সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

নিজেকে নিয়েই মগ্ন, অন্যের অনুভূতির মূল্য নেই: আত্মকেন্দ্রিক মানুষকে চেনার উপায় ও করণীয়

অলি উল্লাহ আল মাসুদ প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২:২২
How Self-Absorbed, Self-Centered People’s Behavior Affects Relationships and Mental Health
How Self-Absorbed, Self-Centered People’s Behavior Affects Relationships and Mental Health

কথা বলছেন আপনি, কিন্তু আলোচনার বিষয় বারবার ঘুরে যাচ্ছে তার দিকে। আপনার কষ্টের কথা বললে তিনি নিজের সমস্যার কথা সামনে আনছেন। কোনো ভুল নিয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তর না দিয়ে উল্টো আপনাকেই দোষী বানিয়ে দিচ্ছেন। কখনো হয়তো মনে হচ্ছে, সম্পর্কের শান্তি ধরে রাখার দায়িত্বটা শুধু আপনারই।

 

শুরুতে এসব আচরণকে হয়তো ভালোবাসার অতিরিক্ত প্রকাশ, আত্মবিশ্বাস কিংবা একটু জেদ হিসেবে মনে হতে পারে। কিন্তু একই আচরণ যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হতে পারে এক ধরনের অদৃশ্য চাপ। ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও দ্বিধা হতে পারে, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে, এমনকি মনে হতে পারে—সমস্যাটা বোধহয় আমারই।

 

এখানেই আত্মকেন্দ্রিক আচরণ নিয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন।

 

মনোবিজ্ঞানে অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক বা আত্মমুগ্ধ আচরণের সঙ্গে নিজের গুরুত্বকে অতিরঞ্জিতভাবে দেখা, অতিরিক্ত প্রশংসা ও স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি কম সহানুভূতি দেখানোর মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে একজন মানুষ আত্মকেন্দ্রিক আচরণ করলেই তাকে নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত বলা যায় না। এটি একটি নির্দিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং এর নির্ণয় প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর বিষয়।

 

ভালোবাসার সম্পর্কে যখন ‘আমি’ হয়ে ওঠে সবকিছু

 

একটি সুস্থ প্রেমের সম্পর্কে দুজন মানুষের চাওয়া, অনুভূতি ও মতামতের জায়গা থাকে। কিন্তু একজন সঙ্গী যদি সবসময় নিজের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে সম্পর্কের ভারসাম্য ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে।

 

আপনি হয়তো কোথাও যেতে চান, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে তার পছন্দ অনুযায়ী। আপনি কোনো বিষয়ে কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু আপনার অনুভূতির বদলে আলোচনায় উঠে আসবে তার কষ্ট। কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে নিজের ভুল স্বীকারের পরিবর্তে তিনি হয়তো ব্যাখ্যা করবেন কেন সমস্যাটির জন্য আপনিই দায়ী।

 

এভাবে চলতে থাকলে সম্পর্কের মধ্যে একজন কথা বলবেন আর অন্যজন শুধু মানিয়ে নেবেন—এমন এক অসমতা তৈরি হতে পারে।

 

বিশেষ করে তরুণদের প্রেমের সম্পর্কে এ ধরনের আচরণ অনেক সময় প্রথমদিকে সহজে বোঝা যায় না। অতিরিক্ত খোঁজ নেওয়া কখন নিয়ন্ত্রণে পরিণত হচ্ছে, ভালোবাসার নামে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কমে যাচ্ছে কি না, কিংবা মতের অমিল হলেই অপরাধবোধ তৈরি করা হচ্ছে কি না—এসব পার্থক্য বোঝা জরুরি।

 

বিয়ের পর চাপটা কেন আরও জটিল হয়

 

দাম্পত্য জীবনে শুধু আবেগ নয়, অর্থনীতি, সন্তান, পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো অসংখ্য বিষয় জড়িয়ে থাকে। ফলে একজন সঙ্গীর অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক আচরণ পুরো সম্পর্কের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

যদি একজন সব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখতে চান, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দেন কিংবা প্রতিটি সমস্যার দায় জীবনসঙ্গীর ওপর চাপান, তাহলে ঘরে থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

 

সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো, এই ধরনের সম্পর্কের সমস্যা বাইরে থেকে সবসময় বোঝা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা পরিচিতদের সামনে সম্পর্কটি স্বাভাবিক দেখালেও ব্যক্তিগত জীবনে একজন মানুষ প্রতিদিন নিজের কথা বলার সুযোগ, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের অনুভূতির স্বীকৃতির জন্য লড়াই করতে পারেন।

 

যখন নিজের অনুভূতিকেই সন্দেহ হতে শুরু করে

 

দীর্ঘদিন দোষারোপ, অস্বীকার কিংবা বাস্তব ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো আচরণের মধ্যে থাকলে একজন মানুষ নিজের উপলব্ধি নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারেন। এটিই গ্যাসলাইটিং নামে পরিচিত একটি আচরণগত ধরন।

 

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনো ঘটনা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। আপনি সেটি নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু অপর পক্ষ ঘটনাটি অস্বীকার করলেন বা এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলেন যে শেষ পর্যন্ত আপনারই মনে হলো, হয়তো আপনি ঘটনাটিকে ভুলভাবে বুঝেছেন।

 

একটি বিচ্ছিন্ন মতবিরোধকে অবশ্য গ্যাসলাইটিং বলা যায় না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো আচরণের ধারাবাহিকতা এবং তার প্রভাব।

 

দীর্ঘস্থায়ী এমন অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগ, অপরাধবোধ বা নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা মানসিক ট্রমার মতো প্রভাবও ফেলতে পারে।

 

কেন অনেকেই সম্পর্ক ছাড়তে পারেন না

 

কখনো কষ্টদায়ক সম্পর্কের মধ্যেও ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া, ভালো সময় বা সাময়িক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। ফলে একজন মানুষ মনে করতে পারেন, পরিস্থিতি হয়তো আবার আগের মতো ভালো হয়ে যাবে।

 

এই টানাপোড়েনকে কখনো ‘ট্রমা বন্ড’ বলা হয়। কষ্টের পাশাপাশি পাওয়া ইতিবাচক মুহূর্তগুলো সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলতে পারে।

 

তবে প্রত্যেক মানুষের অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই কাউকে শুধু একটি শব্দ বা কয়েকটি আচরণের ভিত্তিতে বিচার করার পরিবর্তে পুরো সম্পর্কের ধরন, পরিস্থিতি এবং নিজের মানসিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সঙ্গে থাকলে যে ৭টি বিষয় মনে রাখবেন

 

১. আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া দেবেন না

 

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে রাগ বা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালে আলোচনা আরও জটিল হতে পারে। সম্ভব হলে কিছুটা সময় নিয়ে শান্তভাবে নিজের বক্তব্য জানান।

 

২. বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে যাবেন না

 

প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে দীর্ঘ তর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রয়োজন নেই। নিজের অবস্থান পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্তভাবে জানানো যথেষ্ট হতে পারে।

 

৩. আচরণের পুনরাবৃত্ত ধরন লক্ষ্য করুন

 

একটি ঘটনা নয়, বরং একই ধরনের আচরণ বারবার ঘটছে কি না দেখুন। গ্যাসলাইটিং, দোষ চাপানো, নিজের ভুল অস্বীকার করা কিংবা অভিযোগ উল্টো আপনার দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

৪. নিজের সীমারেখা ঠিক করুন

 

কোন আচরণ আপনি মেনে নেবেন এবং কোন আচরণ মেনে নেবেন না, তা নিজের কাছে পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজন হলে অপর পক্ষকেও সেই সীমারেখা জানিয়ে দিন।

 

৫. প্রয়োজন ছাড়া যোগাযোগ বাড়াবেন না

 

সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনীয় বিষয়েই কথা সীমিত রাখুন। সংক্ষিপ্ত, শান্ত ও তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব কমাতে পারে।

 

৬. অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনায় নিরপেক্ষ থাকুন

 

‘গ্রে রক’ পদ্ধতিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত আবেগ বা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করা হয়। তবে এটি সব পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত নয়। সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।

 

৭. নিজের জীবনকে আবার নিজের করে নিন

 

অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের মধ্যে থাকতে থাকতে অনেকেই নিজের বন্ধু, পরিবার, আগ্রহ কিংবা ব্যক্তিগত লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যান। সেখান থেকে ধীরে ধীরে নিজের জায়গাগুলো ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।

 

নিজের আত্মসম্মান পুনর্গঠন করা, কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

সবচেয়ে বড় ‘জবাব’ নিজের ভালো থাকা

 

আত্মকেন্দ্রিক বা আত্মমুগ্ধ মানুষের আচরণ সামলানোর বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধের গল্প নয়। বরং এটি নিজের সীমারেখা, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তি ফিরে পাওয়ার গল্প।

 

অন্য একজন মানুষ কীভাবে আচরণ করবেন, সেটি সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই আচরণের সামনে নিজের সীমা কোথায় হবে, কোন পরিস্থিতিতে দূরত্ব প্রয়োজন এবং কখন সহায়তা চাইতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখা যায়।

 

কারও আচরণকে বদলে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের ওপর নেওয়ার চেয়ে নিজের সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। কারণ একটি সম্পর্ক তখনই সুস্থ হতে পারে, যখন সেখানে শুধু একজনের চাওয়া নয়, দুজন মানুষের অনুভূতি ও মর্যাদারও জায়গা থাকে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত যোগসূত্র খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

চুলে পাক ধরা সাধারণত বয়স বাড়ার স্বাভাবিক একটি লক্ষণ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, চুলের রং হারানোর পেছনে শরীরের এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।   গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর চালানো হয়েছে। এতে বিজ্ঞানীরা চুলের ফলিকলের ভেতরে থাকা বিশেষ ধরনের স্টেম সেল বা মূল কোষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই কোষগুলোকে বলা হয় মেলানোসাইট স্টেম সেল। এগুলো থেকেই চুল ও ত্বকের রং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রঞ্জক কোষ তৈরি হয়।   স্বাভাবিক অবস্থায় মেলানোসাইট স্টেম সেল বারবার পুনরুৎপাদিত হয়ে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরি করে। এর ফলে চুলে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক রং বজায় থাকে। কিন্তু শরীরের কোষগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। অতিবেগুনি রশ্মি, কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং কোষের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াও ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে।   গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএতে বিশেষ ধরনের গুরুতর ক্ষতি হলে কোষগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক পথে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় স্টেম সেলগুলো দ্রুত পরিণত রঞ্জক কোষে রূপান্তরিত হয় এবং পরে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে হারিয়ে যায়। ফলে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরির ক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে চুলে পাকা রং দেখা দিতে পারে।   বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো—ডিএনএতে ক্ষতি হওয়া কোষগুলোকে স্টেম সেল হিসেবে টিকে থেকে বারবার বিভাজিত হওয়ার সুযোগ না দেওয়া। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে বিভাজিত হতে থাকলে সেখানে জিনগত পরিবর্তন জমা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।   অর্থাৎ, চুলের রং হারানোর এই প্রক্রিয়াকে শরীরের এক ধরনের ‘ত্যাগ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। একটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে শরীর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোষের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা করে।   তবে গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সব ধরনের ডিএনএ ক্ষতির ক্ষেত্রে মেলানোসাইট স্টেম সেল একইভাবে আচরণ করে না।   গবেষকরা ইঁদুরের কোষকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী কিছু রাসায়নিক এবং অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আনেন। তখন দেখা যায়, কিছু পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেল স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে থাকে। অর্থাৎ, ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও তারা টিকে থাকে এবং বিভাজিত হতে থাকে।   এ ধরনের পরিস্থিতি মেলানোমা বা ত্বকের এক ধরনের ক্যানসার তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আশপাশের কোষ ও টিস্যু থেকে পাওয়া রাসায়নিক সংকেতও এই আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।   গবেষকদের ভাষায়, একই স্টেম সেল পরিস্থিতি অনুযায়ী দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে যেতে পারে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দ্রুত পরিণত হয়ে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরে গেলে চুল পেকে যেতে পারে। অন্যদিকে, কিছু পরিবেশে সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোষ টিকে গিয়ে বিভাজিত হতে থাকলে ক্যানসার তৈরির সম্ভাব্য পথ তৈরি হতে পারে।   এখানেই পাকা চুল ও ক্যানসারের মধ্যে গবেষণায় পাওয়া অপ্রত্যাশিত সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পাকা চুল নিজেই ক্যানসার প্রতিরোধ করে। বরং একই কোষীয় প্রতিক্রিয়ার দুটি ভিন্ন ফলাফল হিসেবে চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।   গবেষণাটি বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বাড়ে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষে ডিএনএ ক্ষতি ও অন্যান্য পরিবর্তন জমতে থাকে। একই সময়ে কোষের পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও বদলে যেতে পারে।   তবে এই গবেষণার ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। মানুষের শরীর, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাপনের সঙ্গে ইঁদুরের পার্থক্য রয়েছে। তাই মানুষের চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে একই ধরনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মেলানোসাইট স্টেম সেল কীভাবে ক্ষতির প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কোন সংকেত তাদের নিরাপদ পথে বা ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিচালিত করে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার ও বয়সজনিত কোষীয় পরিবর্তন নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   অর্থাৎ, মাথার পাকা চুলকে শুধু বয়সের দৃশ্যমান চিহ্ন হিসেবে দেখার বাইরে গিয়ে এখন বিজ্ঞানীরা এর পেছনে থাকা কোষীয় প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তবে এই গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৩:২৩
How Self-Absorbed, Self-Centered People’s Behavior Affects Relationships and Mental Health

নিজেকে নিয়েই মগ্ন, অন্যের অনুভূতির মূল্য নেই: আত্মকেন্দ্রিক মানুষকে চেনার উপায় ও করণীয়

বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে

বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে

ভুল পা কাটার অভিযোগে ওহাইওর নারীর হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন

ডান পা কাটার কথা ছিল, কেটে ফেলা হলো বাঁ পা; হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা

ছবি: U.S. Census Bureau
ইন্স্যুরেন্স নেই? জেনে নিন নিউ ইয়র্কে ফ্রিতে চিকিৎসার পাঁচটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা

হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা কোথায় পাবেন, তা নিয়ে অনেক অভিবাসীর দুশ্চিন্তা থাকে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা খরচের ভয়ে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শহরের সরকারি কর্মসূচি ও কয়েকটি ফ্রি ক্লিনিকে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে সেবা পাওয়া যায়। তবে সব জায়গায় সব চিকিৎসা ফ্রি নয়।   প্রথম ঠিকানা এনওয়াইসি কেয়ার। যাঁরা হেলথ ইন্স্যুরেন্সের যোগ্য নন বা তা বহন করতে পারেন না, তাঁদের জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচি। সদস্যরা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কম দামে ওষুধ পেতে পারেন। খরচ আয়ের ওপর নির্ভর করে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সদস্য হওয়ার বাধা নয়। জানতে বা আবেদন করতে ফোন করুন ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে; বাংলায় সহায়তা চাইতে পারেন।   দ্বিতীয় ঠিকানা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতাল ও কুইন্স হাসপাতালও এই নেটওয়ার্কের অংশ। ইন্স্যুরেন্স না থাকলে সেখানে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসিসট্যান্স বা ‘অপশনস’ কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী বিল কমতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলতে ৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে ফোন করে ৩ চাপুন। হাসপাতালের সেবা মাত্রেই ফ্রি হবে, এমন ধারণা নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।   তৃতীয় ঠিকানা ম্যানহাটনের উইল কর্নেল কমিউনিটি ক্লিনিক, ৫০৫ ইস্ট ৭০তম স্ট্রিট। ইন্স্যুরেন্সবিহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই স্টুডেন্ট পরিচালিত ক্লিনিকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রাইমারি কেয়ার দেওয়া হয়। বর্তমানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিমেডিসিন এবং নির্দিষ্ট শনিবার সকালে সরাসরি সেবা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। নতুন রোগীকে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আবেদন করতে হয়; অপেক্ষাও থাকতে পারে। ফোন ৬৪৬-৯৬২-৯২২২।   চতুর্থ ঠিকানা ব্রুকলিন ফ্রি ক্লিনিক। ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সেবার ধরন আগে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকটি সরাসরি সেবা দেওয়ার পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রের তথ্য দেয়। তাই সেখানে যাওয়ার আগে নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনটি জানিয়ে যোগাযোগ করা জরুরি।   পঞ্চম ঠিকানা নিউ ইয়র্ক সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্টের ক্লিনিকগুলো। যৌনস্বাস্থ্য, যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং টিকাদানের জন্য আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। এসব সেবার অনেকগুলো বিনামূল্যে বা কম খরচে পাওয়া যায়; তবে এগুলো সাধারণ সব রোগের প্রাইমারি কেয়ার ক্লিনিক নয়। কাছের কেন্দ্র, খরচ ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম জানতে ৩১১ নম্বরে ফোন করা যায়।   এনওয়াইসি কেয়ারে ভর্তির সময় পরিচয়, নিউ ইয়র্ক সিটিতে বসবাস ও আয়ের প্রমাণ চাইতে পারে। পাসপোর্ট বা বিদেশি পরিচয়পত্রও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কাগজপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আগে ফোন করে নিজের পরিস্থিতি জানান। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে চিকিৎসা পাওয়া যাবে না, এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই।   বাংলাভাষী ডাক্তার চাইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় দোভাষী বা বাংলায় সেবার ব্যবস্থা আছে কি না জেনে নিন। বেসরকারি চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার আগে ফি এবং এনওয়াইসি কেয়ারের সেবা সেখানে প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত করুন। আর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সাধারণ ক্লিনিকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা না করে ইমার্জেন্সি রুমে যান বা ৯১১ নম্বরে কল করুন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ০:২২
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ

স্টেজ-৪ স্তন ক্যানসারে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদন দিল এফডিএ

তরুণদের মধ্যে গত তিন দশকে স্ট্রোকের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে

বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেই বাড়ছে স্ট্রোকের হার, বলছে গবেষণা

আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২ খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের চেয়ে সঠিক নিয়ম জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২ কখন খাবেন! জানুন সঠিক সময় ও নিয়ম

হাড়ে ক্যানসার! এক্সরেতে দেখতে হুবহু সূর্যরশ্মির মতো চিহ্ন
হাড়ে ক্যানসার! এক্সরেতে দেখতে হুবহু সূর্যরশ্মির মতো চিহ্ন

অস্টিওসারকোমা হাড়ের এক ধরনের বিরল ক্যানসার। এটি সাধারণত হাত ও পায়ের লম্বা হাড়ে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে টিউমারটি হাঁটুর কাছের হাড়ে পাওয়া যায়।   কখনো কখনো এক্সরেতে টিউমার থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে থাকা সরু রেখার মতো নতুন হাড় দেখা যায়। সূর্যের রশ্মির মতো দেখতে এই চিহ্নকে চিকিৎসকেরা ‘সানবার্স্ট’ বলে থাকেন। তবে অস্টিওসারকোমার সব এক্সরেতে এমন চিহ্ন দেখা যায় না।   হাড় বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা এবং আক্রান্ত স্থানে ফোলা এ রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ। একই লক্ষণ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ বা এক্সরের চিহ্ন দেখে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না।   চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরীক্ষা করেন। টিউমারের নমুনা পরীক্ষা বা বায়োপসি রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে হাড়ে ব্যথা বা ফোলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ০:৩৬
জেন কালমাঁ—১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী যাচাই করা ব্যক্তি

ধূ ম পা ন করতেন, ওয়াইন ও চকলেটও ছিল পছন্দ, তবু বেঁচেছিলেন ১২২ বছর!

ফ্লু থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বুকের দুধ দিয়ে খাবার বানাচ্ছেন মায়েরা

ফ্লু থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বুকের দুধ দিয়ে খাবার বানাচ্ছেন মায়েরা, প্রমাণ কতটা!

এমএস চিকিৎসায় পরিবর্তিত এইচআইভির ওষুধের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা

এইচআইভির ওষুধ বদলে এমএস চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা, গবেষণায় মিলল সাড়া জাগানো ফল

0 Comments