হু তি বি দ্রো হীদের হা মলার মুখে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদ, দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে
ইয়েমেনের হুতিদের ধারাবাহিক হা মলার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কঠোর নিরাপত্তায় বাংকার সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। যুবরাজের চলাচল সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিশেষভাবে বাছাই করা নিরাপত্তা দল তাঁর সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ অক্টোবর একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর যুবরাজকে তখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সংবাদমাধ্যমটি।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হা মলায় অন্তত ১৩ জন নি হত এবং ৩০০ জনের বেশি আ হত হন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওই হা মলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা তদন্ত করছে সৌদি আরব। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আগে ড্রোন এবং পরে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
ধারাবাহিক হা মলায় রিয়াদের বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। আগের পাঁচ দিনে কিং খালিদ বিমানবন্দরে চারবার হা মলা হয়। উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাবে, সোমবার বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
হা মলা প্রতিহত করতে গিয়ে সৌদি আরবের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে আসছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা। গত মাসে এপিকে তাঁরা বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
এদিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে সৌদি মন্ত্রিসভা হুতিদের ধারাবাহিক হা মলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানায়। একই রাতে ধাহরানে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হা মলার পর সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বুধবার সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই ঘটনায় কেউ হতা হত হননি।
উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে ফোনালাপ হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে সহায়তার প্রস্তুতি থাকার কথা জানিয়েছেন আরাগচি।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপ করার পর হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হয়। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সাম্প্রতিক হা মলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানে দুই পক্ষের উত্তেজনা আবার বেড়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreবাড়ি থেকে কাজের সুবিধা নিয়ে একসঙ্গে পাঁচটি ফুলটাইম চাকরির তথ্য গোপনের অভিযোগে লন্ডনের সাউদার্ক ক্রাউন কোর্টে বিচার চলছে কাশিম চৌধুরীর। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের ৫৫ বছর বয়সী এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রতারণার নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিচার শুরুর সময় রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কাশিম মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ পাউন্ড পেয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়। দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক চাকরি একই সময়ে চলমান থাকার সময় তাঁর পাওয়া বেতনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৩ পাউন্ড। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে পাঁচটি চাকরির চুক্তিতে তাঁর সাপ্তাহিক কাজের সময় দাঁড়ায় ১৮৩ ঘণ্টা। অথচ সাত দিনে মোট সময় থাকে ১৬৮ ঘণ্টা। চাকরির আবেদন করার সময় অন্য কর্মসংস্থানের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লুসি অর্গান। আদালতে জানানো হয়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে এবং ২০২১ সালের এপ্রিলে ডেফরায় যোগ দেন কাশিম। এক বছরের বেশি সময় দুটি চাকরি একসঙ্গে করার পাশাপাশি ২০২২ সালে চার মাস ইস্ট লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টেও কাজ করেন বলে অভিযোগ। কাউন্সিলের চাকরি ছাড়ার পর ডেফরায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও পাঁচটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। এগুলো হলো ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার, ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি, ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি ও হোম অফিস। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে বলে নিয়োগদাতাদের জানিয়েছিলেন কাশিম। পরে কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি পাঁচটি ফুলটাইম চাকরি থেকে বেতন পাচ্ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়। ওই মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির ম্যানেজার আলিশা অ্যাডামস তাঁর ছুটি নিয়ে ভিডিও মিটিং করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য, নিজেকে অসুস্থ দেখাতে কাশিম মুখে সাদা মেকআপ ব্যবহার করেছিলেন। মুখ ও ঘাড়ের রঙে অমিল এবং কপালের মেকআপ সরে যাওয়ার বিষয়টি ম্যানেজারের নজরে আসে বলে আদালতে জানানো হয়। একই মিটিংয়ে ডেফরার ইমেইল দিয়ে লগইন করেছিলেন কাশিম। সেটি পুরোনো ঠিকানা হতে পারে বলে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভ ডেফরাকে সতর্ক করার পর অভিযোগগুলো সামনে আসে। রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাশিমের তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ পাউন্ডের বেশি জমা এবং প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড ডেবিট লেনদেন হয়েছে। মামলার বিচার অব্যাহত রয়েছে।
রোবট দিয়ে কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, জার্মানিতে দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত
বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে: ভারতের জেন জি আন্দোলন নিয়ে নেহা বোরা
হু তি বি দ্রো হীদের হা মলার মুখে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদ, দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে
সমুদ্রে জমে থাকা প্লাস্টিক সংগ্রহ এবং নদী দিয়ে নতুন বর্জ্য পৌঁছানো ঠেকাতে দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা দ্য ওশান ক্লিনআপ। সংস্থাটির ১২ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জলজ পরিবেশ থেকে তারা ৬ কোটি ২০ লাখ কেজির বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে। এই হিসাব নদী ও সমুদ্রসহ তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সম্মিলিত সংগ্রহ, শুধু সমুদ্র থেকে সরানো প্লাস্টিকের পরিমাণ নয়। সমুদ্রে সংস্থাটি ব্যবহার করছে ‘সিস্টেম ০৩’ নামে বিশাল ভাসমান সংগ্রহব্যবস্থা। এটি হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে প্লাস্টিক জমে থাকা অঞ্চল ‘গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচে’ কাজ করছে। সমুদ্রের স্রোতে প্লাস্টিক কোথায় বেশি জমছে, তা শনাক্ত করে সেখানে সংগ্রহব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়। সিস্টেমটি শুধু পানিতে স্থিরভাবে ভেসে থাকে না। সহায়ক জাহাজ এর গতি, দিক ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করে। প্লাস্টিকের সঙ্গে গতির পার্থক্য তৈরি করে বর্জ্য একটি নির্দিষ্ট সংগ্রহস্থলে জড়ো করা হয়। সেটি পূর্ণ হলে বর্জ্য জাহাজে তুলে নেওয়া হয়। পরে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক তীরে এনে পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। নদীতে ব্যবহার করা হয় ‘ইন্টারসেপ্টর’ প্রযুক্তি। এর উদ্দেশ্য পানিতে ভেসে আসা প্লাস্টিক সমুদ্রে পৌঁছানোর আগেই আটকে সংগ্রহ করা। তবে সব নদীতে একই যন্ত্র বসানো হয় না। নদীর প্রস্থ, গভীরতা, স্রোতের গতি, বর্জ্যের ধরন ও মৌসুমি পরিস্থিতি বিবেচনায় আলাদা ব্যবস্থা বেছে নেওয়া হয়। ইন্টারসেপ্টরের একটি সংস্করণে সৌরবিদ্যুৎচালিত যন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় সংগ্রহপ্রযুক্তি রয়েছে। দ্য ওশান ক্লিনআপের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিকের ৯০ শতাংশ অপসারণ করা। এটি সংস্থাটির ঘোষিত লক্ষ্য, অর্জিত ফল নয়। লক্ষ্যটিও সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক নিয়ে; সমুদ্রের তলদেশ বা পানির সব স্তরে থাকা সব ধরনের প্লাস্টিক পরিষ্কারের দাবি নয়। সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপত্তায় সিস্টেম ০৩-এ বিশেষ বের হওয়ার পথ রাখা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। সংগ্রহস্থলে কোনো প্রাণী শনাক্ত হলে এই ব্যবস্থা চালু করে নতুন প্রবেশ বন্ধ করা এবং প্রাণীটিকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়। কার্যক্রমের সময় প্রাণীর উপস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রযুক্তির পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। ১২ অক্টোবর তারা জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। এতে নদী ও উপকূলে প্লাস্টিক সংগ্রহের পাশাপাশি নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সরকারি নীতি এবং বিনিয়োগকে একসঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য, পানিতে পৌঁছানো বর্জ্য সংগ্রহের সঙ্গে স্থলভাগ থেকে নতুন বর্জ্য প্রবেশ বন্ধের কাজও এগিয়ে নিতে হবে।
টেক্সাসের ইউটি অস্টিনে ফুল ফান্ডে পিএইচডি, আবেদন ১৫ নভেম্বরের মধ্যে
চীনের টয়লেটে ডিজিটাল টাইমার, কতক্ষণ ভেতরে আছেন দেখা যায় বাইরে থেকেই
গাজাকে বিদ্রূপ করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ মালিক ব্যবসা ক্ষতির মুখে, চাইলেন সকলের সাহায্য
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবকে সহায়তা করতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অনুরোধ করার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, হুথিদের আচরণ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি হয়তো এরদোয়ানকে সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন। ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হয়তো এই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন। এর আগে মক্কায় স্বাক্ষরিত একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে। এ ছাড়া হুথিদের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই তেহরানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নেতানিয়াহু এই প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল হুথিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে রিয়াদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ সুগম করা। কিন্তু যুবরাজ সালমান আশঙ্কা করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রকাশ্য সহায়তা গ্রহণ করলে সৌদি আরবের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও জনঅসন্তোষের সৃষ্টি হতে পারে। মূলত অভ্যন্তরীণ জনমতের কথা বিবেচনা করেই ইসরায়েলি প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছে রিয়াদ।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত সড়কে সিজদারত অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ ত্যু
অক্সফোর্ডে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর পড়তে ২৫ লাখ ডলারের বৃত্তি চালু