সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বছরের আইটি ক্যারিয়ার ছেড়ে কৃষিতে, এখন বার্ষিক আয় ‘৬০০ কোটি রুপি’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৮:২৮
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে ভারতের মাটিতে কৃষিকাজে শশী কুমার I ছবি: সংগৃহীত
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে ভারতের মাটিতে কৃষিকাজে শশী কুমার I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল জীবন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে ভারতের মাটিতে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছিলেন শশী কুমার। বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.টেক শেষ করে উইপ্রোতে দীর্ঘ ১২ বছর কাজ করার পর তিনি কৃষকদের ভাগ্য বদলানোর লক্ষ্যে দেশে ফিরে আসেন।

 

গড়ে তোলেন ‘অক্ষয়কল্প’ নামের একটি কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি এক্সে বিকাশ নামের এক প্রযুক্তিকর্মী শশীর এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্প তুলে ধরলে তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

 

তবে এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। নতুন ব্যবসার প্রথম নয় বছরে প্রতিষ্ঠানটি অন্তত ছয়বার দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে স্ত্রীর জমানো ৩০ লাখ রুপি দিয়ে কোনোমতে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখেন শশী।

 

ছেলের এমন সিদ্ধান্তে তার বাবাও মোটেও খুশি ছিলেন না। এমনকি কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ায় টানা আট বছর তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ রেখেছিলেন, কারণ তিনি চাননি ছেলে তার মতো হাড়ভাঙা খাটুনির কৃষিকাজ বেছে নিক।

 

সব বাধা পেরিয়ে শশীর সেই উদ্যোগ আজ এক বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন কৃষক যুক্ত আছেন, যাদের প্রত্যেককে মাসে গড়ে ১ লাখ ২৮ হাজার রুপি করে দেওয়া হয়।

 

ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে প্রায় ৬০ কোটি রুপি মুনাফা করছে, যা বছরে ৭২০ কোটিতে দাঁড়ায়। যদিও একই পোস্টে বার্ষিক আয় ৬০০ কোটি রুপি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যের এই সামান্য অসঙ্গতি ছাপিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এই অদম্য গল্প এখন নেটিজেনদের কাছে দারুণ প্রশংসিত হচ্ছে।

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক
অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় নি হ ত হন পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সামিয়া মালিক। এ ঘটনায় গাড়িচালক অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজাটি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৬ মে। অ্যাডিলেডের হিলক্রেস্ট এলাকার নর্থ ইস্ট রোডে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী সামিয়া। আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে তিনি প্রায় চার মিনিট ধরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিলেন। তার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি প্রার্থনা করছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি সড়কের ওপর অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের বাসিন্দা সামিয়া উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। নিজের পাশাপাশি পরিবারের জীবনেও পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অল্প বয়সেই তার আকস্মিক মৃ ত্যুতে পাকিস্তানে থাকা স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। স্বজন হারানোর মানসিক কষ্টের পাশাপাশি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ নিয়েও পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। আদালতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অ্যাশটন ফ্রেন্ড। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি নির্ধারিত গতিসীমার নিচে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মদ বা মাদক গ্রহণের প্রভাবে ছিলেন না। তবে সংঘর্ষের আগে গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সামিয়াকে দেখতে পেলে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারলে দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারত। ফ্রেন্ড আদালতে স্বীকার করেন, সামিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি গাড়ি থামাননি। তার দাবি, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, গাড়ির ধাক্কায় হয়তো একটি ক্যাঙ্গারু আঘাত পেয়েছে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, সড়কে একজন মানুষকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে না থামার বিষয়টি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্কভাবে গাড়ি চালিয়ে একজনের মৃ ত্যু ঘটানো এবং দুর্ঘটনায় মৃ ত্যুর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি উভয় অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন। বিচারক অ্যান বার্নেট ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট মাসের আগে প্যারোলের সুযোগ না থাকার বিধান রাখা হয়। তবে সাজা কার্যকর না করে দুই বছরের জন্য ভালো আচরণের শর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের জন্য তাকে ৫০০ ডলারের বন্ডে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারক ফ্রেন্ডের বয়স, অনুশোচনা, ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের সম্ভাবনা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে আপাতত কারাগারে যেতে হবে না। এর আগে আদালতে সামিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফ্রেন্ড। নিজের কাজ এবং দুর্ঘটনার পর গাড়ি না থামানোর দায়ও তিনি স্বীকার করেন। এই ঘটনা একদিকে সামিয়ার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সড়কে চালকের মনোযোগ ও দুর্ঘটনার পর দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। আদালতের রায়ে চালকের কারাদণ্ড স্থগিত হলেও সামিয়ার পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:১৬
ফ্রান্সের আউবাগনে লাকানাল স্কুল

স্কুলে শটগান নিয়ে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গু লি, আহত প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন

২৮ বছরের বিশ্বভ্রমণ শেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন কার্ল বুশবি

২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ১১ বছর পর মায়ের কাছে ফিরতে ব্যাকুল ব্রিটিশ অভিযাত্রী

সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে ব্যবহারযোগ্য মিঠাপানি

সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে বিশুদ্ধ করছে চীন, লক্ষ্য দৈনিক ৪৫ লাখ টন

সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলা
প্রতিবেশী দেশ সুদানে মিশরের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ৭২, বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুদানের মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামলাটি হয়। পরদিন সংগঠনটি হতাহতের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করে। তবে হামলাকারী পক্ষ ও নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।    সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, হামলার স্থানটি জাবাল আল উকাইদাতের স্বর্ণখনি এলাকা। সেখানে ছোট পরিসরে শ্রমিকেরা স্বর্ণ উত্তোলনের কাজ করেন। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা বেসামরিক খনিশ্রমিক। সংগঠনটি জানিয়েছে, হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ চলমান। ফলে ৭২ জন নিহত হওয়ার হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। হামলার দায় নিয়ে সংগঠনটির অভিযোগও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এএফপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলায় ব্যবহৃত উড়োজাহাজের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ। মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করার বিষয়টি তাই মানবাধিকার সংগঠনটির অভিযোগ হিসেবেই উঠে এসেছে।   হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রথমে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। সংগঠনটি একই সঙ্গে সতর্ক করেছিল, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পরে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স ৭২ জন নিহত হওয়ার দাবি জানায়। দুই সংগঠনের হিসাবের এই পার্থক্যের মধ্যে মোট প্রাণহানির নিশ্চিত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।  হামলা থেকে বেঁচে ফেরা খনিশ্রমিক আবদেল আজিজ ইউসুফ এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল প্রায় আটটার দিকে একটি যুদ্ধবিমান তাঁদের মাথার ওপর আসে। তাঁর বর্ণনায়, বিমানটি পাঁচ দফা হামলা চালায় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। আবার হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তিনি ও অন্য শ্রমিকেরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যান।   আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শরাফ আলী জানিয়েছেন, হামলার সময় দুর্গম ওই এলাকায় হাজারো মানুষ কাজ করছিলেন। হামলার পর শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিকে ছুটে যান। কেউ আল আনসারি স্বর্ণবাজারে আশ্রয় নেন, আবার কেউ অন্য দিকে চলে যান। সবাই ছড়িয়ে পড়ায় কতজন নিহত হয়েছেন, তা সঠিকভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান। দুই প্রত্যক্ষদর্শীই পালিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলেও তাঁদের আশঙ্কা। তবে আটকে থাকা বা নিখোঁজ মানুষের নিশ্চিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থল শহরাঞ্চল থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন।    হামলার স্থানটি কোন দেশের সীমানার মধ্যে পড়েছে, তা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের দাবি, হামলা হয়েছে সুদানের ভূখণ্ডে। অন্যদিকে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল মিশরের দিকে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, মিশরীয় কর্তৃপক্ষ খনিশ্রমিকদের ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বারবার সতর্ক করেছিল। এই তথ্য হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে না। অঞ্চলটির সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্পদসমৃদ্ধ হালায়েব ত্রিভুজের ওপর সুদান ও মিশর উভয় দেশই নিজেদের অধিকার দাবি করে। নীল নদের পূর্ব দিকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বর্ণ উত্তোলন ও বাণিজ্য হয়। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের দূরবর্তী অবস্থানের কারণে হামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।  এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনেও জাবাল আল উকাইদাতের খনি এলাকায় বিমান হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর এসেছিল। তখনও মিশরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। মিশরের সেনাবাহিনী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিল।   জুনের অভিযান সম্পর্কে মিশরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ২২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩৬ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। ওই এলাকায় অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান চালানোর কথা বলা হয়। শনিবারের হামলা নিয়ে মিশরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় আগের অভিযানের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্কও নিশ্চিত করা যায়নি।  সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ সংঘাতে জীবিকা হারানো বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্বর্ণ উত্তোলনের কাজে যুক্ত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তের খনিতে নতুন এই হামলা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আহতদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের সতর্কতা অনুযায়ী, গুরুতর আঘাত এবং চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা হতাহতের পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।    

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১:১৩
প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ

"জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দিব", কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে রিয়াদে হামলায় নি হ ত শাহেদ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় মার্কিন নাগরিক নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

‘কাছেই ঘেঁষতে দেয় না, আবার বিক্রি!’ এফ-৩৫ নিয়ে ভারতীয় বিমানপ্রধানের রসিকতা

‘কাছেই ঘেঁষতে দেয় না, আবার বিক্রি!’ এফ-৩৫ নিয়ে ভারতীয় বিমানপ্রধানের রসিকতা

পূর্ব আফ্রিকার জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১৩৯, নিখোঁজ বহু মানুষ, চলছে উদ্ধার তৎপরতা

পূর্ব আফ্রিকার জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস রোববার এ খবর প্রকাশ করে। নৌকাটি ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায়।   আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার জিবুতি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি মানুষ বেঁচে গেছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জীবিতদের অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক। অন্তত ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।   উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের অনেককে পরিচয় শনাক্ত করা ছাড়াই সমাহিত করতে হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ সব মরদেহ শনাক্ত ও গণনা করা সম্ভব হয়নি।   আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর এই পথটি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের ব্যবহৃত একটি বিপজ্জনক রুট। সংঘাত, দারিদ্র্য ও কাজের সন্ধানে বহু মানুষ এই পথে যাত্রা করেন। কিন্তু অনিরাপদ নৌযান, অতিরিক্ত যাত্রী, মানবপাচারকারী চক্র এবং সমুদ্রের ঝুঁকির কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।   আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, বিপজ্জনক পথ ব্যবহার কমাতে অভিবাসীদের জন্য নিয়মিত ও নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৬:১৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল জ্বালানি সংগ্রহের একটি চুক্তি করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন বিতর্ক

রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট

রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট

তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ, অভিভাবকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ

0 Comments