- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনায় অন্তত আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোরে আভিয়াঙ্কা এয়ারলাইন্সের বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি কলম্বিয়ার মেডেলিন থেকে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন জানিয়েছে, ঝাঁকুনির কারণে বিমানটিকে মিয়ামিতে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানটি ছিল এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে মেডেলিন থেকে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর জ্যামাইকা ও কিউবার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনা ঘটে বলে ফ্লাইটের গতিবিধিসংক্রান্ত তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিমানটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় যাওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তবে এই উচ্চতা পরিবর্তনের তথ্যটি ফ্লাইট পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। মিয়ামি-ডেডের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগ জানিয়েছে, বিমানটি স্থানীয় সময় ভোর প্রায় সাড়ে ৩টায় অবতরণ করার পর আটজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বিশেষায়িত ট্রমা চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। বাকি আহতদের আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আভিয়াঙ্কা এয়ারলাইন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝাঁকুনিতে মোট নয়জন আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন যাত্রী এবং তিনজন কেবিনকর্মী ছিলেন। তাঁদের সবাই চিকিৎসার প্রয়োজন অনুভব করেন বলে বিমান সংস্থা জানিয়েছে। তবে উদ্ধারকর্মীদের হিসাবে আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ আক্রান্ত হওয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত হওয়ার সংখ্যা এক নয়। বিমানটি মিয়ামিতে নামার আগেই বিমানবন্দরে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ওই সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত এক যাত্রী মারিয়া পাউলা হিমেনেস জানান, অবতরণের পর যাত্রীদের বের হওয়ার স্থানের কাছাকাছি পাঁচ থেকে সাতটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। ঘটনাটি দেখে তাঁর কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হয়নি। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়। যেসব যাত্রী আহত হননি, তাঁদের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে বিমান সংস্থা। তবে সব যাত্রী একই বিমানে গিয়েছিলেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি বা বায়ুর অস্থিতিশীলতা কখনো কখনো আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন ছাড়াও ঘটতে পারে। এমন ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের মাথা, ঘাড় বা শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাত লাগতে পারে। বিশেষ করে আসনবেল্ট খোলা থাকলে যাত্রী বা কেবিনকর্মী আসন থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন যাত্রীদের আসনে বসে থাকার সময় যতটা সম্ভব আসনবেল্ট বাঁধা রাখার পরামর্শ দেয়। কারণ আসনবেল্টের সংকেত নিভে গেলেও হঠাৎ ঝাঁকুনি আসতে পারে। এই ঘটনার কারণ এবং ঝাঁকুনির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে মূল্যায়ন করা সহজ হবে।
নিউজার্সির এক তরুণীর স্বপ্নের বিয়ের আনন্দ প্রায় বিষাদে রূপ নিতে বসেছিল। বৃহস্পতিবার বিয়ের উদ্দেশ্যে নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ফ্লাইট ধরার কথা ছিল তার। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে এনজে ট্রানজিট ট্রেনে নিজের সাধের বিয়ের গাউনটি ফেলে আসেন ওই কনে। তবে পরিবহন কর্মীদের তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপে বিমান ছাড়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে নিজের মহামূল্যবান পোশাকটি ফিরে পান তিনি। ঘটনাটিকে ‘২০ মিনিটের মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এনজে ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর-কনে এবং উদ্ধারকৃত পোশাকসহ দুই কর্মীর একটি ছবি শেয়ার করে তারা জানায়, কনের ফ্লাইট ছাড়ার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল। এমন শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে ট্রানজিটের কর্মীরা রিয়েল-টাইমে যোগাযোগ করে ট্রেনটি ট্র্যাক করেন এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই কামরাগুলোতে তল্লাশি চালান। শেষ পর্যন্ত একদম সঠিক সময়ে পোশাকটি উদ্ধার করে দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়, যা ওই তরুণীর বিশেষ দিনটিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ট্রেনকর্মীদের এমন উদ্ধারভিযান অবশ্য এবারই প্রথম নয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই জুলি অ্যাঞ্জেলিকোলা নামের এক যাত্রীর ফ্লাশ হয়ে যাওয়া বিয়ের আংটি ট্রেনের টয়লেট থেকে উদ্ধার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন নর্থ জার্সি কোস্ট লাইনের কর্মীরা। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কের দম্পতিদের মধ্যে ট্রেন-কেন্দ্রিক বিয়ের একটি অভিনব ট্রেন্ডও দেখা যাচ্ছে। ব্রুকলিনের বাসিন্দা ড্যানিয়েল জিন ও এসমি ভালদেজ দম্পতি সম্প্রতি এল ট্রেনের ভেতর তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা সেরেছিলেন। অন্যদিকে মেরেডিথ গিউলিয়ানি ও ডেভিড গ্যারেট দম্পতি গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে ১২ ফুটের বিশাল ফুলের প্রদর্শনী, সোনালি মেঝের সাজসজ্জা ও লাইভ মিউজিকের মূর্ছনায় সেরেছেন তাদের জমকালো বিয়ের আসর। তবে আয়োজন ছোট হোক বা বড়, এনজে ট্রানজিটের এই ভাগ্যবান কনের মতো সব নবদম্পতিরই প্রত্যাশা থাকে—তাদের জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনটি যেন কোনো রকম অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা, বিলম্ব বা হারানো ঝক্কি ছাড়াই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
নিউইয়র্কের কাছাকাছি নিউ জার্সির ক্রিম রিজ এলাকার বুলক ফার্মসে পরিবারের সঙ্গে কুমড়া তুলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই বছর বয়সী জেমস গ্যাব্রিয়েল। নিউইয়র্ক পোস্টের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে। অর্থাৎ খবরটি আজ প্রকাশিত হলেও ঘটনাটি আজকের নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেছনের দিকে চলতে থাকা একটি ক্রাইসলার গাড়ির নিচে শিশুটি চাপা পড়ে। দুর্ঘটনার সময় তার দাদি এলেন গ্যাব্রিয়েল শিশুটির হাত ধরে ছিলেন। তিনিও গাড়ির নিচে আটকে পড়েন, তবে সামান্য আঘাত নিয়ে বেঁচে যান। শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাবা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে প্রাণবন্ত ও আনন্দপ্রিয় বলে স্মরণ করছেন। নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের পুলিশ দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে। গাড়িচালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। খামার কর্তৃপক্ষও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। শরৎকালে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে খামারে কুমড়া তুলতে যায়। এ ধরনের স্থানে গাড়ি চলাচলের পথ ও শিশুদের হাঁটার জায়গা কাছাকাছি হতে পারে। তাই শিশুদের সব সময় হাত ধরে রাখা, গাড়ির পেছনে দাঁড়াতে না দেওয়া এবং চালকের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে নিশ্চিত হওয়া যে তিনি শিশুটিকে দেখতে পাচ্ছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর লকপোর্টে একটি পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। বাফেলো শহরের বাসিন্দা ওসমানের উদ্যোগে ভবনটি মুসলমানদের নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া বিবরণে জানা গেছে। একসময় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত ভবনটির বাইরে এখন মসজিদের নামসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। তবে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সময় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ৩১ আগস্ট লকপোর্ট শহর পরিদর্শনের একটি বিবরণে পুরোনো গির্জাটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, শহরটিতে কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা না হলেও একটি গির্জা ভবনকে মসজিদে রূপান্তরের কাজ নজরে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বাফেলোপ্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমান। লকপোর্ট নিউইয়র্কের নায়াগ্রা কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র। ঐতিহাসিক ইরি খালের পাশে গড়ে ওঠা শহরটি বাফেলো থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কানাডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির মতো বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি এখানে না থাকলেও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন দেশের মানুষের বসবাস রয়েছে। মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগে যে পুরোনো গির্জাটিকে মসজিদে রূপান্তরের কথা জানা গেছে, সেটি আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে ভবনটির আগের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় বলে পাওয়া বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে গির্জাটির পূর্ববর্তী নাম, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, মালিকানা হস্তান্তরের তারিখ এবং ক্রয়মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভবনটির সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভবনটির সংস্কার ও ব্যবহারসংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে বসবাস করেন। বাফেলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়ি কেনার সুযোগ এবং জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বাফেলোতে বসবাস শুরু করেছেন। ২০০৬ সালের পর থেকে নিউইয়র্ক সিটি, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর বাফেলোতে আসার প্রবণতা বাড়ে বলে স্থানীয় কমিউনিটির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ধীরে ধীরে শহরটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গ্রোসারি স্টোর, রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গড়ে ওঠে। বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে বাফেলোতে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের চাহিদাও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার করে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাফেলোর ওয়ালডেন অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, যা মসজিদ বাইতুল আমান নামেও পরিচিত, স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন পরিচালিত হয়। বাফেলোর ইস্ট সাইড এলাকাতেও পুরোনো গির্জা ভবন নতুনভাবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক সেন্ট অ্যানস চার্চ অ্যান্ড শ্রাইন ভবন ২০২২ সালের নভেম্বরে বাফেলো ক্রিসেন্ট হোল্ডিংসের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ডাউনটাউন ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভবনটি একটি ইসলামিক ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেন্ট অ্যানস চার্চের প্রকল্পটি লকপোর্টে মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগ থেকে পৃথক। সেন্ট অ্যানস ভবনটি বাফেলো শহরে অবস্থিত এবং সেটি নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়া ও ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ওই স্থাপনায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সমস্যার কারণে মালিকপক্ষকে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় পুরোনো ধর্মীয় ভবন নতুন কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো গির্জার নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভবনগুলো বিক্রি করা হয়। নতুন মালিকেরা স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব স্থাপনা ধর্মীয়, শিক্ষামূলক কিংবা সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করতে হলে শুধু ভবন কেনা বা সংস্কার করাই যথেষ্ট নয়। ভবনটির বর্তমান অনুমোদিত ব্যবহার, স্থানীয় জোনিং বিধি, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তার শর্ত এবং জনসমাগমের উপযোগিতা বিবেচনা করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে। লকপোর্টের প্রকল্পটির ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি। একইভাবে নতুন মসজিদে কতজন মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে ইসলামিক শিক্ষা বা কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ ওসমানের মূল লক্ষ্য পুরোনো ভবনটিকে মুসলমানদের ইবাদতের উপযোগী করে তোলা। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভবনটি কিনেছেন, নাকি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। বাফেলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে নিকটবর্তী লকপোর্টে এমন একটি উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সেখানে বর্তমানে কতটি মুসলিম পরিবার বসবাস করে কিংবা সম্ভাব্য মসজিদটি কতজন ব্যবহার করবেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। একসময় খ্রিষ্টানদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনকে নতুন করে মুসলমানদের নামাজের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল অভিবাসী সমাজের একটি দিক তুলে ধরছে। তবে লকপোর্টের পুরোনো গির্জাটি কবে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে চালু হবে, তা নির্ভর করছে সংস্কারকাজ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং উদ্যোক্তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
বিদেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের ২৭টি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের এসব কর্মসূচিতে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত কিংবা গবেষণার খরচে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয়। কিছু কর্মসূচিতে শুধু টিউশন ফি কিংবা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের আবেদন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য ১৪ অক্টোবর এবং কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপের জন্য ২০ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। ফ্রান্সের এমিল বুতমি স্কলারশিপের মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম আবেদন পর্বের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। তবে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি। এই কর্মসূচির আওতায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬। অন্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য কোর্সভেদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ৬ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৪ অক্টোবরের ডেডলাইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ যোগ্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পান। স্কলারশিপে টিউশন ফি, বিমানভাড়া ও জীবনযাপনের নির্ধারিত ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর ব্রিটিশ সময় বিকেল ৪টায় আবেদন শেষ হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি স্কলারশিপেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরের প্রতিটি বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় পান। প্রথম আবেদন পর্বের ডেডলাইন ১৮ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় পর্বের ডেডলাইন ২৯ নভেম্বর। ব্যাচেলর পর্যায়ের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে। তবে এটি মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের সব জীবনযাত্রার খরচ বহন করে না। দক্ষিণ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস ২০২৭ কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই স্কলারশিপে বিভিন্ন পর্যায়ে টিউশন ফি, ভাষাশিক্ষা ও জীবনযাপনের সহায়তার সুযোগ থাকে। প্রকাশিত তালিকায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের এম্বাসি ট্র্যাকের ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাকের আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক সময়ে পরিচালিত হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর করতে আগ্রহীদের জন্য ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন, আবাসন এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও স্কলারশিপ বিবেচনার শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়। একই সময়ে রাশিয়ার ওপেন ডোরস স্কলারশিপ কর্মসূচিতেও আবেদন করার সুযোগের কথা রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত বিষয়ে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থী একই ধরনের আর্থিক সুবিধা পান না। বিশেষ করে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার খরচ বহন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে। এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির আওতায় জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব টোকিওসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, জীবনযাপনের ভাতা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের আবেদনের সময়সীমা এবং কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত আলাদা হতে পারে। চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপেও মাস্টার্স পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক আন্তবিষয়ক গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকায় ৩০ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সময় অস্ট্রিয়ার হেলমুট ভাইথ স্টাইপেন্ডের ডেডলাইনও দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই কর্মসূচি কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করতে আগ্রহী যোগ্য নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যৌথভাবে মাস্টার্স করার জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস কর্মসূচিতে একাধিক স্কলারশিপ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় এমএপিপি, আইএলএসপিএসডি, এমইএসপিওএম ও গ্লোকাল কর্মসূচির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাসমাস মুন্ডাসের সব প্রোগ্রামের আবেদন একসঙ্গে শুরু বা শেষ হয় না। প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল মাস্টার্স এক্সিলেন্স ফেলোশিপের জন্য ১৫ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ সহায়তা পান। সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত এই অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের টিউশন ফি ও আবাসনসহ অন্যান্য ব্যয়ের দায়িত্বও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে এটিকে সব খরচ বহনকারী স্কলারশিপ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়। নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএল হাই পটেনশিয়াল স্কলারশিপেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং স্কলারশিপের চূড়ান্ত ডেডলাইন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। তবে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হতে অনেক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এই স্কলারশিপ মূলত নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য, সব ব্যাচেলর কোর্সের জন্য নয়। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয় এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। জার্মানির ডাড ইপিওএস স্কলারশিপ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচিতে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, অর্থনীতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কর্মঅভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সব কোর্সের ডেডলাইন এক নয়। ডাডের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে আলাদা আবেদন সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাউস্টেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তা, আবাসন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট ফান্ডিংয়ের সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীকে আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তির শর্ত ও নির্ধারিত ইনটেক সম্পর্কে জানতে হবে। কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় যথাক্রমে ১৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পৃথক হতে পারে। থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ রয়েছে। তবে এআইটির সাধারণ স্কলারশিপে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হতে পারে। জীবনযাপনের খরচ এবং অন্যান্য ফি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। ফলে সব এআইটি স্কলারশিপকে সম্পূর্ণ ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রকাশিত ২৭টি সুযোগের তালিকায় আরও রয়েছে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসংশ্লিষ্ট জেমস স্কলারশিপ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের এডিবি স্কলারশিপ, সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ এবং ফ্রান্সের এমওপিজিএ ফেলোশিপ। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে কিছু গবেষণা ফেলোশিপ, কিছু টিউশন সহায়তা এবং কিছু সম্পূর্ণ স্কলারশিপ। সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত, হাঙ্গেরিতে নয়। পাশাপাশি সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপের সব বিভাগ সাধারণ মাস্টার্স ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো সিজিপিএ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পিএইচডি ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুযোগের মধ্যে মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্কলারশিপের আবেদন চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন চালু থাকা সব সময় একই বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হয়। কিছু স্কলারশিপে আলাদা আবেদন প্রয়োজন, আবার কিছু প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন থেকেই ফান্ডিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হয়। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই অক্টোবর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব স্কলারশিপের আবেদন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে শেষ হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যোগ্যতা ও ডেডলাইন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কতটুকু বহন করা হবে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ নির্বাচন করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীর মার্বেল হিল এলাকায় ৮ অক্টোবর অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের গুলিতে ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল আহত হন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর ঘাড়ে গুলি লাগে। গাড়িতে তখন তাঁর পাঁচ বছর বয়সী শিশুও ছিল। কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ পোশাক ও নির্মাণকর্মীদের মতো পোশাক পরা কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ির কাছে গেলে তিনি গাড়ি সামনে এগিয়ে নেন। এরপর কর্মকর্তারা সাতটি গুলি ছোড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিইর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গাড়িটি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে আসায় তাঁরা নিজেদের ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুলি চালান। বেলগালের ঘাড়ে আঘাতকে প্রাথমিকভাবে উপরিভাগের ক্ষত বলে জানানো হয়েছে। তবে গুলির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিউইয়র্কের স্থানীয় নেতারা। তাঁরা ঘটনার দৃশ্যধারণকারী ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ এবং এলাকায় আইসিইর অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, ফেডারেল কর্মকর্তাদের ক্ষমতা এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে গুলি চালানোর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই তদন্তের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বসবাসকারী অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, নির্দেশনা বোঝার চেষ্টা করা এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তুত স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীরা অফিস চলাকালে সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন। তবে কোনো আবেদনকারীর পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলে নির্ধারিত প্রতিনিধির মাধ্যমেও কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে বলে দূতাবাসের একটি বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য দূতাবাসের অফিস সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। কার্ড নিতে যাওয়ার সময় আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার সময় দূতাবাস থেকে সরবরাহ করা ‘ডেটা এন্ট্রি প্রুফ কপি’ সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বা স্টেট আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড অথবা পাসপোর্টের মতো পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দূতাবাসের বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারী নিজে উপস্থিত হতে না পারলে একজন নির্ধারিত প্রতিনিধিকে অনুমতিপত্র বা অথরাইজেশন লেটার দিয়ে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের দায়িত্ব দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপিও সঙ্গে রাখতে হবে। এ ছাড়া, যারা সরাসরি দূতাবাসে যেতে পারবেন না, তাদের জন্য ডাকযোগে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের পদ্ধতির কথাও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথাযথভাবে পূরণ ও স্বাক্ষর করা একটি এফিডেভিট বা হলফনামা, নিজের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় ডাকমাশুলসহ একটি ফেরত খাম এবং পরিচয়পত্রের ফটোকপি পাঠাতে হবে। বার্তায় বলা হয়েছে, ফেরত খামের ক্ষেত্রে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিষেবা ইউএসপিএসের খাম গ্রহণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিনিধি বা ডাকযোগে কার্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনুমতিপত্র, হলফনামা ও অন্যান্য নথির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ক্যাথি হোকুল। ৫ অক্টোবর জারি করা এই ঘোষণার লক্ষ্য হলো সংক্রমণ শনাক্ত করা, পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে চলতি বছরে ১০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৯২ জনের সংক্রমণ ১৫ জুলাইয়ের পর দেখা যায়। আক্রান্তদের অধিকাংশই গ্রামীণ এলাকার, যেখানে টিকা নেওয়ার হার তুলনামূলক কম। নিউইয়র্ক নগরীতে এ পর্যন্ত সাতটি সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশ আক্রান্ত নগরীর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা বাড়ানোর পাশাপাশি পরীক্ষার ব্যবস্থা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি ঘোষণার আওতায় নিবন্ধিত নার্সদের হাম পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ এবং ফার্মাসিস্টদের দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার অনুমতি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি অবশ্যই প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলতি বছর হামের সংক্রমণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজারে পৌঁছেছে। পেনসিলভানিয়ায় এক হাজারের বেশি সংক্রমণের খবরও পাওয়া গেছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়াতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া দেখা দিতে পারে। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুদের টিকার নথি যাচাই করা। পরিবারের কারও মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে আগে ফোন করে চিকিৎসাকেন্দ্রকে জানানো ভালো, যাতে অপেক্ষাকক্ষের অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো যায়।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের দাবি সমর্থন করা একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের নিজেরই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন। তবে অভিযুক্ত নেতার নাম প্রকাশ করেননি তিনি। তাঁর অভিযোগের পক্ষে কোনো দলিল বা মালিকানাসংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুর-১০ এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যান ডিএনসিসি প্রশাসক। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে কথা বলেন তিনি। শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দাবি করেন, দেশের সাধারণ মানুষ কেউই অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে আন্দোলন করবেন না। অথচ একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকাশ্যে অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টিকে তিনি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন। ডিএনসিসি প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পেরেছেন, অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ওই রাজনৈতিক নেতার নিজেরই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। তবে কীভাবে এই তথ্য পাওয়া গেছে, অটোরিকশাগুলো সরাসরি ওই নেতার নামে নিবন্ধিত কি না কিংবা সেগুলোর মালিকানা সম্পর্কে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ফলে প্রশাসকের বক্তব্যে উত্থাপিত ৭০০ অটোরিকশার মালিকানার অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অটোরিকশা চলাচলের পাশাপাশি রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়েও কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো অবৈধ দখল বরদাশত করা হবে না। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, দোকানের সামনে কিংবা ফুটপাতে যাতে কেউ অবৈধভাবে বসতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মিল্টন জানান, দখলমুক্ত করা ফুটপাতগুলো আরও ব্যবহারোপযোগী করে তুলতে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ চলছে। যেসব এলাকার ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো মেরামত করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। ডিএনসিসি প্রশাসকের দাবি, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নগরবাসী চান না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সিটি করপোরেশন নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ফুটপাতের হকারদের নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগও তোলেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তাঁর দাবি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ফুটপাতের হকারদের ডেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক পরামর্শ দিচ্ছে। তবে এ অভিযোগের ক্ষেত্রেও তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ডিএনসিসি প্রশাসক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল ও ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে ডিএনসিসি প্রশাসকের এই বক্তব্য সামনে এলো। তবে অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক নেতার ৭০০টি অটোরিকশা থাকার যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, সেটির সত্যতা নির্ধারণে মালিকানার নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। সূত্র: ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা আরও নির্ভরযোগ্য করতে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা।ট্রেন্টনের অঙ্গরাজ্য আইনসভায় অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে তাঁরা বলেছেন, প্রতিটি এলাকার বাসিন্দার জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সেবার জন্য অর্থায়ন বাড়ানো, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ সহজ করা এবং অঙ্গরাজ্যজুড়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউ জার্সির আইনসভায় অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রায় এক ডজন বক্তা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের অধিকাংশই এমন আইন প্রণয়নের পক্ষে মত দেন, যার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দিষ্ট জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে আইনসভার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে প্রাথমিক সমর্থন পেয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রস্তাবগুলোর ওপর চূড়ান্ত ভোট হয়নি। জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের মতে, বর্তমানে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পরিচালিত হয় স্বেচ্ছাসেবী দল, হাসপাতাল, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ফলে এক এলাকার সঙ্গে অন্য এলাকার সেবার ধরন ও সক্ষমতায় পার্থক্য থাকতে পারে। স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা, মাদকজনিত জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আকস্মিক অসুস্থতার মতো ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মী ও অর্থায়ন না থাকলে জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হতে পারে বলে শুনানিতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শুনানিতে অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাবও তোলা হয়। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কতজন কর্মী প্রয়োজন, কোথায় অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি রয়েছে এবং রোগীর কাছে সহায়তা পৌঁছাতে কত সময় লাগছে, সেসব বিষয় মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণ, কর্মী নিয়োগ, তথ্য সংগ্রহ এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স দলগুলোর জন্য কর থেকে অর্থ দেওয়ার বার্ষিক সীমা ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার তুলে দেওয়ার দাবিও উঠেছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর হলে স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো সহজ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শুনানিতে অঙ্গরাজ্যের সিনেটর অ্যান্ড্রু জুইকার বলেন, জরুরি চিকিৎসাসেবার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, তদারকি এবং তথ্য সংগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। অন্য আইনপ্রণেতারাও স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে যুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিয়ের মাত্র ১০ দিন পর হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের এক নবদম্পতি। আফ্রিকার বতসোয়ানায় নৌকায় ঘোরার সময় বিশাল এক জলহস্তী হঠাৎ আক্রমণ করে স্বামীকে মুখে তুলে পানির নিচে টেনে নেয়। চোখের সামনে স্বামীর এমন অবস্থা দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলহস্তীটির দিকে এগিয়ে যান স্ত্রী। একপর্যায়ে প্রাণীটিকে একের পর এক ঘুষি মারতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জলহস্তীটি তাঁর স্বামীকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ওই ব্যক্তি। ঘটনার প্রায় এক বছর পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ টেলিভিশনে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন দম্পতি। মার্কিন সাময়িকী পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দম্পতির নাম স্যাম ম্যাকি ও আনা ম্যাকি। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পোর্ট অ্যাঞ্জেলেস শহরের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের পর হানিমুন করতে আফ্রিকার বতসোয়ানায় গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে বিখ্যাত ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় সাফারি করার সময় জলহস্তীর আক্রমণের শিকার হন ৩১ বছর বয়সী স্যাম। দম্পতি জানান, পর্তুগালের সমুদ্রসৈকতে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। এর মাত্র ১০ দিন পর তাঁরা বতসোয়ানায় পৌঁছান। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল আফ্রিকার বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার। সেই উদ্দেশ্যে ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় একটি সাফারি ট্যুরে অংশ নেন তাঁরা। কিন্তু আনন্দের সেই সফর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। ঘটনার দিন একজন স্থানীয় গাইডের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মোকোরো নামের সরু নৌকায় চড়ে জলাভূমি ঘুরে দেখছিলেন স্যাম ও আনা। মোকোরো সাধারণত গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় এবং বতসোয়ানার জলাভূমিতে পর্যটকদের ঘোরানোর জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত। নৌকায় ওঠার আগে গাইডরা তাঁদের দূরে থাকা একটি জলহস্তী দেখিয়ে সতর্ক করেছিলেন। প্রাণীটি গভীর পানির একটি এলাকায় অবস্থান করছিল। পর্যটকদের ওই এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁদের নৌকাটি দলের অন্য নৌকাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, নৌকাটি সেই গভীর পানির দিকেই চলে এসেছে, যেখানে জলহস্তীটি ছিল। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই পানিতে বিকট শব্দ শুনতে পান স্যাম। পেছনে তাকিয়ে দেখেন, মুখ হাঁ করে একটি বিশাল জলহস্তী তাঁদের নৌকার দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। শুক্রবার ব্রিটিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান গুড মর্নিং ব্রিটেনে স্যাম জানান, জলহস্তীটিকে দেখে তাঁর প্রথম চিন্তা ছিল নৌকা থেকে যেন পানিতে পড়ে না যান। তাই তিনি নৌকার দুই পাশ শক্ত করে ধরে রাখেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণীটি তাঁকে আঘাত করে। স্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, জলহস্তীটি তাঁর শরীরের মাঝামাঝি অংশ বিশাল চোয়ালের মধ্যে আটকে ফেলে এবং পানির নিচে টেনে নেয়। আক্রমণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তিনি কিছুক্ষণ বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। শরীরে প্রচণ্ড অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে প্রথমে তেমন ব্যথাও অনুভব করেননি। পরে সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতাকে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। জলহস্তীর ধাক্কায় নৌকা থেকে পানিতে ছিটকে পড়েন আনা এবং তাঁদের গাইডও। পানির ওপর উঠে আনা দেখতে পান, তাঁর স্বামী জলহস্তীটির মুখের মধ্যে আড়াআড়িভাবে আটকে আছেন। এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান তিনি। কয়েক মুহূর্তের জন্য তাঁর মনে হয়েছিল, স্যাম হয়তো আর বেঁচে নেই। আনা জানান, সেই মুহূর্তে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কোনো ধরনের অস্ত্র বা আত্মরক্ষার সরঞ্জাম তাঁর কাছে ছিল না। কিন্তু স্বামীকে প্রাণীটির মুখ থেকে উদ্ধার করার জন্য সামনে এগিয়ে যান। এরপর হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জলহস্তীটিকে ঘুষি মারতে শুরু করেন। গুড মর্নিং ব্রিটেনে আনা বলেন, তাঁর মাথায় তখন একের পর এক চিন্তা আসছিল। ঘটনাটি সত্যি কি না, স্যাম বেঁচে আছেন কি না, কিংবা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হবে কি না, কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্যাসকাডিয়া ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একপর্যায়ে জলহস্তীটি স্যামকে ছেড়ে দিয়ে পেছনে সরে যায়। সেই সুযোগে আনা তাঁর স্বামীকে নিয়ে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে স্যামের শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছে। স্যাম জানান, পানির ওপর উঠে আসার পর তিনি স্ত্রীর দিকে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাঁ পা কোনোভাবেই নড়ছিল না। মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ দিলেও পা সাড়া দিচ্ছিল না। তখনই বুঝতে পারেন, আক্রমণে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছেন। স্বামীর শারীরিক অবস্থা দেখে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন আনা। কিন্তু দুর্গম জলাভূমি এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সহজ ছিল না। উদ্ধার ও পরিবহনের বিভিন্ন জটিলতার কারণে চিকিৎসা শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ক্যাসকাডিয়া ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, আক্রমণের পর স্যামকে ব্যথা কমানোর ওষুধ দিতে ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল। আর প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় থাকার কারণে তাঁর জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর স্যামের জরুরি ভিত্তিতে পেটের অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর শরীরের ক্ষত বন্ধ করতে ২০টি স্ট্যাপল ব্যবহার করতে হয়েছিল। চিকিৎসার সময় ঘাড় ও হাতে আইভি লাইন বসানো হয়। পাশাপাশি তাঁকে ফিডিং টিউব এবং ভেন্টিলেটরের সহায়তায় রাখতে হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন স্যাম। তবে এখনো শরীরের কিছু অংশে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে জানান, ভয়াবহ সেই ঘটনার পরও তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন। আক্রমণের সময় স্ত্রী কীভাবে জলহস্তীটির সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, সেটি স্যাম পরে জানতে পেরেছিলেন। তখন তিনি নিজের জীবন রক্ষায় স্ত্রীর ভূমিকার কথা বুঝতে পারেন। দম্পতির কাছে ঘটনাটি তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে রয়েছে। এই ঘটনার পর স্যামের জীবনে আরও একটি পরিবর্তন এসেছে। সুস্থ হওয়ার পর তিনি মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বানানোর কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বর্তমানে নিজের তৈরি মাটির জিনিস বিক্রি করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কেটবোর্ড কেনার অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি। স্যাম ও আনা তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লিখেছেন। এখন সেটি প্রকাশের জন্য প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের আশা, নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে তুলে ধরতে পারলে বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি ভ্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাম ও আনা একে অপরকে চেনেন স্কুলজীবন থেকে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক। বিয়ের পর প্রথম বড় সফরেই এমন দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি তাঁরা। আনা বলেন, ঘটনাটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। তবে এখন তাঁরা বেঁচে থাকার সুযোগ পাওয়াটাকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন। স্যাম তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং এত বছরের সম্পর্কের পর আরও কিছু সময় একসঙ্গে কাটাতে পারছেন বলে তিনি কৃতজ্ঞ। আফ্রিকার জলাভূমিতে জলহস্তী পর্যটকদের জন্য গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে। বিশাল আকৃতি এবং তুলনামূলক শান্ত চেহারা দেখে অনেক সময় প্রাণীটিকে নিরীহ মনে হলেও জলহস্তী অত্যন্ত শক্তিশালী ও আঞ্চলিক আচরণসম্পন্ন বন্যপ্রাণী। বিশেষ করে পানিতে নিজের অবস্থান বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে মনে করলে দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। স্যাম ও আনার অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বন্যপ্রাণী দেখার সময় স্থানীয় গাইডের সতর্কতা ও নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁদের এই ঘটনা একটি নবদম্পতির বেঁচে ফেরার ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত সাউথ জর্জিয়া দ্বীপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কিং পেঙ্গুইনের ভিড়ে বিরল একটি হলুদ পেঙ্গুইনের ছবি তুলেছিলেন বেলজিয়ামের বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তোলা ছবিগুলো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের কালো, সাদা ও ধূসর পালকের পরিবর্তে পাখিটির শরীরে ছিল উজ্জ্বল হলুদ ও ক্রিম রঙের পালক। বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের রঞ্জক পদার্থের অস্বাভাবিকতার কারণে এমন বিরল রঙের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামসের নিজস্ব বিবরণ এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দুই মাসের একটি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর দল দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের স্যালিসবারি প্লেন এলাকায় পৌঁছায়। দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চল কিং পেঙ্গুইনের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। স্যালিসবারি প্লেনের প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত উপকূলীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক কিং পেঙ্গুইন বসবাস করে। সেখানে পেঙ্গুইনের পাশাপাশি হাজার হাজার ফার সিল ও এলিফ্যান্ট সিলেরও দেখা মেলে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, প্রবল স্রোত এবং বন্যপ্রাণীর ঘন উপস্থিতির কারণে এলাকাটিতে নৌকা ভেড়ানো ও নিরাপদে চলাচল করা বেশ কঠিন। অ্যাডামস জানিয়েছেন, অভিযানের দিন তাঁরা একটি ছোট নৌকায় করে উপকূলে পৌঁছান। নৌকা থেকে খাবার, তাঁবু ও নিরাপত্তাসামগ্রী নামানোর সময় হঠাৎ পানির মধ্যে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙের একটি পেঙ্গুইন দেখতে পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। কাছাকাছি আসার পর বুঝতে পারেন, পাখিটির শরীরে সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের পরিচিত কালো পালক নেই। বিরল পেঙ্গুইনটিকে দেখতে পেয়েই ক্যামেরা হাতে নেন অ্যাডামস। সৌভাগ্যক্রমে পাখিটি তাঁদের কাছেই তীরে উঠে আসে। কিছুক্ষণ সৈকতে ঘোরাফেরা করার পর অন্য পেঙ্গুইনদের দলে মিশে যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হন তিনি। পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অ্যাডামস জানান, পেঙ্গুইনটির ছবি তোলার জন্য তিনি মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট সময় পেয়েছিলেন। বিরল প্রাণীটি কাছে চলে আসায় কোনো বাধা ছাড়াই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিল। এত বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে অস্বাভাবিক রঙের একটি পাখিকে আলাদাভাবে দেখতে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। সাধারণত কিং পেঙ্গুইনের মাথা ও পিঠের বড় অংশ কালো বা ধূসর রঙের হয়। শরীরের সামনের অংশ সাদা এবং মাথা ও ঘাড়ের কাছে উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রঙের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু অ্যাডামসের দেখা পেঙ্গুইনটির কালো অংশগুলো ছিল হলুদাভ কিংবা ক্রিম রঙের। ফলে অন্যান্য পেঙ্গুইনের ভিড়ে সেটি সহজেই চোখে পড়ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীর শরীরে বিভিন্ন রঙ তৈরির পেছনে একাধিক ধরনের রঞ্জক পদার্থ কাজ করে। এর মধ্যে মেলানিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রাণীর পালক, ত্বক ও লোমের কালো এবং বাদামি রঙ তৈরিতে মেলানিনের ভূমিকা রয়েছে। কোনো জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন বা বণ্টনে সমস্যা হলে প্রাণীর স্বাভাবিক রঙ বদলে যেতে পারে। বিরল হলুদ পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রেও এমন একটি পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক গবেষক এটিকে লিউসিজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিউসিজম হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরের কিছু অংশে বা পুরো শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জকের উপস্থিতি কমে যায়। এর ফলে প্রাণীর গায়ের রঙ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে, সাদা কিংবা অন্য রঙের দেখা যেতে পারে। তবে হলুদ পেঙ্গুইনটির রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছু মতভিন্নতা রয়েছে। লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী ডি বোয়েরসমা পাখিটির রঙকে লিউসিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কেভিন ম্যাকগ্রো জানান, পাখিটির পালকে মেলানিনের উপস্থিতি ঠিক কতটা রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিং পেঙ্গুইনের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হলুদ রঞ্জক পদার্থ থাকে। বিরল পেঙ্গুইনটির শরীরে কালো রঙের জন্য দায়ী মেলানিনের ঘাটতি হওয়ায় সেই হলুদ রঙ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু ছবি দেখে জিনগত পরিবর্তনের সঠিক ধরন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ধরনের অস্বাভাবিক রঙ প্রাণীর বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত পেঙ্গুইনের গায়ের কালো ও সাদা রঙ পানির মধ্যে আত্মরক্ষায় সহায়তা করে। ওপর থেকে দেখলে পিঠের গাঢ় রঙ গভীর পানির সঙ্গে মিশে যায়। আবার নিচ থেকে দেখলে সাদা পেট পানির ওপরের আলোর সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে। এতে শিকারি প্রাণীর চোখ এড়ানো তুলনামূলক সহজ হয়। অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে রঙের পেঙ্গুইন অন্যদের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে শিকারি প্রাণীর কাছে ধরা পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে পাখির স্বাভাবিক রঙ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অ্যাডামসের তোলা ওই পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রে এসব কারণে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিরল রঙের পেঙ্গুইন এর আগেও বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ হলুদাভ চেহারার কিং পেঙ্গুইনের ছবি অত্যন্ত বিরল। ২০১৯ সালে সাউথ জর্জিয়া দ্বীপেই অন্য একটি অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে রঙের কিং পেঙ্গুইনের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে অ্যাডামসের দেখা পাখিটিই পৃথিবীর প্রথম অস্বাভাবিক রঙের পেঙ্গুইন, এমন দাবি সঠিক নয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ভেস অ্যাডামস ছবিগুলো প্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনায় সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন এবং লাইভ সায়েন্স পেঙ্গুইনটির ব্যতিক্রমী রঙের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অ্যাডামসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একটি পেঙ্গুইন আবার দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে তাঁর উল্লেখ করা লাখে বা মিলিয়নে একটি দেখার সম্ভাবনা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক হিসাব নয়, বরং বিরল অভিজ্ঞতাটি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অনুমান। ২০১৯ সালে ধারণ করা এবং ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হওয়া হলুদ পেঙ্গুইনটির ছবিগুলো এখনো বন্যপ্রাণীর অস্বাভাবিক রঙের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একই প্রজাতির বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে একটি পাখির এমন ব্যতিক্রমী চেহারা প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং প্রাণীর শরীরে জিনগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনা ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যামাজন বিক্রি হওয়া নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১ লাখ ১২ হাজার ৯৩২টি বোতল ব্যথানাশক ওষুধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রত্যাহারের আওতায় থাকা ওষুধটির নাম অ্যামাজন বেসিক কেয়ার অতিরিক্ত শক্তির অ্যাসিটামিনোফেন। প্রতিটি বড়িতে ৫০০ মিলিগ্রাম ওষুধ রয়েছে। অ্যাসিটামিনোফেন সাধারণত ব্যথা কমাতে ও জ্বর নামাতে ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের অ্যাসিটামিনোফেন বা আমাজনের সব ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রত্যাহারের আওতায় নেই। নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাচের বোতলই চিহ্নিত করা হয়েছে। ওষুধটি তৈরি করেছে অরোবিন্দো ফার্মা ইউএসএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অ্যামাজন ডটকম সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানটি ওষুধটি বিতরণ করেছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় ওষুধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ২০০, ৫০০ ও ১,০০০ বড়ির বোতল এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে। ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগই প্রত্যাহারের প্রধান কারণ। বড়ির স্বাভাবিক চেহারা বদলে গেলে তা ওষুধের গুণগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এই ঘটনার কারণে কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যাহারের ঝুঁকির মাত্রাও তখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। যাঁরা অ্যামাজন থেকে এই ওষুধ কিনেছেন, তাঁদের বোতলের গায়ে লেখা নাম, বড়ির সংখ্যা, ব্যাচ নম্বর এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মিলিয়ে দেখা জরুরি্।২০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৫০৪০এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ৫০০ বড়ির বোতলের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে পাঁচটি ব্যাচ: এসিডি১২৪০৩৬এ, এসিডি১২৪০৩০এ, এসিডি১২৪০৪২এ, এসিডি১২৪০৪৮বি এবং এসিডি১২৫০১০এ। এসব বোতলের মেয়াদ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।১,০০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৪০৪৮এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর। বোতলের ব্যাচ নম্বর প্রত্যাহারের তালিকার সঙ্গে মিলে গেলে ওষুধটি আর ব্যবহার করবেন না। কেনাকাটার হিসাব পরীক্ষা করুন এবং অ্যামাজন সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত দেওয়া বা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিয়ম জেনে নিন। প্রয়োজনে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধের কারণে অসুস্থতা বা আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে রং পরিবর্তিত হওয়া বড়ি ব্যবহার করা নিরাপদ। ওষুধের রং, গন্ধ বা চেহারায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে সেটি ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার অনলাইনে একসঙ্গে অনেক ওষুধ কিনে ঘরে রাখে। তাই বাড়িতে থাকা বোতলগুলোর নাম, ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদ পরীক্ষা করে দেখা ভালো। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করেন এমন পরিবারের সদস্যদের ওষুধগুলো যাচাই করতে সহায়তা করুন।
বিশ্বের রাজপরিবারের ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন থাইল্যান্ডের রানি সুথিদা। প্রথম ক্ষমতাসীন রানি হিসেবে একাই সুপারসনিক যুদ্ধবিমান চালানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সুরাত থানি প্রদেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে সুইডেনের তৈরি জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে ওড়েন ৪৮ বছর বয়সী এই রানি। প্রায় ৪১ মিনিটের সফল উড্ডয়ন শেষে নিরাপদে অবতরণ করেন তিনি। পুরো সময় মাটিতে থেকে রানির উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করেন তাঁর স্বামী থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ ও দেশটির বিমানবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রানি সুথিদা সুরাত থানি প্রদেশের ফুন ফিন জেলার উইং ৭ বিমানঘাঁটিতে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। এটি ছিল এক আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে তাঁর প্রথম একক ফ্লাইট। এ অর্জনের মাধ্যমে তিনি থাইল্যান্ডের প্রথম নারী গ্রিপেন পাইলট হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল সেকসান কান্থাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। এরপর রাজা ও রানি ফ্লাইট পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। উড্ডয়নের আগে রানি সুথিদা নিজেই যুদ্ধবিমানটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর নির্ধারিত রানওয়ে ২২ দিয়ে বিমানটি উড্ডয়ন করেন। প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা অনুযায়ী আকাশে নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করে তিনি নিরাপদে বিমানঘাঁটিতে ফিরে আসেন। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সফলভাবে উড্ডয়ন শেষ করার পর রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন রানিকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তাঁর পোশাকে পরিয়ে দেন সম্মানসূচক গ্রিপেন অর্ডার গোল্ডেন প্যাচ। গ্রিপেন যুদ্ধবিমান চালানোর স্বীকৃতি হিসেবে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের প্রকাশিত ছবিতে রানিকে যুদ্ধবিমান থেকে নেমে রাজার কাছ থেকে অভিনন্দন গ্রহণ করতে দেখা যায়। তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিমান চালনার অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ। রানি সুথিদা ২০১০ সালের ১৩ মে প্রথম বিমান চালনার প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ওই দিন ব্যাংককের উইং ৬ বিমানঘাঁটিতে সেসনা টি ৪১ডি বিমান চালান তিনি। এরপর বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজে রানির মোট ফ্লাইট অভিজ্ঞতা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটে। ছোট প্রশিক্ষণ বিমান থেকে শুরু করে বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চালানোর যোগ্যতাও রয়েছে তাঁর। রাজকীয় সফরে তিনি একাধিকবার রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে একক উড্ডয়নের আগে তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, নিরাপত্তা পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ ৪৫টি বিষয়ে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর সিমুলেটরে ২০টি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনা করেন। পরবর্তী ধাপে দুই আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯ডি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রায় ১০ ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন রানি সুথিদা। এই পর্যায়ে যুদ্ধবিমানের নিয়ন্ত্রণ, উড্ডয়ন, অবতরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। সব প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তাঁকে এক আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। সুইডেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাবের তৈরি গ্রিপেন একটি আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড়তে পারে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা ও নজরদারিসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়। তুলনামূলক ছোট রানওয়ে থেকে পরিচালনার সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বিমানটি বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। থাইল্যান্ডের রয়্যাল এয়ারফোর্সও দীর্ঘদিন ধরে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। দেশটির বিমানবাহিনীর উইং ৭ ঘাঁটি এসব যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনও করা হয়েছে। রানি সুথিদার বিমান চালনার অভিজ্ঞতা অবশ্য রাজপরিবারে যোগ দেওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। তিনি একসময় থাই এয়ারওয়েজে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং রাজকীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বেও যুক্ত হন। ২০১৯ সালে রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি থাইল্যান্ডের রানি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন নিজেও একজন অভিজ্ঞ পাইলট। বিমান চালনার প্রতি আগ্রহের কারণে রাজা ও রানিকে বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে রাজকীয় উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভুটানের পারো বিমানবন্দরে রাজকীয় বিমান অবতরণের সময়ও তাঁরা একসঙ্গে ককপিটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। থাইল্যান্ডের রানি সুথিদার এই উড্ডয়নকে রাজপরিবারের পাশাপাশি দেশটির সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে একজন ক্ষমতাসীন রানি হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এক আসনবিশিষ্ট সুপারসনিক যুদ্ধবিমান একাই পরিচালনার ঘটনা বিরল। দীর্ঘ ১৬ বছরের বিমান চালনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এবার যুক্ত হলো যুদ্ধবিমান পরিচালনার নতুন যোগ্যতা। প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে জেএএস ৩৯সি গ্রিপেনের ককপিটে একাই বসে আকাশে উড্ডয়ন এবং নিরাপদে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডের প্রথম নারী গ্রিপেন পাইলট হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন রানি সুথিদা।
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি গবেষক নাদিয়া তাসনিম আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শুরু করা এই গবেষক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি (ভিসিইউ) থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে চালু হওয়া প্রথম পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিল আণবিক প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তকরণ ও নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হতে পারে। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাদিয়া তাসনিমের এই অর্জনের তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নতুন অধ্যায় যোগ করেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটি একাডেমিক প্রোগ্রামের ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন। নাদিয়ার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনার পর তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শুরুতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও ধীরে ধীরে গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল সমস্যা সমাধানে গবেষণার ভূমিকা তাঁকে আকৃষ্ট করে। সেই আগ্রহ থেকেই উচ্চতর গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাদিয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফার্মাসিউটিক্যাল ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে আরেকটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সেখানেও তিনি প্রোগ্রামটির প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। এই পড়াশোনার মাধ্যমে ওষুধ তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার, নতুন ধরনের ড্রাগ ডেলিভারি পদ্ধতি এবং আধুনিক গবেষণার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর ২০২০ সালে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসিতে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে পিএইচডি শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাদিয়া। ঠিক সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চালু হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রাম। নতুন এই প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সান্দ্রো দা রোচার সঙ্গে আলোচনার পর প্রোগ্রামটির প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভিসিইউর এই পিএইচডি প্রোগ্রামটি স্কুল অব ফার্মেসি এবং কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য ওষুধ উৎপাদন, নতুন ওষুধের উপাদান তৈরি, ড্রাগ ডেলিভারি, ন্যানোম্যাটেরিয়ালস এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণায় বিশেষজ্ঞ তৈরি করা। প্রচলিত ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখাকে যুক্ত করাই প্রোগ্রামটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গবেষণাকালে নাদিয়া মূলত ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত আণবিক পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেন। সিওপিডি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। রোগটির সঙ্গে ফুসফুসে প্রদাহ এবং টিস্যুর ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। নাদিয়া তাঁর গবেষণায় মাস স্পেকট্রোমেট্রি নামের একটি উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে আণবিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। বিশেষভাবে তিনি নিউট্রোফিল ইলাস্টেজ নামের একটি এনজাইমের কার্যক্রম নিয়ে কাজ করেন। এই এনজাইম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফুসফুসের প্রদাহ ও টিস্যুর ক্ষতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় তিনি ম্যাক্রোফেজ নামের রোগপ্রতিরোধী কোষের ওপর নিউট্রোফিল ইলাস্টেজের প্রভাব বোঝার চেষ্টা করেন। ম্যাক্রোফেজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। নাদিয়ার গবেষণায় এই কোষগুলোর কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং ফুসফুসের রোগের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন বায়োমার্কার শনাক্ত এবং চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। তবে এটি মূলত রোগের আণবিক প্রক্রিয়া বোঝার গবেষণা। এর মাধ্যমে নতুন কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি ইতোমধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে বা রোগটির নিরাময় সম্ভব হয়েছে, এমন দাবি বিশ্ববিদ্যালয় করেনি। পিএইচডি গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন নাদিয়া। তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, গবেষণায় সহযোগিতা এবং একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাদিয়া প্রোগ্রামটির প্রথম এক্সিলেন্স ইন ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ভিসিইউর স্কুল অব ফার্মেসির অধ্যাপক অ্যাডাম হকরিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি নাদিয়ার গবেষণার প্রতি আগ্রহ, অধ্যবসায়, স্বাধীনভাবে কাজ করার দক্ষতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতার প্রশংসা করেন। নাদিয়া নিজের পিএইচডি সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান, গবেষণাপত্রের চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথমবার তাঁকে ডক্টর আহমেদ বলে সম্বোধন করার মুহূর্তটি ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ গবেষণার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এই অর্জনে পৌঁছানো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। পিএইচডি শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএতে গবেষণার সুযোগ পান নাদিয়া। তিনি ওক রিজ ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন বা ওরাইসের ফেলো হিসেবে এফডিএর গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত হন। ভিসিইউর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসআইআরএনএ অলিগোনিউক্লিওটাইডভিত্তিক ওষুধের উপাদানের বিশুদ্ধতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন বিশ্লেষণের পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ করেন। এই গবেষণায়ও তিনি মাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। ওষুধের উপাদানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বা অমিশ্রণ শনাক্ত করা ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নতুন ধরনের ওষুধের গুণগত মান ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য এসব বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়। ভিসিইউর অ্যালামনাই তালিকাতেও নাদিয়া তাসনিম আহমেদকে ২০২৪ সালের ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি গ্র্যাজুয়েট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এফডিএতে ওরাইস ফেলো হিসেবে তাঁর প্রথম কর্মজীবনের তথ্যও রয়েছে। ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে অ্যানালিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে উচ্চশিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজিতে দ্বিতীয় মাস্টার্স, এরপর দেশটির প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া তাসনিম আহমেদের শিক্ষাজীবনে যুক্ত হয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর এই সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণের আরেকটি উদাহরণ হয়ে রয়েছে। সূত্র: পাবলিকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ক্রিস্টাল সিটির মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদার স্বামী আরমান্দো গারজা লিরাকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় শেরিফ অফিসের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ ঘটনায় মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় টেক্সাসের জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং আইসিই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। ক্রিস্টাল সিটিতে একজন ব্যক্তি বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া বসবাস করছেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযানটি চালানো হয়। ক্রিস্টাল সিটি সান আন্তোনিও শহর থেকে প্রায় ১১৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটের দিকে শেরিফ অফিসের একজন ডেপুটি ক্রিস্টাল সিটির একটি গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের একজন ছিলেন আরমান্দো গারজা লিরা। অন্যজন ছিলেন শহরের মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদা। পরিচয় শনাক্তের পর ডেপুটিরা ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেরিফ অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিই তখন জানায়, আরমান্দো গারজা লিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া অবস্থান করছেন। এরপর তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর লিরাকে জাভালা কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের জন্য তাঁকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে একই গাড়িতে থাকা মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। নিউজ নেশনের প্রতিবেদক আলি ব্র্যাডলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছেন, লিরা তাঁর ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি কোন দেশের নাগরিক, কী ধরনের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ঠিক কত দিন আগে তাঁর অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট করা হয়নি। একইভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ডিপোর্টেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, আগে কোনো ইমিগ্রেশন কোর্টের আদেশ ছিল কি না কিংবা তিনি বর্তমানে অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাসের আবেদন করেছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, টেক্সাসের আইন অনুযায়ী স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হয়। টেক্সাস গভর্নমেন্ট কোডের ৭৫২.০৫৩ ধারা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন এমন কোনো নীতি গ্রহণ করতে পারে না, যা নির্দিষ্ট ধরনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে। শেরিফ অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই আইসিইর সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও স্টেট ও ফেডারেল আইনের আওতায় এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা সাধারণত ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি, পূর্ববর্তী ইমিগ্রেশন রেকর্ড এবং প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে আটক, শুনানি কিংবা ডিপোর্টেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসার গায়ে লেখা মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমোদিত সময় সব সময় এক নয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আই-৯৪ রেকর্ড বা অনুমোদিত স্ট্যাটাসের শর্ত অনুযায়ী অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারিত হয়। ফলে শুধু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বলেই কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, এমন সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। আরমান্দো গারজা লিরার বিষয়ে আইসিইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁকে বৈধ স্ট্যাটাসবিহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তাঁর পূর্ণাঙ্গ ইমিগ্রেশন রেকর্ড কিংবা আদালতের নথি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বাইরেও তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এদিকে ক্রিস্টাল সিটির মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদা ঘটনার সময় তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে শেরিফ অফিস। তবে মেয়রের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির মধ্যে এই গ্রেপ্তারের খবর সামনে এসেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করার কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ অফিসের সঙ্গে আইসিইর সহযোগিতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় রয়েছে। টেক্সাসে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার আইনি কাঠামো আগে থেকেই রয়েছে। জাভালা কাউন্টির শেরিফ অফিস জানিয়েছে, লিরাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও সেই কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে। তবে লিরার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সহিংস অপরাধ, প্রতারণা কিংবা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার কারণ মূলত তাঁর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসসংক্রান্ত অভিযোগ। মেয়রের স্বামী হওয়া সত্ত্বেও আরমান্দো গারজা লিরার ক্ষেত্রে সাধারণ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তিনি ইমিগ্রেশন কোর্টে শুনানির সুযোগ পাবেন কি না এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো আইনগত সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ফেডারেল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে ফেরিতে যাতায়াতকারীদের জন্য নতুন ভাড়ার নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক সিটি ফেরির একক যাত্রার ভাড়া ৪ ডলার ৯০ সেন্ট থেকে বেড়ে ৫ ডলার হবে। একই সঙ্গে ১০ যাত্রার টিকিটের প্যাকেজের দাম ২৯ ডলার থেকে বেড়ে ৩০ ডলার হবে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন করপোরেশন। নিউইয়র্কের ফেরি ব্যবস্থা ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের নদীপথে যাতায়াতের সুযোগ দেয়। অনেক বাসিন্দা কর্মস্থলে যাওয়া, পর্যটন এবং দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এ সেবা ব্যবহার করেন। ফলে ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব নিয়মিত যাত্রীদের বাজেটে পড়তে পারে। নতুন নিয়মে একবারের যাত্রায় ১০ সেন্টের পরিবর্তে ৫০ সেন্ট বৃদ্ধি হচ্ছে। তবে ১০ যাত্রার প্যাকেজ কিনলে প্রতিবারের গড় খরচ ৩ ডলার থাকবে। অর্থাৎ নিয়মিত ফেরি ব্যবহারকারীদের জন্য একাধিক যাত্রার টিকিট তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে ফেরি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড়ের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করা হবে। বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী যাত্রী এবং নগরীর নির্দিষ্ট স্বল্প আয়ের যাতায়াত-সহায়তা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্যও ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব যাত্রীর একক ভাড়া ১ ডলার ৪৫ সেন্ট থেকে বেড়ে ১ ডলার ৫০ সেন্ট হবে। তবে দুই দিনের ছাড়যুক্ত পাসের দাম ১৫ ডলারই থাকবে এবং এটি স্থায়ী বিকল্প হিসেবে চালু থাকবে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ভাড়ার পরিবর্তনটি জানা জরুরি, বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন ফেরিতে যাতায়াত করেন কিংবা সন্তানদের স্কুলে নেওয়ার জন্য এই পরিবহন ব্যবহার করেন। যাত্রার আগে নতুন ভাড়া ও ছাড়ের শর্ত দেখে নিলে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানো সম্ভব।
নিউইয়র্কের কুইন্সে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে সামান্য ভুলেই গুনতে হতে পারে ৬৫ থেকে ১১৫ ডলার বা তারও বেশি জরিমানা। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, এলমহার্স্ট, উডসাইড ও ফ্লাশিংয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং সাইন, মিটার এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নিয়ম না বুঝে গাড়ি রাখলে টিকিট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এবং গাড়ি টো করার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনওয়াইসি ডিওটি), ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ি পার্ক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়াই সবচেয়ে জরুরি। একই রাস্তায় এক পাশে পার্কিংয়ের অনুমতি থাকলেও অন্য পাশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই জায়গার পার্কিং নিয়মও বদলে যেতে পারে। কুইন্সে পার্কিং টিকিটের অন্যতম পরিচিত কারণ অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশে গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ থাকে। অনেক আবাসিক এলাকায় সপ্তাহে একাধিক দিন এই নিয়ম কার্যকর হলেও সব রাস্তার সময়সূচি এক নয়। তাই নিজের এলাকার নিয়ম মনে রাখার পাশাপাশি সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা দিন ও সময় অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের গাড়ি রাস্তা পরিষ্কার করে চলে গেলেও সাইনে উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। অর্থাৎ রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেছে ভেবে আগে গাড়ি পার্ক করলে টিকিট পাওয়া যেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, অল্টারনেট সাইড পার্কিং লঙ্ঘনের জরিমানা ৬৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ ছুটির দিন, ধর্মীয় উৎসব, তুষারপাত কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে কখনো কখনো অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাময়িক স্থগিত করা হয়। তবে এএসপি সাসপেন্ড হওয়ার অর্থ সব ধরনের পার্কিং ফ্রি হয়ে যাওয়া নয়। ওই দিনেও সাধারণত মিটার পেমেন্ট, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, বাস স্টপ, নো পার্কিং এবং নো স্ট্যান্ডিংয়ের নিয়ম কার্যকর থাকে। অবশ্য নির্দিষ্ট বড় সরকারি ছুটির দিনে মিটার পেমেন্টের নিয়মেও ছাড় থাকতে পারে। তাই ছুটির দিনেও গাড়ি রাখার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। কুইন্সে আরেকটি ব্যয়বহুল ভুল হলো ফায়ার হাইড্র্যান্টের খুব কাছে গাড়ি রাখা। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের উভয় পাশে ১৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়। এই নিয়ম ভাঙলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটি সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। চালক নিজে ড্রাইভিং সিটে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক গাড়ি সরাতে প্রস্তুত থাকলে যাত্রীবাহী গাড়ি হাইড্র্যান্টের পাশে সাময়িক দাঁড়াতে পারে। গাড়ি রেখে চলে যাওয়ার অনুমতি এই ব্যতিক্রমে নেই। মিটার পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের জন্য সুবিধাজনক একটি ব্যবস্থা হলো পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতেই এই অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তার মিটার পার্কিংয়ের পেমেন্ট করা যায়। এতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পার্কিং সেশন চালু করা, কত সময় বাকি আছে দেখা এবং সময় শেষ হওয়ার আগে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রতিবার মিটারের কাছে গিয়ে পেমেন্ট করতে হয় না। তবে অ্যাপ ব্যবহার করলেই ইচ্ছামতো সময় বাড়ানো যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পার্কিং জোনে সাইনবোর্ডে যতক্ষণ গাড়ি রাখার অনুমতি রয়েছে, সর্বোচ্চ ততক্ষণই পেমেন্ট করা যাবে। শুরুতে কম সময়ের পেমেন্ট করলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ সময় শেষ হলে অ্যাপ দিয়ে একই জায়গায় পার্কিং চালিয়ে যাওয়া বৈধ নয়। এমনকি পেমেন্ট করা থাকলেও অন্য কোনো পার্কিং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে টিকিট হতে পারে। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটসের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ, ৭৪ স্ট্রিট, জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং কুইন্সের অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকায় গাড়ি রাখার সময় মিটার ও পার্কিং সাইন ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। আগে কোনো জায়গায় ফ্রি পার্কিং পাওয়া গেলেও এখনো সেখানে একই নিয়ম রয়েছে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রাস্তার মিটার ব্যবস্থা, পার্কিংয়ের সময়সীমা কিংবা নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য সংরক্ষিত জায়গার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে। অনেক ড্রাইভার নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং ও নো স্টপিং সাইনের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অথচ তিনটির নিয়ম আলাদা। নো পার্কিং এলাকায় সাধারণত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং মালামাল লোড বা আনলোড করার জন্য সাময়িক দাঁড়ানো যায়। নো স্ট্যান্ডিং এলাকায় শুধু যাত্রী ওঠানো বা নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দাঁড়ানোর অনুমতি রয়েছে। সেখানে মালামাল তোলা বা নামানোর জন্য দাঁড়ানো যায় না। আর নো স্টপিং এলাকায় সাধারণভাবে যাত্রী ওঠানো, নামানো কিংবা মালামাল লোড করার জন্যও গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ। এ ক্ষেত্রে গাড়ির ভেতরে ড্রাইভার বসে আছেন কি না, সেটি সব সময় জরিমানা এড়ানোর ভিত্তি নয়। কোনো জায়গায় নো স্ট্যান্ডিং কার্যকর থাকলে সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় গাড়িতে বসে থাকলেও টিকিট হতে পারে। একইভাবে রাস্তার পাশে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে রাখলেই অবৈধ পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ নো স্ট্যান্ডিং বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা ১১৫ ডলার। বাস স্টপ, বাস লেন ও বাইক লেনের নিয়মও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত বাস লেনে কিংবা বাইক লেনের ভেতরে গাড়ি পার্ক করলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। ড্রাইভওয়ের সামনে গাড়ি রেখে অন্যের প্রবেশপথ আটকে দিলেও জরিমানা হতে পারে ৯৫ ডলার। রাস্তার মাঝখানে অন্য গাড়ির পাশে ডাবল পার্কিং করাও সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। কয়েক মিনিটের জন্য দোকানে প্রবেশ করা কিংবা কাউকে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা নিরাপদ নয়। তবে ড্রাইভারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পাঁচ মিনিটের গ্রেস পিরিয়ড। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং মিটার, পার্কএনওয়াইসি সেশন এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ এসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সময় শেষ হওয়ার পর প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে শুধু ওই সময়সীমা অতিক্রমের কারণে টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এই ছাড় ফায়ার হাইড্র্যান্ট, নো স্ট্যান্ডিং কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কুইন্সের ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে। স্পটহিরো ও পার্কহুইজের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আশপাশের পার্কিং গ্যারেজের অবস্থান, সম্ভাব্য খরচ এবং আগাম বুকিংয়ের সুবিধা দেখা যায়। তবে গ্যারেজের রেট, অতিরিক্ত চার্জ এবং গাড়ি প্রবেশ ও বের করার সময়সূচি আগে যাচাই করা উচিত। অনেক সময় কাছাকাছি অবৈধ জায়গায় গাড়ি রাখার চেয়ে নির্ধারিত গ্যারেজে পার্ক করা কম ঝুঁকিপূর্ণ। পার্কিং টিকিট পেয়েও ড্রাইভারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। কোনো টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের মাধ্যমে সেটি চ্যালেঞ্জ করা যায়। টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে হিয়ারিংয়ের আবেদন করলে বিলম্বজনিত অতিরিক্ত জরিমানা এড়ানো সম্ভব। অনলাইনে, অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপে, ডাকযোগে অথবা সরাসরি নির্ধারিত অফিসে গিয়ে আপত্তি জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আবেদন করলেই টিকিট বাতিল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে ভুল টিকিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে চাইলে ঘটনাস্থলের পার্কিং সাইন, রাস্তার অবস্থান, মিটার পেমেন্টের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা ভালো। বিশেষ করে সাইন অস্পষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নির্দিষ্ট পার্কিং নিয়ম নিয়ে বিরোধ থাকলে এসব তথ্য কাজে আসতে পারে। একই সঙ্গে টিকিটের তারিখ, সময়, ভায়োলেশন কোড ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক সিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পার্কিং টিকিটের জরিমানা পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত পেনাল্টি যোগ হতে পারে। বকেয়া জরিমানা দীর্ঘদিন জমে থাকলে গাড়িতে বুট লাগানো কিংবা টো করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। তাই টিকিট পাওয়ার পর সেটি উপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো। জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকা পর্যন্ত কুইন্সের যেকোনো এলাকায় গাড়ি পার্ক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হলো রাস্তার সাইন ভালোভাবে পড়া, নির্ধারিত মিটার পেমেন্ট করা এবং পার্কিংয়ের সময়সীমা মেনে চলা। অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাসপেনশনের সর্বশেষ তথ্য এনওয়াইসি ৩১১ অথবা সিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাচাই করা যায়। পার্কিং নিয়ম এলাকা ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে প্রতিবার পার্কিংয়ের আগে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করাই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মোবাইল অর্থ লেনদেনের সেবা ক্যাশ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও অননুমোদিত লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় অনুমোদিত দাবিদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নিউইয়র্কের ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার কথা। মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছিল, ক্যাশ অ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান ব্লক ইনকরপোরেটেড গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে সাবেক এক কর্মীর মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের ঘটনা এবং ২০২৩ সালে পুনর্ব্যবহৃত ফোন নম্বরের মাধ্যমে কিছু অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়ও ছিল। তবে ক্যাশ অ্যাপ ও ব্লক কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি। এই সমঝোতার আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলন, প্রতারণামূলক লেনদেন কিংবা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু বর্তমান ও সাবেক গ্রাহক দাবি জমা দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। অনুমোদিত দাবিদাররা নথিপত্র ও সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্ষতির অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে প্রত্যেকে এই পরিমাণ অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। দাবি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৮ নভেম্বর ২০২৪। তাই যাঁরা ওই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা দেননি, তাঁরা এখন নতুন করে এই সমঝোতার অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন না। যাঁরা আগে আবেদন করেছেন, তাঁদের দাবি অনুমোদিত হয়েছে কি না এবং অর্থ পাঠানোর অবস্থা কী, তা যাচাই করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডে দুই লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামাসের অর্থায়নে জড়িত একটি নেটওয়ার্কে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিলের কার্যালয়। লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদেল আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী ইমান এইচ ডি স্রুর, ৩৩ বছর বয়সী ওমর আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী আমানি আবু জেনাহ এবং দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আই আদহামি। তাঁরা লুইজিয়ানার কভিংটন এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকেই সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ জেলে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের যৌথ তদন্তে দুই ভাই আবদেল ও ওমরের বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কটি হামাসের সহায়তায় ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে ওই দুই ভাই এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সংগঠনটির জন্য জেনেশুনে অর্থ বা অন্যান্য বস্তুগত সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগ ফেডারেল পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের মেডিকেইড সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ যৌথভাবে তাঁদের আয় ও সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা গ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে মেডিকেইডের সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৪০ ডলারের সুবিধা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় সঠিকভাবে জানানো হলে তাঁরা এসব সুবিধার সবটুকু পাওয়ার যোগ্য হতেন না। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারসহ যোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে আবেদন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া হলে তা সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির আওতায় পড়তে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদেল আদহামি ও তাঁর স্ত্রী ইমান স্রুরের বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির পাঁচটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মেডিকেইড কর্মসূচির আনুমানিক এক লাখ ১৩ হাজার ৩৪৪ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ওমর আদহামি ও তাঁর স্ত্রী আমানি আবু জেনাহর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৮১ হাজার ৯৯ ডলার। পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আই আদহামির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ফলে মেডিকেইড কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৭ ডলার। অন্যদিকে ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে আবদেল আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ হাজার ডলার এবং ওমর আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ডলার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অর্থ পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সালিম আলজাক নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সংগ্রহের নামে অর্থ তুলতেন। তবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্সেও তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির অভিযোগকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার করদাতাদের অর্থ থেকে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, তাঁর কার্যালয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে স্টেটের করদাতাদের জন্য আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে। তবে এ মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। হামাসের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ মূলত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে তদন্ত ও বিচারের বিষয়। অন্যদিকে মেডিকেইডে আয়সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ের মামলা। মেডিকেইডের অর্থ সরাসরি হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক যোগসূত্র কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি। পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই, সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ শেরিফ অফিস, হ্যামন্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ম্যান্ডেভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় স্টেটের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সেন্ট ট্যামানি প্যারিশের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলিন সিমস। ফেডারেল পর্যায়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া, এ ধরনের সহায়তার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেই অভিযুক্তদের সেই সাজা হবে, এমন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর শাস্তি নির্ভর করবে। লুইজিয়ানার এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। সূত্র: বাফলো প্রতিদিন