নিজের জন্য সময় বের করুন, প্রতিদিনের জীবনে প্রশান্তি ফেরাতে মেনে চলুন ২০ অভ্যাস
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ভুলে যান। পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বিশ্রাম, পছন্দের কাজ বা নিজের মনের খোঁজ নেওয়ার জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্য সময় বের করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের একটি প্রয়োজনীয় অংশ।
নিজের যত্ন বা সেলফ-কেয়ার মানে শুধু স্পা, দামি প্রসাধনী কিংবা ছুটি কাটানো নয়। প্রতিদিনের রুটিনে ছোট কিছু অভ্যাস যোগ করেও নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া সম্ভব। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ নিজের জন্য রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।
নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য অনুসরণ করতে পারেন এমন ২০টি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো।
১. দিনের শুরুতে তৈরি করুন নিজের রুটিন
সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া না করে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। কয়েক মিনিট ধ্যান, ডায়েরি লেখা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন। দিনের শুরুতে শান্ত ও সচেতন কিছু অভ্যাস আপনাকে কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করতে পারে।
২. আরামদায়ক গোসলের সময় বের করুন
সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে উষ্ণ পানিতে গোসল করতে পারেন। চাইলে গোসলের পরিবেশ আরামদায়ক করে তুলতে মৃদু আলো ও পছন্দের সুগন্ধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সুগন্ধি তেল বা বাথ সল্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের সংবেদনশীলতার বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি।
৩. মনোযোগ দিন বর্তমান মুহূর্তে
মনোযোগ চর্চা বা মাইন্ডফুলনেসের মাধ্যমে বর্তমান মুহূর্তের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। কয়েক মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়া, নীরবে বসে থাকা কিংবা মনোযোগ দিয়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। নিয়মিত অনুশীলন মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।
৪. শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ম্যাসাজ করুন
শরীরের পেশিতে টান বা অস্বস্তি অনুভব করলে উপযুক্ত ম্যাসাজ আরাম দিতে পারে। চাইলে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সাহায্য নিতে পারেন অথবা বাড়িতে নিরাপদভাবে ম্যাসাজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ব্যথা, আঘাত বা শারীরিক অসুস্থতা থাকলে আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৫. পুষ্টিকর খাবার খান
সুস্থ থাকার জন্য খাবারের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করলে ব্যস্ততার মধ্যেও সুষম খাবার খাওয়া সহজ হতে পারে।
৬. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানি প্রয়োজন। দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। সবার পানির চাহিদা এক নয়; আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর তা নির্ভর করতে পারে।
৭. প্রযুক্তি থেকে বিরতি নিন
দীর্ঘ সময় ফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখ ও মন ক্লান্ত হতে পারে। তাই দিনের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এ সময় বই পড়া, হাঁটাহাঁটি কিংবা প্রযুক্তির বাইরে কোনো শখের কাজে মন দিতে পারেন।
৮. পছন্দের শরীরচর্চা বেছে নিন
শারীরিক সক্রিয়তা শরীরের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী। যোগব্যায়াম, নাচ, দ্রুত হাঁটা কিংবা অন্য কোনো পছন্দের ব্যায়াম বেছে নিতে পারেন। শুরুতেই কঠিন রুটিন অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই; নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সক্রিয় থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।
৯. কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রতিদিন এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখুন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। সেগুলো বড় কোনো অর্জন হতে হবে না; প্রিয়জনের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো কিংবা দিনের একটি সুন্দর মুহূর্তও হতে পারে। এভাবে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।
১০. ঘুমকে গুরুত্ব দিন
শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমের আগে পর্দা ব্যবহার কমানো এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করা ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
১১. প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান
পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ মানসিক সমর্থন এবং আপনজনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনের খোঁজ নিন, একসঙ্গে সময় কাটান এবং নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিন। সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
১২. প্রয়োজন অনুযায়ী সীমারেখা নির্ধারণ করুন
সব দায়িত্ব একা সামলানোর চেষ্টা করলে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই নিজের সময় ও সামর্থ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজন হলে বিনয়ের সঙ্গে কোনো অনুরোধে না বলুন। ব্যক্তিগত সময়ের সুরক্ষা এবং দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর সীমারেখা সহায়ক হতে পারে।
১৩. পছন্দের শখে সময় দিন
ছবি আঁকা, বাগান করা, গান শেখা কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজ আনন্দ ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করে। ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের পছন্দের কাজে সময় রাখুন। এসব কাজের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রতিদিন অল্প সময় দিয়েও শুরু করা যায়।
১৪. ত্বকের যত্ন নিন
ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ একটি পরিচর্যার রুটিন তৈরি করুন। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন লাগানো উপকারী হতে পারে। নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে ত্বকে মানানসই কি না, তা যাচাই করুন।
১৫. পছন্দের গান শুনুন
গান অনেকের মন ভালো করতে কিংবা শান্ত হতে সাহায্য করে। কাজের ফাঁকে, হাঁটার সময় অথবা বিশ্রামের মুহূর্তে পছন্দের গান শুনতে পারেন। নিজের মেজাজ অনুযায়ী আলাদা প্লেলিস্ট তৈরি করলেও দৈনন্দিন রুটিন আরও আনন্দদায়ক হতে পারে।
১৬. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন
কোনো কাজে ব্যর্থ হলে কিংবা প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে নিজেকে অতিরিক্ত দোষারোপ করবেন না। মনে রাখুন, ভুল ও কঠিন সময় জীবনের স্বাভাবিক অংশ। একজন বন্ধুর প্রতি যে সহানুভূতি দেখাতেন, নিজের প্রতিও তেমন বোঝাপড়া ও সদয় আচরণ করার চেষ্টা করুন।
১৭. ঘর গুছিয়ে রাখুন
অগোছালো পরিবেশে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পেতে সময় লাগে এবং অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ঘর বা কাজের জায়গা গুছিয়ে রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার চেষ্টা না করে ছোট একটি অংশ দিয়ে শুরু করলেই যথেষ্ট।
১৮. প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন
সুযোগ পেলে বাইরে কিছু সময় কাটান। পার্কে হাঁটা, গাছপালা দেখা কিংবা খোলা পরিবেশে বসে থাকা দৈনন্দিন একঘেয়েমি থেকে বিরতি দিতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সুযোগ না থাকলেও কাছাকাছি কোনো সবুজ জায়গায় অল্প সময় কাটাতে পারেন।
১৯. সুগন্ধের মাধ্যমে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন
কিছু সুগন্ধ অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস বা পেপারমিন্টের সুগন্ধযুক্ত পণ্য কেউ কেউ বিশ্রামের সময় ব্যবহার করেন। তবে এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়; উপযুক্তভাবে পাতলা করে ব্যবহার করতে হয়। হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সুগন্ধে সংবেদনশীলতা থাকলে সতর্ক থাকা জরুরি।
২০. প্রয়োজন হলে বিশ্রামের দিন নিন
কখনো কখনো শরীর ও মনকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ থেকে বিরতি প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভব হলে ছুটি নিয়ে বিশ্রাম করুন, পছন্দের কাজ করুন কিংবা নিরিবিলি সময় কাটান। তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা মন খারাপ দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করলে শুধু বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে পেশাদার সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য একসঙ্গে সব অভ্যাস শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের জীবনযাপন, সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি অভ্যাস বেছে নিয়ে ধীরে ধীরে রুটিনে যুক্ত করুন। কারও জন্য নিয়মিত হাঁটা উপকারী হতে পারে, আবার অন্য কারও কাছে পর্যাপ্ত ঘুম বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মূল বিষয় হলো, নিজের শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়—এটি নিজের সুস্থতা ও ভালো থাকার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreদৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ভুলে যান। পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বিশ্রাম, পছন্দের কাজ বা নিজের মনের খোঁজ নেওয়ার জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্য সময় বের করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের একটি প্রয়োজনীয় অংশ। নিজের যত্ন বা সেলফ-কেয়ার মানে শুধু স্পা, দামি প্রসাধনী কিংবা ছুটি কাটানো নয়। প্রতিদিনের রুটিনে ছোট কিছু অভ্যাস যোগ করেও নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া সম্ভব। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ নিজের জন্য রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য অনুসরণ করতে পারেন এমন ২০টি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো। ১. দিনের শুরুতে তৈরি করুন নিজের রুটিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া না করে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। কয়েক মিনিট ধ্যান, ডায়েরি লেখা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন। দিনের শুরুতে শান্ত ও সচেতন কিছু অভ্যাস আপনাকে কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করতে পারে। ২. আরামদায়ক গোসলের সময় বের করুন সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে উষ্ণ পানিতে গোসল করতে পারেন। চাইলে গোসলের পরিবেশ আরামদায়ক করে তুলতে মৃদু আলো ও পছন্দের সুগন্ধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সুগন্ধি তেল বা বাথ সল্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের সংবেদনশীলতার বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি। ৩. মনোযোগ দিন বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ চর্চা বা মাইন্ডফুলনেসের মাধ্যমে বর্তমান মুহূর্তের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। কয়েক মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়া, নীরবে বসে থাকা কিংবা মনোযোগ দিয়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। নিয়মিত অনুশীলন মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। ৪. শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ম্যাসাজ করুন শরীরের পেশিতে টান বা অস্বস্তি অনুভব করলে উপযুক্ত ম্যাসাজ আরাম দিতে পারে। চাইলে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সাহায্য নিতে পারেন অথবা বাড়িতে নিরাপদভাবে ম্যাসাজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ব্যথা, আঘাত বা শারীরিক অসুস্থতা থাকলে আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ৫. পুষ্টিকর খাবার খান সুস্থ থাকার জন্য খাবারের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করলে ব্যস্ততার মধ্যেও সুষম খাবার খাওয়া সহজ হতে পারে। ৬. পর্যাপ্ত পানি পান করুন শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানি প্রয়োজন। দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। সবার পানির চাহিদা এক নয়; আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর তা নির্ভর করতে পারে। ৭. প্রযুক্তি থেকে বিরতি নিন দীর্ঘ সময় ফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখ ও মন ক্লান্ত হতে পারে। তাই দিনের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এ সময় বই পড়া, হাঁটাহাঁটি কিংবা প্রযুক্তির বাইরে কোনো শখের কাজে মন দিতে পারেন। ৮. পছন্দের শরীরচর্চা বেছে নিন শারীরিক সক্রিয়তা শরীরের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী। যোগব্যায়াম, নাচ, দ্রুত হাঁটা কিংবা অন্য কোনো পছন্দের ব্যায়াম বেছে নিতে পারেন। শুরুতেই কঠিন রুটিন অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই; নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সক্রিয় থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। ৯. কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন প্রতিদিন এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখুন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। সেগুলো বড় কোনো অর্জন হতে হবে না; প্রিয়জনের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো কিংবা দিনের একটি সুন্দর মুহূর্তও হতে পারে। এভাবে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। ১০. ঘুমকে গুরুত্ব দিন শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমের আগে পর্দা ব্যবহার কমানো এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করা ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। ১১. প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ মানসিক সমর্থন এবং আপনজনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনের খোঁজ নিন, একসঙ্গে সময় কাটান এবং নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিন। সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ১২. প্রয়োজন অনুযায়ী সীমারেখা নির্ধারণ করুন সব দায়িত্ব একা সামলানোর চেষ্টা করলে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই নিজের সময় ও সামর্থ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজন হলে বিনয়ের সঙ্গে কোনো অনুরোধে না বলুন। ব্যক্তিগত সময়ের সুরক্ষা এবং দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর সীমারেখা সহায়ক হতে পারে। ১৩. পছন্দের শখে সময় দিন ছবি আঁকা, বাগান করা, গান শেখা কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজ আনন্দ ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করে। ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের পছন্দের কাজে সময় রাখুন। এসব কাজের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রতিদিন অল্প সময় দিয়েও শুরু করা যায়। ১৪. ত্বকের যত্ন নিন ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ একটি পরিচর্যার রুটিন তৈরি করুন। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন লাগানো উপকারী হতে পারে। নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে ত্বকে মানানসই কি না, তা যাচাই করুন। ১৫. পছন্দের গান শুনুন গান অনেকের মন ভালো করতে কিংবা শান্ত হতে সাহায্য করে। কাজের ফাঁকে, হাঁটার সময় অথবা বিশ্রামের মুহূর্তে পছন্দের গান শুনতে পারেন। নিজের মেজাজ অনুযায়ী আলাদা প্লেলিস্ট তৈরি করলেও দৈনন্দিন রুটিন আরও আনন্দদায়ক হতে পারে। ১৬. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন কোনো কাজে ব্যর্থ হলে কিংবা প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে নিজেকে অতিরিক্ত দোষারোপ করবেন না। মনে রাখুন, ভুল ও কঠিন সময় জীবনের স্বাভাবিক অংশ। একজন বন্ধুর প্রতি যে সহানুভূতি দেখাতেন, নিজের প্রতিও তেমন বোঝাপড়া ও সদয় আচরণ করার চেষ্টা করুন। ১৭. ঘর গুছিয়ে রাখুন অগোছালো পরিবেশে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পেতে সময় লাগে এবং অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ঘর বা কাজের জায়গা গুছিয়ে রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার চেষ্টা না করে ছোট একটি অংশ দিয়ে শুরু করলেই যথেষ্ট। ১৮. প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন সুযোগ পেলে বাইরে কিছু সময় কাটান। পার্কে হাঁটা, গাছপালা দেখা কিংবা খোলা পরিবেশে বসে থাকা দৈনন্দিন একঘেয়েমি থেকে বিরতি দিতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সুযোগ না থাকলেও কাছাকাছি কোনো সবুজ জায়গায় অল্প সময় কাটাতে পারেন। ১৯. সুগন্ধের মাধ্যমে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন কিছু সুগন্ধ অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস বা পেপারমিন্টের সুগন্ধযুক্ত পণ্য কেউ কেউ বিশ্রামের সময় ব্যবহার করেন। তবে এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়; উপযুক্তভাবে পাতলা করে ব্যবহার করতে হয়। হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সুগন্ধে সংবেদনশীলতা থাকলে সতর্ক থাকা জরুরি। ২০. প্রয়োজন হলে বিশ্রামের দিন নিন কখনো কখনো শরীর ও মনকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ থেকে বিরতি প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভব হলে ছুটি নিয়ে বিশ্রাম করুন, পছন্দের কাজ করুন কিংবা নিরিবিলি সময় কাটান। তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা মন খারাপ দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করলে শুধু বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে পেশাদার সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য একসঙ্গে সব অভ্যাস শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের জীবনযাপন, সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি অভ্যাস বেছে নিয়ে ধীরে ধীরে রুটিনে যুক্ত করুন। কারও জন্য নিয়মিত হাঁটা উপকারী হতে পারে, আবার অন্য কারও কাছে পর্যাপ্ত ঘুম বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মূল বিষয় হলো, নিজের শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়—এটি নিজের সুস্থতা ও ভালো থাকার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।
'জীবন আর ক'টা দিন', আন্টার্কটিকা ঘুরে সর্বস্ব খরচ ক্যানসার আক্রান্তের, ফিরে জানলেন তিনি সুস্থ!
ব্যক্তিত্বের ধরন বুঝেই বেছে নিন পেশা, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বছরে আয় সবচেয়ে বেশি
আক্কেলদাঁত তোলার পরই ফুলে যায় মুখ! গুরুতর সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি দুই সন্তানের মা
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বককে আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে রেটিনয়েড ব্যবহার করেন অনেকে। ভিটামিন এ-জাতীয় এই উপাদান ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং বয়সের ছাপ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রেটিনয়েড সবার ত্বকে মানায় না। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব ও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের যত্নে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা। ত্বকের বয়সের ছাপ কমানোর জন্য সানস্ক্রিন ও রেটিনয়েডকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সানস্ক্রিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, রেটিনয়েড ত্বকের কোষের নবায়ন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং কোলাজেন ভেঙে যাওয়ার গতি কমাতে সহায়তা করে। কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিয়মিত রেটিনয়েড ব্যবহারের পরও সবার ত্বকে একই রকম ফল পাওয়া যায় না। কারও ত্বক সহজেই এর সঙ্গে মানিয়ে নেয়, আবার কারও ক্ষেত্রে সামান্য ব্যবহারেও অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হলে জোর করে পণ্যটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ত্বকের ধরন ও প্রতিক্রিয়া বুঝে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়া যেতে পারে। রেটিনয়েড কেন ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ রেটিনয়েড বলতে ভিটামিন এ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাদানকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে রেটিনল, রেটিনাল, ট্রেটিনয়েন ও অ্যাডাপালিনের মতো উপাদান। এগুলোর শক্তি, কার্যকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম এক নয়। নিউইয়র্কের বোর্ড-সার্টিফায়েড চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হাইসেম এলডিকের মতে, রেটিনল ও রেটিনয়েডের বিভিন্ন ধরন ভিটামিন এ-সংশ্লিষ্ট হলেও ত্বকে সক্রিয় রূপে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় তাদের পার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে, রেটিনাইল এস্টার তুলনামূলক মৃদু। এরপর রয়েছে রেটিনল ও রেটিনাল। এসব উপাদানের অনেক পণ্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ট্রেটিনয়েন বা রেটিনয়িক অ্যাসিড সাধারণত ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে পাওয়া যায়। অ্যাডাপালিনও পরিচিত একটি রেটিনয়েড, যা মূলত ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনা হার্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রেটিনয়েড ত্বকের কোষের নবায়ন বাড়াতে এবং কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি ব্রণ নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের কিছু দাগের দৃশ্যমানতা কমানো এবং অসম রং উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উপকারের পাশাপাশি এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ব্যবহারের শুরুতে ত্বকে শুষ্কতা, চুলকানি, টানটান অনুভূতি, খোসা ওঠা ও সূর্যের আলোতে সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়েও যেতে পারে। ত্বক নতুন উপাদানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় এমন পরিস্থিতিকে অনেক ক্ষেত্রে ‘পার্জিং’ বলা হয়। তবে তীব্র জ্বালাপোড়া বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। রেটিনয়েড ব্যবহারে অস্বস্তি কমানোর উপায় রেটিনয়েড ব্যবহার করতে চাইলে শুরু থেকেই প্রতিদিন লাগানোর প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে সপ্তাহে দুই রাত ব্যবহার করে ত্বকের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। ত্বক মানিয়ে নিলে ধীরে ধীরে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানো যায়। তবে সবার ত্বক একই গতিতে মানিয়ে নেয় না। পুরো মুখের জন্য সাধারণত মটরদানার সমান পরিমাণ পণ্য যথেষ্ট। বেশি পরিমাণ ব্যবহার করলে ফল ভালো হবে, এমন নয়; বরং ত্বকে অস্বস্তি বাড়তে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে ‘স্যান্ডউইচ পদ্ধতি’ কিছুটা সহায়ক হতে পারে। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগানো হয়। এরপর রেটিনয়েড ব্যবহার করে আবার ময়েশ্চারাইজার দেওয়া হয়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য মিলতে পারে। অন্যদিকে, ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘শর্ট কন্ট্যাক্ট থেরাপি’ বিবেচনা করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে রাতে রেটিনয়েড ১৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলা হয়। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়। রেটিনয়েড ব্যবহারের শুরুতে স্যালিসিলিক অ্যাসিড, অন্যান্য অ্যাসিড বা এক্সফোলিয়েটিং মাস্কের মতো সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার না করাই ভালো। একাধিক সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বেড়ে যেতে পারে। রেটিনয়েড সাধারণত রাতে ব্যবহার করা হয়। দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। রেটিনয়েডের বিকল্প হতে পারে যেসব উপাদান অ্যাজেলাইক অ্যাসিড: রেটিনয়েড সহ্য না হলে অ্যাজেলাইক অ্যাসিড একটি বিকল্প হতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনা হার্টের মতে, এই উপাদান ত্বকের প্রদাহ, ব্রণ ও কালচে দাগ কমাতে সহায়তা করে। ব্রণ ও রোসেশিয়ার যত্নে তৈরি অনেক পণ্যেই এটি ব্যবহার করা হয়। পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী দিন বা রাতে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকুচিওল: উদ্ভিদজাত এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যত্নে রেটিনয়েডের বিকল্প হিসেবে পরিচিত। হার্টের মতে, বাকুচিওল কোলাজেনের কার্যক্রমে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং ব্রণের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৯ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, সূক্ষ্ম বলিরেখা কমানো ও ত্বকের রং উন্নত করার ক্ষেত্রে বাকুচিওলের ফল রেটিনলের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। গবেষণায় বাকুচিওল ব্যবহারে ত্বকের জ্বালাপোড়া তুলনামূলক কম দেখা যায়। তবে গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাজেলাইক অ্যাসিড ও বাকুচিওল ত্বকের কিছু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও এগুলো রেটিনয়েডের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। বিশেষ করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর ভাঙন কমানোর ক্ষেত্রে রেটিনয়েডের মতো কার্যকারিতা এসব উপাদানের রয়েছে—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। কারা বেশি সতর্ক থাকবেন রোসেশিয়া, পেরিওরিফিশিয়াল ডার্মাটাইটিস বা একজিমার মতো ত্বকের সমস্যা থাকলে রেটিনয়েড ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কম শক্তিশালী পণ্য ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পরও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল উপাদানের পরিবর্তে পণ্যে থাকা প্রিজারভেটিভ বা অন্য উপাদান ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। ত্বকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পণ্যটি ব্যবহার বন্ধ করে ত্বককে সুস্থ হওয়ার সময় দিতে হবে। পরে অন্য কোনো ফর্মুলা ব্যবহার করা উপযুক্ত হবে কি না, তা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় রেটিনয়েড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন অনেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস। এ সময় ত্বকের যত্নে নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবশেষে, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য রেটিনয়েডই একমাত্র উপায় নয়। তবে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ত্বকের ধরন, সংবেদনশীলতা ও বিদ্যমান সমস্যা বিবেচনা করা জরুরি। কোনো উপাদান ব্যবহারে বারবার অস্বস্তি হলে জোর করে তা চালিয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ত্বকের উপযোগী পণ্য বেছে নেওয়াই ভালো।
৫ বছরে দেশের চিনির ব্যবহার কমেছে ৩৩ শতাংশ! বদলেছে ভোগের ধরন
চুল ঘন করার আশায় টাকা খরচের আগে জেনে নিন কোন পণ্য এড়িয়ে চলবেন
স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কেমন, বদলে যেতে পারে আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস
নিয়মিত কফি পান করা হঠাৎ বন্ধ রাখলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের গবেষকেরা ৬২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। এতে দেখা গেছে, কফি পানকারীদের অন্ত্রের জীবাণু ও সেগুলোর তৈরি রাসায়নিক উপাদানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। কফি আবার পান শুরু করার পর মেজাজ, মানসিক চাপ এবং কিছু জ্ঞানীয় কার্যক্রমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, কফির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল নাও হতে পারে। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা কফি পান, অন্ত্রের জীবাণু, বিপাকপ্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করেছেন। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ফলাফলগুলোকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কফি পান এবং স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেই একটি অন্যটির সরাসরি কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন নিয়মিত কফি পান করতেন না। অন্য ৩১ জন সাধারণত প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ কাপ কফি পান করতেন। প্রথমে দুই দলের অন্ত্রের জীবাণু, বিপাকজাত রাসায়নিক উপাদান, মেজাজ, মানসিক চাপ, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি মূল্যায়ন করা হয়। এরপর নিয়মিত কফি পানকারীদের টানা দুই সপ্তাহ কফি পান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এ সময় তাঁদের শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। দুই সপ্তাহ পর অংশগ্রহণকারীদের আবার কফি পান করতে দেওয়া হয়। তাঁদের এক দল ক্যাফেইনযুক্ত এবং অন্য দল ক্যাফেইনমুক্ত কফি পান করেন। এই পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা জানতেন না, তাঁদের কোন ধরনের কফি দেওয়া হচ্ছে। পুনরায় কফি পান করার এই পর্যায় চলে তিন সপ্তাহ। কফি বন্ধ করায় অন্ত্রে কী পরিবর্তন দেখা গেল গবেষণায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি পাওয়া যায় অন্ত্রের বিপাকজাত উপাদানে। এসব উপাদান হলো শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া এবং অন্ত্রের জীবাণুর কার্যক্রমের ফলে তৈরি বা পরিবর্তিত হওয়া ক্ষুদ্র রাসায়নিক পদার্থ। নিয়মিত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ কফি বন্ধ রাখার পর এসব উপাদানের কয়েকটির মাত্রা বদলে যায়। গবেষকেরা অন্ত্রের জীবাণুর গঠনেও পার্থক্য শনাক্ত করেন। নিয়মিত কফি পানকারীদের অন্ত্রে ক্রিপটোব্যাকটেরিয়াম কার্টাম এবং এগারথেলা গোত্রের কিছু জীবাণু তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। দুই সপ্তাহ কফি পান বন্ধ রাখার সময় ক্রিপটোব্যাকটেরিয়াম কার্টাম–এর উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। কফি পুনরায় পান শুরু করলে অন্ত্রের জীবাণুর গঠনে আবার পরিবর্তন আসে। ক্যাফেইনযুক্ত ও ক্যাফেইনমুক্ত—উভয় ধরনের কফির ক্ষেত্রেই কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মানেই তা শরীরের জন্য উপকারী, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। জীবাণুর প্রভাব নির্ভর করে তার ধরন, কার্যক্রম এবং অন্ত্রের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কফির সঙ্গে সম্পর্কিত এসব পরিবর্তন কীভাবে হজম, প্রদাহ এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে, তা আরও বিশদভাবে বোঝা প্রয়োজন। ক্যাফেইনমুক্ত কফিতেও মিলেছে কিছু পরিবর্তন কফি পুনরায় পান করার পর দুই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই নিজেদের অনুভূত মানসিক চাপ, বিষণ্নতার উপসর্গ এবং আবেগপ্রবণ আচরণের কিছু সূচকে উন্নতি দেখা যায়। যেহেতু ক্যাফেইনযুক্ত ও ক্যাফেইনমুক্ত—দুই ধরনের কফি পানকারীদের মধ্যেই এ পরিবর্তন পাওয়া গেছে, তাই এর পেছনে ক্যাফেইন ছাড়াও কফির অন্য উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। দুই দলের মধ্যে শেখা ও স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায়ও পার্থক্য দেখা যায়। ক্যাফেইনমুক্ত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে শেখা ও স্মৃতির কিছু সূচকে উন্নতি পাওয়া যায়, যা ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারীদের মধ্যে একইভাবে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ক্যাফেইনযুক্ত কফির সঙ্গে মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়া এবং উদ্বেগ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কফিতে ক্যাফেইন ছাড়াও পলিফেনলসহ নানা উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। এর মধ্যে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড উল্লেখযোগ্য। এসব যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্ত্রের জীবাণু এগুলোকে ভেঙে আরও কিছু সক্রিয় উপাদানে রূপান্তর করতে পারে। কফির দ্রবণীয় আঁশ ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদানও অন্ত্রের জীবাণুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। ফলে কফির প্রভাব শুধু ক্যাফেইনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। গবেষকেরা কেন সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের অধ্যাপক জন ক্রায়ান বলেছেন, অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে কফি কীভাবে অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যকার যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, তার সব প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার নয়। গবেষণাটি এ বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এতে কেবল সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই ফলাফল সব বয়সী মানুষ কিংবা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই রকম হবে, তা বলা যায় না। গবেষকেরা আরও বলেছেন, ব্যক্তিভেদে অন্ত্রের জীবাণুর গঠন এবং ক্যাফেইন প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা আলাদা হতে পারে। গবেষণার প্রধান বার্তা হলো, কফি পান ও শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কফি অন্ত্রের অসুস্থতা, বিষণ্নতা কিংবা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার চিকিৎসা—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এই গবেষণা সমর্থন করে না। কফি খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, ঘুম ও ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
১৪ বছর পর প্রথম মাংস খেয়েই “এত মজা!” বলে কেঁদে ফেললেন নিরামিষভোজী নারী
প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ