কানাডার নতুন নিয়মে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, ঋণের ভারে দিশেহারা ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
কানাডায় উচ্চশিক্ষা শেষে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতীয় শিক্ষার্থী সমীর গাড়োয়াল। কিন্তু তিন বছর পর পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন যে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন, তা দেশ ছাড়ার সময়ের চেয়েও কয়েক গুণ ভয়াবহ।
ভারত থেকে ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের শিক্ষা ঋণ (এডুকেশন লোন) নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমানো সমীরের মতো বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। আলবার্টার পোর্টেজ কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করার পরও বৈধভাবে কাজের সুযোগ না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই শিক্ষার্থীরা।
সমীর ও তাঁর সহপাঠীদের প্রত্যাশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করেই তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী কানাডায় কাজের অনুমতি পাবেন এবং সেই উপার্জনের অর্থ দিয়ে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে দাঁড়ায়; কোনো সদুত্তর ছাড়াই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছেন। জানা গেছে, মূলত কোর্সের যোগ্যতাবিষয়ক আইনি জটিলতা থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। ২০২৪ সালে কানাডা সরকার ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনে কিছু কোর্সকে অযোগ্য ঘোষণা করে।
তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়ম পরিবর্তনের অনেক আগেই তাঁরা এই কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, ফলে তাদের ওপর এই নতুন নীতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক ও অন্যায্য।
নতুন করে আর কোনো ঋণ নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সমীর এখন নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব মনে করছেন। কানাডায় আসার পর পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ফি ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আগেই তাঁর সব সঞ্চয় ফুরিয়ে গিয়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ঋণের বোঝা টানতে বাধ্য হয়ে সমীর একটি ক্রাউডফান্ডিং বা তহবিল সংগ্রহের ক্যাম্পেইন চালু করেছেন।
বর্তমানে কানাডায় কাজের বৈধ অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া এই শিক্ষার্থীদের সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreদীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ক্যান্সারের কঠিন চিকিৎসার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেছে সাত বছর বয়সী শিশু অ্যাডেলিন টেলর। নিজের এই বিজয় উদযাপন করতে গত ১৩ জুলাই ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক চিলড্রেনস-এ এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেয় সে। চিকিৎসার শেষ দিনে চিকিৎসাকেন্দ্রের 'ব্রেভারি বেল' বা সাহসিকতার ঘণ্টা বাজানোর পাশাপাশি সে তার বাবার হাতে থাকা একটি বিশেষ ব্রেসলেট কেটে ফেলে। অ্যাডেলিনের রোগ শনাক্ত হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তার বাবা ক্রিস টেলর 'অ্যাডেলিন স্ট্রং' লেখা ওই ব্রেসলেটটি পরে আসছিলেন। ব্রেসলেট কাটার এই মুহূর্তটি ছিল বাবা ও মেয়ের এক নীরব প্রতিজ্ঞার বাস্তবায়ন। ক্রিস টেলর জানান, তিনি মেয়েকে কথা দিয়েছিলেন যে যেদিন সে ক্যান্সারকে জয় করবে, সেদিন নিজ হাতে এই ব্রেসলেটটি কেটে ফেলবে। এই কাজটিকে রোগের শৃঙ্খল ভেঙে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার একটি প্রতীকী রূপ হিসেবে দেখছেন তিনি। বাবা-মেয়ের এই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে ছোট্ট অ্যাডেলিন জানায়, সে সময় তার ভেতরে অনেক রকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল। মাত্র চার বছর বয়সে অ্যাডেলিনের শরীরে 'বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া' ধরা পড়ে, যা অস্থিমজ্জা থেকে শুরু হওয়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল ব্লাড ক্যান্সার। অ্যাডেলিনের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কেমোথেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘ এই লড়াই শেষে স্ক্যান রিপোর্টে তার শরীর সম্পূর্ণ ক্যান্সারমুক্ত বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। শেষ দিনে উপস্থিত পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং চিকিৎসক দলের সদস্যদের উল্লাসের মধ্যে দিয়ে সে যখন ব্রেভারি বেলের দিকে ছুটে যায়, তখন তার মা লিন্ডা টেলর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, মেয়ের এই আনন্দমাখা ছুটে যাওয়ার দৃশ্য তাদের এতো দিনের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। বাবা ক্রিস জানান, শিশুদের মানসিক দৃঢ়তা মাঝে মাঝে অভিভাবকদেরও অবাক করে দেয় এবং তিনি নিজেও মেয়ের এমন সাহসিকতা থেকে অনুপ্রেরণা খোঁজেন। অ্যাডেলিন ক্যান্সারমুক্ত হলেও চিকিৎসকরা এখন তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখবেন। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক চিলড্রেনস-এর পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজিস্ট-অনকোলজিস্ট ডা. ইলিয়া বুহতোইয়ারভ আশা প্রকাশ করেন যে, অ্যাডেলিনের সুস্থ হয়ে ওঠার এই অভিজ্ঞতা শৈশবকালীন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত অন্যান্য পরিবারগুলোকে সাহস জোগাবে। তিনি জানান, শিশুদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়া সবচেয়ে সাধারণ একটি ক্যান্সার হলেও আধুনিক চিকিৎসার কল্যাণে এটি এখন অনেকাংশেই নিরাময়যোগ্য। 'লিউকেমিয়া' শব্দটি ভীতিকর হলেও এর শেষ প্রান্তে যে আশা বেঁচে আছে, সেটিই সবার মনে রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
লন্ডনের প্রথম মসজিদের শতবর্ষ উদযাপনে গৃহহীনদের জন্য ১০,০০০ বেলা খাবারের উদ্যোগ
পাকিস্তানি নারীর হানি ট্রাপে পড়লেন নৌসেনা, ফাঁস করে দিলেন ‘গোপন স্পর্শকাতর তথ্য’
ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট মধুসূদনকে গু লি করে হ ত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। ম্যাড সান্ধু নামে পরিচিত এই ব্যক্তি শনিবার, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় লোহারকা রোডের একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রের বাইরে নিজের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গু লি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, হ ত্যা কা ণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে অমৃতসরের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সিরিভেন্নেলার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে হা ম লাটি ঘটে। গু লি বি দ্ধ সান্ধুকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ প্রভজোৎ সিং ভির্ক জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে পুলিশের হাতে কিছু সূত্র এসেছে এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। হ ত্যা কা ণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিলন’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দা য় স্বীকারের পোস্ট দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ওই পোস্টে সান্ধুর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের সংস্কৃতি নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়। কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে পোস্টটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওই দা য় স্বীকারের পোস্ট থেকেই হামলাকারীদের পরিচয় বা হ ত্যা র উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সান্ধু প্রকাশ্যে নিজের সম কা মী পরিচয় নিয়ে কথা বলতেন। মেকআপ, ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও লি ঙ্গ পরিচয়সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর ভিডিও এবং পডকাস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিনি পাঞ্জাব ও মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রে স্টাইলিস্ট এবং সহকারী কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিছু পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় নিয়ে তাঁকে বি দ্ বে ষ মূলক মন্তব্য ও হয় রা নি র মুখেও পড়তে হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি সান্ধুর পোশাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও পুরোনো ভিডিও নিয়ে একটি নিহাং গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরো ধ হয়েছিল। ওই গোষ্ঠী তাঁর কিছু কনটেন্টের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। পরে সান্ধু অভিযোগ করেন, বিত র্ক তৈরির জন্য তাঁর পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে। তবে অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার হরমনবীর সিং গিল এই বিরো ধের সঙ্গে হ ত্যা কা ণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করেননি। তিনি জানিয়েছেন, হ ত্যা র উদ্দেশ্য জানতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সান্ধু অমৃতসরের একটি ইউনিসেক্স স্যালনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং মেকআপ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাঁর ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার অনুসারী ছিল। হ ত্যা কা ণ্ডের পর অমৃতসরের সংসদ সদস্য গুরজিৎ সিং আউজলা দাবি করেছেন, সান্ধু দীর্ঘদিন ধরে হু ম কি পাচ্ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সে বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রে প্তা র এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত
নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ৩৭ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার মালয়েশিয়ান পর্যটক
তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার দাবি, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তাঁরা নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। একজন শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে, অন্যজন শনিবার সকালে চলে যান। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে গত সোমবার ইরানের জাতিসংঘ মিশনকে প্রতিনিধিদলের সবাইকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। শুক্রবার দুই সদস্যের নিউইয়র্কে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের চলে যাওয়ার নির্দেশ আবার জানায় ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা তাঁদের ‘বের করে দেওয়া হয়েছে’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফা নির্দেশের পর দুজন পৃথক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। তাঁদের জোরপূর্বক দেশ থেকে সরানোর কোনো বিবরণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেয়নি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকেও নির্ধারিত সময়ের আগে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে এপি। তবে মূল প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কারের আগের মার্কিন দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের জাতিসংঘ মিশন। তাদের বক্তব্য, আগে থেকে জানানো সফরসূচি অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক ছেড়েছে। সর্বশেষ যে দুই সদস্য শুক্রবার ও শনিবার দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের বিষয়ে ইরানের পৃথক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট
ভারতে পর্যটন কেন্দ্রের ইসরায়েলি ক্যাফেতে ভারতীয়দেরই প্রবেশে বাধা