সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

মাঝ আকাশে চলন্ত বিমান থেকে ঝাঁপ দিয়ে আর্জেন্টাইন পাইলটের আত্মহত্যা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১১:২৯
আর্জেন্টিনায় চলন্ত বিমান থেকে প্রশিক্ষকের আত্মহত্যার পর, ২২ বছর বয়সী শিক্ষানবিশ রোজারিও সাহসিকতার সাথে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনায় চলন্ত বিমান থেকে প্রশিক্ষকের আত্মহত্যার পর, ২২ বছর বয়সী শিক্ষানবিশ রোজারিও সাহসিকতার সাথে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার আকাশে এক প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে ঘটে গেল অভাবনীয় ও মর্মান্তিক এক ঘটনা। চলন্ত বিমান থেকে হঠাৎ লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো নামের ৪২ বছর বয়সি এক অভিজ্ঞ ফ্লাইট প্রশিক্ষক। তবে এমন চরম আতঙ্কের মুহূর্তেও অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন মাত্র ২২ বছর বয়সি শিক্ষানবিশ বৈমানিক রোজারিও। চোখের সামনে প্রশিক্ষকের এমন কাণ্ডে হতভম্ব হয়ে পড়লেও নিজের সীমিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একাই বিমানটি নিরাপদে রানওয়েতে নামিয়ে এনেছেন তিনি।

 

গত শনিবার ঘটে যাওয়া এই শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার বিস্তারিত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনার পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সেসনা ১৫০ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমানে রোজারিওকে নিয়ে উড্ডয়ন করছিলেন বেরতাজ্জো। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে রোজারিও জানান, মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই ওই প্রশিক্ষক নিজের হেডসেট ও সিটবেল্ট খুলে ফেলেন। বিমানের দরজা খোলার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।’ এরপরই তিনি নিচে ঝাঁপ দেন। পরবর্তীতে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

 

নিহত লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো ‘ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা’ নামের একটি ফ্লাইং স্কুলে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিনের পেশাজীবনে তিনি আর্জেন্টিনা ও প্রতিবেশী চিলিতে সফলতার সঙ্গে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিজ দক্ষতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ফ্লাইং স্কুলটির পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ জানান, বেরতাজ্জো অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি স্বভাবের মানুষ ছিলেন। এমনকি ঘটনার দিন সকালেও তিনি অন্য একজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সম্পন্ন করেছিলেন।

 

আকাশে তীব্র বেগে ছুটে চলা অবস্থায় বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। একজন শিক্ষার্থীকে পাশে চরম বিপদের মুখে ফেলে অভিজ্ঞ এই প্রশিক্ষক কেন এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিলেন, তা সংশ্লিষ্ট সবার কাছেই এক বিশাল রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান, তবে শর্তে অনড় তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তবে এ জন্য ওয়াশিংটনকে আগে তেহরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে তাঁর দেশ। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের নতুন কোনো প্রস্তাব পাঠানোর খবর নাকচ করেছে ইরানের একটি সূত্র। ফলে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ এখনো অনিশ্চিত।   শনিবার (২৪ অক্টোবর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের রাষ্ট্রদূত এ অবস্থান তুলে ধরেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোগাদ্দাম অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি। তবে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ববর্তী সমঝোতার শর্ত মেনে চলতে হবে।   ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি, সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে একটি অবস্থান জানানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করলে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক ইরান সফরের সময়ও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থান নেওয়ায় উদ্যোগটি এগোয়নি বলে অভিযোগ করেন মোগাদ্দাম।   এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল সামরিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নতুন আলোচনা শুরুর পরিকল্পনাও ছিল। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী সময়ে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বেড়ে যায়।   এদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন প্রস্তাব নিয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেশটির একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এমন কোনো নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সূত্রটির দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাকে শুধু নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে সমাধান করার প্রস্তাব মেনে নেয়নি।   তাসনিমের প্রতিবেদনে ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরানের আগের সাত দফা দাবি এখনো বহাল রয়েছে। এসব দাবি আগেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে না। ফলে রাষ্ট্রদূতের আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ এবং নতুন প্রস্তাব পাঠানোর খবর প্রত্যাখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও নতুন কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   গত ২০ অক্টোবর তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরুর আগে তেহরানের দাবিগুলো পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে তেহরানের আস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর আগে জানিয়েছেন, সংঘাত নিরসনের জন্য ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। তবে ইরান বলছে, আলোচনার শুরুতেই পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রধান শর্ত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে নতুন করে সামরিক হামলা হবে না, এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তব প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আলোচনা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য আগে পাঠানো প্রস্তাব এখনো কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবের বিষয়ে মন্তব্য জানিয়েছে এবং তেহরান তা পর্যালোচনা করছে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ব্যয়, পণ্যের দাম এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও এই জলপথের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।   পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। গত জুনের সমঝোতা বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলেও ইসলামাবাদ আবার আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করছে। কাতারও এই কূটনৈতিক উদ্যোগে ভূমিকা রাখছে। তবে ইরানের শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত দাবির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। তাই নতুন বৈঠকের সম্ভাবনা থাকলেও আলোচনার তারিখ, স্থান কিংবা চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি।   এদিকে ইসলামাবাদের সেমিনারে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, তেহরান চুক্তিটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করবে। ইরানের স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক মনে হলে দেশটি সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে এই চুক্তিতে ইরান যোগ দেবে কিংবা আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।   সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নিজেদের শর্ত থেকে সরে আসেনি ইরান। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য এখনো সমাধান হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিলেও নতুন চুক্তি কিংবা যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেয় না। পরবর্তী আলোচনায় দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থানে কতটা পরিবর্তন আনে, তার ওপরই সম্ভাব্য সমঝোতার অগ্রগতি নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ৫:৭
শীতের আগে গ্যাসের মজুত নিয়ে চাপে ইউরোপ

শীত আসার আগেই গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগে ইউরোপ, যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তে পারে জ্বালানির দাম

যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড় বার্তা ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার আহ্বান

যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড় বার্তা ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার আহ্বান

কলম্বিয়ার আমাজন অরণ্যে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন ছোট ভাইবোনকে নিয়ে ৪০ দিন প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে ছিল ১৩ বছরের লেসলি মুকুতুই। ছবি: সংগৃহীত

আমাজনে ৪০ দিন তিন ভাইবোনকে আগলে রেখেছিল ১৩ বছরের লেসলি, বেঁচে ছিলেন প্রত্যেকেই

জন্মের পরই নবজাতকের মুখে ঘন কালো গোঁফ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
জন্মের পরই নবজাতকের মুখে ঘন কালো গোঁফ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

সদ্য ভূমিষ্ঠ এক শিশুর মুখে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো স্পষ্ট ও ঘন কালো গোঁফ দেখে রীতিমতো হতবাক নেটিজেনরা। সম্প্রতি ইকুয়েডর থেকে ছড়িয়ে পড়া এই অদ্ভুত নবজাতকের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।   টিকটক থেকে শুরু করে এক্স প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা শিশুটির ওপরের ঠোঁটে একটি সুস্পষ্ট গোঁফ এবং থুতনিতে ছোট দাড়ির মতো অংশ রয়েছে। নেটিজেনরা এই দৃশ্য দেখে মজাদার সব মন্তব্য করছেন; কেউ বলছেন শিশুটি যেন জন্মের পরপরই মাঝবয়সী সংকটে ভুগছে, আবার কেউ রসিকতা করে বলছেন যে সে এখনই ৯ থেকে ৫টার অফিসের চাকরিতে ক্লান্ত।   তবে এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় কিছু শিশুর শরীরে 'লানুগো' নামক এক ধরনের নরম ও সূক্ষ্ম লোম তৈরি হয়, যা সাধারণত জন্মের পর বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ঝরে যায়।   কিন্তু ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শিশুটির মুখে যে ধরনের ঘন, সুবিন্যস্ত ও কালো গোঁফ দেখা যাচ্ছে, তা লানুগোর সাধারণ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য চিকিৎসকের বিবৃতি বা হাসপাতালের নথির মাধ্যমে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মূল ভিডিওটি সম্ভবত কোনো সাধারণ নবজাতকের হলেও, ভাইরালের উদ্দেশ্যে এর ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা বিশেষ ফেস-ম্যাপিং ফিল্টার ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে এই গোঁফটি যুক্ত করা হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১২:১৩
২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছিলাম, দাবি ট্রাম্পের

২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছিলাম, দাবি ট্রাম্পের

পশ্চিমা দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ হারাম, শায়খ আসিম আল-হাকিমের ফতোয়া ঘিরে বিতর্ক

পশ্চিমা দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ হারাম, শায়খ আসিম আল-হাকিমের ফতোয়া ঘিরে বিতর্ক

ক্যানসারের নতুন টিকায় সাফল্য, রোগ ফিরে আসা ও মৃ ত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ

ক্যানসারের নতুন টিকায় সাফল্য, রোগ ফিরে আসা ও মৃ ত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ

মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন
মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন

মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার জোরদার ছক কষছে ইরান। ট্রাম্প প্রশাসন যখন তেহরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছে, ঠিক তখনই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই চরম ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।   সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর হাতে আসা একটি মেমো থেকে জানা যায়, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে মার্কিনীদের ওপর ইরানি হামলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে 'চূড়ান্ত পর্যায়ে' পৌঁছেছে। তবে এক পৃষ্ঠার ওই আনক্লাসিফাইড মেমোতে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তু বা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।   এই সতর্কবার্তার পর ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ওই অঞ্চলে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি দ্রুত কমিয়ে এনেছে ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নেই এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান, লেবানন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসগুলোতেও কর্মীর সংখ্যা কমানো হয়েছে।   এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম বারাক এক পডকাস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সপ্তাহান্তেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা হতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় এক বক্তব্যে রাষ্ট্রদূতের ওই মন্তব্য এড়িয়ে যান।   তবে ফোর্ট মায়ার্সের একটি সমাবেশে তিনি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করে কিউবা ও মার্কো রুবিওকে জড়িয়ে নতুন সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত দেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত দুটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের একটি 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন'-এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন নিকোলাস ডিলেও জানিয়েছেন, যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা মোকাবিলায় তাদের রণতরি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১০:৪৬
অসুস্থতার কারণে ছুটি নেওয়ার পর চিকিৎসকের সনদ জমা দেওয়া সত্ত্বেও চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলেছেন এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকের সনদ দিয়েও অসুস্থতার ছুটির পর অফিসে গিয়ে দেখেন চাকরি নেই

যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারের রিডিংয়ে প্রবীণদের ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস নিয়ে বিরোধের অবসানে বাসা ছাড়তে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশি শহিদুল হক। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে প্রবীণদের নির্ধারিত ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস, বাংলাদেশি শহিদুল হকের পরিবারেকে ছাড়তে হল ফ্ল্যাট

৯ বছর বয়সে চাঁদে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ দেখেছিলেন, সেই নায়কের বাড়ি বাঁচাতে দিলেন ৪ লাখ ডলার

৯ বছর বয়সে চাঁদে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ দেখেছিলেন, সেই নায়কের বাড়ি বাঁচাতে দিলেন ৪ লাখ ডলার

0 Comments