সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৬:৮
দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল
দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোর এক বাসিন্দা কলেজ ভর্তিতে এশিয়ানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগে করা নাগরিক অধিকারের মামলায় বড় এক আইনি জয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি এক ফেডারেল বিচারক মামলাটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

 

ন্যান ঝং এবং তার ছেলে স্ট্যানলি ঝং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির মতো অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্ণবাদী ভর্তি প্রক্রিয়ার চর্চা করে, যা অত্যন্ত যোগ্য এশিয়ান-আমেরিকান আবেদনকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 

এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে করা মামলাটির কিছু অংশ খারিজের আবেদন আংশিক নাকচ করে দিয়েছেন বিচারক জেমস এল. রবার্ট।

 

২১ বছর বয়সী স্ট্যানলি ঝং গত বছর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। কারণ, দুর্দান্ত একাডেমিক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও আবেদন করা ১৮টি কলেজের মধ্যে ১৬টি থেকেই তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে গান হাই স্কুল থেকে স্নাতক করা স্ট্যানলি স্যাট (SAT) পরীক্ষায় ১৬০০-এর মধ্যে ১৫৯০ পেয়েছিলেন।

 

তার জিপিএ ছিল ৪.৪২ এবং একটি ফ্রি ই-সাইনিং স্টার্টআপ চালু করে তিনি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের নজরও কেড়েছিলেন। এতগুলো নামিদামি কলেজ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরপরই প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাকে পূর্ণকালীন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেয়।

 

অথচ এই পদের জন্য সাধারণত পিএইচডি বা সমমানের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। জানা যায়, মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই কোডিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গুগলের নজরে ছিলেন এই তরুণ।

 

আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের বিষয়ে বাবা ন্যান ঝং ফক্স নিউজকে বলেন, "এটি আমাদের জন্য একটি দারুণ খবর। বিচারক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের খারিজের আবেদন নাকচ করে মূলত আমাদের পক্ষেই রায় দিয়েছেন।" এই রায়ের ফলে এখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি, ইমেইল যোগাযোগ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ভর্তির ডেটা পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন।

 

অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সন্তুষ্ট যে আদালত মামলার কিছু অংশ খারিজ করেছে। তারা আরও জানায়, ওয়াশিংটনের ফ্ল্যাগশিপ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তারা ভর্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশি অগ্রাধিকার দেয় বলেই বাইরের রাজ্যের বেশিরভাগ আবেদনকারী সুযোগ পান না।

 

স্ট্যানলি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস-অস্টিনে ভর্তির সুযোগ পেলেও তা বাদ দিয়ে ২০২৩ সালের শরতে গুগলের চাকরিতেই যোগ দেন। এই দীর্ঘ আইনি লড়াই নিয়ে ন্যান ঝং বলেন, "এই গল্পটি শুধু আমার ছেলের বা আমাদের পরিবারের চেয়েও অনেক বড়।" তার মতে, সাম্প্রতিক কিছু আইনি নজির থাকা সত্ত্বেও কলেজ ভর্তিতে এশিয়ান-বিরোধী বৈষম্য এখনো একটি পদ্ধতিগত সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

 

তিনি জানান, তাদের এই লড়াই প্রকাশ্যে আসার পর সারা দেশ থেকে আরও অনেক এশিয়ান-আমেরিকান পরিবার একই ধরনের বঞ্চনার গল্প শেয়ার করে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। আগামী প্রজন্মের জন্য এই বৈষম্য দূর করতেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় এই পরিবার।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অনলাইন নজরদারি
অনলাইন বিজ্ঞাপনের আড়ালে নজরদারির প্রমাণ মিলেছে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ঘিরে

ইসরায়েলভিত্তিক বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেক অনলাইন বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও অনুসরণ করেছে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির ডিভাইসে স্পাইওয়্যার পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত পৃথক গবেষণায় কানাডার সিটিজেন ল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের কনফিয়ান্ট এ তথ্য জানিয়েছে। গবেষকদের মতে, হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তির বিজ্ঞাপনে ক্লিক করারও প্রয়োজন ছিল না।    সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে প্রদর্শিত হয়েছে। বিজ্ঞাপন লোড হওয়ার সময় ব্যবহারকারীর ডিভাইসের কিছু শনাক্তকারী তথ্য প্রতিষ্ঠানটির সার্ভারে পৌঁছাত। গবেষকদের অভিযোগ, নির্বাচিত ডিভাইসে একই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিকর কোড পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে বিজ্ঞাপনটি দেখা গেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ডিভাইস স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে, এমন নয়।    গবেষণায় সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ডিভাইসে চালানো হামলার ক্ষেত্রে। সিটিজেন ল্যাব জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ৪৫টি ডিভাইসকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। আল জাজিরার দেওয়া নেটওয়ার্ক তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি ডিভাইসে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা ক্যান্ডিরুর সফটওয়্যার সংক্রমণের প্রমাণও পেয়েছেন গবেষকেরা। আল জাজিরা কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং তাদের ডিভাইস ও তথ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে।    গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ, ন্যাটো এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কেও ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। তবে এসব নেটওয়ার্কে বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর তথ্য থেকে সেখানে কারও ডিভাইসে স্পাইওয়্যার সংক্রমণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।    প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তদন্তে সহযোগিতা করে গুগল ডিসকভার-টেককে তাদের বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞাপন খাতের সংগঠন আইএবি ইউরোপও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ডিসকভার-টেকের অবস্থান স্থগিত করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে ডিসকভার-টেক ও ক্যান্ডিরুর পক্ষ থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৬:৫৪
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার অস্বীকার করে টিকতে পারবে না ইসরাইল: ওবামা

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার অস্বীকার করে টিকতে পারবে না ইসরাইল: ওবামা

শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার

মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শুরু হলো নতুন প্রক্রিয়া

৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। ছবি: সংগৃহীত

কঠিন সময়ে ৪০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাশমিকা মান্দানা; নিলেন পুরো এক বছরের খাবারের দায়িত্ব

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কথিত ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছিল, অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অনৈতিক কাজের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।   সৌদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর এবং সিতি আক্তার। তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন জেলা বা উপজেলায়, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   সৌদি আরবের একটি আরবি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের শিরোনামে এক নারীর সঙ্গে মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে প্রকাশিত ইংরেজি প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগটিকে সাধারণভাবে অনৈতিক কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে তাঁরা ঠিক কী করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।   প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অভিযোগটির যৌন প্রকৃতির হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও, নির্দিষ্ট কোনো যৌনকর্মে লিপ্ত থাকার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।দণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ ও নারীর মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা, আত্মীয় নাকি অন্য কোনো সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতি কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।   ঘটনার সময় নিয়েও রয়েছে তথ্যের ঘাটতি। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে কথিত অনৈতিক কাজটি ঠিক কবে ঘটেছিল, তাঁদের কখন আটক করা হয়েছিল এবং বিচারপ্রক্রিয়া কত দিন ধরে চলেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়রেখা প্রকাশ করা হয়নি। মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।   সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে রায় বহাল রাখা হয় এবং রাজকীয় আদেশের পর সাজা কার্যকর করা হয়। তবে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ, বিচারিক যুক্তি কিংবা অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার অন্য কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সমর্থিত হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি, ঘটনার তারিখ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের নিজ নিজ এলাকার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বিবৃতি কিংবা বাংলাদেশের কনস্যুলেটের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যেতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:২৭
রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভের পর আটক

যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে আঘাত, দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীদের ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ

ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিপাকে অভিনেতা ইমরান খান, দেশ ছাড়ার নোটিশ

ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিপাকে অভিনেতা ইমরান খান, দেশ ছাড়ার নোটিশ

বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ

নির্মাণকাজের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া, যুদ্ধক্ষেত্রে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যুর দাবি

ছেলের কলেজে ভর্তির আনন্দে পরিবার নিয়ে ওমরাহযাত্রা বিমানবন্দরে হামলায় বাবার মৃ ত্যু, দুই ছেলে হাসপাতালে
ছেলের কলেজে ভর্তির আনন্দে পরিবার নিয়ে ওমরাহযাত্রা বিমানবন্দরে হামলায় বাবার মৃ ত্যু, দুই ছেলে হাসপাতালে

বড় ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি উপলক্ষে পরিবার নিয়ে প্রথমবার একসঙ্গে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। কিন্তু সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবর হুতি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরদিন মারা যান তিনি। তাঁর দুই ছেলে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরব নিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইউসুফের আত্মীয় ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আকবর হাশমি।    হাশমির ভাষ্য অনুযায়ী, মদিনার ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকার সময় বড় ছেলেকে নিয়ে জুস কিনতে গিয়েছিলেন ইউসুফ। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় হামলায় বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও ইউসুফকে বাঁচানো যায়নি।   ইউসুফ সৌদি আরব ও ভারতে কাজ করতেন। বড় ছেলের শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে ও পরিবারের এক নারী স্বজনকে নিয়ে ওমরাহযাত্রার পরিকল্পনা করেন তিনি।   আরব নিউজের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত দুই ছেলে হাসপাতালে রয়েছে। মেয়ে ও ওই নারী স্বজন অপেক্ষাকৃত কম আহত হওয়ায় চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছেন। ইউসুফের স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। তিনিই এখন আহত সন্তানদের দেখাশোনা করছেন।   হাশমি জানিয়েছেন, বড় ছেলের দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ভাঙা কাচের আঘাতে পেটেও অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তাকে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। বাবার মৃত্যুর খবর সন্তানদের জানানো হয়েছে।    রিয়াদ বিমানবন্দরে ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। হতাহতদের মধ্যে ওমরাহযাত্রীরাও ছিলেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১০:৫৩
লাইফবোটের খালি আসনে উঠে জীবন বাঁচান, টাইটানিক থেকে বেঁচে দেশে ফিরেই শুনতে হয় ‘কাপুরুষ’ অপবাদ

লাইফবোটের খালি আসনে উঠে জীবন বাঁচান, টাইটানিক থেকে বেঁচে দেশে ফিরেই শুনতে হয় ‘কাপুরুষ’ অপবাদ

ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের

বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

বাংলাদেশের মতো আন্দোলনে ভারতে সরকার পতনের ছক? বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

0 Comments