সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

আট দিন পর নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, জীবিত থাকার ভুল খবরে পরিবারে শোক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:৪৮
নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর অস্ট্রেলিয়ার নাত্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে লিলি হুপারের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত
নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর অস্ট্রেলিয়ার নাত্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে লিলি হুপারের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের নাত্তাই জাতীয় উদ্যানে এককভাবে পাহাড়ি পথে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৮ বছর বয়সী লিলি হুপারের মরদেহ আট দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা মরদেহ উদ্ধারের পর ভুল যোগাযোগের কারণে কিছু সময়ের জন্য তার পরিবারকে জানানো হয়েছিল, লিলিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে সেই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়।

 

লিলি হুপার ১২ আগস্ট সকালে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওকডেল এলাকার বাড়ি থেকে একা পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন। তার গন্তব্য ছিল সিডনি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বন ও পাহাড়ি এলাকা। পুলিশ জানিয়েছিল, সেদিন সকালে তিনি বনাঞ্চল থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবার তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করে। রাত প্রায় ১১টার দিকে উদ্ধারকারী দল নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বোনাম পিক হাঁটার পথের কাছে ওয়াংগান্ডেরি রোডে তার গাড়িটি খুঁজে পায়। গাড়ি পাওয়া গেলেও লিলির কোনো সন্ধান মিলছিল না।এরপর শুরু হয় ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, রাজ্য জরুরি পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী, বন ও জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা এতে অংশ নেয়। 

 

পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন। ড্রোন, হেলিকপ্টার, বিশেষ উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর, ঘোড়া ও ট্রেইল বাইক ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।

 

নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ঘন বন, খাড়া ঢাল ও দুর্গম পথের কারণে অভিযান পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও লিলির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

 

অবশেষে ২০ আগস্ট অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা বনাঞ্চলের ভেতর একটি মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ জানায়, মরদেহটি লিলি হুপারের বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্তকরণ ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া তখনও সম্পন্ন হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিতের কথা জানায়নি।

 

মরদেহ উদ্ধারের পরই ঘটে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। অনুসন্ধান দলের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ব্যবহৃত একটি বার্তা ভুলভাবে বোঝা হয়। উদ্ধার অভিযানের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করার জন্য ব্যবহৃত সংকেত বা কোডের অর্থ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে এমন তথ্য পৌঁছে যায় যে লিলিকে জীবিত পাওয়া গেছে। সেই তথ্য তার পরিবারকেও জানানো হয়।

 

এরপর নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনসও সংসদে লিলিকে জীবিত উদ্ধারের খবর ঘোষণা করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, আগের তথ্যটি সঠিক ছিল না। পরে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুল খবরটি জানার পর লিলির পরিবার কয়েক মিনিটের জন্য ভেবেছিল তাদের মেয়ে জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে। এরপর প্রকৃত খবর জানার পর সেই আশাই পরিণত হয় গভীর শোকে। 

 

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশও স্বীকার করেছে যে যোগাযোগের ভুলের কারণে পরিবারকে প্রথমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
লিলির পরিবার পুরো অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ, জরুরি সেবাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য উদ্ধারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। আট দিন ধরে শত শত মানুষ দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।

 

ঘটনাটি এখন শুধু লিলির মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; অনুসন্ধান অভিযানের সময় কীভাবে ভুল তথ্য তৈরি হলো এবং যাচাই না করেই তা কীভাবে পরিবার ও জনসমক্ষে পৌঁছে গেল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুতর যোগাযোগ বিভ্রাট এড়াতে প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে।

 

লিলি হুপারের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোকের সৃষ্টি করেছে। আট দিনের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তার পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো;যে মুহূর্তে তারা মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলেন, তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আশার জায়গা নিয়েছে এক অপূরণীয় শোক।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে

গুরুতর অসুস্থ বাবার জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন এক চিকিৎসক সন্তান। ৬০ বছর বয়সী বাবা হৃদরোগ ও কিডনি বিকল হয়ে ধুঁকছিলেন। নেপালে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে তুরস্কে নিয়ে যান ছেলে। টানা ২৫ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চোখ খোলেন বাবা।   ছেলেকে দেখে হাসিমুখে বলেন, "তুই আমাকে বাঁচিয়ে নিলি।" এই চিকিৎসক ছেলের নাম ডা. বিনোদ সাহ। বাবার জীবন বাঁচানোর এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে অন্য যেকোনো সফল চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এই মানুষটিই একসময় পড়াশোনায় অমনোযোগী এক দুষ্টু ছেলেকে জোর করে চিকিৎসক বানিয়েছিলেন।   ডা. বিনোদ সাহের শৈশব কেটেছে নেপালের সিরাহা জেলার গোলবাজারে। বইপত্রের চেয়ে খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই তাঁর বেশি আগ্রহ ছিল। কিন্তু তাঁর দরিদ্র বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন। বাবা ছেলেকে কড়া শাসনে রাখতেন, এমনকি পড়াশোনার জন্য তাঁকে বোর্ডিং স্কুলেও পাঠিয়েছিলেন।   কিন্তু স্বাধীনচেতা বিনোদ মাত্র দুই মাস পরেই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে বাবা হাল ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন, "প্রয়োজনে কিডনি বিক্রি করে দেব, তবু তোকে ডাক্তার বানাব।" বাবার এই অদম্য জেদ আর কঠোর শাসনই শেষ পর্যন্ত বিনোদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।   এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার অকৃতকার্য হলেও বাবার উৎসাহে দ্বিতীয়বার মেধা তালিকায় ২৩তম স্থান অধিকার করে তুরস্কে পড়ার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পান বিনোদ। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁকে নতুন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়। ভাষা না জানা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি তুর্কি ভাষা শিখে নেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে টানা তিন বছর নিজের ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেন।   পরবর্তীতে শিশু চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি তুরস্কের হ্যাসেটেপ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং নবজাতক চিকিৎসায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০১৫ ও ২০২৪ সালে তুরস্ক সরকার তাঁকে 'বর্ষসেরা চিকিৎসক' সম্মাননায় ভূষিত করে।   চিকিৎসক হিসেবে অসংখ্য শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ডা. বিনোদ। একবার টানা ৪৮ মিনিট সিপিআর দিয়ে এক নবজাতককে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। বিদেশে তুমুল সফল হলেও মাতৃভূমি নেপালের প্রতি তাঁর টান কখনোই কমেনি।   নেপালের শিশুদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার আশায় ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে দেশের প্রথম পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে নেপালের চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের কারণে তিনি পরবর্তীতে পুনরায় তুরস্কে ফিরে যান এবং সেখানে একটি আধুনিক শিশু ক্লিনিক গড়ে তোলেন।   জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় ডা. বিনোদ সাহ প্রমাণ করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। যে বছর তিনি তুরস্কে তাঁর বাবার প্রাণ বাঁচান, সে বছরই তিনি বর্ষসেরা চিকিৎসকের পুরস্কার নিচ্ছিলেন। হুইলচেয়ারে বসে সেই দৃশ্য দেখে তাঁর বাবা বলেছিলেন, "এখন মারা গেলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই।   আমার ছেলে আমাকে বাঁচিয়েছে, আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।" দুষ্টু ছেলে থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক হয়ে ওঠার এই যাত্রাকে বিনোদ তাঁর বাবার প্রতিই উৎসর্গ করেন। তাঁর ভাষায়, "স্বপ্ন দেখার চোখগুলো ছিল আমার বাবার, আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটার পা ছিল আমার।"

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৯:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা

ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা

জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের একটি হোটেল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   এর আগে, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নাহা শহরের একটি হোটেলের কক্ষ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাথা কামানো বিদেশি চেহারার এক ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে হোটেল কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন।   পরবর্তীতে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি একাই ওই নারীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ এবং ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রোববার রাত ১টার দিকে শহরের রাস্তায় ঘোরাফেরা করার সময় ওই সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ বছর বয়সী ওই তরুণ মার্কিন সেনা ওকিনাওয়ার ফুতেনমা এয়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।   এই ঘটনার পর টোকিওতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ওকিনাওয়ায় জাপানি নাগরিকের মৃত্যু ও মার্কিন মেরিন সেনাকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে।   ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জাপানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানতে স্থানীয় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৬:২৮
যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ

যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ

আড়াই বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে সুস্থ ৭ বছরের শিশু, বাবার ব্রেসলেট কেটে উদযাপন

আড়াই বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে সুস্থ ৭ বছরের শিশু, বাবার ব্রেসলেট কেটে উদযাপন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের

লন্ডনে প্রথম ও প্রাচীনতম ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনের প্রথম মসজিদের শতবর্ষ উদযাপনে গৃহহীনদের জন্য ১০,০০০ বেলা খাবারের উদ্যোগ

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আহমদিয়া নারীদের গয়না দানসহ কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে নির্মিত লন্ডনের ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সাউথফিল্ডসে অবস্থিত মসজিদটি ১৯২৬ সালের ৩ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের জন্য ১০ হাজার বেলা খাবার এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০ হাজার ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবার বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।    লন্ডনে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রথম ভবন হিসেবে পরিচিত ফজল মসজিদ। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে ভারতের কাদিয়ানের মানুষের অনুদানের ইতিহাস। আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকের তথ্য অনুযায়ী, নারীরা তাঁদের গয়না দিয়েছেন, শিশুরা দিয়েছে হাতখরচের টাকা, আর পুরুষেরা আয় ও সঞ্চয় থেকে অর্থ দিয়েছেন। দাতাদের প্রায় কেউই মসজিদটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাননি।   নারীদের এই অবদান শতবর্ষের আয়োজনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। দূরদেশে একটি স্থায়ী উপাসনালয় গড়ে তুলতে তাঁরা ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছিলেন। তবে মসজিদটির নির্মাণে শুধু নারীদের অর্থ ছিল, এমন নয়। আয়োজকদের বিবরণ অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পটি আহমদিয়া কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে নারীদের ত্যাগ ছিল উল্লেখযোগ্য।    প্রায় ১৫০ জনের নামাজ আদায়ের জায়গা থাকা মসজিদটি একটি আবাসিক সড়কে অবস্থিত। শতবর্ষের কর্মসূচিতে শান্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, খাবার বিতরণ ও স্বেচ্ছাসেবা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনের মধ্যে থাকা মানুষকে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে। ঘোষিত সংখ্যাগুলো বছরব্যাপী কর্মসূচির লক্ষ্য, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজের হিসাব নয়।   মসজিদটির ইতিহাস ও শান্তির বার্তা তুলে ধরতে অক্টোবর মাসে লন্ডনের ১০০টি বাসে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। পরে যুক্তরাজ্যের অন্য এলাকাতেও এই প্রচার সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা। আহমদিয়া কমিউনিটির বিশ্বপ্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিবেশীর সেবা এবং ধর্ম বা পটভূমি নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।    দীর্ঘ ইতিহাসে ফজল মসজিদ আহমদিয়া কমিউনিটির সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে তাদের চতুর্থ নেতা মির্জা তাহির আহমদ পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে এসে সাউথফিল্ডসে বসবাস শুরু করলে এখানে বিশ্ব সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির শতবর্ষের বিবরণে এই অধ্যায়ও তুলে ধরা হয়েছে।    ব্রিটেনের ঐতিহ্য সংরক্ষণের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে ভবনটি। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে হিস্টোরিক ইংল্যান্ড মসজিদটিকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ভবনের মর্যাদা দেয়। চলতি বছরের মার্চে ওয়ান্ডসওয়ার্থ বরো কাউন্সিল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণে একটি সবুজ ফলক প্রদান করে।    শতবর্ষের আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতাদের অবদান স্মরণ এবং বর্তমান সমাজে সেবার কর্মসূচি। এক শতাব্দী আগে যাঁরা নিজেদের গয়না, সঞ্চয় ও হাতখরচ দিয়ে লন্ডনে মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন, তাঁদের সেই অনুদানের ইতিহাস এবার তুলে ধরা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের সামনে। একই সঙ্গে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের ঘোষণা দিয়েছে মসজিদটির কমিউনিটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১০:২১
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদে পড়ে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ভারতীয় নৌসেনা প্রদীপ মুখার্জি। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানি নারীর হানি ট্রাপে পড়লেন নৌসেনা, ফাঁস করে দিলেন ‘গোপন স্পর্শকাতর তথ্য’

পাঞ্জাবে গু লি করে হ ত্যা করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে

পাঞ্জাবে সম কা মী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গু লি করে হ ত্যা

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়।

ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত

0 Comments