ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার ১১১ বাংলাদেশি, মিশর থেকে ফিরবেন দেশে
লিবিয়া থেকে অনিয়মিত পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশি এখন মিশরে অবস্থান করছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৃথক তিনটি নৌযানে বিপদের মুখে পড়ার পর বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৫৮ জন মিশরের পোর্ট সাঈদ এবং ৫৩ জন দামিয়াতের নিরাপত্তা কেন্দ্রে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের বাংলাদেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের একজন কর্মকর্তা ৩ ও ৪ অক্টোবর পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াতে গিয়ে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সমুদ্রযাত্রা, দুর্ঘটনা এবং উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও করে দেওয়া হয়।
পোর্ট সাঈদে থাকা ৫৫ বাংলাদেশি জানিয়েছেন, ১৪ সেপ্টেম্বর তারা লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নৌকাটি প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রায় এক রাত ও এক দিন তারা উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ‘কিংস্টন’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে সাহায্যের সংকেত পাঠান।
বিপদসংকেত পাওয়ার পর জাহাজটি মিশরের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের পোর্ট সাঈদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
একই নিরাপত্তা কেন্দ্রে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশি, মিশরীয় ও সুদানি নাগরিকসহ মোট ৫৬ জন যাত্রী নিয়ে তবরুক থেকে আরেকটি নৌকায় যাত্রা করেছিলেন। সমুদ্রে প্রবেশের পর ওই নৌকাও ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রায় দুই দিন ভেসে থাকার পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।
এ অবস্থায় যাত্রীরা জরুরি বিপদসংকেত পাঠালে ‘এমএসসি ভার্জিনিয়া’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার অভিযানে এগিয়ে আসে। ওই জাহাজ তিন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও ৩৯ যাত্রী তখন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দামিয়াতে থাকা ৫৩ বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা ছিল আরও ভয়াবহ। তারা জানিয়েছেন, একই দিন তবরুক থেকে ৫৩ বাংলাদেশি ও ১৪ সুদানি নাগরিকসহ মোট ৬৭ জন একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। সমুদ্রে প্রবেশের পরই নৌকাটি ঝড়ের মধ্যে পড়ে এবং একপর্যায়ে ভেতরে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে।
ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে যাত্রীরা আশপাশের জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধার কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক জরুরি সংকেত পাঠান। পরে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওয়াগেনবর্গ শিপিংয়ের ‘আইজেবর্গ’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, জাহাজটি আর প্রায় ১০ মিনিট দেরিতে পৌঁছালে নৌকায় থাকা সবার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকার ভেতরে পানি বাড়ছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।
বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশির কেউই মিশরকে গন্তব্য হিসেবে বেছে নেননি। তাদের লক্ষ্য ছিল লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশ করা। কিন্তু ঝড়, নৌযানের যান্ত্রিক ত্রুটি ও পানি ঢুকে পড়ার কারণে তাদের যাত্রা ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ে।
দূতাবাস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা, ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম ১১১ বাংলাদেশির কায়রো থেকে ঢাকা ফেরার টিকিট দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে বলে দূতাবাসের কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরানো হবে।
যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশে ফিরে গেছেন। বাকিদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার ভয়াবহ ঝুঁকি সামনে এনেছে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও অনিরাপদ রাবারের নৌকা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উদ্ধার পেতে বিলম্বের কারণে এই রুটে যাত্রা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসও মানবপাচারকারী এবং অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশির ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্নে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা মুহূর্তেই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে একটি ভবনের আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে আছড়ে পড়ার পরও এক নারীর উঠে বসা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। তবে ওই নারীর পরিচয়, তিনি কীভাবে নিচে পড়লেন এবং পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে একটি বাড়ির ঢেউটিনের ছাদের ওপর ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএনবি নিউজের তথ্য উদ্ধৃত করে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি পাশের একটি ভবনের আটতলা থেকে নিচে পড়েছিলেন। প্রচণ্ড আঘাতে টিনের ছাদের একটি অংশও দেবে যায় বলে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন প্রথমে আশঙ্কা করেছিলেন, এত ওপর থেকে পড়ে ওই নারী হয়তো গুরুতর আহত হয়েছেন বা তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি চেতনা ফিরে পেয়ে নিজেই উঠে বসেন। এরপর মোবাইল ফোন বের করে প্রায় ২০ মিনিট সেটি ব্যবহার করতে থাকেন। ঘটনার এই অংশের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে ওই নারীকে টিনের ছাদের ওপর নড়াচড়া করতে এবং পরে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। নিচে বেশ কয়েকজন মানুষ অবস্থান করছিলেন এবং তাঁদের কয়েকজনকে আলো ফেলে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত ওই নারী নিজেই ছাদ থেকে নিচে নেমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কি না অথবা পরে চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি কোনো ধরনের আঘাত পাননি। কী কারণে তিনি ভবন থেকে নিচে পড়েছিলেন, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। এটি দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা ছিল, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁর নাম, বয়স কিংবা নাগরিকত্বও প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও ওই নারীর শারীরিক অবস্থা বা পড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে অনুমান করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো নেই। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে, সিহানুকভিলে ওই নারী উঁচু ভবন থেকে একটি টিনের ছাদের ওপর পড়েছিলেন, কিছু সময় পর উঠে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং পরে নিজেই সেখান থেকে নেমে চলে যান। তাঁর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে আর কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
এপস্টেইন নথি তল্লাশি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে শরণাপন্ন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার ১১১ বাংলাদেশি, মিশর থেকে ফিরবেন দেশে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না
কানাডায় টানা কয়েক বছর অভিবাসনের হার কমানোর পর আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে যেতে পারে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অভিবাসন ব্যবস্থা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে সরকারের সামনে নতুন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা হবে। এই আলোচনা এমন সময় সামনে এসেছে, যখন কানাডা ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন তিন বছরের ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান প্রস্তুত করছে। পরিকল্পনাটি আগামী নভেম্বরে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এতে নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য ভবিষ্যৎ টার্গেট নির্ধারণ করা হবে। গত কয়েক বছরে কানাডায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, হাউজিং সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অভিবাসনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রবেশের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কারদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডা ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও এই সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ২০২৬ সালে নতুন টেম্পোরারি রেসিডেন্টের টার্গেট রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, যা ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার মধ্যে নন পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পর নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে কার্নি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বর্তমান ধাপ সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ কানাডা স্থায়ীভাবে অভিবাসনের দরজা সংকুচিত রাখবে, এমন ধারণা এখনই নিশ্চিত নয়। বরং অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ধীরে ধীরে অভিবাসনের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাই আলোচনায় এসেছে। কানাডার বর্তমান ইমিগ্রেশন নীতিতে অর্থনৈতিক অভিবাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের মধ্যে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ জনকে অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন, শরণার্থী ও মানবিক বিবেচনার বিভিন্ন ক্যাটাগরিও চালু রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে কানাডায় থাকা এবং কাজ করা কিছু টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির পথে নেওয়ার উদ্যোগও রেখেছে। বর্তমান পরিকল্পনায় ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার টেম্পোরারি ওয়ার্কারকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিতে নেওয়ার বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কানাডায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখা কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টার্গেট ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ওয়ার্কারদের সংখ্যা কতটা বাড়বে বা বর্তমান সীমা বহাল থাকবে, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বাংলাদেশিসহ কানাডায় পড়াশোনা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহীদের জন্য আগামী ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কার্নির বক্তব্যকে এখনই অভিবাসন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। নতুন টার্গেট ও কোন ক্যাটাগরিতে কতজন নেওয়া হবে, তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে সরকারের ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের আনুষ্ঠানিক ইমিগ্রেশন পরিকল্পনা প্রকাশের পর।
কিডনি আবার হবে’ বলে অঙ্গ বি ক্রি, দালালের এমন কথায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে ‘কিডনি ভ্যালি’
গাজার পূর্বের ও বর্তমানের ধ্বংসচিত্র তুলে ধরে জরুরি সহায়তার আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এলএএক্স) থেকে এক সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। ওয়ানিং "হেদার" ঝাং নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের ওপর নজরদারি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন ৩৪ বছর বয়সী এই নারী। এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডের এক সদস্যের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ঝাং এবং তার এক সহযোগী গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা তাইওয়ানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পরিবারের শহরতলির বাড়ির ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, নজরদারির মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে টিং-ইউ লাই। তিরিশোর্ধ্ব এই প্রকৌশলী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে বহুজাতিক ডাচ ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ফিলিপসে কর্মরত। ৩ অক্টোবর দায়ের করা অভিযোগে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্ট উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়দের অবস্থান, বাড়ি এবং গাড়ির ছবিগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। অভিযোগপত্রে এই গুপ্তচরবৃত্তির রোমাঞ্চকর কিছু তথ্যও উঠে এসেছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান এবং একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে লক্ষ্যবস্তুর বাড়ির দিকে রওনা দেন। প্রতিবেশীর সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় টিং-ইউ, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তান বাড়িতে পৌঁছালে ঝাং ও তার সহযোগী তাদের ভিডিও ধারণ করছিলেন। ঝাংয়ের আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে চীনা মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের কিছু বার্তাও উদ্ধার করেছে এফবিআই। সেখানে দেখা যায়, ঝাং চীনা সরকারের এক কর্মকর্তাকে টেক্সট করে লিখছেন, "তাকে দেখেছি। অল্পবয়সী ছেলে। এটাই সেই তরুণ।" এরপর তিনি গাড়ির দুটি লাইসেন্স প্লেটের নম্বর পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন যে তিনি ভিডিও রেকর্ড করছেন। এফবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়ার সময় এক সহপাঠীর মাধ্যমে চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঝাংয়ের পরিচয় হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে চীনের চাংশায় এক গোপন বৈঠকে তিনি নজরদারির এই মিশন গ্রহণ করেন। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী এবং গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ও হয়রানি করার দায়ে বেশ কয়েকজন চীনা এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন প্রশাসন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসা বেইজিংয়ের এমন নজরদারির ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা