অস্ট্রেলিয়া

'জবরদস্তিমূলক শ্রম' রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলীয় পণ্যে ১২.৫% বাড়তি কর আরোপ করলেন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
শুল্কের নামে অস্ট্রেলিয়াকে ঘায়েল করলেন ট্রাম্প! ১২.৫% বাড়তি কর আরোপে সিডনিতে ক্ষোভ

'জবরদস্তিমূলক শ্রম' রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলীয় পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ নতুন বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আলবানিজ সরকার।   প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে, জবরদস্তিমূলক শ্রমবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার তালিকায় থাকা ৫৪টি দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। চীন, ব্রাজিল, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় তিনটি রপ্তানি পণ্য—যেমন গরুর মাংস ও স্বর্ণ এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।   মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা জবরদস্তিমূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল। তিনি বলেন, আধুনিক দাসপ্রথা ও জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ার আইন বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং এই শুল্ক সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। উপ-প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মারলেসও মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে 'বোকামি' বলে মন্তব্য করেছেন।   এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, অস্ট্রেলিয়াকে কানাডা বা যুক্তরাজ্যের মতো কম শুল্কের (১০%) তালিকায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। দেশটির ব্যবসায়ী ও কৃষিখাতের শীর্ষ সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা ও ভিত্তিহীন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বর্তমানে এই নতুন শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ঋণমুক্ত জীবনের আশায় দুই সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে না পেরে ভিটেমাটি ত্যাগ: বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমাচ্ছেন অস্ট্রেলীয় দম্পতি

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন খরচ এবং আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের এক দম্পতি। নিজেদের বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ঋণমুক্ত জীবন শুরু করতে পারবেন।   ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের বাসিন্দা ক্রিস্টি-গ্লোরি গ্যালো (কেজি) এবং তার স্বামী রিকার্ডো পারাটা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইতালির তুসকানি অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর লুক্কায় বসবাস শুরু করবেন। দম্পতির দুই সন্তানের বয়স ১১ ও ৭ বছর। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করেছেন তারা।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, তারা অল্প বয়সেই বিয়ে করেছেন, বাড়ি কিনেছেন, ব্যবসা শুরু করেছেন, ব্যবসা বিক্রিও করেছেন, সম্পত্তি সংস্কার করেছেন এবং পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি দুই সন্তানকে বড় করেছেন। জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রচলিত সব পথই অনুসরণ করেছিলেন তারা। কিন্তু এত কিছুর পরও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক স্বস্তি পাননি।   তার ভাষায়, "আমরা বসে নিজেদের প্রশ্ন করলাম, এত চেষ্টা করার পরও কেন মনে হচ্ছে আমরা এগোতে পারছি না?" ক্রিস্টি-গ্লোরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্টাইলিং খাতে কাজ করেন। অন্যদিকে রিকার্ডো শিক্ষা খাতে কর্মরত। তারা জানান, প্রতিদিনের খরচ বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো জীবনযাত্রা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "প্রতিবার বিল এলে গভীর শ্বাস নিতে হতো। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সেটাও দেখে নিতে হতো।" তিনি আরও বলেন, তার স্বামীর আয়ের ওপর করের বোঝাও অনেক বেশি হয়ে উঠেছিল।   গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে খরচ কমানোর জন্য পরিবারটি নানা উদ্যোগ নেয়। বিনোদনমূলক অনলাইন সেবার সদস্যপদ বাতিল করা, সন্তানের ফুটবল ক্লাব পরিবর্তন করা, অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, "আমরা বিলাসবহুল গাড়ি চালাই না। খুব সাধারণভাবেই জীবন কাটিয়েছি। তারপরও মনে হয়েছে শুধু খরচ কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।" শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নেন, জীবনযাত্রাকে আরও সীমাবদ্ধ না করে বরং নতুন দেশে নতুনভাবে শুরু করবেন। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ ছিল আবাসনের দামের বিশাল পার্থক্য।   দম্পতি জানান, ২০২৩ সালে তারা গোল্ড কোস্টে ৫ লাখ ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। পরে সেটি সংস্কার করেন। বর্তমানে বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কাছাকাছি। অন্যদিকে ইতালির লুক্কায় তারা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) মূল্যের সম্পূর্ণ সংস্কার করা তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন।   তাদের দাবি, বাড়িটিতে নতুন পাইপলাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জানালা ও তাপ নিরোধকসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা আগে থেকেই রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত সংস্কারের প্রয়োজন হবে না। অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি করলে ইতালির নতুন বাড়ি কেনার পরও তাদের হাতে সঞ্চয় থাকবে এবং সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত জীবন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।   পরিবারটির ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পথ সহজ হয়েছে রিকার্ডোর ইতালীয় বংশসূত্রের কারণে। তিনি ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দুই সন্তানও দ্বৈত নাগরিকত্ব অর্জন করেছে। আর ক্রিস্টি-গ্লোরি স্বামীর মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন এবং তিন বছর পর ইতালির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   তিনি স্বীকার করেন, এই সুযোগ সবার জন্য সহজলভ্য নয়। ক্রিস্টি-গ্লোরি আরও জানান, জীবনে দুবার মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, "এ ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে বদলে দেয়।" তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারটি যখন নতুন জীবনের সুবিধা-অসুবিধার তালিকা তৈরি করে, তখন সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ৪০ বছর বয়সে পৌঁছে এই সুযোগ না নেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হওয়া।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "ওটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।" নতুন জীবনে তারা সন্তানদের নিয়ে আরও বেশি সময় বাইরে কাটাতে, সাইকেল চালাতে, ফুটবল খেলতে এবং ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চান। তিনি বলেন, "এখন প্রথমবারের মতো ভবিষ্যতের চাকরি নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে অনেক হালকা লাগছে। আমরা আর ঋণের বোঝা নিয়ে বাঁচব না।"   সূত্র: ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
সিডনিতে স্কুলের ছুটিতে সন্তানদের পছন্দের খাবার বানাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন মা

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্কুলের ছুটিতে সন্তানদের আনন্দ দিতে বারবিকিউ করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এক মা। মার্শম্যালো ভাজার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ তার শরীরে আগুন ধরে যায়। ১১ বছরের ছেলে এবং ৭ বছরের মেয়ের চোখের সামনেই ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা, যা শেষ পর্যন্ত ওই নারীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।   শার্লট রোজ-অ্যান হিল নামের ওই নারী তার বাড়ির উঠানে সন্তানদের জন্য এই বিশেষ আয়োজন করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার ছেলে ও মেয়ে কাছেই ছিল এবং পুরো ঘটনাটি তারা অসহায়ভাবে প্রত্যক্ষ করে। শার্লটের কাজিন বিয়াঙ্কা হিল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাচ্চারা সে সময় অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। মায়ের গায়ে আগুন দেখে ছোট্ট মেয়েটি তার জীবনের সর্বোচ্চ শক্তিতে চিৎকার করে বাবাকে ডাকে, যিনি ওই সময় কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মাত্র ১১ বছর বয়সী ছেলে নিজের জ্যাকেট দিয়ে মায়ের গায়ের আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে।   শার্লটের স্বামী দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। আগুনে শার্লটের মুখ ও হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তার অবস্থার হয়তো উন্নতি হচ্ছে। তিনি চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে ফোনে সন্তানদের সাথে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   শার্লটের মৃত্যু তার পরিবারের জন্য আরও বেশি হৃদয়বিদারক, কারণ ছোটবেলায় তিনি নিজেও তার মায়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছিলেন। বিয়াঙ্কা জানান, শার্লট কখনোই চাননি তার সন্তানরা একই ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাক। অত্যন্ত দয়ালু ও হাসিখুশি স্বভাবের শার্লট সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে যেকোনো কিছু করতে পারতেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে চারপাশের মানুষের সহানুভূতি, ভালোবাসা ও একটি সুন্দর সমাজকাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
হিজাবি নারী । ছবি:সংগৃহীত
মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধের দাবি ও শরিয়া আইন নিয়ে কড়া অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার

অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের নেতা সিনেটর পলিন হ্যানসন আবারও ইসলাম ও অভিবাসন ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাজ্য সফরের সময় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় নিকাব নিষিদ্ধের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শরিয়া আইনের কোনো স্থান দেশটিতে হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   লন্ডনে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স (সিপিএসি) এবং গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যানসন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার আইনই দেশের একমাত্র আইন হওয়া উচিত এবং মুখ ঢেকে রাখে এমন নিকাব জননিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি আরও দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো দরকার এবং নতুন অভিবাসীদের দেশটির আইন ও মূল্যবোধের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে।    হ্যানসনের এসব মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের দেশ সম্পর্কে বিভাজনমূলক বক্তব্য দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। সরকারপক্ষের আরও কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভক্তি তৈরি করতে পারে এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।    পলিন হ্যানসন দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি, ইসলাম এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থার সমালোচক হিসেবে পরিচিত। অতীতেও তিনি বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিলেন এবং মুসলিম অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ ও রাজনৈতিক মহলে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে।   তবে নিকাব নিষিদ্ধ বা শরিয়া আইন সংক্রান্ত হ্যানসনের প্রস্তাব বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। এগুলো তার রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে নতুন কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
লিয়ান নুগুয়েন ও অ্যান্ডি চিয়েম তাদের পরিচালিত লন্ড্রোম্যাটে। ছবি: সংগৃহীত
চাকরির পাশাপাশি পার্ট-টাইম ব্যবসা করে বছরে আয় প্রায় ১ কোটি টাকা, সপ্তাহে কাজ মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা

অস্ট্রেলিয়ায় পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি একটি স্বয়ংক্রিয় লন্ড্রি ব্যবসা পরিচালনা করে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করছেন এক তরুণ দম্পতি। সপ্তাহে মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় দিয়েই তারা ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন। দেশটিতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেমনই থাকুক না কেন, লন্ড্রি সেবার চাহিদা স্থিতিশীল থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ব্যবসার জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়ছে।   ইয়াহু ফাইন্যান্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ বছর বয়সী লিয়ান নুগুয়েন এবং তার সঙ্গী অ্যান্ডি চিয়েম দুই বছর আগে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরের উপকণ্ঠে একটি লন্ড্রোম্যাট চালু করেন। নুগুয়েন বর্তমানে চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরি করেন। ভবিষ্যতে আরও আর্থিক স্বাধীনতা এবং জীবনযাপায় নমনীয়তা আনতেই তারা অতিরিক্ত আয়ের এই উদ্যোগ নেন।   নুগুয়েন বলেন, তাদের লক্ষ্য রাতারাতি ধনী হওয়া নয়। বরং একটি চাকরির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে একাধিক আয়ের উৎস তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ব্যবসা শুরু করার আগে তারা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়ে চিন্তা করেন। শেষ পর্যন্ত লন্ড্রোম্যাটই বেছে নেন, কারণ মানুষের কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন সব সময়ই থাকে। অর্থনৈতিক মন্দা হোক বা সুসময়, এই সেবার চাহিদা পুরোপুরি কমে যায় না। পাশাপাশি ব্যবসাটি তুলনামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় চাকরি, পরিবার, ভ্রমণ এবং ভবিষ্যতে সন্তান লালন-পালনের মতো পরিকল্পনার সঙ্গে সহজেই সমন্বয় করা যায়।   তাদের এই ব্যবসা শুরু করতে প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগ করতে হয়েছে। ওয়াশিং মেশিন ও ড্রায়ার কেনা, দোকান সাজানো, প্লাম্বিং এবং বৈদ্যুতিক কাজসহ পুরো অবকাঠামোই নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে। শুরুর দিকে ব্যবসার গতি কিছুটা ধীর ছিল। তবে উদ্বোধনের এক সপ্তাহ আগে আশপাশের এলাকায় প্রচারণামূলক লিফলেট বিতরণ করায় প্রথম থেকেই ভালো সংখ্যক গ্রাহক পান তারা। নুগুয়েন জানান, ব্যবসা শুরুর প্রথম মাসেই তারা লাভের মুখ দেখেন, যা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ছিল।   তিনি নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে তাদের ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাদের লন্ড্রোম্যাটের মোট আয় ছিল ১০ হাজার ৯৩২ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ওয়াশিং মেশিন ও ড্রায়ার ব্যবহার থেকে এসেছে ৯ হাজার ৭৪২ ডলার এবং একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাপড় ধোয়া, শুকানো ও ভাঁজ করার সেবা থেকে এসেছে আরও ১ হাজার ১৯০ ডলার।   একই মাসে ব্যবসার মোট ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৬০৯ ডলার। এর মধ্যে দোকান ভাড়া, বীমা, ইন্টারনেট ও হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যারের মতো স্থায়ী খরচ ছিল ২ হাজার ৯২৫ ডলার। গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং লেনদেন-সংক্রান্ত ব্যয় ছিল ১ হাজার ৪৫০ ডলার। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য খাতে খরচ হয়েছে ২৩৫ ডলার। সব ব্যয় বাদ দিয়ে ওই মাসে তাদের নিট মুনাফা দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩২৪ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।   ব্যবসাটি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হলেও কিছু নিয়মিত কাজ তাদের নিজেরাই করেন। সপ্তাহে কয়েক দিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এসে দোকান পরিষ্কার করেন। আর নুগুয়েন ও চিয়েম সপ্তাহে মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় দিয়ে হিসাব মিলিয়ে দেখা, লেনদেন যাচাই এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করেন। নুগুয়েন জানান, মৌসুমভেদে তাদের আয়ে পার্থক্য দেখা যায়। গরমের সময় সপ্তাহে গড়ে প্রায় ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় হলেও শীতকালে ড্রায়ারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সেই আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।   গত বছর তাদের ব্যবসার মোট আয় ছিল ১ লাখ ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। পরিচালন ব্যয় মোট আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়ায় বছর শেষে নিট মুনাফা দাঁড়ায় প্রায় ৭২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় লন্ড্রোম্যাট ব্যবসায় সফল উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়ছে। গোল্ড কোস্টের বাসিন্দা অ্যাডাম নেলসন ২০১৬ সালে তার প্রথম লন্ড্রোম্যাট চালু করেন। পরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে গত বছর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি এই খাতেই মনোযোগ দেন। বর্তমানে তার একটি লন্ড্রোম্যাট থেকেই বছরে প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় হয়।   নেলসনের ভাষ্য, এই ব্যবসায় কর্মচারীর প্রয়োজন খুবই কম। ফলে বেতন খাতে ব্যয় সীমিত থাকে এবং পরিচালন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশ সন্তোষজনক হয়। বাণিজ্যিক সম্পত্তি বিশেষজ্ঞ শে ফেয়ারহার্স্ট বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় লন্ড্রোম্যাট খোলার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ব্যবসার সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই নতুন করে এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন।   গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইবিআইএসওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৫ হাজারের বেশি লন্ড্রি ও ড্রাই ক্লিনিং ব্যবসা রয়েছে। নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার হারও বাড়ছে। ২০২৮-২৯ অর্থবছর পর্যন্ত এ খাতের বার্ষিক আয় গড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়ে ২৬০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   নুগুয়েন জানান, এই ব্যবসার কারণে গত বছর তিনি ও তার সঙ্গী প্রায় দুই মাস বিদেশ ভ্রমণে ছিলেন। সে সময়ও তাদের লন্ড্রোম্যাট স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরও একটি লন্ড্রোম্যাট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তার ভাষায়, শুরুতে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে হয়, কিন্তু সেই ভিত্তি তৈরি হয়ে গেলে ব্যবসা পরিচালনা অনেক সহজ হয়ে যায় এবং নিজের জন্যও অনেকটা সময় বের করে নেওয়া সম্ভব হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মোদির সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানি চুক্তি করল ভারত–অস্ট্রেলিয়া
মোদির সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানি চুক্তি করল ভারত–অস্ট্রেলিয়া, জোরদার হচ্ছে কৌশলগত অংশীদারিত্ব

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রপ্তানির প্রশাসনিক চুক্তি সই করেছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হলো।     অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese ও মোদির বৈঠকে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করার বিষয়েও একাধিক সমঝোতা হয়েছে।     মোদি বলেন, ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় অবকাঠামো খাতে আরও বেশি অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।     এদিকে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, চুক্তিটি শুধু জ্বালানি সহযোগিতা নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অংশ। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও গুরুত্ব পেয়েছে।     ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ২০১৪ সালে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হলেও, ভারত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) সদস্য না হওয়ায় ইউরেনিয়াম রপ্তানি কার্যকর হতে দীর্ঘদিন বিলম্ব হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক চুক্তির মাধ্যমে সেই বাধা দূর হলো।   বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়াম মজুদের দেশ অস্ট্রেলিয়া, আর ভারত দ্রুত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।  

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার টেলস্ট্রার নেটওয়ার্ক ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
সময়-সমন্বয় প্রযুক্তির ত্রুটিতে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে টেলস্ট্রার নেটওয়ার্ক বিপর্যয়, ব্যাহত জরুরি সেবাও

অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলস্ট্রার নেটওয়ার্কে সময়-সমন্বয় প্রযুক্তির একটি সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে বড় ধরনের সেবা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বুধবারের এই ঘটনায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, জরুরি সেবা, ট্রেন চলাচল এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।   প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সিডনি ও মেলবোর্নের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে সময়-সমন্বয় ব্যবস্থার সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাব দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো গ্রাহক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।   এই বিপর্যয়ের কারণে অনেক এলাকায় মোবাইল ফোনে কল করা বা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ইন্টারনেট সেবাও অনিয়মিত হয়ে পড়ে। জরুরি নম্বরে ফোন করতেও অনেক ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।   নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতেও। বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেন চলাচল বিলম্বিত হয় এবং কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। একই সময়ে বহু দোকান, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।   টেলস্ট্রা জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো সাইবার হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি প্রযুক্তিগত সফটওয়্যার ত্রুটির ফল। প্রতিষ্ঠানটি সমস্যার উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানের কাজ শুরু করে।   কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর ধীরে ধীরে অধিকাংশ সেবা স্বাভাবিক করা হয়। গ্রাহকদের সংযোগে সমস্যা থাকলে মোবাইল ফোন পুনরায় চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে একটি সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে এত বড় যোগাযোগ বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার ওয়াইয়ংয়ে শিশুহত্যা। ছবি: সংগৃহীত
৪ বছরের ছেলেকে হত্যার পর মরদেহের অংশ রান্নার অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার মা

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর ওয়াইয়ংয়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ বিকৃত করার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার আগে পরিবারটি সম্পর্কে একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্বাধীন তদন্ত শুরু হয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ৩২ বছর বয়সী ওই নারী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ওয়াইয়ংয়ের বাইরন স্ট্রিটের একটি বাসভবনে অভিযান চালায়। সেখানে চার বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, শিশুটি কয়েক দিন আগেই মারা গিয়েছিল।   পুলিশ ঘটনাস্থলকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট চ্যাড গিলিস বলেন, শিশুহত্যার প্রতিটি ঘটনাই একটি পুরো সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাই সব প্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রবিবার সকালে ওই নারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তার লালা, রক্ত, নখের নমুনা এবং অন্যান্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আইনি কারণে অভিযুক্ত নারী এবং নিহত শিশুর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবারটি এর আগে একাধিকবার ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটিজ অ্যান্ড জাস্টিস-এর সঙ্গে যোগাযোগে ছিল। প্রতিবেশীরাও শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ অভিযোগটি প্রায় ১৮ মাস আগে দায়ের করা হয়েছিল। এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারীর অতীতে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার ইতিহাস ছিল। এমনকি তার নিজের মা-ও একসময় আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক আদেশ নিয়েছিলেন। এসব তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, এত সতর্কবার্তার পরও কেন শিশুটি তার মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল।   নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিবার ও কমিউনিটিবিষয়ক মন্ত্রী কেট ওয়াশিংটন জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বাধীন পর্যালোচনা পরিচালনা করা হবে। সেখানে খতিয়ে দেখা হবে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, "এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হলো কী ঘটেছিল, কখন কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।"   সরকার জানিয়েছে, সাবেক শিশু আদালতের বিচারক পিটার জনস্টোন এই স্বাধীন তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। ঘটনার পর ওয়াইয়ং শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে এক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে ফুল, মোমবাতি ও খেলনা রেখে তাকে শ্রদ্ধা জানান অনেকে। অনুষ্ঠানে 'ফরএভার ইয়াং' গান বাজানো হয় এবং উপস্থিত অনেকেই শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   আয়োজক হেইলি ডিকিনসন বলেন, শিশুটিকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারত। আরেক বাসিন্দা ব্রেন্টন হালম বলেন, এই ঘটনা পুরো এলাকাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। শিশুটির পরিচিত হার্লে চিসলেট জানান, শিশুটি ছিল প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে বাড়ি থেকে কিছু চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছিলেন, তবে সেটিকে সাধারণ পারিবারিক ঝগড়া বলেই মনে করেছিলেন।   পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শিগগিরই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত নারী আদালতে হাজির হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
লেবার পার্টির ৫% ডাউনপেমেন্ট স্কিম সত্ত্বেও প্রথমবার বাড়ি ক্রেতার সংখ্যা মাত্র ৩% বেড়েছে বলে জানিয়েছে এবিএস | ছবি: এএপি
মাত্র ৫% জমা দিয়ে বাড়ি কেনার সুযোগ: অস্ট্রেলিয়ায় ধনীদের ভিড়ে বাড়ছে প্রপার্টির দাম

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকারের নেওয়া ৫ শতাংশ ডিপোজিট বা জামানত ব্যবস্থার নতুন নিয়মের কারণে বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন উচ্চ আয়ের ধনী ব্যক্তিরা। দেশটির বর্তমান লেবার সরকার উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য থাকা আগের আয়ের সীমা বা ক্যাপ তুলে নেওয়ার পর থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন এমন সব মানুষও সরকারি সহায়তায় মাত্র ৫ শতাংশ জামানত দিয়ে বাড়ি কিনছেন, যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি।   আগের ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকার স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রথম বাড়ি কেনার সুবিধার্থে এই নিয়ম চালু করেছিল। সেই নিয়মে বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকার মর্টগেজ বা গৃহঋণের বীমার খরচ নিজে বহন করত। কিন্তু গত বছর বর্তমান লেবার সরকার তাদের প্রাক-নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একক ক্রেতাদের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার এবং যৌথ ক্রেতাদের জন্য ২ লাখ ডলারের আয়ের সীমাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়।   হাউজিং অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার পর গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই স্কিমের অধীনে ৩৯ হাজার ৭০৪টি ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ঋণ পেয়েছেন এমন সব ব্যক্তি, যাদের আয় আগের নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি প্রায় ১ হাজার একক ক্রেতা রয়েছেন যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি এবং ১ হাজার ২৫১টি দম্পতি রয়েছেন যাদের যৌথ আয় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের ওপরে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সহায়তা এখন সাধারণ মানুষের বদলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল ও ধনীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নিয়মের কারণে বাজারে ক্রেতাদের সামর্থ্য কৃত্রিমভাবে বেড়ে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত আবাসন বাজারে বাড়ির দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যে ব্যক্তিরা সরকারি সাহায্য ছাড়াও বাড়ি কিনতে পারতেন, তারাও এখন এই সুবিধার কারণে বিপুল ঋণ নিয়ে বাজারে নামছেন।   পূর্বে যেখানে ২০ শতাংশ জামানতের নিয়মে ৫০ হাজার ডলার সঞ্চয়কারী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলার ঋণ পেতেন, সেখানে ৫ শতাংশ জামানতের এই নতুন নিয়মে তিনি এখন অনায়াসেই ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এই অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বাজারে বাড়ির দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। লেবার সরকার বাড়ি কেনার সুবিধা বাড়ানোর দাবি করলেও তথ্য বলছে, সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার হার তেমন বাড়েনি, বরং ধনীরাই এই সুযোগের মূল সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
নির্ধারিত তারিখের আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারের নিলামের জন্য তালিকাভুক্ত কিছু ঘরবাড়ি | ছবি: লিসা মেরি উইলিয়ামস/গেটি ইমেজেস
অস্ট্রেলিয়ায় বাড়িঘরের দাম কমলেও চড়া সুদের ভয়ে নতুন ক্রেতারা পিছু হটছেন

ধারাবাহিক সুদহার বৃদ্ধি এবং নতুন কর সংস্কারের জেরে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে বড় ধরনের মন্দা বা ধস নেমেছে। দেশটিতে বর্তমানে বাড়িঘরের দাম কমতির দিকে থাকা সত্ত্বেও নতুন বা প্রথমবার আবাসন কিনতে যাওয়া ক্রেতারা বাজারে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। ক্রেতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো আবাসন খাতের দিকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   আবাসন খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'কোটালিটি' (Cotality)-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর্যুপরি সুদহার বৃদ্ধির কারণে নতুন গৃহঋণের গড় সুদের হার বার্ষিক ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে প্রথমবার আবাসন ক্রেতাদের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ও সামর্থ্য দুটিই কমে গেছে। ঋণ বিষয়ক ক্রেডিট সংস্থা 'ইকুইফ্যাক্স' জানিয়েছে, পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে হোম লোনের আবেদন প্রায় ১০.৯ শতাংশ কমেছে এবং নতুন ক্রেতাদের আবেদন কমেছে ১৩.৪ শতাংশ।   can- বলছেন, ঋণ পাওয়ার জটিলতা ছাড়াও আবাসন বাজারের ধারাবাহিক মূল্যপতন দেখে সাধারণ ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সাধারণত বাজার যখন চাঙ্গা থাকে তখন ক্রেতারা বেশি দামে বাড়ি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন, কিন্তু বাজার ঠান্ডা হতেই তারা নিজেদের গুটিয়ে নেন। এর ফলে সিডনি, মেলবোর্ন এবং ক্যানবেরার মতো বড় শহরগুলোতে সবচেয়ে দামি বা বিলাসবহুল বাড়িগুলোর দাম নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। যেমন গত তিন মাসে সিডনির শীর্ষ ২৫ শতাংশ অভিজাত আবাসন বাজারের গড় মূল্য প্রায় ৯০ হাজার ডলার হ্রাস পেয়েছে।   এদিকে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে পুরোনো বা বিদ্যমান বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য 'নেগেটিভ গিয়ারিং' (এক ধরনের কর রেয়াত সুবিধা) বাতিল করা হয়েছে। এই নতুন কর নীতিমালার কারণে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ফলস্বরূপ পুরোনো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা এক-পঞ্চমাংশ কমে গেলেও, নতুন বাড়ি নির্মাণ বা কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। কারণ নতুন আবাসন খাতের ক্ষেত্রে কর রেয়াতের সুবিধা এখনও বহাল রাখা হয়েছে।   এই টালমাটাল আবাসন বাজারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিলাম বা অকশন বিক্রিতে। মে মাসের শেষ দিক থেকে প্রতি সপ্তাহে নিলামে ওঠা বাড়িগুলোর অর্ধেকেরও কম সফলভাবে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাজারে অবিক্রিত বাড়ির সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্রেতাহীন অবস্থায় একটি বাড়ি দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাত এখন এক বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ক্রেতারা তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
১৭ বছরের কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্যুটকেসে মরদেহ রেখে পালানোর চেষ্টা

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের হাতে ১৭ বছর বয়সী এক থাই কিশোরীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তুনচানোক দনহোমলা নামের ওই কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মৃতদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইমন পিটার কারমানকে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি নিহত ওই কিশোরীর একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা কাঁদিয়েছে অনেককেই। ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের কালাসিনে নিজেদের বাড়িতে বাবা থংচাইয়ের জন্মদিনে কেক হাতে হাসিমুখে উদযাপনে মেতেছেন দনহোমলা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবা জানান, মেয়ের কাছে তেমন টাকা না থাকলেও সে বাবার জন্য কেক কিনে এনেছিল।   সেটিই ছিল তার সাথে কাটানো শেষ জন্মদিন। কয়েক মাস আগে ব্যাংককে পাড়ি জমানো এই কিশোরী জীবনে প্রথমবারের মতো সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে পাতায়ায় ঘুরতে গিয়েছিল, আর সেখানেই তাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো।   পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, দনহোমলাকে হত্যার পর তার লাশ কয়েক ঘণ্টা ঘরে ফেলে রেখেই অভিযুক্ত কারমান কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া এবং কাপড় ধোয়ার মতো স্বাভাবিক কাজগুলো সেরেছিলেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওই স্যুটকেসটি টেনে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কারমান।   এ সময় তার শরীরে ধস্তাধস্তির আঁচড়ের দাগ দেখতে পায় পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।   গত মঙ্গলবার বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজ শহরে দনহোমলার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শোকাভিভূত বাবা থংচাই তার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার নির্দোষ মেয়েটি কেবল দুনিয়ার ভালো দিকগুলোই দেখত। শেষ যাত্রায় মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় থংচাইয়ের মনে হচ্ছিল, মেয়েটি যেন গাড়িতে তার পাশেই বসে আছে। থাই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, জরিমানা দ্বিগুণের ঘোষণা

১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিয়ম ভাঙার প্রবণতা ঠেকাতে এবার আইন লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।   শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন আইনের আওতায় বড় ধরনের বা পদ্ধতিগত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ শত ৩৭ কোটি টাকার সমান। একই সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে।   সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে এই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইন মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিশু সক্রিয় রয়েছে, যা এই আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি আরও বলেন, নতুন পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সরকার এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।   সরকারি সূত্র বলছে, নানা উপায়ে কিশোর-কিশোরীরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ভুয়া পরিচয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করছে।   অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের দিকে নজর রাখছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে।   তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণায় ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন উপায়ে নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার কমার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়েছে।   সরকার বলছে, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ কারণে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে পারবে—১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে।   এছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বয়স যাচাইকারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই সংস্থাকে।   দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পুরোনো কৌশলেই চলছে এবং দায়সারা কাজ করে পার পেতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক অভিভাবক এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করলে কিশোররা আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।   বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি দেখে বয়স অনুমান করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নিজেদের বয়স নিশ্চিত করতে পারছেন।   সব মিলিয়ে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পর অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সীদের ৫০ লক্ষাধিক অ্যাকাউন্ট অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে | ছবি: আল্যামি
বাচ্চাদের ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহার ঠেকাতে কোম্পানিগুলোকে ৯ কোটি ডলার জরিমানার হুমকি অস্ট্রেলিয়ার!

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর এবার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। শিশুদের ক্ষতিকর সাইট থেকে দূরে রাখতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো "যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না" বলে অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। এই আইন অমান্য করলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৯ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলার করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ফেডারেল সরকার।   গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৬ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের এই ঐতিহাসিক আইন চালু হয়। আইন চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা বা নিষ্ক্রিয় করা হলেও, সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু এখনো নানারকম কৌশল খাটিয়ে বা বয়স লুকিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। মূলত এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ৯ কোটি ৯ লাখ ডলারে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   নতুন এই সংশোধনী আইনের ফলে দেশটির অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ই-সেফটি কমিশনার'-এর ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এখন থেকে এই সংস্থাটি সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারবে। কোম্পানিগুলো অনূর্ধ্ব-১৬ শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র তলব করার আইনি ক্ষমতা পাবে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তারা আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং একেবারেই নামমাত্র পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে সরকার কোনোভাবেই তাদের কাছে মাথা নত করবে না। অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর পদক্ষেপ দেখে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশও এখন তাদের নিজস্ব দেশে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু করেছে।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে এক অস্ট্রেলীয় (মাঝে) গ্রেপ্তার | ছবি: এবিসি নিউজ
সুটকেসে ১৭ বছরের কিশোরীর নগ্ন লাশ, থাইল্যান্ডে পালাবার সময় অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক গ্রেপ্তার!

থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায় একটি সুটকেস থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে ৪৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সে সময় তিনি জেটস্টার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চড়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোরে পাতায়ার একটি বহুতল ভবনের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) ফুটেজে ওই কিশোরীকে এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির হাত ধরে লিফটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর, ওই ব্যক্তিটিকে একা একটি বড় কালো সুটকেস নিয়ে ভবন থেকে বের হতে এবং সেটি মোটরসাইকেলের পেছনে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরবর্তীকালে গত শুক্রবার পাতায়ার একটি ভাসমান বাজারের পেছনের রেললাইনের পাশ থেকে পুলিশ সেই সুটকেসটি উদ্ধার করে এবং ভেতরে সহিংস নির্যাতনের চিহ্নসহ ওই কিশোরীর নগ্ন মরদেহ পায়।   কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পর পাতায়া পুলিশ অবিলম্বে দেশের সব বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়ার সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই অস্ট্রেলীয় নাগরিককে হেফাজতে নেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও, সুটকেসটি কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।   পাতায়া শহরের একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নাবালিকা অপহরণ, খুন, লাশ গুম এবং যৌন উদ্দেশ্যে শিশু অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, থাইল্যান্ডে আটক হওয়া তাদের নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ও নির্মমতার ঘটনায় থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ফাইল ছবি
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার শনাক্ত এইচ৫ বার্ড ফ্লু, সতর্কতা জোরদার

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সংক্রামক এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি সামুদ্রিক পাখি ব্রাউন স্কুয়ার নমুনায় এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার পরীক্ষায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।   মন্ত্রী আরও জানান, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনায়ও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।   এর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাস সাধারণত হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।   জুলি কলিন্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটি হতাশাজনক।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে রোগটির বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ডাকাত ভেবে ভুল করে গাড়িতে পুলিশের গুলি, ৯ বছরের অস্ট্রেলীয় শিশু নিহত

পাকিস্তানে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে ৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশু নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির বাবা এবং বড় ভাইও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারটি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে তারা একদল ডাকাতের কবলে পড়ে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় দূর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে আসা দুই ডাকাত ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর আতঙ্কে ভাড়া করা গাড়িটিও দ্রুত গতিতে ওই স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করে।   এক স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে ওয়ানডে বা টেস্টের মতো কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল না। গাড়িটি হঠাৎ খুব দ্রুত গতিতে চলে যেতে দেখে টহলরত পুলিশ সদস্যরা ভুলবশত সেটিকে ডাকাতদের গাড়ি ভেবে বসেন। এরপর তারা গাড়িটি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পুলিশের সেই গুলিতে গাড়ির ভেতরে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন।   পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৯ বছরের ওই শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে শিশুটির বাবা ও বড় ভাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ভাগ্যক্রমে শিশুটির মা এই ঘটনায় সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন।   এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগী পরিবার এবং আহত সদস্যদের সব ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। এক সরকারি বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়া প্রশাসন এই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মস্পর্শী’ বলে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় হাঙ্গরের কামড়ে তরুণী গুরুতর আহত, বাঁচালেন লাইফগার্ড

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটার সময় এক তরুণী হাঙ্গরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছেন একজন স্থানীয় লাইফগার্ড।   পলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ওই তরুণীর বয়স পঁয়ত্রিশ বছর। গত শনিবার সকালে কুজি সৈকতে এই হাঙ্গরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এতে তার হাত ও পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা মাইকেল কর্লিস জানান, ওই তরুণী সমুদ্রের তীর থেকে প্রায় একশত ফুট দূরে তার দুই বন্ধুর সাথে সাঁতার কাটছিলেন। ঠিক তখনই হাঙ্গরটি আকস্মিকভাবে তার ওপর আক্রমণ করে বসে। লাইফগার্ড টনি ওয়ালার জানান, হাঙ্গরটি প্রায় এগারো ফুট লম্বা ছিল।   প্রথম উদ্ধারকারী হিসেবে এগিয়ে যাওয়া লাইফগার্ড চার্লি ভার্কো জানান, তিনি নিজের প্যাডেলবোর্ডে থাকার সময় হাঙ্গরটিকে পানি থেকে ওপরে উঠতে দেখেন। হাঙ্গরটির বিশাল আকৃতি দেখে তিনি পুরোপুরি চমকে গিয়েছিলেন।   চার্লি ভার্কো আরও জানান, তিনি তরুণীর দিকে প্যাডেলবোর্ড নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়ই হাঙ্গরটি তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ওই তরুণী আবার পানির ওপরে ভেসে ওঠেন।   সেই সময় সমুদ্রসৈকতে নিজের পরিবারের সাথে ছুটি কাটাচ্ছিলেন ইয়ান ফার্গুসন নামের একজন অফ-ডিউটি চিকিৎসক। তিনি জানান, আক্রমণের সাথে সাথেই সমুদ্রের পানির একটি বিশাল অংশ রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল।   লাইফগার্ড চার্লি জানান, আহত তরুণী এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের শক্তিতে প্যাডেলবোর্ডে উঠতে পারছিলেন না। তখন চার্লি তার হাত ধরে টেনে সমুদ্রের তীরের দিকে নিয়ে আসতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তীরে থাকা অন্যান্য সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।   সৈকতে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক ফার্গুসন এবং উপস্থিত অন্যান্যরা মিলে দ্রুত ওই তরুণীর ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ বন্ধের ব্যবস্থা করেন। ফার্গুসন জানান, তরুণীর উরুতে প্রায় বারো ইঞ্চি চওড়া কামড়ের দাগ ছিল এবং ভেতরের হাড় দেখা যাচ্ছিল। তার হাতেও একই ধরনের ক্ষত তৈরি হয়েছে।   গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ক্ষত সারাতে অনেকগুলো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে। এই ঘটনার পর ওই এলাকার সব সৈকত আগামী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
নীরবতা ভেঙে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার

নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
অস্ট্রেলিয়া সফরে হ্যারি-মেগান: রাজকীয় জীবন নিয়ে পুরনো ক্ষোভ আর তিক্ত অভিজ্ঞতা জানালেন ডাচেস

সাত বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতি প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেল। তবে এবারের সফরটি কোনো রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। চার দিনের এই ‘আধা-রাজকীয়’ (quasi-royal) সফরে এসে আবারও রাজকীয় জীবনের তিক্ত স্মৃতি এবং সাইবার বুলিং নিয়ে মুখ খুলেছেন এই দম্পতি। বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে 'ইন্টারএজ সামিটে' (InterEdge Summit) দেওয়া এক বক্তৃতায় প্রিন্স হ্যারি তার মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর সৃষ্ট মানসিক ট্রমার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাত্র ১২ বছর বয়সে মাকে হারানোর পর তিনি কোনোভাবেই রাজকীয় দায়িত্ব বা এই 'চাকরি' চালিয়ে যেতে চাননি। অন্যদিকে, ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল তার ওপর হওয়া দীর্ঘদিনের অনলাইন ট্রোলিং নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি প্রতিনিয়ত বুলিং বা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এবং এক সময় তিনি ছিলেন 'বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ট্রোলড হওয়া ব্যক্তি'। হ্যারি ও মেগানের এই সফর নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যম এই সফরকে 'অর্থ উপার্জনের কৌশল' হিসেবে সমালোচনা করলেও হ্যারির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সফরটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সফরের অংশ হিসেবে হ্যারি মেলবোর্নের একটি এএফএল ক্লাব এবং সিডনিতে ইনভিক্টাস গেমসের ইভেন্টে অংশ নেবেন। মেগান সিডনিতে 'হার বেস্ট লাইফ' (Her Best Life) নামক একটি নারীদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিয়ের পর প্রথম সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন এই দম্পতি। তবে ২০২০ সালে রাজপরিবার ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর। রাজকীয় আভিজাত্য ত্যাগ করলেও তাদের এই সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল এবং বিতর্ক—উভয়ই তুঙ্গে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটের মাঝেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন, সরবরাহে নতুন শঙ্কা

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির তেল শোধনাগারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।   বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় ১৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।   ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকল শ্রমিককে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে এবং পুরো অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   ফলে অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনায় পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে সীমিত পরিসরে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই জ্বালানি চাপে ছিল, আর এই অগ্নিকাণ্ড সেই সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।

Unknown এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০