব্যাচ: এসিডি১২৪০৩৬এ, এসিডি১২৪০৩০এ, এসিডি১২৪০৪২এ, এসিডি১২৪০৪৮বি এবং এসিডি১২৫০১০এ। এসব বোতলের মেয়াদ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।১,০০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৪০৪৮এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর।   বোতলের ব্যাচ নম্বর প্রত্যাহারের তালিকার সঙ্গে মিলে গেলে ওষুধটি আর ব্যবহার করবেন না। কেনাকাটার হিসাব পরীক্ষা করুন এবং অ্যামাজন সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত দেওয়া বা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিয়ম জেনে নিন। প্রয়োজনে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।   প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধের কারণে অসুস্থতা বা আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে রং পরিবর্তিত হওয়া বড়ি ব্যবহার করা নিরাপদ। ওষুধের রং, গন্ধ বা চেহারায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে সেটি ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার অনলাইনে একসঙ্গে অনেক ওষুধ কিনে ঘরে রাখে। তাই বাড়িতে থাকা বোতলগুলোর নাম, ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদ পরীক্ষা করে দেখা ভালো। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করেন এমন পরিবারের সদস্যদের ওষুধগুলো যাচাই করতে সহায়তা করুন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:২২
লেজার হেয়ার রিমুভালের পর ত্বকে লালচে দানা দেখা দেওয়া একটি সাধারণ শারীরিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

লেজার হেয়ার রিমুভালের পর ত্বকে লাল ফোলা দানা, বিশেষজ্ঞ জানালেন সম্ভাব্য কারণ

সংক্রমণের তীব্র গতি।

নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, ফেডারেল সহায়তা চাইলেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল

মৌসুমি অ্যালার্জি ও ঠান্ডার লক্ষণে বিভ্রান্তি বাড়ে

মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি ঠান্ডা, লক্ষণ দেখে যেভাবে সহজেই বুঝবেন পার্থক্য

আলঝেইমারের মতো জৈবিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আফ্রিকান গ্রিন বানর। ছবি: সংগৃহীত
আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় নতুন পথ দেখাচ্ছে আফ্রিকান বানর

আলঝেইমার রোগের মতো মস্তিষ্কে পরিবর্তন তৈরি হওয়ার পরও এক বছর ধরে স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায় স্বাভাবিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আফ্রিকান গ্রিন বানর। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, প্রাণীগুলোর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আলঝেইমারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আণবিক পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ধরে থাকলেও আচরণ বা স্মৃতিতে তার স্পষ্ট প্রভাব দেখা যায়নি। এই ফলাফল রোগটির প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।   গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Communications Biology-তে। ইয়েল ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভার্সিওর বিজ্ঞানীরা এতে অংশ নেন। গবেষণায় আফ্রিকান গ্রিন বানরকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো, মানুষের সঙ্গে তাদের শারীরবৃত্তীয় ও জৈব রাসায়নিক মিল তুলনামূলকভাবে বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বানরদের মস্তিষ্কেও অ্যামিলয়েড-বিটা ও টাউ-সম্পর্কিত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যা আলঝেইমার গবেষণায় তাদের সম্ভাবনাময় প্রাণী মডেলে পরিণত করেছে।   গবেষণায় মোট আটটি স্ত্রী আফ্রিকান গ্রিন বানরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি অ্যামিলয়েড-বিটা অলিগোমার দেওয়া হয়, আর তিনটিকে নিয়ন্ত্রণদলের জন্য ভিন্ন দ্রবণ দেওয়া হয়। চার সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে তিনবার করে মোট ১২ বার এই প্রয়োগ করা হয়। অ্যামিলয়েড-বিটা হলো এমন এক ধরনের প্রোটিন, যা আলঝেইমার রোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গবেষকেরা বিশেষভাবে এর ছোট প্রোটিনগুচ্ছ বা অলিগোমারের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন, কারণ এগুলো বড় প্লাক তৈরির আগেই স্নায়ুকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।   চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর বানরগুলোর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করা হয়। একটি পর্দায় তাদের একটি নির্দিষ্ট আকৃতি দেখানো হয় এবং কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন আকৃতির মধ্য থেকে আগেরটি শনাক্ত করতে বলা হয়। গবেষকদের প্রত্যাশার বিপরীতে, অ্যামিলয়েড-বিটা প্রয়োগ করা বানরগুলোর স্মৃতিশক্তিতে পরবর্তী এক বছরে এই পরীক্ষায় কোনো স্পষ্ট অবনতি দেখা যায়নি। অর্থাৎ মস্তিষ্কে আলঝেইমারের মতো জৈবিক পরিবর্তন থাকলেও তা ওই আচরণগত পরীক্ষায় দৃশ্যমান স্মৃতিহ্রাসে পরিণত হয়নি।   তবে এক বছর পর নেওয়া মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের তরল, অর্থাৎ সেরিব্রোস্পাইনাল তরল বা মস্তিষ্ক-মেরুরসের পরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। এতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত C3 নামের একটি প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে ছিল। রক্তনালি ও রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কয়েকটি প্রোটিনেও নিয়ন্ত্রণদলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়। সামগ্রিকভাবে এসব পরিবর্তন দেখায়, আচরণে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও স্নায়ুতন্ত্রের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী জৈবিক পরিবর্তন চলতে পারে।   গবেষকদের কাছে এই ফলাফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শুধু স্মৃতিশক্তির পরীক্ষা দিয়ে আলঝেইমারের প্রাথমিক পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। কোনো ব্যক্তির আচরণ বা স্মৃতিতে সমস্যা প্রকাশ পাওয়ার আগেই শরীরের তরল বা মস্তিষ্ক-মেরুরসে নির্দিষ্ট প্রোটিনের পরিবর্তন ধরা পড়তে পারে। গবেষণায় ১ মিলিলিটারেরও কম পরিমাণ সেরিব্রোস্পাইনাল তরল থেকে প্রোটিনের বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের শরীরে তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মকভাবে রোগের জৈবিক চিহ্ন অনুসরণের সম্ভাবনা তৈরি করছে।   আফ্রিকান গ্রিন বানরকে এ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ মনে করার আরেকটি কারণ হলো, ইঁদুরের তুলনায় মানুষের সঙ্গে তাদের শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের মিল বেশি। তাদের মস্তিষ্কের গঠন, রক্তনালির বৈশিষ্ট্য, প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া এবং আয়ুষ্কালের মতো বিষয় মানুষের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বয়স বাড়লে এই বানরদের মস্তিষ্কে অ্যামিলয়েড-বিটা প্লাক ও টাউ-সম্পর্কিত পরিবর্তনও স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। এর ফলে মানুষের আলঝেইমারের একেবারে শুরুর পর্যায় বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রাণী মডেলটি গবেষকদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।   এর আগে পরিচালিত গবেষণাতেও আফ্রিকান গ্রিন বানরের ওপর অ্যামিলয়েড-বিটা অলিগোমার প্রয়োগের পর মস্তিষ্কের স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত অঞ্চলে টাউ প্রোটিনের পরিবর্তন এবং প্রদাহের লক্ষণ পাওয়া গিয়েছিল। এসব পরিবর্তনের কিছু কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। নতুন গবেষণাটি সেই অনুসন্ধানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে ১২ মাস পর প্রাণীগুলোর সেরিব্রোস্পাইনাল তরলে কী ধরনের পরিবর্তন থেকে যাচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করেছে।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বানরগুলোর মধ্যে পাওয়া এই আণবিক পরিবর্তনকে সরাসরি মানুষের প্রাথমিক আলঝেইমার রোগের সমতুল্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণাটির নমুনার আকারও ছোট ছিল। তাই মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন রোগের সূচনালগ্নে দেখা যায় কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে মানুষের রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে এসব প্রোটিনের পরিবর্তন তুলনা করা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।   তারপরও গবেষণাটির সম্ভাব্য গুরুত্ব কম নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার অনেক আগেই শরীরে স্থায়ী হয়ে থাকা নির্দিষ্ট প্রোটিনের পরিবর্তন শনাক্ত করা গেলে আলঝেইমার রোগের প্রাথমিক পর্যায় পর্যবেক্ষণের নতুন উপায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বানরগুলোর মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও কেন তারা দ্রুত স্পষ্ট জ্ঞানীয় অবনতিতে পৌঁছায়নি, সেই বিষয়টি বোঝা গেলে রোগের অগ্রগতি ঠেকানোর সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রক্রিয়াও শনাক্ত করা যেতে পারে।   গবেষকেরা তাই আফ্রিকান গ্রিন বানরকে শুধু আলঝেইমারের মতো পরিবর্তন তৈরি করার প্রাণী মডেল হিসেবে নয়, বরং রোগের প্রাথমিক জৈবিক চিহ্ন, রোগের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন। মানুষের ক্ষেত্রে এসব ফলাফল কতটা প্রযোজ্য হবে, তা ভবিষ্যৎ গবেষণায় নির্ধারিত হবে। তবে নতুন এই অনুসন্ধান অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে, স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা দেখা দেওয়ার আগেই আলঝেইমারের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবর্তন স্নায়ুতন্ত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।   সূত্র: Communications Biology, ইয়েল ইউনিভার্সিটির মলিকুলার বায়োফিজিক্স অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২২:১৬
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানচিত্রে প্লেগ আক্রান্ত দেশগুলো

রাশিয়ায় প্লেগ সংক্রমণের আশঙ্কা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানচিত্রে উঠে এলো আক্রান্ত দেশগুলো

নিউইয়র্কের রকল্যান্ড কাউন্টিতে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম

নিউইয়র্কে হাম ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা, বাড়ছে টিকাদান ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

ফ্লোরিডায় নতুন রোবটিক স্তন ক্যানসার সা

প্রথমবারের মতো রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং সার্জারি, নতুন আশায় স্তন ক্যানসার রোগীরা

জন্মের পূর্বেই শিশুর ফুসফুসের টিউমারের চিকিৎসা! চীনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন মাইলফলক
জন্মের পূর্বেই শিশুর ফুসফুসের টিউমারের চিকিৎসা! চীনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন মাইলফলক

গর্ভাবস্থার মাত্র ২২ সপ্তাহে অনাগত এক শিশুর ফুসফুসে দ্রুত বেড়ে ওঠা বিরল জন্মগত অস্বাভাবিকতা চিকিৎসায় নতুন সাফল্য দেখিয়েছেন চীন ও হংকংয়ের চিকিৎসকেরা। আল্ট্রাসাউন্ডের সহায়তায় সূক্ষ্ম একটি নিডল গর্ভের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে মাইক্রোওয়েভ শক্তির মাধ্যমে অস্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যু ধ্বংস করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ভ্রূণের মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন বা সিপিএএম চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।   শেনঝেন বাওআন উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকেরা যৌথভাবে এই জটিল চিকিৎসা সম্পন্ন করেন। চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক পিয়ার রিভিউড জার্নাল আল্ট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনেকোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভের শিশুটির ফুসফুসে যে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে সেটি দ্রুত বড় হচ্ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মাইক্রোসিস্টিক সিপিএএম। এটি ফুসফুসের একটি বিরল জন্মগত গঠনগত সমস্যা, যেখানে স্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যুর জায়গায় অস্বাভাবিক সিস্ট বা টিস্যু তৈরি হতে পারে।   বড় আকারের সিপিএএম ভ্রূণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অস্বাভাবিক টিস্যু বেড়ে গেলে সেটি বুকের ভেতরের অন্য অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ, শরীরে তরল জমা বা হাইড্রপস ফিটালিস এবং গর্ভের শিশুর জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন ব্যবহার করেন। রিয়েল টাইম আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিডলের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে সেটি অস্বাভাবিক টিস্যুর ভেতরে নেওয়া হয়। এরপর মাইক্রোওয়েভ শক্তি প্রয়োগ করা হয়।   মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনে টিস্যুর ভেতরের পানির অণু দ্রুত কম্পিত হয়ে তাপ তৈরি করে। সেই তাপ নির্দিষ্ট অংশের অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করে। লক্ষ্য থাকে আশপাশের সুস্থ টিস্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখা।   চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল গর্ভের ভেতরে অত্যন্ত ছোট জায়গায় কাজ করা এবং একই সঙ্গে মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিডলের প্রতিটি নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করেই চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসার পর ফুসফুসের অস্বাভাবিক অংশের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ফলে বুকের ভেতরে অন্য অঙ্গের ওপর তৈরি হওয়া চাপও কমতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা এই ফলাফলকে ফিটাল থেরাপির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিপিএএমকে সাধারণ অর্থে ক্যানসার বা প্রচলিত টিউমার বলা সঠিক নয়। এটি মূলত জন্মগত ফুসফুসের অস্বাভাবিক বিকাশ বা ম্যালফরমেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে কখনো কখনো “ফুসফুসের টিউমার অপসারণ” হিসেবে বর্ণনা করা হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে “অস্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যু” বা “ফুসফুসের জন্মগত ম্যালফরমেশন” বলা বেশি নির্ভুল।   গর্ভের শিশুর ফুসফুসের জটিল রোগে জন্মের আগেই চিকিৎসা নতুন নয়। এর আগে সিপিএএমের গুরুতর ক্ষেত্রে স্টেরয়েড, তরল নিষ্কাশন, শান্ট বসানো, স্ক্লেরোথেরাপি এবং রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বিশাল মাইক্রোসিস্টিক সিপিএএমে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনের এই প্রয়োগকে চিকিৎসকেরা নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন।   এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুতর সিপিএএমের সঙ্গে হাইড্রপস ফিটালিস যুক্ত হলে ভ্রূণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ কারণেই দ্রুত বড় হতে থাকা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করা ক্ষেত্রে গর্ভের ভেতরেই চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।   তবে নতুন এই পদ্ধতিকে এখনই সবার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। প্রকাশিত ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট কেসের অভিজ্ঞতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বুঝতে আরও রোগী, দীর্ঘ অনুসরণ এবং বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিটাল থেরাপির মূল লক্ষ্য হলো জন্মের আগে এমন গুরুতর সমস্যায় হস্তক্ষেপ করা, যা অপেক্ষা করলে শিশুর জীবন বা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শেনঝেন ও হংকংয়ের চিকিৎসকদের এই সাফল্য সেই ক্ষেত্রেই নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৪:৫৫
দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফিতে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব, ১০ বছরের গবেষণায় ইঙ্গিত

দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফিতে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব, ১০ বছরের গবেষণায় ইঙ্গিত

সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণা

ক্যান্সারের ১২ শতাংশের পেছনে এই সংক্রমণ, নতুন গবেষণায় চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

চোখের যত্নে প্রতিদিনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

0 Comments