সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে একটি আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞানের ক্লাস করার পাশাপাশি ভুট্টা তোলে, পশুর যত্ন নেয়, বাসন ধোয়। মিল্টন একাডেমির অধিভুক্ত মাউন্টেন স্কুলে ২০২৬ সালের শরৎ ও ২০২৭ সালের বসন্ত সেমিস্টারের নির্ধারিত ফি ৩৯ হাজার ৭৫০ ডলার। খামারের কাজ ও উচ্চ ফি নিয়ে ৩ অক্টোবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   ভারমন্টের ভারশায়ারে ৪১৮ একর জায়গাজুড়ে স্কুলটির কার্যক্রম। দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সেখানে একটি সেমিস্টার পড়তে পারে; অধিকাংশই একাদশ শ্রেণির। স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রচলিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে খামার, বন ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে।   শিক্ষার্থীরা সাধারণত সপ্তাহে প্রায় আট ঘণ্টা খামারের কাজে অংশ নেয়। ফসল তোলা, ভেড়া ও গরুর দেখাশোনা এবং কাঠ কাটার পাশাপাশি রান্নাঘর ও শ্রেণিকক্ষের কাজও ভাগ করে করতে হয়। একই সময়ে অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট বা এপি ক্যালকুলাসের মতো বিষয় পড়ার সুযোগ থাকে। ফলে প্রায় ৪০ হাজার ডলার শুধু কৃষিকাজ শেখার ফি নয়; এটি পূর্ণ আবাসিক শিক্ষাক্রমের নির্ধারিত খরচ।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফি থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম, শিক্ষা সফর, বই, পাঠ্য উপকরণ ও দলগত কর্মসূচির ব্যয় মেটানো হয়। তবে যাতায়াতের খরচ পরিস্থিতিভেদে আলাদা হতে পারে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবিমা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে বাইরে ব্যবহারের সরঞ্জাম স্কুল থেকে ধার নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।   পূর্ণ ফি সব পরিবারকে দিতে হয় না। মাউন্টেন স্কুল আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেয়, যা ফেরত দিতে হয় না। স্কুলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ভর্তি মৌসুমে গৃহীত শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশকে এমন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে স্কুলটির পরিচালকের দেওয়া হিসাবে, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা পায়।   খামারে কাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি রয়েছে। সেমিস্টারের শুরুতে তাঁদের ফোন জমা দিতে হয়; ল্যাপটপ মূলত পড়াশোনার জন্য ব্যবহার করা যায়। কয়েক দিনের প্রকৃতিনির্ভর একক ভ্রমণও কর্মসূচির অংশ। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এসব অভিজ্ঞতার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নিজের কাজের দায়িত্ব নেওয়া এবং অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শেখানো।   কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আশা করেন, ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতা কলেজে ভর্তির আবেদনে কাজে আসবে। স্কুলও আবেদন ও প্রবন্ধ লেখায় পরামর্শ দেয়। তবে ভর্তি পরামর্শক অ্যাডাম নগুয়েন বলেছেন, শুধু ব্যয়বহুল একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কলেজে বাড়তি সুবিধার নিশ্চয়তা দেয় না। শিক্ষার্থীর নিজের আগ্রহ ও শেখার লক্ষ্যটির সঙ্গে কর্মসূচির সম্পর্ক থাকাই তাঁর মতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: মাউন্টেন স্কুলের ফি ও কর্মসূচির তথ্য।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:১২
চীনে ৩০ কোটি ডলারের সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
চীনে ৩০ কোটি ডলারের সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে চীনে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার সার্ভার পাঠানোর অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর গ্রেগ লুই নামের ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় বিচার বিভাগ। তিনি ইউ কং লুই নামেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী লুই ‘আর্থমেড কম্পিউটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগগুলো হলো রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচার এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লুই ও তাঁর সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস প্রসেসরযুক্ত সার্ভার কেনেন। এসব প্রযুক্তি চীনে পাঠাতে মার্কিন সরকারের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মার্কিন সরবরাহকারীদের দেওয়া নথিতে সার্ভারগুলোর শেষ গন্তব্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দেখিয়ে সেগুলো প্রথমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পরে সেখান থেকে সার্ভারগুলো চীনে পুনরায় রপ্তানি করা হয়।   বিচার বিভাগ একটি নির্দিষ্ট চালানের বিবরণও দিয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লুই প্রায় ৭৬ লাখ ডলারে ২৭টি সার্ভার কেনার অর্ডার দেন এবং সেগুলো লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাঠানো হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে এক সহযোগীর ইমেইলে ওই সার্ভারগুলো চীনের একজন ক্রেতার কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ ছিল।   বিচার বিভাগের দাবি, এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে লুইয়ের প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াভিত্তিক দুটি চালান প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছে। এই অর্থপ্রাপ্তির হিসাব এবং অভিযোগে উল্লেখ করা ৩০ কোটি ডলারের বেশি সার্ভারের মূল্য এক বিষয় নয়।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এসব প্রসেসর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এ ধরনের প্রযুক্তি রপ্তানিতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে বিধিনিষেধ রয়েছে। মামলাটি এফবিআই, বাণিজ্য বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা দেখছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্র দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ নয়; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লুই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ১ অক্টোবর ২০২৬ সালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি; রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ০:৫৮
আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক হোটেলসহ ৬ দিনের প্যাকেজ ৭৪৯ ডলার
আমট্রাকে শরৎকালীন ভ্রমণ: আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক হোটেলসহ ৬ দিনের প্যাকেজ ৭৪৯ ডলার থেকে

শরতের মনোরম পরিবেশে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি ঘুরে আসতে আগ্রহীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণ প্যাকেজ সামনে এসেছে। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট ট্রেনে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি যাতায়াত, হোটেলে থাকা এবং শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ নিয়ে এই রাউন্ডট্রিপ প্যাকেজের মেয়াদ ছয় দিন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজটির মূল্য শুরু হচ্ছে ৭৪৯ ডলার থেকে।    ৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিক্রেট আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজটিতে মোট তিন রাত হোটেলে থাকার পাশাপাশি দুই রাত আমট্রাক ট্রেনে কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি পর্যন্ত যাতায়াত হবে আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুটে। ফলে গাড়ি চালানো বা দীর্ঘ সময়ের হাইওয়ে ট্রাফিকের ঝামেলা এড়িয়ে ট্রেনেই পূর্ব উপকূলের শরৎকালীন দৃশ্য উপভোগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সুযোগ থাকছে।    প্যাকেজের আরেকটি আকর্ষণ হলো নিউইয়র্ক সিটির বহুদিনের হপ-অন, হপ-অফ দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ। এর আওতায় ইউনিয়ন স্কয়ার, রকফেলার সেন্টার, লিটল ইতালি, চায়নাটাউন, সোহো, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো জনপ্রিয় স্থান দেখার সুযোগ রয়েছে। ফলে যারা প্রথমবার নিউইয়র্ক ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণগুলো একসঙ্গে দেখার সুবিধা তৈরি হচ্ছে।    শরৎকালে এই ট্রেনযাত্রার বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকার পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক দৃশ্য। শরতের পাতার রঙ বদলের সময় ট্রেনে ভ্রমণ করলে রাস্তার পরিবর্তে জানালার পাশ থেকে দীর্ঘ পথের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুট আটলান্টা ও নিউইয়র্কের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীসেবা পরিচালনা করে এবং আমট্রাক ভ্যাকেশনস বিভিন্ন শহরকে কেন্দ্র করে ট্রেনভিত্তিক ভ্রমণ প্যাকেজও তৈরি করে।    তবে ৭৪৯ ডলারের মূল্যটি সর্বনিম্ন বা শুরু মূল্য। নির্দিষ্ট ভ্রমণের তারিখ, আসন, হোটেলের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য বুকিং শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ৭৪৯ ডলারের মূল্যকে সব তারিখের জন্য নির্ধারিত মূল্য হিসেবে না দেখে প্যাকেজটির প্রাথমিক মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।    আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কে শরৎকালীন ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পরিবার, দম্পতি কিংবা বন্ধুদের জন্য তাই এই প্যাকেজটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক একটি বিকল্প হতে পারে। ছয় দিনের রাউন্ডট্রিপে ট্রেনযাত্রা, হোটেলে থাকা এবং নিউইয়র্কের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ থাকায় একই ভ্রমণে যাতায়াত ও থাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ০:৪৮
ওয়াশিংটনে খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে সোয়া লাখ মানুষ
ওয়াশিংটনে খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে সোয়া লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কাজের নতুন শর্ত পূরণ করতে না পারলে প্রায় সোয়া লাখ মানুষের খাদ্য সহায়তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তার দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতে কিরো ৭ জানিয়েছে, প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার বাসিন্দা এ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। অঙ্গরাজ্যের বাজেট নথিতেও কাজের শর্তের আওতা বৃদ্ধি ও ছাড়ের সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের খাদ্য সহায়তা হারানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।   পরিবর্তনগুলো এসেছে ২০২৫ সালে পাস হওয়া কেন্দ্রীয় আইন এইচআর ১ থেকে। ওয়াশিংটনে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা ‘বেসিক ফুড’ নামে পরিচালিত হয়। নতুন নিয়মে কাজ করতে সক্ষম ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী আরও বেশি মানুষ কাজের শর্তের আওতায় পড়ছেন। আগে এই বিশেষ শর্তের ঊর্ধ্ব বয়সসীমা ছিল ৫৪ বছর। গৃহহীন ব্যক্তি, সাবেক সেনাসদস্য এবং ফস্টার কেয়ার থেকে বেরিয়ে আসা কিছু তরুণের জন্য আগে যে ছাড় ছিল, সেটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।   যাঁদের ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য, তাঁদের সাধারণত মাসে ৮০ ঘণ্টা কাজ, অনুমোদিত প্রশিক্ষণ বা অন্য নির্ধারিত কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। শর্ত পূরণ না করলে ৩৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন মাস খাদ্য সহায়তা পাওয়ার সীমা কার্যকর হতে পারে। তবে গর্ভবতী ব্যক্তি, কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি এবং পরিবারের ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য খাদ্য সহায়তা গ্রহণকারীসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ ছাড় পেতে পারেন।   ওয়াশিংটনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, সুবিধাভোগীর পরবর্তী যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় তিনি ছাড়ের আওতায় পড়েন কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে কাজের শর্ত লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হবে। এই যাচাইয়ের আগেই শুধু নতুন কাজের শর্তের কারণে কারও বেসিক ফুড বন্ধ হবে না। পরিবারের একজন অযোগ্য বিবেচিত হলেও অন্য সদস্যদের সহায়তা চালু থাকতে পারে।   অভিবাসীদের ক্ষেত্রে খাদ্য সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিমার নিয়ম আলাদাভাবে বদলেছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি ও অন্য অভিবাসী আগেই কেন্দ্রীয় স্ন্যাপ থেকে অঙ্গরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে স্থানান্তরিত হয়েছেন। সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বলছে, এ পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের নতুন করে আবেদন করতে হয়নি। তবে অঙ্গরাজ্যের খাদ্য সহায়তায় স্থানান্তর হওয়া মানেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমাও বহাল থাকবে, এমন নয়।   ১ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ওয়াশিংটনের মেডিকেইড কর্মসূচি ‘অ্যাপল হেলথ’-এর যোগ্যতা সীমিত হয়েছে। অঙ্গরাজ্য সরকারের সর্বশেষ হিসাবে, এতে প্রায় ১১ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে আদালতের একটি আদেশে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম পাওয়া ৮০০ জনের বেশি বাসিন্দার অ্যাপল হেলথ কভারেজ আপাতত সুরক্ষিত রয়েছে।   স্বাস্থ্যবিমার সব পরিবর্তন একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। কিং কাউন্টির সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক অ্যাপল হেলথ সুবিধাভোগীর জন্য কাজের শর্ত ও ছয় মাস অন্তর যোগ্যতা যাচাই শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। অনেক চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ ৩৫ ডলার পর্যন্ত কো-পে চালুর নির্ধারিত তারিখ ২০২৮ সালের ৮ অক্টোবর। কিরো ৭-এর প্রতিবেদনে কো-পের সময় নিয়ে দেওয়া তথ্য কাউন্টির সরকারি সময়সূচির সঙ্গে মেলে না।    যাঁরা খাদ্য সহায়তা পান, তাঁদের সময়মতো যোগ্যতা যাচাই সম্পন্ন করতে এবং নিজের তথ্য হালনাগাদ রাখতে বলেছে সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বেসিক ফুডের নিয়ম জানতে ৮৭৭-৫০১-২২৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। কিং কাউন্টিতে স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সহায়তার নম্বর ৮০০-৭৫৬-৫৪৩৭।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ০:৩০
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
নির্দেশের পরও নিউইয়র্কে থাকা ইরানের দুই প্রতিনিধিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করলেন মার্কিন প্রশাসন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার দাবি, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তাঁরা নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। একজন শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে, অন্যজন শনিবার সকালে চলে যান। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে গত সোমবার ইরানের জাতিসংঘ মিশনকে প্রতিনিধিদলের সবাইকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। শুক্রবার দুই সদস্যের নিউইয়র্কে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের চলে যাওয়ার নির্দেশ আবার জানায় ওয়াশিংটন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা তাঁদের ‘বের করে দেওয়া হয়েছে’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফা নির্দেশের পর দুজন পৃথক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। তাঁদের জোরপূর্বক দেশ থেকে সরানোর কোনো বিবরণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেয়নি।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকেও নির্ধারিত সময়ের আগে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে এপি।   তবে মূল প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কারের আগের মার্কিন দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের জাতিসংঘ মিশন। তাদের বক্তব্য, আগে থেকে জানানো সফরসূচি অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক ছেড়েছে। সর্বশেষ যে দুই সদস্য শুক্রবার ও শনিবার দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের বিষয়ে ইরানের পৃথক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২৩:৪৮
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট

বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না। তুর্কমেনিস্তানের এক নারীকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় করা আবেদন খারিজ করে ৩০ সেপ্টেম্বর এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অমিত মহাজন। আদালত বলেছেন, ভিসা দেওয়া এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া পৃথক সিদ্ধান্ত।   মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী গত ২৫ মার্চ স্বামীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দুজনেরই একই ধরনের ব্যবসায়িক ভিসা ছিল। অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁর স্বামীকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাঁকে দেননি। সেদিনই তাঁকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।   এরপর ওই নারী আদালতে আবেদন করে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং তাঁর ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ চান। তাঁর যুক্তি ছিল, বৈধ ভ্রমণ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছে; অথচ একই ফ্লাইটে আসা তাঁর স্বামী প্রবেশ করতে পেরেছেন।   ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আদালতে জানায়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়ার পর অভিবাসন বিভাগ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। বেশির ভাগ সফরের মেয়াদ ছিল এক থেকে তিন দিন; তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।   আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, উপস্থাপিত নথিতে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসংগতি ছিল। ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসার কথা বললেও তিনি ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা আমন্ত্রণপত্র দেখাতে পারেননি এবং নিজ দেশে তাঁর ব্যবসা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি। ব্যবসায়িক ভিসা নেওয়ার পরও একটি নথিতে নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এসব বিষয় আদালত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় বিবেচনা করেছে।   বিচারপতি মহাজন বলেছেন, ভারতের অভিবাসন আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকের জন্য বৈধ ভ্রমণ নথি ও ভিসা প্রয়োজন। কিন্তু সেগুলো থাকলেই প্রবেশের নিঃশর্ত অধিকার তৈরি হয় না। জাতীয় নিরাপত্তা, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জনস্বাস্থ্যের মতো নির্দিষ্ট বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ প্রবেশে বাধা দিতে পারে। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারাও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারেন।   স্বামীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও স্ত্রীকে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে বৈষম্য হিসেবে মানেননি আদালত। আদেশে বলা হয়, দুজন একই ফ্লাইটে এসেছেন বলেই তাঁদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একই তথ্য বা উদ্বেগ ছিল, এমন ধরে নেওয়া যায় না। আদালত গোপনীয়ভাবে জমা দেওয়া নথিও পর্যালোচনা করেছে এবং সিদ্ধান্তটি তথ্য ছাড়া নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেনি। ফলে আবেদনটি খারিজ করা হয়।   সূত্র: দিল্লি হাইকোর্টের ৩০ সেপ্টেম্বরের আদেশ ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২৩:১৬
সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল মিলনমেলা
২৮ নতুন মুখ, ১৫০ অতিথি, সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬। কলাম্বিয়ার গিবসন পন্ড পার্কে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১৫০ জন নিবন্ধিত অতিথি অংশ নেন। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নতুন ভর্তি হওয়া ২৮ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো।   ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী সদস্য রয়েছে এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সাউথ ক্যারোলিনার বৃহত্তর কমিউনিটির কাছে তুলে ধরাও সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।   গিবসন পন্ড পার্কে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন। অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় গরম সবজি সিঙ্গারা দিয়ে। এরপর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং পার্কের পুকুর, বোর্ডওয়াক, হাঁটার পথ ও সবুজ পরিবেশ ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে সময় কাটান অংশগ্রহণকারীরা।   দুপুরে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। পোলাও, চিকেন রোস্ট, মিশ্র সবজি, ডিম ও সালাদসহ নানা পদ নিয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে একসঙ্গে বসেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা। খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন থাকায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।   আয়োজনে দম্পতিদের জন্য বেলুন রেস, পুরুষদের জন্য মার্বেল রেস, নারীদের জন্য পিলো পাসিং এবং শিশুদের জন্য বিস্কুট রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাগুলো ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। খেলায় অংশ নেওয়া ও অন্যদের উৎসাহ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে তৈরি হয় প্রাণবন্ত যোগাযোগ।   সাংস্কৃতিক পর্বেও ছিল বৈচিত্র্য। নতুন যোগ দেওয়া শিক্ষার্থী ঐশী জ্যোতির পরিবেশনার পর বাবা-ছেলের জুটি আনন্দ ও তাহমিদ ভাই সংগীত পরিবেশন করেন। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও কমিউনিটির বন্ধনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।   অনুষ্ঠানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল ২০২৬ সালের নতুন ২৮ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণাভ দাস নবাগতদের উদ্দেশে একটি বিশেষ কবিতা রচনা করেন এবং অনুষ্ঠানে তা আবৃত্তি করেন। নতুন শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা, কলাম্বিয়া এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটির নতুন পরিবারের অংশ হিসেবে স্বাগত জানানোর এই আয়োজন উপস্থিতদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।   এরপর বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার রফিকুল ইসলাম রানা নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে উপহার দিয়ে স্বাগত জানান। নতুন শিক্ষার্থীরাও একে একে নিজেদের পরিচয় দেন এবং কলাম্বিয়ার বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হন। আয়োজকদের আশা, এই পরিচয়পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তি আরও শক্ত হবে।   বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহরিমা মোহসিন মোহনা ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনের গত এক বছরের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন এবং আগামী বছরেও কমিউনিটির সদস্যদের নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শেষদিকে ছিল র‍্যাফেল ড্র। এ বছর মোট ১৫টি র‍্যাফেল পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে আগের বছরগুলোতে পুরস্কারের সংখ্যা ছিল ১০টি। পাশাপাশি এবার যুক্ত করা হয় দুটি বিশেষ পুরস্কার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয় একটি রেজিস্ট্রেশন ডোর প্রাইজ। এ ছাড়া নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি র‍্যাফেল টিকিট বিক্রি করা ফ্রেশারকেও দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার।   আয়োজকদের মতে, ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভার মূল লক্ষ্য ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। বাংলাদেশি খাবার, সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে পারস্পরিক যোগাযোগ ও কমিউনিটি বন্ধনের একটি বিশেষ আয়োজন।   ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের পেছনে যারা পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবা, রান্না, খাবার পরিবেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ছবি তোলা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে সময় দিয়েছেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আয়োজনটি সফল হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস ও কলাম্বিয়ায় একটি পরিচিত ও আপন পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে আয়োজিত এই মিলনমেলা শুধু ফ্রেশার্স সংবর্ধনা বা বার্ষিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুরোনো বন্ধুদের পুনর্মিলন, নতুনদের সঙ্গে পরিচয়, বাংলাদেশি সংস্কৃতির উদযাপন এবং কমিউনিটির পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির জন্য একটি স্মরণীয় আয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২২:৫০
ভারতে পর্যটন কেন্দ্রের ইসরায়েলি ক্যাফেতে ভারতীয়দেরই প্রবেশে বাধা
ভারতে পর্যটন কেন্দ্রের ইসরায়েলি ক্যাফেতে ভারতীয়দেরই প্রবেশে বাধা

ভারতের হিমাচল প্রদেশের কয়েকটি পর্যটন এলাকায় ভারতীয়দের কিছু ক্যাফে ও অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ সৃষ্টি খান্না। ইসরায়েলি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এসব এলাকায় বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর এজে প্লাসের একটি ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   খান্নার দাবি, কিছু ক্যাফে ও অনুষ্ঠানে আগে ভারতীয়দের প্রবেশে বাধা দেওয়া হতো; এখন অন্য দেশের পর্যটকদেরও ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।হিমাচল প্রদেশের কাসোল, ধরমকোট ও পার্বতী উপত্যকাসহ ইসরায়েলি পর্যটকদের জনপ্রিয় কয়েকটি ভ্রমণপথ অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হামুস ট্রেইল’ নামে পরিচিত। এসব এলাকায় ইসরায়েলি পর্যটকদের উপযোগী খাবার ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের জন্য এমন সেবা চালু থাকা এবং অন্য গ্রাহকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য আলাদা বিষয়।   চলতি বছরের মে মাসে ধরমকোটে বেড়াতে যাওয়া এক ভারতীয় পর্যটকও কয়েকটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, কোথাও তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি; কোথাও আবার পরে অর্ডার দেওয়া ইসরায়েলি পর্যটকেরা আগে খাবার পেয়েছেন। এনডিটিভি তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।   কাসোলে ক্যাফে ঘিরে এমন বিতর্ক আগেও হয়েছে। ২০১৫ সালে ‘ফ্রি কাসোল’ নামে একটি ক্যাফেতে ভারতীয়দের সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠলে স্থানীয় প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দেয়। সে সময় একজন অভিযোগকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, ক্যাফেটির মালিক ছিলেন ভারতীয়। মালিক অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেখানে ভারতীয়দের প্রতি বৈষম্য চলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছিল।   সূত্র: এজে প্লাসে প্রকাশিত সৃষ্টি খান্নার বক্তব্য;হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২২:২৫
প্রতীকী ছবি
চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের নির্দেশ বাংলাদেশ সরকারের

চাঁদাবাজি, দখলচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) যুগান্তর এ খবর জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও চলমান অভিযান জোরদারের কথা বলেছেন।   এই অবস্থানের আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা। ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে পরদিন ভোরের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা হয়। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে এর স্থাপনার অংশ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তার ও দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা - দুই প্রক্রিয়াই চলছে।   রাড্ডার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলবে; সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   রাড্ডার ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এবং যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট দুটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিগুলোতে সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।   তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতিতে শনিবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। lএ নিয়ে রাড্ডার ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ জন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীও রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পৃথক বিষয়।   স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও বলেছেন, অপরাধের অভিযোগে কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না এবং নগরীতে অভিযান জোরদার করা হবে।   একই সময়ে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মামলার তদন্তও চলছে। এটি রাড্ডার ঘটনা থেকে পৃথক মামলা। ওই মামলায় তখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুটি মামলার গ্রেপ্তারের সংখ্যা একসঙ্গে হিসাব করা যাবে না।   সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২১:৫১
মেরিল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিলান শান আশার
মেরিল্যান্ডে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দিলান, সন্ধান চায় পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিলান শান আশারের (২২) সন্ধান চেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোর আড়াইটার দিকে কলেজ পার্কে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজে তাঁকে শেষবার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে তাঁর সন্ধান মেলেনি।   বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর দুইটার দিকে দিলান তাঁর বাসা থেকে বের হন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর টেরাপিন ট্রেইল গ্যারেজের ক্যামেরায় তাঁকে দেখা যায়। এরপর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি।   দিলানের পরিবার তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানায়। প্রথমে প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, তাঁকে সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর দেখা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ ২ অক্টোবরের নতুন তথ্য পায়। সর্বশেষ দেখার সময় হিসেবে এখন ওই ফুটেজের তথ্যই ব্যবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ।   শেষবার দেখা যাওয়ার সময় দিলানের পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো হুডি, ধূসর প্যান্ট ও সাদা জুতা। পুলিশের দেওয়া বর্ণনায় তাঁর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৮৫ পাউন্ড। পুলিশ তাঁকে গুরুতর উদ্বেগজনক নিখোঁজ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।   দিলানের মা বিনিতা আশার ছেলের খোঁজে সবার সহায়তা চেয়েছেন। ছেলের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি ফিরলে তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না - পরিবার শুধু তাঁকে নিরাপদে ফিরে পেতে চায়।   দিলানকে দেখে থাকলে বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।   সূত্র: মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি পুলিশের তথ্য।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২১:৩৫
আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়ে ১২ হাজার ডলারের রোলেক্স কিনতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১২ হাজার ৩০০ ডলার মূল্যের একটি 'রোলেক্স সাবমেরিনার' ঘড়ি কেনার চেষ্টার অভিযোগে আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৫ সালের মে মাসে বোকা রেটন এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে অভিনব এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি এই ঘটনার পুলিশের বডি-ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নতুন করে গণমাধ্যমের আলোচনায় আসে।   জানা যায়, ওই নারী দোকানে গিয়ে ঘড়িটি কেনার জন্য তাঁর আইডি ও পেমেন্ট কার্ড জমা দেন। কার্ডের ওপর মুদ্রিত নামের সঙ্গে আইডি কার্ডের তথ্যের আপাত মিল থাকলেও, দোকানের সিস্টেমে আইডি কার্ডটি স্ক্যান করতেই ভিন্ন নাম ও ঠিকানা বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় ওই স্মার্ট কর্মী বোকা রেটন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে ‘এমিলি’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং কার্ডটি নিজের বলে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টাও করেন, কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটকে রাখে।   অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি পোর্টেবল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার নিয়ে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দিয়ে হাতের ছাপ নেওয়ার পরই ওই নারীর আসল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পাম বিচ কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর আসল নাম আলিনা অ্যারেনসিবিয়া। প্রতারণার কাজ শেষে দ্রুত পালানোর জন্য তিনি ‘লেনা’ ছদ্মনামে একটি উবারও ডেকে রেখেছিলেন। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই উবার চালককে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়।   সব প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আলিনাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র রাখা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য ৫ হাজার ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২১:১৩
অনীতা উইং লি ও টিম মুট্টোর
বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা ও বিয়ে, টিমের মধ্যেই নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছিলেন অনীতা

কানাডার টরন্টোতে ২০২১ সালে এক অভিন্ন বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয়েছিল অনীতা উইং লি ও টিম মুট্টোর। দুজনেরই আগে পূর্ব আফ্রিকায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও তখন তাদের দেখা হয়নি। টরন্টোর সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়, আর কয়েক বছর পর সেই বন্ধুত্বই পরিণতি পায় ভালোবাসা ও বিয়েতে।   ভ্রমণ, মানবিক কাজ এবং জীবনের নানা মূল্যবোধে মিল থাকায় সময়ের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে টিম অনীতার প্রতি নিজের অনুভূতির কথা জানান। তবে শুরুতে অনীতা সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বিশেষ করে জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি নিজের চেয়ে লম্বা কাউকে কল্পনা করতেন। ফলে টিমকে শুরুতে তিনি বন্ধুই হিসেবে দেখতেন।   তবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের একে অপরকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেয়। সময়ের সঙ্গে অনীতা টিমের দয়া, বিশ্বস্ততা, যত্ন, চরিত্র এবং মানুষের প্রতি তার সম্মানবোধকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বাহ্যিক চেহারার চেয়ে একজন মানুষের চরিত্র ও মূল্যবোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   অনীতা পরে উপলব্ধি করেন, টিমের মধ্যেই তিনি এমন অনেক গুণ খুঁজে পেয়েছেন, যা তিনি একজন জীবনসঙ্গীর মধ্যে সত্যিকার অর্থে চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।   ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টিম ও অনীতার বাগদান হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২১ জুন কানাডার অন্টারিওর স্ট্রিটসভিলের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর তাদের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   দুজনের উচ্চতার পার্থক্যও মানুষের বিশেষ নজর কাড়ে। অনীতা প্রায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং টিম প্রায় ৪ ফুট লম্বা। এই পার্থক্যের কারণে অনলাইনে অনেকের কৌতূহল তৈরি হলেও, দম্পতি তাদের গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উচ্চতাকে নয়, বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক মূল্যবোধকে সামনে এনেছেন।   অনীতা ও টিমের গল্পটি শেষ পর্যন্ত এমন এক সম্পর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে, যেখানে প্রথম দেখায় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই গুরুত্ব হারিয়েছে। বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে একে অপরকে জানার পর অনীতা টিমের মধ্যে যে গুণগুলো খুঁজে পেয়েছিলেন, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ককে বিয়ের পরিণতি দেয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২০:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রে ক্লিক-টু-ক্যানসেল
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্কে ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম, সাবস্ক্রিপশন বাতিল হবে এক ক্লিকেই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্ক সিটিতে গত ১ অক্টোবর থেকে সাবস্ক্রিপশন বাতিলের নতুন নিয়ম 'ক্লিক-টু-ক্যানসেল' কার্যকর হয়েছে। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো সেবায় যুক্ত হওয়া যতটা সহজ, তা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিও ঠিক ততটাই সহজ করা। এখন থেকে অনলাইনে সাইন-আপ বা যুক্ত হওয়ার সুবিধা থাকলে, সেই সেবা বাতিলের জন্যও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবশ্যিকভাবে অনলাইনে সরাসরি ক্যানসেল বাটন বা উপায় রাখতে হবে।     নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান সাবস্ক্রিপশন বাতিলের সময় গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত হতে বা ফোনকলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য করতে পারবে না। জিম, স্ট্রিমিং সার্ভিস কিংবা ফ্রি ট্রায়াল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নযোগ্য যেকোনো মেম্বারশিপের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন (DCWP) জানিয়েছে, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য অন্তত ৫২৫ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে।   গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য চ্যাটবটের লুপে ফেলে রাখার বদলে সরাসরি কর্মীদের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে।   কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের বছরে ২ কোটি ১৫ লাখ থেকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি, সাবস্ক্রিপশন বাতিলের জটিলতায় গ্রাহকদের যে হয়রানি হতো, তাতে বছরে অন্তত ৬ লাখ ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে।   এর আগে ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিলেও একটি আপিল আদালতের রায়ে তা আটকে যায়। এর ফলে নিজস্ব উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করল।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২০:৩১
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি প্রবীণকে এককালীন ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প, মেডিকেয়ারের প্রিমিয়াম কমাতে উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি প্রবীণকে এককালীন ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প, মেডিকেয়ারের প্রিমিয়াম কমাতে উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রবীণদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি 'মেডিকেয়ার'-এর মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই অর্থায়নের জন্য কংগ্রেস মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ডে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে।   আসন্ন নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান নেতার দেওয়া ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির সর্বশেষ সংযোজন হলো এই ৯০ ডলারের অনুদান। বর্তমানে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রেটিং বেশ নিম্নমুখী।   হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, যোগ্য প্রবীণরা অক্টোবরের শুরুতেই এই ৯০ ডলার সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) পেয়ে যাবেন। যাদের ডাইরেক্ট ডিপোজিট সুবিধা নেই, তাদের মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গত মাসে ট্রাম্প প্রস্তাব করেছিলেন, রিপাবলিকান দল মিডটার্ম নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে চেক পাঠাবেন। যদিও অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের পাশাপাশি স্বয়ং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাঁর ওই বিশাল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর অধীনে অতিরিক্ত ফি দেওয়া প্রায় ১০ লাখ মার্কিনিকে আলাদাভাবে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৯:৫৪
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা
টেনেসিতে দুই ডোজ ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতায় কারাপ্রধানের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। শনিবার (৩ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চলতি মাসেই নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন স্ট্রাডা।   গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা লিথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় তাঁকে দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। উল্টো সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইনজীবীদের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাঁকে জোরে জোরে শ্বাস নিতে ও কাঁদতে দেখা যায় এবং বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরের সাহায্যে বেঁচে আছেন। কারাপ্রধান স্ট্রাডা তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও আসামির বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় টেনেসিবাসী তথা বৃহত্তর স্বার্থে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।   হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডটি কার্যকর হলে তিনি হতেন গত ২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম নারী। কিন্তু এই বিরল ব্যর্থতার পর তাঁর আইনজীবীরা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে কারাপ্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, এই পদত্যাগ ক্রিস্টার কোনো উপকারে আসবে না। বুধবারের এই ঘটনা সম্পূর্ণ পদ্ধতিগত ব্যর্থতার প্রমাণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যবস্থায় থাকা বড় ধরনের ত্রুটিগুলো সামনে আসবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব আলামত সংরক্ষণের জন্য আইনজীবীরা শুক্রবার একটি জরুরি আবেদনও দাখিল করেছেন।   এদিকে টেনেসির কারা বিভাগ তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতির পক্ষেই সাফাই গেয়েছে। তাদের দাবি, যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, প্রোটোকল তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়ার অনুমোদন দেয় না। তবে ঠিক কী কারণে এই ব্যর্থতা এবং পুনরায় ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৯:৩৫
৭৯ বছর বয়সী  বৃদ্ধ এবং তাঁর বাগদত্তা
যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থতার মাঝেও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে তৈরি হলো এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এবং তাঁর বাগদত্তা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন হাসপাতালের বেডে বসেই। চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অপ্রত্যাশিত এই বিপদের দিনটিই পরিণত হলো এই যুগলের জীবনের এক অন্যতম স্মরণীয় ও সোনালি মুহূর্তে।   ঘটনার দিন গত ৫ সেপ্টেম্বর জন কোমো এবং তাঁর বাগদত্তা ডায়ান তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট নোটারাইজ করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই জনের চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি উদ্বেগজনক ফোন আসে। চিকিৎসক জানান, জনের রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেছে এবং তাঁকে দ্রুত হান্টসভিল হাসপাতালে যেতে বলা হয়। মন খারাপ করে এই যুগল হাসপাতালে গেলে ইমার্জেন্সি রুমের নার্স প্র্যাকটিশনার বেথ গেটস জানতে পারেন যে, জনের আকস্মিক অসুস্থতায় তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।   নিজেদের চোখের সামনে এমন হতাশার দৃশ্য দেখে চুপ থাকতে পারেননি নার্স বেথ। তিনি তখনই হাসপাতালের নিরাপত্তা কার্যালয়ে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত নোটারি শয়না আলেকজান্ডারকে খুঁজে বের করেন। সব কাজ ফেলে শয়না ছুটে আসেন ইমার্জেন্সি রুমের সি-২৯ নম্বর কক্ষে, যা মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় বিয়ের আসরে। হাসপাতালের গাউন পরিহিত জন এবং সাদা প্যান্টস্যুট পরা ডায়ান সেখানে তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করেন। পাশেই থাকা আরেক রোগী সামান্থা রিংয়ের বানিয়ে দেওয়া কাগজের তৈরি হলুদ আংটি বদল করে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নেন তাঁরা। এরপর হাসপাতালের বেড থেকে সামান্য ঝুঁকে স্ত্রীকে চুম্বন করেন জন, যা সেখানকার ভয়ার্ত ও অস্বাভাবিক পরিবেশকে এক নিমিষেই আনন্দে ভরিয়ে তোলে।   হাসপাতাল কর্মীদের আয়োজন শুধু এখানেই থেমে থাকেনি। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্যালাইনের নল যাতে আনন্দের মাঝে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখেন তাঁরা। লাইসেন্সড নার্স কেরিয়া লাইটফুট এই শেষ মুহূর্তের আয়োজনের জন্য ফুল, কাপকেক, প্লাস্টিকের শ্যাম্পেন গ্লাস এবং স্পার্কলিং গ্রেপ জুসের ব্যবস্থা করেন। ইমার্জেন্সি রুমের অ্যাটেনডেন্ট নোলান বেয়ার্ডেন তৈরি করে আনেন ‘জাস্ট ম্যারিড’ লেখা একটি সুন্দর প্ল্যাকার্ড।   এই প্রসঙ্গে জন আপ্লুত কণ্ঠে জানান, এই চরম বিপর্যয়ের দিনেও হাসপাতাল কর্মীদের এমন আন্তরিকতা তাঁদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। পরবর্তীতে এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেলকে হাসপাতালের অনকোলজি (ক্যানসার) ইউনিটে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়ি ফেরেন। প্রায় এক বছর আগে ৪০ বছরের বিবাহিত জীবনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ডায়ানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পরিচিত ডায়ানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে এবং হাসপাতালের ওই অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত জন কোমো।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৯:৮
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট দখলের লড়াইয়ে নতুন উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট দখলের লড়াইয়ে নতুন উত্তেজনা, দুই রিপাবলিকান ঘাঁটিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

আগামী ৩ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটিক দল। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের প্রকাশিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস ও আলাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি সমর্থন পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই ফলাফল সিনেটের বর্তমান ৫৩-৪৭ ব্যবধানের রিপাবলিকান আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।   নতুন জরিপের তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটিক দলের জেমস টালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন পেয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে (৪৫%) ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলা ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের (৪৩%) চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এছাড়া, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট দৌড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শ্যারড ব্রাউন (৪৯%) রিপাবলিকান প্রার্থী জন হাস্টেডকে (৪৬%) সামান্য ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন।   অন্যদিকে, আইওয়াতে রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসন ৪৮-৪৭ ব্যবধানে জশ টার্কের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন এবং কানসাসে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সঙ্গে রিপাবলিকান রজার মার্শালের ৪৫-৪৫ পয়েন্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখতে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড নর্থ ক্যারোলিনার বদলে কানসাসের মতো রাজ্যে তাদের বিপুল অর্থায়ন স্থানান্তর করেছে। এই ৫টি আসনের সবগুলোতেই যদি ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারে, তবে আগামী দিনে তারা সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৮:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে আটলান্টা গণহ ত্যার ১২০ বছর, গুজবের ভ য়াবহতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রে আটলান্টা গণহ ত্যার ১২০ বছর, গুজবের ভ য়াবহতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

১৯০৬ সালে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শুরু হওয়া ভয়াবহ বর্ণবাদী হত্যাযজ্ঞ বা ‘আটলান্টা রেস ম্যাসাকার’-এর ১২০ বছর পূর্ণ হলো। এই মর্মান্তিক ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি এর সাথে বর্তমান সময়ের মিথ্যা তথ্যের ভয়াবহতার যোগসূত্র নিয়ে পর্যালোচনা করছেন মরিস ব্রাউন কলেজের একদল শিক্ষার্থী।   ১৯০৬ সালের ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ওই তাণ্ডবে শ্বেতাঙ্গদের হামলায় বহু কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত ও নির্যাতিত হন এবং অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। সে সময় স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ ছাপানোর পর এই সহিংসতা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রাউনসভিল, ফাইভ পয়েন্টস, সামারহিল ও অবার্ন অ্যাভিনিউয়ের মতো এলাকাগুলো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বলছেন, তখনকার পত্রিকা আর আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। মরিস ব্রাউন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ডেনিম চেম্বারস জানান, তিনি আগে এই গণহত্যার কথা জানতেন না।   তবে এখন তিনি বুঝতে পারছেন, সে যুগে যেভাবে ভুয়া খবরের জেরে সহিংসতা ছড়িয়েছিল, বর্তমান যুগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক একইভাবে মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোর্সটির অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর সানি ব্রাউন জানান, অতীতের ইতিহাস শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং বর্তমানের সঙ্গে এর যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এই পাঠের মূল লক্ষ্য।   শিক্ষার্থীরা যেন তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং গুজবের বাস্তব পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ইতিহাসবিদদের মতে, সেই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে আটলান্টার অ্যাপেক্স মিউজিয়ামের ইতিহাসবিদ কাইলার উইনস্টন-ক্যান্ড্রিকস জানান, এই ঘটনাকে নিছক দাঙ্গা নয়, বরং গণহত্যা বলা উচিত। কারণ এতে ৪০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত মানুষ হতাহত হয়েছিলেন। রাস্তা, ট্রলি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের টেনেহিঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছিল।   বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ বুদ্ধিজীবী ডব্লিউ.ই.বি. ডু বোইস সে সময় আটলান্টা ইউনিভার্সিটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘এ লিটানি অব আটলান্টা’ রচনা করেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক জে. ম্যাক্স বারবার প্রাণভয়ে শিকাগো পালিয়ে গিয়ে এই গণহত্যার প্রকৃত সত্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন, যার ফলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশের গণমাধ্যমেও এই খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছিল।   ভয়াবহ সেই ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে বর্তমানে অবার্ন অ্যাভিনিউ রিসার্চ লাইব্রেরি এবং অ্যাপেক্স মিউজিয়াম বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সেখানে নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন, পুরনো সংবাদপত্র, মাটির নমুনা এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের দুর্লভ অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে। প্রদর্শনীতে এমন অডিও রেকর্ডিংও রয়েছে, যেখানে জানা যায় কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গরা নিজেদের রক্ষার জন্য সে সময় শহরে অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন।   অবার্ন অ্যাভিনিউ লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক জন অস্টিন জানান, মানুষ যত বেশি অতীত ইতিহাস ও এ ধরনের গণহত্যার পেছনের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে জানবে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কলঙ্কজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা ততটাই কমে আসবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৮:২০
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরপরই নাইরোবি-মোম্বাসা মহাসড়কের সালামা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন যাত্রী এবং একজন ভ্যানচালক ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   জানা গেছে, তীর্থযাত্রীরা মোম্বাসার সেন্ট ম্যাথিয়াস মুলুম্বা ক্যাথলিক প্যারিশের সদস্য ছিলেন। 'ন্যাশনাল প্রেয়ার ডে' বা জাতীয় প্রার্থনা দিবস উপলক্ষে তারা নাকুরু কাউন্টির সুবুকিয়া ন্যাশনাল শ্রাইনের (জাতীয় উপাসনালয়) দিকে যাচ্ছিলেন। মোম্বাসা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপ মার্টিন কিভুভা এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং পুরো প্যারিশ সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।   পুলিশ ও কেনিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি অথরিটির (এনটিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পরপরই একটি ট্রাক অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে এই চেইন দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ফলে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ভ্যান বা মাতাতুর সাথে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।   এনটিএসএ জানিয়েছে, সালামা এলাকার ওই সড়কটি আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আগেও সুপারিশ করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং অন্যান্য চালকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করে লেন মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শোকাহত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান। কঠিন এই সময়ে সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে শক্তি ও সান্ত্বনা দেন, সেই প্রার্থনা করার পাশাপাশি তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৮:০
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা যমজ ভাই ডা. ট্রাভান এবং ডা. ট্র্যাভিস জ্যাসপার এখন নিজ শহরেরই একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই ভাই বর্তমানে রিচমন্ডের চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   নিজ শহরে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানোর অনুভূতি প্রকাশ করে ট্র্যাভিস গণমাধ্যমটিকে জানান, ৪০ বছর আগে এমন কোনো স্বপ্নের কথা তিনি কল্পনাও করতে পারতেন না।   নিজেদের শৈশবের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ট্রাভান জানান, একসময় তাদের বাড়িতে কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা ছিল না। দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করার জন্য তাদের স্থানীয় পার্কের ওপর নির্ভর করতে হতো। তীব্র খাবার সংকটের মধ্যে দিন পার করলেও তাদের ভেতরে সফল হওয়ার প্রবল ক্ষুধা ছিল।   কারণ তারা গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, এই চরম দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির একটাই উপায়, আর তা হলো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।   চিকিৎসাপেশায় আসার পেছনে ১২ বছর বয়সের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা এই দুই ভাইকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সে সময় মদ্যপানজনিত লিভার ফেইলিওরে আক্রান্ত এক চাচাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও খারাপ মন্তব্য তাদের ভীষণভাবে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।   সেদিনই হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই ভাই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ভবিষ্যতে তারা এমন চিকিৎসক হবেন, যারা রোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল এবং মানবিক আচরণ করবেন।   নিজেদের সেই শৈশবের প্রতিজ্ঞা পূরণে তারা পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। হাইস্কুল থেকে কো-ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজেদের ডিগ্রি অর্জন করেন।   শৈশবের সেই প্রতিজ্ঞার কয়েক দশক পর, গত এপ্রিলে তারা নিজ শহর রিচমন্ডে ফিরে আসেন এবং চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে একযোগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবিকল একই রকম দেখতে হওয়ায় রোগী ও সহকর্মীদের সুবিধার্থে তারা কর্মক্ষেত্রে সবসময় ভিন্ন রঙের (সবুজ ও বেগুনি) স্ক্রাব পরিধান করেন।   শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একই ভবনে বসবাস করেন। ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে ট্র্যাভিস বলেন, অতীতের সেই চরম প্রতিকূল দিনগুলোই আজকের এই সফল ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে তাদের গড়ে তুলেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৭:৪১