ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহ, এরপরই হামলা! পশ্চিম তীরে আহত মার্কিন আলোকচিত্রী
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার সময় আহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর শুক্রবার রামাল্লার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আবু ফালাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লেভিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে কাজ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর হামলা চালায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৮০ জন মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিল। তাদের কয়েকজনের কাছে গ্যাসের ক্যানিস্টার ছিল। হামলার সময় জলপাইগাছের ক্ষতি করা, পাথর নিক্ষেপ এবং কৃষকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু হামলাকারী গুলতি ব্যবহার করে পাথর ছুড়েছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, লেভিনকে ঘিরে ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করছেন কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি। অন্য সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁকে লাথি মারা হয় এবং তাঁর ক্যামেরাসহ সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে রামাল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত ছবিতে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
লেভিন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য ছবি তুলছেন। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এ হামলায় তাঁর আহত হওয়ার ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই ঝুঁকির মুখে পড়ে না, ঘটনাস্থলের তথ্য ও ছবি সংগ্রহের কাজও বাধাগ্রস্ত হয়।
সহিংসতা শুধু আবু ফালাহ গ্রামে সীমাবদ্ধ ছিল না। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের একাধিক এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষক ও অন্য ব্যক্তিদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। বুরকা এলাকায় চারজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।
তুরমুস আয়্যা এলাকায় যানবাহনে আগুন দেওয়া এবং জরুরি সেবাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনা একটিমাত্র হামলার অংশ নয়; আলাদা স্থান ও ঘটনার তথ্য হিসেবে এগুলো বিবেচনা করা জরুরি।
আবু ফালাহর ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি ও তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, সেনারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। তবে কে প্রথম সহিংসতা শুরু করেছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য কী ভূমিকা পালন করেছেন, তা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
ফিলিস্তিনিদের কাছে জলপাই সংগ্রহ কেবল কৃষিকাজ নয়; এটি পারিবারিক আয়, ঐতিহ্য ও ভূমির সঙ্গে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পশ্চিম তীরের বহু পরিবার জলপাই ও জলপাইয়ের তেল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। ফসল সংগ্রহের মৌসুমে সহিংসতা, জমিতে প্রবেশে বাধা, গাছ কেটে ফেলা কিংবা ফসল নষ্ট করার ঘটনা কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
চলতি মৌসুমেও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ৬ অক্টোবর আকরাবা এলাকার কাছে এএফপির ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী জাফর আশতিয়েহ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হন বলে এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। ফলে একই মৌসুমে একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের আলোকচিত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাজের সময় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও সাংবাদিকদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী, সশস্ত্র সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহকারী বেসামরিক সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। সাংবাদিক পরিচয় বহনকারী কোনো ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফিলিস্তিনিদের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করে গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গাজার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি যেকোনো মানুষের মনকেই ব্যথিত করবে। সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সাংবাদিক সুসান ম্যাককের সঙ্গে আলাপকালে তিনি গাজা যুদ্ধ নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওবামা মনে করেন, বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা বঞ্চনা ও ক্ষোভ থেকেই আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে ওবামা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের জমি দখল করার পাশাপাশি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছে। তাই নিজেদের হারানো ভিটেমাটি ফিরে পাওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের এই লড়াইকে তিনি একেবারেই স্বাভাবিক বলে আখ্যায়িত করেন। ইউরোপে ইহুদিদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক নিপীড়নের কথা মেনে নিয়েও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নিজেদের মাতৃভূমি হারিয়ে ফিলিস্তিনিরাও কোনো অংশে কম অন্যায়ের শিকার হয়নি। ফিলিস্তিনিদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং তাদের ভূমি কেড়ে নেওয়ার কারণে ইসরায়েল বিশ্বমঞ্চে নিজস্ব নৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান ইসরায়েলি সরকারকে আরও বেশি বাস্তবমুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওবামা সতর্ক করেন, কেবল সামরিক শক্তির দাপট দেখিয়ে কখনোই স্থায়ী শান্তি অর্জন করা যায় না। প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ‘যা খুশি তা-ই করব’—ইসরায়েল সরকারের এমন দাম্ভিক মানসিকতা তাদের সাময়িক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে নৈতিক পতন ডেকে আনছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, প্রায় ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি কখনোই এই ভূখণ্ড ছেড়ে কোথাও যাবে না। তাই নিজেদের জন্য যা মেনে নেওয়া অসম্ভব, তা ফিলিস্তিনিদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কখনোই শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়।
সৌদি চিকিৎসকদের নিবিড় সেবায় ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন হুথি হামলায় আহত বাংলাদেশিরা
ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহ, এরপরই হামলা! পশ্চিম তীরে আহত মার্কিন আলোকচিত্রী
মক্কায় অনৈতিক কাজে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, আগে না জানায় তথ্য চেয়ে চিঠি বাংলাদেশের
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে একই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করা হয়। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে ঘোষিত মিছিলকে ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজিৎ দীপকেকে ঝান্ডেওয়ালান এলাকার একটি বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় আটক করা হয়। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাকে মান্ডি হাউস এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি বামপন্থী ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে কনট প্লেসের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া। এই কর্মসূচির অন্যতম দাবি ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে সংখ্যালঘু ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমর্থকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়া জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত এলাকায় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুলিশ ওই কর্মসূচির অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে আয়োজকদের নোটিশ দিয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর এলাকাটিতে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। নেহা বোরাকে আটক করার পর তাঁর সহযোগীরা অভিযোগ করেন, তাঁকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁরা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছিলেন না। তাঁর সহযোগীদের প্রকাশিত বক্তব্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর অবস্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কির খবর প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন দিল্লিতে অন্তত ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য; পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব হিসেবে একে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি তরুণদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। বেকার তরুণদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ থেকে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন পরে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে সক্রিয় হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তাদের প্রতিবাদ আরও আলোচনায় এসেছে। দিল্লির এই ঘটনা ভারতের নাগরিক অধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশের আটক করার পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি, আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।
ইংল্যান্ডের পার্কে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ, টহল বাড়াল পুলিশ
‘ভারতীয়দের মা রতে তর সইছে না’, মন্দিরে হা মলার দুই বছরের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক শিকাগোর তরুণ
এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় পাঁচজন নি হ ত, সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা ঝুঁকিতে
আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে হিজাব পরে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে এক শিশুর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বর্ণনায় শিশুটিকে কারবালাই খাদিজা নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য হিসেবে বলা হচ্ছে, হিজাব পড়াশোনার বাধা নয়, বরং তার কাছে গর্বের বিষয়। তবে ভিডিওটির মূল উৎস, ধারণের সময় এবং শিশুটির বয়স স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিবরণ অনুযায়ী, খাদিজা নিজেকে একজন শহীদের কন্যা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে এবং হিজাব পরার অধিকার বজায় রেখে শিক্ষা গ্রহণের কথা বলেছে। এসব ব্যক্তিগত তথ্যের সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি। এদিকে আজারবাইজানের কয়েকটি স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টি। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, রাজধানী বাকুসহ বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের মেয়েদের মাথার স্কার্ফ খুলে স্কুলে আসতে বলা হয়েছে অথবা শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিছু শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত পোশাকবিধির সংশোধনীতে নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কিংবা শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরোধী পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সংশোধনীতে সরাসরি হিজাবের নাম উল্লেখ নেই। এর প্রয়োগ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। সংশোধিত বিধির সমর্থক ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা এলনারা আকিমোভা রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টিকে বলেছেন, নিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য। অন্যদিকে অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, ধর্মীয় পোশাকের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া তাদের শিক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আগাম ভিসা ছাড়াই ইউএই যেতে পারবেন ৪৬ দেশের নাগরিক, তালিকায় নেই বাংলাদেশ
টিকটকে প্রেমিকের ছবি পোস্ট করলেন তরুণী, ২০ জনের বেশি নারীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ