সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:৪৯
বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ
বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ

বিদেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের ২৭টি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের এসব কর্মসূচিতে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত কিংবা গবেষণার খরচে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয়। কিছু কর্মসূচিতে শুধু টিউশন ফি কিংবা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

 

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের আবেদন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য ১৪ অক্টোবর এবং কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপের জন্য ২০ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। ফ্রান্সের এমিল বুতমি স্কলারশিপের মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম আবেদন পর্বের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। তবে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে।

 

যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি। এই কর্মসূচির আওতায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬। অন্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য কোর্সভেদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ৬ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৪ অক্টোবরের ডেডলাইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।

 

যুক্তরাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ যোগ্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পান। স্কলারশিপে টিউশন ফি, বিমানভাড়া ও জীবনযাপনের নির্ধারিত ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর ব্রিটিশ সময় বিকেল ৪টায় আবেদন শেষ হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

 

ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি স্কলারশিপেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরের প্রতিটি বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় পান। প্রথম আবেদন পর্বের ডেডলাইন ১৮ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় পর্বের ডেডলাইন ২৯ নভেম্বর। ব্যাচেলর পর্যায়ের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে। তবে এটি মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের সব জীবনযাত্রার খরচ বহন করে না।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস ২০২৭ কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই স্কলারশিপে বিভিন্ন পর্যায়ে টিউশন ফি, ভাষাশিক্ষা ও জীবনযাপনের সহায়তার সুযোগ থাকে। প্রকাশিত তালিকায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের এম্বাসি ট্র্যাকের ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাকের আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক সময়ে পরিচালিত হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর করতে আগ্রহীদের জন্য ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন, আবাসন এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও স্কলারশিপ বিবেচনার শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়।

 

একই সময়ে রাশিয়ার ওপেন ডোরস স্কলারশিপ কর্মসূচিতেও আবেদন করার সুযোগের কথা রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত বিষয়ে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থী একই ধরনের আর্থিক সুবিধা পান না। বিশেষ করে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার খরচ বহন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে।

 

এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির আওতায় জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব টোকিওসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, জীবনযাপনের ভাতা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের আবেদনের সময়সীমা এবং কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত আলাদা হতে পারে।

 

চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপেও মাস্টার্স পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক আন্তবিষয়ক গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকায় ৩০ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সময় অস্ট্রিয়ার হেলমুট ভাইথ স্টাইপেন্ডের ডেডলাইনও দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই কর্মসূচি কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করতে আগ্রহী যোগ্য নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যৌথভাবে মাস্টার্স করার জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস কর্মসূচিতে একাধিক স্কলারশিপ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় এমএপিপি, আইএলএসপিএসডি, এমইএসপিওএম ও গ্লোকাল কর্মসূচির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাসমাস মুন্ডাসের সব প্রোগ্রামের আবেদন একসঙ্গে শুরু বা শেষ হয় না। প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত রয়েছে।

 

সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল মাস্টার্স এক্সিলেন্স ফেলোশিপের জন্য ১৫ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ সহায়তা পান। সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত এই অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের টিউশন ফি ও আবাসনসহ অন্যান্য ব্যয়ের দায়িত্বও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে এটিকে সব খরচ বহনকারী স্কলারশিপ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়।

 

নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএল হাই পটেনশিয়াল স্কলারশিপেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং স্কলারশিপের চূড়ান্ত ডেডলাইন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। তবে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হতে অনেক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এই স্কলারশিপ মূলত নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য, সব ব্যাচেলর কোর্সের জন্য নয়।

 

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয় এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

 

জার্মানির ডাড ইপিওএস স্কলারশিপ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচিতে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, অর্থনীতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কর্মঅভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সব কোর্সের ডেডলাইন এক নয়। ডাডের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে আলাদা আবেদন সময়সূচি দেওয়া হয়েছে।

 

সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাউস্টেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তা, আবাসন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট ফান্ডিংয়ের সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীকে আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তির শর্ত ও নির্ধারিত ইনটেক সম্পর্কে জানতে হবে।

 

কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় যথাক্রমে ১৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পৃথক হতে পারে।

 

থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ রয়েছে। তবে এআইটির সাধারণ স্কলারশিপে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হতে পারে। জীবনযাপনের খরচ এবং অন্যান্য ফি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। ফলে সব এআইটি স্কলারশিপকে সম্পূর্ণ ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

 

প্রকাশিত ২৭টি সুযোগের তালিকায় আরও রয়েছে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসংশ্লিষ্ট জেমস স্কলারশিপ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের এডিবি স্কলারশিপ, সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ এবং ফ্রান্সের এমওপিজিএ ফেলোশিপ। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে কিছু গবেষণা ফেলোশিপ, কিছু টিউশন সহায়তা এবং কিছু সম্পূর্ণ স্কলারশিপ। সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত, হাঙ্গেরিতে নয়। পাশাপাশি সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপের সব বিভাগ সাধারণ মাস্টার্স ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো সিজিপিএ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পিএইচডি ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুযোগের মধ্যে মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

 

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্কলারশিপের আবেদন চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন চালু থাকা সব সময় একই বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হয়। কিছু স্কলারশিপে আলাদা আবেদন প্রয়োজন, আবার কিছু প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন থেকেই ফান্ডিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হয়।

 

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই অক্টোবর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব স্কলারশিপের আবেদন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে শেষ হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যোগ্যতা ও ডেডলাইন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কতটুকু বহন করা হবে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ নির্বাচন করতে পারবেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগে নতুন বাধা, ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।এর অংশ হিসেবে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিনিময়ভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।   পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের ফি আরোপের প্রস্তাব এসেছে। এসব পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে পারে।    ৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা দেন, হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডসহ নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হবে। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ব্যবহৃত জে-১ ভিসা কর্মসূচি যথাযথভাবে ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।   এই ভিসা সাধারণত শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস শাখা, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।   প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিমধ্যে তদন্তসংক্রান্ত নথি তলবের চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস শাখা তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও নথি পর্যালোচনা বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেছে।    এই তদন্তের পাশাপাশি ৭ অক্টোবর বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজ করার সুযোগ নিয়েও নতুন প্রস্তাব সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছামূলক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা ওপিটিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে, এমন প্রস্তাব করেছে প্রশাসন।   ওপিটি কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে সাময়িকভাবে যুক্ত হতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত নিয়ম; কার্যকর হয়ে গেছে এমন সিদ্ধান্ত হিসেবে একে দেখা ঠিক হবে না।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পর অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিজেদের বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ওপিটি কর্মসূচির ওপর নির্ভর করেন।   প্রস্তাবিত ফি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে এর ব্যয় বহন করবে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগে কী প্রভাব পড়বে এবং নিয়মটি কবে কার্যকর হতে পারে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠবে। তবে এখনই সব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাজের অনুমতি বন্ধ হচ্ছে বা তাঁদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৩:৪৩
নিউইয়র্কের স্কুলে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার

নিউইয়র্কের স্কুলে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিশেষ ছাড়, অনলাইনে পড়ার সুযোগ

বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ

বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ

অভিভাবকদের সাথে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ফটো।

নিউইয়র্কে শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ, বাংলাভাষী অভিভাবকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা

শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন।
ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে ইন্টারেস্ট কমানোর সুযোগ, অটোপেতে নাম লেখানোর সময় বাড়ল

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধ করছেন এমন ঋণগ্রহীতারা সুদের হার সাময়িকভাবে ১ শতাংশ কমানোর জন্য আরও সময় পাচ্ছেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন অটোপে ব্যবস্থায় নাম লেখানোর সময়সীমা বাড়িয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অটোপেতে যুক্ত হলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই বাড়তি সুদছাড় পেতে পারেন।    এই সুবিধা মূলত তাঁদের জন্য, যারা এখনো প্রতি মাসে ম্যানুয়ালি পেমেন্ট করেন। অটোপেতে নাম লেখালে মাসিক কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে এবং সুদের হারে ১ শতাংশ পয়েন্ট ছাড় পাওয়া যাবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে অটোপে ডিসকাউন্ট আগের ০.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।    সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, যোগ্য ঋণগ্রহীতারা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ইস্টার্ন টাইমের মধ্যে অটোপেতে নাম লেখাতে পারবেন। এর আগে কিছু সার্ভিসারের নোটিশে ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।    এই ছাড় সব ধরনের ঋণে প্রযোজ্য নয়। ফেডারেল লোন সার্ভিসারদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পরে বিতরণ করা নির্দিষ্ট ডাইরেক্ট লোন এই সাময়িক ১ শতাংশ অটোপে ডিসকাউন্টের আওতায় পড়তে পারে। নিজের লোন যোগ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট লোন সার্ভিসারের অ্যাকাউন্টে গিয়ে যাচাই করতে হবে।    উদাহরণ হিসেবে, কারও ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের সুদের হার ৬.৫ শতাংশ হলে যোগ্যতা সাপেক্ষে অটোপেতে যুক্ত হওয়ার পর কার্যকর হার সাময়িকভাবে ৫.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এতে মূল ঋণের চুক্তিভিত্তিক স্থায়ী সুদের হার পরিবর্তন হয় না। বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পেমেন্টে একটি সুদছাড় কার্যকর থাকে।   এই সুবিধা এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন নতুন ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের সুদের হার তুলনামূলকভাবে উঁচু। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রথমবার বিতরণ করা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড লোনের স্থায়ী সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ।   গ্র্যাজুয়েট বা প্রফেশনাল শিক্ষার্থীদের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড লোনের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস লোনের হার ৯.০৭ শতাংশ। ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে সুদ প্রতিদিন জমা হয়। অর্থাৎ ঋণের বকেয়া মূল অর্থ এবং প্রযোজ্য সুদের হার অনুযায়ী প্রতিদিন নতুন সুদ যোগ হতে থাকে। এ কারণে ১ শতাংশ পয়েন্টের ছাড় দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় আনতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের ঋণের পরিমাণ বেশি।    তবে অটোপেতে নাম লেখানোর আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ আছে কি না তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ব্যর্থ হলে ব্যাংক ফি বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের নিজেদের লোন সার্ভিসারের ওয়েবসাইটে গিয়ে অটোপের শর্ত, যোগ্যতা ও কার্যকর তারিখ দেখে নেওয়া উচিত।   ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে একাধিক ঋণ থাকলে কনসোলিডেশন আরেকটি বিকল্প হতে পারে, তবে সেটি কেবল সুদ কমানোর উপায় নয়। ডাইরেক্ট কনসোলিডেশন লোনে একাধিক ঋণকে একটিতে একত্র করা যায়, কিন্তু নতুন সুদের হার সাধারণত আগের ঋণগুলোর ওজনযুক্ত গড়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং তা কাছাকাছি এক-অষ্টমাংশ শতাংশে রাউন্ড করা হয়। ফলে কনসোলিডেশন করলেই সুদের হার কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই।    বর্তমান অটোপে সুবিধার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়সীমা। যারা এখনো ম্যানুয়ালি ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের কিস্তি দিচ্ছেন এবং যোগ্য লোন আছে, তাদের জন্য ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত অটোপেতে নাম লেখানোর সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্ত হলে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১ শতাংশ পয়েন্ট সুদছাড় কার্যকর থাকতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৯:২৭
রিকার্ডো

১১ বছর সিকিউরিটি গার্ড, কলেজে ডিগ্রী অর্জনের পর অবশেষে সেই ব্যাংকেই অফিসার তিনি

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন অধ্যাপক মালবিকা সরকার। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে হার্ভার্ড, এখন ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মালবিকা সরকার

সিজিপিএ ৩.৫-এর নিচে থাকা সত্ত্বেও নিজের মেধা ও গবেষণা দিয়ে হার্ভার্ডে সুযোগ পেয়েছেন রেজাউল করিম রিপন। ছবি: সংগৃহীত

৩.৪৬ সিজিপিএ নিয়েই হার্ভার্ডে, গবেষণায় পথ খুলেছেন জাবির রিপন

টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ
টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, আবেদন করতে পারবেন কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য পিএইচডি পর্যায়ে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে এই গবেষণা সহকারী পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থী টেকসই ও অর্গানিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার মূল বিষয় হবে অর্গানিক তরমুজ উৎপাদন ব্যবস্থায় অ্যানেরোবিক সয়েল ডিসইনফেস্টেশন বা অক্সিজেন সীমিত করে মাটিতে রোগজীবাণু ও আগাছা নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি। একই সঙ্গে বায়োডিগ্রেডেবল মালচ ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, পুষ্টিচক্র, মাটির জৈবিক কার্যক্রম, আগাছার উদ্ভব ও দমন, মাটির স্বাস্থ্য এবং ফসলের উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করা হবে।   এই গবেষণায় মাঠপর্যায়ের কাজের পাশাপাশি ল্যাবরেটরিভিত্তিক গবেষণাও থাকবে। ফলে আগাছাবিজ্ঞান, মাটির উর্বরতা, মাটির জীববিজ্ঞান, টেকসই কৃষি এবং অর্গানিক ফসল উৎপাদনের একাধিক ক্ষেত্র নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের মাঠপর্যায়ের গবেষণা, মাটি ও উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ, ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   আবেদনকারীদের এগ্রোনমি, উইড সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স, হর্টিকালচার, ক্রপ সায়েন্স অথবা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।   পদটি টেক্সাসের লাবক শহরে অবস্থিত টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর গবেষণা কার্যক্রম ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে শুরু হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামের ২০২৭ স্প্রিং সেমিস্টারের আবেদন সময়সীমা ১৫ অক্টোবর ২০২৬।   প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সে পিএইচডি প্রোগ্রামে মোট ৭২ ক্রেডিট আওয়ার সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রির পর ৬০ ক্রেডিট আওয়ার গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্ক এবং ১২ ক্রেডিট আওয়ার গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভের জন্য নির্ধারিত। শিক্ষার্থীরা ক্রপ প্রোটেকশন, ক্রপ সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স এবং ফাইবারস অ্যান্ড বায়োপলিমারসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়নের সুযোগ পান।   গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত, অনানুষ্ঠানিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, গবেষণার আগ্রহ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং তিনজন রেফারির যোগাযোগের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনপত্র সরাসরি সংশ্লিষ্ট গবেষকের কাছে ইমেইলে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে।   প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পদটিকে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট মাসিক স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে অর্থায়নের পূর্ণ শর্ত, সহকারী পদের মেয়াদ এবং টিউশন সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট গবেষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের গবেষণা সহকারী পদ যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে। তবে শুধু গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামের একাডেমিক ভর্তি শর্তও পূরণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।   বিশেষ করে যারা এগ্রোনমি, সয়েল সায়েন্স, ক্রপ সায়েন্স, হর্টিকালচার বা আগাছাবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন এবং টেকসই কৃষি, অর্গানিক উৎপাদন ব্যবস্থা বা মাটির স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী, তাদের জন্য এই সুযোগটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত ও গবেষণার আগ্রহের বিবরণ প্রস্তুতের সময় পূর্বের গবেষণার অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ, ল্যাবরেটরি দক্ষতা এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৫৩
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ডিগ্রি থাকলেও নিউইয়র্কে এবার বিনামূল্যে কলেজ, নতুন ক্যারিয়ারের দরজা খুলছে হাজারো মানুষের জন্য

ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাংকিং ক্যারিয়ার ছেড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছেন নায়লা শারাফ। ছবি: সংগৃহীত

বুয়েটের ডিগ্রি, বিসিএস ক্যাডারের চাকরি ছেড়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নায়লা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে ঢাবিকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নেওয়ার আহ্বান

0 Comments