ফসলহানি ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত সুদান, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের জীবন
সুদানে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এবার ভয়াবহ খরা দেশটির খাদ্যসংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, গবাদিপশুর জন্য চারণভূমির সংকট এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার অর্থ কমে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়ছে।
জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে সুদানে প্রায় ৫১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে ছিলেন। তবে এই হিসাবটি জুন মাসের পরিস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি; নতুন সংকটের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পূর্বাভাস অনুযায়ী, খরার কারণে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন। ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে অতিরিক্ত সংকটাপন্ন মানুষের সংখ্যা ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে।
সুদানে সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টি বর্ষা মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ২০২৬ সালের এই সময়ে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। উত্তর দারফুরে বৃষ্টিপাত ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। একইভাবে উত্তর কর্দোফান ও গেদারেফ অঞ্চলেও বৃষ্টির ঘাটতি কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
দেশটির বহু কৃষক বৃষ্টিনির্ভর কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে বীজ বপন ও ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। একজন বড় কৃষক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাঁর প্রত্যাশিত ফসলের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশে নেমে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে খাদ্যের সরবরাহও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থেকে যুদ্ধ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, কৃষিজমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন এবং জীবিকা হারিয়েছেন।
যুদ্ধের কারণে অনেক এলাকায় কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কৃষক জমিতে যেতে পারছেন না, আবার কোথাও উৎপাদিত খাদ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে খরা যুক্ত হওয়ায় সংকট মোকাবিলার সুযোগ আরও কমে গেছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইপিসির ১২ অক্টোবরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বৃহত্তর দারফুর ও বৃহত্তর কর্দোফানের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, খরা এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তার অভাবে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকট ও সীমিত স্বাস্থ্যসেবা অপুষ্টিতে আক্রান্ত মানুষের জন্য রোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
সংকটের সময়ে খাদ্যসহায়তা মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন হলেও অর্থের অভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সুদানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কার্যক্রমের জন্য প্রায় ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার অর্থায়ন ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। খরার কারণে সৃষ্ট ক্ষুধা মোকাবিলায় সংস্থাটির আরও ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রয়োজন।
দারফুরের তাওয়িলা এলাকার একটি বড় বাস্তুচ্যুত শিবিরে খাদ্য বরাদ্দ অর্ধেক করা হয়েছে বলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জানিয়েছেন। ওই শিবিরে প্রায় সাত লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ার সময়েও সেখানে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের আগমন অব্যাহত রয়েছে। ফলে সীমিত সম্পদ দিয়ে সবার চাহিদা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
খাদ্যসংকট দীর্ঘায়িত হলে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সুদানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার শিশুর গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে ভোগার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্নতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণজনিত রোগে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সংঘাত বন্ধ, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন ত্রাণ প্রবেশের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকদের সহায়তা, পানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার এবং শিশুদের পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সুদানের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু খরার ফল নয়; দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, কৃষি উৎপাদনের পতন এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি মিলেই সংকটকে আরও গভীর করেছে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী মাসগুলোতে আরও বহু মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন। তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির পূর্বাভাসকে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreওমানের রাজধানী মাসকাটের কান্তাব সৈকতের কাছে অন্য ডলফিনের সঙ্গে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে ফিকে গোলাপি আভার একটি ডলফিনকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে কৌতূহলের মধ্যে দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষের এক বিশেষজ্ঞ প্রাণীটিকে রিসোস ডলফিন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ২২ অক্টোবর ওমান অবজারভারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটিকে ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষের সামুদ্রিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আইদা আল জাবরি জানান, কান্তাবের প্রথম ভিডিওতে দেখা প্রাণীটি রিসোস প্রজাতির ডলফিন। এর আগে বিভিন্ন সংবাদে প্রজাতি শনাক্ত না হওয়ার কথা বলা হলেও তাঁর বক্তব্যে সেই বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। তবে প্রাণীটির গায়ে গোলাপি আভা দেখা যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো পরীক্ষার ফল ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। রিসোস ডলফিনের গায়ের রং বয়সের সঙ্গে হালকা হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সি ওয়াচ ফাউন্ডেশনের প্রজাতি পরিচিতি অনুযায়ী, এদের পিঠ ও পাশের রং গাঢ় থেকে হালকা ধূসর হয় এবং বয়স্ক ডলফিন অনেক সময় প্রায় সাদা দেখায়। পূর্ণবয়স্ক প্রাণীর শরীরে অসংখ্য সাদা ক্ষতচিহ্নও এই প্রজাতির পরিচিত বৈশিষ্ট্য। ওমান অবজারভারের প্রতিবেদনে সূর্যের আলো ও পানির প্রতিফলনকে গোলাপি আভা আরও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাধারণ এই ব্যাখ্যাকে কান্তাবের ডলফিনটির রঙের নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক কারণ হিসেবে ধরা যায় না। একই ঘটনার নামে ছড়ানো সব ভিডিও নিয়েও সতর্কতা এসেছে। ওমান অবজারভার জানিয়েছে, কান্তাবের প্রথম ভিডিওটিকে বিশেষজ্ঞরা গ্রহণযোগ্য বললেও মাসকাটের বলে প্রচারিত গোলাপি হাম্পব্যাক ডলফিনের আরেকটি ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে পৃথক ভিডিওকে একই স্থানের একই ঘটনার দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতির পর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
সৌদি আরবে হামলার পর মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
ফসলহানি ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত সুদান, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের জীবন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন মুসলমানদের কেবল তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেয় করা এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। ধর্মীয় বিভেদ ও সাংস্কৃতিক সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় সহনশীলতা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার হলিউড–পেমব্রোক পার্ক এলাকায় অবস্থিত কইনোনিয়া ওয়ারশিপ সেন্টারে ‘মাল্টিপল ফেইথস, ওয়ান ফ্লোরিডা’ শীর্ষক আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্লিনটন এসব কথা বলেন। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ক্লিনটন বলেন, “মুসলমানদের শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে হেয় করা হচ্ছে—এতে আমি ক্লান্ত।” তাঁর এই বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে অপমান বা বৈষম্যের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বক্তব্যে তিনি নিজের মেয়ে চেলসি ক্লিনটনের কোরআন পাঠের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চেলসি ১৫ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কোরআন পড়েছিলেন এবং পরে বাবাকেও তা পড়তে উৎসাহিত করেন। সেই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ক্লিনটন ধর্মীয় গ্রন্থের শিক্ষা থেকে পারস্পরিক পরিচিতি, বোঝাপড়া ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের ভাবার্থ উল্লেখ করেন। আয়াতটিতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন, যাতে তারা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। ক্লিনটনের বক্তব্যে এই শিক্ষার তাৎপর্য ছিল—মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিরোধের কারণ না বানিয়ে একে অপরকে জানার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই খারাপ আচরণকারী মানুষ থাকতে পারে, কারণ মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোনো ব্যক্তির অন্যায়কে পুরো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়—তাঁর বক্তব্যে এই ধারণাটিই গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় যুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক সংঘাত নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। ক্লিনটনের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে তাঁর বক্তব্যের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। এই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যের সরাসরি বিষয় ছিল মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অপমানের বিরোধিতা। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ সামাজিক সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে মুসলমানদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর অধিকারও সমানভাবে বিবেচ্য।
ওমানের সাগরে গোলাপি আভার ডলফিন, প্রজাতি শনাক্ত করলেন বিশেষজ্ঞরা
এক টুকরো রুটির অপেক্ষায় গাজার সাধারণ মানুষ, ক্ষুধার সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই
ইতালিতে বিক্ষোভের সময় তরুণের অশালীন ইঙ্গিতে মধ্যমা দেখিয়ে আলোচনায় যাজক
ভারতের চেন্নাইয়ে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে অপহরণ করে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ নিতে বাধ্য করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা তরুণের পকেটে টাকা না পেয়ে তাঁকে মারধর করে ঋণের আবেদন করায়। পরে ঋণ অনুমোদিত হলে এটিএম বুথ থেকে ৯ হাজার ৫০০ রুপি তুলে নেয় তারা। শুধু টাকা নয়, ছেড়ে দেওয়ার আগে তরুণের মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে চেন্নাইয়ের পাল্লিকারানাই এলাকায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণের নাম অজয়। তাঁর বয়স ২১ বছর। শহরের পাল্লিকারানাই এলাকা থেকে চার ব্যক্তি তাঁকে অপহরণ করে একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর তাঁর কাছে থাকা টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। অজয় জানান, তাঁর কাছে কোনো টাকা নেই। কিন্তু এই কথা শুনে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে মারধর শুরু করে ছিনতাইকারীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা অজয়কে মোবাইল ফোনের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে ঋণের আবেদন করতে বাধ্য করে। তাঁদের চাপে পড়ে তরুণটি অ্যাপের মাধ্যমে ঋণের আবেদন করেন। পরে ঋণ অনুমোদিত হলে অভিযুক্তরা তাঁকে নিয়ে একটি এটিএম বুথের সামনে যায়। সেখান থেকে ৯ হাজার ৫০০ রুপি তুলে নেয় তারা। টাকা তুলে নেওয়ার পরও অভিযুক্তরা অজয়কে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সব জিনিসপত্র ফেরত দেয়নি। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আগে মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে কোন অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ নেওয়া হয়েছিল কিংবা ঋণের মোট পরিমাণ কত ছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনার পর পাল্লিকারানাই থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ চার সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। তাঁরা হলেন সাই আবুথাকির ওরফে আবু (১৮), প্রকাশ রাজ (২২), পুবালান (২৩) এবং সঞ্জয় (২১)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চারজনই চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। তদন্তের পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এই ঘটনায় প্রচলিত ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে ঋণ নিতে বাধ্য করার অভিযোগও সামনে এসেছে। অজয়ের কাছে নগদ অর্থ না থাকায় অভিযুক্তরা তাঁর নামে ঋণের ব্যবস্থা করে টাকা তুলে নেয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে ঋণ পরিশোধের দায় এবং ছিনিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মেগান মার্কেলের বাবার বিরুদ্ধে শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি রাখার অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
বর অপমান করায় বিয়ের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে ডিভোর্স দিলেন বউ