ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙলেন উগ্র ডানপন্থী আইনপ্রণেতা
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম মাদামায় ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙার ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির আইনপ্রণেতা জভি সুকোট হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিসৌধটি ভাঙেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ওই স্থাপনা ভাঙার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সুকোট অনুমোদিত সফরের পরিকল্পনা লঙ্ঘন করেছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের কয়েকটি গ্রামে স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের জন্য সুকোট ও তার সহযোগীদের সফর অনুমোদিত ছিল। সেই সফরে নিরাপত্তা দিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে মাদামা গ্রামে গিয়ে সুকোট ও তার সহযোগীরা অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে স্মৃতিসৌধটি ভাঙতে শুরু করেন বলে সেনাবাহিনীর দাবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সুকোট ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিসৌধে আঘাত করছেন। আশপাশে ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানও দেখা যায়। পরে সুকোট নিজেই স্মৃতিসৌধটি ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সুকোটের দাবি, স্মৃতিসৌধটি ইসরায়েলিদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে নির্মিত এবং সেখানে এমন ব্যক্তিদের স্মরণ করা হচ্ছে, যাদের তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে তিনি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন গ্রামে থাকা এ ধরনের স্মৃতিসৌধ সরানোর দাবি জানিয়েছিলেন। এক সপ্তাহ আগেও তিনি মাদামার স্মৃতিসৌধটি ধ্বংস করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য জানিয়েছে, সুকোটের সফরটি অনুমোদিত হলেও স্মৃতিসৌধ ধ্বংসের কোনো অনুমতি ছিল না। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বুঝতে পেরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনারা তাদের কমান্ডারদের বিষয়টি জানান। পরে তাদের মাদামা গ্রাম থেকে সুকোট ও তার সহযোগীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী সুকোটের কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তাবাহিনীর দেওয়া সুরক্ষার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, পশ্চিম তীরে উসকানিমূলক প্রতীক বা স্থাপনা সরানোর জন্য অনুমোদিত অভিযান তারা নিয়মিত পরিচালনা করে। তবে এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। মাদামার ঘটনায় সেই অনুমোদন ছিল না বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
মাদামা গ্রামটি নাবলুস শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। স্মৃতিসৌধটিতে কয়েক দশকে নিহত ফিলিস্তিনিদের নাম ছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, বসতি স্থাপনকারী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্ত অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে ইসরায়েলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ওই বিমানের সহকারী পাইলট। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সং ঘা ত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ এই ঘটনা ঘটে। বিমানে থাকা অবস্থায় সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে জরুরি কাজে ব্যবহৃত কুড়াল দিয়ে আ ঘা ত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই সময় বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি শুক্রবার তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাত্রী টার্মিনালে বিমান আছড়ে ফেলে যত বেশি সম্ভব মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে চেয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যকে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সহযোগী কেউ ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আ ঘা ত পেয়েও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার প্রতিরোধ চালিয়ে যান এবং সহায়তার সংকেত দেন। বিমানে থাকা আরেকজন পাইলট ককপিটের দরজা অস্বাভাবিকভাবে বারবার খোলা-বন্ধ হতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তিনি কেবিন ক্রু সদস্য ও কয়েকজন যাত্রীর সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। অবতরণের পর সন্দেহভাজন সহকারী পাইলটকে গ্রে প্তার করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি বলে জানানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আগেও দুবার দুবাই থেকে তেল আবিবের পথে উড়োজাহাজ চালিয়েছিলেন। ওই ফ্লাইটগুলো ব্যবহার করে তিনি বিমান চলাচলের রুট ও বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে উগ্রবাদী চিন্তাধারার লক্ষণ দেখা যায় ২০১৭ সালে, যখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছিলেন। সে সময় তিনি চরমপন্থী লেখা পড়তেন এবং অনলাইনে সন্ত্রাসী সংগঠন ও আ ত্ম ঘা তী হামলার প্রশংসা করে এমন কনটেন্ট অনুসরণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে তিনি সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ার সময় তিনি একটি মসজিদে যাতায়াত করতেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মসজিদ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের মধ্যে যোগসূত্র থাকার অভিযোগও এসেছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানত কিংবা এতে সহায়তা করেছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হা মলার প্রস্তুতি হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন উপকরণ দেখতেন এবং ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের কাছ থেকে বক্সিং শিখেছিলেন। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বিমান চালনার পেশা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও একই ধরনের হা মলা চালানোর আগ্রহের সম্পর্ক ছিল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে বিমান সংস্থার নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে। তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পাইলটের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন এবং সদাচরণের সনদ জমা দিয়েছিলেন। নিয়োগের আগে করা যাচাইয়েও তাঁর উগ্রবাদী মনোভাব কিংবা হা মলার পরিকল্পনার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানান আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অল্প সময়ের জন্য মরক্কোর রয়্যাল এয়ার মারোকের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, পাইলটদের পটভূমি যাচাই এবং কর্মীদের মধ্যে উগ্রবাদী মনোভাব শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একজন পাইলট প্রয়োজনীয় যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও এমন পরিকল্পনা করতে পেরেছিলেন বলে তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা নিয়োগপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ জন হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করেছিল। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে আঘাত হানে, আরেকটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার গ্রামীণ এলাকায় বিধ্ব স্ত হয়। ওই হা মলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নি হ ত হন এবং এর পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী ‘সন্ত্রাসবিরোধী যু দ্ধ’ শুরু হয়।
ইরাকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ৭ জনকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন মার্কিন সেনা আলউইন ক্যাশ
ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি
‘ক্যানসার ধরা পড়ার পর বন্ধু হারিয়েছি, মানুষ আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে’
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'। নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, বর্তমান মোদি সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। দেশজুড়ে ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে যখন বিরোধী দলগুলো ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলন তীব্রতর করছে, ঠিক তখনই সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদেরই পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সরকার ভয় পাচ্ছে। আর সেই ভীতি থেকেই রাজধানী দিল্লি ও মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মতো দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিরোধী সংসদ সদস্যদের আটকের ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের পুলিশি বাধাই তাদের এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে থামাতে পারবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী সোমবার দিল্লিতে একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে 'ইন্ডিয়া' জোট। এর আগে বিরোধী নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলন সর্বস্তরে অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন কে সি বেণুগোপাল। আগামী দিনে এই দাবির সপক্ষে দেশের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গেও বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে, যা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ
জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক
তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের
কানাডায় পাসপোর্ট ও নির্দিষ্ট সরকারি পরিচয়পত্রের ছবিতে ধর্মীয় কারণে হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। দেশটির সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিদের পাসপোর্টের ছবির জন্য হিজাব খুলতে হয় না। তবে ছবিতে পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে এবং পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকা চলবে না। কানাডা সরকারের প্রকাশিত পাসপোর্ট ছবির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা চিকিৎসাগত কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখার পোশাক পরা গ্রহণযোগ্য। তবে মাথার পোশাক যেন মুখের ওপর কোনো ছায়া তৈরি না করে এবং ব্যক্তির মুখের স্বাভাবিক গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, হিজাব পরা অবস্থায় ছবি তোলার সময় চোখ, নাক, মুখ, চিবুক এবং মুখের দুই পাশ পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। হিজাব বা স্কার্ফ এমনভাবে পরতে হবে, যাতে মুখের কোনো অংশ আড়াল না হয়। বিশেষ করে চোখ খোলা রাখা, সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকানো এবং স্বাভাবিক মুখভঙ্গি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কানাডার পাসপোর্ট ছবির ক্ষেত্রে আরও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ছবির মাপ হতে হবে ৫০ মিলিমিটার চওড়া এবং ৭০ মিলিমিটার লম্বা। চিবুক থেকে মাথার স্বাভাবিক ওপরের অংশ পর্যন্ত উচ্চতা থাকতে হবে ৩১ থেকে ৩৬ মিলিমিটারের মধ্যে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা অথবা হালকা রঙের হতে হবে। পাশাপাশি মুখে বা ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত আলো, ছায়া কিংবা আলোর প্রতিফলন থাকা যাবে না। ছবিতে আবেদনকারীর মুখ ও কাঁধ ক্যামেরার দিকে সোজা রাখতে হবে। হাসি বা ভ্রু কুঁচকানো ছাড়া স্বাভাবিক মুখভঙ্গিতে ছবি তুলতে হবে। চোখ খোলা এবং মুখ বন্ধ রাখতে হবে। কানাডার পাসপোর্টের জন্য জমা দেওয়া ছবি আবেদন করার আগের ছয় মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে, যাতে আবেদনকারীর বর্তমান চেহারার সঙ্গে ছবির মিল থাকে। সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ টুপি কিংবা মাথা ঢাকার অন্যান্য পোশাক পাসপোর্টের ছবিতে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ ধর্মীয় কারণে হিজাব পরার সুযোগ থাকলেও শুধু ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরার ক্ষেত্রে একই ছাড় প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া কানাডার পাসপোর্ট আবেদনে জমা দেওয়া ছবি অবশ্যই আসল ও অপরিবর্তিত হতে হবে। ছবি তোলার পর ফিল্টার ব্যবহার, মুখের গঠন পরিবর্তন কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি সংশোধন করা যাবে না। এমনকি ছবি আরও সুন্দর করার জন্য ডিজিটাল এডিট করলেও তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে পেশাদার ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলার নির্দেশনা রয়েছে। শুধু পাসপোর্ট নয়, কানাডার পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা পিআর কার্ডের ছবির ক্ষেত্রেও ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার অনুমতি রয়েছে। তবে সেখানেও মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকতে হবে। বিশেষ করে সাদা রঙের হিজাব বা হেডস্কার্ফ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে মিশে গেলে ছবি গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। তাই পোশাক ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে পর্যাপ্ত পার্থক্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় ইমিগ্রেশন আবেদনের জন্য বায়োমেট্রিক ছবি তোলার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক ছবি তোলার সময় পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে মুখ ঢেকে রাখেন এমন আবেদনকারীরা প্রয়োজনে একই লিঙ্গের কর্মীর মাধ্যমে ছবি তোলার অনুরোধ করতে পারেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য পর্দার ব্যবস্থাও চাইতে পারেন। তবে কানাডার সব ধরনের সরকারি পরিচয়পত্রের জন্য একটিমাত্র নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ড্রাইভার লাইসেন্স এবং প্রদেশভিত্তিক অন্যান্য আইডি কার্ডের ছবির শর্ত সংশ্লিষ্ট প্রদেশ বা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই কোনো পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলার আগে সেই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। কানাডা সরকারের এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা। ফলে হিজাব পরা কোনো নারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে হিজাব না খুলেই কানাডিয়ান পাসপোর্টের জন্য ছবি জমা দিতে পারবেন। উল্লেখ্য, এটি কানাডায় নতুন করে ঘোষণা করা কোনো সুবিধা নয়। ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরে পাসপোর্টের ছবি তোলার সুযোগ দেশটির বিদ্যমান সরকারি নিয়মেরই অংশ।
‘এখনই দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করে তোলার সময়’, মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি
চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি খুঁজছে জাপানি কোম্পানিগুলো