যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজত থেকে ছবি প্রকাশ করলেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরো
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় নিজের ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের পরিবার এবং রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিতেই তিনি এই ছবিগুলো শেয়ার করেছেন।
প্রকাশিত এসব ছবিকে মাদুরো তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের জন্য 'ভালোবাসা ও আশার ছোট উপহার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মার্কিন হেফাজতে যাওয়ার পর তার এই ছবি ও বার্তা প্রকাশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
কারাবন্দী অবস্থাতেও নিজের সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখতে এবং তাদের সাথে মানসিক সংযোগ বজায় রাখতেই তিনি এমন আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইসরাইলের বর্তমান নীতি ও সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেবল সামরিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং ফিলিস্তিনিদের কোনো ধরনের ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর যে নীতি ইসরাইল গ্রহণ করেছে, তা দেশটিকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে তুলবে। গত মঙ্গলবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে পুরস্কারজয়ী লেখক ও সাংবাদিক সুসান ম্যাকের সঙ্গে এক বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বেলফাস্ট টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, এই ভয়াবহ সহিংসতা সবার জন্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক হওয়া উচিত। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ক্ষোভ, অনমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর বিভাজনের ওপর ভিত্তি করেই এই ধ্বংসাত্মক চক্র টিকে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইউরোপে ইহুদিদের দীর্ঘকাল ধরে নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঐতিহাসিক সত্যতা স্বীকার করে নিলেও সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিরাও তাদের নিজস্ব ভূমি হারানোর মাধ্যমে চরম মাত্রায় অবিচারের শিকার হয়েছেন। এটি এক অনস্বীকার্য সত্য যে, ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসন চালানো হয়েছে, যার ফলে ভুক্তভোগীরা আজ নিজেদের ভূমি ফেরত ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলছেন। বারাক ওবামার মতে, সংঘাতের এই অমানবিক চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে ইসরাইলের দায়িত্ব অনেক বেশি। তিনি বলেন, ইসরাইল যদি মনে করে অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত হওয়ার কারণে তারা যা খুশি তাই করবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেবে না, তবে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এমন অবস্থান হয়তো স্বল্পমেয়াদে কাজ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইল তার নৈতিক ভিত্তি হারাবে। ইসরাইলের বর্তমান সরকার সম্ভবত এই ভুল পথটিই বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসরাইলকে বাস্তব পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওবামা স্পষ্ট করে বলেন, ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি এই অঞ্চলেই থেকে যাবে, তারা কোথাও যাচ্ছে না; তাই এই ধ্রুব সত্যকে মেনে নিয়েই সমাধানের পথে হাঁটা উচিত।
মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শুরু হলো নতুন প্রক্রিয়া
কঠিন সময়ে ৪০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাশমিকা মান্দানা; নিলেন পুরো এক বছরের খাবারের দায়িত্ব
সৌদি আরবে মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভের পর আটক আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মীর দাবি, তাঁদের পুলিশি গাড়ির ভেতরে মারধর করা হয়েছে, শরীরের সংবেদনশীল স্থানে লাথি মারা হয়েছে এবং আটক অবস্থায় ব্যক্তিগত মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ১৪ অক্টোবর বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। তবে অভিযোগগুলোর সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম *ইন্ডিয়া টুডে*র ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরালার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী সংগঠন এনএসইউআইয়ের সঙ্গে যুক্ত অর্জুন অভিযোগ করেন, দিল্লির কনট প্লেস এলাকা থেকে তাঁকে আটক করার পর পুলিশের গাড়িতে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মুখে ঘুষি মারেন, বুক ও পিঠে লাথি দেন এবং যৌনাঙ্গেও আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্জুন আরও দাবি করেন, একই গাড়িতে থাকা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী চার কিশোরকেও মারধর করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরেরা বিক্ষোভে অংশ নেয়নি; ওই এলাকায় উপস্থিত থাকার কারণে তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে কিশোরদের আটকের পরিস্থিতি এবং তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের অভিযোগ, তাঁদের প্রথমে মধ্য দিল্লির রাজীব চক এলাকার কাছাকাছি একটি অস্থায়ী আটকস্থলে নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ সময় পুলিশি গাড়িতে ঘোরানোর পর দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির পাণ্ডওয়ালা খুর্দ এলাকার একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। কয়েকজনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং ব্যক্তিগত ছবি ও অন্যান্য ফাইল পরীক্ষা করার অভিযোগও ওঠে। স্ক্রল ডট ইন–এর ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে কয়েকজন নারী বিক্ষোভকারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশি গাড়ির ভেতরে নারী আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয় এবং কয়েকজনের শরীরের সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করা হয়। এক আন্দোলনকর্মী অরণ্যকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা এবং কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও করেন তাঁর সহযাত্রী নওরিন। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারীদের অভিযোগ; প্রতিটি ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আটক ব্যক্তিদের আরও অভিযোগ, আহত হওয়ার পরও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়েছিল। কারও হাত ভেঙে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার কয়েকজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, আইনজীবীরা আটকস্থলে পৌঁছানোর পরও তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে আইনজীবী ও পরিচিত ব্যক্তিদের তৎপরতায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তি পেতে সহায়তা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করেছে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেরালার শিক্ষার্থী আথিরা দাবি করেন, আটক অবস্থায় তাঁকে মুখে আঘাত করা হয় এবং এক কানে শ্রবণশক্তি হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধীও তাঁর আঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। আরেক নারী আন্দোলনকর্মী অভিযোগ করেন, এক নারী পুলিশ সদস্য তাঁর গলা ধরে টানেন, মুখে আঁচড় দেন এবং চড় মারেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের জবাবও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে কে কোথায় আটক হয়েছিলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, আহতদের কী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং অভিযোগগুলোর পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রয়োজন। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধ থেকে। আন্দোলনকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার কারণে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দিল্লিতে বিক্ষোভের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। রয়টার্সের ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ব্যারিকেড স্থাপন এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভের আয়োজকেরা নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ১৪ অক্টোবরের সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আটক ব্যক্তিদের ভিডিও, চিকিৎসার কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য,অভিযোগগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পুলিশি পদক্ষেপের তদন্ত দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি ভারতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, পুলিশের ক্ষমতার ব্যবহার এবং আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পুলিশ সদস্য বা কর্তৃপক্ষকে দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা ঠিক হবে না।
ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিপাকে অভিনেতা ইমরান খান, দেশ ছাড়ার নোটিশ
নির্মাণকাজের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া, যুদ্ধক্ষেত্রে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যুর দাবি
ছেলের কলেজে ভর্তির আনন্দে পরিবার নিয়ে ওমরাহযাত্রা বিমানবন্দরে হামলায় বাবার মৃ ত্যু, দুই ছেলে হাসপাতালে
টাইটানিকের একমাত্র জাপানি যাত্রী মাসাবুমি হোসোনো লাইফবোটে উঠে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর তাঁর বেঁচে যাওয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়। ১৯১২ সালের সেই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া এই সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে পরবর্তী সময়ে ছড়িয়ে পড়া বয়ানে কিছু ভুল তথ্যও যুক্ত হয়েছে। হোসোনো রাশিয়ার রেলব্যবস্থা নিয়ে সরকারি গবেষণা শেষে দেশে ফিরছিলেন। ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে টাইটানিকে ওঠেন দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রী হিসেবে। তাঁর রেখে যাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, বিপদের রাতে ওপরের ডেকে যাওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছে তিনি কয়েকটি লাইফবোট ছেড়ে যেতে দেখেন। স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে হোসোনো জানান, একপর্যায়ে আরও দুজনের জায়গা আছে বলে ডাক আসে। একজন পুরুষকে নৌকায় লাফিয়ে উঠতে দেখে তিনিও সেই সুযোগ নেন। পরে অন্যদের সঙ্গে বৈঠা চালান। গবেষকদের মূল্যায়নে, তিনি সম্ভবত ১০ নম্বর লাইফবোটে ছিলেন। এনসাইক্লোপিডিয়া টাইটানিকায় প্রকাশিত ইতিহাসবিদ মার্গারেট মেলের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর হোসোনো সমালোচনার শিকার হন। ১৯১৩ সালের মে মাসে সরকারি পদ হারালেও জুনেই তাঁকে চুক্তিভিত্তিক কাজে ফেরানো হয়। ১৯৩৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি কখনো প্রকাশ্যে টাইটানিকের অভিজ্ঞতা বলেননি, এমন দাবিও পুরোপুরি সঠিক নয়। মেলের গবেষণায় দেখা যায়, দেশে ফিরে তিনি ইয়োমিউরি সংবাদপত্রসহ কয়েকটি প্রকাশনাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে নীরব হয়ে যান। ১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ সিনেমা তাঁর কাহিনিকে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আনে। কিন্তু তাঁর চিঠি তখনই প্রথম প্রকাশিত হয়নি। মৃত্যুর পর সেটি প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৯৮০ সালেও আবার ছাপা হয়। ফলে দীর্ঘদিন গোপন থাকা একটি চিঠি হঠাৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় বদলে গিয়েছিল, এমন প্রচলিত বর্ণনা ইতিহাসের পুরো চিত্র তুলে ধরে না।
ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশের মতো আন্দোলনে ভারতে সরকার পতনের ছক? বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির