ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে কানাডীয় পর্যটক, ক্ষতির মুখে ১৫ অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক শুল্ক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কানাডীয় পর্যটকরা। ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে কানাডীয় পণ্য ও সেবার ওপর চড়া শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য বানানোর মতো বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি কানাডার মদ ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি স্টিল এবং অটো পার্টসের ওপর আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর কড়া জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
দুই দেশের এই বাণিজ্য যুদ্ধের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে, যেখানে ২০২৫ সাল থেকে কানাডীয় পর্যটকদের স্থলপথে আগমন ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে।
কানাডীয় পর্যটকদের এই বিশাল ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্যমতে, গত বছর কানাডীয়রা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রমোদভ্রমণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি ট্যুরিজম ইকোনমিকস নামের একটি সংস্থার গবেষণায় পর্যটক কমার কারণে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির একটি হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কানাডীয় দর্শনার্থীদের ব্যয় হ্রাসের প্রাক্কলন এবং সেন্সাস ব্যুরোর জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি দেখিয়েছে, এই পর্যটক খরার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মাথাপিছু সম্ভাব্য গড় আর্থিক ক্ষতি হবে ১১ ডলার।
তবে এর মধ্যে ১৪টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ মোট ১৫টি স্থানের ক্ষতি জাতীয় গড়ের চেয়েও অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তাদের অর্থনীতিতে কানাডীয় পর্যটকদের ওপর প্রবল নির্ভরশীলতারই ইঙ্গিত দেয়।
ক্ষতির শিকার হওয়া এই ১৫টি স্থানের তালিকায় সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে আলাস্কা। কানাডার সঙ্গে সবচেয়ে বড় (১,৫৩৮ মাইল) সীমান্ত থাকা এই অঙ্গরাজ্যটি মাথাপিছু ১১৪ ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা নেভাডার (৭৭ ডলার) ক্ষতির প্রায় দ্বিগুণ।
এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজধানী ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া (ওয়াশিংটন ডিসি) এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে কানাডা থেকে প্রায় আড়াই হাজার মাইল দূরে অবস্থিত হাওয়াই (৪৫ ডলার)। অর্থাৎ, কেবল সীমান্তবর্তী অঞ্চল নয়, বরং কানাডীয় পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় অন্যান্য দূরবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোও এই বাণিজ্য উত্তেজনার চরম মূল্য চোকাচ্ছে।
তালিকায় থাকা অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে ভার্মন্ট (মাথাপিছু ক্ষতি ৩৭ ডলার), মেইন (৩২ ডলার), ক্যালিফোর্নিয়া (৩১ ডলার) ও ফ্লোরিডা (২৩ ডলার)।
ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী আগে কানাডিয়ানরাই ছিলেন। এছাড়া অ্যারিজোনা (২২ ডলার), নর্থ ডাকোটা (১৮ ডলার), নিউইয়র্ক (১৫ ডলার), ওরেগন ও মন্টানা (উভয়ই ১৪ ডলার), নিউ হ্যাম্পশায়ার (১৩ ডলার) এবং ম্যাসাচুসেটস (১২ ডলার) অঙ্গরাজ্যও এই ক্ষতির তালিকায় স্থান পেয়েছে।
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতেও বাড়তে থাকবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসমুদ্রের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ক্যাবল এবং জ্বালানি পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এক ভয়ঙ্কর গোপন যুদ্ধে মেতেছে রাশিয়া ও চীন। এই নাশকতা যদি পুরোপুরি সফল হয়, তবে আধুনিক বিশ্ব মুহূর্তেই ইন্টারনেট ও জ্বালানি হারিয়ে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে বা অন্তত ১৮৫৮ সালের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক এলিজাবেথ ব্র-এর সদ্য প্রকাশিত বই ‘আন্ডারসি ওয়ার: দ্য ব্যাটল টু কন্ট্রোল দ্য ক্যাবলস অ্যান্ড পাইপলাইনস দ্যাট কানেক্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড’-এ এই ভীতিকর বাস্তবতা উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর। রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে খনিজ সার বোঝাই করে বাল্টিক সাগরে প্রবেশ করে চীনা পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘ই পেং ৩’ (Yi Peng 3)। এর মাত্র দুই দিন পর জাহাজটি সুইডেন ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই লাইনটি অচল হয়ে পড়ে। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মধ্যকার একমাত্র যোগাযোগ ক্যাবলটির পাশ দিয়ে যায় জাহাজটি এবং সেটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইউরোপীয় তদন্তকারীরা দ্রুতই বুঝতে পারেন যে ক্যাবল দুটি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সীমাবদ্ধতা ও চীনের অসহযোগিতার কারণে জাহাজটিকে আটকানো সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের গোপন নাশকতাকে ‘হাইব্রিড অ্যাটাক’ বা ছায়াযুদ্ধ বলে অভিহিত করছেন, যা সরাসরি যুদ্ধ ও কূটনীতির মাঝামাঝি এক ধূসর অঞ্চলে (গ্রে-জোন) পরিচালিত হয়। কেবল সমুদ্রতলেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এস্তোনিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বুলগেরিয়ার অস্ত্র কারখানায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ আগস্ট কৃষ্ণসাগরে একটি গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কাছে সন্দেহজনক রোবোটিক বোট ধ্বংস করতে রোমানিয়ার বিমান বাহিনী দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠায়। এছাড়া সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত পাঁচজনকে অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। এমনকি গত আগস্টে জার্মানির বিমানবন্দরে থাকা বেসামরিক বিমানে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার জন্যও রাশিয়াকে দায়ী করা হয়। এলিজাবেথ ব্র তার বইয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে সমুদ্রতলের প্রায় ২০ হাজার মাইল দীর্ঘ তেল-গ্যাস পাইপলাইন এবং ১০ লাখ মাইল দীর্ঘ ফাইবার অপটিক ক্যাবল আধুনিক বিশ্বকে সচল রেখেছে। প্রতিদিনের ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন, ইমেইল, জুম কল কিংবা ঘর গরম রাখার জ্বালানি—সবই নির্ভর করে এই ‘আন্ডারসি কিংডম’ বা সমুদ্রতলের সাম্রাজ্যের ওপর। অথচ যেকোনো সাধারণ জাহাজ থেকে একটি ভারী নোঙর ফেলেই এই সংবেদনশীল অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। এর আগে ২০২৩ সালে তাইওয়ানের মাতসু দ্বীপের দুটি যোগাযোগ ক্যাবল কেটে দিয়েছিল চীনা কার্গো জাহাজ। ফলে মুহূর্তেই পুরো দ্বীপটি ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অচল হয়ে যায় ডিজিটাল লেনদেন এবং হাসপাতালগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। একইভাবে ফিনল্যান্ডের জলসীমায় গ্যাস পাইপলাইন ও ক্যাবল ধ্বংসে জড়িত ছিল ‘নিউনিউ পোলার বিয়ার’ নামের আরেকটি জাহাজ, এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় নাশকতায় ধ্বংস হয় বিখ্যাত নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সমুদ্রতলের এই ক্যাবল সুরক্ষার আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোটি ১৮৮৪ সালের প্যারিস কনভেনশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ক্যাবল কাটলে তার বিচার বা তদন্তের দায়িত্ব কেবল ওই জাহাজটি যে দেশে নিবন্ধিত, সেই দেশের। ফলে অপরাধী জাহাজগুলো সহজেই দায়মুক্তি পেয়ে যায়। এই ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প বা অতিরিক্ত ক্যাবল (রিডান্ড্যান্সি) স্থাপনকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে মনে করেন লেখক, যা বর্তমানে বাল্টিক সাগর ও তাইওয়ানের আশপাশে করা হচ্ছে। তবে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রয়টার্স জানায়, নরওয়ে উপকূলে ন্যাটোর এক যৌথ অভিযানে রুশ সাবমেরিনের একটি গোপন মহড়া ভণ্ডুল করে দেওয়া হয়েছে। রুশ সাবমেরিন যুদ্ধ পরিদপ্তরের (জিইউজিআই) তিনটি যান আর্কটিক অঞ্চলে কোনো চিহ্ন না রেখেই সমুদ্রতলের ডেটা ক্যাবল কাটার একটি নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছিল, যা দীর্ঘ এক মাস ধরে অনুসরণ করে ব্রিটিশ সাবমেরিন। বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রতলের এই নীরব যুদ্ধ হয়তো এখনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধায়নি, কিন্তু যেদিন হঠাৎ বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, সেদিন বিশ্ববাসী ঠিকই এর ভয়াবহতা টের পাবে।
তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ, অভিভাবকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ
আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ শতাধিক
অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ চতুর্দশ লিও, ফুসফুসে ধরা পড়েছে গুটি
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অস্ত্রধারী এক ব্যক্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তা অতর্কিত গুলির মুখে পড়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ায় এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা শেন সাইবার নিহত হন। তাঁর সহকর্মী ১২ বার গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা ২২ মিনিটের দিকে নর্থ ৫২তম স্ট্রিটের একটি বাড়ির বারান্দায় অস্ত্রধারী ব্যক্তি থাকার খবর আসে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছান। বারান্দার কাছে যাওয়ার পরই তাঁরা গুলির মুখে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গুরুতর আহত দুই কর্মকর্তাকে পেন প্রেসবিটারিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। ৪০ বছর বয়সী সাইবারের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তিনি ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগে ১০ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। কমিশনার বেথেল জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে সাইবারের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালে তাঁর পাশে থাকতে পেরেছিলেন। তিনি সাত বছরের এক ছেলে ও তিন বছরের এক মেয়েকে রেখে গেছেন। সাইবারের সঙ্গে থাকা ৩৩ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা ১২ বার গুলিবিদ্ধ হন। তিনিও পাঁচ সন্তানের বাবা। শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলা হলেও চিকিৎসা চলছিল। আহত এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। প্রাথমিক হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি গলিপথে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনারের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে আসা আরও নয়জন পুলিশ কর্মকর্তার দিকেও গুলি ছোড়া হয়; তবে তাঁদের কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। আশপাশে তল্লাশির পর একটি গাছ থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হ্যান্ডগান ও একটি শটগান উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তি ৩৫ বছর বয়সী এরিক লুইস। জেলা অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, সাইবারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আহত কর্মকর্তা এবং আরও নয়জন পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। লুইসকে জামিন ছাড়া আটক রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলাডেলফিয়ার পানি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ কমিশনার বেথেল সাইবারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো তাঁর স্মরণে অঙ্গরাজ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পেনসিলভানিয়ার পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সমকামী সাজিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনে সহায়তার অভিযোগ বাংলাদেশি ট্রান্স নারীর বিরুদ্ধে
সৌদিতে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সিধারী বিদেশিরা পাচ্ছেন চাকরি বদল, সম্পত্তি কেনাসহ ১০ সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ঝুঁকি: আরাঘচি
ব্রিটেনের ক্যানসার গবেষণাবিষয়ক দাতব্য সংস্থা ক্যানসার রিসার্চ ইউকের নতুন প্রধান ক্লিনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হাঞ্জানি। ৬ অক্টোবর তিনি দায়িত্ব শুরু করেন। ২০১৭ সাল থেকে পদটিতে থাকা অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। সংস্থাটির চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন অধ্যাপক মারিয়াম। রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় নির্ধারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গবেষণার ফল চিকিৎসায় কাজে লাগানোর উদ্যোগে ভূমিকা থাকবে তাঁর। চিকিৎসা গবেষণায় নতুন কর্মী তৈরির পাশাপাশি ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনেও সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। অধ্যাপক মারিয়াম ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্যানসার ইনস্টিটিউটে ক্যানসার জিনোমিকস ও মেটাস্ট্যাসিসের অধ্যাপক। তিনি বক্ষসংক্রান্ত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। ক্যানসার সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলায়, শরীরের অন্য অংশে ছড়ায় এবং চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয়। ফুসফুসের ক্যানসারের পরিবর্তন নিয়ে বৃহৎ গবেষণা প্রকল্প ট্রেসারএক্সে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রকল্পটিতে টিউমারের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা এবং রোগ শনাক্তের পর থেকে রোগীদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্যানসারের বিকাশ বোঝার চেষ্টা চলছে। এর লক্ষ্য রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ শনাক্ত করা এবং রোগীভেদে আরও উপযোগী চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা করা। ক্যানসার রিসার্চ ইউকের প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল বলেছেন, রোগীর অসুস্থতার বিভিন্ন পর্যায়ে টিউমার পর্যবেক্ষণ করে অধ্যাপক মারিয়াম ও তাঁর সহকর্মীরা ক্যানসারের পরিবর্তনশীল আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছেন। গবেষণায় অবদানের জন্য অধ্যাপক মারিয়াম একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। ক্যানসারের বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ইউরোর ইউরোপীয় অনুদান পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক দলেও তিনি যুক্ত ছিলেন। নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে অধ্যাপক মারিয়াম বলেছেন, ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএস গবেষণার ফল রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে উন্নত ক্যানসার চিকিৎসায় রূপ দেওয়ার কাজ আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, তীব্র নিন্দা ঢাকার
গির্জায় প্রার্থনারত খ্রিস্টানদের বাঁচাতে বো মা সরাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন মুসলিম যুবক