গাজার পূর্বের ও বর্তমানের ধ্বংসচিত্র তুলে ধরে জরুরি সহায়তার আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির
গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এনে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গুগল আর্থের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে যুদ্ধের আগে ও পরের গাজার বিভিন্ন এলাকার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি।
শনিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা পোস্টে জোলি গাজার রাফাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটির কয়েকটি এলাকার আগের ও বর্তমান চিত্র পাশাপাশি তুলে ধরেন। ছবিগুলোতে আগে ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা এখন ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। তিনি লিখেছেন, এখন গুগল আর্থ খুললেই গাজায় কী ঘটেছে, তার একটি চিত্র দেখা সম্ভব।
জোলি বলেন, গাজার পুরো পুরো মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে শুধু ভৌত ধ্বংসই দেখা যায়, এর আড়ালে থাকা মানুষের দুর্ভোগ, নিহত পরিবার কিংবা বেঁচে থাকা মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম ছবিতে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার ইউএনওস্যাটের তথ্য তুলে ধরে জোলি জানান, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউএনওস্যাটের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা দুই লাখের বেশি।
শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন জোলি। তাঁর শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যা গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশ, আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তা প্রয়োজন। অথচ ত্রাণ ও আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও নানা ধরনের বাধা ও বিলম্ব রয়েছে।
জোলি বলেন, শীত আসার আগেই মানুষের নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গাজার মানুষের বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানান।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দীর্ঘদিন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অভিনেত্রী চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসরের দিক থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টসহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজার জন্য প্রস্তুত রাখা ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রীও দেখেন।
সেই সফরেও জোলি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ নিরাপদ ও ধারাবাহিক রাখার পাশাপাশি ত্রাণ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ধ্বংসের পরিসর তুলে ধরে তিনি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজার বেসামরিক মানুষের জরুরি প্রয়োজনের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করলেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এনে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গুগল আর্থের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে যুদ্ধের আগে ও পরের গাজার বিভিন্ন এলাকার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। শনিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা পোস্টে জোলি গাজার রাফাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটির কয়েকটি এলাকার আগের ও বর্তমান চিত্র পাশাপাশি তুলে ধরেন। ছবিগুলোতে আগে ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা এখন ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। তিনি লিখেছেন, এখন গুগল আর্থ খুললেই গাজায় কী ঘটেছে, তার একটি চিত্র দেখা সম্ভব। জোলি বলেন, গাজার পুরো পুরো মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে শুধু ভৌত ধ্বংসই দেখা যায়, এর আড়ালে থাকা মানুষের দুর্ভোগ, নিহত পরিবার কিংবা বেঁচে থাকা মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম ছবিতে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার ইউএনওস্যাটের তথ্য তুলে ধরে জোলি জানান, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউএনওস্যাটের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন জোলি। তাঁর শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যা গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশ, আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তা প্রয়োজন। অথচ ত্রাণ ও আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও নানা ধরনের বাধা ও বিলম্ব রয়েছে। জোলি বলেন, শীত আসার আগেই মানুষের নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গাজার মানুষের বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানান। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দীর্ঘদিন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অভিনেত্রী চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসরের দিক থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টসহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজার জন্য প্রস্তুত রাখা ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রীও দেখেন। সেই সফরেও জোলি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ নিরাপদ ও ধারাবাহিক রাখার পাশাপাশি ত্রাণ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ধ্বংসের পরিসর তুলে ধরে তিনি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজার বেসামরিক মানুষের জরুরি প্রয়োজনের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করলেন।
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ঠেকাতে এবং হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে চারটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ বোঝাই করে এই অস্ত্রের চালান পাঠায় ইসলামাবাদ। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ইয়েমেনের চলমান বহুজাতিক সংঘাতে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করে সরকারি সেনাদের সহায়তা করছেন। হুতিদের লাগাতার হামলা মোকাবিলা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতে সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন কয়েকজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াই চলছে। বৃহস্পতিবার হুতিরা তাইজ থেকে এডেনগামী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। তাইজ শহরটি পুরোপুরি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে এডেন উত্তরের সরকারি এলাকাগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা সরকারের রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। এর জবাবে সৌদি আরব হুতিদের ওপর বিমান হামলা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী সানা, সাদা শহর এবং তাইজে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে হুতিরাও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। পবিত্র মদিনা নগরীর মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবাহ কেন্দ্রে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি জোট, যদিও হুতিরা তা অস্বীকার করেছে। এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে গত আগস্টে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ইয়েমেন যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদের পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের এই অবস্থান হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের মরিয়া হয়ে মিত্র খোঁজারই অংশ। এমনকি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও সম্প্রতি আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার
যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ
আড়াই বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে সুস্থ ৭ বছরের শিশু, বাবার ব্রেসলেট কেটে উদযাপন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রোববার ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। একই দিনে ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও তেহরান একতরফা শর্ত মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপে ফিরলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ এটি। ফলে দীর্ঘ সময় এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রিয়াদের দক্ষিণে একটি আরামকো স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে হামলার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ফলে হুতিদের দাবির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনে শুরু বড় সামরিক অভিযান এর মধ্যেই ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করা হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এরই মধ্যে রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশে হুতি অবস্থানে হামলার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে তাইজ শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজের সঙ্গে এডেনের যোগাযোগপথ নিয়ন্ত্রণের লড়াইও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের উপকূল এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব ঘিরেও সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে, একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, আর বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ইরান বলছে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত আবার বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লন্ডনের প্রথম মসজিদের শতবর্ষ উদযাপনে গৃহহীনদের জন্য ১০,০০০ বেলা খাবারের উদ্যোগ
পাকিস্তানি নারীর হানি ট্রাপে পড়লেন নৌসেনা, ফাঁস করে দিলেন ‘গোপন স্পর্শকাতর তথ্য’