হিজাব ছাড়াই রাস্তায় ইরানের তরুণীরা, কট্টরপন্থীদের চাপে সরকার
ইরানে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হিজাব আইন আবারও বড় বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিকরা আইনটি কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানালেও বহু নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরেই চলাফেরা করছেন। তবে আপাতত বড় ধরনের দমন অভিযান চালাতে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছে সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি বছরের সংঘাতের তীব্র সময়ে সরকারি সমাবেশ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও হিজাব ছাড়া নারীদের দেখা গেছে। তখন যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পোশাকবিধি প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অবশ্য হিজাব আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি আবারও জোরালো হয়েছে।
এরই মধ্যে হিজাব আইন না মানার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ১৯ জুলাই তেহরানে অন্তত সাতটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে পোশাকবিধি অমান্যের অভিযোগে বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে।
তেহরানের প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় কথিত অশালীনতা এবং অনুমোদিত পোশাকবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হিজাববিধি লঙ্ঘন করে এমন পোশাক বিক্রির অভিযোগে কিছু দোকানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
দেশটির দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশেও একই ধরনের অভিযান চলছে। প্রাদেশিক প্রসিকিউটর আহমেদ গাসেমির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফারসি বছরের শুরু থেকে সেখানে হিজাববিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০টি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে ২৮টি মোটরসাইকেল জব্দ এবং ৭০টি গাড়ির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সরকারি বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে নারীদের প্রকাশ্য অবস্থান নতুন নয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশ হেফাজতে তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ‘ওম্যান, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। হিজাব-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। আন্দোলনটি পরে কঠোরভাবে দমন করা হলেও বহু নারী এখনও প্রকাশ্যে বাধ্যতামূলক হিজাবের নিয়ম অমান্য করে আসছেন।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, বাধ্যতামূলক হিজাব অমান্যকারী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ইরানি কর্তৃপক্ষ নজরদারি, গ্রেপ্তার, আটক, জরিমানা, গাড়ি জব্দ এবং অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। সংগঠনটি আরও বলেছিল, হিজাব আইন কার্যকর করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয় ছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নতুন একটি কঠোর হিজাব আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে অ্যামনেস্টির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন আইন স্থগিত থাকলেও বিদ্যমান আইন ও বিধির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য জনপরিসরে বাধ্যতামূলক হিজাব কার্যকর করা অব্যাহত রয়েছে।
ফলে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ইরানে নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে পুরোনো সংঘাত আবারও সামনে এসেছে। একদিকে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে বহু নারী প্রকাশ্যেই সেই বিধি অমান্য করছেন। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreরাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলে দেশটির অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একটি বড় ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লার ঘটনা ঘটেছে। এতে ডেটা সেন্টারটিতে আ গু ন ধরে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িকভাবে পুরো কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। রাশিয়ার কোনো ডেটা সেন্টারে ইউক্রেনীয় ড্রোনের এমন বড় হা ম লার ঘটনা এর আগে নিশ্চিতভাবে সামনে আসেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইয়ানডেক্স জানিয়েছে, হা ম লার পর ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেবাগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা সেবাগুলো চালু রয়েছে। ইয়ানডেক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জেনারেটিভ মডেল ইয়ানডেক্সজিপিটিও এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ইয়ানডেক্স ক্লাউডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ডেটা সেন্টারের একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের বিকল্প ডেটা সেন্টার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ড্রোন হা ম লায় ঠিক কতটা ভৌত ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের ডেটা অবকাঠামোর বিরুদ্ধেও রাশিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক হা ম লা চালিয়েছে। ফলে ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি অবকাঠামোকে ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হা ম লার নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। ইয়ানডেক্সের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এবারের ড্রোন হা ম লা সেই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ৭০টি ক্ষে প ণাস্ত্র এবং কয়েক ডজন শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। হা ম লায় দেশটির শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে রুশ ক্ষে প ণাস্ত্রের আঘাতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহরটিতে নি হ তের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে বলে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে। রাজধানী কিয়েভেও একটি আবাসিক ভবনে রুশ হা ম লার পর আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে, ইউক্রেনজুড়ে ওই রুশ হা ম লায় অন্তত ৩২ জন নি হ ত হয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি আ হ ত হয়েছেন। এর আগে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা ২৫ ও পরে ২৮ জন বলে জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। প্রিলুকিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি বিভাগের কর্মীরা রাতভর কাজ করেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৫ জনকে জীবিত বের করে আনেন। শহরটিতে প্রায় ৫৫ জন আ হ ত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। জেলেনস্কি এই হা ম লাকে রাশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ ও ‘জঘন্য’ আ ঘা ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে তীব্র মন্তব্যও করেন। জেলেনস্কি বলেন, শিশু ও সাধারণ মানুষকে হ ত্যা করাই যেন পুতিনের নিজের জন্য দেওয়া জন্মদিনের উপহার। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হা ম লার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো। দেশটি উচ্চনির্ভুলতার স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের ক্ষে প ণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে মস্কো জানিয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলেছে, রাশিয়ার ছোড়া ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনের ৮০ শতাংশের কিছু বেশি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইউক্রেনের জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণাস্ত্র এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরোর একটি নতুন অর্থ ছাড় করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাল্টা আ ঘা ত চালিয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আ ঘা ত হেনেছে। এর মধ্যে দুটি জ্বালানি স্থাপনা এবং একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। ইয়ানডেক্সের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লা এবং ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা একই সময়ে সংঘটিত হওয়ায় সংঘাতের নতুন দিক সামনে এসেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি এখন দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোও ক্রমেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লেবাননে যু দ্ধাহতদের সহায়তায় ইরান থেকে ২০ কোটি ডলার পেল হিজবুল্লাহ
জাপানে নারী হ ত্যার জেরে ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি
যুক্তরাষ্ট্রে কুস্তি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে ৯ ভারতীয় কুস্তিগীরের ভিসা বাতিল
অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজের কারণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া এক শ্রবণ-প্রতিবন্ধী দম্পতির বাড়ি সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবী। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনের বিটার্ন এলাকার বাসিন্দা আহমেদ ও রিফাত আলী দম্পতি তাদের বাড়ির নিচতলা সম্প্রসারণের জন্য ৭২ হাজার পাউন্ড খরচ করেও একপর্যায়ে প্রতারণার শিকার হন। নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাড়িটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করে। ফলে এই দম্পতি ও তাদের তিন সন্তান বাধ্য হয়ে বাড়ির দোতলায় অনেকটা বন্দি জীবনযাপন করছিলেন, যেখানে রান্নাঘর বা বাগান ব্যবহারের কোনো সুযোগই ছিল না। অবশেষে বিবিসি’র জনপ্রিয় শো ‘ডিআইওয়াই এসওএস’ (DIY SOS)-এর একটি দল গত অক্টোবরে বাড়িটি পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব নেয়, যার বিস্তারিত পর্ব সম্প্রতি সম্প্রচারিত হচ্ছে। নির্মাণকাজ শুরুর প্রথম দিনেই দেড় শতাধিক নির্মাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক নিক নোলস জানান, দলটিকে প্রায় ছয় মাসের বিশাল কাজ মাত্র সাত দিনে সম্পন্ন করতে হয়েছে। অভাবনীয় এই উদ্যোগ শুরুর আগে দোভাষীর মাধ্যমে আহমেদ জানান, তারা দীর্ঘ একটি অন্ধকার সময় পার করছিলেন এবং এই সাহায্য তাদের কাছে সুড়ঙ্গের শেষে আলোর মতো। অন্যদিকে রিফাত আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, বাড়িটি যে আবার তাদের বাসযোগ্য একটি ‘ঘর’-এ পরিণত হবে, তা তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না। ডিজাইনার গ্যাবি ব্ল্যাকম্যান জানান, সমাজে বিভেদের কথা শোনা গেলেও এই কাজের মাধ্যমে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ, দয়ালু এবং উষ্ণ সম্প্রদায়ের দেখা পেয়েছেন, যারা নিঃস্বার্থভাবে একটি অসহায় পরিবারকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন। যেহেতু এই দম্পতি শ্রবণ-প্রতিবন্ধী কিন্তু তাদের সন্তানরা শুনতে পায়, তাই ইশারায় যোগাযোগের সুবিধার্থে বাড়ির দেয়ালগুলো কমিয়ে খোলামেলা নকশা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িটিতে তাদের জন্য বিশেষ 'বিপ্লবী' প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। শো-এর ইলেকট্রিশিয়ান বিলি বাইর্ন জানান, বাড়ির কোনো অংশে সমস্যা হলে বিভিন্ন রঙের ফ্ল্যাশিং লাইটের মাধ্যমে অ্যালার্ম জ্বলে উঠবে। এমনকি বাচ্চারা যদি পানির কল খোলা রেখে যায়, তবে প্রযুক্তিটির কল্যাণে ডিসপ্লে প্যানেলে নীল আলো দেখা যাবে। এই প্রযুক্তির দাতা স্টুয়ার্ট হ্যানলন আগের বাড়িটির ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেন, এমন বিপজ্জনক অবস্থা তিনি আগে কখনো দেখেননি, যেখানে এক পা ভুল ফেললেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। এই উদ্যোগটি শুধু একটি পরিবারকেই নতুন জীবন দেয়নি, বরং পুরো এলাকার মানুষের মধ্যেও সৌহার্দ্য বাড়িয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এই কাজের সুবাদে স্থানীয়দের মধ্যে একটি নতুন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছে এবং সবাই মিলে একসাথে খাওয়াদাওয়ার মতো সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। স্বেচ্ছাসেবীরাও নিজেদের মধ্যে একটি শক্তিশালী ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছেন এবং এখন তারা একে অপরকে কাজ পেতে সাহায্য করেন। আসবাবপত্র নির্মাতা রাধা সিভিয়ারের মতে, তারা কেবল টিভির পর্দায় দেখানোর জন্য সুন্দর কিছু বানাননি, বরং সত্যি সত্যিই মানুষের জীবন বদলে দেওয়া একটি অর্থবহ বাড়ি তৈরি করেছেন।
বেঙ্গালুরুতে ‘এসআইআর’ বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি
নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ করতে মসজিদে এসে ইসলাম গ্রহণ অস্ট্রেলীয় বৃদ্ধের
মেরিল্যান্ডে ৩৭০ কোটি ডলারের কারখানা, ৩১০০ নতুন চাকরির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
কানাডায় অস্ত্রধারী এক হামলাকারীর কবল থেকে দুই নারীকে রক্ষায় সাহসিকতার স্বীকৃতি পেয়েছেন পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা ওপিন্দর কুনারসহ চার কর্মকর্তা। একটি দোকানে দুই নারীকে আটকে রেখে তাঁদের একজনকে ছুরিকাঘাত করার পর হামলাকারীকে থামাতে দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাঁরা। প্রায় দুই বছর আগের ওই ঘটনায় দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার স্বীকৃতি হিসেবে চার কর্মকর্তাকে চিফ কনস্টেবলের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সম্মাননা পাওয়া চার কর্মকর্তা হলেন ওপিন্দর কুনার, রাইলি নেলমেস, ব্রায়ান রগার এবং মাইকেল উ। ঘটনার পর অপরাধস্থলের বিস্তারিত তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর সকালে। ওই সময় জরুরি সেবা নম্বরে একটি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চার পুলিশ কর্মকর্তা। ফোনে জানানো হয়েছিল, এক ব্যক্তি ভ্যাঙ্কুভার শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে মদ ও ছুরি চুরি করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি রাস্তার অপর পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়েন। সেখানে তিনি এক নারী কর্মীর ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। ওই নারীকে মাথা, পিঠ ও হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি দোকানের ভেতরেই হামলাকারীর সঙ্গে আটকা পড়েন। একই দোকানে আরও একজন নারী কর্মী ছিলেন। ফলে দুই নারীই সশস্ত্র হামলাকারীর কাছাকাছি আটকা পড়ে যান। পরিস্থিতি দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠায় পুলিশ কর্মকর্তারা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রথমে হামলাকারীকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন কর্মকর্তারা। প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার না করে তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরপর একজন কর্মকর্তা বিদ্যুৎচালিত নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু সেটিও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামাতে পারেনি। তিনি ছুরি হাতে দুই নারীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে হামলাকারী দুই নারীর দিকে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করলে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে তাৎক্ষণিক হুমকি থামানো সম্ভব হয় এবং দুই নারীকে আরও হামলার হাত থেকে রক্ষা করা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তারা আহত নারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে শুরু করেন। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা আহতদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি তাঁর আঘাতের কারণে মারা যান। ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় প্রাণঘাতী হুমকি থামানো এবং দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় কর্মকর্তাদের সাহসী ও দ্রুত পদক্ষেপের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত ওপিন্দর কুনার পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। তাঁর পাশাপাশি রাইলি নেলমেস, ব্রায়ান রগার এবং মাইকেল উ একই স্বীকৃতি পেয়েছেন। চার কর্মকর্তাই ওই দিনের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। ঘটনার শুরুতে পুলিশ যে পরিস্থিতির খবর পেয়েছিল, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেটি দ্রুত বদলে যায়। প্রথমে একটি রেস্তোরাঁ থেকে মদ ও ছুরি চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পাশের দোকানে একজন নারী ছুরিকাঘাতের শিকার হন এবং আরেক নারীও হামলাকারীর সঙ্গে ভেতরে আটকা পড়েন। কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎচালিত নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহার পর্যন্ত একাধিকভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হামলাকারী যখন ছুরি নিয়ে দুই নারীর দিকে এগিয়ে যান, তখন তাঁকে থামাতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। দুই নারীকে নিরাপদ করার পর আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বও নেন কর্মকর্তারা। জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই পুরো পরিস্থিতিতে নেওয়া পদক্ষেপই পরবর্তী তদন্ত ও মূল্যায়নে কর্মকর্তাদের সম্মাননার ভিত্তি হয়েছে। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে ওপিন্দর কুনারসহ চার কর্মকর্তাকে চিফ কনস্টেবলের সম্মাননা দেওয়া হলো। প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, হামলাকারীকে থামানো এবং দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য ট্রিবিউন
১৯৮২ সালে পাওয়া দেহাবশেষের পরিচয় মিলল, ৪৩ বছর পর জানা গেল কিশোরের নাম
এক মাস আগে নারীর আইফোন চুরি, পরে পাসওয়ার্ড চেয়ে নিজেই মেসেজ দিল চোর