সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব, নতুন ছবি প্রকাশ করে চমক দিল উত্তর কোরিয়া সরকার

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৮:৪৩
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মারা গেছেন কিংবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় রয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর নতুন ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও বলেছেন, এসব দাবির সমর্থনে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। 

 

গুজবের সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট থেকে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পোস্টে দাবি করা হয়, কিম জং উন মস্তিষ্কে গুরুতর রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য চীনের বেইজিংয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়। এমনকি তাঁর মরদেহ গোপনে উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। 

 

গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ২০ অক্টোবর উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি কিম জং উনের একটি প্রদর্শনী পরিদর্শনের খবর ও ছবি প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯ অক্টোবর রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেয়ে কিম জু এ এবং স্ত্রী রি সল জু। প্রকাশিত ছবিতে তাঁকে প্রদর্শনীতে রাখা পোশাক ও জুতা দেখতে দেখা যায়। 

 

উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন কারখানায় তৈরি ৭০ হাজার ৭০০টির বেশি পোশাক এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি জুতা প্রদর্শন করা হয়। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। তবে কিমের মৃত্যুর গুজব নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। 

 

দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইয়োনহাপকে জানিয়েছেন, কিম জং উনের মৃত্যুর দাবির পক্ষে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে সত্য হিসেবে বিবেচনা করার মতো ভিত্তি তৈরি হয়নি। 

 

তবে নতুন ছবি প্রকাশিত হওয়াকে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সমান মনে করা যাবে না। উত্তর কোরিয়ার ঘটনাস্থলে স্বাধীন সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। ছবিগুলো দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের সরবরাহ করা, তাই সেগুলোর সময় ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 

 

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এর আগেও নানা গুজব ছড়িয়েছে। ২০২০ সালেও তাঁর শারীরিক অবস্থা ও জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে স্বাধীন তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে অতীতের গুজবের সঙ্গে বর্তমান দাবির মিল থাকলেও, কোনো দাবিই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর কারণে সত্য হয়ে যায় না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন
কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব, নতুন ছবি প্রকাশ করে চমক দিল উত্তর কোরিয়া সরকার

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মারা গেছেন কিংবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় রয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর নতুন ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও বলেছেন, এসব দাবির সমর্থনে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই।    গুজবের সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট থেকে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পোস্টে দাবি করা হয়, কিম জং উন মস্তিষ্কে গুরুতর রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য চীনের বেইজিংয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়। এমনকি তাঁর মরদেহ গোপনে উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি।    গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ২০ অক্টোবর উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি কিম জং উনের একটি প্রদর্শনী পরিদর্শনের খবর ও ছবি প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯ অক্টোবর রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেয়ে কিম জু এ এবং স্ত্রী রি সল জু। প্রকাশিত ছবিতে তাঁকে প্রদর্শনীতে রাখা পোশাক ও জুতা দেখতে দেখা যায়।    উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন কারখানায় তৈরি ৭০ হাজার ৭০০টির বেশি পোশাক এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি জুতা প্রদর্শন করা হয়। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। তবে কিমের মৃত্যুর গুজব নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।    দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইয়োনহাপকে জানিয়েছেন, কিম জং উনের মৃত্যুর দাবির পক্ষে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে সত্য হিসেবে বিবেচনা করার মতো ভিত্তি তৈরি হয়নি।    তবে নতুন ছবি প্রকাশিত হওয়াকে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সমান মনে করা যাবে না। উত্তর কোরিয়ার ঘটনাস্থলে স্বাধীন সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। ছবিগুলো দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের সরবরাহ করা, তাই সেগুলোর সময় ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এর আগেও নানা গুজব ছড়িয়েছে। ২০২০ সালেও তাঁর শারীরিক অবস্থা ও জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে স্বাধীন তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে অতীতের গুজবের সঙ্গে বর্তমান দাবির মিল থাকলেও, কোনো দাবিই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর কারণে সত্য হয়ে যায় না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৮:৪৩
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি যুবরাজের কঠিন সময়, ইয়েমেন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে চাপে পড়েছে

আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির (সিআইএফএফটি) এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি, এশিয়ার দূত নিযুক্ত হলেন বাংলাদেশী ডাল্টন জহির

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের বলেন

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, মুম্বাইয়ে রুবিওর বড় ঘোষণা

ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিল্লির ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস মসজিদটিকে অনুমোদনহীন স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করে। অথচ নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত। সরকারি জমিতে অনুমোদন ছাড়া স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস।   কর্তৃপক্ষের এই দাবির বিপরীতে মসজিদটির ঐতিহাসিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রেসকোর্স মসজিদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বর্তমানে সেই তালিকাভুক্তির বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   এর আগে গত ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায় এবং মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।   মসজিদটির পাশাপাশি সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষার দাবিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।   প্রতিনিধিদলের সদস্য মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি জানিয়েছেন, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রেসকোর্স মসজিদের উল্লেখ রয়েছে।   সংগঠনটির দাবি, ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত একটি মসজিদকে অনুমোদনহীন আখ্যা দিয়ে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়ার আগে এর আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।   জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।   দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। মসজিদটির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   এদিকে মসজিদটি রক্ষায় দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইমাম মোহাম্মদ হারুন।   দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ভিডিওবার্তায় ইমাম অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে সহায়তা চেয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি তিনি।   ইমামের ভাষ্য অনুযায়ী, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলকে একটি চিঠি দেওয়া ছাড়া বোর্ড আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, মসজিদে প্রবেশের পথ বন্ধ থাকায় বর্তমানে খাবার পানিও ভেতরে নেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াকফ বোর্ডকে আদালতে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।   মোহাম্মদ হারুনের দাবি, বোর্ড নিজে মামলা করেনি। এমনকি তিনি ব্যক্তিগতভাবে মামলা করার অনুমতি চাইলেও তাঁকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।   ইমাম আরও জানান, ২০২১ সালে পরিচালিত একটি সরকারি জরিপে মসজিদটিকে অনুমোদনহীন কিংবা জবরদখল করা স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে তাঁর এসব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নোটিশ এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা চলছে।   দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনের স্বার্থে ওই এলাকার বস্তিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগে দিল্লি হাইকোর্ট অনুমোদন দিয়েছেন।   আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন কলোনিতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।   তবে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত এই নির্দেশ এবং ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নোটিশ পৃথক বিষয়। মসজিদটির আইনি অবস্থান ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির প্রশ্ন এখনো আলোচনার মধ্যে রয়েছে।   ছয় দিনের মধ্যে মসজিদ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এর বিরুদ্ধে আদালতে কোনো নতুন আবেদন করা হয়েছে কি না কিংবা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১২:৪১
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক শিক্ষিকার আবেগঘন বিদায়ের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

হিজাব পড়ার জন্য ছাড়াতে হলো ২১ বছরের শিক্ষকতা, শিক্ষিকাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় দিলেন ছাত্ররা

সৌদি আরবের রিয়াদ অঞ্চলে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিক গ্রেপ্তার

ফ্রান্সের পোশাকের দোকান পিমকির সামনে এক নারীর কাছ থেকে কাপড় ফিরিয়ে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে ব্যান্ডের পোশাকের দোকানে জামা চুরি করেন স্ত্রী! দেখামাত্রই তা ফিরিয়ে দেন স্বামী

গ্রিসের জাকিনথোস দ্বীপের কাছে আইওনিয়ান সাগরে প্রায় ২০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর এল সালভাদরের ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্রুজ জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে গিয়ে ২০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার নারী!

গ্রিসের জাকিনথোস দ্বীপের কাছে আইওনিয়ান সাগরে প্রায় ২০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর এল সালভাদরের ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর ভোরে অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া পণ্যবাহী জাহাজ এমএসসি রোসেলা থ্রি তাঁকে একটি লাইফবয়া ধরে ভেসে থাকতে দেখে। উদ্ধারের সময় তিনি সচেতন ছিলেন।   গ্রিক কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের প্রমোদতরি ‘ওডিসি অব দ্য সিজ’-এর যাত্রী ছিলেন। ৯ অক্টোবর সকালে জাহাজটি জাকিনথোস দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে চলার সময় তিনি সমুদ্রে পড়েন। এরপর তাঁকে খুঁজতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।   অনুসন্ধানের একপর্যায়ে এমএসসি রোসেলা থ্রি জাহাজের নাবিকেরা ওই নারীর অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে গ্রিক কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী নৌযান সেখানে পৌঁছে তাঁকে পানি থেকে তুলে আনে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।    কীভাবে তিনি সমুদ্রে গিয়েছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ওই নারী তাঁদের জানিয়েছেন, তিনি জাহাজ থেকে নামতে চেয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের বাইরে ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    প্রমোদতরিটি ৪ অক্টোবর ইতালির চিভিতাভেক্কিয়া বন্দর থেকে এক সপ্তাহের ভূমধ্যসাগরীয় ভ্রমণে যাত্রা করেছিল। গ্রিসের মিকোনোস থেকে ইতালির নেপলসের পথে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে বলে গ্রিক কোস্ট গার্ডের বরাতে জানিয়েছে জিও নিউজ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১০:৩৫
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বসবাসকারী ১২ বছরের উদ্ভাবক মানা জামপালা, যে তৈরি করেছে ভার্চুয়াল রিসেপশনিস্ট ‘ভক্সা’। ছবি: সংগৃহীত

তিন দেশে কোম্পানি চালান ১২ বছর বয়সের ৭ম শ্রেণির মানা!

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে দণ্ড পাওয়া শ্রীলঙ্কান প্রবাসী আনোজান শিবরাসার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুক পোস্টে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কান নাগরিক মুক্তি পেলেন নিজ দেশের কূটনৈতিকদের তৎপরতায়

কারারক্ষীদের ওপর হামলায় আরও ৫০ বছরের কারাদণ্ড

কারারক্ষীর চোখ হারানোর ঘটনায় আইএস বন্দির সাজা বাড়লো আরও ৫০ বছর

0 Comments