যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছেই, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার ৪১০ জনে
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। দেশটিতে চলতি বছর ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৪১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৩০ জন। সংক্রামক এই রোগের বিস্তার অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শত শত মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৫১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবে দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণের পরিস্থিতি এক রকম নয়। পেনসিলভানিয়া বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি রাজ্যগুলোর একটি।
পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে চলতি বছরে ১ হাজার ২২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ ওই সময় পর্যন্ত হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছিল।
পরবর্তী সময়ে, ১৬ অক্টোবর পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৬০ হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩৮ জনে। রাজ্যটিতে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানেই সংক্রমণের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
তবে পেনসিলভানিয়ায় হামের কারণে মৃ ত্যুর হিসাব নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিডিসি ২০২৬ সালে দেশজুড়ে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মৃ ত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তবে কোন রাজ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে, তা সংস্থাটি প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়া নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি মৃ ত্যুর কথা জানিয়েছে।
মৃ ত্যুর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে সিডিসি হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃ ত্যুর হিসাব তৈরিতে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর তথ্যের পরিবর্তে ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের মৃ ত্যু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার শুরু করে। এই পরিবর্তন নিয়ে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে।
পেনসিলভানিয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সিডিসি ১৩ অক্টোবর জানায়, প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যটিকে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে, কোথায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তদন্তে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৬, যা মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশ। এরপর রয়েছে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। এই বয়সী মানুষের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৮৭ জন, যা মোট সংখ্যার ৪১ শতাংশ।
অর্থাৎ, প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্করা মিলেই মোট আক্রান্তের বড় অংশ। এ পরিস্থিতিতে স্কুল, পরিবার ও জনসমাগমস্থলে সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজ্যটি এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘোষণা ছিল প্রথম। এর মাধ্যমে রোগটির বিস্তার মোকাবিলায় পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে বা সংক্রমিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকলে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সিডিসির প্রকাশিত জাতীয় হিসাব অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪১০ হলেও পেনসিলভানিয়ার পরবর্তী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজ্যটিতে সংক্রমণ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreবন্ধু বা প্রিয়জন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে পাশে থাকার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। কিন্তু কীভাবে সহায়তা করতে হবে, কোন কথা বলা উচিত আর কোন আচরণ এড়িয়ে চলা দরকার—তা বুঝতে পারেন না অনেকেই। কখনো ভালো উদ্দেশ্যে বলা একটি কথাও বিপর্যস্ত মানুষটির কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। একজন মনোবিজ্ঞানীর মতে, সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসে এমন কঠিন সময়েই। তখন পাশে থাকার ধরনই নির্ধারণ করতে পারে, বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে, নাকি দূরত্ব তৈরি হবে। মানুষ সাধারণত বিপদের সময়ে বন্ধুদের পাশে পেলে নিজেকে ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়ার অনুভূতি অনুভব করেন। বিপরীতে, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন কাছের মানুষদের অনুপস্থিতি গভীর হতাশা ও বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই কারও দুঃসময়ে সহায়তা করার অর্থ শুধু সান্ত্বনার কথা বলা নয়; বরং তাঁর অনুভূতি বোঝা, প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং বাস্তবভাবে পাশে থাকা। a মানবিক সম্পর্ক ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির বিষয়ে কাজ করা ওই মনোবিজ্ঞানী এমন পাঁচটি কথা ও আচরণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিপর্যস্ত বন্ধুর কষ্ট বাড়াতে পারে। প্রথমত, বন্ধুকে কাঁদতে নিষেধ করা উচিত নয়। অনেকেই কাউকে কাঁদতে দেখলে বলেন, ‘কেঁদো না’ বা ‘মন শক্ত করো’। তাঁদের উদ্দেশ্য হয়তো মানুষটিকে দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলা। কিন্তু আবেগ প্রকাশ না করলে কষ্ট দূর হয়ে যায়—এ ধারণা ঠিক নয়। বরং কঠিন অভিজ্ঞতা সামলাতে অনেকেরই নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলা এবং কাঁদার সুযোগ প্রয়োজন হয়। জীবনসঙ্গীকে হারানো মানুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা এ বিষয়ে কম কথা বলেছেন, পরবর্তী এক বছরে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অবস্থা তুলনামূলক খারাপ ছিল। শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে আরেকটি গবেষণায় একজন অংশগ্রহণকারী জানান, একজন নার্স তাঁকে কাঁদতে দিয়েছিলেন, থামানোর চেষ্টা করেননি। তাঁর কাছে এই আচরণই ছিল সবচেয়ে সহায়ক অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তাই বন্ধুর চোখে পানি এলে তাঁকে থামানোর পরিবর্তে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। বলা যায়, ‘তুমি মনের কষ্টটা প্রকাশ করছ, এটা ভালো। আমি তোমার পাশে আছি।’ এতে তিনি বুঝতে পারবেন, তাঁর আবেগ প্রকাশ করা কোনো ভুল নয়। দ্বিতীয়ত, ‘তোমাকে শক্ত হতে হবে’—এমন কথা বলাও এড়িয়ে চলা ভালো। কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা স্বাভাবিক। কিন্তু সব সময় শক্ত থাকার পরামর্শ দিলে তাঁর দুঃখ, ভয় কিংবা দুর্বলতার অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। এতে তিনি মনে করতে পারেন, নিজের কষ্ট দেখানো উচিত নয়। এর বদলে তাঁর অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া বেশি কার্যকর। যেমন বলা যেতে পারে, ‘তোমার এমন লাগাটা স্বাভাবিক’ অথবা ‘তুমি যা অনুভব করছ, তা নিয়ে অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।’ এমন কথা মানুষকে নিজের আবেগ বুঝতে এবং তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, ‘কিছু লাগলে আমাকে জানিও’—এই প্রচলিত কথাটিও সব সময় কার্যকর সহায়তা হয়ে ওঠে না। কারণ, বিপর্যস্ত মানুষটি হয়তো বুঝতেই পারেন না, তাঁর ঠিক কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন। আবার সাহায্য চাইতে গিয়ে অন্যকে বিরক্ত করার ভয় বা সংকোচও কাজ করতে পারে। ফলে আন্তরিক প্রস্তাব পেয়েও তিনি কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ হলো, সাধারণভাবে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু কাজের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া। যেমন, ‘তোমার বাজার করে দেব?’, ‘তোমার কাপড় ধুয়ে দিতে পারি?’ অথবা ‘বাচ্চাদের কিছু সময় দেখাশোনা করব?’ শোকের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজকর্মে অন্যদের সহায়তা তাঁদের কাছে বিশেষভাবে উপকারী ছিল। এমন নির্দিষ্ট প্রস্তাবে সাহায্য চাওয়ার চাপ কমে এবং বাস্তব প্রয়োজনও পূরণ হয়। চতুর্থত, কাউকে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়। কোনো কঠিন ঘটনার কয়েক মাস পরও বন্ধু কষ্টে থাকলে কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘এবার এগিয়ে যাও’ বা ‘এখনো এসব নিয়ে ভাবছ?’ কিন্তু দুঃখ, শোক কিংবা মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোনো চাপপূর্ণ ঘটনার পর ১১ শতাংশ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে পারেন। আবার প্রথম দিকে যাঁদের অবস্থা স্বাভাবিক মনে হয়, তাঁদের ৯ থেকে ১২ শতাংশের পরিস্থিতি পরবর্তী সময়ে আরও খারাপ হতে পারে। অর্থাৎ, বাইরে থেকে কাউকে স্বাভাবিক দেখালেই তাঁর কষ্ট পুরোপুরি কেটে গেছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না। নিজের আবেগকে বিচার করা বা সেগুলো নিয়ে নিজেকে দোষারোপ করাও ক্ষতিকর হতে পারে। একটি গবেষণায় যাঁরা নিজেদের অনুভূতিকে নেতিবাচকভাবে বিচার করেছেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মাত্রা বেশি এবং মেজাজের ওঠানামাও বেশি দেখা গেছে। তাই বন্ধুকে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত নয়। বরং বলা যেতে পারে, ‘তোমার যতটা সময় প্রয়োজন, নাও। আমি পাশে আছি।’ পঞ্চমত, বন্ধুর কঠিন সময়ের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া বা তাঁকে এড়িয়ে চলাও ক্ষতিকর। কখনো কখনো কী বলা উচিত, তা বুঝতে না পেরে মানুষ দূরে সরে যান। কেউ ফোন ধরা বন্ধ করেন, কেউ দেখা হলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এতে বিপর্যস্ত মানুষটির মনে হতে পারে, তাঁর কষ্টের কারণে অন্যরা তাঁকে এড়িয়ে চলছেন। ফলে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও ভয় পেতে পারেন এবং আরও একাকিত্বে ভুগতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীর মতে, কঠিন সময়ে থাকা বন্ধুর খোঁজ নেওয়ার গুরুত্ব অনেক সময় আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। অথচ ছোট্ট একটি বার্তাও তাঁকে বুঝিয়ে দিতে পারে যে তিনি একা নন। সামাজিক সমর্থন মানুষের প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিখুঁত কথা খুঁজে না পেলেও যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি বার্তাই যথেষ্ট হতে পারে: ‘আজ তোমার কথা মনে পড়ছিল। তুমি কেমন আছ, জানতে ইচ্ছা হলো।’ এমন বার্তা বন্ধুকে তাঁর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেয়, আবার কথা বলতে না চাইলে তাঁকে চাপও দেয় না। সব মিলিয়ে, কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে থাকার জন্য সব সমস্যার সমাধান জানা জরুরি নয়। বরং তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, আবেগ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া, দৈনন্দিন কাজে নির্দিষ্ট সহায়তা করা এবং নিয়মিত খোঁজ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে দ্রুত ভালো হয়ে যেতে বাধ্য না করে তাঁর অনুভূতিকে সম্মান জানানো বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছেই, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার ৪১০ জনে
স্মৃতিশক্তি হারানোর রোগ শনাক্তে নতুন অগ্রগতি, প্রথম রক্ত পরীক্ষায় অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ওষুধে ধীর হতে পারে বার্ধক্য, নতুন গবেষণায় মিলল আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সকালে তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন। পরে তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুর বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল পরিদর্শনের পর তারেক রহমান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউটসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশপাশের এলাকা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, বিদ্যালয়, পাড়া-মহল্লা ও আশপাশের এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। নির্বিচারে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন। অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ছিল চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। ওই মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু এবং ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৯ জন। চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জনে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী গত ১২ সেপ্টেম্বর তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। এবার হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত জনস্বাস্থ্য পরামর্শ হলো—বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। তবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নিয়মিত বাস্তবায়ন ও নাগরিকদের অংশগ্রহণের ওপর।
টিকাদানের ঘাটতিতে হামের ভয়াবহ রূপ, বাংলাদেশে বাড়ছে শিশুর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বাস্থ্যবিমা বিধিনিষেধে বিপাকে শরণার্থী ও বৈধ অভিবাসী পরিবার
যে ক্যানসার নিয়ে গবেষণা করতেন, সেই আগ্রাসী ক্যানসারেই প্রাণ গেল ডা. রচনা শ্রফের
অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত নারীদের শারীরিক উপসর্গকে মানসিক সমস্যা বলে ভুল করার প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের রোগে আক্রান্ত ৪৩ শতাংশ নারীকে তাঁদের অসুস্থতার কারণ মানসিক বা মনোরোগসংক্রান্ত সমস্যা বলে জানানো হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩ শতাংশ। একই সঙ্গে সঠিক রোগ শনাক্ত করতেও নারীদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে যথাযথ চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অটোইমিউন রোগ এমন এক ধরনের অসুস্থতা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুকে আক্রমণ করে। এসব রোগের উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতো হওয়ায় শুরুতেই সঠিক কারণ শনাক্ত করা কঠিন হয়। ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, ত্বকে ফুসকুড়ি, জয়েন্টে ব্যথা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে কখনো মানসিক চাপ বা উদ্বেগের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যদিও এর পেছনে জটিল শারীরিক রোগ থাকতে পারে। গবেষণায় মোট ৬ হাজার ৬০৭ জন অটোইমিউন রোগীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগই নারী এবং যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারীর অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ ছিল। এই রোগের মধ্যে রয়েছে হাশিমোটো ও গ্রেভস রোগ। হাশিমোটো রোগে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া, ক্লান্তি ও জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। অন্যদিকে গ্রেভস রোগে থাইরয়েড অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়। এতে বুক ধড়ফড় করা, ওজন কমে যাওয়া এবং চোখ কিছুটা বাইরে বেরিয়ে আসার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের প্রায় সাতজনের একজন সিস্টেমিক লুপাসে আক্রান্ত ছিলেন। এ রোগে ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। পুরুষদের মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ভাসকুলাইটিস এবং অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোমের মতো রোগ বেশি দেখা গেছে। রোগ নির্ণয়ে দেরির বিষয়টিও গবেষকদের নজরে এসেছে। পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, উপসর্গ শুরুর তিন মাসের কম সময়ের মধ্যেই তাঁদের রোগ শনাক্ত হয়েছিল। নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, রোগ শনাক্ত হতে এক থেকে দুই বছর লেগেছে। অর্থাৎ অনেক নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে, অথচ অসুস্থতার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। গবেষকদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু ধারণা এ বৈষম্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নারীদের উপসর্গের বিবরণকে কখনো কখনো পুরুষদের তুলনায় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতাও রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারীদেহের বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে গবেষণার ঘাটতিও রোগ শনাক্তের জটিলতা বাড়াতে পারে। গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ডা. মেলানি স্লোয়ান বলেছেন, অটোইমিউন রোগের উপসর্গের চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা শুরুতে পাওয়া কঠিন হতে পারে। কখনো কখনো সঠিক রোগ শনাক্ত করতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যায়। তাঁর মতে, উপসর্গের ব্যাখ্যা খুব দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা চিকিৎসকদের বিবেচনা করা জরুরি। গবেষণার সহলেখক ও রোগী প্রতিনিধি শাইস্তা তায়াবালির মতে, নারী ও পুরুষের ভুল রোগনির্ণয়ের অভিজ্ঞতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যার সঙ্গে উপসর্গকে যুক্ত করার প্রবণতা বেশি হলেও অন্য শারীরিক রোগ হিসেবে ভুল শনাক্ত হওয়ার হার কিছুটা বেশি ছিল পুরুষদের মধ্যে। তাঁর মতে, নারীদের উপসর্গকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রোগনির্ণয় সব ক্ষেত্রেই ভুল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে অটোইমিউন রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে। লুপাসের মতো কিছু অটোইমিউন রোগ সরাসরি মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে মানসিক বা স্নায়বিক উপসর্গও তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ও জীবন পরিবর্তনকারী অসুস্থতার সঙ্গে বসবাসের চাপ থেকেও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শারীরিক উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হলে কিংবা শরীরের একাধিক অংশে দেখা দিলে সম্ভাব্য অটোইমিউন রোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রাথমিক পরীক্ষায় রোগের কারণ স্পষ্ট না হলেও রোগীর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা, নতুন উপসর্গ দেখা দিলে পুনরায় মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে আরও পরীক্ষা করার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। গবেষণার ফলাফল থেকে স্পষ্ট, রোগের কারণ দ্রুত শনাক্ত করতে না পারলে রোগীকে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হতে পারে। তাই উপসর্গের যথাযথ মূল্যায়ন এবং রোগীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া ভুল রোগনির্ণয় কমাতে ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ৯০ ডলারের ফেরত, কারা পাবেন এই অর্থ?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ বন্ধের ঝুঁকি, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ছে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ