সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে মামুনুর রশীদের নাটক ‘অমানুষ’। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘অমানুষ’, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় প্রথমবার তমালিকা ও সাঈদ বাবু

ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আজ, রোববার ৪ অক্টোবর, মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে নাট্যকার মামুনুর রশীদের রচনা ‘অমানুষ’। সূচনা থিয়েটারের প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন জান্নাতুল টুম্পা। এই প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো তাঁর নির্দেশনায় অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু। আলেকজান্দ্রিয়ার লি সেন্টারে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় নাটকটির প্রদর্শনী শুরু হবে।   ‘অমানুষ’ নাটকটির এটি চতুর্থ প্রদর্শনী। এর আগে নিউ জার্সিতে দুটি এবং নিউইয়র্কে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগের প্রদর্শনীগুলোতে সংশ্লিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিতালী দাস ও হীরা চৌধুরী। এবার সেই চরিত্রে অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু।   নাটকের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন আদর্শবাদী শিক্ষক। শিক্ষিত ও মানবিক একটি সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই মানুষটি দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সামাজিক চাপের মুখে ধীরে ধীরে নিজের আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। হতাশা ও বাস্তবতার সংঘাত তাঁকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   সমাজের অবক্ষয়, মানুষের মূল্যবোধ এবং প্রতিকূল বাস্তবতার সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাতই নাটকটির মূল বিষয়। গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে উঠে আসে মানুষের মানবিকতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সামাজিক চাপ, অনিয়ম ও বাস্তবতার কাছে মানুষ কি একসময় নিজের মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে, সেটিই নাটকের অন্যতম কেন্দ্রীয় ভাবনা।   ‘অমানুষ’ দিয়েই প্রথমবার মঞ্চনাটক নির্দেশনায় আসেন জান্নাতুল টুম্পা। প্রায় দুই দশক ধরে নাট্যপ্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আগে মঞ্চ নির্দেশনার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। নাট্যকার মামুনুর রশীদের আগ্রহেই তিনি এই নাটকের নির্দেশনার দায়িত্ব নেন।   গত ১৪ জুন নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইকে অনুষ্ঠিত ২১তম সাউথ এশিয়ান থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে দুটি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ‘অমানুষ’-এর যাত্রা শুরু হয়। পরে নিউইয়র্কে তৃতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এবার ভার্জিনিয়ার মঞ্চে নতুন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নাটকটির চতুর্থ প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে।   দীর্ঘ বিরতির পর ‘অমানুষ’ নাটকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে ফিরছেন তমালিকা কর্মকার। বাংলাদেশের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রে মঞ্চে ফেরার আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহু বছর পর আবার মঞ্চে ওঠার কারণে তাঁর মধ্যে যেমন আনন্দ রয়েছে, তেমনি দর্শকের সামনে নতুন করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার অনুভূতিও রয়েছে।   আজকের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আলেকজান্দ্রিয়ার ১১০৮ জেফারসন স্ট্রিটের লি সেন্টারে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দর্শকদের জন্য দরজা খোলা হবে বিকেল ৫টায় এবং নাটক শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায়। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ও ৫০ ডলার।   ভার্জিনিয়া ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাট্যপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন। মামুনুর রশীদের লেখা, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনা এবং তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবুর অভিনয়ে ‘অমানুষ’ আজ আলেকজান্দ্রিয়ার মঞ্চে দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে মানুষের পরিচয়, সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিকতার নানা প্রশ্ন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ। ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডে বাড়িভাড়ার চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, ২১ শতাংশ দারিদ্র্যের পেছনে আবাসন ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যটিতে পরিমাপ করা মোট দারিদ্র্যের প্রায় ২১ শতাংশের সঙ্গে গড়ে ওঠা আবাসন ব্যয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশ করেছে দ্য পিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্টস। পিউ-এর বিশ্লেষণে মেরিল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ১০টি অঙ্গরাজ্যের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে গড়ের তুলনায় বেশি আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তালিকায় রয়েছে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, কলোরাডো, মেরিল্যান্ড, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক ও নিউ হ্যাম্পশায়ার। প্রতিবেদনটির ভিত্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ পদ্ধতি। প্রচলিত দারিদ্র্য পরিমাপের তুলনায় এই পদ্ধতিতে পরিবারের আয় ছাড়াও সরকারি সহায়তা, কর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিশেষ করে স্থানীয় আবাসন ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো এলাকায় বাড়ি বা ভাড়া বেশি হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। মেরিল্যান্ডে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হার ছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের তুলনায় মেরিল্যান্ডের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কম হলেও উচ্চ আবাসন ব্যয় রাজ্যের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।    যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশটিতে আনুমানিক ৪০ লাখ থেকে ৭০ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে পিউ-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি তৈরি না হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকছে এবং এর ফলে ভাড়া ও বাড়ির দাম দীর্ঘমেয়াদে উঁচু থাকছে। মেরিল্যান্ডের নিজস্ব আবাসন-চিত্রও একই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। রাজ্যের ২০২৫ সালের আবাসন চাহিদা মূল্যায়ন অনুযায়ী, মেরিল্যান্ডে প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার ভাড়াটিয়া পরিবার রয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ আবাসন ব্যয়ের চাপে রয়েছে। অর্থাৎ এসব পরিবার তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করছে। রাজ্য সরকারের গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ডে সাশ্রয়ী আবাসনের বড় ঘাটতি রয়েছে। ৮০ শতাংশের নিচে মধ্যম আয়সীমার পরিবারের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী ভাড়ার বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মহামারির পর আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে মেরিল্যান্ডে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার নতুন আবাসিক ইউনিট প্রয়োজন হবে বলে রাজ্যের আবাসন চাহিদা মূল্যায়নে বলা হয়েছে। বর্তমান নির্মাণের গতি বজায় থাকলে এই প্রয়োজন পূরণ করা কঠিন হবে। রাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ভূমি-ব্যবহার নীতি, কম ঘনত্বের নির্মাণ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক বাধাকেও আবাসন সরবরাহ কম থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আবাসন সরবরাহ বাড়িয়ে ভাড়া কমানো গেলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত ভাড়া প্রায় ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে দারিদ্র্য ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং শিশু দারিদ্র্য কমতে পারে ২১ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত। শুধু খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা বাড়ালেই নিম্নআয়ের পরিবারের আর্থিক সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। কারণ পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ যদি বাড়িভাড়া বা আবাসন ব্যয়ে চলে যায়, তাহলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য অর্থ কমে যায়। পিউ-এর গবেষণাও দেখিয়েছে, উচ্চ আবাসন ব্যয় সরকারি দারিদ্র্যবিরোধী কর্মসূচির কিছু ইতিবাচক প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে। মেরিল্যান্ডে এই সংকটের প্রভাব শুধু নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গড় দামের বাড়ি কেনার সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে বাড়ির দাম ও ভাড়ার চাপ বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও আবাসন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পিউ-এর গবেষণার মূল বার্তা হলো, দারিদ্র্য কমাতে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন ব্যয় কমানো এবং পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মেরিল্যান্ডের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ বাড়ানো, জমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ পর্যালোচনা এবং আবাসন সরবরাহের ঘাটতি কমানো হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। ফলে মেরিল্যান্ডের জন্য আবাসন সংকট এখন শুধু রিয়েল এস্টেট বা ভাড়ার বাজারের সমস্যা নয়; এটি দারিদ্র্য, পারিবারিক ব্যয় এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:১৫
জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জিম্মি উদ্ধারে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগ ট্রাম্পের, দায়িত্ব পেলেন বেলারুশে সফল আলোচক জন কোয়েল

জিম্মি ও বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেলারুশে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বিশেষ দূত ও আইনজীবী জন কোয়েলকে ‘স্পেশাল প্রেসিডেনশিয়াল এনভয় ফর হোস্টেজ অ্যাফেয়ার্স’ পদে মনোনীত করেছেন তিনি। নতুন দায়িত্বে কোয়েলের পদমর্যাদা রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের হবে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন। ৪ অক্টোবর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় বলেন, জন কোয়েল গত এক বছরে বেলারুশ থেকে ৬৫ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক ও মিত্র দেশের নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছেন। একই সময়ে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির আলোচনাতেও তিনি কাজ করেছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন। কোয়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বেলারুশ। তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সরকারের সঙ্গে বন্দিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছেন। সেপ্টেম্বরেও তার আলোচনার পর বেলারুশ কয়েক দফায় বন্দি মুক্তি দেয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বেলারুশ ২৫ জন বন্দিকে মুক্তি দেয়। সে সময় কোয়েল জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বেলারুশের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংখ্যায় বন্দি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মার্চে আরও বড় পরিসরে বন্দি মুক্তির ঘটনা ঘটেছিল। কোয়েল নিজেই জানিয়েছিলেন, তার আলোচনার মাধ্যমে মোট ৮০০ থেকে ৯০০ জন পর্যন্ত বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, বেলারুশে এখনো বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন। ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে কোয়েল সাবেক বিশেষ দূত অ্যাডাম বোহলারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বোহলার তার দায়িত্বকালে ১৯৬ জন জিম্মিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছেন। নতুন পদে কোয়েলের নিয়োগের পর বোহলার প্রশাসনের সঙ্গে সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জিম্মি বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব হলো বিদেশে আটক বা জিম্মি হয়ে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সরকারি সংস্থার প্রচেষ্টার সমন্বয় করা। নতুন দায়িত্বে কোয়েলকে শুধু বেলারুশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির জন্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোয়েলের নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ওয়াশিংটন ও মিনস্কের সম্পর্কেও কিছুটা কূটনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বেলারুশের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং বন্দি মুক্তির বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও এগিয়েছে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগও রয়েছে। তাদের বক্তব্য, বন্দি মুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেলারুশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং আরও বহু রাজনৈতিক বন্দি এখনো কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে বন্দি ও জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা কার্যকর ফল দিচ্ছে। জন কোয়েলের নতুন দায়িত্ব সেই নীতিরই আরও বিস্তৃত প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কোয়েলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে এসব আলোচনার সমন্বয় করা। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বেলারুশে কোয়েলের সাম্প্রতিক সাফল্য নতুন দায়িত্বেও কাজে লাগবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:৭
যুক্তরাষ্ট্রে শোল মাছ স্নেকহেড নামে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত
‘স্নেকহেড’ কি সত্যিই খাওয়া যায় না? যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য যা জানা জরুরি

বাংলাদেশের পরিচিত শোল মাছ যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্নেকহেড’ নামে পরিচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এই মাছ কিনে বা মাছ ধরে খেয়ে থাকেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নেকহেড মাছ খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। আসলে যুক্তরাষ্ট্রে শোল বা স্নেকহেড মাছ খাওয়া কি নিষিদ্ধ, নাকি বিষয়টি অন্য কিছু? সরকারি তথ্য বলছে, বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে খাবার হিসেবে মাছটি এবং জীবিত স্নেকহেড মাছ নিয়ে পরিবেশগত আইনকে আলাদা করে দেখা জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএর সিফুড তালিকায় বাংলাদেশের শোল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata। এ মাছের গ্রহণযোগ্য বাজারজাত নাম হিসেবে ‘Channa’ ও ‘Snakehead’ উল্লেখ রয়েছে। একই তালিকায় ‘Shoil’ নামটিও এই প্রজাতির সঙ্গে পরিচিত নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের শোল মাছ এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত স্নেকহেডের মধ্যে সরাসরি প্রজাতিগত সম্পর্ক রয়েছে।    তবে ‘স্নেকহেড’ একটি সাধারণ নাম, এর অধীনে একাধিক প্রজাতির মাছ রয়েছে। যেমন Northern Snakehead-এর বৈজ্ঞানিক নাম Channa argus, আর বাংলাদেশের শোল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata। তাই কোনো স্নেকহেড মাছ দেখেই সেটিকে বাংলাদেশের শোল মাছ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মাছের প্রজাতি শনাক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্নেকহেড মাছ কি যুক্তরাষ্ট্রে খাওয়া নিষিদ্ধ? এফডিএর বর্তমান সিফুড তালিকায় Channa striata খাবার হিসেবে বাজারজাত হওয়া মাছের তালিকায় রয়েছে। তাই ‘যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড মাছ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ এমন সাধারণ দাবি সরকারি তথ্যের সঙ্গে মেলে না। তবে স্নেকহেড মাছের ক্ষেত্রে খাবারের নিরাপত্তা এবং জীবিত মাছ নিয়ে পরিবেশগত নিয়ম আলাদা বিষয়।    স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো মাছটি কাঁচা বা আধাসেদ্ধ অবস্থায় না খাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি বলছে, কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মিঠাপানির মাছের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নির্দিষ্ট পরজীবী পাওয়া যায়, সেখানকার মিঠাপানির মাছ কাঁচা বা কম রান্না করে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।    সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মাছের ভেতরের তাপমাত্রা কমপক্ষে ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রান্না করা নিরাপদ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। শুধু লবণ দেওয়া, ধোঁয়ায় শুকানো বা আচার করার মতো পদ্ধতিকে পরজীবী ধ্বংসের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা উচিত নয়। ফলে শোল বা স্নেকহেড মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে ভালোভাবে রান্না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার বিষয়।    আর যারা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেরাই মাছ ধরে খান, তাদের জন্য আরও একটি বিষয় জানা জরুরি। মাছটি কোন জলাশয় থেকে ধরা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা বলছে, বিভিন্ন হ্রদ ও নদীর মাছের মধ্যে পারদ ও পিসিবির মতো দূষক থাকতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে ধরা মাছ খাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের মাছ খাওয়ার বিষয়ে কোনো সরকারি সতর্কতা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।    জর্জিয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস বলছে, রাজ্যে স্নেকহেড মাছের যেকোনো প্রজাতি আমদানি, পরিবহন, বিক্রি, হস্তান্তর বা নিজের কাছে রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণী লাইসেন্সের নিয়ম রয়েছে। তাই কেউ মাছ ধরে ফেললে সেটিকে অন্য কোথাও জীবিত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া বা স্থানান্তর করার আগে রাজ্যের নিয়ম জানা জরুরি। এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য মাছটির সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা, খাবার হিসেবে মাছটি বিষাক্ত—এমন ঘোষণা নয়।    ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘স্নেকহেড মাছ খাওয়া যায় না’ ধরনের সরল দাবি দিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের শোল মাছ যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড নামে পরিচিত এবং এফডিএর সিফুড তালিকায় Channa striata রয়েছে। তবে মাছটি কাঁচা বা আধাসেদ্ধ না খাওয়া, যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না করা এবং নিজে মাছ ধরলে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের মাছ খাওয়ার সরকারি সতর্কতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মূল সতর্কতাটি তাই আতঙ্কের নয়, সচেতনতার। শোল মাছ খাওয়ার আগে মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়াই নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নিজে ধরা মিঠাপানির মাছের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারি মাছ খাওয়ার পরামর্শও বিবেচনায় রাখা উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১১:৪৬
ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন এলাকা ঘুরে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য তিনজনকে নিয়োগের দারুণ সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
খাওয়া-ঘোরা আর সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার চাকরি, ১০ দিনেই মিলবে ১০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১০ দিন ঘুরে খাবার, বিনোদন, শিল্পকলা ও সমুদ্রসৈকতের সূর্যাস্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য তিনজনকে নিয়োগ দিচ্ছে সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের সরকারি পর্যটন বিপণন সংস্থা ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার। নির্বাচিত প্রত্যেকে পাবেন ১০ হাজার মার্কিন ডলার। সঙ্গে থাকবে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, ১০ দিনের থাকার ব্যবস্থা এবং বিশেষ অভিজ্ঞতার সুযোগ। আগ্রহীদের ২২ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।   নতুন এই কর্মসূচির আওতায় তিনটি আলাদা স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব রাখা হয়েছে। এগুলো হলো চিফ ভাইবস অফিসার, চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরার এবং চিফ সানসেট কিউরেটর। প্রতিটি দায়িত্বই ১০ দিনের। নির্বাচিত ব্যক্তিদের সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে স্থানীয় মানুষ, খাবার, বিনোদন, শিল্পকলা ও সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।   ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার পিনেলাস কাউন্টির সরকারি পর্যটন বিপণন ও ব্যবস্থাপনা সংস্থা। পর্যটকদের কাছে এলাকার সমুদ্রসৈকত, শিল্পকলা, খাবার এবং অন্যান্য আকর্ষণ তুলে ধরাই সংস্থাটির কাজ। নতুন কর্মসূচিটিও এলাকার পর্যটন অভিজ্ঞতা নতুনভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য চালু করা হয়েছে।   তবে বাইরে থেকে এটি ১০ দিনের ছুটির মতো মনে হলেও নির্বাচিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান লোয়াক জানিয়েছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের খাওয়া, পান করা, ঘুরে দেখা এবং এলাকার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নেওয়ার কাজ থাকবে। পাশাপাশি যেসব জায়গা, মানুষ ও অভিজ্ঞতা তাঁদের আকৃষ্ট করবে, সেগুলো অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে।   রাতের বিনোদন ও সংগীতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে চিফ ভাইবস অফিসারের দায়িত্ব। নির্বাচিত ব্যক্তিকে সরাসরি সংগীত, রাতের বিনোদন এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় স্থান ঘুরে দেখতে হবে। স্থানীয় বার, বিশেষ পানশালা, ছাদের ওপরের বিনোদনকেন্দ্র, সংগীতের স্থান এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় জায়গার অভিজ্ঞতা তাঁর কাজের অংশ হবে।   খাবারপ্রেমীদের জন্য রাখা হয়েছে চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরারের দায়িত্ব। নির্বাচিত ব্যক্তি এলাকার বিভিন্ন খাবার ও পানীয়ের অভিজ্ঞতা নেবেন। স্বীকৃত রেস্তোরাঁর খাবার থেকে শুরু করে সদ্য ধরা সামুদ্রিক মাছ, স্থানীয়দের পছন্দের খাবারের জায়গা এবং বিভিন্ন দেশের খাবারও এই অনুসন্ধানের অংশ হতে পারে।   তৃতীয় দায়িত্ব চিফ সানসেট কিউরেটরের। নামের সঙ্গে সূর্যাস্ত থাকলেও দায়িত্ব শুধু সমুদ্রসৈকতে বসে সূর্যাস্ত দেখা নয়। নির্বাচিত ব্যক্তিকে সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের শিল্পকলা, রং ও সৃজনশীলতাও তুলে ধরতে হবে। স্থানীয় শিল্পী, জাদুঘর, বিভিন্ন এলাকার দেয়ালচিত্র এবং মেক্সিকো উপসাগরের সূর্যাস্ত তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।   এই দায়িত্বের আওতায় দালি জাদুঘর এবং মিউজিয়াম অব আমেরিকান আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস মুভমেন্টের মতো স্থানও রয়েছে। একই সঙ্গে ৬ থেকে ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শাইন মুরাল ফেস্টিভ্যালের সময় তৈরি বিভিন্ন দেয়ালচিত্র ঘুরে দেখার সুযোগও থাকতে পারে।   তিনটি পদের জন্য নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি আলাদাভাবে ১০ হাজার ডলার পাবেন। অর্থাৎ ১০ হাজার ডলার তিনজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের জন্য যাওয়া-আসার বিমানভাড়া ও থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতার ব্যবস্থাও করবে আয়োজক সংস্থা।   তবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিনিময়ে কাজও করতে হবে। অবস্থানের সময় তাঁরা যেসব মানুষ, স্থান ও মুহূর্তের অভিজ্ঞতা পাবেন, সেগুলো অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আকর্ষণীয় গল্প ও কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম ব্যক্তিদেরই এই দায়িত্বের জন্য খোঁজা হচ্ছে।   আবেদনকারীর বয়স আবেদন করার সময় কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ২২ নভেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে নির্ধারিত টানা ১০ দিনের দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে সময় দিতে হবে।   আবেদন প্রক্রিয়ায় অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচনের সময় তাঁদের নিজস্বতা ও গল্প বলার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মৌলিকত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি ও দর্শকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।   আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২২ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নির্বাচিত ব্যক্তিরা প্রথম ১০ দিনের দায়িত্ব শেষ করার পর ভবিষ্যতে তাঁদের অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার জন্য অন্য কার্যক্রমেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার সাদা বালুর সমুদ্রসৈকত ও সূর্যাস্তের জন্য পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকাটিতে বছরে গড়ে ৩৬১ দিন সূর্যালোক থাকে। তবে নতুন এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু সমুদ্রসৈকত নয়। খাবার, রাতের বিনোদন, সংগীত, শিল্পকলা, জাদুঘর, দেয়ালচিত্র এবং স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাও এর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।   সব মিলিয়ে এটি সাধারণ অর্থে স্থায়ী চাকরি নয়, বরং ১০ দিনের অর্থপ্রদত্ত স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও পদগুলোকে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছে। তিনজন নির্বাচিত ব্যক্তি প্রত্যেকে ১০ হাজার ডলার, বিমানভাড়া ও থাকার সুবিধা পাবেন। বিনিময়ে তাঁদের সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার ঘুরে সেখানকার খাবার, সংস্কৃতি, বিনোদন, শিল্পকলা ও সূর্যাস্তের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১১:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বছরের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা কতটা বাড়বে তা জানা যাবে চলতি অক্টোবরে। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল সিকিউরিটির নতুন আপডেট আসছে অক্টোবরে, ভাতার সঙ্গে বদলাবে আয়ের লিমিটও

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা কতটা বাড়বে, তা জানা যাবে চলতি অক্টোবরে। দ্য সিনিয়র সিটিজেনস লিগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবর বার্ষিক মূল্যস্ফীতি সমন্বয় বা কোলা ঘোষণা করার কথা রয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের। তবে মাসিক ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মরত সুবিধাভোগীদের আয়ের সীমা, সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের আওতাধীন সর্বোচ্চ আয় এবং কাজের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ক্রেডিট অর্জনের হিসাবও নতুন বছরের জন্য হালনাগাদ হওয়ার কথা। ফলে এই ঘোষণা অবসরপ্রাপ্তদের পাশাপাশি এখনো কাজ করছেন, এমন ব্যক্তিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।    দ্য সিনিয়র সিটিজেনস লিগের সর্বশেষ পূর্বাভাসে ২০২৭ সালের কোলা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এটি চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংগঠনটির এই পূর্বাভাস আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কম। তবে পূর্বাভাসটি ঠিক হলে বৃদ্ধির হার ২০২৬ সালের ২ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে। উদাহরণ হিসেবে সংগঠনটি জানিয়েছে, বর্তমানে মাসে ২ হাজার ডলার ভাতা পাওয়া কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সমন্বয় হলে মাসিক অঙ্ক দাঁড়াবে ২ হাজার ৭০ ডলার। নতুন বছরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্টে এই সমন্বয়ের প্রভাব পড়বে।    কোলা নির্ধারণে কোনো একটি মাসের মূল্যস্ফীতির হার সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, শহরের মজুরিভিত্তিক কর্মী ও কেরানি পর্যায়ের কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ভোক্তা মূল্যসূচক, অর্থাৎ সিপিআই ডব্লিউয়ের তৃতীয় প্রান্তিকের গড় পরিবর্তন থেকে এই হিসাব করা হয়। তৃতীয় প্রান্তিক বলতে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরকে বোঝায়। তাই সেপ্টেম্বরের তথ্য প্রকাশের আগে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত হার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাব মোকাবিলা করা।    যাঁরা পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগেই সোশ্যাল সিকিউরিটি রিটায়ারমেন্ট ভাতা নিচ্ছেন এবং পাশাপাশি কাজ করছেন, তাঁদের জন্য আয়ের সীমার ঘোষণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সারা বছর পূর্ণ অবসরের বয়সের নিচে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বার্ষিক সীমা ২৪ হাজার ৪৮০ ডলার। এর বেশি প্রতি ২ ডলার আয়ের জন্য ভাতা থেকে ১ ডলার আটকে রাখা হয়। আবার যাঁরা ২০২৬ সালেই পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই বয়সে পৌঁছানোর মাসের আগের আয় গণনায় সীমা ৬৫ হাজার ১৬০ ডলার। ওই সীমার বেশি প্রতি ৩ ডলার আয়ের জন্য ১ ডলার আটকে রাখা হয়। পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর মাস থেকে আয়ের কারণে এই কর্তন আর প্রযোজ্য হয় না। এই হিসাবে চাকরির বেতন ও সেলফ এমপ্লয়মেন্টের নিট আয় ধরা হয়; পেনশন, বিনিয়োগের আয় বা সুদ ধরা হয় না।  আয়ের কারণে ভাতা আটকে রাখার বিষয়টিকে স্থায়ীভাবে পুরো অর্থ হারানো হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর পর যেসব মাসে ভাতা কমানো বা আটকে রাখা হয়েছিল, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে মাসিক ভাতার অঙ্ক পুনর্নির্ধারণ করা হয়। মূল প্রতিবেদনে ২০২৭ সালে কর্মরত সুবিধাভোগীদের আয়ের সীমা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন সীমা কত হবে, তা সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।    কর্মীদের পেচেক থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স কাটার সর্বোচ্চ আয়সীমাও আলাদা হিসাবে নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালে একজন কর্মীর প্রথম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয়ের ওপর ৬ দশমিক ২ শতাংশ সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স প্রযোজ্য। নিয়োগকর্তাও সমপরিমাণ দেন। সেলফ এমপ্লয়েড ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই অংশের হার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। সর্বোচ্চ আয়সীমা বাড়লে উচ্চ আয়ের কর্মীদের আয়ের আরও বড় অংশ এই ট্যাক্সের আওতায় আসতে পারে। তবে কোলার সঙ্গে এই সীমা একই হারে বাড়ে না। কোলা মূল্যস্ফীতির সূচকের সঙ্গে যুক্ত, আর ট্যাক্সের আয়সীমা নির্ধারণে জাতীয় গড় মজুরির পরিবর্তন ব্যবহার করা হয়।    অবসরের ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিটের হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। নিজের কাজের রেকর্ডের ভিত্তিতে রিটায়ারমেন্ট ভাতা পেতে সাধারণভাবে ৪০টি ক্রেডিট প্রয়োজন। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা যায়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের আওতাধীন প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলার আয়ে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। চারটি ক্রেডিটের জন্য প্রয়োজন ৭ হাজার ৫৬০ ডলার আয়। তাই ১০ বছর কাজের কথা বলা হলেও, প্রতি বছর পুরো সময় কাজ করতেই হবে, এমন নিয়ম নেই। প্রয়োজনীয় আয় কম সময়েও অর্জন করা যায়। আবার ন্যূনতম প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্রেডিট থাকলেই মাসিক ভাতা বাড়ে না; ভাতার অঙ্ক নির্ধারণে কর্মজীবনের আয়ের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।    কোলার প্রভাব সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পেমেন্টেও পড়বে। ২০২৬ সালে এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ফেডারেল মাসিক পেমেন্ট একজন যোগ্য ব্যক্তির জন্য ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে আয় ও অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তের কারণে ব্যক্তিভেদে পেমেন্ট কম হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁদের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট থেকে মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়াম কেটে নেওয়া হয়, তাঁদের হাতে কতটা অতিরিক্ত অর্থ থাকবে, তা বুঝতে মেডিকেয়ারের নতুন প্রিমিয়ামও জানতে হবে। এই প্রিমিয়াম কোলা ঘোষণার বাইরে আলাদাভাবে জানানো হয়। ফলে ভাতা বৃদ্ধির হার জানা গেলেও হাতে পাওয়া অর্থের সম্পূর্ণ হিসাব তখনই স্পষ্ট হবে, যখন সংশ্লিষ্ট কর্তনের নতুন অঙ্কও প্রকাশিত হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১১:১১
বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়া ১৭ বছর বয়সী সেই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
বারিধারায় কিশোরের জামিন নাকচ, বিচারক বললেন, 'প্রশ্রয় পেলে বিচারকে সহজ ভাববে বিত্তবানরা'

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার, ৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন প্রথম আলোকে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কিশোরের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন। কিশোরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান।    গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে একটি প্রাইভেট কার চাপা দেয়। পরে পথচারী ও নির্মাণশ্রমিকেরা গাড়িটি তুলে তাঁকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।    নিহত মেহেদীর বয়স ছিল ২৪ বছর। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই মুক্তাদির ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন। এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারাকের নাম উল্লেখ করা হলেও আটক কিশোরের নাম ছিল না।   দ্য ডেইলি স্টারের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির ডান পাশের চালকের আসনের দরজা দিয়ে তাকে বের হতে দেখা যায়। অন্য পাশের দরজা দিয়ে বের হন মধ্যবয়সী আরেক ব্যক্তি। পুলিশের আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে কিশোরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।    ২৪ সেপ্টেম্বর কিশোরকে আদালতে হাজির করে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরেফিন ইসলাম। আদালত তাকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় তার পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়।   ওই দিনের শুনানির পর কিশোরের পক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন দাবি করেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ডেইলি স্টারের হাতে পাওয়া আপসনামায় বলা হয়, দাফন ও আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ টাকা এবং নিহতের বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে আপসনামায় কোনো তারিখ ছিল না।   আপসনামায় দুর্ঘটনার সময় আকাশ মারাক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং কিশোর যাত্রী ছিল বলে দাবি করা হয়। এই বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। আপসে মামলার বাদীর সম্মতির বিষয়ে জানতে ডেইলি স্টার সে সময় তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পায়।    রোববারের শুনানিতে আদালত কিশোরকে জামিন দেননি। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এজাহারে নাম থাকা গাড়িচালক আকাশ মারাককে পুলিশ তখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দুর্ঘটনার দায় এবং কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্তের তথ্য ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১০:৪৮
রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সার্ভার চীনে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি ব্যবসায়ী গ্রেগ লুই। ছবি: সংগৃহীত
চীনে ৩০ কোটি ডলারের এআই সার্ভার পাচারে ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ

চীনে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি ব্যবসায়ী গ্রেগ লুইকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ১ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে সার্ভারগুলো চীনে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।    ৩৮ বছর বয়সী গ্রেগ লুই ‘ইয়িউ কং লুই’ নামেও পরিচিত। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান গ্যাব্রিয়েলের বাসিন্দা এবং সিটি অব ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর্থমেড কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, বিদেশে পণ্য পাচার এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সার্ভারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ ছিল। এসব যন্ত্রাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজে ব্যবহৃত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়াই চীনের ক্রেতাদের কাছে সরঞ্জাম পৌঁছাতে নিজের প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেন লুই ও তাঁর সহযোগীরা।   প্রসিকিউটরদের দাবি, মার্কিন নির্মাতাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে প্রকৃত ক্রেতা ও চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। প্রথমে পণ্য মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে পরে সেখান থেকে চীনে নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়ার দুটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থমেড ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।    রয়টার্স জানিয়েছে, উন্নত মার্কিন কম্পিউটিং প্রযুক্তি চীনে অবৈধভাবে পাঠানোর অভিযোগে চলমান একাধিক ফেডারেল মামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনাগুলোর একটি। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এ ধরনের প্রযুক্তি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রতিবেদনের জন্য লুইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।    মামলাটি তদন্ত করছে এফবিআই, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের রপ্তানি আইন প্রয়োগকারী দপ্তর এবং ডিফেন্স ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে রপ্তানি আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর এবং পাচারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযোগপত্র দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লুই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১০:৩১
লন্ডনে প্রথম ও প্রাচীনতম ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনের প্রথম মসজিদের শতবর্ষ উদযাপনে গৃহহীনদের জন্য ১০,০০০ বেলা খাবারের উদ্যোগ

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আহমদিয়া নারীদের গয়না দানসহ কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে নির্মিত লন্ডনের ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সাউথফিল্ডসে অবস্থিত মসজিদটি ১৯২৬ সালের ৩ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের জন্য ১০ হাজার বেলা খাবার এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০ হাজার ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবার বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।    লন্ডনে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রথম ভবন হিসেবে পরিচিত ফজল মসজিদ। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে ভারতের কাদিয়ানের মানুষের অনুদানের ইতিহাস। আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকের তথ্য অনুযায়ী, নারীরা তাঁদের গয়না দিয়েছেন, শিশুরা দিয়েছে হাতখরচের টাকা, আর পুরুষেরা আয় ও সঞ্চয় থেকে অর্থ দিয়েছেন। দাতাদের প্রায় কেউই মসজিদটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাননি।   নারীদের এই অবদান শতবর্ষের আয়োজনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। দূরদেশে একটি স্থায়ী উপাসনালয় গড়ে তুলতে তাঁরা ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছিলেন। তবে মসজিদটির নির্মাণে শুধু নারীদের অর্থ ছিল, এমন নয়। আয়োজকদের বিবরণ অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পটি আহমদিয়া কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে নারীদের ত্যাগ ছিল উল্লেখযোগ্য।    প্রায় ১৫০ জনের নামাজ আদায়ের জায়গা থাকা মসজিদটি একটি আবাসিক সড়কে অবস্থিত। শতবর্ষের কর্মসূচিতে শান্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, খাবার বিতরণ ও স্বেচ্ছাসেবা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনের মধ্যে থাকা মানুষকে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে। ঘোষিত সংখ্যাগুলো বছরব্যাপী কর্মসূচির লক্ষ্য, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজের হিসাব নয়।   মসজিদটির ইতিহাস ও শান্তির বার্তা তুলে ধরতে অক্টোবর মাসে লন্ডনের ১০০টি বাসে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। পরে যুক্তরাজ্যের অন্য এলাকাতেও এই প্রচার সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা। আহমদিয়া কমিউনিটির বিশ্বপ্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিবেশীর সেবা এবং ধর্ম বা পটভূমি নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।    দীর্ঘ ইতিহাসে ফজল মসজিদ আহমদিয়া কমিউনিটির সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে তাদের চতুর্থ নেতা মির্জা তাহির আহমদ পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে এসে সাউথফিল্ডসে বসবাস শুরু করলে এখানে বিশ্ব সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির শতবর্ষের বিবরণে এই অধ্যায়ও তুলে ধরা হয়েছে।    ব্রিটেনের ঐতিহ্য সংরক্ষণের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে ভবনটি। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে হিস্টোরিক ইংল্যান্ড মসজিদটিকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ভবনের মর্যাদা দেয়। চলতি বছরের মার্চে ওয়ান্ডসওয়ার্থ বরো কাউন্সিল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণে একটি সবুজ ফলক প্রদান করে।    শতবর্ষের আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতাদের অবদান স্মরণ এবং বর্তমান সমাজে সেবার কর্মসূচি। এক শতাব্দী আগে যাঁরা নিজেদের গয়না, সঞ্চয় ও হাতখরচ দিয়ে লন্ডনে মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন, তাঁদের সেই অনুদানের ইতিহাস এবার তুলে ধরা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের সামনে। একই সঙ্গে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের ঘোষণা দিয়েছে মসজিদটির কমিউনিটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১০:২১
আমাজনের রেইনফরেস্টে দেখা মেলা উজ্জ্বল লাল মুখের বিরল উয়াকারি বানর। ছবি: সংগৃহীত
রোদে পোড়া ব্রিটিশদের মতো লাল মুখ, ব্রাজিলে বানরের ডাকনাম ‘ইংলিশ মাঙ্কি’

মুখ দেখে মনে হতে পারে রোদে পুড়ে লাল হয়ে গেছে। কিন্তু আমাজনের উয়াকারি বানরের উজ্জ্বল লাল মুখের কারণ তার ত্বক ও রক্তনালির বিশেষ গঠন। মুখের পাতলা ত্বকের নিচে ঘনভাবে ছড়িয়ে থাকা রক্তনালি এবং মেলানিন রঞ্জকের অনুপস্থিতি প্রাণীটিকে এমন চেহারা দিয়েছে। গবেষকদের মতে, এই রং তার শারীরিক অবস্থার সংকেতও বহন করতে পারে।    আমাজন অববাহিকার মৌসুমি প্লাবিত বন উয়াকারির গুরুত্বপূর্ণ আবাস। সাদা উয়াকারির শরীরে লম্বা, হালকা রঙের লোম থাকলেও মাথা ও মুখ প্রায় লোমহীন। শরীরের লোমের সঙ্গে লাল মুখের এই বৈপরীত্য প্রাণীটিকে সহজেই আলাদা করে চেনায়। উয়াকারির বিভিন্ন ধরন রয়েছে; সবগুলোর শরীরের লোমের রং এক নয়।   উয়াকারির সঙ্গে ‘ইংলিশ মাঙ্কি’ নামটিও যুক্ত রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের ন্যাশনাল প্রাইমেট রিসার্চ সেন্টারের তথ্যপত্রে লাল উয়াকারির একটি প্রচলিত নাম হিসেবে স্প্যানিশ ‘মোনো ইংলেস’ উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ ইংরেজ বানর। তবে প্রাথমিক ইংরেজ অভিযাত্রীদের রোদে লাল হয়ে যাওয়া মুখ দেখে এই নাম দেওয়া হয়েছিল বলে যে গল্প প্রচলিত আছে, সেটিকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    লাল মুখের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ২০১৫ সালে রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায়। সেখানে উয়াকারির মুখের ত্বক অন্য কয়েক ধরনের বানরের ত্বকের সঙ্গে তুলনা করা হয়। গবেষকেরা দেখেন, উয়াকারির মুখের বাইরের ত্বক তুলনামূলক পাতলা এবং সেখানে মেলানিনের দানা দেখা যায়নি। পাশাপাশি ত্বকের ঠিক নিচে ক্ষুদ্র রক্তনালির ঘনত্ব বেশি।   এই রক্তনালিগুলো তুলনায় বড় এবং বেশি আঁকাবাঁকা। ফলে ত্বকের কাছাকাছি প্রবাহিত রক্তের রং বাইরে থেকে স্পষ্ট হয়। উয়াকারির মুখের লালচে ভাব মূলত এই বিশেষ গঠনের ফল। তাই প্রাণীটির স্বাভাবিক মুখের রংকে মানুষের সানবার্ন বা রোদে পোড়া ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়।    উজ্জ্বল লাল মুখ সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ হতে পারে বলেও গবেষণায় আলোচনা করা হয়েছে। মুখের ত্বক দিয়ে রক্তের অবস্থার কিছু পরিবর্তন বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হওয়ায় এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, মুখের লাল রং স্বাস্থ্য নির্দেশ করে, এই ধারণাটি তাঁদের গবেষণায় সরাসরি পরীক্ষা করা হয়নি। রংটি যৌন বা আচরণগত অবস্থার সংকেতও দিতে পারে। ফলে শুধু মুখ কতটা লাল, তা দেখে কোনো উয়াকারিকে নিশ্চিতভাবে সুস্থ বা অসুস্থ বলা যায় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৯:৫৭
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, জোর দিলেন নিরাপদ প্রত্যাবাসনে

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়া আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ পর্যায়ে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের অবস্থান এবং নতুন করে সীমান্তে মানুষের প্রবেশের কারণে দেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য পাওয়া বৈশ্বিক সহায়তা কমে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখা হোক। তাঁর মতে, এই সহায়তা অব্যাহত রাখা হলে রোহিঙ্গাদের মানবিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে। বৈঠকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পড়ছে বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সীমান্ত দিয়ে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ঠেকাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে আইআইএমএম প্রধানকে অবহিত করা হয়। আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল বাংলাদেশে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে এবং কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করেছে। কৌমুজিয়ান জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজার ও অন্যান্য এলাকায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০০ জনের বেশি ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসব তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সহিংসতা এবং বেসামরিক মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও তদন্ত ও নথিভুক্ত করা হচ্ছে। আইআইএমএম জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের অধীনে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল দায়িত্ব হলো ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে সংঘটিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহারের উপযোগী নথি প্রস্তুত করা। আইআইএমএমের প্রধান হিসেবে নিকোলাস কৌমুজিয়ান ২০১৯ সালের ১ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরেও কৌমুজিয়ান রোহিঙ্গা সংকট ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন। সে সময় তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে শতাধিক রোহিঙ্গা কর্মী ও কমিউনিটি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ ও অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এদিকে, বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়াও আলোচনায় আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের পথ সহজ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান সংঘাত, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সীমান্তের অস্থিতিশীলতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও বিচারিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৯:৪৮
জমি দান ও রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য ঘটনাটি ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
চাকরির ভেরিফিকেশন বাদ পড়ার শঙ্কায় মুসলিম তরুণ, এক শতক জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী

চাকরির ভেরিফিকেশন নিয়ে উদ্বিগ্ন এক মুসলিম তরুণকে বিনা মূল্যে এক শতক জমি দিয়েছেন তাঁর এক হিন্দু প্রতিবেশী। জমি দানের পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনের খরচও ওই ব্যক্তি নিজেই বহন করেছেন বলে সাব রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিনের একটি পোস্টের বিবরণে জানানো হয়েছে।   মহিউদ্দিনের পোস্টের বিবরণ অনুযায়ী, ওই তরুণের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় চাকরি পাওয়ার পর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি।   তরুণের উদ্বেগের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়ান প্রতিবেশী ওই হিন্দু ব্যক্তি। কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই স্বপ্রণোদিত হয়ে তরুণকে এক শতক জমি দান করেন তিনি। জমিটি তরুণের নামে রেজিস্ট্রেশন করার ব্যয়ও বহন করেন দাতা।   সরবরাহ করা বিবরণে মহিউদ্দিনকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পোস্টে প্রতিবেশীর এই সহযোগিতার ঘটনা তুলে ধরা হলেও জমিদাতা ও তরুণের নাম, ঘটনাস্থল কিংবা জমি রেজিস্ট্রেশনের তারিখ উল্লেখ নেই।   বাবার নামে স্থাবর সম্পত্তি না থাকার কারণে চাকরির ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার বিষয়টি এখানে তরুণের আশঙ্কা হিসেবে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নিয়োগে জমির মালিকানা বাধ্যতামূলক ছিল কি না কিংবা এ বিষয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানিয়েছিল কি না, সরবরাহ করা বিবরণে তা বলা হয়নি। জমি দানের পর তরুণের ভেরিফিকেশন বা চাকরির চূড়ান্ত অবস্থাও জানা যায়নি।   মহিউদ্দিনের পোস্টে বর্ণিত ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছে একজন তরুণের উদ্বেগ জানতে পেরে প্রতিবেশীর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। ভিন্ন ধর্মের দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই সহযোগিতার ঘটনা জমি দান ও তার নিবন্ধনের খরচ বহনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।   সূত্র: পাবলিকিয়ান পরিবার

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৯:৩২
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদে পড়ে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ভারতীয় নৌসেনা প্রদীপ মুখার্জি। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানি নারীর হানি ট্রাপে পড়লেন নৌসেনা, ফাঁস করে দিলেন ‘গোপন স্পর্শকাতর তথ্য’

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে নৌবাহিনীর গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে ভারতের এক নৌসেনাকে গ্রেপ্তার করেছে অন্ধ্র প্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা। শনিবার, ৩ অক্টোবর তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র আইএনএস অগ্রণী থেকে প্রদীপ মুখার্জি নামের ৩১ বছর বয়সী ওই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দা কর্মীকে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য দিয়েছেন।    সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, প্রদীপ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি আইএনএস অগ্রণীতে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।   কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই নারী। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই সম্পর্ক ব্যবহার করে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ, নৌবহরের চলাচল ও কার্যক্রমসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঘটনাটিকে তাঁরা ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তথ্য আদায়ের ফাঁদ।    টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদীপের সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করেন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্যরা। শনিবার সকালে বিশেষ দলটি আইএনএস অগ্রণীতে পৌঁছে তাঁকে হেফাজতে নেয়। স্থানীয় পুলিশকেও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   গ্রেপ্তারের পর প্রদীপকে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট ওয়ারেন্ট সংগ্রহের পর শনিবার সন্ধ্যায় তাঁকে অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখার সদর দপ্তরে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।    ঠিক কী ধরনের তথ্য এবং কতটা তথ্য বাইরে গেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রদীপের কাছে হাওলা বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে কোনো অর্থ পৌঁছেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্তকারীদের অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে প্রদীপের বক্তব্য বা তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায়ের তথ্য নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৯:২২
ধর্মীয় চর্চায় নিয়মিত দম্পতিদের যৌ ন জী বন ও দাম্পত্য সন্তুষ্টি নিয়ে গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য
ধর্মভীরু দম্পতিদের যৌ ন জী বন বেশি সন্তোষজনক: গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ধর্মীয় চর্চায় নিয়মিত থাকা বিবাহিত দম্পতিদের যৌ ন জী বন তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তোষজনক। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে নিয়মিত যৌ ন স ম্প র্কের হারও বেশি।   চার্লটসভিলের ইনস্টিটিউট ফর ফ্যামিলি স্টাডিজের ২০২৬ সালের ‘রিলিজিয়ন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভে’তে ১৮ থেকে ৫৪ বছর বয়সী ৩ হাজার ১২৫ জন বিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী বিবাহিতদের মধ্যে উপাসনালয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী দম্পতিদের ৬২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার যৌ ন স ম্প র্ক করেন। ধর্মীয় চর্চায় অনিয়মিত বা কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত নন এমন দম্পতিদের মধ্যে এই হার তুলনামূলকভাবে কম।   যৌ ন জী বন নিয়ে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। উপাসনালয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী ধর্মভীরু দম্পতিদের একটি বড় অংশ নিজেদের যৌ ন জী বনকে ‘চমৎকার’ বা ‘খুব ভালো’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। অন্যদিকে ধর্মীয় চর্চায় কম যুক্ত থাকা বা ধর্মীয়ভাবে অনাসক্ত দম্পতিদের মধ্যে এই সন্তুষ্টির হার তুলনামূলকভাবে কম।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত প্রার্থনা বা ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে বিবাহিত দম্পতিদের যৌ ন জী বন নিয়ে সন্তুষ্টির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর সঙ্গে যৌ ন স ম্প র্কের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি সব ক্ষেত্রে একইভাবে দেখা যায়নি।   বিয়েকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী অঙ্গীকার হিসেবে দেখার সঙ্গেও নিয়মিত ও সন্তোষজনক যৌ ন স ম্প র্ক এবং সামগ্রিক দাম্পত্য মানের ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এই ফলাফল থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ধর্মীয় চর্চাই বেশি যৌ ন স ম্প র্ক বা দাম্পত্য সুখের কারণ। গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। বয়স, কত বছর ধরে বিয়ে হয়েছে এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত পার্থক্যও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দম্পতিরা যখন নিজেদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক চর্চার জায়গায় একসঙ্গে সময় কাটান, তখন তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা বাড়তে পারে। উপাসনালয়ে যাওয়া, প্রার্থনা কিংবা নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া অনেক দম্পতির সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।   দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে কিছুটা দূরে থেকে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত সময় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। নিজেদের অনুভূতি, মানসিক ঘনিষ্ঠতা এবং যৌ ন সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৯:২
পাঞ্জাবে গু লি করে হ ত্যা করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে
পাঞ্জাবে সম কা মী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গু লি করে হ ত্যা

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট মধুসূদনকে গু লি করে হ ত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। ম্যাড সান্ধু নামে পরিচিত এই ব্যক্তি শনিবার, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় লোহারকা রোডের একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রের বাইরে নিজের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গু লি চালিয়ে পালিয়ে যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, হ ত্যা কা ণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে অমৃতসরের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সিরিভেন্নেলার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে হা ম লাটি ঘটে। গু লি বি দ্ধ সান্ধুকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করেছে।   তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ প্রভজোৎ সিং ভির্ক জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে পুলিশের হাতে কিছু সূত্র এসেছে এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।   হ ত্যা কা ণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিলন’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দা য় স্বীকারের পোস্ট দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ওই পোস্টে সান্ধুর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের সংস্কৃতি নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়। কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে পোস্টটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওই দা য় স্বীকারের পোস্ট থেকেই হামলাকারীদের পরিচয় বা হ ত্যা র উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সান্ধু প্রকাশ্যে নিজের সম কা মী পরিচয় নিয়ে কথা বলতেন। মেকআপ, ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও লি ঙ্গ পরিচয়সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর ভিডিও এবং পডকাস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিনি পাঞ্জাব ও মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রে স্টাইলিস্ট এবং সহকারী কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিছু পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় নিয়ে তাঁকে বি দ্ বে ষ মূলক মন্তব্য ও হয় রা নি র মুখেও পড়তে হয়েছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি সান্ধুর পোশাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও পুরোনো ভিডিও নিয়ে একটি নিহাং গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরো ধ হয়েছিল। ওই গোষ্ঠী তাঁর কিছু কনটেন্টের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। পরে সান্ধু অভিযোগ করেন, বিত র্ক তৈরির জন্য তাঁর পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে।   তবে অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার হরমনবীর সিং গিল এই বিরো ধের সঙ্গে হ ত্যা কা ণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করেননি। তিনি জানিয়েছেন, হ ত্যা র উদ্দেশ্য জানতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সান্ধু অমৃতসরের একটি ইউনিসেক্স স্যালনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং মেকআপ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাঁর ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার অনুসারী ছিল।   হ ত্যা কা ণ্ডের পর অমৃতসরের সংসদ সদস্য গুরজিৎ সিং আউজলা দাবি করেছেন, সান্ধু দীর্ঘদিন ধরে হু ম কি পাচ্ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সে বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রে প্তা র এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:৩০
কম সিজিপিএ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে
কম সিজিপিএতেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করুন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, জেনে নিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু সিজিপিএ তুলনামূলক কম? সিজিপিএ কম হলেও দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম থাকলেই ভর্তি বা সম্পূর্ণ স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমন ধারণা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পছন্দের বিভাগ, ডিগ্রির ধরন এবং অর্থায়নের শর্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আবদুল হাকিম তিস্তির নামে সরবরাহ করা ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫০। আবার একই তালিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ০০ প্রয়োজন।   ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্নাতক ডিগ্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী ন্যূনতম ২ দশমিক ৫০ জিপিএ অথবা সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্কে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম আলাদা শর্ত দিলে সেটিই প্রযোজ্য হবে।   ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি শর্তেও সর্বশেষ সম্পন্ন ডিগ্রি অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে কোনো বিভাগ অতিরিক্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করলে আবেদনকারীকে তা পূরণ করতে হবে।   ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তির জন্য স্নাতক পর্যায়ে ন্যূনতম ২ দশমিক ৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৩ দশমিক ০০। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএধারী আবেদনকারীর আবেদনও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে সাধারণভাবে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ চাইলে ওই অংশে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ থাকা আবেদনকারীকে সাময়িক ভর্তির জন্য বিবেচনা করতে পারে। অর্থাৎ শুধু মোট সিজিপিএ নয়, শেষ কয়েক বছরের একাডেমিক ফলও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইলের ক্ষেত্রেও প্রোগ্রামভেদে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাস্টার অব আর্টস ইন অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ এবং মাস্টার অব সায়েন্স ইন বিজনেস প্রোগ্রামে ন্যূনতম ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তাই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কথায় ‘কম সিজিপিএতে ভর্তির বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা ঠিক হবে না।   সরবরাহ করা তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোস, আলাবামার আলাবামা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আরকানসাসের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়ার ফোর্ট ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়ার ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন আইওয়া, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানা অ্যাট মনরো, আরকানসাসের ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস অ্যাট লিটল রক, ক্যানসাসের ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটসের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ।   পরের ১০টি হলো—মেইনের ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইল, ভার্জিনিয়ার লিবার্টি ইউনিভার্সিটি, কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, আইডাহোর ইউনিভার্সিটি অব আইডাহো, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, ওয়েস্ট টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ট্রয় ইউনিভার্সিটি, টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মিজৌরির ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরি এবং মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটি।   ২১ থেকে ৩০ নম্বরে রয়েছে—মিশিগানের ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, উইসকনসিনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকি, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস ও টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স, মিসিসিপির জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড এ অ্যান্ড এম কলেজ এবং টেক্সাসের প্রেইরি ভিউ এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি।   তালিকার শেষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—ওহাইওর কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টলিডো, ক্যানসাসের উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কেনটাকির ইস্টার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটি ও মারে স্টেট ইউনিভার্সিটি, টেনেসির টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট আলাবামা এবং টেক্সাসের লামার ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আরলিংটন।   তবে এই ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে কম সিজিপিএ গ্রহণ করা হবে বা সব আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ অর্থায়ন দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কোনো একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামের যোগ্যতা দেখে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।   ভর্তি যোগ্যতার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। বিভাগভেদে টিচিং, রিসার্চ ও সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগও থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপকে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই ন্যূনতম ভর্তি যোগ্যতা পূরণ করলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।   আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি শর্তের পাশাপাশি পছন্দের বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনাও ভালোভাবে পড়তে হবে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট, নির্দিষ্ট ন্যূনতম জিপিএ, সুপারিশপত্র এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাসের মতো অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিপিএর সমমান নির্ধারণ। ডেনভারের আন্তর্জাতিক ভর্তি নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের জিপিএর কথা বলা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ট্রান্সক্রিপ্টে থাকা সিজিপিএ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট জিপিএর সঙ্গে মিলিয়ে আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত নয়। যে প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান, সেই বিভাগের ভর্তি দপ্তরের কাছ থেকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং অর্থায়নের শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:২৩
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ভাতা ও টিউশন সহায়তার সুযোগ
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স-পিএইচডিতে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ভাতা ও টিউশন সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গবেষণা, শিক্ষকতা কিংবা পেশাগত বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ভাতা, টিউশন সহায়তা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকিও পাওয়া যেতে পারে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের ন্যূনতম ভাতা ২৪ হাজার ৭২০ ডলার। ডক্টরাল পর্যায়ে এই ন্যূনতম ভাতা ২৭ হাজার ১৯২ ডলার।   নয় মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট পর্যায়ের ন্যূনতম ভাতা ১৮ হাজার ৫৪০ ডলার এবং ডক্টরাল পর্যায়ে ২০ হাজার ৩৯২ ডলার। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ন্যূনতম ভাতার পরিমাণ। কোনো কোনো একাডেমিক প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীর পর্যায় ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এর চেয়ে বেশি ভাতা দিতে পারে।   অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ মূলত পড়াশোনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার একটি ব্যবস্থা। এর মধ্যে রয়েছে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট ইনস্ট্রাক্টর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ।   অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ একাডেমিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে এসব পদে সুযোগ পান। কখনো ভর্তির প্রস্তাবের সঙ্গেই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। আবার কখনো শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই সবার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা অর্থায়ন নিশ্চিত—এমন নয়।   সাধারণভাবে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সপ্তাহে ১০ থেকে ২০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কাজের ধরন ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে ভাতার পরিমাণ এবং অন্যান্য সুবিধাও নির্ধারিত হয়।   টিউশন সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট টিউশন সাপোর্ট প্রোগ্রাম অনুযায়ী, পূর্ণ টিউশন সহায়তার জন্য সাধারণভাবে অর্ধকালীন একটি অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, দুটি এক-চতুর্থাংশ সময়ের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ অথবা একটি এক-চতুর্থাংশ সময়ের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় ফেলোশিপ থাকতে হয়।   এ জন্য শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি থাকতে হবে এবং সন্তোষজনক একাডেমিক অবস্থান বজায় রাখতে হবে। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ধরন, কাজের সময় ও ভাতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে।   টিউশন সহায়তার আওতায় ডিগ্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য কোর্সের টিউশন নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট হারে পরিশোধ করা হয়। তবে সব ধরনের বাধ্যতামূলক ফি এর আওতায় পড়ে না। স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটি, স্বাস্থ্যসেবা বা রিক্রিয়েশন সেন্টারের মতো বিভিন্ন ফি শিক্ষার্থীকে নিজেকেই দিতে হতে পারে, যদি বিভাগ থেকে আলাদা ব্যবস্থা না থাকে।   এ ছাড়া কোনো কোর্সের টিউশন নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট হারের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থী বা তাঁর বিভাগকে বহন করতে হতে পারে। তাই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রস্তাব পাওয়ার পর কোন খরচগুলো সহায়তার আওতায় রয়েছে, তা ভালোভাবে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এসব সুযোগের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়, যদি আবেদনকারী নির্ধারিত কোনো অব্যাহতির আওতায় না থাকেন। গ্রহণযোগ্য পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে টোফেল, একাডেমিক আইইএলটিএস এবং পিটিই একাডেমিক।   তবে প্রয়োজনীয় স্কোর ও অন্যান্য ভর্তি শর্ত প্রোগ্রামভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যে বিষয়ে আবেদন করা হবে, সেই বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখে যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।   টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা গ্র্যাজুয়েট ইনস্ট্রাক্টর পদে অতিরিক্ত ভাষাগত মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। যাঁদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় এবং যাঁরা শ্রেণিকক্ষ বা ল্যাবে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের ইংরেজিতে কার্যকরভাবে যোগাযোগের সক্ষমতা থাকতে হবে।   এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্ট্রাকশনাল অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট কর্মসূচির মূল্যায়নে অংশ নিতে হতে পারে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা এবং পাঠদানের অনুমোদন পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়।   আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের পছন্দের বিষয় অনুযায়ী গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর ওই প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা দেখে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের খালি পদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।   বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা ও অতিরিক্ত নথির প্রয়োজনীয়তা একাডেমিক প্রোগ্রামভেদে নির্ধারিত হয়। একইভাবে জিআরই প্রয়োজন কি না, সেটিও প্রোগ্রাম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ফলে সব বিভাগের জন্য একই সময়সীমা বা অভিন্ন পরীক্ষার শর্ত ধরে আবেদন করা ঠিক হবে না।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নথি দেওয়ার আগে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শিক্ষাবর্ষের ব্যয় বহনের মতো অর্থায়নের প্রমাণ দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তার ঘোষণা কিংবা অর্থায়নের চিঠি ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে প্রাথমিক ভর্তি আবেদন পর্যালোচনার সময় এই আর্থিক নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:১৩
টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদ এখন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি
টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদ এখন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া সোমা এস. সাঈদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুইন্সের একাদশ জুডিশিয়াল ডিস্ট্রিক্ট থেকে তিনি নির্বাচিত হন। বর্তমানে নিউইয়র্কের আদালতের নথিতে তাঁকে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের বিচারপতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী সোমা সাঈদ পেয়েছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোট। ওই নির্বাচনে কুইন্সের ভোটাররা সুপ্রিম কোর্টের পাঁচটি বিচারপতি পদে ভোট দেন। নির্বাচনের পর প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে তাঁর ভোটের সংখ্যা কম উল্লেখ করা হলেও সরকারি চূড়ান্ত ফলে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোটই দেখানো হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে থেকেই বিচারক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সোমা সাঈদের। ২০২১ সালে তিনি কুইন্স কাউন্টি থেকে নিউইয়র্ক সিটি সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হন। এশিয়ান আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের পরিচিতিতে তাঁকে নিউইয়র্ক স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নির্বাচিত বাংলাদেশি আমেরিকান বিচারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটনের নিউইয়র্ক কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্টেও বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন সোমা। সেখানে আসামিদের প্রাথমিক হাজিরাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।   বর্তমানে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের পার্ট ৩১-এর দায়িত্বে রয়েছেন সোমা সাঈদ। আদালতের প্রকাশিত কার্যবিধিতেও তাঁর নাম ও দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।   সোমা সাঈদের জন্ম টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁর বাবা আফতাব উদ্দিন সাঈদ বাংলাদেশে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর মাকে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠার শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচারাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।   নিউইয়র্কেই তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। তিনি আইএস ২৩৮ ও জ্যামাইকা হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক এবং আলবেনি ল স্কুল থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিচারক হওয়ার আগে আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। নিজের আইন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর পেশাগত জীবনে।   আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন সোমা সাঈদ। তিনি কুইন্স কাউন্টি উইমেনস বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম নারী সভাপতি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে কুইন্সের প্রথম মুসলিম বিচারক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সোমা সাঈদ। নির্বাচনের পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে এ পদে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করা হয়েছিল।   নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের নাম বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে মিল থাকলেও দুই দেশের আদালতব্যবস্থা এক নয়। নিউইয়র্কে স্টেট সুপ্রিম কোর্ট বিস্তৃত এখতিয়ারসম্পন্ন একটি বিচারিক আদালত, যেখানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার হয়। নিউইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ আদালত হলো কোর্ট অব আপিলস।   টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদের বিচারিক জীবনের এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানদের সাফল্যের গল্পে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করেছে। সিভিল কোর্টের বিচারক থেকে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়া তাঁর দীর্ঘ পেশাগত পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৭:৫১
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়।
ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত

বৈধ ভারতীয় ভিসা বা প্রবেশের অনুমতিপত্র হাতে থাকলেই ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি, ভিসা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে পারে। এসব যাচাইয়ের পর ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের রয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিচারপতি অমিত মহাজন এক তুর্কমেনিস্তানের নাগরিকের করা আবেদন খারিজ করে বলেন, শুধু বৈধ ভিসা থাকার কারণে কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের শর্তহীন বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার অর্জন করেন না। মামলাটির সূত্রপাত ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ। তুর্কমেনিস্তানের ওই নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই বিমানে করে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁর কাছে বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা ছিল। একই ধরনের ভিসা নিয়ে তাঁর স্বামীও তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও ওই নারীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং একই দিন তাঁকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর তিনি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি ছিল, বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন ভারতে ঢুকতে দেওয়া হলো না, তার কারণ জানানো হোক এবং তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক। একই বিমানে থাকা তাঁর স্বামীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁকে দেওয়া হয়নি—এ বিষয়টিকেও তিনি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, কোনো বিদেশি নাগরিককে ভিসা দেওয়া মানেই তাঁকে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চূড়ান্ত অধিকার দেওয়া নয়। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি ও ভিসা পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন মনে করলে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া। আদালতও এই যুক্তিকে গ্রহণ করে। বিচারপতি অমিত মহাজন বলেন, ভারতের প্রচলিত আইনি কাঠামো ভিসাকে ভারতে প্রবেশের ‘পরম ও শর্তহীন অধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করে না। বিদেশি নাগরিকের প্রবেশের বিষয়টি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিবেচনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মামলার শুনানিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই নারীর আগের ভারত সফর এবং তাঁর ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালতের সামনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালে বহুবার ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। এসব সফরের মধ্যে ব্যবসায়িক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ভিসায় করা ভ্রমণও ছিল। কর্তৃপক্ষ তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও ভারতে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু অসঙ্গতির কথা আদালতকে জানায়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যের কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল এবং ভারতে ব্যবসায়িক সফরের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নথি পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু নেতিবাচক তথ্যও কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল বলে আদালতকে জানানো হয়। এর একটি অংশ আদালতের সামনে গোপন নথি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আদালত এসব তথ্য বিবেচনা করে জানায়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যে কোনো ভিত্তি ছাড়া নেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালত আরও বলে, বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত অভিবাসন কর্তৃপক্ষের জায়গায় বসে নিজের মূল্যায়ন চাপিয়ে দিতে পারে না, বিশেষ করে যখন সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য থাকার কথা জানানো হয়েছে। ওই নারীর স্বামীকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হলেও তাঁকে কেন দেওয়া হলো না—এই প্রশ্নও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে আদালত মনে করে, একই বিমানে ভ্রমণ করলেই দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে একই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এমন কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। প্রত্যেক বিদেশি নাগরিকের নথি ও পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ভারতে বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশিবিষয়ক আইন কার্যকর রয়েছে। আইনটি ৪ এপ্রিল ২০২৫ প্রণীত হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ ও বহির্গমন, বিদেশিদের ভিসা, নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি নথিতেও ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশিবিষয়ক আইন, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং আদেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধু ভিসা থাকা নয়, অভিবাসন সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও কর্তৃপক্ষের যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ের অর্থ অবশ্য এই নয় যে বৈধ ভিসাধারী প্রত্যেক বিদেশিকেই ভারতে প্রবেশের সময় আটকে দেওয়া হবে। বরং আদালতের বক্তব্য হলো, ভিসা মূলত ভারতে প্রবেশের অনুমোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি; এটি নিজে থেকেই সীমান্ত পার হওয়ার চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় অধিকার তৈরি করে না। অর্থাৎ কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়ার পরও বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তার যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে পারেন। প্রয়োজনীয় নথি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় সন্তোষজনক না হলে অথবা আইনগত কিংবা নিরাপত্তাজনিত কোনো কারণ থাকলে প্রবেশের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। তবে এই রায়কে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কোনো ভারতীয় ভিসা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মামলাটি তুর্কমেনিস্তানের এক নাগরিককে কেন্দ্র করে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো বিদেশি নাগরিকের বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ক্ষমতা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৭:১৮
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা দুই ইরানি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে দুই ইরানি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   শনিবার (৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ওই দুই ব্যক্তি নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশ অমান্য করার কারণেই তাঁদের বি রু দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য শুক্রবারও নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এরপর তাঁদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের একজন শুক্রবার রাতে এবং অন্যজন শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।   তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রস্থান নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্য এক নয়। এর আগে ইরানকে বহিষ্কারের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘে দেশটির মিশন জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিউইয়র্ক ছেড়েছে।   আনাদোলুর ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ইরানি মিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রতিনিধিদলের সফরের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।   তবে ইরানি মিশনের ওই বক্তব্য ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের আগের প্রস্থান নিয়ে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র যে দুই সদস্যকে নিয়ে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাঁদের বিষয়টি সেই আগের ঘটনার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁদের প্রতিনিধিদলকে কঠোর বিধিনিষেধসহ ভিসা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্ক ছেড়ে যান। তবে আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য সেখানে থেকে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।   এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, চলমান সং ঘা তের অবসান এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর মতো বিষয় উঠে এসেছিল বলে জানা গেছে।   এদিকে, এই ঘটনাকে জাতিসংঘ থেকে ইরানের সদস্যপদ বাতিল কিংবা দেশটির স্থায়ী মিশন বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ এবং সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের দেশত্যাগের বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৬:৫৪