ডেঙ্গুতে দেশে ৩৩৫ মৃত্যু, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সকালে তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন। পরে তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুর বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল পরিদর্শনের পর তারেক রহমান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউটসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশপাশের এলাকা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, বিদ্যালয়, পাড়া-মহল্লা ও আশপাশের এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। নির্বিচারে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন। অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ছিল চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। ওই মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু এবং ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৯ জন। চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জনে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী গত ১২ সেপ্টেম্বর তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। এবার হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত জনস্বাস্থ্য পরামর্শ হলো—বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। তবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নিয়মিত বাস্তবায়ন ও নাগরিকদের অংশগ্রহণের ওপর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ শরীরের বার্ধক্য প্রক্রিয়াও ধীর করতে পারে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে—ওজন কমানো ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব ওষুধ মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও বাড়াতে পারবে কি না। জিএলপি-১ ওষুধের পরিচিত উপকারিতা শুধু ওজন কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন গবেষণায় হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া ও শরীরের প্রদাহ কমানোর মতো সম্ভাব্য সুবিধাও উঠে এসেছে। এসব সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবনতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের অধ্যাপক ডানিকা চেনের মতে, বয়স বাড়া অনেক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। তাই শুধু আলাদা আলাদা রোগের চিকিৎসা না করে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করা গেলে বয়সজনিত নানা রোগের ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, জিএলপি-১ ওষুধকে এখনই বার্ধক্য প্রতিরোধের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। এসব ওষুধের সম্ভাব্য সুবিধা শুধু অতিরিক্ত ওজন বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমিত কি না, নাকি স্বাভাবিক ওজনের সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব দেখা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। লস এঞ্জেলেসের সিডারস-সিনাই মেডিকেল সেন্টারের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড জেরোথেরাপিউটিকসের পরিচালক জেমস কার্কল্যান্ডও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, প্রাথমিক গবেষণার ফল দেখে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত কারণ ছাড়াই এসব ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে কম বয়সী, স্বাভাবিক ওজনের এবং ডায়াবেটিস নেই—এমন মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট তথ্য নেই। গবেষকেরা আরও বলছেন, বার্ধক্য পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত জৈবিক সূচকগুলো এখনো উন্নয়নশীল। ফলে এসব পরীক্ষার ফল দেখে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির শরীর কতটা বুড়িয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। জৈবিক বয়সের ঘড়িতে কী দেখা গেছে বার্ধক্য নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে টিরজেপাটাইড নামের ওষুধ। এটি এলি লিলি কোম্পানির তৈরি। ওজন কমানোর জন্য ওষুধটি জেপবাউন্ড এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য মাউনজারো নামে বিক্রি হয়। কোম্পানিটির গবেষকেরা তাদের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ওষুধটি ব্যবহারকারীদের শরীরে বার্ধক্যের কিছু জৈবিক সূচক তুলনামূলক ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়েছে। মূল পরীক্ষায় ৭০০ জনের বেশি অতিরিক্ত ওজনের, তবে ডায়াবেটিস নেই—এমন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাঁদের ৭২ সপ্তাহ ধরে টিরজেপাটাইড অথবা সেমাগ্লুটাইড দেওয়া হয়। পরবর্তী বার্ধক্যবিষয়ক বিশ্লেষণে টিরজেপাটাইড গ্রহণকারী ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৭১ জনের তথ্য দেখা হয়। রক্তে নির্দিষ্ট জিনের কার্যক্রমের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এপিজেনেটিক ক্লক ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতিতে শরীরের কোষ ও টিস্যুর জৈবিক বয়সের আনুমানিক পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করা হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বয়স বাড়লেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একই গতিতে বুড়িয়ে যায় না—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এ ধরনের পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদের হিসাবে, ৭২ সপ্তাহে একজন ব্যক্তির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বয়স প্রায় ১ দশমিক ৩৮ বছর বাড়ার কথা। কিন্তু টিরজেপাটাইড গ্রহণকারী ছোট দলটির বিভিন্ন জৈবিক ঘড়িতে বয়স বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ১ বছর। কয়েকটি সূচকে জৈবিক বয়স কমার ইঙ্গিতও দেখা গেছে। তবে এই পরীক্ষায় ওষুধ না নেওয়া কোনো প্লাসিবো দলের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের সময়ও ছিল সীমিত। তাই ওষুধটি সত্যিই বার্ধক্য ধীর করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চার-পাঁচ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা গেলে এই প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেমাগ্লুটাইডেও মিলেছে একই ধরনের ইঙ্গিত সেমাগ্লুটাইড নামের আরেকটি ওষুধ নিয়েও আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। এটি ওজন কমানোর জন্য ওয়েগোভি এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ওজেম্পিক নামে পরিচিত। ওষুধ প্রস্তুতকারী নোভো নরডিস্কের গবেষকেরা পাঁচটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১০ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। রক্তে থাকা বিভিন্ন প্রোটিনের পরিবর্তন ব্যবহার করে তাঁরা হৃদ্যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জৈবিক বয়স অনুমান করেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্লাসিবো গ্রহণকারীদের তুলনায় সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারকারীদের হৃদ্যন্ত্রের জৈবিক বয়সের সূচকে দুই থেকে চার বছরের পার্থক্য ছিল। কিডনি, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও অগ্ন্যাশয়সহ কয়েকটি অঙ্গের ক্ষেত্রেও এক থেকে চার বছরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গবেষকদের দাবি, এসব পরিবর্তন শুধু ওজন কমা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বা প্রদাহ হ্রাস দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি। তবে গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউয়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়নি। তাই ফলাফলকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ইঁদুরের আয়ু বেড়েছে, মানুষের ক্ষেত্রে কী হবে মানুষের পাশাপাশি ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বার্কলের গবেষকেরা ২০ মাস বয়সী ইঁদুরকে সেমাগ্লুটাইড অথবা প্লাসিবো দেন। ইঁদুরের এই বয়সকে মানুষের প্রায় ৬০ বছরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় সেমাগ্লুটাইড পাওয়া ইঁদুরগুলো তুলনামূলক কম খাবার খেয়েছে, ওজন হারিয়েছে এবং প্লাসিবো পাওয়া ইঁদুরের চেয়ে বেশি দিন বেঁচেছে। ওষুধ গ্রহণকারী ইঁদুরের গড় আয়ু ছিল ৮৩৪ দিন। অন্যদিকে প্লাসিবো পাওয়া ইঁদুরের মোট আয়ু ছিল ৭৪২ দিন। এরপর ওষুধের প্রভাব ও কম ক্যালরি গ্রহণের প্রভাব আলাদা করে বোঝার জন্য আরেক দল ইঁদুরের খাবারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়। এই দলটির আয়ুও বেড়েছিল। তবে দুই দলের মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। পেশির কার্যকারিতা ও চলাফেরার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দলের ফল কাছাকাছি থাকলেও সেমাগ্লুটাইড পাওয়া ইঁদুর চিন্তাভাবনা এবং গোলকধাঁধা থেকে বের হওয়ার পরীক্ষায় ভালো করেছে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও তাদের কিছু সুবিধা দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, ওষুধটির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু কম ক্যালরি গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তবে ইঁদুরের ওপর পাওয়া ফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না। সব মিলিয়ে, জিএলপি-১ ওষুধ বার্ধক্য ধীর করা এবং সুস্থ জীবনকাল বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানুষের আয়ু সত্যিই বাড়ে কি না, স্বাভাবিক ওজনের সুস্থ ব্যক্তিরা এতে উপকৃত হন কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করা এখনই সমর্থন করছেন না বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গুতে দেশে ৩৩৫ মৃত্যু, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
টিকাদানের ঘাটতিতে হামের ভয়াবহ রূপ, বাংলাদেশে বাড়ছে শিশুর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বাস্থ্যবিমা বিধিনিষেধে বিপাকে শরণার্থী ও বৈধ অভিবাসী পরিবার
পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ও গবেষক ডা. রচনা শ্রফ নিজেই আগ্রাসী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা গত ১২ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনসের সহযোগী পরিচালক ছিলেন। টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে শরীরের একটি লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার পর তাঁর পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে চিকিৎসকেরা লিম্ফোমা বা একধরনের র ক্তের ক্যানসার সন্দেহ করেছিলেন। পরবর্তী পরীক্ষায় অ্যাডেনোকারসিনোমা শনাক্ত হয়। মে মাসের শেষ নাগাদ রোগটি শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষায় ক্যানসারটি পাকস্থলী বা অন্ত্র থেকে শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পাওয়া গেলেও এর উৎপত্তিস্থল নিশ্চিত করা যায়নি। রচনা শ্রফ বিশেষ করে অগ্ন্যাশয় ও পিত্তনালির ক্যানসার নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি তাঁকে এই দুই ধরনের ক্যানসারের অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিজের গবেষণার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার নিয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টুসনে বেড়ে ওঠা শ্রফের গবেষণায় আগ্রহ তৈরি হয় স্কুলজীবনেই। ১৯৯৩ সালে হাইস্কুলের শিক্ষার্থী অবস্থায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার সেন্টারের একটি গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পান। ব্রাউন ইউনিভার্সিটি ও থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা এবং এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারে কর্মজীবনের পর ২০১৮ সালে তিনি টুসনে ফিরে আসেন। কর্মজীবনে তাঁর ৮০টির বেশি গবেষণা প্রকাশনা ছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কলেজ অব মেডিসিনের হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দুরারোগ্য ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা যাচাই এবং রোগীদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ছিল তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের অসুস্থতার মধ্যেও ভবিষ্যৎ গবেষকদের সহায়তায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন শ্রফ। সেপ্টেম্বরে পিত্তনালির ক্যানসার নিয়ে কাজ করা নবীন গবেষকদের জন্য তাঁর নামে একটি স্থায়ী গবেষণা পুরস্কার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, সহকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে এ উদ্যোগে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ হয়। তাঁর স্বামী ডা. পুনিত শ্রফ এবং দুই সন্তান সিমরান ও শচিন রয়েছেন।
শারীরিক অসুস্থতাকে মানসিক সমস্যা ভেবে ভুল, অটোইমিউন রোগ নির্ণয়ে পিছিয়ে নারীরা
মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ৯০ ডলারের ফেরত, কারা পাবেন এই অর্থ?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ বন্ধের ঝুঁকি, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ছে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের ২০২৭ সালের জন্য পরিকল্পনা বাছাই ও পরিবর্তনের সময় শুরু হচ্ছে ১৫ অক্টোবর। চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময় বর্তমান গ্রাহকেরা নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা, চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক, ওষুধের খরচ এবং মাসিক প্রিমিয়াম পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে পারবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম মার্কেটওয়াচের ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনার বিকল্প কিছুটা কমে আসছে। একজন গ্রাহকের জন্য গড়ে ৩৫টি পরিকল্পনা পাওয়া যেতে পারে, যা ২০২৬ সালে ছিল ৩৯টি। অন্তত ৩৮ লাখ গ্রাহককে নতুন পরিকল্পনা খুঁজে নিতে হতে পারে। এ ছাড়া ১৮১টি কাউন্টিতে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা পাওয়া যাবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে ইউনাইটেডহেলথ গ্রুপ, হিউমনা ও এইটনার মতো বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানের কিছু বাজার থেকে সরে যাওয়া বা পরিকল্পনা পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত মেডিকেয়ারের বিকল্প ব্যবস্থা। এসব পরিকল্পনায় হাসপাতাল, চিকিৎসক, ওষুধ এবং অতিরিক্ত কিছু স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা থাকতে পারে। তবে কোন চিকিৎসক বা হাসপাতালে সেবা নেওয়া যাবে, কত টাকা নিজেকে দিতে হবে এবং কোন ওষুধের খরচ বিমা বহন করবে—এসব বিষয় পরিকল্পনাভেদে আলাদা। যাঁরা বর্তমানে মেডিকেয়ার সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু মাসিক প্রিমিয়াম দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। কোনো পরিকল্পনায় মাসিক খরচ কম হলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কিংবা নিয়মিত ওষুধ কেনার সময় ব্যক্তিগত ব্যয় বেশি হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল নতুন পরিকল্পনার নেটওয়ার্কে না থাকলে চিকিৎসাসেবা পেতেও অসুবিধা হতে পারে। তাই গ্রাহকদের বার্ষিক পরিবর্তনের নোটিশ বা ‘অ্যানুয়াল নোটিশ অব চেঞ্জ’ মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত। সেখানে আগামী বছরে সুবিধা, প্রিমিয়াম, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য শর্তে কী পরিবর্তন আসছে, তা উল্লেখ থাকে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা, নিয়মিত প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কিংবা নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আগেভাগে যাচাই করা জরুরি।যাঁরা বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে সন্তুষ্ট, তাঁদেরও ২০২৭ সালের শর্তগুলো পরীক্ষা করা উচিত। কারণ আগের বছরের পরিকল্পনা একই নামে থাকলেও সুবিধা, খরচ বা চিকিৎসকের নেটওয়ার্কে পরিবর্তন আসতে পারে। যোগ্য গ্রাহকেরা মেডিকেয়ারের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার তুলনা করতে পারবেন। প্রয়োজনে মেডিকেয়ারের সরকারি সহায়তা নম্বর ১-৮০০-মেডিকেয়ার (১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭)-এ যোগাযোগ করা যায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের চিকিৎসার চাহিদা, ওষুধের তালিকা এবং মোট সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় বিবেচনা করা উচিত। মনে রাখতে হবে, ১৫ অক্টোবর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়টি মূলত মেডিকেয়ারের বার্ষিক উন্মুক্ত নিবন্ধনের সময়। এটি সবার জন্য মেডিকেয়ারে প্রথমবার যোগদানের সময়সীমা নয়; নতুন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আলাদা যোগ্যতা ও নিবন্ধনকাল প্রযোজ্য হতে পারে।
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের
ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস যেভাবে বাড়াতে পারে যকৃতে চর্বি জমার ঝুঁকি