নাবালকদের যৌ ন ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, নাইজেরিয়া থেকে দুইজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ
নাবালকদের যৌন ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নাইজেরিয়া থেকে দুই নাইজেরিয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুইজনের বিরুদ্ধে নাবালকদের যৌন শোষণ, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যর্পণ করা দুইজন হলেন ২৬ বছর বয়সী আদেবোলা ফেস্টাস আদেকুনলে এবং ২৪ বছর বয়সী মুদাসিরু আফিজ ওলাওয়ালে। দুজনকেই ২০২৩ সালে নাইজেরিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৭ আগস্ট তাদের যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে নেওয়া হয়। এফবিআই কর্মকর্তারা নাইজেরিয়ায় গিয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টডিতে নেন।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আদেকুনলের বিরুদ্ধে মিসিসিপির এক নাবালককে লক্ষ্য করে আর্থিক উদ্দেশ্যে যৌন ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ রয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী ওয়াকার মন্টগোমারি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আত্মহত্যা করে।
আদেকুনলের বিরুদ্ধে নাবালকের যৌন শোষণের ফলে মৃত্যু, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপকরণ তৈরি, নাবালককে যৌন কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা এবং অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে আন্তঃরাজ্য হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওলাওয়ালের বিরুদ্ধে দুই ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করে যৌন ব্ল্যাকমেইল, নাবালকদের যৌন শোষণ, প্ররোচনা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপকরণ বিতরণ এবং আন্তঃরাজ্য হুমকির অভিযোগ রয়েছে। তার মামলাটিও যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দুটি মামলাই এফবিআই ‘অপারেশন আর্টেমিস’ এর অংশ। নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত আর্থিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যৌন ব্ল্যাকমেইল চক্রের বিরুদ্ধে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নাবালকদের ব্যক্তিগত বা যৌন ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। এ ধরনের অপরাধকে ‘সেক্সটরশন’ বলা হয়।
দুই অভিযুক্তই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এক ভারতীয় শিক্ষার্থী। তবে শেষ মুহূর্তে ভিসা সাক্ষাৎকারে এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আসন্ন ২০২৭ সালের স্প্রিং ইনটেকে (জানুয়ারি সেশন) অংশ নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে ওই শিক্ষার্থী জানতে চেয়েছেন, ক্লাসের শুরুর বাকি মাত্র তিন মাসের মধ্যে আবারও ভিসার জন্য নতুন কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং আবেদন করা সম্ভব কি না। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি-করপাস ক্রিস্টিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর তিনি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দ, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চান। ৩৬ হাজার ডলারের শিক্ষা ঋণ এবং বাবার জমানো ২৫ হাজার ডলার দিয়ে পড়াশোনার খরচের হিসাব দেখালেও, বাবার বার্ষিক আয় মাত্র ১৪ হাজার ডলার থাকায় প্রথম নয় মাসের আনুমানিক ৩৬ হাজার ডলার খরচের সাথে আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাঁর ভিসা বাতিল করা হয় বলে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গুঞ্জন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়—একবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে এক বছর নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী এই তথ্যটি সঠিক নয়। অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১৪(বি) ধারায় ভিসা বাতিল হলে যোগ্যতা প্রমাণের নতুন কোনো তথ্য বা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রদর্শন সাপেক্ষে যে কোনো সময় নতুন ফি দিয়ে পুনরায় আবেদন করা যায়; এর জন্য কোনো বাধ্যতামূলক এক বছরের সময়সীমা নেই। তবে এই মুহূর্তে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যথাসময়ে নতুন সাক্ষাৎকারের স্লট পাওয়া। বিশেষজ্ঞরা এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মার্কিন ভিসা সিস্টেমে স্লট নজরদারি করার পাশাপাশি সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অফিসের সাথে সেশন পিছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
এআইকে মানুষের মতো নৈতিকতা শেখাতে ধর্মতাত্ত্বিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অ্যানথ্রোপিক
লন্ডনের রাস্তায় কোকেনের নেশায় অচেতন আমিরাতের রাজবধূ, পাশে অরক্ষিত ৩ বছরের শিশু
ভারতের রাজনীতিতে ‘মাছি জনতা পার্টি’, তেলাপোকা দলের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত
বাংলাদেশের টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত মোহাম্মদ সাবেরের পরিবার ছয় বছর আগে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া একটি বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। বিদ্যুৎ-সংযোগের সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছোট্ট এই সৌর প্যানেল পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবের জানান, সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে তাঁদের মুঠোফোন চার্জ দেওয়া যায়, রাতে আলো জ্বালিয়ে রান্না ও অন্যান্য কাজ করা যায় এবং শিশুরা সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারে। গরমের সময় পাখা চালাতেও এই ব্যবস্থা সহায়তা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ নয়, বন্যাপ্রবণ এলাকা, সংঘাতকবলিত অঞ্চল ও দুর্গম জনপদেও জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। প্রচলিত বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন হলে এসব ছোট ব্যবস্থা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে। তবে চাহিদা বাড়লেও অর্থের অভাব মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বড় বাধা। দাতাদের অর্থায়ন কমে গেলে শরণার্থী পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। তাঁদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সৌরবিদ্যুৎ এই সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান নয়। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিশুদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন জীবন চালু রাখতে এটি কার্যকর সহায়তা হতে পারে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ইরানে ২৩ বছরের তরুণীর মৃত্যুদণ্ড
নেটফ্লিক্সে প্রায় এক হাজার কর্মীর পদ ছাঁটাই! চার বছরে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট করলো এই স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান
ডায়রিয়া আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে, মাকে দিয়েই পরিষ্কার করানো হলো হাসপাতালের মেঝে
প্রেমের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সুদূর রাশিয়া থেকে ভারতের বিহারে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হয়েছেন জুলি নামের এক তরুণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া তাঁদের সম্পর্ক এখন বিয়ের দিকে এগোচ্ছে। প্রেমিকার এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে প্রথমে চমকে যান প্রেমিক রাহুল যাদব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি জানার পর পরিবার তাঁকে স্বাগত জানায়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত স্টার নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুরের বাসিন্দা রাহুল যাদবের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় রাশিয়ার তরুণী জুলির। প্রথমে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব তাঁদের সম্পর্কের বড় বাধা হলেও শেষ পর্যন্ত তা উপেক্ষা করে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জুলি। তিনি প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে রাহুল তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাহুলের পরিবার জুলিকে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিলক পরিয়ে স্বাগত জানায়। তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাহুলের বাড়িতে ভিড় করেন। বিদেশি তরুণীকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে নতুন এই সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। তবে বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ, আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিস্তারিত কিংবা জুলির ভারতে যাওয়ার ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় থেকে আন্তদেশীয় প্রেমের সম্পর্ক—জুলি ও রাহুলের ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, অনলাইন যোগাযোগ কীভাবে ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে তাঁদের সম্পর্কের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
চা রপ্তানি, বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপন, যৌথ কারখানা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একাধিক প্রস্তাব
তথ্য লুকিয়ে এক সাথে পাঁচটি কোম্পানীতে ফুল টাইম জব করে এবার আদালতের কাঠগড়ায় ইস্ট লন্ডনের এক বাঙালী