- প্রচ্ছদ
- Topic
কুরআন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন মুসলমানদের কেবল তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেয় করা এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। ধর্মীয় বিভেদ ও সাংস্কৃতিক সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় সহনশীলতা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার হলিউড–পেমব্রোক পার্ক এলাকায় অবস্থিত কইনোনিয়া ওয়ারশিপ সেন্টারে ‘মাল্টিপল ফেইথস, ওয়ান ফ্লোরিডা’ শীর্ষক আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্লিনটন এসব কথা বলেন। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ক্লিনটন বলেন, “মুসলমানদের শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে হেয় করা হচ্ছে—এতে আমি ক্লান্ত।” তাঁর এই বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে অপমান বা বৈষম্যের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বক্তব্যে তিনি নিজের মেয়ে চেলসি ক্লিনটনের কোরআন পাঠের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চেলসি ১৫ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কোরআন পড়েছিলেন এবং পরে বাবাকেও তা পড়তে উৎসাহিত করেন। সেই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ক্লিনটন ধর্মীয় গ্রন্থের শিক্ষা থেকে পারস্পরিক পরিচিতি, বোঝাপড়া ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের ভাবার্থ উল্লেখ করেন। আয়াতটিতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন, যাতে তারা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। ক্লিনটনের বক্তব্যে এই শিক্ষার তাৎপর্য ছিল—মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিরোধের কারণ না বানিয়ে একে অপরকে জানার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই খারাপ আচরণকারী মানুষ থাকতে পারে, কারণ মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোনো ব্যক্তির অন্যায়কে পুরো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়—তাঁর বক্তব্যে এই ধারণাটিই গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় যুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক সংঘাত নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। ক্লিনটনের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে তাঁর বক্তব্যের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। এই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যের সরাসরি বিষয় ছিল মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অপমানের বিরোধিতা। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ সামাজিক সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে মুসলমানদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর অধিকারও সমানভাবে বিবেচ্য।
খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ধর্মপ্রাণ পরিবারের সন্তান সিস্টার ডেইজি। কিন্তু সেই দেশেই মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস, আজানের সুর এবং পবিত্র কোরআনের বক্তব্য তাঁকে নতুন করে ভাবতে শুরু করতে বাধ্য করে। পরবর্তী সাত বছর ধরে বাইবেল ও কোরআন পড়ে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে অনুসন্ধান চালান তিনি। একপর্যায়ে সন্তানদের নিয়ে একটি মসজিদে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁর জীবনের এই পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ডেইজির বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের ধর্মীয় পরিবেশ ও কঠোর অনুশাসনের মধ্যে তাঁর বেড়ে ওঠা। সেই পরিবেশে সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর বিশ্বাস তৈরি হয় তাঁর মনে। পরবর্তী সময়ে মার্কিন দূতাবাসের শিক্ষিকা হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পান ডেইজি। তিনি এই সুযোগকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবে দেখেছিলেন। খ্রিস্টধর্মের প্রতি নিজের বিশ্বাস থেকেই তিনি সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাঁর অভিজ্ঞতা প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্ন হয়ে ওঠে। সেখানে মুসলমানদের মধ্যে হজরত ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা দেখে তিনি বিস্মিত হন। খ্রিস্টধর্মে যিশু ও মেরি হিসেবে পরিচিত এই দুই ব্যক্তিত্ব ইসলামেও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। বিষয়টি ডেইজির মনে গভীর কৌতূহল তৈরি করে। বিশেষ করে পবিত্র কোরআনে যিশুর জন্ম সম্পর্কে বর্ণনা তাঁর মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তিনি অন্যদের সামনে কথা বলতে চেয়েছিলেন, সেই বিশ্বাসের পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহও ক্রমে বাড়তে থাকে। ডেইজির জীবনের এই পরিবর্তন অবশ্য একদিনে ঘটেনি। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি ধর্মীয় সত্য অনুসন্ধান করেন। এ সময় বাইবেলের পাশাপাশি পবিত্র কোরআনও গভীরভাবে পড়তে শুরু করেন। দুই ধর্মের শিক্ষা ও বক্তব্য সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের বিশ্বাস নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করেন। একপর্যায়ে ইসলামের একত্ববাদের ধারণা তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। সৃষ্টিকর্তার একত্ব সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা এবং ধর্মীয় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাঁর বিশ্বাসে পরিবর্তন আসে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশেষে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে একটি মসজিদে যান ডেইজি। সেখানে প্রথমবারের মতো সেজদায় অবনত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে বলে বর্ণনায় বলা হয়েছে। সেই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এভাবেই ইসলাম গ্রহণ করেন ডেইজি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে নিজের মেয়েকেও অনুপ্রাণিত করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেইজির জীবনের এই ঘটনা ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত অনুসন্ধান এবং মানুষের চিন্তায় পরিবর্তনের একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর যাত্রার শুরু হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসকে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ভিন্ন পরিবেশে বসবাস, অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাস সম্পর্কে জানা এবং ধর্মগ্রন্থ পাঠের অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ দেয়। তবে ডেইজির জীবনের এই বিবরণে তাঁর ইসলাম গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তারিখ, সৌদি আরবে তাঁর অবস্থানের সময়কাল এবং পরবর্তী জীবনের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর জীবন সম্পর্কে আরও বিস্তৃত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেলিভারির অর্ডারের অপেক্ষায় মোটরসাইকেলের পাশে বসে কোরআন পড়েন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া। কাজের বিরতিতে তাঁর কোরআন পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় এসেছেন এই ডেলিভারি রাইডার। তবে মনসুর জানিয়েছেন, মানুষের নজরে আসার জন্য নয়, নিজের ধর্মীয় চর্চার অংশ হিসেবেই নিয়মিত কোরআন পড়েন তিনি। গত ১ অক্টোবর প্রকাশিত খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনসুর প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করছেন। গত পাঁচ মাস ধরে তিনি তালাবাতের ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান উগান্ডায় থাকেন। তাঁদের ভালো জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়ে আমিরাতে এসেছেন তিনি। ডেলিভারির কাজে দিনের বড় একটি অংশ রাস্তায় কাটে মনসুরের। এক অর্ডার শেষ করে পরবর্তী অর্ডারের অপেক্ষায় কিছুটা সময় পেলেই সঙ্গে রাখা কোরআন খুলে বসেন। মোটরসাইকেলের পাশে বসে তাঁর এমন একটি মুহূর্তের ভিডিওই সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মানুষের নজর কাড়ে। মনসুরের এই অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর বেদনা। তিনি জানিয়েছেন, বাবা, মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর ধর্মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। প্রায় তিন বছর আগে তিনি কোরআন মুখস্থ করেন। এখন নিয়মিত পড়ার পাশাপাশি মুখস্থ করা অংশগুলো পুনরাবৃত্তি করেন। কাজের বিরতিতে হাতে কোরআন নিয়ে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন বলে খালিজ টাইমসকে জানিয়েছেন মনসুর। এই সময় তিনি প্রয়াত মা-বাবার জন্যও দোয়া করেন। তাঁদের ক্ষমা এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন তিনি। পরিবার থেকে দূরে থেকে জীবিকার দায়িত্ব পালন করছেন মনসুর। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই কোরআন পড়ার জন্য সময় রাখেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আগেও এই অভ্যাস ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আব্বাস প্রামানিকের বয়স ১২৩ বছর। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯০৩ সালে। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে, চলাফেরায় এখন লাঠির প্রয়োজন হয়, কমেছে শ্রবণশক্তিও। তবে এই বয়সেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকার বিষয়টি পরিবারের কাছে বিস্ময়ের। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আব্বাস প্রামানিক এখনো চশমা ছাড়াই কোরআন শরিফ পড়তে পারেন। নিয়মিত নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাঁর এই অভ্যাস দীর্ঘদিনের। দীর্ঘ জীবনে আব্বাস প্রামানিক ব্রিটিশ শাসনের শেষ সময়, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় দেখেছেন। কর্মজীবনে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। একসময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে কোরআন শিক্ষা দেওয়ারও অভ্যাস ছিল তাঁর। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই আব্বাস সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। বিলাসিতা তাঁর পছন্দ ছিল না। জীবনের বড় একটি সময় তিনি হেঁটেই চলাফেরা করেছেন। বর্তমানে বয়সের কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হলেও নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন। আব্বাস প্রামানিকের দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে। স্ত্রী মরিয়ম আক্তার প্রায় ৫০ বছর আগে মারা গেছেন। এখন সন্তান ও নাতি-নাতনিরাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর দেখাশোনা করেন। তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনযাত্রাও কঠিন হয়েছে। বাড়ির অবস্থাও ভালো নয়। চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ সেবা কেন্দ্র তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে বলেও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী ১২৩ বছরের আব্বাস প্রামানিকের জীবন বাংলাদেশের এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হলেও কোরআন পড়ার অভ্যাস এখনো অটুট রয়েছে।
বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম পর্দায় বরাবরই নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে প্রমাণ করেছেন। তবে তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘হক’-এ শাজিয়া বানোর চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি যে পরিশ্রম করেছেন, তা রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক সুপর্ণ বর্মা জানিয়েছেন, এই সিনেমার প্রস্তুতির জন্য ইয়ামি কেবল চিত্রনাট্য মুখস্থ করেননি, বরং দীর্ঘ চার মাস সময় নিয়ে পবিত্র কুরআন তেলওয়াত করা শিখেছেন। এমনকি কুরআনের আরবি উচ্চারণ ও তার অর্থ বোঝার জন্য তিনি নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পরিচালক আরও জানান, সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই সিনেমার বিষয়বস্তু যেহেতু অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আইনি জটিলতা নির্ভর, তাই তারা কোনো ভুল তথ্য দিতে চাননি। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলে ইসলামি আইন বা শরিয়া আইনের ওপর গবেষণা। ইয়ামি গৌতম তার চরিত্রে নিখুঁত হওয়ার জন্য এই গবেষণার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন। সিনেমাটি মূলত শাজিয়া বানো নামের এক নারীর লড়াইয়ের গল্প। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় আইনি লড়াই। নিজের অধিকার বা ‘হক’ আদায়ের এই কাহিনীটি ভারতীয় মুসলিম ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মনিরপেক্ষ আইনের এক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছে। পরিচালক সুপর্ণ বর্মার মতে, বর্তমান সময়ে তথ্যের বিকৃতি ও বিভ্রান্তি রোধ করতেই তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে ‘হক’। বক্স অফিসেও সিনেমাটি প্রায় ৩০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। কোনো রকম চটকদার বিজ্ঞাপন ছাড়াই কেবল কাহিনীর গুণে সিনেমাটি তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।