সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদ এখন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি
টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদ এখন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া সোমা এস. সাঈদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুইন্সের একাদশ জুডিশিয়াল ডিস্ট্রিক্ট থেকে তিনি নির্বাচিত হন। বর্তমানে নিউইয়র্কের আদালতের নথিতে তাঁকে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের বিচারপতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী সোমা সাঈদ পেয়েছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোট। ওই নির্বাচনে কুইন্সের ভোটাররা সুপ্রিম কোর্টের পাঁচটি বিচারপতি পদে ভোট দেন। নির্বাচনের পর প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে তাঁর ভোটের সংখ্যা কম উল্লেখ করা হলেও সরকারি চূড়ান্ত ফলে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩১ ভোটই দেখানো হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে থেকেই বিচারক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সোমা সাঈদের। ২০২১ সালে তিনি কুইন্স কাউন্টি থেকে নিউইয়র্ক সিটি সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হন। এশিয়ান আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের পরিচিতিতে তাঁকে নিউইয়র্ক স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নির্বাচিত বাংলাদেশি আমেরিকান বিচারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটনের নিউইয়র্ক কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্টেও বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন সোমা। সেখানে আসামিদের প্রাথমিক হাজিরাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।   বর্তমানে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের সিভিল টার্মের পার্ট ৩১-এর দায়িত্বে রয়েছেন সোমা সাঈদ। আদালতের প্রকাশিত কার্যবিধিতেও তাঁর নাম ও দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।   সোমা সাঈদের জন্ম টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁর বাবা আফতাব উদ্দিন সাঈদ বাংলাদেশে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর মাকে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠার শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচারাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।   নিউইয়র্কেই তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। তিনি আইএস ২৩৮ ও জ্যামাইকা হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক এবং আলবেনি ল স্কুল থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিচারক হওয়ার আগে আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। নিজের আইন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর পেশাগত জীবনে।   আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন সোমা সাঈদ। তিনি কুইন্স কাউন্টি উইমেনস বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম নারী সভাপতি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে কুইন্সের প্রথম মুসলিম বিচারক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সোমা সাঈদ। নির্বাচনের পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে এ পদে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করা হয়েছিল।   নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের নাম বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে মিল থাকলেও দুই দেশের আদালতব্যবস্থা এক নয়। নিউইয়র্কে স্টেট সুপ্রিম কোর্ট বিস্তৃত এখতিয়ারসম্পন্ন একটি বিচারিক আদালত, যেখানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার হয়। নিউইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ আদালত হলো কোর্ট অব আপিলস।   টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদের বিচারিক জীবনের এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানদের সাফল্যের গল্পে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করেছে। সিভিল কোর্টের বিচারক থেকে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়া তাঁর দীর্ঘ পেশাগত পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৭:৫১
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়।
ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত

বৈধ ভারতীয় ভিসা বা প্রবেশের অনুমতিপত্র হাতে থাকলেই ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি, ভিসা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে পারে। এসব যাচাইয়ের পর ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের রয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিচারপতি অমিত মহাজন এক তুর্কমেনিস্তানের নাগরিকের করা আবেদন খারিজ করে বলেন, শুধু বৈধ ভিসা থাকার কারণে কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের শর্তহীন বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার অর্জন করেন না। মামলাটির সূত্রপাত ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ। তুর্কমেনিস্তানের ওই নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই বিমানে করে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁর কাছে বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা ছিল। একই ধরনের ভিসা নিয়ে তাঁর স্বামীও তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও ওই নারীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং একই দিন তাঁকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর তিনি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি ছিল, বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন ভারতে ঢুকতে দেওয়া হলো না, তার কারণ জানানো হোক এবং তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক। একই বিমানে থাকা তাঁর স্বামীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁকে দেওয়া হয়নি—এ বিষয়টিকেও তিনি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, কোনো বিদেশি নাগরিককে ভিসা দেওয়া মানেই তাঁকে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চূড়ান্ত অধিকার দেওয়া নয়। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি ও ভিসা পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন মনে করলে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া। আদালতও এই যুক্তিকে গ্রহণ করে। বিচারপতি অমিত মহাজন বলেন, ভারতের প্রচলিত আইনি কাঠামো ভিসাকে ভারতে প্রবেশের ‘পরম ও শর্তহীন অধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করে না। বিদেশি নাগরিকের প্রবেশের বিষয়টি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিবেচনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মামলার শুনানিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই নারীর আগের ভারত সফর এবং তাঁর ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালতের সামনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালে বহুবার ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। এসব সফরের মধ্যে ব্যবসায়িক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ভিসায় করা ভ্রমণও ছিল। কর্তৃপক্ষ তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও ভারতে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু অসঙ্গতির কথা আদালতকে জানায়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যের কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল এবং ভারতে ব্যবসায়িক সফরের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নথি পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু নেতিবাচক তথ্যও কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল বলে আদালতকে জানানো হয়। এর একটি অংশ আদালতের সামনে গোপন নথি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আদালত এসব তথ্য বিবেচনা করে জানায়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যে কোনো ভিত্তি ছাড়া নেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালত আরও বলে, বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত অভিবাসন কর্তৃপক্ষের জায়গায় বসে নিজের মূল্যায়ন চাপিয়ে দিতে পারে না, বিশেষ করে যখন সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য থাকার কথা জানানো হয়েছে। ওই নারীর স্বামীকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হলেও তাঁকে কেন দেওয়া হলো না—এই প্রশ্নও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে আদালত মনে করে, একই বিমানে ভ্রমণ করলেই দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে একই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এমন কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। প্রত্যেক বিদেশি নাগরিকের নথি ও পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ভারতে বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশিবিষয়ক আইন কার্যকর রয়েছে। আইনটি ৪ এপ্রিল ২০২৫ প্রণীত হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ ও বহির্গমন, বিদেশিদের ভিসা, নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি নথিতেও ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশিবিষয়ক আইন, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং আদেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধু ভিসা থাকা নয়, অভিবাসন সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও কর্তৃপক্ষের যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ের অর্থ অবশ্য এই নয় যে বৈধ ভিসাধারী প্রত্যেক বিদেশিকেই ভারতে প্রবেশের সময় আটকে দেওয়া হবে। বরং আদালতের বক্তব্য হলো, ভিসা মূলত ভারতে প্রবেশের অনুমোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি; এটি নিজে থেকেই সীমান্ত পার হওয়ার চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় অধিকার তৈরি করে না। অর্থাৎ কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়ার পরও বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তার যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে পারেন। প্রয়োজনীয় নথি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় সন্তোষজনক না হলে অথবা আইনগত কিংবা নিরাপত্তাজনিত কোনো কারণ থাকলে প্রবেশের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। তবে এই রায়কে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কোনো ভারতীয় ভিসা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মামলাটি তুর্কমেনিস্তানের এক নাগরিককে কেন্দ্র করে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো বিদেশি নাগরিকের বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ক্ষমতা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৭:১৮
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা দুই ইরানি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে দুই ইরানি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   শনিবার (৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ওই দুই ব্যক্তি নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশ অমান্য করার কারণেই তাঁদের বি রু দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য শুক্রবারও নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এরপর তাঁদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের একজন শুক্রবার রাতে এবং অন্যজন শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।   তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রস্থান নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্য এক নয়। এর আগে ইরানকে বহিষ্কারের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘে দেশটির মিশন জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিউইয়র্ক ছেড়েছে।   আনাদোলুর ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ইরানি মিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রতিনিধিদলের সফরের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।   তবে ইরানি মিশনের ওই বক্তব্য ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের আগের প্রস্থান নিয়ে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র যে দুই সদস্যকে নিয়ে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাঁদের বিষয়টি সেই আগের ঘটনার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁদের প্রতিনিধিদলকে কঠোর বিধিনিষেধসহ ভিসা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্ক ছেড়ে যান। তবে আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য সেখানে থেকে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।   এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, চলমান সং ঘা তের অবসান এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর মতো বিষয় উঠে এসেছিল বলে জানা গেছে।   এদিকে, এই ঘটনাকে জাতিসংঘ থেকে ইরানের সদস্যপদ বাতিল কিংবা দেশটির স্থায়ী মিশন বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ এবং সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের দেশত্যাগের বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৬:৫৪
পুঠিয়ার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের প্রধান ফটকে দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া
পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ, স্কুলের ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমিদাতা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে জমি ও চাকরিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া এবং নিজের দান করা জমিতে প্রত্যাশিত টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা না করার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন দাতা সদস্য আজাদ আলী। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ের দরজায় থাকা তালার ওপর নতুন তালা লাগানো এবং বিদ্যালয়ের মাঠ ও ভেতরের ফাঁকা জায়গায় কলাগাছের চারা লাগানোর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।   ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, ৩ অক্টোবর, বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলা ১১টার দিকে আজাদ আলী কয়েকজন লোক নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। এরপর শিক্ষকদের কার্যালয়ের দরজায় আগে থেকে থাকা তালার ওপর আরেকটি তালা লাগানো হয়। পরে প্রধান প্রবেশপথ বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের মাঠের বিভিন্ন জায়গাতেও লাগানো হয় কলাগাছের চারা।   আজাদ আলীর দাবি, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার সময় সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি বিদ্যালয়ের জন্য জমি দেন। তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি দেওয়ার কথাও ছিল বলে দাবি তাঁর।   কিন্তু তাঁর অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত সেখানে তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া, প্রবেশপথ বন্ধ করা এবং মাঠে কলাগাছ লাগানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।   বিদ্যালয়টি ২০১৫ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি ওই পর্যায়ে পূর্ণ অনুমোদন পায়নি।   পরে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ব্যবস্থাপনা কমিটির রেজুলেশনে আজাদ আলীর নামেই উল্লেখ রয়েছে। ফলে জমি ও চাকরির বিরোধের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও এখন আলোচনায় এসেছে।   তবে আজাদ আলীর অভিযোগ মানতে রাজি নয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার দাবি, আজাদ আলী শুরুতে কোনো শর্ত ছাড়াই বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দেওয়ার পর ওই জমিতে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।   প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণের পর জমি প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রি করার সময় আজাদ আলী তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরির দাবি করেন। পরে বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যবস্থাপনা কমিটি তাঁর পরিবারের সদস্যদের চাকরির বিষয়ে সম্মতি দেয়।   তিনি জানান, টেকনিক্যাল বা কলেজ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর প্রথম পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০২২ সালে মারা যান। এরপর আজাদ আলীর ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তাঁর নতুন পুত্রবধূকেও প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।   এ কারণে চাকরির বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আজাদ আলী বলছেন, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁর পরিবারের সদস্যদের চাকরির বিষয়ে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।   জমি, প্রতিষ্ঠানের নাম ও চাকরিকে কেন্দ্র করে বিরোধ শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজাদ আলী ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য তিনি জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি—এমন অভিযোগও মামলায় তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।   মামলা চলমান থাকায় জমি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয়। তবে এর মধ্যেই বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া এবং মাঠে কলাগাছ লাগানোর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। তারপরও সেখানে পাঠদান চলছিল। নতুন করে প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় বিদ্যালয়ে প্রবেশ এবং নলকূপের পানি ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় এক দোকানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।   বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও সেখানে পড়াশোনা করছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষার্থীরা ধাপে ধাপে ওপরের শ্রেণিতে উঠলে পরবর্তী শ্রেণির পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।   বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরেও এসেছে। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানিয়েছেন, বিরোধের পেছনে যে কারণই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা যাবে না।   তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ফিরে গিয়ে বিদ্যালয়টি দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, প্রশাসন সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে বলেও জানান তিনি।   জমি দান, প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন, টেকনিক্যাল কলেজ চালুর পরিকল্পনা এবং পরিবারের সদস্যদের চাকরিকে কেন্দ্র করে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে তৈরি হওয়া বিরোধ এখন সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। একদিকে আজাদ আলীর অভিযোগ ও আদালতে চলমান মামলা, অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাল্টা বক্তব্য। দুই পক্ষের বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৬:৪৫
মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে উচ্ছ্বাসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান মাত্র ১৭ বছর ৫ দিন বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার, ৩ অক্টোবর অ্যারিজোনার গ্লেনডেলের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোল করে এই কীর্তি গড়েন কাভান। ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩–০ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মেজর লিগ সকারের প্রতিবেদনে তাঁর রেকর্ড গড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকোর গোলরক্ষক হোসে রাঙ্গেলের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগান কাভান। বলটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূর থেকে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ এক শটে জালে পাঠান তিনি। ৬২ মিনিটের এই গোলেই ব্যবধান ২–০ করে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল কাভানের প্রথম গোল, আর সেই গোল দিয়েই জায়গা করে নিলেন ইতিহাসের পাতায়।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটি ছিল ম্যাথিস আলবার্টের। চিলির বিপক্ষে ৪–২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মাত্র কয়েক দিন আগে গোল করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন তিনি। কাভান মেক্সিকোর বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচেই সেই রেকর্ড ভেঙে দেন।   মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হল। ২৮ মিনিটে তাঁর গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে কাভান ব্যবধান বাড়ান। শেষ দিকে মালিক টিলম্যানের গোলে ৩–০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।   ম্যাচ শেষে কাভান জানান, ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের হয়ে এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। নিজের ও পরিবারের জন্য এটি বিশেষ একটি মুহূর্ত হলেও দলের জয়কেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এই তরুণ।   কাভানের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্রও বেশ ঘনিষ্ঠ। তাঁর নানি সুলতানা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসতি গড়েছিলেন। তাঁর দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে কাভানের এই সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদেরও রয়েছে পারিবারিক এক যোগসূত্র।   গত ২৬ সেপ্টেম্বর পেরুর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয় কাভানের। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর। অরল্যান্ডোয় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৪–১ গোলে জয় পায়। জাতীয় দলের অভিষেকেও তিনি গড়েছিলেন বয়সের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য এক রেকর্ড।   ক্লাব ফুটবলে কাভান খেলেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে। জাতীয় দলের হয়ে ইতিহাস গড়ার মাত্র কয়েক দিন আগেই সেপ্টেম্বর মাসের মেজর লিগ সকারের মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলেও অল্প সময়ের মধ্যে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন এই তরুণ।   মেক্সিকোর বিপক্ষে এই গোল শুধু কাভানের জাতীয় দলের প্রথম গোলই নয়, এটি তাঁর দ্রুত উত্থানের আরেকটি বড় মাইলফলক। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৬:৩২
এনার্জি ড্রিংক নিয়ে শিশু-কিশোরদের সতর্ক করছেন চিকিৎসক ও অভিভাবকেরা
স্কুলে এনার্জি ড্রিংক খেয়ে ছেলের মৃ ত্যু, অন্য বাবা-মাকে সতর্ক করতে কাজ করছেন পরিবার

স্কুল থেকে ফোন এসেছিল—ছেলেকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হচ্ছে। সেই ফোনকলের কথা আজও ভুলতে পারেননি শন ও হেইডি ক্রাইপ। তাদের ১৬ বছরের ছেলে ডেভিস ক্রাইপ স্কুলে একটি এনার্জি ড্রিংক দ্রুত পান করার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হৃ ৎ যন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় এবং তার মৃ ত্যু হয়।   ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায়। ডেভিসের বাবা শন ক্রাইপ জানান, কিশোরটি মূলত বন্ধুদের মধ্যে নিজেকে কুল দেখানোর চেষ্টা করেই এনার্জি ড্রিংকটি দ্রুত পান করেছিল।   ‘সে একটা এনার্জি ড্রিংক একবারে দ্রুত পান করেছিল—শুধু কুল দেখানোর চেষ্টা করছিল,’ ছেলের সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলেন শন।   ডেভিসের মৃ ত্যুর পর তার পরিবার এখন অন্য বাবা-মা ও কিশোরদের এনার্জি ড্রিংকের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে চাইছে। চিকিৎসকরাও বহু বছর ধরে বলে আসছেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন শিশু ও কিশোরদের জন্য গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।   এ ধরনের পানীয় অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে হৃ ৎ স্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, হৃ ৎ স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, পানিশূন্যতা, অস্থিরতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং খিঁ চু নি র মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।   সম্প্রতি চিকিৎসা পেশাজীবীদের একটি নতুন জোট এই ঝুঁকিগুলো নিয়ে আবারও সতর্ক করেছে। কারণ, মন্সটার এনার্জি ও বিগ ১২ কলেজ অ্যাথলেটিক কনফারেন্সের মধ্যে একটি স্পনসরশিপ চুক্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের ওই দল চুক্তিটি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং তরুণদের কাছে এনার্জি ড্রিংক বাজারজাতের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে এনসিএএকে অনুরোধ করেছে।   চিকিৎসকদের উদ্বেগ শুধু মন্সটার এনার্জিকে ঘিরে নয়। তাদের মতে, একই ধরনের ঝুঁকি সব এনার্জি ড্রিংক এবং এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রচারণার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।   আইডাহোর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ম্যাথিউ নেলসন বলেন, কলেজের বিশ্ববিদ্যালয় ও খেলোয়াড়দের মাধ্যমে এনার্জি ড্রিংকের প্রচার হলে শিশুরা এগুলোকে স্পোর্টস ড্রিংক হিসেবে ভাবতে পারে। অথচ এনার্জি ড্রিংক আর স্পোর্টস ড্রিংক এক জিনিস নয়।   আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সংগঠন শিশু ও কিশোরদের এনার্জি ড্রিংক পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক কিশোর নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ করছে।   ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ‘মনিটরিং দ্য ফিউচার’ জরিপের সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, প্রতিদিন এনার্জি ড্রিংক পান করার কথা জানিয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ২৩ শতাংশ, দশম শ্রেণির ২০ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।   পণ্যের ধরন অনুযায়ী একটি এনার্জি ড্রিংকে ৮০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। তুলনায়, সাধারণ ৮ আউন্স কফিতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। কিছু কোমল পানীয়তে থাকে ৫০ মিলিগ্রাম বা তারও কম।   শিশুদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন গ্রহণের সীমা নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সুপারিশ অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের দিনে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের মধ্যে থাকা উচিত। আরও কম বয়সী শিশুদের ক্যাফেইন না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।   ইন্ডিয়ানার শিশু বিশেষজ্ঞ ও একাডেমিটির পুষ্টি কমিটির চেয়ার ডা. তামারা হ্যানন বলেন, ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদান হৃ ৎ স্পন্দন বাড়ানোর পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত পরিমাণে এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করতে পারে।   ডেভিসের ঘটনাটিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তার আগে কোনো হৃ ৎ যন্ত্রের সমস্যা ছিল না। ঘটনার দিন সে একটি ম্যাকডোনাল্ডসের লাতে এবং একটি মাউন্টেন ডিউ পান করেছিল। এরপর এনার্জি ড্রিংক পান করার পর তার হৃ ৎ স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।   ডেভিস নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক পান করত না। তারপরও তার মৃ ত্যুর ঘটনা পরিবারকে নাড়া দেয়।   ‘আমরা তার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছিলাম এবং জানিয়েছিলাম যে এগুলো স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি যে এগুলো প্রাণঘা তী হতে পারে,’ বলেন শন ক্রাইপ।   অবশ্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকি থাকলেও ক্যাফেইন মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি থামিয়ে দেয়—এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই।   বিশেষ করে আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকা শিশুদের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তবে সুস্থ শিশুরাও অতিরিক্ত উত্তেজক উপাদান গ্রহণ করলে গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারে। তরুণ অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   এনার্জি ড্রিংক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মন্সটার এনার্জি জানিয়েছে, ক্যাফেইন ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয়তেই পাওয়া যায়। কোম্পানিটির দাবি, বিশ্বজুড়ে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এনার্জি ড্রিংক বাজারজাত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ১০০ বিলিয়নের বেশি এনার্জি ড্রিংক বিক্রি ও গ্রহণ করা হয়েছে।   অন্যদিকে আমেরিকান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো পণ্যের লেবেলে ক্যাফেইনের পরিমাণ প্রকাশ করে এবং শিশু, গ র্ভ ব তী নারী ও ক্যাফেইনে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য সতর্কবার্তাও থাকে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা কে-১২ স্কুলে এনার্জি ড্রিংক বিক্রি বা বাজারজাত করে না।   এদিকে বিগ ১২ ও মন্সটার এনার্জির চুক্তির আওতায় ফুটবল ও বাস্কেটবল জার্সি, মাঠ, কোর্ট এবং ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ লোগো ব্যবহারের কথা রয়েছে।   বিগ ১২ জানিয়েছে, কলেজ ক্রীড়ায় এনার্জি ড্রিংক খাত নতুন কোনো বিষয় নয় এবং পানীয় কোম্পানিগুলো নিয়মিত ক্রীড়া দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ খোঁজে।   চিকিৎসকদের জোটের পক্ষ থেকে শিশু ও কিশোরদের জন্য এনার্জি ড্রিংকের ঝুঁকি নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রও শিক্ষক ও কোচদের ক্যাফেইনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি এবং এনার্জি ড্রিংক ও স্পোর্টস ড্রিংকের পার্থক্য সম্পর্কে শিশুদের বোঝানোর পরামর্শ দিয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পোর্টস ড্রিংকের মূল উদ্দেশ্য হলো শারীরিক পরিশ্রমের পর ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি ও ইলেকট্রোলাইট পূরণে সহায়তা করা। অন্যদিকে এনার্জি ড্রিংকে থাকে ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদান।   অভিভাবকদেরও সন্তানরা কী কী পানীয় গ্রহণ করছে, তা নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ছেলের মৃ ত্যুর বছরগুলো পরেও শন ক্রাইপ অন্য পরিবারগুলোকে সতর্ক করতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলে চলেছেন। তার আশা, তাদের পরিবারের কষ্ট ও অভিজ্ঞতা অন্য বাবা-মাকে সচেতন করবে এবং কোনো পরিবারকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৬:১০
সরকারি সুবিধার অর্থ নিয়ে জা লি য়া তির বিরুদ্ধে কঠোর শা স্তির প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
আমেরিকানদের সঙ্গে জা লি য়া তি ঠেকাতে কঠোর ট্রাম্প, ফাঁ কি দিলেই দীর্ঘ জে ল

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করলে এবার কঠোর শা স্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এ ধরনের অ প রা ধে দো ষী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে লের মেয়াদ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে জা লি য়া তির বিষয়টি জানার পরও তা ঠেকাতে ব্যর্থ রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।   শনিবার প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প কংগ্রেসকে এ বিষয়ে নতুন আইন করার আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব কার্যকর হলে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি থেকে অর্থ আ ত্ম সা ৎ করে দো ষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্যারোল বা প্রবেশনে সাজা এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।   ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানদের অর্থ নি য়ে যারা জা লি য়া তি করবে, তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য জে লে যেতে হবে। চু রি করা অর্থের পরিমাণ যত বেশি হবে, শা স্তির মেয়াদও তত বাড়বে বলে জানান তিনি। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার একই ধরনের অ প রা ধে দো ষী হলে তার শা স্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।   শুধু জা লি য়া তিকারীদের বিরুদ্ধেই নয়, বিষয়টি জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি জা লি য়া তির বিষয়টি জানেন এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমেরিকান করদাতাদের যে অর্থ ক্ষ তি হয়েছে, তার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষ্য, এই উদ্যোগের দুটি লক্ষ্য রয়েছে—একদিকে সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করা ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করা, অন্যদিকে যেসব কর্মকর্তা এসব অ নি য় ম দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা।   মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড হলো যোগ্য আমেরিকানদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। অন্যদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির আওতায় অবসরকালীন আয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।   ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার প্রশাসন সরকারি সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত জা লি য়া তির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অ ভি য়ো গ আনে। এসব মামলায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জড়িত থাকার কথা জানানো হয়েছিল।   মার্চে ট্রাম্প ফেডারেল সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি, অপচয় ও অ প ব্যবহারের বিরুদ্ধে কাজ করতে ‘টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড’ গঠন করেন। এর লক্ষ্য হলো সরকারি বিভিন্ন সুবিধা কর্মসূচিতে অ নি য় ম শনাক্ত করা এবং করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা।   তবে ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি। বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে ল এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়ের বিধান কার্যকর করতে কংগ্রেসকে আইন পাস করতে হবে।   ভিডিও বার্তার শেষ দিকে জা লি য়া তিকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এখন থেকে তাদের ওপর নজর রাখা হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:৫৬
নেপালের লাংটাং অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা
নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ৩৭ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার মালয়েশিয়ান পর্যটক

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের ৩৭ দিন পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় খোঁজ মিলেছে এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর তিনি নিরাপদে মালয়েশিয়ায় ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতিতে জানান, ওই পর্যটক নেপালের কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ার দূতাবাসে গিয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে যান।   ৩৭ দিন পর নিখোঁজ ওই পর্যটকের জীবিত থাকার খবর স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। একই সঙ্গে এখনো নিখোঁজ থাকা অন্যদের পরিবারগুলোর মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।   গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে, ভয়াবহ বন্যার এক দিন আগে, ওই পর্যটককে নাগথালি ভিউপয়েন্টে দেখা গিয়েছিল বলে জানানো হয়। পরে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ায় তিনি দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। সেখানে বিদ্যুৎ ও খাবার পানিরও তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল।   হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ও বরফ ধসের পর ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই হিমবাহ ও বরফ ধসের ফলে তৈরি কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল।   এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রা ণ হা নি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভে ঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্গম অঞ্চলগুলোর অনেক জায়গায় রাস্তা ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়।   এর আগে গত ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নেপালের বন্যার পর কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৫৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।   নেপালের পর্যটন দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক তখনো নিখোঁজ ছিলেন।   নিখোঁজদের মধ্যে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক ছিলেন।   ৩৭ দিন পর এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের জীবিত ফিরে আসার খবর তাই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:৪১
ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে পাওয়া ৬.০৩ ক্যারেটের হীরা হাতে জ্যাক পিয়ারাডিন
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে ১২ বছর, অবশেষে মিলল ৬ ক্যারেটের বিশাল হীরা!

মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেছে ১২ বছরেরও বেশি সময়। লক্ষ্য ছিল একটাই—একদিন খুঁজে পাবেন বড় একটি হীরা। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের বিখ্যাত ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে খুঁজতে গিয়ে জ্যাক পিয়ারাডিন পেয়েছেন ৬.০৩ ক্যারেটের একটি বিশাল হলুদ হীরা।   চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পার্কটিতে পাওয়া এটিই সবচেয়ে বড় হীরা। হীরাটি পাওয়ার মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ তখন টিকটকে লাইভ করছিলেন পিয়ারাডিন। মাটি খুঁড়ে পাথরটি হাতে উঠতেই বিস্ময়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘ওহ মাই গড! ওহ মাই গড!’ এরপর আনন্দে বলেন, ‘বড় একটা পেয়ে গেছি!’   পিয়ারাডিন এই হীরাটির নাম দিয়েছেন ‘আমেরিকান ড্রিম’। তার ভাষায়, এটি একটি বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন হলুদ হীরা।   মিসৌরির বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর রিজার্ভ সদস্য পিয়ারাডিন ২০১৩ সালে ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে হীরা খোঁজা শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি এখানে ৩০০টিরও বেশি রত্ন খুঁজে পেয়েছেন। হীরা খোঁজার নেশা এতটাই গভীর হয় যে পার্কের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি মারফ্রিসবরো শহরেও চলে যান।   সর্বশেষ হীরাটি খুঁজে পাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন উইসকনসিনের আরেক রত্ন-সন্ধানী মাইকেল শুমাখার। যে নুড়ি ও মাটির স্তূপ থেকে হীরাটি পাওয়া যায়, সেটি খুঁড়তে শুমাখারও সাহায্য করেছিলেন। পিয়ারাডিন জানিয়েছেন, হীরাটি বিক্রি হলে পাওয়া অর্থের একটি অংশ তিনি শুমাখারের সঙ্গে ভাগ করবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের একটি ক্রিস্টাল খনি খোলার পরিকল্পনাও করছেন।   ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কের গল্পও বেশ চমকপ্রদ। এটি একসময় উন্মুক্ত হীরা খনি ছিল। ১৯৭২ সালে জায়গাটি স্টেট পার্কে পরিণত হয়। বর্তমানে মাত্র ১৫ ডলার প্রবেশমূল্য দিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে পাঁচ গ্যালনের একটি বালতি ভর্তি পাথর নিয়ে হীরা খুঁজতে পারেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কেউ হীরা বা অন্য কোনো মূল্যবান রত্ন খুঁজে পেলে সেটি নিজের কাছে রাখতে পারেন।   পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে এখানে ৩৭ হাজারেরও বেশি হীরা পাওয়া গেছে। প্রতি বছর গড়ে ৪০০ থেকে ৮০০টি হীরা খুঁজে পান দর্শনার্থীরা। তবে সেগুলোর বেশিরভাগের ওজন প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্যারেট।   এর আগে ২০২০ সালে এই পার্কে আরকানসাসের এক ব্যাংক ব্যবস্থাপক ৯ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে এক ফরাসি নাগরিকও এখানে ৭ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পান।   আর এই পার্কেই ১৯২৪ সালে পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হীরা—৪০.২৩ ক্যারেটের ‘আঙ্কল স্যাম’। পরে সেটি কেটে ও পালিশ করে ১২.৪২ ক্যারেটের একটি হীরায় পরিণত করা হয়। বর্তমানে এটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির ‘গ্রেট আমেরিকান ডায়মন্ডস’ প্রদর্শনীতে রাখা আছে।   রত্ন মূল্যায়নকারী লরা স্ট্যানলির মতে, পার্কে পাওয়া গড়ে ০.১৭ ক্যারেটের একটি হীরার দাম প্রায় ৭০০ ডলার হতে পারে। তবে পিয়ারাডিনের পাওয়া ৬ ক্যারেটের উন্নত মানের হলুদ হীরাটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। পিয়ারাডিন অবশ্য জানিয়েছেন, কয়েকজন সংগ্রাহক তাকে বলেছেন, হীরাটির দাম ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।   জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাথান রেনফ্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হীরার দুটি পরিচিত খনি রয়েছে—আরকানসাসের ক্রেটার অব ডায়মন্ডস এবং কলোরাডোর কেলসি লেক। তবে কেলসি লেক ব্যক্তিমালিকানাধীন।   বিশ্বের খুব কম জায়গাতেই সাধারণ মানুষকে নিজে হীরা খোঁজার এবং পাওয়া হীরা নিজের কাছে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই বিরল জায়গাগুলোর একটি ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্ক। আর সেই পার্কেই ১২ বছরের অপেক্ষার পর পিয়ারাডিনের হাতে উঠে এলো তার ‘আমেরিকান ড্রিম’।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:১৮
আমেরিকায় কয়েক মাসের প্রশিক্ষণে নতুন ক্যারিয়ারে আয় ৪০০০ ডলার!
আমেরিকায় কয়েক মাসের প্রশিক্ষণে নতুন ক্যারিয়ারে আয় ৪০০০ ডলার! বাংলাদেশীদের জন্য ৫ কোর্স

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে আইটি সাপোর্ট, সাইবারসিকিউরিটি, ফ্লেবোটমি, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, কমার্শিয়াল ড্রাইভিং ও ডেটা অ্যানালিটিকসের প্রশিক্ষণ বিবেচনা করতে পারেন বাংলাদেশি অভিবাসীরা। এসবের কিছু কোর্স কয়েক মাসে শেষ করা যায় এবং কিছু চাকরিতে কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। তবে কোর্স শেষ করলেই তিন মাসের মধ্যে চাকরি বা মাসে চার হাজার ডলার আয় নিশ্চিত হয় না। কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা, পেশাগত সার্টিফিকেশন এবং নিয়োগদাতার শর্ত আলাদা করে বুঝে নেওয়া জরুরি।   প্রথম বিকল্প গুগলের আইটি সাপোর্ট ও সাইবারসিকিউরিটি সার্টিফিকেট। এগুলো দুটি আলাদা প্রশিক্ষণ। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেক ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট নিজের সুবিধামতো পড়াশোনা করে তিন থেকে ছয় মাসে শেষ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কোর্সের সাবস্ক্রিপশন খরচ মাসে ৪৯ ডলার। ফলে মোট খরচ নির্ভর করে শিক্ষার্থী কত সময়ে কোর্স শেষ করছেন তার ওপর। অনলাইনে পড়ার সুবিধা থাকলেও চাকরির প্রস্তুতির জন্য শেখা বিষয় অনুশীলন এবং সংশ্লিষ্ট পদের নিয়োগশর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।    আইটি সাপোর্টের সব চাকরিতে কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিএলএস। তবে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হয় এবং পদভেদে যোগ্যতা বদলায়। কোর্সে পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া ভর্তি হওয়া সম্ভব হলেও চাকরিতে অভিজ্ঞতা চাওয়া হতে পারে। বিএলএসের ২০২৫ সালের পেশাগত যোগ্যতাসংক্রান্ত তথ্যে কম্পিউটার ইউজার সাপোর্টের ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশ চাকরিতে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। তাই একটি সার্টিফিকেট পেলেই নির্দিষ্ট বেতনের চাকরি পাওয়া যাবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।    দ্বিতীয় বিকল্প ফ্লেবোটমি প্রশিক্ষণ। এই পেশায় রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ল্যাব, রক্তদান কেন্দ্র ও চিকিৎসকের অফিসে ফ্লেবোটমিস্টরা কাজ করেন। বিএলএসের হিসাবে, ২০২৫ সালের মে মাসে এই পেশায় জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৪৫ হাজার ২৩০ ডলার। এটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া প্রত্যেক কর্মীর শুরুর বেতন নয়। প্রশিক্ষণের সময় ও ফি প্রতিষ্ঠানভেদে বদলায়। ভর্তির আগে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগদাতার গ্রহণযোগ্য সার্টিফিকেশনের সুযোগ আছে কি না, তা জানতে হবে।    তৃতীয় বিকল্প সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিএনএ। নিউইয়র্কে নার্সিং হোমের নার্স এইড প্রশিক্ষণে ক্লাসরুম ও ক্লিনিক্যাল অংশ মিলিয়ে অন্তত ১০০ ঘণ্টা থাকতে হয়। অনুমোদিত প্রশিক্ষণ শেষ করার পাশাপাশি নির্ধারিত দক্ষতা পরীক্ষা এবং লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তাই শুধু অনলাইন কোর্স শেষ করাকে সিএনএ হিসেবে কাজের পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন মনে করা যাবে না। বিএলএসের হিসাবে, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্টদের জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল ৪২ হাজার ২৬০ ডলার।    সিএনএ প্রশিক্ষণ রোগীর সেবায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি পথ। তবে এটি শেষ করলেই রেজিস্টার্ড নার্স বা আরএন হওয়া যায় না। আরএন হওয়ার শিক্ষা ও লাইসেন্সের শর্ত আলাদা। একইভাবে হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে চাকরি নিশ্চিত, এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়াও সঠিক নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সার্টিফিকেশন ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।   চতুর্থ বিকল্প কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএলের প্রস্তুতি। ট্রাক বা বাসের ধরন অনুযায়ী লাইসেন্সের শ্রেণি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ভিন্ন হয়। নিউইয়র্কের ডিএমভির নির্দেশনায় কমার্শিয়াল লার্নার পারমিট নেওয়া, যোগ্য চালকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন এবং রোড টেস্টের ধাপ রয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রোড টেস্টের আগে এন্ট্রি লেভেল ড্রাইভার ট্রেনিংও সম্পন্ন করতে হয়। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্সের সনদ পাওয়া এবং ডিএমভির সিডিএল পাওয়া একই বিষয় নয়।    বিএলএসের হিসাবে, ভারী ট্রাক ও ট্র্যাক্টর ট্রেইলার চালকদের জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। তবে কাজের ধরন, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতা অনুযায়ী আয় বদলায়। সিডিএল থাকলেই এমটিএ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি হয় না। লাইসেন্সের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়ার শর্তও পূরণ করতে হয়।    পঞ্চম বিকল্প গুগল ডেটা অ্যানালিটিকস সার্টিফিকেট। এটি ডেটা নিয়ে কাজের প্রাথমিক প্রস্তুতির একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ। গুগলের ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট কর্মসূচির অন্যান্য কোর্সের মতো এটিও নমনীয় সময়ে পড়া যায়। তবে সার্টিফিকেট অর্জন এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের ডেটা অ্যানালিস্ট পদে নির্বাচিত হওয়া আলাদা ধাপ। আবেদন করার আগে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া শিক্ষা, সফটওয়্যার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মিলিয়ে নিতে হবে।    যে প্রশিক্ষণই বেছে নেওয়া হোক, ভর্তির আগে মোট ফি, পরীক্ষার খরচ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও আর্থিক সহায়তার শর্ত লিখিতভাবে জানা প্রয়োজন। বেতনের জাতীয় মধ্যম হিসাবকে নিজের নিশ্চিত আয় ধরে নেওয়া যাবে না। স্বল্পমেয়াদি কোর্সকে চাকরির প্রস্তুতির একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করলে খরচ, সময় ও প্রত্যাশার মধ্যে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:৫
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন, জানুন

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে প্রায় ৯০ কোটি রুপির ঋণ এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে শূন্য ব্যালান্স নিয়ে কঠিন আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের পর অভিনয় ও টেলিভিশনের কাজে মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন তিনি। গত ৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলিউডের এই অভিনেতার আর্থিক বিপর্যয় ও ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।    অমিতাভ ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অমিতাভ বচ্চন করপোরেশন লিমিটেড, সংক্ষেপে এবিসিএল। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি বিনোদনসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবসায় যুক্ত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোম্পানির আর্থিক সমস্যার প্রভাব তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ঋণ তিনি শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করেন।    সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরোনো সাক্ষাৎকারে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, পাওনাদারেরা নিয়মিত বাড়িতে আসতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির বিভিন্ন চুক্তিতে ব্যক্তিগত জামিনদার হওয়ায় ঋণ পরিশোধের দায়ও তাঁর ওপর আসে। ব্যাংকে অর্থ না থাকা এবং কাজের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।    সংকট কাটাতে তিনি আবার নিজের মূল পেশা অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দেন। কাজ চাইতে যান চলচ্চিত্র নির্মাতা যশ চোপড়ার কাছে। এরপর ‘মোহাব্বতে’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। পুরোনো অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, এই ছবির কাজ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে।    চলচ্চিত্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে টেলিভিশন। ২০০০ সালে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র সঞ্চালনা শুরু করেন অমিতাভ। একই বছরে মুক্তি পায় ‘মোহাব্বতে’। এই দুই কাজের পর তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন গতি আসে। পরবর্তী সময়ে অভিনয়, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও বিজ্ঞাপনের কাজের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থান পুনর্গঠন করেন তিনি।    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এ বচ্চন পরিবারের সম্পদের আনুমানিক মূল্য চার হাজার কোটি রুপি উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঙ্ক সম্পদের মূল্যায়ন, ব্যাংকে থাকা নগদ অর্থের হিসাব নয়। প্রায় ৯০ কোটি রুপির ঋণের পুরোনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান আনুমানিক সম্পদের হিসাব মিলিয়ে তাঁর দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিবেদনটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৪:৪৬
শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ
শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৪০ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   রোববার (৪ অক্টোবর) বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ওই দুই কর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন।    দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটটি বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় যেখানে অবস্থান করছিল, সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই বিমানকর্মীর পরিহিত জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বারগুলো পাওয়া যায়।   অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনেও একই পরিমাণ স্বর্ণ এবং প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা আনুমানিক বাজারমূল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, এই চোরাচালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে এবং কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে হেফাজতে নেওয়া দুই কর্মীর নাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: যমুনা টেলিভিশন

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৪:২০
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে এক বছরে আট হাজারের বেশি ধর্ষণ! তালিকার শীর্ষে ইউটাহ
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে এক বছরে আট হাজারের বেশি ধর্ষণ! তালিকার শীর্ষে ইউটাহ

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৪ সালে ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ৩ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে এই সংখ্যা আদালতে প্রমাণিত অপরাধ বা দণ্ডিত ব্যক্তির হিসাব নয়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের হিসাবে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহতে সবচেয়ে বেশি, ১৪৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে ৯৬টি এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ৬৭টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর প্রকাশিত ব্যাখ্যায় এই সংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে ১১০টি এসেছে একজন শিক্ষার্থীর একই সম্পর্কের মধ্যে বারবার যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার অভিযোগ থেকে। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী ঘটনাগুলো জানান। ফলে ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনা মানে ১৪৬ জন পৃথক অভিযোগকারী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অভিযোগকারীর জানানো প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রে ক্লেরি অ্যাক্টের আওতায় উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে রিপোর্ট হওয়া অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হয়। ফেডারেল শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে সর্বশেষ তিন বছরের তথ্য রাখার নিয়ম রয়েছে। এতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন যৌন অপরাধ, ডাকাতি, চুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত অপরাধের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।    এই পরিসংখ্যান বোঝার ক্ষেত্রে অভিযোগ, তদন্ত ও আদালতের রায়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের অপরাধের তথ্য নির্দিষ্ট বছরে ক্যাম্পাস নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পুলিশকে জানানো অভিযোগের হিসাব। এটি অপরাধের বিচার বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা নির্দেশ করে না। আবার অনেক ঘটনা রিপোর্ট না হওয়ায় নথিভুক্ত পরিসংখ্যানও সংঘটিত সব ঘটনার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।    নিউইয়র্কের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যের ক্ষেত্রেও অপরাধের শ্রেণি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের ‘ইনাফ ইজ ইনাফ’ প্রতিবেদনে যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি ডেটিং ভায়োলেন্স, পারিবারিক সহিংসতা ও স্টকিংয়ের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাই এই বিস্তৃত হিসাবকে শুধু ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। ফেডারেল ধর্ষণের পরিসংখ্যান এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার সম্মিলিত সংখ্যা সরাসরি এক করে তুলনা করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।    তথ্যের বছরও বিবেচনায় রাখা জরুরি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও জাতীয় তুলনাটি ২০২৪ সালের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহ ২০২৫ সালের অপরাধসংক্রান্ত নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ২০২৪ সালের তালিকাকে বর্তমান বছরের অপরাধের তালিকা হিসেবে দেখানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বার্ষিক প্রতিবেদনে অপরাধের তথ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তানীতি, প্রতিরোধ কর্মসূচি ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৪:৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর টেক জায়ান্টে ক্যারিয়ার: আশরাফুলের সাফল্যে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর টেক জায়ান্টে ক্যারিয়ার: আশরাফুলের সাফল্যে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করেছেন বলেই যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিংসহ মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগের নির্ধারিত যোগ্যতা, আবেদনকারীর একাডেমিক প্রস্তুতি ও ফান্ডিংয়ের সুযোগের ওপর। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত ভর্তি নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামভিত্তিক শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের কমিটি ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করার প্রস্তুতিতে নিজের ডিগ্রি, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার সঙ্গে নির্বাচিত প্রোগ্রামের শর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি নির্দেশনায় বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা একাডেমিক ফলাফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত বিবৃতি ও অন্যান্য নথির শর্ত রয়েছে। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ যোগ্যতা পূরণ করলেই তার সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা পূরণ হয়েছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না।    ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষাও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনায় আইইএলটিএসের ন্যূনতম স্কোর ৬.৫ উল্লেখ রয়েছে। তবে এই স্কোরকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন শর্ত মনে করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একইভাবে জিআরই সব প্রোগ্রামে বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, তাদের কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট প্রয়োজন হয়।    ভর্তির পাশাপাশি ফান্ডিংয়ের জন্যও আলাদা খোঁজ নেওয়া জরুরি। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও স্কলারশিপ সরাসরি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভর্তির আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগ কীভাবে ফান্ডিং দেয়, তার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন কি না এবং কোন সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়, সেসব বিষয়ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।    অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ পেলেই সব ধরনের ব্যয় একইভাবে কভার হবে, এমন নয়। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনায় সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কথা রয়েছে। কম সময়ের নিয়োগে সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো অফারকে ফুল ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করার আগে টিউশন, অন্যান্য ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং সহায়তার মেয়াদ লিখিত অফারে কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বুঝে নিতে হবে।    প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের যোগ্যতার স্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য বিবরণ তৈরি করা। নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রজেক্ট, গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আবেদনপত্রে তুলে ধরা যায়। তবে কোনো একজনের সিজিপিএ বা পরীক্ষার স্কোর দেখে একই ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কার্যকর সূচনা হলো উপযুক্ত প্রোগ্রাম খুঁজে তার ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের শর্ত বোঝা, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা।   সূত্র: scholarship funding with low CGPA

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৩:৪৪
ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর
ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেলিভারির অর্ডারের অপেক্ষায় মোটরসাইকেলের পাশে বসে কোরআন পড়েন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া। কাজের বিরতিতে তাঁর কোরআন পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় এসেছেন এই ডেলিভারি রাইডার। তবে মনসুর জানিয়েছেন, মানুষের নজরে আসার জন্য নয়, নিজের ধর্মীয় চর্চার অংশ হিসেবেই নিয়মিত কোরআন পড়েন তিনি।   গত ১ অক্টোবর প্রকাশিত খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনসুর প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করছেন। গত পাঁচ মাস ধরে তিনি তালাবাতের ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান উগান্ডায় থাকেন। তাঁদের ভালো জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়ে আমিরাতে এসেছেন তিনি।   ডেলিভারির কাজে দিনের বড় একটি অংশ রাস্তায় কাটে মনসুরের। এক অর্ডার শেষ করে পরবর্তী অর্ডারের অপেক্ষায় কিছুটা সময় পেলেই সঙ্গে রাখা কোরআন খুলে বসেন। মোটরসাইকেলের পাশে বসে তাঁর এমন একটি মুহূর্তের ভিডিওই সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মানুষের নজর কাড়ে।   মনসুরের এই অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর বেদনা। তিনি জানিয়েছেন, বাবা, মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর ধর্মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। প্রায় তিন বছর আগে তিনি কোরআন মুখস্থ করেন। এখন নিয়মিত পড়ার পাশাপাশি মুখস্থ করা অংশগুলো পুনরাবৃত্তি করেন।   কাজের বিরতিতে হাতে কোরআন নিয়ে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন বলে খালিজ টাইমসকে জানিয়েছেন মনসুর। এই সময় তিনি প্রয়াত মা-বাবার জন্যও দোয়া করেন। তাঁদের ক্ষমা এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন তিনি।   পরিবার থেকে দূরে থেকে জীবিকার দায়িত্ব পালন করছেন মনসুর। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই কোরআন পড়ার জন্য সময় রাখেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আগেও এই অভ্যাস ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৩:৪
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!

নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথা নিয়ে ইমার্জেন্সি রুমে যাওয়ার সময় হাসপাতালের বিলের চেয়ে জরুরি হলো দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া। তবে চিকিৎসার পর কত টাকা রোগীকে দিতে হবে, তা বুঝতে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কভারেজ, হাসপাতালে থাকার স্ট্যাটাস, অ্যাম্বুলেন্সের বিল এবং ফলোআপ পরীক্ষার নিয়ম জানা প্রয়োজন। বাংলাদেশি কমিউনিটির পাঠকদের জন্যও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চারটি ভুলের কারণে সবার ১০ হাজার ডলার বিল আসে, এমন নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। হাসপাতালের মোট চার্জ এবং ইন্স্যুরেন্সের হিসাব শেষে রোগীর নিজের পকেট থেকে দেওয়ার টাকা এক বিষয় নয়।   বুকে নতুন বা উদ্বেগজনক ব্যথা, চাপ, শ্বাসকষ্ট কিংবা হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে হাসপাতালের নেটওয়ার্ক খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করার পরামর্শ দেয়। ফেডারেল ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড লেবার অ্যাক্ট অনুযায়ী, আইনটির আওতাধীন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও প্রয়োজনীয় মেডিকেল স্ক্রিনিং এবং জরুরি অবস্থা স্থিতিশীল করার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকার চিকিৎসার সব খরচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাফ করে দেয় না।    প্রথম বিষয় হলো, আউট অব নেটওয়ার্ক হাসপাতালে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা নিলেই রোগীর ওপর পুরো বিল চাপানো যায় না। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস বা সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বেসরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্ট জরুরি চিকিৎসায় অপ্রত্যাশিত আউট অব নেটওয়ার্ক বিল থেকে সুরক্ষা দেয়। সাধারণভাবে রোগীর প্রযোজ্য ইন নেটওয়ার্ক কোপে, কোইন্স্যুরেন্স ও ডিডাক্টিবল থাকতে পারে। তাই ফিডেলিস, হেলথফার্স্ট বা মেট্রোপ্লাসের কার্ড থাকলে নির্দিষ্ট কোনো বেসরকারি হাসপাতালে গেলেই পুরো বিল আউট অব নেটওয়ার্ক হবে, এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। কভারেজ বুঝতে কোম্পানির নামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্ল্যান ও চিকিৎসার ধরন দেখতে হবে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের নিজস্ব সুরক্ষা ও নিয়ম রয়েছে।    দ্বিতীয় বিষয় হলো, হাসপাতালে রাত কাটানো আর ইনপেশেন্ট হিসেবে ভর্তি হওয়া এক নয়। মেডিকেয়ারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অবজারভেশনে থাকা রোগী আউটপেশেন্ট হিসেবে গণ্য হতে পারেন, এমনকি তিনি হাসপাতালে রাত কাটালেও। এই স্ট্যাটাস চিকিৎসার খরচ ও কভারেজে প্রভাব ফেলতে পারে। রোগী বা পরিবারের সদস্য চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন, তাঁকে ইনপেশেন্ট হিসেবে ভর্তি করা হয়েছে, নাকি অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে অবজারভেশন মানেই ইন্স্যুরেন্স চিকিৎসার খরচ দেবে না, এমন নয়। মেডিকেয়ার পার্ট বি অনেক আউটপেশেন্ট সেবা কভার করে। নিজের প্ল্যানের নিয়ম এবং হাসপাতালের দেওয়া নোটিশ বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।    তৃতীয় বিষয় হলো অ্যাম্বুলেন্সের বিল। ফেডারেল নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্টের সাধারণ বিলিং সুরক্ষা গ্রাউন্ড অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের সম্পূর্ণ চার্জ নিজে দিতে হবে। ইন্স্যুরেন্স কভারেজ ও প্রযোজ্য অন্যান্য নিয়ম অনুযায়ী রোগীর দায় নির্ধারিত হয়। অ্যাম্বুলেন্সের বিল এলে কোন সংস্থা সেবা দিয়েছে, ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম জমা পড়েছে কি না এবং রোগীর অংশ কত, তা সংশ্লিষ্ট বিলিং অফিস ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে জানতে হবে। হাসপাতালের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স অনুমোদিত হলেই আলাদা অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানির বিলও মাফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।    চতুর্থ বিষয় হলো ফলোআপ পরীক্ষা কোথায় এবং কখন করা নিরাপদ। চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করা যায়, পরবর্তী পরীক্ষা আউটপেশেন্ট ক্লিনিকে করা সম্ভব কি না এবং কত দিনের মধ্যে তা প্রয়োজন। কিন্তু ব্যথা কমেছে বা প্রাথমিক পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে বলে নিজে থেকে হাসপাতাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বুকের ব্যথার মূল্যায়নে চিকিৎসকেরা উপসর্গ, পরীক্ষার ফল এবং সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনা করেন। কম ঝুঁকির রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি অতিরিক্ত পরীক্ষা সবসময় প্রয়োজন নাও হতে পারে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিতে হয়। স্ট্রেস টেস্ট কোথায় করালে নির্দিষ্ট কত টাকা বাঁচবে, তাও সবার জন্য এক নয়।    চিকিৎসা শেষে বড় বিল এলে খরচের বিস্তারিত বিবরণ বা আইটেমাইজড বিল চাওয়া এবং ইন্স্যুরেন্সের হিসাবের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা কার্যকর পদক্ষেপ। কোন সেবার জন্য চার্জ এসেছে, ইন্স্যুরেন্স কত দিয়েছে এবং রোগীর কত দেওয়ার কথা, তা পরিষ্কার করতে হবে। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের সেবার জন্য পৃথক বিলও আসতে পারে। জরুরি চিকিৎসায় অপ্রত্যাশিত আউট অব নেটওয়ার্ক বিল পেলে হাসপাতাল ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে বিল পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা যায়। নিউইয়র্কের ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কাছেও এ বিষয়ে সহায়তা চাওয়া যায়। বিল উপেক্ষা না করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।    বিল পরিশোধে অসুবিধা হলে হাসপাতালের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে হবে। নিউইয়র্কের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য রোগীদের সহায়তা নির্ধারণে পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও ইন্স্যুরেন্স পরিস্থিতি বিবেচিত হয়; ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের রোগীরা নির্দিষ্ট শর্তে সহায়তার যোগ্য হতে পারেন। তাই বার্ষিক আয় ৫০ হাজার ডলারের নিচে হলেই সবার সব বিল মাফ হবে, এমন নিয়ম নেই। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের ফিন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ১-৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে কল করে ৩ নম্বর অপশন নির্বাচন করা যায়। তাদের সহায়তার আবেদন পর্যালোচনাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধ করতে বলা হবে না বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২:৫৫
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় এখনো বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় এখনো বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এক নারী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে খুঁজছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই। ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবরের ওই ঘটনার ৩০ বছর পরও সংস্থার ওয়ান্টেড তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। এফবিআইয়ের ফিলাডেলফিয়া কার্যালয় তাঁকে সহিংস অপরাধসংক্রান্ত তালিকায় রেখেছে।    এফবিআইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বড় হাসপাতালে ঘটে। অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত জাহিদুল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠতে থাকা এক নারী রোগীকে ওষুধ দিয়ে ঝিমিয়ে ফেলেন এবং হাসপাতালের কক্ষে তাঁকে ধর্ষণ করেন।    তাঁর বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অভিযোগ আনার পর ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বিচার এড়াতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও এফবিআইয়ের নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।    জাহিদুলের নাম এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় থাকলেও তাঁকে সংস্থার বিশেষ ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকার সদস্য হিসেবে দেখানো হয়নি। ফিলাডেলফিয়া কার্যালয়ের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে ‘অ্যাডিশনাল ভায়োলেন্ট ক্রাইমস’ বিভাগে।    এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার মন্ট্রিয়লে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি চিকিৎসক স্ত্রীর সঙ্গে চলাফেরা করতে পারেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।    সংস্থাটি জাহিদুলকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনার সতর্কতা দিয়েছে। তাঁর সম্পর্কে তথ্য থাকলে স্থানীয় এফবিআই কার্যালয় অথবা নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২:২৬
তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড
তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড

ইরানের রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে বড় বড় বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। কোনো ছবিতে ট্রাম্পের মুখ সেলাই করা, আবার কোথাও মার্কিন ড্রোনের ওপর পা রেখে দাঁড়িয়ে আছেন এক ইরানি সেনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ঘটনাগুলোকে নিজেদের অবস্থান থেকে তুলে ধরতে এসব ছবি ব্যবহার করছে ইরান।   তেহরানের ভালিয়াসর স্কয়ারের একটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখ বন্ধ অবস্থায় দেখানো হয়েছে। মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির মানচিত্রের আদল রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে তৈরি পরিস্থিতির বার্তাই ছবিটিতে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিলবোর্ডটির নির্মাতারা জানিয়েছেন। এটি স্থাপন করা হয়েছিল গত মে মাসে।   আরেকটি সাম্প্রতিক বিলবোর্ডে পানির নিচে চলতে সক্ষম একটি মার্কিন ড্রোনের ওপর ইরানি সেনাকে পা রেখে দাঁড়াতে দেখা যায়। হরমুজ প্রণালিতে এমন একটি ড্রোন আটক করার যে দাবি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস করেছে, বিলবোর্ডটি সেই দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি। ছবিটি নিজে ড্রোন আটক হওয়ার স্বাধীন প্রমাণ নয়।    এএফপির প্রতিবেদক বিলবোর্ড তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজের প্রক্রিয়া দেখেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোস্তফা কাফায়ি জানান, নতুন কোনো ঘটনার পর তাঁর দল দ্রুত ছবি ও বার্তা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা দলও রয়েছে। এসব বিলবোর্ড সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত হচ্ছে বলে এএফপি জানিয়েছে।   সব বিলবোর্ড একই সময়ে তৈরি হয়নি। এএফপির প্রতিবেদনে চলতি বছরের মে, জুলাই ও আগস্টে তেহরানে দেখা ছবির পাশাপাশি নতুন বিলবোর্ডের কথাও রয়েছে। ডিজাইনারদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সড়কের দৃশ্যমান জায়গাগুলোতে নতুন বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে। (arabnews.com)   সূত্র: ৪ অক্টোবর ২০২৬-এ আরব নিউজে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:৫২
সৌদি আরবের মদিনায় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা
সৌদি আরবের মদিনায় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

সৌদি আরবের মদিনায় তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। আজ রোববার, ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঢাকার পূর্ণ সংহতির কথা জানানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথিদের দায়ী করলেও গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করেছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডেরও বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ।   হামলাটি ঘটে গত মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ১ অক্টোবর জানায়, মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন আঘাত হেনেছে। জোটের দাবি, উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হামলায় হুথিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।   জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হলেও মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। মসজিদে নববীতে সরাসরি হামলা হয়েছে, এমন কথা সৌদি জোটের বিবৃতিতে বলা হয়নি।   অন্যদিকে হুথিদের একটি সামরিক সূত্র সৌদি জোটের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথি পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তারা মদিনার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। ফলে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।   বাংলাদেশের আগে পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়েছে আজ; হামলা এবং এ বিষয়ে সৌদি জোটের অভিযোগ কয়েক দিন আগের।    সূত্র: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি নিয়ে ইউএনবির প্রতিবেদন; সৌদি প্রেস এজেন্সি ও রয়টার্স।  

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে একটি আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞানের ক্লাস করার পাশাপাশি ভুট্টা তোলে, পশুর যত্ন নেয়, বাসন ধোয়। মিল্টন একাডেমির অধিভুক্ত মাউন্টেন স্কুলে ২০২৬ সালের শরৎ ও ২০২৭ সালের বসন্ত সেমিস্টারের নির্ধারিত ফি ৩৯ হাজার ৭৫০ ডলার। খামারের কাজ ও উচ্চ ফি নিয়ে ৩ অক্টোবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   ভারমন্টের ভারশায়ারে ৪১৮ একর জায়গাজুড়ে স্কুলটির কার্যক্রম। দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সেখানে একটি সেমিস্টার পড়তে পারে; অধিকাংশই একাদশ শ্রেণির। স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রচলিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে খামার, বন ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে।   শিক্ষার্থীরা সাধারণত সপ্তাহে প্রায় আট ঘণ্টা খামারের কাজে অংশ নেয়। ফসল তোলা, ভেড়া ও গরুর দেখাশোনা এবং কাঠ কাটার পাশাপাশি রান্নাঘর ও শ্রেণিকক্ষের কাজও ভাগ করে করতে হয়। একই সময়ে অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট বা এপি ক্যালকুলাসের মতো বিষয় পড়ার সুযোগ থাকে। ফলে প্রায় ৪০ হাজার ডলার শুধু কৃষিকাজ শেখার ফি নয়; এটি পূর্ণ আবাসিক শিক্ষাক্রমের নির্ধারিত খরচ।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফি থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম, শিক্ষা সফর, বই, পাঠ্য উপকরণ ও দলগত কর্মসূচির ব্যয় মেটানো হয়। তবে যাতায়াতের খরচ পরিস্থিতিভেদে আলাদা হতে পারে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবিমা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে বাইরে ব্যবহারের সরঞ্জাম স্কুল থেকে ধার নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।   পূর্ণ ফি সব পরিবারকে দিতে হয় না। মাউন্টেন স্কুল আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেয়, যা ফেরত দিতে হয় না। স্কুলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ভর্তি মৌসুমে গৃহীত শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশকে এমন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে স্কুলটির পরিচালকের দেওয়া হিসাবে, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা পায়।   খামারে কাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি রয়েছে। সেমিস্টারের শুরুতে তাঁদের ফোন জমা দিতে হয়; ল্যাপটপ মূলত পড়াশোনার জন্য ব্যবহার করা যায়। কয়েক দিনের প্রকৃতিনির্ভর একক ভ্রমণও কর্মসূচির অংশ। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এসব অভিজ্ঞতার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নিজের কাজের দায়িত্ব নেওয়া এবং অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শেখানো।   কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আশা করেন, ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতা কলেজে ভর্তির আবেদনে কাজে আসবে। স্কুলও আবেদন ও প্রবন্ধ লেখায় পরামর্শ দেয়। তবে ভর্তি পরামর্শক অ্যাডাম নগুয়েন বলেছেন, শুধু ব্যয়বহুল একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কলেজে বাড়তি সুবিধার নিশ্চয়তা দেয় না। শিক্ষার্থীর নিজের আগ্রহ ও শেখার লক্ষ্যটির সঙ্গে কর্মসূচির সম্পর্ক থাকাই তাঁর মতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: মাউন্টেন স্কুলের ফি ও কর্মসূচির তথ্য।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:১২