সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চাইতে একাই আদালতে হাজির ১০ বছরের নুজুদ

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১:৪২
ইয়েমেনের রাজধানী সানার আদালতে একাই হাজির হয়েছিল নুজুদ আলী
ইয়েমেনের রাজধানী সানার আদালতে একাই হাজির হয়েছিল নুজুদ আলী

বয়স তখন প্রায় দশ বছর। পরিবারের চাপে বিয়ে হয়েছিল প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে। নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ইয়েমেনের রাজধানী সানার আদালতে একাই হাজির হয়েছিল নুজুদ আলী। বিচারকের কাছে তার আবেদন ছিল, সে বিবাহবিচ্ছেদ চায়। ২০০৮ সালের এ ঘটনা তাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আলোচনায় সামনে নিয়ে আসে।

 

নুজুদের স্মৃতিকথায় আদালতে যাওয়ার দিন হিসেবে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিলের উল্লেখ রয়েছে। প্রকাশক পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউসের প্রকাশিত বইয়ের অংশে উঠে এসেছে বিচারকের সঙ্গে তার কথোপকথন। কী চায় জানতে চাইলে নুজুদ বলেছিল, ‘আমি বিবাহবিচ্ছেদ চাই।’ ওই এপ্রিলেই আদালতের মাধ্যমে বিয়ে থেকে মুক্তি পায় সে।

বিয়ের সময় তার বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। কোনো প্রতিবেদনে নয় বছর, আবার কোনো বিবরণে দশ বছর বলা হয়েছে। তবে সব বিবরণেই উঠে এসেছে, শৈশবেই নিজের চেয়ে অনেক বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার।

 

২০১০ সালে প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নুজুদ জানিয়েছিল, বিয়ের পর তাকে স্কুল থেকে সরিয়ে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। পরে সানায় পরিবারের কাছে বেড়াতে আসার সুযোগ পেয়ে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী শাদা নাসের তার পাশে দাঁড়ান এবং বিবাহবিচ্ছেদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তা করেন। মামলাটি সংবাদমাধ্যমের নজরে এলে ইয়েমেনের বাল্যবিবাহের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে। নুজুদ ও নাসেরকে ২০০৮ সালে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় স্বীকৃতি দেয় গ্ল্যামার সাময়িকী।

নিজের অভিজ্ঞতা পরে নুজুদ তুলে ধরে ‘আই অ্যাম নুজুদ, এজ টেন অ্যান্ড ডিভোর্সড’ নামের স্মৃতিকথায়। ফরাসি সাংবাদিক দেলফিন মিনুইয়ের সহযোগিতায় লেখা বইটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এতে বিয়ে, নির্যাতন এবং আদালতের আশ্রয় নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে।

 

বিবাহবিচ্ছেদের পর নুজুদের সামনে পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ তৈরি হলেও পথটি সহজ ছিল না। আরব নিউজের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে একপর্যায়ে তার স্কুলে পড়া ব্যাহত হয়। পরে প্রকাশকের সহায়তা ও বইয়ের রয়্যালটি দিয়ে আবার শিক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে সে।

 

আদালতে জয়ের পরও তার পারিবারিক ও আর্থিক সংকট কাটেনি। ২০১৩ সালে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে নুজুদের অর্থকষ্ট এবং বইয়ের আয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কথা উঠে আসে। শৈশবে বিয়ে থেকে মুক্তি পাওয়া তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনলেও পরবর্তী নিরাপত্তা ও পড়াশোনা নিশ্চিত করার লড়াই তখনো চলছিল।


 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইহুদিদের সহ্য করতে পারিনা, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ
ইহুদিদের সহ্য করতে পারিনা, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ, জার্মান দোকানমালিকের  কারাদণ্ড স্থগিত

জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় ফ্লেন্সবুর্গ শহরে দোকানের জানালায় ইহুদিদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ টাঙানোর দায়ে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে শর্তসাপেক্ষে সাজা কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রবেশনের শর্ত হিসেবে তাঁকে লাডেলুন্ড কনসেনট্রেশন ক্যাম্প স্মৃতিসৌধে এক হাজার ২০০ ইউরো দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফ্লেন্সবুর্গের স্থানীয় আদালত ১ জুন ২০২৬ এই রায় দেন।    জার্মান সংবাদমাধ্যম এনডিআর এবং আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম বেক আকটুয়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫। ওই দিন ব্যবসায়ী তাঁর দোকানের জানালায় প্রায় চার ঘণ্টা নোটিশটি দৃশ্যমান অবস্থায় রাখেন। পুলিশ আসার পর সেটি জানালা থেকে সরিয়ে নেন তিনি।  আদালত তাঁকে বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই নোটিশ জার্মানিতে বসবাসরত ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিয়েছে এবং তাঁদের মানবিক মর্যাদায় আঘাত করেছে। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা পায় না বলেও আদালত জানান।    বিচারপ্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী স্বীকার করেন, নোটিশটি তিনিই টাঙিয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে পড়ে শোনানো বিবৃতিতে তিনি অনুতাপ প্রকাশ করেন এবং জানান, ইহুদি সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। ভবিষ্যতে একই ধরনের কাজ করবেন না বলেও জানান।  পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গাজা যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর পরিচিত ইহুদিদের সবাই ওই যুদ্ধের বিরোধিতা করেন না। পরে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত ছিল। আদালতে একজন তদন্তকারী জানান, ইসরায়েল বিষয়ে জার্মান সরকারের নীতিকে ওই ব্যবসায়ী দ্বিচারিতা হিসেবে দেখতেন।    আদালত ঘটনাটিকে হঠাৎ আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করেননি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নোটিশটি কম্পিউটারে তৈরি করে প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এর ভাষা সচেতনভাবে নাৎসি আমলে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বয়কটের আহ্বানকে স্মরণ করিয়ে দেয়।  রাষ্ট্রপক্ষ সাত মাসের স্থগিত কারাদণ্ড চেয়েছিল। আদালত ছয় মাসের সাজা দেন। ফলে রায়টিকে সরাসরি ছয় মাস কারাগারে পাঠানোর আদেশ বলা সঠিক নয়। কারাদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত রেখে প্রবেশনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।   

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২:২৬
প্যারিসে বিক্ষোভের মধ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট

"আমাদের উঠে দাঁড়ানোর মতো সম্বল নেই" প্যারিসে ৮ বাংলাদেশি দোকানে লুটপাট, ৭ লাখ ইউরো ক্ষতি

রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে খাবার ও ওষুধের সংকট

খাবারের অভাবে চরম দুর্দশায় ওলেশকির বাসিন্দারা, শহরটিকে ‘মৃ ত্যুফাঁদ’ বললেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা জারি

হুথিদের হা মলার উত্তেজনার মধ্যে রিয়াদে জরুরি সতর্কবার্তা, নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ বাসিন্দাদের

প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান পুলিশের
প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গ্রে প্তার ৪০০ জনের বেশি

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের এই বিক্ষোভে দেশজুড়ে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। ফরাসি সরকারের ভাষায়, পরিস্থিতি ক্রমেই সহিংসতার দিকে গড়িয়েছে। এদিন অন্তত ৪০০ জনকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।   প্যারিসে মূল বিক্ষোভ মিছিলের বেশির ভাগ সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু দল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালানো হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দে লা রিপাবলিক চত্বরেও এমন ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একদল তরুণ জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তন চান। তাঁদের ভাষায়, তাঁরা শান্তিবাদী এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাচ্ছে না। তবে পরে কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তায় আগুন জ্বালান, গাড়ি পুড়িয়ে দেন এবং দোকানপাটে ভাঙচুর চালান। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যেও হাতাহাতির ঘটনা দেখা যায়। প্যারিসে অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘লা বারিক’ নামের একটি বারেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালানো হয়। ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। লিয়ঁ শহরে উনিশ শতকের একটি ঐতিহাসিক ভবনে থাকা পর্যটন তথ্যকেন্দ্রটি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসেট ঘটনাটিকে ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত এই ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শহরের মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য, একদল ‘বৈরী ব্যক্তি’ অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের নিরাপদে আগুন নেভানোর কাজে বাধা দিয়েছিলেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ছাড়াও মার্সেই, রেন, তুলুজ ও আঞ্জে শহরে মুখোশধারীদের লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গ্রেনোবল, আভিনিয়োঁ, পো, মনপেলিয়ে ও ভ্যালঁসসহ বিভিন্ন শহরে ভবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসে পোশাক ও খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। লিল শহরে একটি অ্যাপল স্টোরে ঢুকে পণ্য লুট করার ঘটনাও ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্সের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীসংকট এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে আসছেন। দেশটির লিসে নামে পরিচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য ও অন্যান্য প্রতিবাদী গোষ্ঠী। শিক্ষা খাতে কর্মীর ঘাটতি, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর দুরবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকার শিক্ষা খাতে কিছু ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৮ অক্টোবর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অতিরিক্ত ৩ হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেই ঘোষণার পরও বিক্ষোভ থামেনি; বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিক্ষোভের সময়টি ফ্রান্সের রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মারিন লে পেন এবং বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। মেলঁশোঁ নিজেও বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। তবে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নিন্দাও জানান। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু তাঁর বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও কৌশলী’ বলে সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে অত্যন্ত তীব্র সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিক্ষোভকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে পারবে না। অন্যদিকে, মারিন লে পেনের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবিগুলোকে কট্টর বামপন্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে এবং মেলঁশোঁ সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মাখোঁও সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি প্রশাসনিক কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নগর ভবনে হামলা এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও রাজপথের ক্ষোভ কমেনি। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৭:২১
পশ্চিম তীরে হামলার পর ঘটনাস্থলে মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীরা

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে হামলা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ে নতুন বিতর্ক

কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলনের ঘটনা

কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃ ত্যু, আহত আরও ২৫ জন

ফ্রান্সে দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সং ঘর্ষ, আটক আড়াই শতাধিক

ফ্রান্সে দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সং ঘর্ষ, আটক আড়াই শতাধিক

টিকটিকিকে খাওয়ানোর অজুহাতে ঘাঁটি ছাড়তেন সেনা কর্মকর্তা
পোষা টিকটিকিকে খাওয়ানোর অজুহাতে ৬৪ বার ঘাঁটি ত্যাগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তার শাস্তি বহাল

পোষা টিকটিকিকে খাবার দেওয়া এবং নিজের গাড়ি ধোয়ার মতো কারণ দেখিয়ে বারবার সেনা ঘাঁটি ছেড়ে বাইরে চলে যেতেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক সেনা কর্মকর্তা। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের পাশাপাশি অধীনস্থ সেনাদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় পাননি তিনি। তাঁর শাস্তি বহাল রেখেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান জেলা আদালত।   আদালত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিট কমান্ডারের বিরুদ্ধে ওই কর্মকর্তার দায়ের করা মামলা খারিজ করা হয়েছে। সামরিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে তাঁকে দুই মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেই শাস্তির সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। মামলার শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ মাসে কর্মদিবসের সময় মোট ৬৪ বার সেনা ঘাঁটি থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান ওই কর্মকর্তা। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে তিনি আগে থেকে ছুটির আবেদন করেননি। এমনকি ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কমান্ডারকেও জানাননি। ঘাঁটির প্রবেশ ও বের হওয়ার রেকর্ড পর্যালোচনা করে এসব ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কেন তিনি ঘাঁটি ছেড়ে বাইরে যেতেন, সে বিষয়েও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। একজন গার্ড কমান্ডার জানান, ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে নিজের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে বলতেন, ‘আমাকে আমার টিকটিকিকে খাবার দিতে হবে’ অথবা ‘আমার গাড়ি ধুতে হবে’। এসব ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি না নিয়ে বারবার ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে মামলাটি শুধু অনুমতি ছাড়া ঘাঁটি ত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অধীনস্থ সেনাদের সঙ্গে তাঁর আচরণ এবং তাঁদের ছুটির আবেদন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আসে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ওই কর্মকর্তা তাঁর অধীনে থাকা ২৬ জন সেনাসদস্যের মোট ৬৯৮টি বাইরে যাওয়া, রাতে বাইরে অবস্থান এবং ছুটির আবেদন অনুমোদনে দেরি করেন। এসব আবেদনের অনুমোদন আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যরা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে যাতায়াতের খরচ তাঁদের নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়েছে। সামরিক বাহিনীতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ছুটি বা বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকলে অনুমোদন সময়মতো না হওয়ায় ব্যক্তিগত খরচ বেড়ে যেতে পারে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তার আবেদনের অনুমোদন দিতে দেরি করার কারণে তাঁর অধীনস্থ একাধিক সেনাসদস্যকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অধীনস্থ সেনাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও ছিল গুরুতর। আদালতে বলা হয়, ছুটির আবেদন অনুমোদনের জন্য সেনাসদস্যরা তাঁর কাছে গেলে তিনি একপর্যায়ে বলতেন, ‘এটা কি কোনো সমাজসেবা কেন্দ্র? চলে যাও।’ এ ছাড়া পিঠের ব্যথার কারণে অন্য ইউনিটে বদলি হওয়ার আবেদন জানানো এক সেনাসদস্যের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সেনাসদস্যকে তিনি মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে আদালতের তথ্যে উঠে আসে। নতুন যোগ দেওয়া সেনাসদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইউনিটে যোগ দেওয়ার পর একজন সেনাসদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে তিনি ৫০ দিন সময় নেন। এত দিন পর সাক্ষাতের সময় ওই সেনাসদস্যকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কে?’ এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে আদালত মনে করেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা, অধীনস্থদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং তাঁদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা সামরিক ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আদালত আরও উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাঁর অসদাচরণের জন্য আরও কঠোর শাস্তিও দেওয়া সম্ভব ছিল। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুযোগ ছিল। একাধিক বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শৃঙ্খলাবিধিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং বাহিনী থেকে বহিষ্কার—দুটিই সামরিক চাকরির অবসান ঘটাতে পারে। তবে বাহিনী থেকে বহিষ্কারের শাস্তি তুলনামূলকভাবে কঠোর এবং এর ফলে অবসরকালীন সুবিধাও কমে যেতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া দুই মাসের সাময়িক বরখাস্তের শাস্তি বিধিমালায় অনুমোদিত সর্বোচ্চ শাস্তির তুলনায় অনেক কম। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অসুবিধার চেয়ে সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, সামরিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা, নিয়মকানুন বজায় রাখা এবং সামরিক বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের মতো জনস্বার্থকে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বলা যায় না। সব মিলিয়ে, পোষা প্রাণীকে খাবার দেওয়া বা গাড়ি ধোয়ার মতো ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি ছাড়া ঘাঁটি ত্যাগ, অধীনস্থদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পরও শাস্তি বাতিলের আবেদন করে সফল হতে পারেননি দক্ষিণ কোরিয়ার ওই সেনা কর্মকর্তা। আদালতের রায়ে তাঁর দুই মাসের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:১২
টেসলা রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফ, উড়ন্ত গাড়ির বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

টেসলা রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফ, উড়ন্ত গাড়ির বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

ভারতের দিল্লিতে গ্রেপ্তারের এক দিন পর শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। ছবি: সংগৃহীত

আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে

মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল

মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল

0 Comments