প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ হাজার পা হাঁটলেই মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতায় মিলতে পারে উন্নতি
প্রতিদিন বেশি হাঁটলে মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখা, অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়ানো এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তির বদলে অপেক্ষা করার ক্ষমতার সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটার প্রচলিত লক্ষ্য পূরণ না করলেও বেশি হাঁটাচলার সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক দক্ষতার ভালো পারফরম্যান্সের সম্পর্ক রয়েছে।
হাঁটাচলার উপকারিতা নিয়ে আগেও বহু গবেষণা হয়েছে। সাধারণভাবে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সুস্থতা বজায় রাখা এবং অকালমৃত্যু, স্ট্রোক ও বিষণ্নতার ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ৭ হাজার পা হাঁটার উপকারিতার কথা উঠে এসেছে। তবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার সঙ্গে হাঁটার সম্পর্ক কতটা, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন নতুন গবেষণার বিজ্ঞানীরা।
গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া হাঁটার হিসাবের ওপর নির্ভর না করে ফিটবিট যন্ত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ১৮ থেকে ৯৩ বছর বয়সী ৩ হাজার ৯৩ জনের তথ্য পর্যালোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৮ বছর।
দৈনিক হাঁটার পরিমাণের ভিত্তিতে তাঁদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে কম সক্রিয় দলটির সদস্যরা প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ১০৮ পা হাঁটতেন। মাঝারি সক্রিয় দলটির দৈনিক গড় ছিল ৮ হাজার ৮৭৫ পা। আর সবচেয়ে সক্রিয় দলটি প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ১৬১ পা হাঁটত।
এরপর চারটি পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষাগুলোতে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা, তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পিছিয়ে দেওয়া, আবেগের সংকেত শনাক্ত করা এবং মনোযোগ নষ্ট করতে পারে এমন বিষয় উপেক্ষা করার ক্ষমতা যাচাই করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, মাঝারি ও বেশি সক্রিয়—দুই দলের সদস্যরা দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা, বিভ্রান্তি উপেক্ষা করা এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পিছিয়ে দেওয়ার পরীক্ষায় সবচেয়ে কম সক্রিয় দলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো করেছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি হাঁটা দলটি সব পরীক্ষায় সেরা ফল করেনি। দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় দল এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে, বিভ্রান্তি উপেক্ষা করার পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফল করে মাঝারি সক্রিয় দলটি।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন মাঝারি গতিতে অতিরিক্ত ১ হাজার পা হাঁটার সঙ্গে তিনটি মানসিক দক্ষতার পরীক্ষায় ভালো ফলের সম্পর্ক রয়েছে। এই পরিমাণ হাঁটতে আনুমানিক নয় মিনিট সময় লাগে।
অর্থাৎ, প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে—এমন ধারণার বাইরে গিয়েও নিয়মিত হাঁটাচলার সঙ্গে মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতার ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে গবেষণাটি হাঁটাচলার উপকারিতা সম্পর্কে একটি সম্পর্ক তুলে ধরেছে, সরাসরি কারণ প্রমাণ করেনি।
গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের রক্তচাপের তথ্যও বিশ্লেষণ করেন। তাঁদের ব্যবহৃত ফিটবিট যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রক্তচাপ ও মানসিক দক্ষতার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, সিস্টোলিক রক্তচাপ—অর্থাৎ হৃদ্যন্ত্র থেকে রক্ত বের হওয়ার সময় ধমনিতে তৈরি হওয়া চাপের পরিমাপ—বেশি হলে তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পিছিয়ে দেওয়া ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে সামান্য খারাপ ফলের সম্পর্ক ছিল। তবে রক্তচাপের সঙ্গে অন্য মানসিক দক্ষতাগুলোর উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
গবেষকদের ধারণা, শারীরিক সক্রিয়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতার মধ্যকার সম্পর্কের একটি ছোট অংশ, প্রায় ৫ শতাংশ, রক্তচাপ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো পর্যায়ে কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁদের স্বাস্থ্যবিমা ছিল। তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশ ছিলেন শ্বেতাঙ্গ এবং ৬৮ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ফলে এই ফলাফল অন্য জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মানসিক দক্ষতা মাত্র একবার মূল্যায়ন করা হয়েছিল। তাই নিয়মিত হাঁটাচলা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সক্ষমতার অবনতি ঠেকাতে পারে কি না, তা এই গবেষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনও হতে পারে, যাঁদের মানসিক দক্ষতা তুলনামূলক ভালো, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই বেশি সক্রিয় থাকেন।
গবেষণাটির লেখক ড. ওলাওলুওয়া ওকুসাগা বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সায়েন্সঅ্যালার্টকে বলেন, “আমাদের গবেষণার ফল দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সক্রিয়তা ও পরবর্তী সময়ের মানসিক কর্মক্ষমতার মধ্যে সম্পর্কের পক্ষে প্রমাণ দেয়, তবে শারীরিক সক্রিয়তাই যে ভালো মানসিক কর্মক্ষমতার কারণ, তা প্রমাণ করে না।”
চারটি পরীক্ষার মধ্যে আবেগের সংকেত শনাক্ত করার পরীক্ষায় হাঁটার পরিমাণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, এই দক্ষতার সঙ্গে মস্তিষ্কের ভিন্ন অংশ জড়িত থাকতে পারে। আবার পরীক্ষাটি মানুষের দক্ষতার পার্থক্য শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট সংবেদনশীল না-ও হতে পারে।
সব মিলিয়ে গবেষণাটি বলছে, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। তবে হাঁটার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য সবার জন্য সমান উপকারী কি না, কিংবা এটি সরাসরি মানসিক সক্ষমতা বাড়ায় কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে অক্টোবরে মা রা যান। বৃহস্পতিবার ফরাসি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের জন্য এই ভাইরাসের কারণে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করা হয়নি। তবে রোগীর অসুস্থতা ও সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলছে। শামোন্ডা ভাইরাস মূলত গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে গরুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত পোকামাকড়ের কা মড়ের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। এত দিন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো নথিভুক্ত ঘটনা পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্রান্সে এই রোগীর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়াকে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফরাসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে লিয়ঁ শহরের হসপিস সিভিলস দ্য লিয়ঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অক্টোবরে তাঁর মৃ ত্যু হয়। রোগীর মস্তিষ্কে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তার সঙ্গে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনাকে চিকিৎসকেরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তবে এই সম্পর্ক নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল, পরীক্ষাগারভিত্তিক ও মহামারিবিষয়ক তদন্ত চলছে। অর্থাৎ, ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হলেও রোগীর অসুস্থতার সব পর্যায়ে এর ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, রোগীটি দেশটির পূর্বাঞ্চলে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। ২০২৬ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। তবে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কয়েক দশক ধরে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণীর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে প্রাণীর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে এর সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে ইউরোপের একাধিক দেশেও ভাইরাসটির বিস্তার শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় এর উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের অধীন জার্সি দ্বীপেও গরুর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য, বিস্তার এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হঠাৎ জ্বর, পাতলা পায়খানা, পেটের অস্বস্তি, অবসাদ এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত গরুর প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে গর্ভপাত বা ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রাণিস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। গরু ছাড়াও ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও আলপাকার মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটির বিস্তার এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি এক বিষয় নয়। এ দুটি ক্ষেত্রে আলাদা করে গবেষণা ও নজরদারি প্রয়োজন। শামোন্ডা ভাইরাস আরএনএ ভাইরাসের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সিমবু শ্রেণিগোষ্ঠীর অর্থোবুনিয়াভাইরাস। জিনগতভাবে এটি শ্মালেনবার্গ ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে একই গোষ্ঠীর ভাইরাস হওয়া মানেই তাদের সংক্রমণপদ্ধতি বা মানুষের ওপর প্রভাব অভিন্ন—এমন নয়। এখন পর্যন্ত শামোন্ডা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা সহজলভ্য নেই। প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ওপর এর প্রভাব কতটা, তা বোঝার জন্য গবেষণা চলছে। একই সঙ্গে মানুষের ক্ষেত্রে শনাক্ত হওয়া প্রথম ঘটনাটির কারণ ও তাৎপর্য নির্ধারণের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা থেকে ব্যাপক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বর্তমান মূল্যায়নেও সাধারণ জনগণের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়নি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আগে থেকেই কম ছিল এবং তাঁর মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দিয়েছিল বলে ঘটনাটি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাণীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি ভাইরাস মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়ায় এর সংক্রমণক্ষমতা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চলমান তদন্তের ফলই নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে, ঘটনাটি কতটা ব্যতিক্রমী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য কী ধরনের নজরদারি প্রয়োজন।
প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ হাজার পা হাঁটলেই মস্তিষ্কের কিছু দক্ষতায় মিলতে পারে উন্নতি
আমেরিকার টপ ডাক্তার জিয়াউদ্দিনের সিলেটের ২০০ শয্যার কিডনি হাসপাতাল, অসচ্ছলদের ফ্রি চিকিৎসা
প্রোস্টেট ক্যানসারের ওষুধ প্রতিরোধের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
অস্ত্রোপচারের সময় টিউমারের টিস্যু আলাদা করে দেখতে সার্জনদের সহায়তার জন্য বিশেষ চশমা তৈরি করেছেন নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী স্যামুয়েল আচিলেফু ও তাঁর গবেষক দল। ‘মেডিক্যাল ভিশন গগলস’ নামের প্রযুক্তিটি বিশেষ রঞ্জক পদার্থের ফ্লুরোসেন্ট সংকেত শনাক্ত করে অস্ত্রোপচারের স্থানের ওপর দৃশ্যমান ছবি দেখায়। এর লক্ষ্য, খালি চোখে বোঝা কঠিন এমন টিউমারের অংশ শনাক্তে চিকিৎসককে বাড়তি সহায়তা দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রযুক্তির প্রাথমিক উন্নয়ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সাইটম্যান ক্যানসার সেন্টারে প্রথমবার অস্ত্রোপচারে এর একটি প্রাথমিক সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে এটি একেবারে নতুন উদ্ভাবন নয়; এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলছে। আচিলেফু বর্তমানে ডালাসের ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। সেখানে তাঁর দল বহনযোগ্য ইমেজিং যন্ত্র ও অস্ত্রোপচারে টিউমার শনাক্তের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে একটি ফ্লুরোসেন্ট কনট্রাস্ট এজেন্ট দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট আলো পড়লে সংশ্লিষ্ট টিস্যু থেকে যে সংকেত আসে, চশমার ক্যামেরা তা শনাক্ত করে। প্রসেসর সেই সংকেতকে দৃশ্যমান ছবিতে রূপান্তর করে সার্জনের দেখার জায়গায় তুলে ধরে। এতে অস্ত্রোপচারের স্থান ও চিহ্নিত টিস্যুর ছবি একই সঙ্গে দেখা সম্ভব হয়। ক্যানসার অস্ত্রোপচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো টিউমারের সীমানা এবং অপসারণের পর অবশিষ্ট অংশ শনাক্ত করা। চশমাটি সেই সিদ্ধান্তে সহায়তার জন্য তৈরি। তবে এটি সব ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করার যন্ত্র নয়, আর কোনো সংকেত না দেখালেই শরীরে ক্যানসার নেই, এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া যায় না। যন্ত্রটি সাশ্রয়ী করতেও কাজ করছেন গবেষকেরা। ইউটি সাউথওয়েস্টার্নে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি সংস্করণে দুই হাজার ডলারের বৈজ্ঞানিক ক্যামেরার পরিবর্তে ৫০ ডলারের কম দামের রাস্পবেরি পাই ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি শুধু ক্যামেরার দাম, পুরো চশমা বা চিকিৎসাপদ্ধতির মোট খরচ নয়। গবেষণায় প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা দেখা গেলেও ব্যাপক চিকিৎসা ব্যবহারের জন্য উন্নয়ন চলমান। ওই বিবরণে গবেষণাগারের যন্ত্রকে চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর এবং এফডিএর অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের ফিরদৌসী কাদরীকে নিয়ে বিল গেটসের ভিডিও, তুলে ধরলেন জীবন বাঁচানোর গবেষণা
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় লাখ লাখ ডলার, মায়েদের চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
বন্ধুর কষ্ট কমাতে চান, তাহলে এড়িয়ে চলুন প্রচলিত পাঁচটি কথা ও আচরণ
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। দেশটিতে চলতি বছর ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৪১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৩০ জন। সংক্রামক এই রোগের বিস্তার অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শত শত মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৫১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবে দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণের পরিস্থিতি এক রকম নয়। পেনসিলভানিয়া বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি রাজ্যগুলোর একটি। পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে চলতি বছরে ১ হাজার ২২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ ওই সময় পর্যন্ত হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে, ১৬ অক্টোবর পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৬০ হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩৮ জনে। রাজ্যটিতে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃ ত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানেই সংক্রমণের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তবে পেনসিলভানিয়ায় হামের কারণে মৃ ত্যুর হিসাব নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিডিসি ২০২৬ সালে দেশজুড়ে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মৃ ত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তবে কোন রাজ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে, তা সংস্থাটি প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়া নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি মৃ ত্যুর কথা জানিয়েছে। মৃ ত্যুর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে সিডিসি হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃ ত্যুর হিসাব তৈরিতে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর তথ্যের পরিবর্তে ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের মৃ ত্যু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার শুরু করে। এই পরিবর্তন নিয়ে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। পেনসিলভানিয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সিডিসি ১৩ অক্টোবর জানায়, প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যটিকে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। সংক্রমণ কীভাবে ছড়াচ্ছে, কোথায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তদন্তে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৬, যা মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশ। এরপর রয়েছে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। এই বয়সী মানুষের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৮৭ জন, যা মোট সংখ্যার ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্করা মিলেই মোট আক্রান্তের বড় অংশ। এ পরিস্থিতিতে স্কুল, পরিবার ও জনসমাগমস্থলে সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজ্যটি এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘোষণা ছিল প্রথম। এর মাধ্যমে রোগটির বিস্তার মোকাবিলায় পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে বা সংক্রমিত বাতাসের সংস্পর্শে এলে অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকলে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির প্রকাশিত জাতীয় হিসাব অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪১০ হলেও পেনসিলভানিয়ার পরবর্তী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজ্যটিতে সংক্রমণ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্মৃতিশক্তি হারানোর রোগ শনাক্তে নতুন অগ্রগতি, প্রথম রক্ত পরীক্ষায় অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ওষুধে ধীর হতে পারে বার্ধক্য, নতুন গবেষণায় মিলল আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত