আন্তর্জাতিক

মেলোনি আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, আইনি নিষেধাজ্ঞা দরকার’ ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৭:৫
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা (রেস্ট্রেইনিং অর্ডার) দরকার।’ পোস্টটিতে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন যে মেলোনি নাকি তার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

 

মন্তব্যটি প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক তৈরি করে।

 

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ফলে তার ব্যক্তিগত এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এর আগে গত জুনে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের পরও ট্রাম্প একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নাকি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে মেলোনি প্রকাশ্যে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তিনি কোনো সময়ই এমন অনুরোধ করেননি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইতালি একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র এবং তিনি ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য এমন কোনো আচরণ করেন না।

 

সাম্প্রতিক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি কোনো নতুন অভিযোগ তোলেননি। বরং তিনি রসিকতা ও ব্যঙ্গের ভঙ্গিতে ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ বা আদালতের মাধ্যমে দূরে থাকার নির্দেশনার প্রসঙ্গ টানেন। যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের আদেশ সাধারণত হয়রানি, হুমকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের অভিযোগে আদালত থেকে জারি করা হয়। তবে ট্রাম্পের পোস্টে এমন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা ছিল না।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবেই তুলে ধরেছে।

 

ট্রাম্পের পোস্ট প্রকাশের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে ইতালির সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে এবং ব্যক্তিগত মন্তব্যকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি দীর্ঘদিনের ন্যাটো মিত্র। ইউরোপের নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করলেও তা দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

 

ট্রাম্প অতীতেও বিভিন্ন বিদেশি নেতা সম্পর্কে ব্যক্তিগত মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। তার বক্তব্য অনেক সময় সমর্থকদের কাছে রসিকতা হিসেবে বিবেচিত হলেও বিরোধীরা এগুলোকে অপ্রয়োজনীয় ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেন। জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, জর্জিয়া মেলোনি ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনির সাক্ষাৎ হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্যের কারণে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই পোস্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

 

অনেক গণমাধ্যম উল্লেখ করেছে, এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এবং এর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি উদ্যোগ বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই।
এখন পর্যন্ত ইতালি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি আপাতত রাজনৈতিক বাক্যযুদ্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে ন্যাটো সম্মেলনের সময় দুই নেতার সাক্ষাৎ বা নতুন কোনো মন্তব্য এ বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

 

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বা যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতায় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেক
বিমানবন্দরে ট্যাক্সি যাত্রা থেকে প্রেম-বিয়ে, ভিসা জটিলতায় এখন দুই দেশে আলাদা অস্ট্রেলিয়ান-ভারতীয় দম্পতি

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেকের পরিচয় হয় মাদুরাই বিমানবন্দরে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের সময় রাবেক তাকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেখান থেকে শুরু হওয়া পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং পরে সম্পর্কে গড়ায়। বর্তমানে তারা বিবাহিত এবং একটি সন্তানের বাবা-মা। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা জটিলতার কারণে স্বামী-স্ত্রীকে এখনো স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরাই বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রাপথেই লোরেনা ও রাবেকের মধ্যে প্রথম ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির হলেও সম্পর্কটি ধীরে ধীরে গভীর হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।   তাদের বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যও একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাবেক মুসলিম এবং লোরেনা ক্যাথলিক। দুই পরিবারের মধ্যেও শুরুতে ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে আইনগতভাবে বিয়ে করেন।   বিয়ের পরও তাদের একসঙ্গে বসবাসের পথ সহজ হয়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় নিজের পরিবার ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেখানে থাকেন, আর রাবেক ভারতে অবস্থান করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্বামীর যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পার্টনার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে।   এর মধ্যেই তাদের ঘরে আসে সন্তান। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান জন্ম দিলেও ভিসা না থাকায় রাবেক সেই সময় সেখানে যেতে পারেননি। ফলে সন্তানের জন্মের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে পায়নি পরিবারটি। পরে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পন্ন হওয়ার পর রাবেক তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।   বর্তমানে লোরেনা ও রাবেককে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সময় ভাগ করে চলতে হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করে শেষ পর্যন্ত একই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা।   এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ও জড়িত। অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসার সরকারি আবেদন ফি বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর বাইরে আইনজীবী বা মাইগ্রেশন এজেন্টের সহায়তা নিলে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে লোরেনা ও রাবেকের ক্ষেত্রে মোট খরচ ঠিক কত হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠিত পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরোপুরি ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়েও দ্বিধায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের জন্য সমস্যাটি শুধু ভিসার নয়, বরং কোথায় পরিবার হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গেও জড়িত।   তাদের গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তঃদেশীয় প্রেম, বিয়ে, ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য এবং অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রা থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক কীভাবে দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিয়ে ও পরিবারে রূপ নিয়েছে, সেই গল্পই এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির কিছু নির্দিষ্ট তথ্য, যেমন সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা সন্তানের নাম, নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় সেগুলো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:২৬
গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান তুরস্ক, মিসর ও কাতারের। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা তুরস্ক-মিসর-কাতারের, যুদ্ধবিরতি মানার আহ্বান

নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর অস্ট্রেলিয়ার নাত্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে লিলি হুপারের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

আট দিন পর নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, জীবিত থাকার ভুল খবরে পরিবারে শোক

নাগরিকত্বের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকারের সুযোগ দেয় ফিনল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেলে যে ৬টি বিশেষ অধিকার পাওয়া যায়, সেগুলো কী?

যুক্তরাজ্যে অবিবাহিত দম্পতিদের অধিকার বাড়ানোর নতুন প্রস্তাব নিয়ে শঙ্কিত ক্লেয়ার লংহার্স্ট ও তাঁর পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে না করেও সংসার, নতুন আইনি প্রস্তাবে সঞ্চয় নিয়ে শঙ্কায় ব্রিটিশ নারী

যুক্তরাজ্যে বিয়ে না করে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসকারী দম্পতিদের আর্থিক ও উত্তরাধিকার অধিকার বাড়ানোর সরকারি প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   এর মধ্যেই ৩৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী ক্লেয়ার লংহার্স্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তন কার্যকর হলে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁর নিজের উপার্জন ও সঞ্চয়ের ওপরও আর্থিক দাবি তৈরি হতে পারে।   দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লেয়ার ও তাঁর সঙ্গী ইউসুফ আব্রাকি ২০২২ সালে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। বিয়ের পোশাক, অনুষ্ঠানস্থল, তিন স্তরের কেক, আলোকচিত্রগ্রাহক এবং প্রায় ৬৫ জন অতিথির প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁরা আইনগতভাবে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। অনুষ্ঠানটি বিয়ের মতো হলেও সেখানে আইনগত নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ছিলেন না। ক্লেয়ার ও ইউসুফের বয়সের ব্যবধান সাত বছর। ক্লেয়ারের বয়স ৩৭ এবং ইউসুফের ৩০। তাঁদের পরিচয় হয় ইউসুফ যখন ক্লেয়ারের কর্মস্থল ডেভিড লয়েড জিমে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করতেন। ক্লেয়ার জানিয়েছেন, তিনি ইউসুফকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন না; বরং নিজের আর্থিক স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা থেকেই আইনগত বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর বাবা-মায়ের তিক্ত বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতাও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে তাঁদের তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে এবং ক্লেয়ার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্লেয়ার বছরে প্রায় এক লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি আয় করেন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয় গড়ে তুলেছেন।    অন্যদিকে ইউসুফ সপ্তাহান্তে একটি বেকারিতে খণ্ডকালীন কাজ করেন। তাঁদের তিন কক্ষের ভাড়া বাসার ভাড়া, বিভিন্ন বিল ও স্থানীয় করের বড় অংশ ক্লেয়ারই বহন করেন।ক্লেয়ারের বক্তব্য, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবেই বিয়ে করেননি এবং এই সিদ্ধান্ত তাঁদের সম্পর্কের প্রতি অনাস্থার প্রকাশ নয়। বরং দুজনের সম্মতিতেই তাঁরা এমন একটি সম্পর্ক বেছে নিয়েছেন যেখানে প্রত্যেকে নিজের আর্থিক অবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন।    তিনি আশঙ্কা করছেন, নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁর সঞ্চয় বা অন্যান্য সম্পদের একটি অংশ নিয়ে আইনি দাবি উঠতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রস্তাবটি এসেছে ‘এ ফেয়ারার এন্ড টু রিলেশনশিপস’ নামে একটি বিস্তৃত পারিবারিক আইন সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে। ৫ জুন ২০২৬ সরকার এ বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ১৪ আগস্ট তা শেষ হয়। প্রস্তাবের আওতায় বিয়ে না করা দম্পতিদের বিচ্ছেদ এবং কোনো একজনের মৃত্যুর পর আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো দম্পতি অন্তত তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করলে অথবা তাঁদের সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় আসতে পারেন। তবে শুধু একসঙ্গে বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহিত দম্পতির সমান অধিকার পাওয়া যাবে না। আদালতকে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে তাঁরা একটি স্থায়ী পারিবারিক সম্পর্কে ছিলেন।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্পর্ক ভেঙে গেলে আদালত প্রয়োজনের ভিত্তিতে সম্পদ, বাসস্থান, পেনশন বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ নিয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে সরকারের নথিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি আইনগতভাবে নিজের মালিকানাধীন সম্পদের মালিকানা বজায় রাখবেন; বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ও পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় আদালত সম্পদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সন্তানের কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।   সরকারের যুক্তি হলো, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৩৫ লাখের বেশি দম্পতি বিয়ে বা নাগরিক অংশীদারত্ব ছাড়াই একসঙ্গে বসবাস করছেন। ২০২৫ সালে এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখে পৌঁছায়, যা মোট পরিবারের ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমান আইনে এসব পরিবারের অনেকেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে পর্যাপ্ত আর্থিক সুরক্ষা পান না। বর্তমান আইনে বিয়ে না করা কোনো দম্পতির একজনের সম্পত্তি, সঞ্চয় বা পেনশনের ওপর অন্যজনের বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর মতো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই। একইভাবে, কেউ উইল না করে মারা গেলে তাঁর সহবাসকারী সঙ্গীও বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর মতো স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারী হন না। নতুন প্রস্তাবে এই বিষয়গুলোও সংস্কারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।   সরকার বলছে, সংস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া, যারা সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি বা আয় কমিয়ে দেন কিংবা সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা এবং সঙ্গীর মৃত্যুর পর আর্থিক অনিশ্চয়তার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান আইনে যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমাতে চায় সরকার। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, অনেক মানুষ সচেতনভাবেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তাঁরা নিজেদের সম্পদ ও আর্থিক স্বাধীনতা আলাদা রাখতে চান। তাঁদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নতুন আইনি কাঠামো অনিচ্ছাকৃতভাবে বিয়ের মতো আর্থিক দায় তৈরি করতে পারে। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে ক্লেয়ার লংহার্স্টের ঘটনাকে এই বিতর্কের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান হকহেডও বিষয়টিকে জটিল বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে এমন মানুষদের সিদ্ধান্ত ও আর্থিক স্বাধীনতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে, যারা সচেতনভাবে আইনগত বিয়ে না করার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনের মতো নতুন আইন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। ১৪ আগস্ট ২০২৬-এ সরকারের পরামর্শ গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়েছে; এখন সরকার মতামত ও তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। সরকারের ঘোষণাতেও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সংস্কার সংসদীয় সময়সূচি ও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।   ফলে ক্লেয়ার লংহার্স্টের উদ্বেগটি বর্তমানে কোনো কার্যকর আইনের কারণে তাঁর সঞ্চয় হারানোর ঘটনা নয়; বরং ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তাঁর আশঙ্কা। যুক্তরাজ্যে বিয়ে না করে একসঙ্গে বসবাসকারী লাখো দম্পতির আর্থিক অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা হবে, সেই প্রশ্নই এখন সংস্কার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:৪৫
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের খবর

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে শাস্তি ছবি:সংগৃহীত

পরকীয়ার অভিযোগে চার জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত, শাস্তি দেওয়ার সময় ‘মায়া’ হলো জল্লাদেরও

অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল ছবি:সংগৃহীত
লটারি জিততে ভাগ্য নয়, গণিতকে ব্যবহার করে ১৪ বার জিতলেন জ্যাকপট!

লটারি মানেই ভাগ্যের খেলা। কিন্তু রোমানিয়ায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল সেই ধারণাকে যেন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে গাণিতিক হিসাব ও কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি জীবনে মোট ১৪ বার লটারি জিতেছিলেন। তার সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য আসে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া লটারিতে। সেবার ম্যান্ডেলের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জেতে।   ম্যান্ডেলের কৌশল শুনতে সহজ হলেও বাস্তবে তা ছিল অত্যন্ত জটিল। কোনো লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশন যদি তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে এবং সব কম্বিনেশনের টিকিট কেনার খরচ জ্যাকপটের অর্থের তুলনায় কম হয়, তাহলে সম্ভাব্য সব নম্বর কিনে জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়। ম্যান্ডেল এই গাণিতিক সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছিলেন।   ১৯৫০-এর দশকে রোমানিয়ায় লটারি খেলে প্রথম বড় সাফল্য পান ম্যান্ডেল। সেখানে তিনি দুবার লটারি জেতেন। সেই অর্থ কাজে লাগিয়ে পরে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তার গাণিতিক কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেন এবং সেখানে আরও ১২ বার লটারি জেতেন। সব মিলিয়ে তার লটারি জয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪।   অস্ট্রেলিয়ায় ম্যান্ডেল শুধু নিজের অর্থ দিয়ে টিকিট কিনতেন না। তিনি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। কম্পিউটার প্রোগ্রাম ও প্রিন্টারের সাহায্যে সম্ভাব্য নম্বরের বিপুলসংখ্যক কম্বিনেশন তৈরি করা হতো। এরপর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই কম্বিনেশন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনা হতো।   তবে অস্ট্রেলিয়ায় লটারির নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার পর ম্যান্ডেলের এই কৌশল আগের মতো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লটারির দিকে নজর দেন।   ১৯৯২ সালে ম্যান্ডেলের নজরে আসে ভার্জিনিয়া লটারি। সে সময় জ্যাকপটের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ। ম্যান্ডেলের হিসাব অনুযায়ী, সব কম্বিনেশনের টিকিট কিনতে যে অর্থ লাগবে, তা জ্যাকপটের তুলনায় কম।   এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি International Lotto Fund নামে একটি বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিনিয়োগকারী যুক্ত ছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বিপুল পরিমাণ অর্থ একত্র করে সম্ভাব্য সব নম্বরের কম্বিনেশন কেনা।   টিকিট কেনার জন্য শুধু একটি দোকানের ওপর নির্ভর করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি স্টোরসহ নানা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিপুলসংখ্যক টিকিট কেনা হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে আগে থেকেই সম্ভাব্য নম্বরের কম্বিনেশন তৈরি করে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল।   তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব টিকিট কেনা সম্ভব হয়নি। মোট প্রায় ৭১ লাখ সম্ভাব্য কম্বিনেশনের মধ্যে সিন্ডিকেট প্রায় ৫৬ লাখ টিকিট কিনতে পেরেছিল। অর্থাৎ তাদের হাতে সম্ভাব্য সব নম্বর ছিল না। তারপরও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের পক্ষেই যায়।   ১৯৯২ সালের ওই ড্রতে ম্যান্ডেলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের একটি টিকিটই ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়। এত বিপুলসংখ্যক টিকিট কেনার ঘটনা লটারি কর্মকর্তাদের নজর কাড়ে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।   ম্যান্ডেলের কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও অনুসন্ধান করে। তবে সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যবহৃত পদ্ধতিকে অবৈধ হিসেবে প্রমাণ করা হয়নি। পরবর্তীতে লটারির নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে একই ধরনের পরিকল্পনা ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বা একটি সিন্ডিকেট বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনে পুরো কম্বিনেশন কভার করতে না পারে।   তবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জেতার পর ম্যান্ডেলের গল্পের শেষটা পুরোপুরি সাফল্যের ছিল না। টিকিট কেনা, পরিচালনাসহ বিভিন্ন খরচ এবং কর পরিশোধের পর বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা অর্থ প্রত্যাশার তুলনায় কমে যায়। পরে ম্যান্ডেল নিজেও আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়েন এবং ১৯৯৫ সালে দেউলিয়া ঘোষণা করেন।   ম্যান্ডেলের গল্প তাই শুধু ১৪ বার লটারি জেতার গল্প নয়। তিনি দেখিয়েছিলেন, লটারির মতো ভাগ্যনির্ভর একটি খেলাতেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গণিত ও সম্ভাবনার হিসাব কাজে লাগানো সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন ছিল বিপুল অর্থ, বিশাল পরিমাণ টিকিট কেনার সক্ষমতা, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় দল এবং অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনা।   বর্তমান লটারির নিয়ম ও টিকিট কেনার সীমাবদ্ধতার কারণে ম্যান্ডেলের সেই কৌশল এখন সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তার গল্প বরং একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে আছে, যেখানে গণিত, অর্থ, সংগঠন এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহস একসঙ্গে মিলে লটারির প্রচলিত ধারণাকেই একসময় বদলে দিয়েছিল।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৯:৮
খাবার গ্রহণ ছবি:সংগৃহীত

বিমানের ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট ৩০০ বার রিবুক করে এক বছর খেলেন ফ্রি খাবার!

হুতি বাহিনী ছবি:সংগৃহীত

হুথিদের দমন করা সৌদি আরবের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধা ছবি:সংগৃহীত

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ দিন পর জীবিত উদ্ধার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ৮৪ বছরের বৃদ্ধা

0 Comments