- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিউ জার্সির একটি আবাসিক এলাকায় পুলিশের ধাওয়া শেষ হয়েছে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায়। দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি আজ, ৭ অক্টোবর নিউ জার্সিতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ধাওয়া চলার সময় একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আরও দুজন প্রাপ্তবয়স্কও আহত হয়েছেন। তাদের আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং ধাওয়ার কারণ ও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। পুলিশের ধাওয়া কী কারণে শুরু হয়েছিল, অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির গতিবিধি কী ছিল, সেসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউ জার্সিতে পুলিশের ধাওয়ার সময় দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন করে জননিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় দ্রুতগতির ধাওয়া হলে পথচারী, শিশু এবং অন্যান্য গাড়িচালকদের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করছে। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজ্ঞাত থাকা এক কিশোরের দেহাবশেষের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। ১৯৮২ সালে হোয়াইট ট্যাঙ্ক মাউন্টেন রিজিওনাল পার্কের একটি দুর্গম এলাকায় পাওয়া দেহাবশেষটি ছিল মিচেল জন পলির। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট জানিয়েছে, অনুসন্ধানমূলক জেনেটিক জিনিয়োলজি ও পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মিচেল জন পলি যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে ১৯৬৪ সালে জন্মেছিলেন। পরে তাঁর পরিবার অ্যারিজোনার বাকআই এলাকায় চলে যায়। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে প্রায় ১৪ বছর বয়সে তিনি নিখোঁজ হন। বহু বছর ধরে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই অজ্ঞাত দেহাবশেষের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ১৯৮২ সালের ২২ এপ্রিল ফিনিক্সের পশ্চিমে হোয়াইট ট্যাঙ্ক মাউন্টেন রিজিওনাল পার্কের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি খুলিসহ মেরুদণ্ডের কিছু হাড় পাওয়া যায়। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের পুরোনো কেস রেকর্ড অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা একটি হারিয়ে যাওয়া গান পডের সন্ধানে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় দেহাবশেষটি দেখতে পান। ঘটনাস্থল থেকে কোনো পোশাক বা ব্যক্তিগত জিনিস পাওয়া যায়নি। সে সময় চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় অনুমান করেছিল, দেহাবশেষটি ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরের এবং আবিষ্কারের এক থেকে তিন বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরিচয় না মেলায় মামলাটি কয়েক দশক ধরে ‘জন মারিকোপা কাউন্টি ডো’ নামে নথিভুক্ত ছিল। মারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিস চলতি বছরের মে মাসে মামলাটি ডিএনএ ডো প্রজেক্টের কাছে পাঠায়। এই অনুসন্ধানে অর্থায়ন করে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন। এরপর গবেষকেরা ডিএনএ মিলের সূত্র ধরে কিশোরটির পারিবারিক বংশপরিচয় খুঁজতে শুরু করেন। তদন্তে প্রথমে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে জার্মানির যোগসূত্র পাওয়া যায়। পরে কেনটাকি ও মিসৌরির বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে ডিএনএ সংযোগ মিলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গবেষকদের নজর যায় সেন্ট লুইসের কয়েকটি পরিবারের দিকে। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের টিম লিডার মেগান পাসিকার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তাঁরা ১৯৬৪ সালে সেন্ট লুইসে জন্ম নেওয়া এমন এক ছেলের সন্ধান পান, যার পরবর্তী জীবনের কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে তার পরিবার অ্যারিজোনার বাকআই এলাকায় চলে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটি ছিল ভৌগোলিক অবস্থান। মিচেলের পরিবার যে এলাকায় বসবাস করত, সেখান থেকে দেহাবশেষ পাওয়ার স্থানটির দূরত্ব ছিল মাত্র প্রায় পাঁচ মাইল। এরপর গবেষকেরা তাঁর পারিবারিক পূর্বপুরুষ এবং ‘জন মারিকোপা কাউন্টি ডো’র ডিএনএ ম্যাচের মধ্যে একাধিক সংযোগ খুঁজে পান। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মিচেল জন পলিকে সম্ভাব্য পরিচয় হিসেবে মারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিসের কাছে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে, ১৯৮২ সালে পাওয়া দেহাবশেষটি মিচেলেরই। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট এমন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা অজ্ঞাত মানবদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে সরাসরি কোনো ব্যক্তির ডিএনএ রেকর্ড না থাকলেও দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের ডিএনএ ম্যাচ, পারিবারিক বংশতালিকা, জন্ম ও বসবাসের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। অ্যারিজোনায় দীর্ঘদিন ধরে বহু অজ্ঞাত মৃতদেহের মামলা রয়েছে। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট এর আগেও রাজ্যটির একাধিক ‘জন ডো’ ও ‘জেন ডো’র পরিচয় শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে। মিচেলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় ৪৩ বছরের একটি রহস্যের অবসান হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তিনি ঠিক কখন নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এখন অন্তত কয়েক দশক ধরে অজ্ঞাত থাকা কিশোরটির একটি নাম ফিরে এসেছে, মিচেল জন পলি।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধ করছেন এমন ঋণগ্রহীতারা সুদের হার সাময়িকভাবে ১ শতাংশ কমানোর জন্য আরও সময় পাচ্ছেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন অটোপে ব্যবস্থায় নাম লেখানোর সময়সীমা বাড়িয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অটোপেতে যুক্ত হলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই বাড়তি সুদছাড় পেতে পারেন। এই সুবিধা মূলত তাঁদের জন্য, যারা এখনো প্রতি মাসে ম্যানুয়ালি পেমেন্ট করেন। অটোপেতে নাম লেখালে মাসিক কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে এবং সুদের হারে ১ শতাংশ পয়েন্ট ছাড় পাওয়া যাবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে অটোপে ডিসকাউন্ট আগের ০.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, যোগ্য ঋণগ্রহীতারা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ইস্টার্ন টাইমের মধ্যে অটোপেতে নাম লেখাতে পারবেন। এর আগে কিছু সার্ভিসারের নোটিশে ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এই ছাড় সব ধরনের ঋণে প্রযোজ্য নয়। ফেডারেল লোন সার্ভিসারদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পরে বিতরণ করা নির্দিষ্ট ডাইরেক্ট লোন এই সাময়িক ১ শতাংশ অটোপে ডিসকাউন্টের আওতায় পড়তে পারে। নিজের লোন যোগ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট লোন সার্ভিসারের অ্যাকাউন্টে গিয়ে যাচাই করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, কারও ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের সুদের হার ৬.৫ শতাংশ হলে যোগ্যতা সাপেক্ষে অটোপেতে যুক্ত হওয়ার পর কার্যকর হার সাময়িকভাবে ৫.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এতে মূল ঋণের চুক্তিভিত্তিক স্থায়ী সুদের হার পরিবর্তন হয় না। বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পেমেন্টে একটি সুদছাড় কার্যকর থাকে। এই সুবিধা এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন নতুন ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের সুদের হার তুলনামূলকভাবে উঁচু। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রথমবার বিতরণ করা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড লোনের স্থায়ী সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। গ্র্যাজুয়েট বা প্রফেশনাল শিক্ষার্থীদের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড লোনের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস লোনের হার ৯.০৭ শতাংশ। ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে সুদ প্রতিদিন জমা হয়। অর্থাৎ ঋণের বকেয়া মূল অর্থ এবং প্রযোজ্য সুদের হার অনুযায়ী প্রতিদিন নতুন সুদ যোগ হতে থাকে। এ কারণে ১ শতাংশ পয়েন্টের ছাড় দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় আনতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের ঋণের পরিমাণ বেশি। তবে অটোপেতে নাম লেখানোর আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ আছে কি না তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ব্যর্থ হলে ব্যাংক ফি বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের নিজেদের লোন সার্ভিসারের ওয়েবসাইটে গিয়ে অটোপের শর্ত, যোগ্যতা ও কার্যকর তারিখ দেখে নেওয়া উচিত। ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে একাধিক ঋণ থাকলে কনসোলিডেশন আরেকটি বিকল্প হতে পারে, তবে সেটি কেবল সুদ কমানোর উপায় নয়। ডাইরেক্ট কনসোলিডেশন লোনে একাধিক ঋণকে একটিতে একত্র করা যায়, কিন্তু নতুন সুদের হার সাধারণত আগের ঋণগুলোর ওজনযুক্ত গড়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং তা কাছাকাছি এক-অষ্টমাংশ শতাংশে রাউন্ড করা হয়। ফলে কনসোলিডেশন করলেই সুদের হার কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান অটোপে সুবিধার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়সীমা। যারা এখনো ম্যানুয়ালি ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের কিস্তি দিচ্ছেন এবং যোগ্য লোন আছে, তাদের জন্য ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত অটোপেতে নাম লেখানোর সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্ত হলে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১ শতাংশ পয়েন্ট সুদছাড় কার্যকর থাকতে পারে।
ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে আইফোন চুরির একটি ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। কৌশিকী ধ্যানী নামে এক নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর আইফোন চুরি হওয়ার পর ফোনটি যার কাছে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তি উল্টো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিভাইসটির পাসওয়ার্ড চেয়েছে। এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপে পাসওয়ার্ড চাওয়ার স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বর দেরাদুনের ক্লেমেন্ট টাউন এলাকায় ঘটে বলে কৌশিকীর দাবি। তাঁর আইফোনের পাশাপাশি তাঁর এক বন্ধুর ভাই সক্ষম নেগি এবং আরও কয়েকজনের মোবাইল ফোন চুরি হয়। একই সময় ওই ভবন থেকে ল্যাপটপ, ম্যাকবুক ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কৌশিকীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আইফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর ডিভাইসটিতে একটি যোগাযোগের নম্বর দৃশ্যমান ছিল। সেই নম্বর ব্যবহার করেই ফোনটির দখলে থাকা ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তিনি এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপে আইফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে বার্তা পান বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আনেন কৌশিকী। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি রিলে তিনি চুরির ঘটনা এবং পরবর্তী বার্তাগুলোর কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, ফোনের অবস্থান ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কৌশিকী আরও দাবি করেছেন, ঘটনাটি শুধু তাঁর ফ্ল্যাটে সীমাবদ্ধ ছিল না। একই ভবন থেকে পাঁচ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিনে আশপাশের পেইং গেস্ট আবাসন ও হোস্টেলেও চুরির ঘটনা ঘটে। চুরিগুলো ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এলাকায় পরবর্তী কয়েক দিনেও আরও চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। কৌশিকীর দাবি, প্রথম দফার ঘটনার পর একই এলাকায় আরও ১৬টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ক্লেমেন্ট টাউনের লেন নম্বর ৯এ-তেও লাখ লাখ রুপির জিনিসপত্র চুরির আরেকটি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৌশিকী। তাঁর অভিযোগ, চুরির পর থানায় গেলে তাঁদের প্রথমে বলা হয়, দায়িত্বশীল কেউ উপস্থিত নেই এবং পরে আসতে হবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, কয়েকটি অভিযোগ গ্রহণ করতেও গড়িমসি করা হয়েছে। তবে দেরাদুন পুলিশ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যে বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। সিটি পুলিশ সুপার শেখর সুয়াল জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি আমলে নিয়েছে এবং সার্কেল অফিসার বিষয়টি তদন্ত করছেন। তবে ১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একই এলাকায় সংঘটিত অন্য চুরিগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ। ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক দিক হয়ে উঠেছে চুরি হওয়া ফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে মালিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভিযোগ। সাধারণত আইফোনে পাসকোড ও অ্যাক্টিভেশন লক থাকলে ডিভাইসটি পুনরায় ব্যবহার বা বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তদন্তকারীদের জন্য ওই বার্তাগুলো ফোনটির দখলে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তবে কৌশিকীর অভিযোগ অনুযায়ী যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাঁর ফোন চুরি করেছে, তাদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাসওয়ার্ড চেয়ে পাঠানো বার্তার প্রেরকই সরাসরি চোর কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। পুলিশ এখন চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা যায় কি না এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা যাচাই করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখন শহরের ডিডিওটি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারছে। ‘রাইড টু রাইজ’ কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা চালু করেছে সিটি অব ডেট্রয়েট। বিনামূল্যে রাইডের জন্য কোনো আলাদা বাস পাস, আবেদন বা ফি প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীকে শুধু বাসে ওঠার সময় স্কুল থেকে দেওয়া বৈধ স্টুডেন্ট আইডি দেখাতে হবে। ডেট্রয়েট সিটির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি, চার্টার ও বেসরকারি স্কুলে পড়া কে-১২ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির সুবিধা পাবে। স্টুডেন্ট আইডিতে শিক্ষার্থীর নাম, ছবি এবং স্কুলের নাম থাকতে হবে। সাধারণ স্টেট আইডি স্কুল কর্তৃক ইস্যু করা স্টুডেন্ট আইডির বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। এই সুবিধা শুধু স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা ডিডিওটির নিয়মিত রুট ব্যবহার করে স্কুলের পাশাপাশি আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম, কাজ, খেলাধুলার অনুশীলন কিংবা অন্য প্রয়োজনেও বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে। বাস চলাচলের সময়সীমার মধ্যে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তেও সুবিধাটি পাওয়া যাবে। শহরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি বছরের ৩৬৫ দিন কার্যকর রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ডের প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে কর্মসূচিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। পরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার বাড়ায় এটি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগস্টে সিটি অব ডেট্রয়েট জানায়, ‘রাইড টু রাইজ’ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষজুড়ে চলবে এবং কর্মসূচিটির জন্য মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাজেট থেকে ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দুই মাসে কর্মসূচিটি চালু হওয়ার পর ডিডিওটি বাসে শিক্ষার্থীদের যাত্রীসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছিল। মেয়র শেফিল্ড বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির পথে পরিবহন যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ ‘রাইড টু রাইজ অ্যাম্বাসেডর’ কর্মসূচিও যুক্ত করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জন অ্যাম্বাসেডর বাস, ট্রানজিট সেন্টার এবং বিভিন্ন হাইস্কুলের বাসস্টপে ব্যস্ত সময়ে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের পাশাপাশি ডিডিওটি এবং ডেট্রয়েট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ট্রানজিট ইউনিটসহ অন্যান্য সিটি কর্মীরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন। ডেট্রয়েট সিটির ভাষ্য, পরিবহন খরচ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল, চাকরি বা বিভিন্ন শিক্ষামূলক সুযোগে অংশ নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই বাধা কমাতেই বিনামূল্যে গণপরিবহনের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাইড টু রাইজ ব্যবহারের প্রক্রিয়াও সহজ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে যেকোনো নিয়মিত ডিডিওটি সিটি বাসে উঠতে হবে, চালককে বৈধ স্কুল আইডি দেখাতে হবে, তারপর কোনো ভাড়া না দিয়েই যাত্রা করা যাবে। আলাদা অ্যাপ, বিশেষ ট্রানজিট পাস বা কোনো আবেদনপত্রের প্রয়োজন নেই। ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেও চালু থাকায় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি স্কুল ও অন্যান্য কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করছে শহর কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে নতুন সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান উদ্যোক্তা আসওয়ার রহমান। তাঁর নেতৃত্বাধীন নিউইয়র্কভিত্তিক আমেরিবাংলা করপোরেশন আগামী ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম বেসরকারিভাবে পরিচালিত মার্কিন তুলার গুদাম চালুর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মিলগুলোকে প্রতিবার আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বাংলাদেশে মজুত থাকা তুলা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংগ্রহ করা যাবে। ৩২ বছর বয়সী আসওয়ার রহমান আমেরিবাংলা করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রহমান ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের বাংলাদেশের স্পিনিং, টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করা। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকার নির্ধারিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাছাকাছি একটি লিজ নেওয়া স্থাপনায় গুদামটির কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ টন তুলা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি চালান দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টন তুলা রাখা হবে এবং স্থানীয় একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগের বড় সুবিধা হতে পারে আমদানির সময় কমে যাওয়া। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, সাধারণভাবে অর্ডার দেওয়ার পর আমদানি করা তুলা হাতে পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্থানীয় গুদামে আগে থেকেই তুলা মজুত থাকলে এই অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার বাজারও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন তুলা আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা তুলা বর্তমানে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, অনুকূল বাণিজ্য সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির বাজার বছরে ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দামের ক্ষেত্রেও সরাসরি সংগ্রহব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চাইছে আমেরিবাংলা। প্রচলিত আমদানি ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে মার্কিন তুলার দাম বর্তমানে আনুমানিক ৮৫ সেন্ট প্রতি পাউন্ড বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রহমানের দাবি, কৃষক ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকারীদের কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ এবং স্থানীয় গুদাম ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় প্রতি পাউন্ডে প্রায় ১০ সেন্ট কমে তুলা সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রকৃত দাম বাজারদর, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশের এনভয় টেক্সটাইলস ইতোমধ্যে আমেরিবাংলার মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন তুলা সংগ্রহের এই পদ্ধতি পরীক্ষা করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি আগের বছর প্রায় ৬০ টন তুলা আমেরিবাংলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল। এনভয় টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ সরাসরি সংগ্রহব্যবস্থাকে উভয় পক্ষের জন্য উপকারী বলে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তাও জানান, পরীক্ষামূলক আমদানিতে তারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পেয়েছেন। গুদামের পাশাপাশি রহমানের পরিকল্পনার আরেকটি অংশ কটনপোর্ট। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে চালু হওয়া এই ডিজিটাল তুলাবাজার বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি ৮২ টন ভার্জিনিয়ার তুলার প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। আমেরিবাংলার হিসাবে, বর্তমানে তারা প্রতি মাসে ১৬ কনটেইনার মার্কিন তুলা বাংলাদেশে সরবরাহ করছে। রহমানের প্রত্যাশা, আগামী বছর এই পরিমাণ মাসে ২৮০ কনটেইনার পর্যন্ত যেতে পারে। কটনপোর্টের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে তুলার উৎস শনাক্তকরণ ও সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও যুক্ত করতে চাইছে আমেরিবাংলা। প্রতিষ্ঠানটি ৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে ‘অল আমেরিকান কটন’ নামে একটি সনদ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পখাতের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটির আইসোটোপ পরীক্ষার মাধ্যমে তুলার উৎস যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে। সনদপ্রাপ্ত মার্কিন তুলা ব্যবহার করা পোশাক ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মার্কিন বাণিজ্য সুবিধার আওতায় শুল্ক ছাড় বা কর সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে এসব সুবিধার হার ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট মার্কিন নীতি, আইন এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সম্ভাব্য ১০ থেকে ১৯ শতাংশ শুল্ক হ্রাস কিংবা কাঁচামালের মূল্যের ১৮ শতাংশ হস্তান্তরযোগ্য করছাড়কে এখনই নিশ্চিত সুবিধা হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। নিউইয়র্ক সিটিতে ‘আমেরিবাংলা কটন ল্যাব’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০ জন উদীয়মান ফ্যাশন ডিজাইনারকে নির্বাচন করে সনদপ্রাপ্ত মার্কিন তুলা, সুতা ও কাপড় ব্যবহার করে বাংলাদেশে তাদের পোশাকের নিজস্ব সংগ্রহ তৈরি করতে সহায়তা করা হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন সক্ষমতাকে একই সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। রহমানের আরও বড় লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে বর্তমান প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগে ভূমিকা রাখা। কটনপোর্ট, তুলার গুদাম, সনদ ব্যবস্থা এবং নিউইয়র্কের ডিজাইন উদ্যোগকে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে আমেরিবাংলা। স্থায়ী গুদাম তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউএস এক্সিম ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা চাওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ ধরনের সহযোগিতা এখনো পরিকল্পনা ও যোগাযোগের পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। সেই বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক থেকে বাংলাদেশের কারখানা পর্যন্ত সরাসরি বাণিজ্যিক পথ তৈরি করার চেষ্টা আসওয়ার রহমানের উদ্যোগকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। আগামী ১৮ নভেম্বর পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ারার গুদাম চালু হলে উদ্যোগটির বাস্তব কার্যকারিতা, তুলার দাম কতটা কমে এবং স্থানীয় মিলগুলো কত দ্রুত পণ্য হাতে পায়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের।চাইলে এটিকে আরও বেশি নিউজরুমধর্মী, আরও সহজ বাংলা বা আরও প্রোফাইলধর্মী করে দিতে পারি। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
থাইল্যান্ড থেকে ভারতে এসে স্বামীর খোঁজ করতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন এক থাই নারী। উত্তর প্রদেশের কানপুরে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, যাঁকে তিনি নিজের স্বামী বলে জানতেন, সেই মোহাম্মদ ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ওই নারীর আরও অভিযোগ, ব্যবসার প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ রুপি নিয়েছেন। অভিযোগের পর ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে কানপুর পুলিশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই নারীর নাম আপসর্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইরফানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ব্যবসার কাজে ইরফান নিয়মিত থাইল্যান্ডে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আপসর্নের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে থাইল্যান্ডের স্থানীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে ইরফান নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিয়ের পর ব্যবসা ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নিতে শুরু করেন। শুরুতে প্রায় ২০ লাখ রুপি দেওয়ার পর কয়েক দফা লেনদেনে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ রুপিতে পৌঁছায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আপসর্ন থাইল্যান্ডে একটি ক্যান্টিন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, ইরফানকে দেওয়া অর্থের একটি অংশ ছিল তাঁর নিজের উপার্জনের টাকা। বাকি অর্থের কিছু তিনি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করেছিলেন। তবে ইরফান কোনো অর্থ ফেরত দেননি বলে অভিযোগ তাঁর। পরিস্থিতি বদলে যায় যখন আপসর্ন টাকা ফেরত চাইতে শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, এরপর ইরফান ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে ফিরে আসার পর তাঁর ফোনকলেরও উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বামীর খোঁজে নিজেই ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেন আপসর্ন। গত ৬ অক্টোবর পরিচিত একজনকে সঙ্গে নিয়ে কানপুরের লাটুশ রোড এলাকায় ইরফানের বাড়িতে যান তিনি। সেখানেই জানতে পারেন, ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপসর্ন পুলিশকে জানিয়েছেন, ইরফানের আগের বিয়ের বয়স প্রায় ১৪ বছর। আপসর্ন আরও অভিযোগ করেছেন, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে ভারতে এসে ইরফানের সঙ্গে থাকতে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং বোরকা পরতে বলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ইরফানের বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁকে মারধরও করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর কানপুরের আনোয়ারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় মারধরের অভিযোগের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের ধর্মান্তরবিরোধী আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের সহকারী কমিশনার মঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, ইরফান ওই নারীকে বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কানপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অতুল শ্রীবাস্তবও জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিয়ের নথি, ছবি, আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্রসহ অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন। আপসর্ন পুলিশের কাছে বিয়ের ছবি ও অন্যান্য নথি জমা দিয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর মেডিকেল পরীক্ষাও করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। তবে ইরফানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ, আগের বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ এবং ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্ত শেষে আরও স্পষ্ট হবে।
ফিলিপাইনের রিকার্ডো “জুন” লাইঙ্গো জুনিয়র বছরের পর বছর যে ব্যাংকের দরজায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, একদিন সেই ব্যাংকের কাউন্টারের পেছনে টেলার হিসেবে কাজ করবেন, এমন স্বপ্নই তিনি লালন করতেন। দীর্ঘ ১১ বছরের নিরাপত্তাকর্মীর জীবন, পড়াশোনা, পরিবার সামলানো এবং ধৈর্যের পর শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩ মার্চ সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিপোলগ শাখায় টেলার হিসেবে যোগ দেন তিনি। রিকার্ডোর বাড়ি ফিলিপাইনের জাম্বোয়াঙ্গা দেল নর্তের ডিপোলগ সিটির মিপুতাকে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তাঁর বাবা ছিলেন জেলে এবং মা মাছ বিক্রি করতেন। শৈশবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। স্কুলের খরচ ও নিজের হাতখরচ জোগাড় করতে সপ্তাহান্তে তিনিও মাছ ধরতেন। শিক্ষকদের সহায়তায় তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে সক্ষম হন। ২০১০ সালে প্রায় ২১ বছর বয়সে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ শুরু করেন রিকার্ডো। বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালনের পর একসময় তাঁকে সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিপোলগ শাখায় নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী আট বছর সেই শাখার প্রবেশপথ পাহারা দিতে দিতেই তাঁর ভেতরে আরও দৃঢ় হয় একটি স্বপ্ন, একদিন তিনি এই ব্যাংকেরই কর্মী হবেন, বিশেষ করে টেলার হিসেবে কাজ করবেন। রিকার্ডো পরে স্মৃতিচারণ করে বলেন, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণই ছিল সিকিউরিটি ব্যাংকে টেলার হিসেবে কাজ করার স্বপ্ন। তাঁর কাছে তখন নিরাপত্তারক্ষীর ইউনিফর্ম ছিল কেবল একটি চাকরি নয়, ভবিষ্যতের একটি সুযোগের অপেক্ষাও। ২০১৮ সালে সেই অপেক্ষায় আসে বড় পরিবর্তন। সিকিউরিটি ব্যাংক ফাউন্ডেশনের “রেগালো মো, কিনাবুকাসান কো” স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় বৃত্তি পান রিকার্ডো। এই কর্মসূচি ব্যাংকের এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মী এবং তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনায় সহায়তা করে। বৃত্তি পাওয়ার পর তিনি ডিপোলগ সিটি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রিতে ভর্তি হন। চাকরি, পরিবার এবং পড়াশোনা একসঙ্গে সামলানো তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবু তিনি পড়াশোনা ছাড়েননি। ২০২২ সালের ২ জুলাই ৩২ বছর বয়সে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন রিকার্ডো। নিজের পড়াশোনা শেষ করতে স্কলারশিপ এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি। তবে স্নাতক শেষ করেই সরাসরি ব্যাংকের টেলার হতে পারেননি তিনি। পড়াশোনা শেষ করার পর কিছু সময় দেশের একটি বড় মোটরসাইকেল ডিলার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তবু সিকিউরিটি ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পুরোনো স্বপ্ন ছাড়েননি। অবশেষে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ আসে সেই সুযোগ। সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিপোলগ শাখায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে টেলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যে দরজায় একসময় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে গ্রাহকদের ভেতরে ঢুকতে দেখতেন, এবার সেই দরজা পেরিয়েই ব্যাংকের নিজস্ব কর্মী হিসেবে কাউন্টারের পেছনে জায়গা নেন তিনি। রিকার্ডো জানিয়েছেন, তাঁর জীবনে অনেক কিছু বদলে গেছে। তিনি ১১ বছর সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করেছেন, আর এখন একজন ব্যাংক টেলার। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি গর্বিত, তবে নিজের যাত্রা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষা পেয়েছেন সেটি হলো বিনয়ী থাকা। রিকার্ডোর গল্প ২০২৫ সালে সিকিউরিটি ব্যাংক ফাউন্ডেশন প্রকাশ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গল্প নিয়ে করা পোস্ট কয়েক দিনের মধ্যে কয়েক মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। পরে ফিলিপাইনের একাধিক সংবাদমাধ্যমেও তাঁর দীর্ঘ পথচলা তুলে ধরা হয়। ব্যাংকের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন সিকিউরিটি গার্ড থেকে একই প্রতিষ্ঠানের টেলার হওয়ার এই যাত্রায় রিকার্ডোর জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে শিক্ষা ও সুযোগ। যে প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ তিনি বছরের পর বছর পাহারা দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই নিজের বহুদিনের স্বপ্নের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারের এক নারী কর্মীর মৃ ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত মানচিত্রে গত সাত বছরে কোন কোন দেশে মানুষের মধ্যে প্লেগের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, সেই চিত্র সামনে এসেছে। তবে শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়ায় মৃ ত্যু হওয়া ওই ল্যাবকর্মীর প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এখনো দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রুশ সরকারি স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, ওই গবেষণাগারে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। স্বাধীন ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন রুশ সংবাদমাধ্যমে অবশ্য ওই ঘটনাকে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্কে প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২ অক্টোবর তার মৃ ত্যু হয়। তার মৃ ত্যুর কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়া’র কথা জানিয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময় জীবিত প্লেগ ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর শিপিলোভা তার সহকর্মীদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে এই দাবির স্বাধীন বা সরকারি কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বুরিয়াতিয়া থেকে কাজের সফর শেষে ফেরার পর অসুস্থ হয়েছিলেন। বুরিয়াতিয়ার আঞ্চলিক সরকার অবশ্য দাবি করেছে, তিনি ওই অঞ্চলে গিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। ঘটনাটি ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ, যারা ওই নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের বড় একটি অংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে প্লেগ সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্লেগ কী এবং কত দেশে ছড়িয়েছে—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’। সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা মাছির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ, সংক্রমিত তরল বা উপাদানের সংস্পর্শ এবং বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ানো কণার সংস্পর্শেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। প্লেগের প্রধান তিনটি ধরন হলো বুবোনিক, নিউমোনিক এবং সেপটিসেমিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে সংক্রামক এবং গুরুতর ধরনগুলোর একটি। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্র থেকে বের হওয়া সংক্রমিত কণার মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে। ডব্লিউএইচওর ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিশ্বের ১০টি দেশ মানুষের মধ্যে সন্দেহভাজন প্লেগের ঘটনা জানিয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি দেশে নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণও নথিভুক্ত হয়েছে। মোট ৩ হাজার ৮৬০টি সন্দেহভাজন ঘটনা এবং ৪২৩ জনের মৃ ত্যুর তথ্য সংস্থাটির কাছে জমা পড়েছে। এই সময়ের নিশ্চিত সংক্রমণের বড় অংশই আফ্রিকার দেশগুলোর। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং মাদাগাস্কারে সবচেয়ে বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া কেনিয়া, উগান্ডা, চীন ও মঙ্গোলিয়াতেও নিশ্চিত মানব প্লেগের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের নিশ্চিত সংক্রমণের প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশই গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে পাওয়া গেছে। ডব্লিউএইচওর মানচিত্রে থাকা তথ্যের অর্থ অবশ্য সব দেশের পরিস্থিতি একই রকম—এমন নয়। কোনো দেশ ওই সময়ে কোনো ঘটনা রিপোর্ট না করলেও সেখানে প্লেগের প্রাকৃতিক উৎস থাকতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগটি ওশেনিয়া ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশেই প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে মানুষের মধ্যে সাম্প্রতিক অধিকাংশ ঘটনা আফ্রিকাতেই ঘটেছে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে। রাশিয়ার বর্তমান ঘটনাটিও তাই এখনো সতর্কতার সঙ্গে দেখছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রাশিয়ায় সম্ভাব্য প্লেগ পরিস্থিতির ঝুঁকি কম বলে মূল্যায়ন করেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের পর্যবেক্ষণ এবং ঘটনাটির বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে প্লেগের সরাসরি সম্পর্ক সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিত প্লেগ প্রাদুর্ভাব হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক তথ্য বলছে, প্লেগ এখনো বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অধিকাংশ মানব সংক্রমণ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা দিয়েছেন বলে পরিচিত চিকিৎসক ডা. হান্না কেইনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইংল্যান্ডের নরফোকের ডারসিংহামে নিজ বাড়ি থেকে ৪৫ বছর বয়সী হান্নার মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী মার্ক কেইনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটে ৪ অক্টোবর ভোরে। নরফোক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টা ২০ মিনিটের কিছু পর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ফার্ন হিল এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখানে ৪০-এর কোঠার এক নারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে আনুষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া সাপেক্ষে তাঁকে হান্না কেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। হান্না পেশাগতভাবে ডা. হান্না টেরি নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি নরফোকের গ্রিমস্টন মেডিকেল সেন্টারে জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসেবে কাজ করতেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যান্ড্রিংহামে অবস্থানকালে রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য যেসব চিকিৎসককে ডাকা হতো, হান্না তাঁদের একজন ছিলেন। তিনি কুইন ক্যামিলাকেও চিকিৎসা দিয়েছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে নরফোক পুলিশ বা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর এই সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। নিউইয়র্ক পোস্টসহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বাড়িতে হান্নার সন্তানদের কয়েকজন বন্ধু ছিল এবং সেখানে শিশুদের রাতযাপনের আয়োজন চলছিল। তবে এই অংশটি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি। হান্না তিন সন্তানের মা ছিলেন। বুধবার নরউইচ ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করা হয় মার্ক কেইনকে। আদালতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্ষিপ্ত শুনানিতে তিনি নিজের নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ নিশ্চিত করেন। এ পর্যায়ে তাঁকে কোনো প্লি দিতে বলা হয়নি। তাঁকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং মামলাটি পরবর্তী আদালত প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে হান্নার মাথায় আঘাত এবং ঘাড়ে চাপের চিহ্ন পাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, ৫ অক্টোবর হোম অফিসের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত হলেও মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ এখনো আরও তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনার পর নরফোক ও সাফোক মেজর ইনভেস্টিগেশন টিম হত্যার তদন্ত শুরু করে। প্রথমে একজন ৪০-এর কোঠার পুরুষকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে পুলিশ অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছ থেকে আরও সময় নেয়। তদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হান্নাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও নিশ্চিত করেছে, হান্না কেইনের মৃত্যুর ঘটনায় মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশি তদন্তে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনার পর এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ফৌজদারি মামলার নিয়ম অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত মার্ক কেইনকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ঘটনার পর গ্রিমস্টন মেডিকেল সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের টিমকে প্রভাবিত করা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হান্নার সহকর্মী ও পরিচিতদের অনেকেই তাঁকে একজন সহানুভূতিশীল ও নিবেদিত চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করেছেন। হান্নার পরিবারকে বিশেষায়িত পুলিশ কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এই সময়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের কাছাকাছি শান্ত আবাসিক এলাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অভিযোগের পক্ষে থাকা প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় উদ্দেশ্য বা ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
১০০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত সুস্থভাবে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন ‘ব্লু জোন’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় তুলনামূলক বেশি সংখ্যক দীর্ঘায়ু মানুষের বসবাস। ইতালির সার্দিনিয়া, জাপানের ওকিনাওয়ার মতো এসব অঞ্চলের মানুষের খাবার, পানীয় ও দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে গবেষকরা দীর্ঘায়ুর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখছেন। দীর্ঘায়ু গবেষক ড্যান বুয়েটনার সম্প্রতি এমন তিনটি পানীয়ের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলো ব্লু জোনের মানুষের মধ্যে নিয়মিত পান করার অভ্যাস দেখা যায়। এগুলো হলো পানি, চিনি ছাড়া কালো কফি এবং অল্প পরিমাণ রেড ওয়াইন। তবে এসব পানীয়ের সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্পর্ক থাকলেও কোনো একটি পানীয় খেলেই ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিশ্চিত হয়—এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বুয়েটনারের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পানি। তার মতে, দীর্ঘ জীবন ও সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানীয় হলো পানি। ব্লু জোনের বাসিন্দারা সাধারণত দিনে কয়েক গ্লাস পানি পান করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি গবেষণাতেও ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ১১ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকা মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও অকাল মৃ ত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। তবে গবেষণাটি কারণ ও ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করেনি। ব্লু জোনের খাবার ও পানীয় নিয়ে প্রকাশিত নির্দেশনাতেও পানিকে প্রধান পানীয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে কফি, চা, পানি ও ওয়াইনের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় পানীয় কালো কফি। বুয়েটনারের মতে, চিনি বা অতিরিক্ত ক্রিম ছাড়া দিনে এক থেকে দুই কাপ কফি পান করা দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি দিনের প্রথম ভাগেই কফি পান শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ক্যাফেইনের কারণে রাতে ঘুমের সমস্যা কম হয়। কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত কফি পান এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কিছু স্নায়বিক রোগের তুলনামূলক কম ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে কফি সবার জন্য একইভাবে উপকারী—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতিরিক্ত ক্যাফেইন উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তৃতীয় পানীয় হিসেবে বুয়েটনার উল্লেখ করেছেন রেড ওয়াইনের কথা। সার্দিনিয়ার মতো কিছু ব্লু জোন এলাকায় মানুষ খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ রেড ওয়াইন পান করেন বলে তিনি জানান। রেড ওয়াইনে রেসভেরাট্রল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যেগুলো হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। বুয়েটনার নিজেও স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘায়ুর সঙ্গে রেড ওয়াইনের সম্পর্ক নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। কারণ অ্যালকোহল পান করার সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালকোহল পান অন্তত সাত ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর মধ্যে স্তন, কোলোরেক্টাল, খাদ্যনালি, স্বরযন্ত্র, যকৃৎ, মুখ ও গলার ক্যানসার রয়েছে। এ কারণে রেড ওয়াইনের কথাকে দীর্ঘায়ুর পরামর্শ হিসেবে সরাসরি নেওয়া ঠিক হবে না। যারা অ্যালকোহল পান করেন না, শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় তাদের শুরু করারও কারণ নেই। বিশেষ করে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ব্লু জোনের মানুষের দীর্ঘায়ু শুধু তিনটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করে না। তাদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগ এবং জীবনযাপনের ধরনও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পানি ও পরিমিত কফির মতো অভ্যাস স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এগুলোকে দীর্ঘ জীবনের একক সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। সব মিলিয়ে, দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণায় পানীয়ের ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামগ্রিক জীবনযাপন। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং ভালো ঘুম—দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য এসব অভ্যাসের গুরুত্বই বেশি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হাম বা মিজলসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান, রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ জোরদার করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৫ অক্টোবর রাজ্যে চলমান হাম সংক্রমণের কারণে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গ্রামীণ অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরে ১০৮টি হাম সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি ঘটনা ১৫ জুলাইয়ের পর শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ এমন এলাকায় রয়েছে যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে কম। নিউইয়র্ক সিটিতে এ সময় সাতটি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় কাউন্টি স্বাস্থ্য দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করা, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষভাবে এমএমআর টিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টিকা হাম, মাম্পস এবং রুবেলা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ হলো, নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের টিকাদানের রেকর্ড পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে টিকা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সরবরাহ করছেন। এ জন্য নতুন করে একটি হাম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলের সংক্রমণের তথ্য নজরদারি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য আরেকটি উদ্বেগ হলো ভ্রমণের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ বিদেশে বা হাম আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণের আগে টিকাদানের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে পাশের পেনসিলভানিয়াতেও বড় ধরনের হাম সংক্রমণ চলছে। ফলে নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শুধু রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ নয়, আশপাশের অঙ্গরাজ্য ও ভ্রমণজনিত ঝুঁকিও পর্যবেক্ষণ করছেন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারে ছোট শিশু রয়েছে বা যারা বাংলাদেশসহ বিদেশে যাতায়াত করেন, তাদের শিশুদের টিকাদানের রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় টিকা সম্পন্ন করা উচিত। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারও জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জনসমাগমে না গিয়ে চিকিৎসক বা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ অ্যারিজোনায় দ্বিতীয় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ ঠেকাতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গাছ আঁকড়ে প্রতিবাদ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত সোমবার সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কটনউড গাছ কেটে ফেলেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে সান রাফায়েল ভ্যালির লোচিয়েল শহরের কাছে। সীমান্তের পাশে থাকা চারটি কটনউড গাছের জায়গা দিয়েই প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গাছগুলো রক্ষায় আন্দোলনকারীরা সেখানে দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছিলেন। সোমবার ফেডারেল এজেন্টরা ওই প্রতিবাদস্থলে অভিযান চালান। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় ৫০ জন ফেডারেল এজেন্ট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কয়েকজন মুখোশ পরেছিলেন। এমনকি কিছু এজেন্টের পোশাকের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ টেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। অভিযানের সময় একটি গাছে উঠে অবস্থান নেওয়া এক প্রতিবাদকারীকে নামিয়ে আনতে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ফেডারেল এজেন্টরা গাছটি ঘিরে রেখেছেন। পরে ওই যন্ত্রের সাহায্যে গাছের ওপর থাকা প্রতিবাদকারীকে নামিয়ে আনা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গাছটি কেটে ফেলা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির কর্মী রাস ম্যাকস্প্যাডেন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা গাছগুলো কেটে ফেলার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে কয়েকজন প্রতিবাদকারী গাছে উঠে অবস্থান নেন। তাদের একজন সেখানে টানা ৭১ দিন ছিলেন বলে জানান তিনি। অভিযানকারীদের দাবি, সোমবারের অভিযানে ১০ জন প্রতিবাদকারীকে আ ট ক করা হয়। তাদের কয়েকজন পরে ছাড়া পেয়েছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও কয়েকজন হেফাজতে ছিলেন। এই গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যারিজোনায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে পুরোনো বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সান রাফায়েল ভ্যালিতেও নির্মাণকাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের কাছে কটনউড গাছটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। তাদের মতে, গাছটির বয়স প্রায় ২০০ বছর এবং এটি ওই এলাকার অন্যতম পুরোনো গাছ। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সোমবারের অভিযানে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র এজেন্ট মুখোশ পরে সেখানে অভিযান চালান এবং পরিচয় শনাক্ত করার মতো ব্যাজও ঢেকে রাখেন। গাছের ওপর থাকা প্রতিবাদকারীকে সরিয়ে নেওয়ার পর দ্রুত সেটি কেটে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ তাদের। তবে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি কটনউড গাছই সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য অপসারণের তালিকায় ছিল। গাছ কাটার আগে পরিবেশবিষয়ক পর্যবেক্ষকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। অ্যারিজোনার সীমান্ত এলাকায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তোহোনো ও’ওধাম নেশন এলাকায় নির্মাণকাজের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছিল। সেখানেও স্থানীয় ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজের বিরোধিতা করা হয়। লোচিয়েল এলাকার প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন, সোমবারের অভিযান ও গাছ কাটার পরও তাদের আন্দোলন থামছে না। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের বিরুদ্ধে তারা আরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মঙ্গলবারও প্রতিবাদের নতুন চিত্র দেখা গেছে। একজন আন্দোলনকারী মেক্সিকোর পাশের একটি কটনউড গাছে উঠে অবস্থান নেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি শুধু একটি গাছ অপসারণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি অ্যারিজোনায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদ—এই তিনটি বিষয়কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা নিজেদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নতুন এ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। নতুন নিয়মে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে আনার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশভিসার আবেদন করতে কর্মীর নিজের কাজের ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসা কর্মীর কর্মভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সমান্তরালভাবে দেওয়া যেতে পারে। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত সব শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। আগের ব্যবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে কর্মীর নিজের কর্মভিসা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা সৌদি আরবে কাজের জন্য যাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ব্যবস্থাও এগিয়ে নিতে পারবেন। পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়া দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা যাবে। অর্থাৎ প্রবেশভিসা পাওয়ার পরও পরিবারের সদস্যদের বৈধভাবে বসবাসের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে। সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাজের সুযোগের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুবিধা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাস ও কর্মজীবনকে আরও সহজ করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমানো এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাসের পরিবেশ আরও সুবিধাজনক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এই ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করতে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। তবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও ওই দিনটিকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবরের কর্মদিবসেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। ফলে পূজার কারণে টানা তিন দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। এরপর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার এবং ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পূজার ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই টানা ছুটির সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন অফিস খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওইদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম চালু থাকবে।
ছুটির মৌসুমে বাড়ি ফেরা বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে বিমান ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। কিন্তু বছরের এই সময়ে টিকিটের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কখন টিকিট বুক করলে তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণ করা যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে গুগলের সর্বশেষ ফ্লাইট বিশ্লেষণ। গুগল ফ্লাইটসের পাঁচ বছরের সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ভ্রমণের জন্য কম দামের টিকিট পেতে অক্টোবর মাসটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বড়দিনের ভ্রমণের ক্ষেত্রে কম ভাড়ার সময় এ বছর গত বছরের তুলনায় আরও কিছুটা এগিয়ে এসেছে। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, থ্যাংকসগিভিংয়ের জন্য সবচেয়ে কম দামের টিকিট সাধারণত যাত্রার ৩৪ দিন আগে পাওয়া যায়। কম দামের সম্ভাবনাময় সময়সীমা থাকে যাত্রার ২১ থেকে ৫৭ দিন আগে। অর্থাৎ, নভেম্বরের শেষদিকে থ্যাংকসগিভিং ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে অক্টোবরেই ভালো দামের টিকিট খোঁজা শুরু করা সুবিধাজনক। বড়দিনের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও আগের। গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাত্রার ৫৬ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। কম দামের সম্ভাবনাময় সময়সীমা ৩৩ থেকে ৬৭ দিন আগে। এর অর্থ হলো, বড়দিনের ভ্রমণের জন্য অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ভালো দামের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সময়সীমা গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ দিন এগিয়ে এসেছে। শুধু ছুটির মৌসুম নয়, অন্যান্য ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বুকিংয়ের সময় নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে গুগল। মার্চ বা এপ্রিলের স্প্রিং ব্রেক ভ্রমণের জন্য যাত্রার ৫০ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া গেছে। কম দামের সম্ভাবনাময় সময় ২৯ থেকে ৬৪ দিন আগে। জুলাই বা আগস্টে গ্রীষ্মকালীন ছুটির ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য যাত্রার ২১ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে। কম দামের সময়সীমা ২০ থেকে ৪৭ দিন আগে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সাধারণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাত্রার ৩৯ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। সম্ভাবনাময় কম দামের সময়সীমা ২২ থেকে ৫৭ দিন আগে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্য অপেক্ষা না করে আগেভাগে টিকিট কাটার পরামর্শ দিয়েছে গুগল। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে গড়ে সবচেয়ে কম দাম যাত্রার ৮৯ দিন আগে দেখা গেলেও ৫০ থেকে ১৩৩ দিন আগে পর্যন্ত কম দামের সময়সীমা বিস্তৃত। গুগলের মতে, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে দামের বড় ধরনের পতনের অপেক্ষায় না থেকে যত দ্রুত সম্ভব বুকিং করা ভালো। ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ইউরোপগামী ফ্লাইটে গড়ে প্রায় ৯০ দিন আগে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। তবে গুগলের বিশ্লেষণ বলছে, যাত্রার ৪৯ দিন বা তারও বেশি আগে বুক করলে তুলনামূলক কম দামের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। মেক্সিকো বা ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবার অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি সময়ে কম ভাড়া পাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সেখানে যাত্রার ৪৩ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে এবং কম দামের সময়সীমা ২৪ থেকে ৬৯ দিন আগে। এদিকে বিমান টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সপ্তাহের নির্দিষ্ট কোনো দিন বেছে নেওয়ার পুরোনো ধারণাকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না গুগল। মঙ্গলবার টিকিট কাটলে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া যায়—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। কিন্তু গুগলের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বুধবার গড়ে সবচেয়ে কম দামে টিকিট পাওয়া গেলেও মঙ্গলবার বা অন্য দিনের সঙ্গে পার্থক্য খুবই সামান্য। গুগলের হিসাবে, রোববারের তুলনায় বুধবার টিকিট কিনলে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ সাশ্রয় হতে পারে। তাই শুধু সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে বুকিং করার জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে কখন ভ্রমণ করছেন, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণের দিন পরিবর্তন করেও বড় ধরনের সাশ্রয় করা সম্ভব। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের পরিবর্তে সোমবার যাত্রা করে মঙ্গলবার বা বুধবার ফিরলে গড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কম খরচ হতে পারে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে রোববার যাওয়া ও রোববার ফেরার তুলনায় এই সাশ্রয় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরাসরি বা ননস্টপ ফ্লাইট। যাত্রীরা সাধারণত ননস্টপ ফ্লাইটকে বেশি সুবিধাজনক মনে করেন। তবে কম খরচকে অগ্রাধিকার দিলে সংযোগযুক্ত বা একাধিক ধাপে যাওয়া ফ্লাইট বিবেচনা করা যেতে পারে। গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ননস্টপ ফ্লাইটের টিকিট গড়ে সংযোগযুক্ত ফ্লাইটের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি দামি। তবে এসব হিসাব কোনো নির্দিষ্ট রুটে একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিমানভাড়া গন্তব্য, যাত্রার তারিখ, চাহিদা, আসনসংখ্যা ও অন্যান্য বাজার পরিস্থিতির ওপর পরিবর্তিত হতে পারে। গুগল ফ্লাইটসেও নির্দিষ্ট গন্তব্য ও তারিখ দিয়ে বর্তমান দামের সঙ্গে অতীতের প্রবণতা তুলনা করার সুবিধা রয়েছে। দাম কমলে বা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে ব্যবহারকারীরা মূল্য পর্যবেক্ষণের সুবিধাও নিতে পারেন। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ছুটির ভ্রমণের ক্ষেত্রে গুগলের পরামর্শ হলো—থ্যাংকসগিভিংয়ের জন্য অক্টোবরেই ভালো দামের টিকিট খোঁজা শুরু করা এবং বড়দিনের জন্য অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। আর ভ্রমণের তারিখে কিছুটা নমনীয়তা থাকলে সপ্তাহের মাঝামাঝি যাত্রা এবং সংযোগযুক্ত ফ্লাইট বেছে নিয়ে খরচ আরও কমানোর সুযোগ থাকতে পারে।
ডাইনোসরের যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করা এক অদ্ভুত নতুন প্রজাতির পোকার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ বছর আগে বেঁচে থাকা এই পতঙ্গের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে গাছের রেজিন থেকে তৈরি অ্যাম্বারের ভেতরে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, পোকার মুখের বিশেষ অঙ্গটি ছিল তার শরীরের প্রায় দ্বিগুণ লম্বা এবং অত্যন্ত নমনীয়। নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ক্রেটোডোরাস নুনু। তবে বিজ্ঞানীদের দেওয়া এই নামের পেছনে রয়েছে শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টেলিটাবিজ’-এর একটি পরিচিত চরিত্র। অনুষ্ঠানের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার নু-নুর লম্বা ও নমনীয় পাইপের সঙ্গে প্রাচীন পতঙ্গটির মুখের অঙ্গের মিল থাকায় তার নাম অনুসারেই নতুন প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে। ইসরায়েলের স্টেইনহার্ট মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির গবেষকেরা মিয়ানমার থেকে পাওয়া কাচিন অ্যাম্বারে সংরক্ষিত এই প্রাচীন পতঙ্গের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করেন। পোকাটি নিয়াজোনিইডি নামে পরিচিত প্রাচীন এক ধরনের প্ল্যান্টহপার পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের আরও ১৩টি নমুনা একই ধরনের অ্যাম্বারে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গবেষকদের নজর কেড়েছে পোকাটির অস্বাভাবিক মুখাঙ্গ। সাধারণভাবে এ ধরনের উদ্ভিদভুক পতঙ্গের মুখের অঙ্গ অনেকটা সূচের মতো হয়। সেটি উদ্ভিদের টিস্যুতে ঢুকিয়ে তারা গাছের তরল বা রস সংগ্রহ করে। কিন্তু ক্রেটোডোরাস নুনুর মুখাঙ্গ ছিল অনেক বেশি লম্বা, নমনীয় ও জটিল। গবেষণায় দেখা গেছে, এই মুখাঙ্গের গায়ে ঘন ঘন ভাঁজ ছিল। কাঠামোটি অনেকটা বাঁকানো স্ট্র বা নমনীয় পাইপের মতো। এই ভাঁজ মুখাঙ্গটিকে নমনীয় রাখার পাশাপাশি চাপ পড়লে সেটি যাতে চুপসে না যায়, সেখানেও ভূমিকা রাখত বলে গবেষকদের ধারণা। এই বিশেষ গঠনের কারণে পোকাটি গাছের বাকলের গভীর ফাটল ও সরু খাঁজের ভেতরেও পৌঁছাতে পারত বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে থাকা উদ্ভিদের রস সংগ্রহ করাই সম্ভবত এর প্রধান খাদ্য সংগ্রহের কৌশল ছিল। শক্ত বা কম নমনীয় মুখাঙ্গের পতঙ্গ যেখানে সহজে পৌঁছাতে পারত না, সেখানে নু-নুর মতো লম্বা মুখাঙ্গ বড় সুবিধা দিতে পারে। জীবাশ্মের কয়েকটি নমুনায় মুখাঙ্গ বাঁকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এটিও প্রমাণ করে যে পোকাটি জীবিত অবস্থায় তার মুখাঙ্গ বাঁকাতে ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভাঁজ করতে পারত। অ্যাম্বারের ভেতরে এমন অবস্থায় সংরক্ষিত হওয়ায় কোটি কোটি বছর আগের এই ক্ষুদ্র প্রাণীর শারীরিক গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পেয়েছেন তারা। পোকাটির মুখাঙ্গের শেষ প্রান্তেও ছিল আরেকটি অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। সেখানে দুটি খাঁজযুক্ত লোব বা অংশ ছিল, যা খাবার গ্রহণের সময় খুলে গিয়ে গাছের বাকলের ফাটলের দেয়ালে আটকে থাকতে সাহায্য করত বলে গবেষকেরা মনে করছেন। এটি অনেকটা কোনো গর্তের ভেতরে ঢুকে প্রসারিত হয়ে আটকে থাকা একটি দেয়াল-অ্যাঙ্করের মতো কাজ করতে পারে। বর্তমানে বেঁচে থাকা এই প্রাচীন পরিবারের আত্মীয়দের মধ্যে এমন কাঠামো দেখা যায় না। ফলে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি ছিল একটি বিশেষ বিবর্তনীয় অভিযোজন, যা পরবর্তী সময়ে হারিয়ে গেছে। গবেষকেরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু একটি নতুন পতঙ্গের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে ডাইনোসরের যুগের বনভূমির পরিবেশ সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ের আরও কয়েকটি সম্পর্কহীন পতঙ্গের মধ্যেও এ ধরনের ভাঁজযুক্ত ও দীর্ঘ খাদ্য সংগ্রহের অঙ্গের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ক্রিটেশাস যুগের বনভূমিতে পুরু বাকলযুক্ত গাছের উপস্থিতি এমন পতঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছিল, যারা গাছের বাকলের গভীর অংশে পৌঁছাতে পারত। অর্থাৎ, প্রায় ১০ কোটি বছর আগে বনভূমির পরিবেশ আজকের তুলনায় অনেক ভিন্ন ছিল এবং সেই পরিবেশে টিকে থাকতে পতঙ্গগুলোও নানা ধরনের বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলেছিল। গবেষক লিওনিদাস-রোমানোস দাভরানোউগ্লোর মতে, প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ বছর আগে বেঁচে থাকা নু-নুর আবিষ্কার ডাইনোসরের যুগের পতঙ্গজগতের একটি অসাধারণ চিত্র সামনে এনেছে। তার মতে, এটি শুধু বিজ্ঞানের অজানা একটি পতঙ্গের সন্ধান নয়; বরং এমন একটি বিবর্তনীয় সমাধানের প্রমাণ, যার আধুনিক যুগে প্রায় কোনো সমতুল্য নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, অ্যাম্বারে সংরক্ষিত এমন জীবাশ্ম কোটি কোটি বছর আগের বাস্তুতন্ত্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোন প্রাণী কীভাবে খাবার সংগ্রহ করত, কোন পরিবেশে তারা সুবিধা পেত এবং প্রাচীন বনভূমি কীভাবে কাজ করত—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই ধরনের আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়। আর নতুন প্রজাতিটির ‘নু-নু’ নামটি সেই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। টেলিটাবিজের পরিচিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতোই এই প্রাচীন পতঙ্গের মুখ ছিল লম্বা ও নমনীয়। তবে কোটি কোটি বছর আগে বেঁচে থাকা এই ক্ষুদ্র প্রাণীর সেই অদ্ভুত মুখের পেছনে ছিল টিকে থাকার এক জটিল বিবর্তনীয় কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো অনুসরণ করতে হয়। মার্কিন শ্রম দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব লেবার) নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের এলাকার প্রচলিত মজুরির হার বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই নিয়মকে বলা হয় ‘প্রিভেইলিং ওয়েজ’ বা প্রচলিত মজুরি। কোনো নির্দিষ্ট পেশায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় একই ধরনের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণত যে গড় মজুরি পান, সেটিই ওই কাজের প্রচলিত মজুরি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সময় শুধু ভিসার যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, নিয়োগদাতাকে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রযোজ্য মজুরি নিয়মও মানতে হবে। এই নিয়ম শুধু এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচিতে প্রচলিত মজুরি সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিইআরএম, এইচ-২বি, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, ই-৩ এবং সিডব্লিউ-১ কর্মসূচি। তবে এইচ-১বি, এইচ-১বি১ ও ই-৩ কর্মসূচির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা রয়েছে। এসব ভিসায় কর্মী নিয়োগ করলে নিয়োগদাতাকে দুটি মজুরি হারের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি দিতে হবে। একটি হলো সংশ্লিষ্ট পেশা ও এলাকার প্রচলিত মজুরি। অন্যটি হলো একই প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতার কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের যোগ্যতার কর্মীরা প্রচলিত মজুরির চেয়ে বেশি বেতন পেলে এইচ-১বি কর্মীকেও সেই উচ্চতর হার দিতে হতে পারে। প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের জন্য নিয়োগদাতারা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ন্যাশনাল প্রিভেইলিং ওয়েজ সেন্টারে (এনপিডব্লিউসি) মজুরি নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া শ্রম দপ্তরের অনলাইন মজুরি অনুসন্ধান ব্যবস্থায় থাকা তথ্য এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যান্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়। এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদিত স্বাধীন জরিপ বা অন্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিলে নির্দিষ্ট নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা ‘সেইফ হারবার’ সুবিধা পান। বর্তমান মজুরি তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। শ্রম দপ্তরের বিদেশি শ্রম সনদবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মজুরি বছরের জন্য ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের পেশাভিত্তিক মজুরি তথ্য কার্যকর হয়েছে। এসব তথ্য বিদেশি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা হয়। এই নিয়মের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ ঠেকানো। মার্কিন শ্রম দপ্তর বলছে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। এইচ-১বি কর্মীদের জন্য শুধু নির্ধারিত মজুরি দেওয়াই নয়, কর্মপরিবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সুরক্ষা রয়েছে। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মতো এইচ-১বি কর্মীদেরও কর্মঘণ্টা, শিফট, ছুটি ও নির্দিষ্ট সুবিধার ক্ষেত্রে সমান ভিত্তিতে সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগদাতাকে শ্রম শর্তসংক্রান্ত আবেদন বা এলসিএর একটি কপিও সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি কর্মীকে দিতে হয়। এ ছাড়া নিয়োগদাতা এইচ-১বি কর্মীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট নিয়োগসংক্রান্ত খরচ বা আবেদন ফি বহনের দাবি করতে পারেন না। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বা তদন্তে সহযোগিতা করার কারণে তাকে ভয় দেখানো, চাকরি থেকে সরানো বা বৈষম্যের শিকার করাও নিষিদ্ধ। কোনো এইচ-১বি কর্মীকে প্রয়োজনীয় মজুরির চেয়ে কম দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে শ্রম দপ্তরের ওয়েজ অ্যান্ড আওয়ার ডিভিশন ব্যবস্থা নিতে পারে। বিভাগটি তদন্তের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে কর্মীর প্রাপ্য মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারে। এদিকে ২০২৬ সালের মার্চে শ্রম দপ্তর এইচ-১বি ও পিইআরএম কর্মসূচির প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবও প্রকাশ করেছিল। প্রস্তাবিত নিয়মে মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করে মার্কিন কর্মীদের প্রকৃত বাজারদরের সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের মজুরি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এটি বর্তমান প্রচলিত মজুরি নিয়মের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়; এটি ছিল একটি প্রস্তাবিত পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য তাই চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের প্রচলিত মজুরি, একই প্রতিষ্ঠানে তুলনীয় কর্মীদের বেতন এবং নিয়োগদাতার শ্রমসংক্রান্ত দায়বদ্ধতাও জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সোনালি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছে। ২৩ ক্যারেট সোনায় মোড়ানো প্রায় ২ দশমিক ৬ মিটার বা ৮ দশমিক ৫ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যে ট্রাম্পকে ন গ্ন অবস্থায় একজন অপেক্ষাকৃত ছোট মানুষের কাঁধের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। ড্যানিশ শিল্পী ইয়েন্স গালশিওটের তৈরি ভাস্কর্যটির নাম ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’। শিল্পীর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি ক্ষমতা, বৈশ্বিক রাজনীতি, গণতন্ত্র ও জলবায়ু সংকট নিয়ে তার সমালোচনামূলক শিল্পকর্মগুলোর একটি। ভাস্কর্যের নিচে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, একজন মানুষ অন্য একজনের পিঠে বসে আছে এবং তার ভারে নিচের মানুষটি ডুবে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার কথা বলা হলেও সেই ভারী ব্যক্তি তার পিঠ থেকে নামতে রাজি নন। বার্তাটির শেষে তাকে ‘দ্য কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পী গালশিওট তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, ট্রাম্পকে তিনি নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেন। ভাস্কর্যটির মাধ্যমে তিনি সেই রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার সমালোচনা তুলে ধরতে চেয়েছেন। ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে ক্ষমতার বিভিন্ন প্রতীকও ব্যবহার করা হয়েছে। শিল্পীর মূল নকশায় এক হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং অন্যদিকে একটি গলফ ক্লাব দেখা যায়। পুরো উপস্থাপনাটি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতার ভার অন্য মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামটির মধ্যেও শিল্পীর রাজনৈতিক বক্তব্য রয়েছে। ভাস্কর্যটি ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিশ্বব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে তৈরি। এতে ব্যঙ্গের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পকর্মটির ধারণার সঙ্গে ড্যানিশ লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত গল্প ‘দ্য এম্পেরর’স নিউ ক্লোদস’-এরও সম্পর্ক রয়েছে। সেই গল্পে একজন শাসক নিজের পোশাক নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকলেও বাস্তবে তিনি ন গ্ন ছিলেন। গালশিওটের ভাস্কর্যেও ট্রাম্পকে ন গ্ন অবস্থায় দেখিয়ে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক অহংকার নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শনের আগে ভাস্কর্যটি সোমবার কমলা রঙের কাপড়ে ঢাকা ছিল। পরে মঙ্গলবার সেটি উন্মুক্ত করা হয়। স্ট্রাসবুর্গে প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকার কথা রয়েছে। এই ভাস্কর্য এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনেও এটি প্রদর্শিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ডেনমার্কের রেবিল্ড উৎসবেও শিল্পকর্মটির প্রদর্শনী হয়। ডেনমার্কের রেবিল্ড উৎসবটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদযাপনের আয়োজন। একই বছর ডেনমার্কে ‘হ্যান্ডস অফ গ্রিনল্যান্ড’ নামের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেন ড্যানিশ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পের ক্লাউসেন। তার উদ্যোগেই গালশিওটের এই শিল্পকর্মটি পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শনের সুযোগ পায়। প্রদর্শনী ঘিরে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিল্পের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা প্রকাশের বিষয়টি। আয়োজকদের মতে, ভাস্কর্যটি শুধু ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ নয়; বরং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং জলবায়ু নীতি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার একটি মাধ্যম। ভাস্কর্যটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শন শেষ হওয়ার পর তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কয়েক দিনের ইউরোপীয় প্রদর্শনীর পরও ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ আন্তর্জাতিক জলবায়ু রাজনীতি ও রাজনৈতিক শিল্পের আলোচনায় থাকতে পারে।
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ধরনের রোবটিক সার্জারি নিয়ে আশার আলো দেখছেন ফ্লোরিডার চিকিৎসকেরা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন অপসারণের প্রয়োজন হলেও রোগীর নিপল ও আশপাশের ত্বক সংরক্ষণের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসার পর স্বাভাবিক শারীরিক গঠন ও অনুভূতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় নতুন রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন অ্যাডভেন্টহেলথের স্তন সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. দেবিনা ম্যাকক্রে। তিনি এই অঞ্চলে প্রথম সার্জন হিসেবে নতুন পদ্ধতিটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ জন্য তিনি কয়েক মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং শত শত ঘণ্টা এই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতিতে ব্যয় করেছেন। নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমিতে স্তনের ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ করা হলেও নিপল ও স্তনের ওপরের ত্বক যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা হয়। পরে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে স্তন পুনর্গঠন করা যেতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে সাধারণত স্তনের নিচের দিকে তুলনামূলক বড় কাটার প্রয়োজন হয়। এতে অস্ত্রোপচারের পর অনুভূতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। রোবটিক পদ্ধতিতে ছোট একটি কাটার মাধ্যমে বিশেষ ক্যামেরা ও রোবটিক যন্ত্র স্তনের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। সার্জন সরাসরি রোগীর শরীরের ভেতরে হাত না দিয়ে একটি কনসোল থেকে যন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। উচ্চ-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় অস্ত্রোপচারের জায়গাটি বড় করে দেখা যায়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু ও রক্তনালিগুলো আরও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে কাজ করা সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো নিপল ও ত্বকে রক্তপ্রবাহ যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখা। এর ফলে পুনর্গঠনের পর চেহারা আরও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্নায়ু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে নিপলে অনুভূতি ধরে রাখা বা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। ডা. ম্যাকক্রের মতে, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় শুধু রোগ থেকে মুক্ত হওয়াই শেষ কথা নয়। চিকিৎসার পর একজন রোগী কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কেমন অনুভব করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের সাহস দেওয়া এবং তাদের জানানো যে চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এই বিষয়টিকেই তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অল্পসংখ্যক সার্জন এই রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ফলে এটি এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো নিয়মিত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনা করে নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। মেয়ো ক্লিনিকও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কেন্দ্রে রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, রোবটিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে ছোট কাটার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার, উন্নত দৃশ্যমানতা এবং সূক্ষ্মভাবে টিস্যু অপসারণের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নিপল ও ত্বকের রক্তপ্রবাহ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী পুনর্গঠনের ফল আরও ভালো করার সম্ভাবনাও রয়েছে। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার অনেক রোগীর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা। তাই চিকিৎসার কার্যকারিতা বজায় রেখে শরীরের স্বাভাবিক গঠন ও অনুভূতি যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করতে পারলে তা রোগীদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে নির্বাচিত রোগীদের জন্য চিকিৎসার আরেকটি বিকল্প তৈরি হবে। তবে পদ্ধতিটি কত দ্রুত আরও রোগীর জন্য সহজলভ্য হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ও রোগীদের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আরও পরিষ্কার হবে।