সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ক্যাশ অ্যাপ
ক্যাশ অ্যাপের ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, যোগ্য গ্রাহকদের টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মোবাইল অর্থ লেনদেনের সেবা ক্যাশ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও অননুমোদিত লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় অনুমোদিত দাবিদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা রয়েছে।   নিউইয়র্কের ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার কথা। মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছিল, ক্যাশ অ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান ব্লক ইনকরপোরেটেড গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।   অভিযোগের মধ্যে সাবেক এক কর্মীর মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের ঘটনা এবং ২০২৩ সালে পুনর্ব্যবহৃত ফোন নম্বরের মাধ্যমে কিছু অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়ও ছিল। তবে ক্যাশ অ্যাপ ও ব্লক কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি।  এই সমঝোতার আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলন, প্রতারণামূলক লেনদেন কিংবা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু বর্তমান ও সাবেক গ্রাহক দাবি জমা দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। অনুমোদিত দাবিদাররা নথিপত্র ও সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্ষতির অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে প্রত্যেকে এই পরিমাণ অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।   দাবি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৮ নভেম্বর ২০২৪। তাই যাঁরা ওই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা দেননি, তাঁরা এখন নতুন করে এই সমঝোতার অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন না। যাঁরা আগে আবেদন করেছেন, তাঁদের দাবি অনুমোদিত হয়েছে কি না এবং অর্থ পাঠানোর অবস্থা কী, তা যাচাই করা উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৯:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডে দুই লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামাসের অর্থায়নে জড়িত একটি নেটওয়ার্কে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিলের কার্যালয়।   লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদেল আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী ইমান এইচ ডি স্রুর, ৩৩ বছর বয়সী ওমর আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী আমানি আবু জেনাহ এবং দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আই আদহামি। তাঁরা লুইজিয়ানার কভিংটন এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকেই সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ জেলে নেওয়া হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের যৌথ তদন্তে দুই ভাই আবদেল ও ওমরের বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কটি হামাসের সহায়তায় ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে ওই দুই ভাই এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সংগঠনটির জন্য জেনেশুনে অর্থ বা অন্যান্য বস্তুগত সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগ ফেডারেল পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের মেডিকেইড সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ যৌথভাবে তাঁদের আয় ও সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা গ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করে।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে মেডিকেইডের সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৪০ ডলারের সুবিধা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় সঠিকভাবে জানানো হলে তাঁরা এসব সুবিধার সবটুকু পাওয়ার যোগ্য হতেন না।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারসহ যোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে আবেদন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া হলে তা সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির আওতায় পড়তে পারে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদেল আদহামি ও তাঁর স্ত্রী ইমান স্রুরের বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির পাঁচটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মেডিকেইড কর্মসূচির আনুমানিক এক লাখ ১৩ হাজার ৩৪৪ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে ওমর আদহামি ও তাঁর স্ত্রী আমানি আবু জেনাহর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৮১ হাজার ৯৯ ডলার।   পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আই আদহামির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ফলে মেডিকেইড কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৭ ডলার।   অন্যদিকে ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে আবদেল আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ হাজার ডলার এবং ওমর আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ডলার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অর্থ পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সালিম আলজাক নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সংগ্রহের নামে অর্থ তুলতেন। তবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।   ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্সেও তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির অভিযোগকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার করদাতাদের অর্থ থেকে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, তাঁর কার্যালয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে স্টেটের করদাতাদের জন্য আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে।   তবে এ মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। হামাসের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ মূলত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে তদন্ত ও বিচারের বিষয়। অন্যদিকে মেডিকেইডে আয়সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ের মামলা। মেডিকেইডের অর্থ সরাসরি হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক যোগসূত্র কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।   পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই, সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ শেরিফ অফিস, হ্যামন্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ম্যান্ডেভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় স্টেটের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সেন্ট ট্যামানি প্যারিশের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলিন সিমস।   ফেডারেল পর্যায়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া, এ ধরনের সহায়তার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেই অভিযুক্তদের সেই সাজা হবে, এমন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর শাস্তি নির্ভর করবে।   লুইজিয়ানার এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: বাফলো প্রতিদিন

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৯:২৩
মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
নিউইয়র্কে ১৫ তলা থেকে মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সাবেক প্রেমিক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের ব্রঙ্কস এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ১৫ তলার বারান্দা থেকে এক তরুণী মা ও তাঁর আট মাসের শিশুকন্যাকে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ভোরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী নাথালি রামিরেজের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসের অ্যালারটন এলাকার একটি আবাসিক ভবনে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে জরুরি ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে মা ও শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের দুজনকেই জ্যাকোবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তরুণী মাকে বাঁচাতে পারেননি।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, নাথালি তাঁর শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বারান্দা থেকে নিচে পড়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে আসে যে, তাঁদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।   এ ঘটনায় অ্যাঞ্জেল কারাসকো নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস ও নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি আঞ্চলিক পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বাহিনীর সদস্যরা বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ এবং হামলাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী বলা যাবে না।    ঘটনাটি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় মানুষ নাথালি ও তাঁর শিশুকন্যার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী মায়ের স্মরণে মানুষ ফুল নিয়ে আসেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।    ঘটনাটি আবারও পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সহিংসতা প্রতিরোধের গুরুত্ব সামনে এনেছে। সম্পর্কের মধ্যে হুমকি, শারীরিক আক্রমণ বা জোরপূর্বক প্রবেশের মতো ঘটনা ঘটলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিচিত কেউ ঝুঁকিতে থাকলে নিরাপদ স্থানে যাওয়া এবং পুলিশের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। পারিবারিক বিরোধকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা মনে করে এড়িয়ে না গিয়ে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাৎক্ষণিক বিপদে ৯১১ নম্বরে ফোন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে গার্হস্থ্য সহিংসতার সহায়তার জন্য জাতীয় হটলাইন ৮০০-৭৯৯-৭২৩৩ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৯:১২
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক
দিল্লিতে ২৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, ট্রেন বাতিল, মেট্রো চলাচল সীমিত করল মোদি সরকার

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ ও জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধের উদ্যোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কয়েকটি ছাত্রসংগঠন শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাঁদের প্রধান দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। আয়োজকদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।   বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দিল্লি পুলিশ মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে রাজীব চক, নিউ দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, কাশ্মীরি গেট, মান্ডি হাউস, প্যাটেল চক, জনপথসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো। তবে সব স্টেশনে বিধিনিষেধ কার্যকরের বিষয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি।   রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনগামী বিভিন্ন ট্রেন বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দিল্লিতে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনে রাজধানীতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।   তবে সরকারের পরিবহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলেও মেট্রো ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ফলে ঘোষিত পরিবহন বিধিনিষেধের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   দিল্লির বিভিন্ন প্রবেশপথেও বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ চেকপোস্ট। উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফরিদাবাদ, বদরপুর, নয়ডা সংযোগ সড়ক এবং দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের উদ্দেশ্য, বড় ধরনের জমায়েতের কারণে যানজট ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো।   এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে নজরদারি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে অন্য রাজ্য থেকে আসা ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দিল্লির ১৫টি পুলিশ জেলায় অস্থায়ী আটককেন্দ্র প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আগের বিক্ষোভের মতো সংঘাত এড়াতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   এদিকে দিল্লি পুলিশ শনিবারের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানিয়েছেন, বিক্ষোভের আবেদন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করার কথা থাকলেও আয়োজকেরা ৭ অক্টোবর আবেদন করেন। পাশাপাশি জননিরাপত্তা, যান চলাচল এবং অতীতের কর্মসূচিতে নির্দেশনা না মানার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   তবে অনুমতি না পাওয়ার পরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করতেই প্রশাসন এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে সংগঠনের সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এতে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে তারা।   অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভুলভাবে কারও নাম বাদ পড়লে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধন ও পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিরোধী জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপ কামনা করার উদ্যোগও নিয়েছেন।   নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা, যন্তরমন্তর সংলগ্ন সড়ক এবং অতীতে সংঘর্ষের ঘটনাস্থলগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।   শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানীতে বড় ধরনের জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর এখন নজর থাকবে, নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রেখে সরকার কীভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল সচল রাখে এবং বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৫৮
ফ্লোরিডার সুইমিং পুলে সাত বছরের শিশুর মৃ ত্যু
চোখের সামনে শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও উদ্ধার করেননি চিকিৎসক, সাহায্যে পাঠান অন্য শিশুদের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি কমিউনিটি সুইমিং পুলে সাত বছরের এক শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে যাননি এক নারী চিকিৎসক—এমন অভিযোগ উঠেছে। বরং শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নিজের পরিবর্তে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে পানিতে পাঠিয়েছিলেন তিনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী চিকিৎসক সুকান্থিনি সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে গত ১০ এপ্রিল ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর এভারবি কমিউনিটির একটি সুইমিং পুলে। নিহত শিশুটির নাম খুশিল বান্ডি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে গত ৫ অক্টোবর চিকিৎসক সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়।   সুব্বিয়াহ লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও পেশায় চিকিৎসক। ঘটনার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে অরল্যান্ডোতে এসেছিলেন। সেখানে তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে প্রতিবেশী পরিবারের যমজ দুই শিশুর বন্ধুত্ব হয়। পরে ওই শিশুদের মায়ের অনুমতি নিয়ে নিজের ছেলেসহ তিন শিশুকে সুইমিং পুলে নিয়ে যান তিনি।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন খুশিলের যমজ বোন লাইফ জ্যাকেট পরেছিল, কিন্তু খুশিলের গায়ে সেটি ছিল না। সুব্বিয়াহ পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি ধারণা করেছিলেন শিশুটি সাঁতার জানে। তাই তাকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পানিতে নামতে দেওয়া হয়েছিল।   পুলিশের হাতে থাকা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে শিশুরা পুলে নামে। এর প্রায় এক মিনিট পরই খুশিল পানিতে বিপদে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, পুলের মাঝামাঝি গিয়ে সে দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করে এবং হাত-পা ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে পানির নিচে তলিয়ে যায়।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুটি বিপদে পড়ার পরও সুব্বিয়াহ দ্রুত তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেননি। বরং পুলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং পরে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে খুশিলকে উদ্ধারের জন্য পাঠান। পুলিশের দাবি, শিশুটি পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ছিল। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সাত মিনিটেরও বেশি সময় পর তাকে উদ্ধার করা হয়।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর বয়সী শিশুদের পক্ষে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া আরেক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। ওই দুই শিশু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে চিৎকার করতে শুরু করে। পরে সুব্বিয়াহ পুলে থাকা অন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্য চান। ওই ব্যক্তি পানিতে নেমে খুশিলকে উদ্ধার করেন।   শিশুটিকে পানি থেকে তোলার পর সুব্বিয়াহ তার সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। পরে খুশিলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   ঘটনার পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক বক্তব্যে সুব্বিয়াহ দাবি করেছিলেন, শিশুটি প্রায় ৪৫ সেকেন্ড পানির নিচে ছিল। তবে তদন্তকারীরা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের সময়ের অসংগতি খুঁজে পান। ফুটেজ অনুযায়ী, শিশুটি অনেক বেশি সময় ধরে বিপদে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের জন্য যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।   প্রথমদিকে শিশুটির মৃ ত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা মনে করেন, শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গুরুতর অবহেলা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   তদন্তকারীদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সুব্বিয়াহর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে তিনি একজন চিকিৎসক হওয়ায় পানিতে ডুবে যাওয়ার বিপদ ও অক্সিজেনের অভাবে শিশুর প্রাণহানির ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁর ধারণা থাকার কথা। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগকে তাঁরা গুরুতর দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন।   দীর্ঘ তদন্ত শেষে সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়। ৫ অক্টোবর তাঁকে অরেঞ্জ কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।   তবে চিকিৎসকের আইনজীবী রাজন যোশি অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়। আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল স্বেচ্ছায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   এ ঘটনাটি শিশুদের সুইমিং পুলে নিরাপত্তা ও প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এটি মৃ ত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর একটি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় শিশুরা সব সময় চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণে সুইমিং পুলে শিশুদের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সার্বক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।   চিকিৎসক সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, শিশুটিকে উদ্ধারে তাঁর কথিত নিষ্ক্রিয়তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৫১
ফ্লোরিডায় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়াল উদ্ধার
বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ ভেবে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে গ্রে প্তা র এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পোষা বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ মনে করে বাড়ির উঠানে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। আলবা শাভেজ নামের ওই নারী অন্তত চারটি বিড়ালের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্টিন কাউন্টির হোব সাউন্ড এলাকায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই জায়গা থেকে আরও দুটি বিড়ালকে মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর ওই নারীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।   ঘটনার খবর পেয়ে মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্য ও প্রাণী সুরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা হোব সাউন্ডের দক্ষিণ-পূর্ব ফেডারেল হাইওয়ের ১১ হাজার নম্বর ব্লকে অবস্থিত ওই বাড়িতে যান। বাড়িটির মালিক শাভেজ বিড়ালগুলোকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার কথা জানানোর পর তদন্তকারীরা উঠানের বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন।   উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। তবে অন্য দুটি বিড়ালকে আর বাঁচানো যায়নি। প্রাণীগুলো কতক্ষণ মাটির নিচে ছিল, কিংবা কীভাবে তাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাভেজ তাঁদের বলেছেন, তিনি অন্তত চারটি বিড়ালকে জীবন্ত পুঁতে রেখেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিড়ালগুলোকে তিনি ‘অশুভ আত্মা’ বলে মনে করতেন। তবে এমন ধারণার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ঘটনার পর শাভেজকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কতটি অভিযোগ আনা হয়েছে, আদালতে তাঁকে কখন হাজির করা হবে কিংবা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে বাড়ির উঠানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছেন। সেখানে অন্য কোনো বিড়াল বা প্রাণী পাওয়া যায় কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   উদ্ধার হওয়া দুটি বিড়ালের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও স্পষ্ট নয়। মাটির নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা কতটা অসুস্থ বা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। তাদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জীবিত প্রাণীকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগের কারণে বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন ঘটনাস্থলের আলামত, বাড়ির মালিকের বক্তব্য এবং উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।   তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এখনো জানা যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৪২
নিউইয়র্কের খলিল বিরিয়ানি হাউজের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুর রহমান
নিউইয়র্কের বিরিয়ানি সম্রাট খলিল: ঢাবিতে গণিতে মাস্টার্স, আজ ৬ রেস্টুরেন্টের মালিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশে বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। কিন্তু জীবনের লক্ষ্য ছিল আরও বড় কিছু করার। সেই স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮ সালে ডাইভারসিটি ভিসায় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কে এসে শুরু করেন রেস্টুরেন্টে থালাবাসন ধোয়ার কাজ। দীর্ঘ সংগ্রামের পর সেই খলিলুর রহমানই এখন নিউইয়র্কের পরিচিত বাংলাদেশি শেফ ও রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত খলিল বিরিয়ানি হাউজের ব্যবসা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন শাখা চালু হয়েছে ব্রুকলিনে।   গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ব্রুকলিনের পিটকিন এভিনিউতে খলিল বিরিয়ানি হাউজের নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চলমান নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে নতুন রেস্টুরেন্টটির যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও নতুন এই শাখা চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক সিটির রেস্টুরেন্ট নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ২৭৬৮ পিটকিন এভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৮।   তবে খলিলুর রহমানের আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ সহজ ছিল না। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভালো চাকরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়। প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশার হিসেবে কাজ নেন। এরপর কখনো কিচেন হেলপার, কখনো বুচারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এভাবে প্রায় ছয় বছর রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। সেই সময়ই নিজের একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি ভালোই ছিল। কিন্তু তিনি আরও বড় কিছু করতে চেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্টে কাজ করতে গিয়েই বুঝতে পারেন, নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হলে শুধু পরিশ্রম নয়, রান্না ও রেস্টুরেন্ট পরিচালনার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাও প্রয়োজন।   সেই লক্ষ্য নিয়ে নিউইয়র্কের ইনস্টিটিউট অব কালিনারি এডুকেশনে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনার খরচ চালাতে নিতে হয় শিক্ষা ঋণ। প্রায় চার বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৮ সালে সার্টিফায়েড শেফ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই নিজের ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন খলিলুর রহমান।   ২০১৭ সালে ব্রঙ্কসে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করে খলিল বিরিয়ানি হাউজ। শুরুর সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি খাবারের বাজারে পরিচিত নাম হয়ে ওঠে। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্রঙ্কসের বাইরে কুইন্সের জ্যামাইকা ও এলমহার্স্টেও কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কজুড়ে এর ছয়টি লোকেশনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে আরও একটি এলাকায় পৌঁছাল প্রতিষ্ঠানটি।   খলিলের রেস্টুরেন্টগুলোর অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার। কাচ্চি বিরিয়ানি, বিফ তেহারি, চিকেন বিরিয়ানি, রোস্ট পোলাও, বিফ কারি, চিকেন টিক্কা, তান্দুরি চিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের হালাল খাবার পরিবেশন করা হয় এখানে। পাশাপাশি রয়েছে মাছ, সবজি, কাবাব, সমুচা ও অন্যান্য দেশীয় খাবারের আয়োজন। বাংলাদেশি ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছেও এসব খাবার পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করছেন খলিলুর রহমান।   তাঁর তৈরি বিশেষ একটি খাবারের নাম ‘বাইডেন বিরিয়ানি’। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় উপলক্ষে এই বিরিয়ানি তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রচলিত বিরিয়ানির তুলনায় এতে মসলার ব্যবহার কম রাখা হয়, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের মানুষের কাছেও খাবারটি সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, খাবারের স্বাদ ও মসলার ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।   রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তাঁর সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে ‘পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেন খলিলুর রহমান। আয়োজকদের প্রকাশিত বিজয়ীদের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম শেফ হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে। একই বছর কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পান তিনি।   ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসীদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রেখেছেন খলিলুর রহমান। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে তাঁর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ জনের বেশি বাঙালি অভিবাসীর কর্মসংস্থানের তথ্য উঠে আসে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিউইয়র্কের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রান্নাবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছেন খলিলুর রহমান। ২০২৪ সালে ঢাকার পল্টনে চালু করেন খলিল কালিনারি আর্টস সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটিতে তরুণদের পেশাদার রান্নার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এবং ১৭ জন কর্মী ছিলেন। রান্নাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী তরুণদের দক্ষ করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।   এদিকে ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর বিষয়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকা ও আশপাশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে। তাঁদের কাছে হালাল ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। খাবারের স্বাদ, গুণগত মান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি থেকে নিউইয়র্কের রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশারের কাজ, এরপর পেশাদার শেফ হয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা। খলিলুর রহমানের দীর্ঘ এই পথচলায় রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, প্রশিক্ষণ ও ধাপে ধাপে ব্যবসা সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা। ব্রঙ্কসের ছোট একটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন ব্রুকলিনেও পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের বহুজাতিক খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি বিরিয়ানি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:২৯
প্যারামজিত ও নামিন্দারের যমজ কন্যা আভনুর ও আজুনি
২০ বার সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত চল্লিশের কোঠায় জন্ম দিলেন যমজ কন্যা

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্যারামজিত ও তাঁর স্বামী নামিন্দার। এ সময়ে আইভিএফ চিকিৎসার ব্যর্থতা, একাধিক গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে ২০টি গর্ভধারণজনিত ক্ষতির পর একসময় সন্তান নেওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন প্যারামজিত। কিন্তু ২০২২ সালে ভারতে ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের পর প্রার্থনা করার প্রায় এক মাসের মাথায় জানতে পারেন, তিনি আবার গর্ভবতী। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে রয়েছে যমজ সন্তান। ২০২৩ সালে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের দুই কন্যা আভনুর ও আজুনি।   ২০০৯ সালে বিয়ের পরপরই পরিবার গড়ার চেষ্টা শুরু করেন প্যারামজিত ও নামিন্দার। কিন্তু বারবার তাঁদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গর্ভধারণের জটিলতা। সন্তান নেওয়ার জন্য প্যারামজিতকে আইভিএফসহ বিভিন্ন চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিবার নতুন করে আশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা ও সন্তান হারানোর বেদনা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল।   প্যারামজিত জানান, প্রতিবার মাসিক শুরু হলে তাঁর মনে হতো, আবারও বুঝি মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না। কখন গর্ভধারণ করতে পারবেন, আদৌ পারবেন কি না—এমন প্রশ্ন তাঁকে তাড়া করত। পরিবার শুরু করার জন্য নিজের ওপর একধরনের চাপও অনুভব করতেন তিনি।   আইভিএফ চিকিৎসার প্রক্রিয়াও ছিল কঠিন। ওষুধ গ্রহণ, ইনজেকশন, ডিম্বাণু সংগ্রহ এবং ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের মতো বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসাবিষয়ক জটিল শব্দ ও প্রক্রিয়া বুঝতে সমস্যা হতো। তাঁর সংস্কৃতিতে আইভিএফ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কম হওয়ায় চিকিৎসার বিষয়টি অনেকটা গোপন রেখেই এগিয়ে যেতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।   ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর প্রতিবার গর্ভধারণ পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় থাকতেন প্যারামজিত। তাঁর মনে হতো, এবার হয়তো কাঙ্ক্ষিত সুখবর পাবেন। কিন্তু পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল আসায় ভেঙে পড়তেন। এরপরও আবার চেষ্টা করেছেন। এভাবে একের পর এক গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা জমতে থাকে।   ২০১৮ সালে তাঁদের জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় শোক। প্যারামজিতের গর্ভে থাকা যমজ সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে, যাদের নাম রাখা হয়েছিল অমৃত ও ফতেহ—প্রায় ২০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় হারিয়ে যায়।   সেই সময় প্যারামজিতের শরীরে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেই গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া দেখা দিয়েছিল। এ অবস্থায় উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা মা ও অনাগত সন্তানের জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, একটি শিশুর হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছে না এবং অন্য শিশুটিকেও বাঁচানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্যারামজিতের নিজের জীবন নিয়েও ঝুঁকির কথা বলা হয়।   সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। প্যারামজিতের ভাষায়, তখন তাঁর মনে হয়েছিল, সন্তানদের ছাড়া আর বেঁচে থাকার শক্তি নেই। এই গভীর শোক তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একই বাড়িতে থেকেও তাঁরা মাসের পর মাস নীরবতায় দিন কাটাতেন।   এরপর দীর্ঘ চিকিৎসা ও বারবার ক্ষতির অভিজ্ঞতায় ক্লান্ত হয়ে প্যারামজিত ও নামিন্দার সিদ্ধান্ত নেন, আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাঁদের মনে হয়েছিল, এত কিছুর পর হয়তো আর কখনো মা-বাবা হওয়া সম্ভব হবে না।   কিন্তু ২০২২ সালে ভারতে ধর্মীয় স্থান হুজুর সাহিব ও অমৃতসর পরিদর্শনে গিয়ে প্যারামজিত আবার প্রার্থনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে সন্তান চেয়ে প্রার্থনা করেন এবং সন্তান হলে তাকে নিয়ে আবার সেখানে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।   প্রায় এক মাস পর তাঁর মাসিক বন্ধ হয়। প্রথমে ভ্রমণ কিংবা কাজের ব্যস্ততার কারণে এমন হয়েছে বলে ভেবেছিলেন তিনি। পরে গর্ভধারণ পরীক্ষা করলে ফল ইতিবাচক আসে। ১৩ বছরের চেষ্টা ও ২০টি গর্ভধারণজনিত ক্ষতির পর আবার গর্ভবতী হওয়ার খবরটি তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।   ছয় সপ্তাহের পরীক্ষার সময় আরেকটি চমক অপেক্ষা করছিল। চিকিৎসাকর্মী তাঁকে জানান, তাঁর গর্ভে একটি নয়, দুটি সন্তান রয়েছে। আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন প্যারামজিত। তবে একই সঙ্গে ২০১৮ সালের স্মৃতি তাঁকে আতঙ্কিত করে তোলে। আগের মতো আবারও সন্তান হারাতে হবে কি না, সেই ভয় তাঁকে ঘিরে ধরে।   এবার তাঁর গর্ভাবস্থায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। আগে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকায় চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁকে অ্যাসপিরিন ও রক্ত পাতলা রাখার ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। টুইনস ট্রাস্টের মাতৃত্বকালীন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা পান তিনি। নিকি ও লরা নামের দুই বিশেষজ্ঞ ধাত্রী পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর পাশে ছিলেন।   প্যারামজিত জানান, এবার তাঁর উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তিত হলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারতেন। এতে নিজের স্বাস্থ্য ও গর্ভের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তুলনামূলকভাবে আশ্বস্ত বোধ করতেন।   গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ কন্যা আভনুর ও আজুনির জন্ম হয়। একটি শিশুর ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। একই সময়ে প্যারামজিতের শরীরেও ফোলা ও রক্তচাপ বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।   দুই মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তকে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময় বলে বর্ণনা করেছেন প্যারামজিত। দীর্ঘ ১৩ বছরের সংগ্রাম, বারবার গর্ভধারণজনিত ক্ষতি এবং প্রথম যমজ সন্তানদের হারানোর পর অবশেষে মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল গভীর আবেগের।   ২০২৬ সালের অক্টোবরের হিসাবে, আভনুর ও আজুনি তিন বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্যারামজিত এখন নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যাতে সন্তান হারানো কিংবা সন্তান ধারণে সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য পরিবারগুলোও মানসিক সমর্থন ও আশার কথা জানতে পারে।   তাঁর মতে, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রার পর তাঁর পরিবারে দুই কন্যার আগমন সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:২১
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিলাই
শান্তিতে নোবেল পেলেন ইসরায়েলকে গণ হ ত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক

২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যু দ্ধাপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।   ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ সাহসিকতা এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিলাই। বিশেষ করে যু দ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।   নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যু দ্ধ ও সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সহিং সতা ছাড়াই বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিলাইয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন পিলাই। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান ইসরায়েল এবং দেশটির সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল।   ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যক্রমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি।   পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিলাই। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণ হ ত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে ইসরায়েল ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের এই অনুসন্ধান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।   দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিলাইয়ের পেশাগত জীবন শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন।   ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিলাই। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।   এরপর রুয়ান্ডার গণ হ ত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে যৌন সহিং সতা ও ধ র্ষ ণকে গণ হ ত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিলাই।   মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণ হ ত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়ও তিনি অ্যাডহক বিচারক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টি এবারের নোবেল পুরস্কারের সিদ্ধান্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যু দ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং নি র্যা তনের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।   আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাভি পিলাইয়ের হাতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর কয়েক দশকের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের পুরস্কারকে দেখছে নোবেল কমিটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৯
ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার ৪০টি ছুরি
পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, পরীক্ষায় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলীতে মিলল ৪০টি ছুরি

তীব্র পেটব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর এক ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে বের করা হলো ৪০টি ছুরি। ২০১৬ সালের আগস্টে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের একটি হাসপাতালে ঘটে এই ঘটনা। ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশ সদস্য প্রায় দুই মাস ধরে একের পর এক ছুরি গিলে ফেলেছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করেন। পরে আরও পরীক্ষা করে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত ১২টি ছুরির সন্ধান পান তাঁরা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪০টি ছুরি।   হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকদের প্রথমে ধারণা হয়েছিল, তাঁর পাকস্থলীতে হয়তো টিউমার বা ক্যানসারজাতীয় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। এ কারণে তাঁর এন্ডোস্কপি ও সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, পাকস্থলীর ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ধাতব বস্তু। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো আসলে বিভিন্ন আকারের ছুরি।   চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করা হয়। কিন্তু পাকস্থলীর ভেতরে আরও কিছু রয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকায় পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন আরও ১২টি ছুরির সন্ধান মেলে। সেগুলোও বের করে আনা হয়।   ছুরিগুলোর সব কটিই একই অবস্থায় ছিল না। কিছু ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল, কিছু খোলা ছিল, আবার কয়েকটি মরিচা ধরে ভেঙেও গিয়েছিল। খোলা ছুরিগুলোর কোনো কোনোটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। এগুলোর ধারালো অংশ পাকস্থলীর দেয়ালে ক্ষত তৈরি করেছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীরের ভেতরে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণও হয়।   চিকিৎসকদের কাছে ওই ব্যক্তি জানান, প্রথমবার ছুরি গেলার পর তাঁর অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে দিনে একটি করে ছুরি গিলতেন বলে জানান। কেন এমন করতেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।   অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক জতিন্দর মালহোত্রা জানান, তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে এ ধরনের ঘটনা আগে দেখেননি। রোগীর আচরণের পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাই অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগ নিশ্চিত করা হয়নি।   অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না। এই ঘটনা চিকিৎসকদের কাছেও ছিল অত্যন্ত বিরল ও জটিল। শরীরের ভেতরে ধারালো বস্তু প্রবেশ করানো প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে। তাই এমন কোনো প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৭:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিশুদের গ্রিন কার্ডের যোগ্যতা
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে অভিবাসী শিশুদের পূরণ করতে হবে ছয়টি শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ একটি অভিবাসন সুবিধার আওতায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য হতে অভিবাসী শিশুদের ছয়টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সুবিধার নাম স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল (এসআইজে) মর্যাদা। এটি এমন কিছু বিদেশি শিশুর জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ কিংবা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এসআইজে মর্যাদা পেলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ পেতে পারে। তবে এই মর্যাদা পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, আবেদনকারীর বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং রাজ্য আদালতের আদেশসহ কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হয়। পাশাপাশি, আবেদনটি প্রকৃতপক্ষে শিশুকে পারিবারিক দুর্ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেয় কর্তৃপক্ষ।   গ্রিন কার্ডের বিশেষ সুযোগ পেতে ছয়টি শর্ত   এসআইজে মর্যাদার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:   1. বয়স ২১ বছরের কম হতে হবে: ইউএসসিআইএসের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ২১ বছরের নিচে থাকতে হবে। তবে রাজ্যভেদে শিশু বা কিশোরের বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার ১৮ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায়। তাই সময়মতো আদালতের আদেশ সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।   2. যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে হবে: আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময়—দুই ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। বিদেশে অবস্থান করে এই মর্যাদার জন্য সরাসরি আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায় না।   3. অবিবাহিত থাকতে হবে: আবেদন করার সময় এবং আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবিবাহিত থাকতে হবে। আগে বিয়ে হয়ে থাকলেও বিয়ে বাতিল, বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামী কিংবা স্ত্রীর মৃত্যুর মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হতে পারে।   4. যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য আদালতের প্রয়োজনীয় আদেশ থাকতে হবে: সংশ্লিষ্ট শিশু বা কিশোরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপযুক্ত রাজ্য আদালতের আদেশ থাকতে হবে। সেই আদেশে শিশুটি আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে অথবা কোনো ব্যক্তি, সংস্থা কিংবা রাজ্য কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি, বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনরায় বসবাস করা কেন সম্ভব নয় এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়া কেন শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী, তা নির্ধারণ করতে হবে।   5. ইউএসসিআইএসের সম্মতি পেতে হবে: কেবল আদালতের আদেশ থাকলেই এসআইজে মর্যাদা নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে আবেদনটি প্রকৃত এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাবা-মায়ের দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ বা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতি থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া।   6. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের লিখিত সম্মতি লাগবে: যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) অধীনে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তরের (ওআরআর) হেফাজতে রয়েছে বা আগে ছিল, তাদের সবার জন্য এই শর্ত একইভাবে প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ওই দপ্তরের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালতের আদেশের মাধ্যমে শিশুর হেফাজত বা অবস্থানের ব্যবস্থা পরিবর্তিত হলে, এইচএইচএসের লিখিত সম্মতি জমা দিতে হবে।   আদালতের আদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ   এসআইজে মর্যাদার আবেদনে রাজ্য আদালতের আদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশুটি আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে কি না, অথবা কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি সংস্থার হেফাজতে আছে কি না, তা স্পষ্ট থাকতে হয়।   একই সঙ্গে আদালতকে নির্ধারণ করতে হয়, বাবা-মায়ের একজন বা উভয়ের সঙ্গে শিশুটির পুনরায় বসবাস করা কেন সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ কিংবা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতি থাকতে পারে। শিশুটিকে তার নিজ দেশের নাগরিকত্বের দেশ অথবা সর্বশেষ স্থায়ীভাবে বসবাসের দেশে ফেরত পাঠানো তার সর্বোত্তম স্বার্থে হবে না—এ সিদ্ধান্তও আদালতের আদেশে থাকতে হবে।   এসব বিষয় শুধু আদেশে উল্লেখ থাকলেই যথেষ্ট নয়। সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ঘটনার ভিত্তি থাকতে হয়। ইউএসসিআইএস আদালতের আদেশ ও সহায়ক নথি পর্যালোচনা করে দেখে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে কি না।   এসআইজে মর্যাদা পেলেই কি গ্রিন কার্ড মিলবে   এসআইজে মর্যাদার জন্য সাধারণত ফরম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মসংস্থানভিত্তিক চতুর্থ অগ্রাধিকার বা ইবি-৪ অভিবাসন শ্রেণির আওতায় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন।   তবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন, ফরম আই-৪৮৫, জমা দিতে হয়। ইবি-৪ শ্রেণিতে অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তার ওপর গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সময় নির্ভর করতে পারে। ফলে এসআইজে আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অতিরিক্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।   এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এমন শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া, যাদের পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া নিরাপদ বা উপযুক্ত নয়। তাই শুধু বয়স কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের শর্ত পূরণ করলেই হবে না; আদালতের আদেশ, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদন করতে আগ্রহী পরিবার, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যভেদে শিশু আদালতের এখতিয়ার ও প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করাই উপযুক্ত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৭:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিসার আবেদনে নতুন ফি
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে বায়োমেট্রিক ফি

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার আবেদনে বায়োমেট্রিক ফি আদায়ের নিয়ম সম্প্রসারণ করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও এই ফি দিতে হবে। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মরত ব্যক্তির ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। এখন থেকে নিয়োগকর্তা নির্ধারিত শর্তের আওতায় পড়লে, কর্মীর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অপরিবর্তিত থাকলেও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে ফি প্রযোজ্য হবে।   ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট চূড়ান্ত নিয়মটি প্রকাশ করা হয়। এটি কার্যকর হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তবে সব এইচ-১বি ও এল-১ আবেদনকারীর ওপর নতুন করে এই ফি আরোপ করা হয়নি। নিয়মটি মূলত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে ফি আদায়ের পরিধি বাড়িয়েছে।   এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ফি ৪ হাজার ডলার এবং এল-১ আবেদনের ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। এই অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ এবং তাঁদের কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। নতুন নিয়মের ফলে শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।   কোন প্রতিষ্ঠানকে ফি দিতে হবে   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৫০ জন কর্মী রয়েছে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ‘আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। শর্তটি হলো, প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মোট কর্মীর ৫০ শতাংশের বেশি এইচ-১বি, এল-১এ অথবা এল-১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আওতায় থাকতে হবে।   এইচ-১বি ভিসা সাধারণত বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, এল-১ ভিসার মাধ্যমে কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তার বিদেশি কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যালয়ে স্থানান্তর করতে পারে। এল-১এ ভিসা মূলত ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী পর্যায়ের কর্মীদের জন্য। এল-১বি ভিসা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।   উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০০ জন কর্মী থাকলে এবং তাঁদের ৫১ জন বা তার বেশি এইচ-১বি, এল-১এ কিংবা এল-১বি ভিসার আওতায় থাকলে প্রতিষ্ঠানটি ফি দেওয়ার শর্তের মধ্যে পড়তে পারে। তবে শুধু কর্মীর সংখ্যা বেশি হলেই হবে না; ভিসার ধরন ও কর্মীদের অনুপাতও নির্ধারিত সীমা পূরণ করতে হবে।   যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্ত পূরণ করবে না, তাদের ক্ষেত্রে শুধু এই নিয়মের কারণে অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না। তাই নতুন আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীসংখ্যা এবং কর্মীদের ভিসার ধরন পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   কোন আবেদনে ফি দিতে হবে না   চূড়ান্ত নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনো নিয়োগকর্তা যদি কর্মীর বিদ্যমান এইচ-১বি বা এল-১ স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে শুধু সংশোধিত পিটিশন জমা দেন, তাহলে সেই আবেদনের জন্য এই বায়োমেট্রিক ফি দিতে হবে না।   সাধারণত কর্মীর চাকরির শর্ত, দায়িত্ব বা অনুমোদিত আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পরিবর্তন জানাতে সংশোধিত পিটিশন জমা দেওয়া হয়। তবে সংশোধিত আবেদনের সঙ্গে যদি কর্মীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও থাকে, তাহলে শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য হতে পারে।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ওপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে না। তবে ৯ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন বিধান অনুসরণ করতে হবে।   কেন এই ফি নেওয়া হচ্ছে   ৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ও প্রস্থানব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। সীমান্তে ভ্রমণকারীর পরিচয় যাচাই, ভ্রমণসংক্রান্ত নথির জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং প্রবেশ-প্রস্থানের তথ্য ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এই ফি চালুর ব্যবস্থা করে। পরবর্তী সময়ে ফি-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ করা হয়। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মীর মেয়াদ বাড়ানোর কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। নতুন চূড়ান্ত নিয়মে সেই ব্যতিক্রমের পরিধি কমিয়ে আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তাদের প্রাসঙ্গিক মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও ফি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   নতুন নিয়মের ফলে বিশেষ করে প্রযুক্তি, পরামর্শক ও আউটসোর্সিং খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে, যাদের কর্মীদের বড় অংশ এইচ-১বি বা এল-১ ভিসায় কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি আবেদন জমা দেওয়ার আগে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় ফি জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ বা প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে।   নিয়োগকর্তারা ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ফি তালিকা থেকে যাচাই করতে পারবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা, কর্মীদের ভিসার ধরন এবং আবেদনের উদ্দেশ্য—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৭:১৮
কোষকে তরুণ করার পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বার্ধক্য ঠেকানোর চেষ্টা, মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় মিলল আশার ইঙ্গিত

বার্ধক্যের প্রভাব কমিয়ে কোষকে তরুণ অবস্থার কাছাকাছি ফিরিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় সম্ভাবনা দেখা যাওয়ার পর এবার মানুষের শরীরেও শুরু হয়েছে এই পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজন গ্লুকোমা রোগীর মধ্যে দুজনের দৃষ্টিক্ষেত্র পরীক্ষায় উন্নতির প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, চিকিৎসাটি প্রয়োগের পর প্রথম ৫৬ দিনে কারও ক্ষেত্রে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের। এর মাধ্যমে সত্যিই বয়সজনিত ক্ষতি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।   বার্ধক্যের সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। জয়েন্টে ব্যথা, ধমনিতে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা কোষের ভেতরে বয়সের সঙ্গে তৈরি হওয়া কিছু পরিবর্তন আংশিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। এই প্রযুক্তির নাম ‘সেলুলার রিপ্রোগ্রামিং’ বা কোষের পুনঃপ্রোগ্রামিং।   এই পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু বার্ধক্যের বাহ্যিক লক্ষণ কমানো নয়। বরং কোষের কার্যক্রমে বয়সের কারণে যে পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ন্ত্রণ করে কোষকে অপেক্ষাকৃত তরুণ অবস্থার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় এমন প্রযুক্তির সম্ভাবনা দেখা গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনো সীমিত তথ্য রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান লাইফ বায়োসায়েন্সেস এ ক্ষেত্রে ইআর-১০০ নামের একটি পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে। এটি চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষায় ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্লুকোমার কারণে চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। একবার স্নায়ুর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই এই ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষকেরা আগ্রহী।   ইআর-১০০ চিকিৎসায় চোখের ভেতরে একবার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর সঙ্গে আট সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন গ্রহণ করতে হয়। চিকিৎসাটির উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট জিনগত নির্দেশনার মাধ্যমে কোষের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা, যাতে সেগুলোকে অপেক্ষাকৃত তরুণ অবস্থার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া যায়।   ৮ অক্টোবর প্রকাশিত পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনজন গ্লুকোমা রোগী চিকিৎসাটি নেওয়ার পর ৫৬ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে ছিলেন। এ সময়ে তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো মাত্রা-সীমিত বিষক্রিয়া কিংবা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসা প্রক্রিয়া, স্টেরয়েড ব্যবহার অথবা আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পার্শ্বঘটনার কথা জানানো হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষামূলক ওষুধটির সরাসরি প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।   এই ফলকে চিকিৎসাটির প্রাথমিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাত্র তিনজন রোগীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এর নিরাপত্তা বা কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।   পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন। তিনজনের মধ্যে দুজনের ভিজ্যুয়াল ফিল্ড বা দৃষ্টিক্ষেত্র পরীক্ষায় উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ পরীক্ষায় একজন ব্যক্তি সামনে তাকিয়ে চারপাশের বিভিন্ন অংশের আলো শনাক্ত করতে কতটা সক্ষম, তা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে পরীক্ষার ফল থেকে ধারণা পাওয়া যায়, চোখের দৃষ্টিক্ষেত্রের কিছু অংশে তাঁদের সক্ষমতা বেড়েছে।   তবে এ উন্নতির অর্থ এই নয় যে চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সম্পূর্ণ নতুন হয়ে গেছে কিংবা দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে এসেছে। চিকিৎসাটি চোখের স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কতটা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং পরিবর্তনটি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে কি না, তা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন।   নিউইয়র্ক আই অ্যান্ড ইয়ার ইনফার্মারি অব মাউন্ট সিনাইয়ের প্রেসিডেন্ট ও গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জেমস সাই প্রাথমিক ফলকে উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখেছেন। তবে তাঁর মতে, এই চিকিৎসা সত্যিকার অর্থে হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারছে কি না, তা বলার জন্য আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। চোখের বিদ্যমান স্নায়ুর কার্যক্রমে উন্নতি হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুরোপুরি পুনর্গঠিত হওয়া এক বিষয় নয়।   প্রাথমিক ফল পর্যালোচনার পর স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বোর্ড পরবর্তী রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা তিন গুণ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। এতে পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে চিকিৎসাটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে মাত্রা বাড়ানোর অনুমোদন পাওয়া মানেই চিকিৎসাটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।   অন্য রোগের চিকিৎসাতেও সম্ভাবনা   কোষের পুনঃপ্রোগ্রামিং প্রযুক্তির প্রতি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগজগতের কয়েকজন ধনকুবেরের আগ্রহ রয়েছে। জেফ বেজোস, পিটার থিল, ইউরি মিলনার ও স্যাম অল্টম্যানের মতো পরিচিত ব্যক্তিরা দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট বায়োটেক উদ্যোগে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁদের আগ্রহের একটি বড় ক্ষেত্র হলো, বয়সের সঙ্গে কোষের কার্যক্ষমতায় যে পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ন্ত্রণ বা আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।   লাইফ বায়োসায়েন্সেসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাইকেল রিঙ্গেলের ধারণা, ভবিষ্যতে সেলুলার রিপ্রোগ্রামিং বয়সজনিত একাধিক রোগ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে। প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় বাতের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং আলঝেইমারের মতো মস্তিষ্কের রোগের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে। তবে প্রাণীর শরীরে পাওয়া ফল মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এসব রোগের চিকিৎসায় পদ্ধতিটি কার্যকর কি না, তা জানতে পৃথক মানবপরীক্ষা প্রয়োজন।   এদিকে, দীর্ঘায়ু গবেষণায় যুক্ত আরও কয়েকটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠানও মানবপরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেফ বেজোসের সমর্থনপুষ্ট অল্টোস ল্যাবস এ ধরনের গবেষণায় কাজ করছে। অন্যদিকে, পিটার থিলের ফাউন্ডার্স ফান্ডের নেতৃত্বে নিউ লিমিট নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে যকৃতের কোষ পুনঃপ্রোগ্রামিংয়ের একটি চিকিৎসা নিয়ে মানবপরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা জানিয়েছে। স্যাম অল্টম্যানের সমর্থনপুষ্ট রেট্রো বায়োসায়েন্সেসও একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে।   তবে বার্ধক্য ঠেকানো বা বয়সজনিত ক্ষতি ফিরিয়ে দেওয়ার চিকিৎসা এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোষের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা সম্ভব হলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব পড়ে, নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয় কি না এবং রোগীর স্বাস্থ্যে বাস্তব উন্নতি ঘটে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।   বর্তমান পরীক্ষাটি মূলত চিকিৎসাটির নিরাপত্তা ও সহনীয়তা যাচাইয়ের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। তিনজনের মধ্যে দুজনের দৃষ্টিক্ষেত্রে উন্নতির ইঙ্গিত আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার প্রমাণিত সাফল্য বলা যাবে না। আরও বেশি মানুষের ওপর পরীক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ফলই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বয়সজনিত রোগের চিকিৎসায় কতটা কার্যকর হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৬:৫১
ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে প্রেমের প্রতারণায় গ্রেফতার
ফেসবুকে প্রেম, মোবাইলে বিয়ে, চার মাস পর জানলেন স্ত্রী আসলে পুরুষ

ফেসবুকে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে নারীর ভুয়া পরিচয়ে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। পরে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে বিয়ের নাটক সাজিয়ে কথিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও বজায় রাখেন তিনি। এভাবে বিভিন্ন অজুহাতে প্রবাসীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন তিন লাখ টাকারও বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর প্রকাশ্যে আসে পুরো প্রতারণার ঘটনা।   গ্রেফতার ওই তরুণের নাম শান্ত আলী। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং শহিদুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় শান্তর পাশাপাশি তাঁর বাবাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামের একটি পরিচয়ের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কথাবার্তা বাড়তে থাকলে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ওই পরিচয়ের আড়ালে যে একজন তরুণ রয়েছেন, তা বুঝতে পারেননি প্রবাসী।   প্রায় চার মাস আগে সম্পর্কটিকে বিয়ের রূপ দেন শান্ত। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয় ওই প্রবাসীকে। এরপর কথিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রেখে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যান শান্ত। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে নানা প্রয়োজন ও অজুহাত দেখিয়ে টাকা চাইতেন তিনি। একপর্যায়ে বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার বেশি অর্থ আদায় করেন।   প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আরও একটি কৌশল অবলম্বন করেন শান্ত। নিজের বাবাকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে ‘শ্বশুর’ পরিচয়ে কথা বলাতেন বলে জানা গেছে। এতে কথিত বিয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রবাসীর সন্দেহ আরও কমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এই যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেন।   বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে শান্ত আলীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে শান্ত ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।   গ্রেফতারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। তখন শান্তর মোবাইল ফোনে কল করেন সেই ইতালি প্রবাসী। ফোনটি আসার পর পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, এতদিন যাঁকে ‘সুমাইয়া আক্তার’ ভেবে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, তিনি আসলে কোনো নারী নন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগকারী ব্যক্তি শান্ত আলী নামের এক তরুণ।   প্রকৃত পরিচয় জানার পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ওই প্রবাসী। তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।   লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, গ্রেফতার শান্ত আলী ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর আইডি হ্যাকিং এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁদের গ্রেফতারের পর ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।   এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করলে কীভাবে আর্থিক প্রতারণার শিকার হতে পারেন, এ ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। বিশেষ করে অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে বিয়ে বা পারিবারিক সম্পর্কের দাবি উঠলে ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা এবং অর্থ পাঠানোর আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৬:২৮
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণসংকট ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদে ফেলছে, এখনই পদক্ষেপের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান, ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন—সব মিলিয়ে দেশটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সরব হয়ে কংগ্রেসের কাছে ঋণসংকট মোকাবিলার দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন ফক্স নিউজের এক মতামত লেখক।   লেখাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিকে একটি জ্বলন্ত বাড়ির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। লেখকের বক্তব্য, বাড়িতে আগুন লাগলে সন্তানদের বিপদের মুখে রেখে কেউ অসহায়ভাবে বসে থাকে না। একইভাবে জাতীয় ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপ তৈরি করার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।   লেখকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ নিয়ে সতর্কবার্তা শুনতে শুনতে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার কেউ মনে করেন, একজন সাধারণ নাগরিকের পক্ষে এত বড় সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হলেও ক্রমাগত ঋণ বৃদ্ধি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।   সমস্যাটির গুরুত্ব শুধু ঋণের বিশাল অঙ্কে নয়, বরং যে হারে ঋণ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে তা সামাল দিতে সরকারকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, সেখানেও।   ঋণের সুদ বাড়াচ্ছে সরকারের আর্থিক চাপ   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর রাজস্বের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে বড় বাজেট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সরকারের আয় ও ব্যয়ের এই ব্যবধান মেটাতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে, যার ফলে ঋণের মোট পরিমাণ আরও বাড়ছে।   ঋণের সুদ পরিশোধও সরকারের ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়ে উঠেছে। বছরে এ খাতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে মতামত লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যয় কেন্দ্রীয় সরকারের মোট রাজস্বের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি। অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে কর হিসেবে সংগ্রহ করা অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশই ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে।   ২০২৬ সালের বাজেট পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে জনগণের হাতে থাকা কেন্দ্রীয় ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০১ শতাংশের সমান হতে পারে। বর্তমান আইন ও নীতির ভিত্তিতে করা দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ২০৩৬ সালে এই অনুপাত ১২০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।   লেখকের আশঙ্কা, ঋণ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হতে পারে। তখন সরকারকে ঋণ নিতে আরও বেশি সুদ দিতে হতে পারে, যা বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। তবে এমন আর্থিক সংকট অবশ্যম্ভাবী বা আসন্ন—এমন সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। এটি ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে লেখকের সতর্কতা।   সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ   যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা মেডিকেয়ারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লেখক। তাঁর মতে, এসব কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি রয়েছে, অথচ সেই ব্যবধান কমানোর কোনো কার্যকর সমাধান এখনো নিশ্চিত হয়নি।   ২০২৬ সালের একটি বাজেট পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তার অবসর ও উত্তরাধিকারী সুবিধা তহবিলের অর্থ ২০৩২ অর্থবছরে শেষ হয়ে যেতে পারে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, তখন তহবিলের নিজস্ব আয় দিয়ে সব নির্ধারিত সুবিধা পরিশোধ করা সম্ভব না হলে সুবিধার পরিমাণ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।   তবে তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়া মানেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এরপরও করসহ নির্ধারিত উৎস থেকে অর্থ আসতে থাকবে। কিন্তু সেই অর্থ দিয়ে সব প্রতিশ্রুত সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।   লেখকের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সমস্যার সমাধান না হলে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ও ভবিষ্যতে এসব সুবিধার ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তাই সংকট আরও গভীর হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   সমাধানে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কারের আহ্বান   লেখকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসংকট মোকাবিলার সহজ কোনো পথ নেই। সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজেট ঘাটতি কমানো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সংস্কার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব সিদ্ধান্তের কিছু অংশ ভোটারদের কাছে অজনপ্রিয় হতে পারে। তবু দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।   তাঁর যুক্তি, এখন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। বিপরীতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মানুষের সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি পূরণে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তবে ঋণ কমানোর উপায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ সরকারি ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেন, আবার কেউ রাজস্ব বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের পক্ষে মত দেন। ফলে কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, কোন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসবে এবং রাজস্ব কীভাবে বাড়ানো হবে—এসব বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ।   নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব   লেখাটির শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখকের মতে, অর্থনীতিবিদদের প্রতিবেদন প্রকাশ কিংবা প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের মাধ্যমে একা এই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং জনগণ যখন ঋণসংকটের গুরুত্ব বুঝে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি চাইবে, তখনই কংগ্রেসের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি হতে পারে।   তাঁর বক্তব্য, একজন নাগরিকের কণ্ঠস্বর হয়তো একা ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না। কিন্তু লাখো নাগরিক একই দাবিতে সোচ্চার হলে তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।   সবশেষে লেখক সতর্ক করেছেন, বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব শুধু নিজেদের সময়ের অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করা নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি রেখে যাওয়া। তাঁর মতে, ঋণের বোঝা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে দেরি হলে তার মূল্য পরবর্তী প্রজন্মকে দিতে হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৬:১০
শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সিডনিতে সাবেক শিক্ষিকা ডিয়ান্দ্রা কনটু গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
রাত্রিকালীন শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রাত্রিযাপনসহ শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক এক শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ডিয়ান্দ্রা কনটু সিডনির পরিচিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিউইংটন কলেজে ভূগোল পড়াতেন। ৩২ বছর বয়সী এই নারীর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতন, অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন স্পর্শ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করাসহ মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইংটন কলেজে শিক্ষকতা করার সময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ শুরু করেছিলেন বলে কনটুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো প্রায় ছয় মাস ধরে ঘটেছিল। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি রাত্রিযাপনসহ একটি শিক্ষাসফরেও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।   অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষিকা প্রথমে ওই শিক্ষার্থীকে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দেখান। পরে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময় এবং ক্যাম্পাসের আশপাশেও একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।   বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এলাকার ফিটজরয় দ্বীপে আয়োজিত একটি শিক্ষাসফরের ঘটনা মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দিনের বেলায় শিক্ষার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। পরে রাতে গুরুতর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।   পুলিশের তদন্তের পর সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের সাদারল্যান্ড এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে কনটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা নয়টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গুরুতর যৌন নির্যাতন, চারটি যৌন নিপীড়ন, তিনটি গুরুতর যৌন স্পর্শ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ।   অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতরটি হলো নিজের কর্তৃত্বাধীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতন। নিউ সাউথ ওয়েলসের আইনে এই অপরাধের শাস্তির বিধান ধর্ষণের অপরাধের সমতুল্য। তবে অভিযোগ গঠন করা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর কনটুকে সাদারল্যান্ড স্থানীয় আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে বন্ডে মুক্তি দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন সাদারল্যান্ড পুলিশ স্টেশনে হাজিরা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।   বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, কনটু শিশুদের পড়াতে পারবেন না। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী কিংবা মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এসব শর্ত মেনে চলতে হবে তাঁকে।   নিউইংটন কলেজে কর্মরত থাকার সময় কনটু তাঁর আগের পারিবারিক নাম হারালাম্বিদিস ব্যবহার করতেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দুই বছর ভূগোল পড়িয়েছেন। পাশাপাশি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত একটি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচির নেতৃত্বেও ছিলেন।   ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এরপর তিনি নিউইংটন কলেজ ছেড়ে দেন। তবে অভিযোগের সময়কার বিস্তারিত পরিস্থিতি কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   নিউইংটন কলেজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এমন কোনো শিক্ষকের আচরণ সমর্থন করে না, যা পেশাগত মানদণ্ড কিংবা প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে। তবে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই পর্যায়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।   নিউইংটন কলেজ ছাড়ার পর কনটু অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকতা করেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের ওটলিতে অবস্থিত জর্জেস রিভার কলেজের সিনিয়র ক্যাম্পাসে কর্মরত ছিলেন। এটি একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন।   ২০২৪ সাল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস শিক্ষা বিভাগের অধীনে স্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন কনটু। সেখানে সমাজ ও সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ভূগোল বিষয় পড়াতেন। তবে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিউইংটন কলেজে কর্মরত থাকার সময়কার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   গ্রেপ্তারের প্রস্তুতির সময় পুলিশ কনটুকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে সরিয়ে দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি তাঁর শিক্ষকতার স্বীকৃতিও বাতিল করেছে। অঙ্গরাজ্যটির শিক্ষকদের পেশাগত স্বীকৃতি ও মানদণ্ড তদারকির দায়িত্ব পালন করে এই স্বাধীন সংস্থা।   তবে শিক্ষকতার স্বীকৃতি বাতিল হলেও কনটু এখনো নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের কর্মী হিসেবে রয়েছেন। বর্তমানে তাঁকে বিকল্প দায়িত্বে রাখা হয়েছে। আদালতের বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, শিশুদের পড়ানোর অনুমতি নেই তাঁর।   এদিকে চলতি বছর নিউইংটন কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। খণ্ডকালীন সংগীত শিক্ষক বেঞ্জামিন ডেভিড কলিঞ্জের বিরুদ্ধে অনলাইনে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ ওঠে।   তবে ওই ঘটনার সময় নিউইংটন কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, অভিযোগটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জড়িত ছিল না। দুটি মামলা পৃথক এবং একটি ঘটনার সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।   ডিয়ান্দ্রা কনটুর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬ নভেম্বর বারউড স্থানীয় আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।   তবে কনটুর বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৬:১০
পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান পরিবারে হা ম লার অভিযোগ
প্রার্থনার মাঝেই খ্রিস্টান পরিবারে হা মলা, বাড়িতে তুলসী গাছ রেখে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রার্থনা চলাকালে একটি খ্রিস্টান পরিবারের বাড়িতে হা মলা, ভাঙচুর ও মা রধরের অভিযোগ উঠেছে শতাধিক মানুষের একটি দলের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে প্রবেশ করে সদস্যদের হেনস্তা করার পাশাপাশি তাদের জোর করে ধর্মীয় স্লো গান দিতে বাধ্য করা হয়। চলে যাওয়ার আগে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছও রেখে যায় দলটি। ঘটনার সময় পরিবারের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও হা মলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।   ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ধলহরা গ্রামে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন বিকেলে সোনালি ও বাপি রানা বাড়িতে প্রার্থনার আয়োজন করছিলেন। এ সময় প্রায় ১০০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।   ‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র তথ্য অনুযায়ী, বাড়িতে ঢুকে দলটি পরিবারের সদস্যদের মা রধর করে এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। পরে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছ রেখে যায় তারা। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লো গান দেওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।   ঘটনার সময় পরিবারের এক কিশোর সদস্যও রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বয়স ১৫ বছর। তবে পরিবারের সদস্যদের আঘাতের ধরন কিংবা তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনার পর পরিবারটি আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় থানায় যায়। অভিযোগ দায়েরের জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে তারা কেশপুর থানায় উপস্থিত হয়। কিন্তু ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরও তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর বা প্রাথমিক মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।   ‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র আরও অভিযোগ, থানার ভেতরে ও বাইরে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হু মকি দেওয়া হয়। ফলে ঘটনার পর পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উঠে এসেছে।   এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রে প্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা তদন্তের অগ্রগতিও স্পষ্ট নয়।   প্রার্থনার সময় একটি পরিবারের বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক নি র্যাতন, ধর্মীয় স্লো গান দিতে বাধ্য করা এবং থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার দাবিগুলো বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।   তবে অভিযোগের সব দিক এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:৫১
লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলে ৬ হাজারের বেশি মারামারি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় অভিভাবকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ৬ হাজার ১৩১টি মারামারির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা চার বছর আগের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনা বেড়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত শিক্ষাবর্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৫টি। যদিও আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় মারামারি ও হুমকির ঘটনা কমেছে, চার বছর আগের তুলনায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। স্কুল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কার্যক্রমে কিছু উন্নতি হলেও আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সম্প্রতি ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জেভিয়ার নুনগারে-মার্টিনেজের মৃত্যুর পর অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন একদল অভিভাবক। তাঁরা স্কুলগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানান। গত পাঁচ বছর ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে পুলিশের নিয়মিত সক্রিয় উপস্থিতি নেই।   শিক্ষার্থীদের হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠন স্পিক আউট অ্যাগেইনস্ট বুলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক মনিকা হারমন মনে করেন, স্কুলগুলোতে আরও কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়রানিবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি শেষে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী অন্যায় আচরণের অভিযোগ করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।   হারমনের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও অনেক ক্ষেত্রে পরদিনই তাঁরা আবার স্কুলে ফিরে আসেন। পর্যাপ্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় একই ধরনের আচরণ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তাঁর ধারণা। তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান।   ন্যাশনাল স্কুল সেফটি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এবং পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রোনাল্ড স্টিফেনস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের তথ্য পর্যালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, মারামারি, হুমকি ও অবৈধ পদার্থসংক্রান্ত ঘটনার তথ্য কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এসব তথ্য পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটলে সেই প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।   স্টিফেনস বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, শিক্ষার্থীদের তদারকি, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, স্কুল নিরাপদ রাখতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নির্ধারণ করা জরুরি।   বিশেষজ্ঞ এই অধ্যাপক আরও বলেন, স্কুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব সময় জটিল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। শিক্ষার্থীদের পাশে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতি, নিয়মিত তদারকি এবং তাঁদের সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।   এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের ক্যাপ্টেন এরিক এপোলিটো জানিয়েছেন, চলতি বছর স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো বিরোধ যেন বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে জন্য আগেভাগে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   এরিক এপোলিটোর মতে, শিক্ষার্থীদের হয়রানি অনেক সময় সাধারণ বিরোধ থেকে গুরুতর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর পদ্ধতি শেখানো জরুরি।   মনিকা হারমনও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর সংগঠনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করানো হয়। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হলে অন্যদের শুধু দাঁড়িয়ে দেখা বা ভিডিও ধারণ না করে প্রতিবাদ করা এবং সাহায্য চাওয়া উচিত।   ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে হারমন বলেন, আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা সময়মতো এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, স্কুলগুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে না।   তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোর সব নিরাপত্তাসংক্রান্ত সূচক খারাপ হয়নি। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্কুল বোর্ডের বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনা চার বছর আগের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কমেছে। গত শিক্ষাবর্ষে এ ধরনের ৯২৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   একই সময়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকিসংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যাও ১৪ শতাংশ কমেছে। গত শিক্ষাবর্ষে এ ধরনের ১০ হাজার ৫৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে গত পাঁচ বছর ধরে এই ঝুঁকিসংক্রান্ত প্রতিবেদনই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকারের বিষয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় মারামারি, শারীরিক আগ্রাসন, হুমকি, অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিসংক্রান্ত প্রতিবেদন কমেছে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ এখনো উদ্বেগের বিষয় বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।   স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক আচরণ উৎসাহিত করা, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপদ স্কুল পরিবেশ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে তদারকি বাড়ানো এবং যেসব স্থানে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে চার বছর আগের তুলনায় মারামারি ও হুমকির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:৪৬
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা আবারও পূরণ হলো না।   নোবেল কমিটি জানিয়েছে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্য অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে সমসাময়িক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিচারিক কার্যক্রমে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন—পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা রয়েছে।   পুরস্কার ঘোষণার ব্যাখ্যায় কমিটি বলেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিল্লাইকে বেছে নেওয়া হয়েছে।   কমিটির বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শক্তি যখন ন্যায়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেছে কমিটি।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই পুরস্কারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আইন ও মানবাধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করার বার্তা দিতে চায় কমিটি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রিডনেস বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের ভিত্তি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে পিল্লাই এবং তাঁর মতো আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টা ঘিরে আলোচনা   ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকা ও সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে পুরস্কারের যোগ্য বলে তুলে ধরেছেন। নোবেল কমিটির ওপরও তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিবর্তে পিল্লাইকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই পাকিস্তান আবারও ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।   শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল। তাঁর দাবি, সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য; নোবেল কমিটির পুরস্কার ঘোষণার কারণ হিসেবে এই দাবিকে উল্লেখ করা হয়নি।   এর আগে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্রতীকীভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পরিবর্তন করা যায় না।   আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে ন্যায়বিচারের বার্তা   এবারের পুরস্কার এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে।   এদিকে সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটিভিত্তিক সহায়তা নেটওয়ার্কগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব উদ্যোগও এবারের পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদারদের আলোচনায় ছিল।   নোবেল শান্তি পুরস্কার চলতি সপ্তাহে ঘোষিত পঞ্চম পুরস্কার। এর আগে সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পিল্লাইয়ের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:৩৭
শাকসবজি ও ফলমূলের পুষ্টিমান কমার কারণ নিয়ে গবেষণা
ষাট বছরে শাকসবজি ও ফলের পুষ্টিগুণ কমেছে অর্ধেক, গবেষণায় উঠে এল উদ্বেগজনক কারণ

ষাট বছর আগের তুলনায় বর্তমানে শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন শস্যে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গম, আপেল ও গাজরের মতো পরিচিত খাবারে কয়েকটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের পরিমাণ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে আগের মতো সমপরিমাণ পুষ্টি পেতে এখন কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ পরিমাণ ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হতে পারে। এর পেছনে মাটির গুণমানের অবনতি এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে কৃষিকাজে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চারসের (ডিএসভি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘হলো হারভেস্টস: রিবিল্ডিং দ্য নিউট্রিশনাল ভ্যালু অব ক্রপস ইন অ্যান এজ অব অ্যাবান্ড্যান্ট ক্যালোরিজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ফসলের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার কারণ, এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শস্য, রুটি, গাজর, আপেল ও মটরশুঁটির মতো খাবারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, তামা, দস্তা ও সেলেনিয়ামের মতো খনিজ উপাদানের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে কৃষির প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রতি হেক্টর জমিতে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। নতুন জাত উদ্ভাবন, উন্নত কৃষিপদ্ধতি এবং অধিক ফলনশীল ফসল চাষের ফলে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে ফসলের ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদানের দিকে তুলনামূলকভাবে কম নজর দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএসভির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের তুলনায় প্রতি হেক্টর জমিতে শস্য উৎপাদন ২১৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে অপুষ্টির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলেই যে শরীর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পাবে, তা নিশ্চিত হচ্ছে না। গবেষকদের হিসাবে, বিশ্বে এখনো ২০০ কোটির বেশি মানুষ অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের ঘাটতিতে ভুগছেন। একে অনেক সময় ‘লুকানো ক্ষুধা’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খাচ্ছেন, এমনটা সব সময় নয়। বরং পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণের পরও খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ সমস্যা দেখা যায়। এসব দেশে অনেকের খাদ্যাভ্যাসে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকলেও সেলেনিয়াম ও ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। ফলে বাইরে থেকে খাবারের পরিমাণ যথেষ্ট মনে হলেও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যেতে পারে।   সেলেনিয়ামের উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পূর্ণশস্য ও ব্রাজিল নাটে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। তবে গমের পুষ্টিঘনত্ব কমে যাওয়ার কারণে এখন নারীদের দৈনিক সুপারিশকৃত সেলেনিয়ামের চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করতে চার টুকরা পূর্ণগমের রুটি খেতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে, ১৯৬০-এর দশকের পর বাজারে আসা রুটির জন্য ব্যবহৃত গমের জাতগুলোর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম জাত সুপারিশকৃত দস্তার মাত্রা পূরণ করতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। দস্তার ঘাটতি হলে ত্বক, চুল ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, সেলেনিয়ামের অভাব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফসলের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্যের সম্পর্কও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। মাটিতে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের প্রাপ্যতা কমে গেলে গাছের পক্ষে সেগুলো শোষণ করে খাদ্যশস্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জমা করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ ফলন নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত প্রজনন ও কৃষিপদ্ধতি ফসলের আকার ও উৎপাদন বাড়ালেও পুষ্টির ঘনত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের জনপ্রিয়তা। ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওষুধ ক্ষুধা কমাতে এবং খাবার গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে এসব ওষুধ ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় কম খাবার খেলে প্রতিবার খাবার থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফসলের পুষ্টিমান কমতে থাকার প্রবণতা এবং ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষম বয়সী প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের নিরাপদ মাত্রার নিচে চলে যেতে পারেন। এটি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির হিসাব; বর্তমানে ওই সংখ্যক মানুষ পুষ্টির ঘাটতিতে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন দাবি নয়।   ডিএসভির জলবায়ুবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সহযোগী উইল সামার্স বলেন, গত ৬০ বছর ধরে খাদ্যনিরাপত্তা মূল্যায়নে মূলত ক্যালরির পরিমাণ এবং প্রতি হেক্টরে উৎপাদিত ফসলের হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলেও খাবারের ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদানের মান ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তিনি আরও বলেন, ওজন কমানোর ওষুধের কারণে মানুষ যখন কম খাবেন, তখন প্রতিবার খাবার থেকে কতটা পুষ্টি পাওয়া যাচ্ছে, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায়ও রয়েছে। উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন, মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, বাজারব্যবস্থায় পুষ্টিমানকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে ফসলের উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি পুষ্টিমান পরিমাপ ও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষক, খাদ্যশিল্প ও নীতিনির্ধারকেরা যদি পুষ্টিঘনত্ব বাড়ানোর বিষয়টিকে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হতে পারে। গবেষকদের মতে, ফসলের পুষ্টিঘনত্ব ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ানো গেলে ওজন কমানোর ওষুধের কারণে খাবার গ্রহণ কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এতে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের বিদ্যমান ঘাটতির হারও প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব ফলমূল ও শাকসবজির পুষ্টিমান একই হারে কমেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গবেষণাটির মূল বক্তব্য হলো, কয়েক দশক ধরে অনেক ফসলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান কমেছে। তাই খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান নিশ্চিত করাও এখন কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:২৫