সন্তান জন্ম দিলেই ৬৭ লাখ টাকা সহায়তা, জন্মহার বাড়াতে সিঙ্গাপুর সরকারের অভিনব উদ্যোগ
জন্মহার কমে যাওয়ায় নাগরিকদের সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে এক বিশাল আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির নতুন ‘এসজি চাইল্ড সাপোর্ট প্যাকেজ’-এর আওতায় যোগ্য নাগরিকরা সন্তান জন্মের পর থেকে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা প্রায় ৬৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ডে র্যালিতে এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ঘোষণা দেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। এই প্যাকেজের আওতায় শিশুদের জন্য সরাসরি ৬২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বরাদ্দ করা হবে এবং বিদ্যমান অন্যান্য সরকারি চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধার মাধ্যমে আরও বাড়তি অর্থ দেওয়া হবে, যা সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে।
সরকারি নীতিমালা ও নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল বা তার পরে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর জন্মলগ্নেই ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার নগদ উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। এই অর্থ শিশুর প্রথম এক বছরের মধ্যে দুটি কিস্তিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পাশাপাশি, শিশুটির বয়স ১৬ বছর হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর আরও ২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার করে 'চাইল্ড ক্রেডিট' দেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সুবিধার তুলনায় প্রথম সন্তানের ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত একটি পরিবার অতিরিক্ত ৪২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার সহায়তা পাবে।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশটির প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার পরিবার এবং ১৭ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিশু সরাসরি উপকৃত হবে।
মূলত দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধ হওয়ার তীব্র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের জন্মহার বর্তমানে রেকর্ড সর্বনিম্নে এসে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, দেশটি একটি ‘সুপার-এজড সোসাইটি’ বা অতি-বয়স্ক সমাজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পথে রয়েছে, যেখানে মোট জনসংখ্যার অন্তত ২০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।
এই জনসংখ্যাগত বিপর্যয়, ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের সংকট এবং বয়স্কদের নির্ভরতা সামাল দিতেই মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন নীতিগুলো ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি এমন অভাবনীয় আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ চালু করেছে সিঙ্গাপুর সরকার।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়ান নিউজের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ৭০ শতাংশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। একই সময়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৩৯ শতাংশ। ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের অনুমোদনের হার কম থাকার চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের ৪ হাজার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুমোদনের হার ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সরকারি হিসাবে চীনা আবেদনকারীদের অনুমোদনের হার ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ভারতের ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, নেপালের ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ৮০ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে নয় মাসের এই হিসাব এবং সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা সাম্প্রতিক তিন মাসের প্রত্যাখ্যানের হার আলাদা সময়সীমার তথ্য। আগের বছরের সরকারি তথ্যের তুলনায় পরিস্থিতির পরিবর্তন স্পষ্ট। নিউজিল্যান্ডের বাইরে থেকে আবেদন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে অনুমোদনের হার ছিল ৬২ শতাংশ এবং প্রত্যাখ্যানের হার ৩৮ শতাংশ। ওই বছরের হিসাবে ৬৭৮টি আবেদন অনুমোদিত ও ৪১৪টি প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে এই পরিসংখ্যান শুধু দেশের বাইরে অবস্থানরত আবেদনকারীদের, তাই ভিন্ন পরিধির হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনায় সতর্কতা প্রয়োজন। আবেদনের তথ্য ও নথির যথার্থতার ওপর জোর দিয়েছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া কিংবা প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন করা হলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। কোনো প্রতিনিধি আবেদন জমা দিলেও তথ্য সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায় আবেদনকারীরও। তবে প্রত্যাখ্যাত সব আবেদনেই জালিয়াতি ছিল, এমন সিদ্ধান্ত এই পরিসংখ্যান থেকে টানা যায় না। এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ থেকে যেসব স্টুডেন্ট ও অস্থায়ী ভিসা আবেদনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন, সেগুলোতে আবেদনের সময়ই সনদ জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। শুধু সনদের জন্য আবেদন করার রসিদ গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় সনদ না থাকলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে এবং সাধারণত অনুপস্থিত সনদ চেয়ে আবেদনকারীর সঙ্গে আলাদা করে যোগাযোগ করা হবে না।
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অবনতি, বৈশ্বিক সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ
হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে ডুবল জাহাজ, সাগরে ভাসছে আইফোন-দামি পারফিউম
নাইজেরিয়ায় সেনাঘাঁটিতে বোকো হারামের হামলায় ১০ সেনা নি হ ত, আহত অন্তত ২০ জন
নার্সিং স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার দিনই স্টেজ থ্রি ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা কেটলিন ড্যানিয়েলের। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। চিকিৎসার জন্য প্রায় এক বছর জীবনের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হলেও পড়াশোনার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি। এখন ২৬ বছর বয়সী কেটলিন একজন রেজিস্টার্ড নার্স, বাগদান সম্পন্ন হয়েছে এবং কন্যাসন্তানের জন্মের অপেক্ষায় রয়েছেন। পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিলগোর শহরের এই বাসিন্দা জানান, নিজের রোগ শনাক্ত হওয়ার আগে কম বয়সীদের মধ্যেও ক্যান্সার হতে পারে, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর সচেতনতা কম ছিল। নার্সিং স্কুলে ভর্তি হওয়ার আনন্দের মধ্যেই রোগ শনাক্তের খবর তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেটলিন ২০২৫ সালে চিকিৎসা শেষ করেন। কেমোথেরাপি ও অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শরীরে রোগের আর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। এরপর পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে নার্সিং স্কুল থেকে স্নাতক হন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন কেটলিন। চলতি বছরের মার্চে তাঁর বাগদান হয়। মে মাসে জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর কন্যাসন্তানের সম্ভাব্য জন্মতারিখ আগামী ১৫ জানুয়ারি। গর্ভাবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। এখন কেটলিনের লক্ষ্য ক্যান্সার রোগীদের সেবায় কাজ করা। ভবিষ্যতে টেক্সাস অনকোলজিতে অনকোলজি নার্স হতে চান তিনি। রোগী হিসেবে চিকিৎসার সময় যে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই অন্য রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চান কেটলিন।
মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
বিক্ষোভে অংশ নেয়ায়, আমির খানের ভাগ্নে অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ
হিজাব না পরায় ইরানে নিষিদ্ধ দরসা, যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপে গড়েন নতুন সাফল্যময় ক্যারিয়ার
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে সামরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম স্টারশিল্ডের গতি হঠাৎ কমে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুরুতে এই ঘটনার জন্য প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ককে দায়ী করা হলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, স্টারশিল্ডের গতি কমানোর নির্দেশটি স্পেসএক্সের নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন যে, স্টারশিল্ডের গতি কমানোর ফলে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা সীমিত হবে এবং এই ভুলের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। গতি কমানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইলন মাস্ক বলেন, স্টারশিল্ড সিস্টেমের সম্পূর্ণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে। এর গতি বা ব্যবহারের যেকোনো সীমাবদ্ধতা মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং চূড়ান্তভাবে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের (পোটাস) সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, স্টারলিংক একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সেবা, যা কেবল বেসামরিক বা প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ; কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক কার্যক্রমে এটি ব্যবহার করা একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নীতির পরিপন্থী। রাশিয়ান সেনাদের বিরুদ্ধে লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেন ব্যাপকভাবে স্টারশিল্ডের ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেনীয় বাহিনী লক্ষ্য করেছিল যে, ১৬০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে চলাচলকারী ড্রোনগুলোর ক্ষেত্রে স্টারশিল্ডের সংযোগ ধীর হয়ে যাচ্ছিল। এর ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের একাধিক সক্রিয় সামরিক অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তবে পরবর্তীতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানান যে, ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতির সংযোগ পুনরায় চালু করা হচ্ছে। তিনি ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে স্টারশিল্ডের গতির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর পরিণামে অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। মূলত রাশিয়ান শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইউক্রেনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন; আর ঠিক সেই সময়েই স্টারশিল্ডের গতি কমানোর এই ঘটনাটি ঘটল। এর পাশাপাশি ইউক্রেনীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা না দেওয়ায় রাশিয়ার উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে তারা, অথচ আগে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তাদের সতর্ক করত। পেন্টাগন স্পেস ফোর্সের মাধ্যমে স্পেসএক্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও, এই ধরনের নির্দিষ্ট অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা বা গতির ওপর সামরিক বাহিনীর নাকি স্পেসএক্সের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
চীনা যন্ত্রাংশে দূরপাল্লার ক্ষে পণাস্ত্র তৈরি করছে হুথিরা, হু মকিতে ইসরায়েল
পরিষ্কার নদীকে আবারও ময়লার ভাগাড় বানাল মানুষ, ৮ মাসের পরিশ্রমে হতাশ পরিবেশকর্মী বিট্টু