স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করছিলেন স্বামী, দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলেন স্ত্রী
স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন স্বামী। অফিসের বাইরে তাঁকে দেখতে পেয়ে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না স্ত্রী। দ্রুত বাইরে এসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন, দিলেন চুমু। স্বামীকে ঘিরে স্ত্রীর এমন ভালোবাসার মুহূর্ত আশপাশের মানুষের নজর কাড়ে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী যে অফিসে চাকরি করেন, তার বাইরেই পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন তাঁর স্বামী। স্বামী সেখানে কাজ করছেন, বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাইরে স্বামীকে দেখতে পেয়ে তিনি কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে আলিঙ্গন করে চুমু দিয়ে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা আশপাশের মানুষের কাছে মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনায় উঠে এসেছে। স্বামীর পেশা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হলেও স্ত্রীর ভালোবাসা প্রকাশে কোনো সংকোচ দেখা যায়নি। বরং প্রিয় মানুষটিকে সামনে পেয়ে তাঁর কাছে ছুটে যাওয়া এবং সবার সামনে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভালোবাসা, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পেশাকে সামাজিকভাবে কম মর্যাদার চোখে দেখা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর প্রকাশ্য ভালোবাসার এই মুহূর্তটি অনেকের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায় দম্পতির নাম, ঘটনাস্থল ও ঘটনার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রচারিত বর্ণনায় স্ত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার প্রকাশই মানুষের আবেগ ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreজনপ্রিয় এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে এবার থেকে বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন ব্যবহারকারীরা। সম্প্রতি নিজেদের প্রাইভেসি পলিসি বা গোপনীয়তা নীতি আপডেট করার ঘোষণা দিয়েছে এর মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির 'ফ্রি' (Free) এবং 'গো' (Go) প্ল্যানের ব্যবহারকারীদের চ্যাটবক্সে এখন থেকে বিভিন্ন স্পনসর্ড বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। তবে যারা প্লাস, প্রো, এন্টারপ্রাইজ, বিজনেস এবং এডুকেশন প্ল্যানের মতো প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করেন, তাদের কোনো বিজ্ঞাপন দেখতে হবে না। ব্যবহারকারীদের মনে স্বস্তি দিয়ে ওপেনএআই স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিজ্ঞাপনগুলো কোনোভাবেই চ্যাটজিপিটির উত্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। বিজ্ঞাপনগুলোকে মূল উত্তর থেকে আলাদা রাখতে স্পষ্টভাবে ‘স্পনসর্ড’ লেবেল যুক্ত করা থাকবে। ব্যবহারকারীর চ্যাটের প্রাসঙ্গিকতা এবং পূর্ববর্তী বিজ্ঞাপনে ক্লিকের ওপর ভিত্তি করে পার্সোনালাইজড বা ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন দেখানো হবে, যা ব্যবহারকারীরা চাইলে সেটিংস থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং কথোপকথন সম্পূর্ণ গোপন ও সুরক্ষিত থাকবে। ওপেনএআই নিশ্চিত করেছে যে, বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ব্যবহারকারীর চ্যাট হিস্ট্রি, মেমরি বা ব্যক্তিগত কোনো তথ্য শেয়ার করা হবে না। বিজ্ঞাপনদাতারা কেবল তাদের বিজ্ঞাপনের মোট ভিউ বা ক্লিকের মতো সামগ্রিক পারফরম্যান্সের তথ্যই দেখতে পাবেন। এই নতুন আপডেটের মাধ্যমে ওপেনএআই বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা চালু রাখার পাশাপাশি নিজেদের আয়ের নতুন একটি পথ তৈরি করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসায় নতুন জটিলতা, আবেদন পুনর্বিবেচনায় স্থগিতাদেশ
স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করছিলেন স্বামী, দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলেন স্ত্রী
অ্যাকাউন্টে যত খুশি টাকা তোলার সুযোগ, ৪৬ লাখ ডলার খরচ করে বিপাকে তরুণী
পারমাণবিক হুমকির চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য ইরানি শাসকগোষ্ঠীর পতনকেই একমাত্র পথ বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা শুরু করেছে। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনা কর্মকর্তাদের স্নাতক অনুষ্ঠানে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এই হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ইরানি সরকারের পতন ঘটাতে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান নেতানিয়াহু। ভাষণে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, অতীতের পরিণতি থেকে ইরান কোনো শিক্ষাই নেয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মোজতবা তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং ইরান ফের তাদের প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে। একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। কাটজ সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে বলেন, ইসরায়েলে কোনো হামলা হলে 'ইরান আগুনে পুড়বে'। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান বর্তমানে তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, যা তাদের মরিয়া হয়ে চরম পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করতে পারে। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব জেনারেল স্টাফ ইয়াল জামির। অতি-রক্ষণশীল বা আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই তিনি বলেন, ইসরায়েলকে রক্ষা করা সকল নাগরিকের সম্মিলিত ও প্রধান দায়িত্ব এবং এটি যেকোনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা সামাজিক বিভেদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলের রহস্যময় চাঁদ থেকে মাটি-পাথর আনতে জাপানের মহাকাশ অভিযান
তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়া পা কেটে ৪৯১ দিন যু দ্ধক্ষেত্রে লড়াই, অবশেষে ড্রোনে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা
ভোটার তালিকায় জীবিত মানুষ ‘মৃত’, ভোটাধিকার ফিরে পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন দর্জি
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। বিদেশে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতিতে রাশিয়ায় যাওয়ার পর তাঁকে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধান ও পরিবারের বক্তব্যে উঠে এসেছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা। এখন তাঁর পরিবারের সামনে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি রয়েছে ঋণ পরিশোধ, বন্ধক রাখা জমি উদ্ধার এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা। নজরুলের বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর। তাঁর দুই সংসারে রয়েছে চার সন্তান। প্রথম সংসারের দুই ছেলের বয়স ১৫ ও ১০ বছর। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছে সোয়া এক বছরের একটি মেয়ে ও ছয় মাস বয়সী একটি ছেলে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের খোঁজখবর রাখতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ছোট দুই সন্তান ও তাঁদের মা। নজরুলের রাশিয়ায় যাওয়ার পেছনে ছিল পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর চেষ্টা। তাঁর বড় ভাইয়ের সঙ্গে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি তখনো ভাগ হয়নি। সেই যৌথ পরিবারের জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখে বড় ভাই ছোট ভাইকে বিদেশ যাওয়ার জন্য নয় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু নজরুলের মৃত্যুর খবর আসার পর সেই জমি উদ্ধারের বিষয়টি নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধক রাখা ব্যক্তি টাকা ফেরত দিতে না পারলে সমপরিমাণ জমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। নজরুলের বড় ভাইয়ের নিজের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল। একসময় ঢাকায় সবজির ব্যবসা করেছেন, এমনকি রিকশাও চালিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পক্ষে নয় লাখ টাকা জোগাড় করে জমি উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যে বিদেশযাত্রা পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর কথা ছিল, সেটিই এখন তাঁদের জন্য আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নজরুলের ভাতিজা মোহাম্মদ শিহাবের বক্তব্য অনুযায়ী, চাচার সঙ্গে তাঁদের সর্বশেষ কথা হয়েছিল ২৯ জুলাই। তখন নজরুল জানিয়েছিলেন, তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। তিনি নিজের মাকে দেখে রাখার পাশাপাশি সন্তানদের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এরপর রাশিয়ায় তাঁর সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সরকারি নিশ্চিতকরণের তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। নজরুল একা নন। একই উপজেলার পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলামও রাশিয়ায় কাজের আশায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পবিত্র চন্দ্র পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। রাশিয়ায় যাওয়ার খরচ জোগাতে তিনি স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করেন এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারকে শোকের পাশাপাশি ঋণদাতাদের চাপও সামলাতে হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন জানায়, নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে। প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানায় সংস্থাটি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের প্রতিশ্রুত চাকরিতে নিয়োগ না দিয়ে পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বলা হয়, এই ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ১৭ জন প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় এবং আরও তিনজন পরবর্তী সময়ে মারা যান। দুজন দেশে ফিরেছেন, দুজন রাশিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন তখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন নিয়োগকারীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায় সংস্থাটি।
ভুয়া শিপিং লেবেল ব্যবহার করে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি, ফাহিম আকরাম আটক
কেমব্রিজে নতুন লাইব্রেরির পরিকল্পনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামলেন অধ্যাপক সুচিত্রা