সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চিকিৎসা

ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন
আমেরিকার টপ ডাক্তার জিয়াউদ্দিনের সিলেটের ২০০ শয্যার কিডনি হাসপাতাল, অসচ্ছলদের ফ্রি চিকিৎসা

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় সিলেটে গড়ে উঠেছে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। অসচ্ছল রোগীদের স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটির নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০০ শয্যার একটি অলাভজনক বিশেষায়িত হাসপাতাল।    ফিলাডেলফিয়ায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিজ অঞ্চলের কিডনি রোগীদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন ডা. জিয়াউদ্দিন। কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেটের বিবরণে তাঁকে এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার সঙ্গে প্রয়াত জাহিন আহমেদ এবং কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আবদুস সালামও যুক্ত ছিলেন।  এই উদ্যোগের শুরু অবশ্য নতুন হাসপাতাল চালুরও কয়েক বছর আগে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সিলেটের উপশহরে অস্থায়ী ডায়ালাইসিস কেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা শুরু হয়। সেখানে ভর্তুকি দিয়ে রোগীদের ডায়ালাইসিস করানো হতো। পরে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    সিলেটের তেমুখী ও বাদাঘাট বাইপাসসংলগ্ন নাজিরেরগাঁওয়ে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। ভবন নির্মাণে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে অনুদান ব্যবহার করা হয়।  হাসপাতালের প্রকাশিত কার্যক্রমের বিবরণে বলা হয়েছে, সেখানে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিনে সেবা দেওয়া হচ্ছে। মোট ডায়ালাইসিস সেশনের ৫৫ শতাংশের বেশি বিনামূল্যে অথবা ভর্তুকিমূল্যে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে কিডনি রোগের চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।    ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি নেওয়া ডা. জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি এবং নেফ্রোলজিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। টেম্পল হেলথের চিকিৎসক পরিচিতিতে তাঁর বিশেষায়িত ক্ষেত্র হিসেবে নেফ্রোলজি উল্লেখ রয়েছে। তাঁর চিকিৎসাসেবার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে ডায়ালাইসিস, নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ এবং সংকটাপন্ন রোগীর কিডনি চিকিৎসা।  ২০২৬ সালে ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিনের ‘টপ ডক্টরস’ তালিকাতেও জায়গা পেয়েছেন তিনি। টেম্পল হেলথের ২১ এপ্রিল প্রকাশিত ঘোষণায় নেফ্রোলজি বিভাগে তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিলেটের হাসপাতাল উদ্যোগে যুক্ত থেকে দেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছেন এই প্রবাসী চিকিৎসক।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিক ও মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের জন্য শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা
মেডিকেয়ারের নতুন নিয়মে বাড়তে পারে চিকিৎসা ব্যয়, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিক ও মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের জন্য শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। ২০২৭ সালে কোন স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের কভারেজ কার্যকর হবে, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নতুন পরিকল্পনা সাধারণত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বছরে মেডিকেয়ারের প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। মেডিকেয়ার পার্ট ডি-তে বার্ষিক নিজস্ব খরচের সর্বোচ্চ সীমা ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ ডলার হতে পারে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাক্টিবল ৬১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলারে যাওয়ার কথা রয়েছে।   এ ছাড়া কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় সুবিধা কমানো হচ্ছে, আবার কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বন্ধও হতে পারে। ফলে আগে যে চিকিৎসক, হাসপাতাল বা ওষুধের সুবিধা পাওয়া যেত, নতুন পরিকল্পনায় সেগুলো একইভাবে পাওয়া যাবে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।   মেডিকেয়ার ব্যবহারকারীদের শুধু মাসিক প্রিমিয়াম দেখে পরিকল্পনা নির্বাচন না করে চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক, হাসপাতালের সুবিধা, ওষুধের কভারেজ, ডিডাক্টিবল এবং নিজস্ব খরচের সীমা তুলনা করা উচিত। কম প্রিমিয়ামের পরিকল্পনায় অন্য খাতে বেশি খরচ হতে পারে। আবার বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসক বা ওষুধ নতুন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত না থাকলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও ব্যয়বহুল হতে পারে।   যাঁরা মেডিকেয়ার সুবিধা পান, তাঁরা সরকারি Medicare.gov ওয়েবসাইটে নিজেদের এলাকার পরিকল্পনাগুলো তুলনা করতে পারেন। প্রয়োজনে ১-৮০০-MEDICARE নম্বরে যোগাযোগ করেও তথ্য নেওয়া যায়। পরিকল্পনা পরিবর্তনের আগে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, নিয়মিত ওষুধ এবং চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   এই পরিবর্তনগুলো বিশেষভাবে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করলে নতুন বছরে চিকিৎসা ব্যয় ও কভারেজ নিয়ে অপ্রত্যাশিত সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন
আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন

গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় নিজে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারালে কী ধরনের চিকিৎসা চান, তা আগে থেকে লিখে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই লিখিত নির্দেশনাকে বলা হয় লিভিং উইল। পাশাপাশি নিজের হয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিশ্বস্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। তবে লিভিং উইল এবং সেই প্রতিনিধি নিয়োগের নথি এক নয়।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি সময়ে পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন জায়গায় থাকতে পারেন, চিকিৎসা নিয়েও তাঁদের মত আলাদা হতে পারে। নিজের ইচ্ছা আগে থেকে জানিয়ে রাখলে চিকিৎসক ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।   লিভিং উইলে মূলত চিকিৎসা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ইচ্ছা লেখা থাকে। যেমন, কোন পরিস্থিতিতে ভেন্টিলেটর, কৃত্রিমভাবে খাবার ও পানি দেওয়া কিংবা জীবন দীর্ঘায়িত করার চিকিৎসা চান। এটি মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের সাধারণ উইল থেকে আলাদা।   নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, লিভিং উইলের জন্য নির্দিষ্ট একটিমাত্র বাধ্যতামূলক ফর্ম নেই। রাজ্যটিতে এ বিষয়ে পৃথক আইন না থাকলেও সর্বোচ্চ আদালত রোগীর ইচ্ছার স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হিসেবে লিভিং উইলকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই কোন পরিস্থিতিতে কী চিকিৎসা চান, তা পরিষ্কারভাবে লেখা গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে, হেলথ কেয়ার প্রক্সি হলো এমন একটি নথি, যার মাধ্যমে নিজের হয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একজন হেলথ কেয়ার এজেন্ট নিয়োগ করা যায়। শুধু লিভিং উইলে কারও নাম লিখলেই নিউইয়র্কে তাঁকে এই আইনি দায়িত্ব দেওয়া হয় না। আর্থিক বিষয় পরিচালনার সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নিও হেলথ কেয়ার প্রক্সির বিকল্প নয়।    নিউইয়র্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এমন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি হেলথ কেয়ার প্রক্সি করতে পারেন। এতে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী প্রয়োজন। নিযুক্ত এজেন্ট বা বিকল্প এজেন্ট সাক্ষী হতে পারবেন না। এই নথির জন্য আইনজীবী বা নোটারি বাধ্যতামূলক নয়।   চিকিৎসক যখন নির্ধারণ করেন যে রোগী নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, তখন এজেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শুরু হয়। রোগী সক্ষমতা ফিরে পেলে আবার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এজেন্টকে রোগীর ইচ্ছা, মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করতে হয়।   বিশেষ করে ফিডিং টিউব বা শিরার মাধ্যমে খাবার ও পানি দেওয়ার বিষয়ে নিজের ইচ্ছা এজেন্টকে জানানো জরুরি। নিউইয়র্কের নিয়ম অনুযায়ী, এ বিষয়ে রোগীর ইচ্ছা জানা না থাকলে এজেন্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। হেলথ কেয়ার প্রক্সি এজেন্টকে রোগীর আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দেয় না।   নথির কপি এজেন্ট, বিকল্প এজেন্ট ও চিকিৎসকের কাছে রাখা উচিত। বাড়িতেও এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখান থেকে প্রয়োজনের সময় সহজে পাওয়া যায়। হাসপাতালে ভর্তি বা অস্ত্রোপচারের সময় সঙ্গে কপি রাখার পরামর্শ দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর।    লিভিং উইলের সঙ্গে ডিএনআর বা ডু নট রিসাসিটেট নির্দেশনাকেও এক করে দেখা ঠিক নয়। ডিএনআর মূলত হৃদ্‌যন্ত্র বা শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হলে সিপিআর না দেওয়ার মেডিকেল অর্ডার। এর অর্থ সব চিকিৎসা, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ বা আরাম দেওয়ার সেবা বন্ধ করা নয়। লিভিং উইলে নিজের ইচ্ছা লিখে রাখা এবং কার্যকর ডিএনআর অর্ডার তৈরি করা পৃথক প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যেও ডিএনআরকে সিপিআরসংক্রান্ত নির্দেশনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।    হেলথ কেয়ার প্রক্সি না থাকলেই হাসপাতাল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, এমন ধারণাও সঠিক নয়। নিউইয়র্কে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে আগে থেকে প্রতিনিধি বেছে রাখলে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে।   সরকারি দপ্তরের বিনামূল্যের ফর্ম ব্যবহার করা যায়। আইনজীবীর সহায়তা নিলে ফি সেবার ধরন অনুযায়ী বদলাবে। লিভিং উইল স্বাক্ষরের সময় দুজন সাক্ষী রাখার পরামর্শ দিয়েছে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর। অন্য রাজ্যে ব্যবহার করতে হলে সেখানকার সাক্ষী ও নোটারির নিয়মও যাচাই করা প্রয়োজন।   এসব নথি করার অর্থ চিকিৎসা প্রত্যাখ্যান করা নয়। কোন চিকিৎসা চান এবং কোন পরিস্থিতিতে চান না, দুটিই জানানো যায়। নিয়ম রাজ্যভেদে আলাদা হওয়ায় নিজের রাজ্যের নির্দেশনা অনুসরণ এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য ফল নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করাই প্রস্তুতির মূল অংশ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
হারপিসের চিকিৎসায় নতুন মুখে খাওয়ার ওষুধ
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের

হারপিসের সংক্রমণে আক্রান্ত যেসব রোগীর শরীর প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে সাড়া দিচ্ছে না, তাঁদের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘প্রিটেলিভির’ নামের মুখে খাওয়ার এই ওষুধটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাঁদের হারপিসের ঘা প্রচলিত চিকিৎসায় সারছে না।   গত ৯ অক্টোবর ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বাণিজ্যিক নাম হোভিলপ্রি। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আসাহি কাসেই ওষুধটি বাজারজাত করবে। তবে ওষুধটি সব ধরনের হারপিস সংক্রমণের জন্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসায় কাজ না করলে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণত ঠোঁট, নাক, চোখ, যৌনাঙ্গ কিংবা ত্বক ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির অন্যান্য স্থানে ঘা বা ফোসকা দেখা দিতে পারে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর থেকে যায়। বর্তমানে এর সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল করার চিকিৎসা নেই। তবে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাধারণত অ্যাসাইক্লোভির, ভ্যালাসাইক্লোভির ও ফ্যামসাইক্লোভিরের মতো ওষুধ হারপিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এসব ওষুধে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রচলিত ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতাও তৈরি করে। ফলে ঘা সারানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ওষুধটির বিশেষত্ব হলো, এটি প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মতো একই পদ্ধতিতে কাজ করে না। প্রিটেলিভির ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়। এর ফলে ভাইরাস নিজের জিনগত উপাদানের অনুলিপি তৈরি করতে পারে না এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। প্রচলিত কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ কাজ করার আগে ভাইরাসের একটি এনজাইমের মাধ্যমে সক্রিয় হতে হয়। ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। প্রিটেলিভিরের কাজ করার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি নতুন বিকল্প হতে পারে। ওষুধটির অনুমোদনের পেছনে রয়েছে ১০১ জন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত শেষ পর্যায়ের একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। এতে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে যাঁরা প্রিটেলিভির পেয়েছিলেন, তাঁদের ৬২ দশমিক ৭ শতাংশের ঘা ২৮ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সেরে যায়। অন্য চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। পরীক্ষায় প্রিটেলিভিরের সঙ্গে চিকিৎসকদের বেছে নেওয়া অন্যান্য চিকিৎসার ফল তুলনা করা হয়। এসব চিকিৎসার মধ্যে ছিল শিরায় প্রয়োগ করা ফসকারনেট এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে প্রয়োগ করা সিডোফোভির ও ইমিকুইমড। ফসকারনেট এমন রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প, যাঁদের প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে কাজ হচ্ছে না। পরীক্ষায় প্রিটেলিভির গ্রহণকারীদের মধ্যে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি এবং মাথা ঘোরার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে ওষুধের উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা প্রয়োজন। নতুন ওষুধ অনুমোদিত হওয়া মানেই এটি সব রোগীর জন্য উপযুক্ত বা ঝুঁকিমুক্ত—এমন নয়। ওষুধটির সম্ভাব্য বাজার নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। আসাহি কাসেইয়ের আগের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রায় ১৫ হাজার রোগীর জন্য প্রিটেলিভির কার্যকর চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগের মধ্যে ওষুধটির বার্ষিক বিক্রি ৪০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক অনুমান, নিশ্চিত বিক্রির হিসাব নয়। প্রিটেলিভিরের অনুমোদন এমন রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করেছে, যাঁদের হারপিসের সংক্রমণ প্রচলিত ওষুধে নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিশেষ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় যাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে পারে। তবে এর ব্যবহার নির্দিষ্ট রোগীদের মধ্যেই সীমিত থাকবে। রোগীর অবস্থা, আগের চিকিৎসার ফল এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওষুধটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা
১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একের পর এক গর্ভপাত, চিকিৎসার ব্যর্থতা এবং গর্ভেই যমজ সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে ২০টি সন্তান হারানোর পর একসময় মা হওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী পরমজিৎ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও গর্ভধারণ করেন তিনি। এবার সুস্থ যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটান এই নারী।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরমজিৎ ও তাঁর স্বামী নামিন্দরের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সন্তান নেওয়ার জন্য এই দম্পতিকে একাধিকবার চিকিৎসার সহায়তা নিতে হয়েছে। আইভিএফ চিকিৎসা, বারবার গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং খুব প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভ নষ্ট হওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা।   তবে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি আসে ২০১৮ সালে। সে বছর যমজ পুত্রসন্তানের মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন পরমজিৎ। সন্তান দুটির নামও রেখেছিলেন তাঁরা, অমৃত ও ফতেহ। কিন্তু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। এটি গর্ভাবস্থার একটি জটিলতা, যেখানে মায়ের রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।   পরমজিৎ জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় শারীরিক সমস্যার কথা চিকিৎসকদের জানালেও প্রথমদিকে তাঁর উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁকে বলা হয়েছিল, এসব উপসর্গ গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে জানা যায়, তাঁর একটি সন্তানের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য সন্তানটিকেও আর বাঁচানো সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়।   শেষ পর্যন্ত যমজ দুই সন্তানকেই হারান পরমজিৎ ও নামিন্দর। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা টুইনস ট্রাস্টের প্রকাশিত বিবরণেও ২০১৮ সালে তাঁদের যমজ সন্তান অমৃত ও ফতেহকে হারানোর ঘটনাটি উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে সন্তান দুটিকে হারান পরমজিৎ।   এই ঘটনা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরমজিৎ জানিয়েছেন, যমজ সন্তান হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়াও তাঁর কাছে কঠিন হয়ে উঠেছিল। সন্তান হারানোর শোক তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ওপরও চাপ তৈরি করেছিল।   তবু মা হওয়ার আশা পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি তিনি। পরবর্তী কয়েক বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান এই দম্পতি। কিন্তু বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে একপর্যায়ে নতুন করে চেষ্টা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।   ২০২২ সালে ভারতে সফরের সময় পরমজিতের জীবনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি অমৃতসর এবং শিখ ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান হজুর সাহিবে যান। সেখানে প্রার্থনা করেন, জীবনে যদি আবার সন্তান আসে, তাহলে সেই সন্তানকে নিয়ে তিনি পুনরায় সেখানে ফিরবেন।   পরমজিতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, আবারও গর্ভবতী হয়েছেন। গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মাথায় পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে।   খবরটি আনন্দের হলেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে উদ্বেগও তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। কারণ এর আগেও যমজ সন্তান হারিয়েছিলেন তিনি। নতুন গর্ভধারণের পর একই ধরনের জটিলতা আবার দেখা দিতে পারে কি না, সেই আশঙ্কা ছিল।   চিকিৎসকেরা তাঁর আগের গর্ভধারণ ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইতিহাস বিবেচনায় রেখে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখেন। পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং সন্তানদের বিকাশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।   অবশেষে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন পরমজিৎ। দুই মেয়ের নাম রাখা হয় আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষা এবং একের পর এক সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর এই দুই শিশুর জন্ম তাঁদের পরিবারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।   পরমজিৎ জানিয়েছেন, জন্মের পর প্রথমবার দুই মেয়েকে কোলে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। এত দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বহন করার পর শেষ পর্যন্ত দুই মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।   প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আভনূর ও আজুনি এখন প্রায় তিন বছর বয়সী। সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে পরমজিৎ ও নামিন্দরের। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, শারীরিক জটিলতা ও মানসিক চাপের পর তাঁদের পারিবারিক জীবনে এসেছে পরিবর্তন।   নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে সন্তান হারানো কিংবা দীর্ঘদিন গর্ভধারণে সমস্যার মুখোমুখি হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান পরমজিৎ। তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে থাকা নারীদের জন্য মানসিক সহায়তা এবং চিকিৎসকদের যথাযথ মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষ করে ২০১৮ সালে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে গর্ভাবস্থায় শারীরিক উপসর্গ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া সাধারণত গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পর দেখা দিলেও কিছু ক্ষেত্রে এর আগে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের ওপরের অংশে ব্যথা এবং হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই উপসর্গ দেখা যায় না।   পরমজিতের জীবনের এই ঘটনা একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা, বারবার গর্ভপাতের মানসিক প্রভাব এবং জটিল গর্ভাবস্থায় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তবে তাঁর সফল গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা থেকে সব দম্পতির ক্ষেত্রে একই ফলাফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা এবং ২০টি সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর শেষ পর্যন্ত দুই কন্যাসন্তানকে কোলে পেয়েছেন পরমজিৎ। একসময় যে দম্পতি আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আজ তাঁদের সংসারে বেড়ে উঠছে আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ব্যক্তিগত শোক এবং চিকিৎসার নানা জটিলতা পেরিয়ে এই দুই শিশুর জন্মই এখন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার ৪০টি ছুরি
পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, পরীক্ষায় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলীতে মিলল ৪০টি ছুরি

তীব্র পেটব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর এক ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে বের করা হলো ৪০টি ছুরি। ২০১৬ সালের আগস্টে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের একটি হাসপাতালে ঘটে এই ঘটনা। ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশ সদস্য প্রায় দুই মাস ধরে একের পর এক ছুরি গিলে ফেলেছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করেন। পরে আরও পরীক্ষা করে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত ১২টি ছুরির সন্ধান পান তাঁরা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪০টি ছুরি।   হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকদের প্রথমে ধারণা হয়েছিল, তাঁর পাকস্থলীতে হয়তো টিউমার বা ক্যানসারজাতীয় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। এ কারণে তাঁর এন্ডোস্কপি ও সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, পাকস্থলীর ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ধাতব বস্তু। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো আসলে বিভিন্ন আকারের ছুরি।   চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করা হয়। কিন্তু পাকস্থলীর ভেতরে আরও কিছু রয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকায় পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন আরও ১২টি ছুরির সন্ধান মেলে। সেগুলোও বের করে আনা হয়।   ছুরিগুলোর সব কটিই একই অবস্থায় ছিল না। কিছু ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল, কিছু খোলা ছিল, আবার কয়েকটি মরিচা ধরে ভেঙেও গিয়েছিল। খোলা ছুরিগুলোর কোনো কোনোটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। এগুলোর ধারালো অংশ পাকস্থলীর দেয়ালে ক্ষত তৈরি করেছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীরের ভেতরে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণও হয়।   চিকিৎসকদের কাছে ওই ব্যক্তি জানান, প্রথমবার ছুরি গেলার পর তাঁর অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে দিনে একটি করে ছুরি গিলতেন বলে জানান। কেন এমন করতেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।   অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক জতিন্দর মালহোত্রা জানান, তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে এ ধরনের ঘটনা আগে দেখেননি। রোগীর আচরণের পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাই অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগ নিশ্চিত করা হয়নি।   অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না। এই ঘটনা চিকিৎসকদের কাছেও ছিল অত্যন্ত বিরল ও জটিল। শরীরের ভেতরে ধারালো বস্তু প্রবেশ করানো প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে। তাই এমন কোনো প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
উচ্চতা বাড়ানোর জন্য দেড় লাখ ডলার খরচ করে ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়াতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অপারেশন, ছেলের পাশে দাঁড়ালেন বাবা

উচ্চতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি কাটাতে পায়ের হাড় লম্বা করার অস্ত্রোপচার করিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আল্ট্রাম্যারাথন দৌড়বিদ অ্যারন ত্রিন। এ জন্য তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী এই অঙ্কে পরিবর্তন হতে পারে। ছেলের অস্ত্রোপচারের পুরো খরচ বহন করেছেন তাঁর বাবা। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অ্যারনের উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি থেকে বেড়ে ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের জন্য তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন, তীব্র স্নায়বিক ব্যথা এবং আবার হাঁটতে শেখার মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন ও জীবনধারাবিষয়ক সাময়িকী পিপলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যারন জানান, আশপাশের মানুষের তুলনায় নিজেকে খাটো মনে করা এবং উচ্চতা নিয়ে বৈষম্যের অভিজ্ঞতা তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। অন্যদের তুলনায় নিজেকে আলাদা মনে হওয়ার বিষয়টি ধীরে ধীরে তাঁর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত পায়ের হাড় লম্বা করার অস্ত্রোপচারের বিষয়ে জানতে শুরু করেন তিনি। অ্যারনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন বাবা, যিনি নিজেও সারা জীবন উচ্চতা নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।   অ্যারনের বাবা নিজেও মাত্র ৫ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা। তাঁর দাবি, উচ্চতার কারণে পরিবার থেকে শুরু করে পরিচিতজন এবং কর্মক্ষেত্রেও তাঁকে নানা ধরনের অবমূল্যায়নের অভিজ্ঞতা পেতে হয়েছে। পিপলকে তিনি জানান, নিজের উচ্চতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিতে ছিলেন এবং অনেক সময় সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে চলতেন। অন্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিচ থেকে তাকাতে হওয়া কিংবা অন্যদের তাঁর দিকে নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলার বিষয়টি তাঁকে বিব্রত করত। নিজের অভিজ্ঞতার কারণে ছেলের অনুভূতি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তে তাঁকে সমর্থন দেন।   অ্যারন জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর উচ্চতা নিয়ে বাবা সচেতন ছিলেন। তাঁকে লম্বা করতে সহায়ক হবে বলে মনে করে সকালে দুধ পান করানোর মতো অভ্যাসও গড়ে তুলেছিলেন তাঁর বাবা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পায়ের হাড় লম্বা করার অস্ত্রোপচারসংক্রান্ত একটি ভিডিও দেখে অ্যারনের আগ্রহ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে খোঁজাখুঁজির পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থিত প্যালে অর্থোপেডিক অ্যান্ড স্পাইন ইনস্টিটিউটের সন্ধান পান তিনি। এরপর চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।   অ্যারনের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পুরো খরচ বহনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। এই সিদ্ধান্তকে বাবা-ছেলের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, নিজের যৌবনে এই প্রযুক্তি সহজলভ্য থাকলে তিনিও হয়তো একই ধরনের অস্ত্রোপচার করাতেন। তবে তাঁরা বিষয়টি অ্যারনের মায়ের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন। অস্ত্রোপচারের আগের দিন তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়।   ২০২৫ সালের মে মাসে অ্যারনের প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় পায়ের হাড়ে অস্ত্রোপচার করে বিশেষ ধাতব যন্ত্র বসানো হয়। পরে শরীরের বাইরে থেকে চুম্বকীয় প্রযুক্তির সাহায্যে যন্ত্রটির দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, যাতে হাড়ের দুই অংশের মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়ে এবং নতুন হাড় গঠনের সুযোগ তৈরি হয়। চিকিৎসাপদ্ধতি অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় এক মিলিমিটার করে হাড় লম্বা করা সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এ সময় পেশি, স্নায়ু ও আশপাশের অন্যান্য টিস্যুকে নতুন দৈর্ঘ্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।   অ্যারন জানান, অস্ত্রোপচারের দিন তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে পরে তাঁর কাছে অস্ত্রোপচারের দিনটিকেই পুরো অভিজ্ঞতার তুলনায় সবচেয়ে সহজ মনে হয়েছে। সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল স্নায়বিক ব্যথা সহ্য করা। কখনো কখনো ব্যথার তীব্রতায় তাঁকে চিৎকার করে উঠতে হয়েছে এবং কেঁদেও ফেলেছেন। তবু তাঁর মতে, কষ্টটি সহনীয় ছিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অনুতপ্ত নন।   অস্ত্রোপচারের প্রায় আট মাস পর নিজের উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয়টি দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে অনুভব করতে শুরু করেন অ্যারন। আগে হাত বাড়িয়ে সহজেই যেসব জিনিসে পৌঁছাতে পারতেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে এখন তাঁকে আরও দূরে হাত বাড়াতে হচ্ছিল। তখনই তাঁর কাছে পরিবর্তনটি বাস্তব বলে মনে হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরপরই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হয়নি। নতুন উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে আবার হাঁটাচলার স্বাভাবিক সক্ষমতা ফিরে পেতে দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পায়ের হাড়ে বসানো ধাতব যন্ত্র অপসারণের জন্য পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় আরেকটি অস্ত্রোপচারও করাতে হয়।   বর্তমানে ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অ্যারন নিজের পড়াশোনা শেষ করা, পেশাগত জীবন এবং সামাজিক সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দিতে চান। তিনি বলেন, উচ্চতা নিয়ে আগের অস্বস্তি কমে যাওয়ায় এখন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মানসিকভাবে মনোযোগ দিতে পারছেন। নিজের শরীর ও মন নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিতে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তটি অন্যদের দেখানোর জন্য ছিল না, বরং নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার জন্যই এটি করেছিলেন।   অ্যারন তাঁর সিদ্ধান্তকে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য পরিবর্তনের বিষয় হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, নিজের উন্নতির জন্য কেউ পরিশ্রম করতে চাইলে অন্যের তা নিয়ে বিচার করার অধিকার নেই। তবে পায়ের হাড় লম্বা করার অস্ত্রোপচার একটি বড় চিকিৎসাপদ্ধতি, যার সঙ্গে ব্যথা, দীর্ঘ পুনর্বাসন এবং জটিলতার ঝুঁকি জড়িত। তাই এ ধরনের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি।   সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জন্মের পূর্বেই শিশুর ফুসফুসের টিউমারের চিকিৎসা! চীনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন মাইলফলক
জন্মের পূর্বেই শিশুর ফুসফুসের টিউমারের চিকিৎসা! চীনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন মাইলফলক

গর্ভাবস্থার মাত্র ২২ সপ্তাহে অনাগত এক শিশুর ফুসফুসে দ্রুত বেড়ে ওঠা বিরল জন্মগত অস্বাভাবিকতা চিকিৎসায় নতুন সাফল্য দেখিয়েছেন চীন ও হংকংয়ের চিকিৎসকেরা। আল্ট্রাসাউন্ডের সহায়তায় সূক্ষ্ম একটি নিডল গর্ভের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে মাইক্রোওয়েভ শক্তির মাধ্যমে অস্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যু ধ্বংস করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ভ্রূণের মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন বা সিপিএএম চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।   শেনঝেন বাওআন উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকেরা যৌথভাবে এই জটিল চিকিৎসা সম্পন্ন করেন। চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক পিয়ার রিভিউড জার্নাল আল্ট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনেকোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভের শিশুটির ফুসফুসে যে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে সেটি দ্রুত বড় হচ্ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মাইক্রোসিস্টিক সিপিএএম। এটি ফুসফুসের একটি বিরল জন্মগত গঠনগত সমস্যা, যেখানে স্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যুর জায়গায় অস্বাভাবিক সিস্ট বা টিস্যু তৈরি হতে পারে।   বড় আকারের সিপিএএম ভ্রূণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অস্বাভাবিক টিস্যু বেড়ে গেলে সেটি বুকের ভেতরের অন্য অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ, শরীরে তরল জমা বা হাইড্রপস ফিটালিস এবং গর্ভের শিশুর জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন ব্যবহার করেন। রিয়েল টাইম আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিডলের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে সেটি অস্বাভাবিক টিস্যুর ভেতরে নেওয়া হয়। এরপর মাইক্রোওয়েভ শক্তি প্রয়োগ করা হয়।   মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনে টিস্যুর ভেতরের পানির অণু দ্রুত কম্পিত হয়ে তাপ তৈরি করে। সেই তাপ নির্দিষ্ট অংশের অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করে। লক্ষ্য থাকে আশপাশের সুস্থ টিস্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখা।   চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল গর্ভের ভেতরে অত্যন্ত ছোট জায়গায় কাজ করা এবং একই সঙ্গে মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিডলের প্রতিটি নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করেই চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসার পর ফুসফুসের অস্বাভাবিক অংশের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ফলে বুকের ভেতরে অন্য অঙ্গের ওপর তৈরি হওয়া চাপও কমতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা এই ফলাফলকে ফিটাল থেরাপির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিপিএএমকে সাধারণ অর্থে ক্যানসার বা প্রচলিত টিউমার বলা সঠিক নয়। এটি মূলত জন্মগত ফুসফুসের অস্বাভাবিক বিকাশ বা ম্যালফরমেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে কখনো কখনো “ফুসফুসের টিউমার অপসারণ” হিসেবে বর্ণনা করা হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে “অস্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যু” বা “ফুসফুসের জন্মগত ম্যালফরমেশন” বলা বেশি নির্ভুল।   গর্ভের শিশুর ফুসফুসের জটিল রোগে জন্মের আগেই চিকিৎসা নতুন নয়। এর আগে সিপিএএমের গুরুতর ক্ষেত্রে স্টেরয়েড, তরল নিষ্কাশন, শান্ট বসানো, স্ক্লেরোথেরাপি এবং রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বিশাল মাইক্রোসিস্টিক সিপিএএমে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনের এই প্রয়োগকে চিকিৎসকেরা নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন।   এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুতর সিপিএএমের সঙ্গে হাইড্রপস ফিটালিস যুক্ত হলে ভ্রূণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ কারণেই দ্রুত বড় হতে থাকা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করা ক্ষেত্রে গর্ভের ভেতরেই চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।   তবে নতুন এই পদ্ধতিকে এখনই সবার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। প্রকাশিত ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট কেসের অভিজ্ঞতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বুঝতে আরও রোগী, দীর্ঘ অনুসরণ এবং বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিটাল থেরাপির মূল লক্ষ্য হলো জন্মের আগে এমন গুরুতর সমস্যায় হস্তক্ষেপ করা, যা অপেক্ষা করলে শিশুর জীবন বা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শেনঝেন ও হংকংয়ের চিকিৎসকদের এই সাফল্য সেই ক্ষেত্রেই নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
চোখের যত্নে প্রতিদিনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে কিছু অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার অগ্রগতি ধীর করা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের চক্ষুবিদ্যার অধ্যাপক ড. ডগলাস লাজারো।   লাজারোর মতে, বংশগত কারণ ও বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের বড় কারণ হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে সাতটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন।   এর মধ্যে প্রথমটি হলো রোদে বের হলে চোখের সুরক্ষা না নেওয়া। দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া ছানি পড়ার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লাজারো জানিয়েছেন, তাঁর নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় তিন দশক আগের তুলনায় এখন পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেই ছানি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উজ্জ্বল রোদে সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   দ্বিতীয় অভ্যাস হলো কম আলোয় পড়াশোনা বা বই পড়া। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে এবং কোনো কিছুর ওপর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অল্প আলো থেকে উজ্জ্বল আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে অন্ধকারে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   তৃতীয় বিষয়টি হলো অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস। পুষ্টিকর খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এসব রোগ চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লাজারোর মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন।   চতুর্থ অভ্যাস হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা বা ড্রাই আই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। এতে চোখ লাল, চুলকানি ও অস্বস্তি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থাকার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। এতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ কর্নিয়া আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।   পঞ্চম অভ্যাস হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন লাজারো। এ ধরনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে গ্লুকোমা এবং চোখের কিছু রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বেশি উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাতে রক্তসঞ্চালনে ওঠানামার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর মত।   ষষ্ঠ অভ্যাস হলো বারবার চোখ ঘষা। লাজারোর মতে, চোখ ঘষার অভ্যাস কেরাটোকোনাসের একটি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেরাটোকোনাস এমন একটি চোখের সমস্যা, যেখানে কর্নিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে সামনে দিকে উঁচু হয়ে শঙ্কুর মতো আকৃতি নিতে পারে। চোখ ঘষার অভ্যাস সরাসরি এ রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পুরোপুরি একমত না থাকলেও বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   সপ্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো। গ্লুকোমা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম উপায় বলে জানিয়েছেন লাজারো। তিনি গ্লুকোমাকে এমন একটি রোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দৃষ্টিশক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপও বাড়তে পারে।   লাজারো প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। মধ্যবয়সে প্রেসবায়োপিয়া নামের একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কাছের জিনিসে ফোকাস করতে সমস্যা হতে পারে এবং অনেকের পড়ার চশমার প্রয়োজন হয়।   তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চোখের পাতায় ত্বকের ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার সঙ্গে ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের পাশাপাশি চোখের পাতার কিছু ক্যানসারের সম্পর্কও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।   চোখের রোগের ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোদে চোখের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আলোয় পড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো চোখের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
মেডিকেইড
মেডিকেইড কভারেজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা, নতুন নিয়ম কার্যকর, চিকিৎসা কীভাবে চলবে?

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশের জন্য মেডিকেইডের নতুন যোগ্যতার নিয়ম ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে এতদিন মেডিকেইডের আওতায় থাকা কিছু অভিবাসী এখন কভারেজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে এই পরিবর্তন সব বৈধ অভিবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, আয়, অঙ্গরাজ্য এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে তিনি মেডিকেইড সুবিধা পাবেন কি না।   নতুন নিয়মের প্রভাব নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রবাসী কমিউনিটিতে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অনেকের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কভারেজ না থাকলে চিকিৎসার খরচ কীভাবে চালাবেন।   মিশিগান থেকে সামসুল হক আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন, নতুন পরিবর্তনের মধ্যে তিনি তার মেডিকেইড কভারেজ হারিয়েছেন। সামসুল হকের একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এবং নিয়মিত বেশ কয়েকটি ওষুধ সেবন করতে হয়। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। কভারেজ হারানোর পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কভারেজ ফিরে পাওয়া যায় কি না কিংবা বিকল্প কোনো হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা জানতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সহায়তাকারী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।   সামসুল হকের অভিজ্ঞতা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্য প্রবাসীদের করণীয় কী। কারণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা একজন রোগীর জন্য হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ হারানো মানে শুধু একটি সরকারি সুবিধা হারানো নয়। নিয়মিত ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ চালিয়ে যাওয়াও তখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।   ২০২৫ সালে পাস হওয়া ফেডারেল ব্যয় আইনের মাধ্যমে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচিতে বৈধ অভিবাসীদের যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন স্ট্যাটাস ফেডারেল অর্থায়নে পূর্ণ মেডিকেইড কভারেজের জন্য আর যোগ্য থাকছে না। তবে গ্রিন কার্ডধারীসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী এখনো যোগ্য থাকতে পারেন এবং কিছু অঙ্গরাজ্যে নিজস্ব অর্থায়নে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও রয়েছে।   এ কারণে মেডিকেইড কভারেজ হারানোর বিষয়টি সবার জন্য এক নয়। একজন অভিবাসীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, আয়, বয়স, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং তিনি কোন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন, তার ওপর যোগ্যতা নির্ভর করতে পারে। ফলে অন্য কারও কভারেজ বন্ধ হয়েছে শুনে নিজের কভারেজও বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   তবে যাদের কভারেজ ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের জন্য বিষয়টি জরুরি। বিশেষ করে যাদের নিয়মিত ওষুধ বা চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের কভারেজের বিকল্প খুঁজে বের করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড অফিস, হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং যোগ্য অভিবাসীদের সহায়তা করা বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে বিকল্পের তথ্য নেওয়া যেতে পারে।   জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি মেডিকেইডের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি পূর্ণ মেডিকেইড কভারেজের বিকল্প নয় এবং সাধারণ চিকিৎসা বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার সব খরচ এতে কভার হয় না।   সামসুল হকের মতো যাদের নিয়মিত চিকিৎসা চলছে, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কভারেজ হারানোর কারণটি নিশ্চিত করা এবং নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও আয়ের ভিত্তিতে অন্য কোনো স্বাস্থ্যবীমা বা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য যোগ্যতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা।   মেডিকেইডের নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও চিকিৎসার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে কভারেজ হারানো প্রবাসীদের জন্য এখন দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নিজের যোগ্যতা যাচাই এবং বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার সন্ধান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ায় গবেষণাকর্মীর মৃত্যুর পর প্লেগের আশঙ্কা
রাশিয়ায় গবেষণাকর্মীর মৃত্যুর পর প্লেগের আশঙ্কা, পর্যবেক্ষণে প্রায় ২০০ গবেষক

রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে প্লেগে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়ালেও রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ বিবৃতিতে রোগটিকে ‘অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায় মৃত নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা এবং বয়স ২৮ বছর। তিনি ইরকুতস্কের একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ২৯ সেপ্টেম্বর তীব্র নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে তিনি শেলেখভের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।   পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াযুক্ত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যাওয়ার কথাও উঠে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী চিকিৎসকদের ঘটনাটি জানিয়েছিলেন। তবে পরীক্ষাগারে দুর্ঘটনা থেকে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসপত্রেবনাদজোর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রোগজীবাণু নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।    মেদুজা রেন টিভির বরাতে জানিয়েছে, ১৮৯ জনকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ নেই। তাঁদের পরীক্ষার ফল নেতিবাচক হওয়ার কথা জানা গিয়েছে ।    প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রধান আলেক্সেই সিদেনভ প্রথমে ওই নারীর প্লেগে মৃত্যুর কথা বলেছিলেন। পরে তিনি পোস্টের ভাষা সংশোধন করে প্লেগে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন। বুরিয়াতিয়ায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেই বলেও জানান তিনি। ফলে তাঁর প্রাথমিক বক্তব্যকে মৃত্যুর কারণের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।    রবিবার, ৪ অক্টোবর রসপত্রেবনাদজোর জানিয়েছে, ওই কর্মীর রোগ শনাক্ত করা হয়েছে অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়া হিসেবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে সংস্থাটির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রোগীর নমুনার বিস্তৃত পরীক্ষায় তাঁর পেশাগত কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্ক অঞ্চল এবং ইরকুতস্ক ও শেলেখভ শহরের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নজরেও এসেছে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সন্দেহভাজন প্লেগ সংক্রমণ ও সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ওই নারীর প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। পর্যবেক্ষণে থাকা প্রায় ২০০ জনকেও নিশ্চিত প্লেগ রোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।    সূত্র: আরটিভি, তাস, মেদুজা, ইউরোনিউজ ও অ্যাক্সিওস।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!

নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথা নিয়ে ইমার্জেন্সি রুমে যাওয়ার সময় হাসপাতালের বিলের চেয়ে জরুরি হলো দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া। তবে চিকিৎসার পর কত টাকা রোগীকে দিতে হবে, তা বুঝতে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কভারেজ, হাসপাতালে থাকার স্ট্যাটাস, অ্যাম্বুলেন্সের বিল এবং ফলোআপ পরীক্ষার নিয়ম জানা প্রয়োজন। বাংলাদেশি কমিউনিটির পাঠকদের জন্যও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চারটি ভুলের কারণে সবার ১০ হাজার ডলার বিল আসে, এমন নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। হাসপাতালের মোট চার্জ এবং ইন্স্যুরেন্সের হিসাব শেষে রোগীর নিজের পকেট থেকে দেওয়ার টাকা এক বিষয় নয়।   বুকে নতুন বা উদ্বেগজনক ব্যথা, চাপ, শ্বাসকষ্ট কিংবা হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে হাসপাতালের নেটওয়ার্ক খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করার পরামর্শ দেয়। ফেডারেল ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড লেবার অ্যাক্ট অনুযায়ী, আইনটির আওতাধীন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও প্রয়োজনীয় মেডিকেল স্ক্রিনিং এবং জরুরি অবস্থা স্থিতিশীল করার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকার চিকিৎসার সব খরচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাফ করে দেয় না।    প্রথম বিষয় হলো, আউট অব নেটওয়ার্ক হাসপাতালে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা নিলেই রোগীর ওপর পুরো বিল চাপানো যায় না। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস বা সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বেসরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্ট জরুরি চিকিৎসায় অপ্রত্যাশিত আউট অব নেটওয়ার্ক বিল থেকে সুরক্ষা দেয়। সাধারণভাবে রোগীর প্রযোজ্য ইন নেটওয়ার্ক কোপে, কোইন্স্যুরেন্স ও ডিডাক্টিবল থাকতে পারে। তাই ফিডেলিস, হেলথফার্স্ট বা মেট্রোপ্লাসের কার্ড থাকলে নির্দিষ্ট কোনো বেসরকারি হাসপাতালে গেলেই পুরো বিল আউট অব নেটওয়ার্ক হবে, এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। কভারেজ বুঝতে কোম্পানির নামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্ল্যান ও চিকিৎসার ধরন দেখতে হবে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের নিজস্ব সুরক্ষা ও নিয়ম রয়েছে।    দ্বিতীয় বিষয় হলো, হাসপাতালে রাত কাটানো আর ইনপেশেন্ট হিসেবে ভর্তি হওয়া এক নয়। মেডিকেয়ারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অবজারভেশনে থাকা রোগী আউটপেশেন্ট হিসেবে গণ্য হতে পারেন, এমনকি তিনি হাসপাতালে রাত কাটালেও। এই স্ট্যাটাস চিকিৎসার খরচ ও কভারেজে প্রভাব ফেলতে পারে। রোগী বা পরিবারের সদস্য চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন, তাঁকে ইনপেশেন্ট হিসেবে ভর্তি করা হয়েছে, নাকি অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে অবজারভেশন মানেই ইন্স্যুরেন্স চিকিৎসার খরচ দেবে না, এমন নয়। মেডিকেয়ার পার্ট বি অনেক আউটপেশেন্ট সেবা কভার করে। নিজের প্ল্যানের নিয়ম এবং হাসপাতালের দেওয়া নোটিশ বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।    তৃতীয় বিষয় হলো অ্যাম্বুলেন্সের বিল। ফেডারেল নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্টের সাধারণ বিলিং সুরক্ষা গ্রাউন্ড অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের সম্পূর্ণ চার্জ নিজে দিতে হবে। ইন্স্যুরেন্স কভারেজ ও প্রযোজ্য অন্যান্য নিয়ম অনুযায়ী রোগীর দায় নির্ধারিত হয়। অ্যাম্বুলেন্সের বিল এলে কোন সংস্থা সেবা দিয়েছে, ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম জমা পড়েছে কি না এবং রোগীর অংশ কত, তা সংশ্লিষ্ট বিলিং অফিস ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে জানতে হবে। হাসপাতালের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স অনুমোদিত হলেই আলাদা অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানির বিলও মাফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।    চতুর্থ বিষয় হলো ফলোআপ পরীক্ষা কোথায় এবং কখন করা নিরাপদ। চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করা যায়, পরবর্তী পরীক্ষা আউটপেশেন্ট ক্লিনিকে করা সম্ভব কি না এবং কত দিনের মধ্যে তা প্রয়োজন। কিন্তু ব্যথা কমেছে বা প্রাথমিক পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে বলে নিজে থেকে হাসপাতাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বুকের ব্যথার মূল্যায়নে চিকিৎসকেরা উপসর্গ, পরীক্ষার ফল এবং সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনা করেন। কম ঝুঁকির রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি অতিরিক্ত পরীক্ষা সবসময় প্রয়োজন নাও হতে পারে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিতে হয়। স্ট্রেস টেস্ট কোথায় করালে নির্দিষ্ট কত টাকা বাঁচবে, তাও সবার জন্য এক নয়।    চিকিৎসা শেষে বড় বিল এলে খরচের বিস্তারিত বিবরণ বা আইটেমাইজড বিল চাওয়া এবং ইন্স্যুরেন্সের হিসাবের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা কার্যকর পদক্ষেপ। কোন সেবার জন্য চার্জ এসেছে, ইন্স্যুরেন্স কত দিয়েছে এবং রোগীর কত দেওয়ার কথা, তা পরিষ্কার করতে হবে। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের সেবার জন্য পৃথক বিলও আসতে পারে। জরুরি চিকিৎসায় অপ্রত্যাশিত আউট অব নেটওয়ার্ক বিল পেলে হাসপাতাল ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে বিল পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা যায়। নিউইয়র্কের ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কাছেও এ বিষয়ে সহায়তা চাওয়া যায়। বিল উপেক্ষা না করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।    বিল পরিশোধে অসুবিধা হলে হাসপাতালের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে হবে। নিউইয়র্কের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য রোগীদের সহায়তা নির্ধারণে পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও ইন্স্যুরেন্স পরিস্থিতি বিবেচিত হয়; ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের রোগীরা নির্দিষ্ট শর্তে সহায়তার যোগ্য হতে পারেন। তাই বার্ষিক আয় ৫০ হাজার ডলারের নিচে হলেই সবার সব বিল মাফ হবে, এমন নিয়ম নেই। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের ফিন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ১-৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে কল করে ৩ নম্বর অপশন নির্বাচন করা যায়। তাদের সহায়তার আবেদন পর্যালোচনাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধ করতে বলা হবে না বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চিকিৎসার নল খুলতে চেয়েছিলেন স্ত্রী
লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চিকিৎসার নল খুলতে চেয়েছিলেন স্ত্রী, নিহত নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তা

ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের প্রকৌশল পরিচালক জোনাথন ম্যাককিনসি মৃত্যুর আগের বছর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। আদালতের নথিতে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের হেফাজত নিয়ে তাঁর ও স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে।    ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গত শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর শ্বশুর শোইয়ং ঝাং ও শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।    আদালতে করা আবেদনে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং তাঁদের তিন সন্তানকেও নির্যাতন করেছেন। তাঁর দাবি, শ্বশুর-শাশুড়িও এ ধরনের আচরণে যুক্ত ছিলেন। ম্যাককিনসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসবই আদালতে তোলা অভিযোগ; এগুলো প্রমাণিত তথ্য নয়।    অন্যদিকে, জ্যাংও ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে মামলাও হয়; তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ চেয়ে আবেদন করেন।    ম্যাককিনসি ও জ্যাংয়ের বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি বিরোধ চলছিল। তবে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তাঁদের দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: U.S. Census Bureau
ইন্স্যুরেন্স নেই? জেনে নিন নিউ ইয়র্কে ফ্রিতে চিকিৎসার পাঁচটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা

হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা কোথায় পাবেন, তা নিয়ে অনেক অভিবাসীর দুশ্চিন্তা থাকে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা খরচের ভয়ে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শহরের সরকারি কর্মসূচি ও কয়েকটি ফ্রি ক্লিনিকে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে সেবা পাওয়া যায়। তবে সব জায়গায় সব চিকিৎসা ফ্রি নয়।   প্রথম ঠিকানা এনওয়াইসি কেয়ার। যাঁরা হেলথ ইন্স্যুরেন্সের যোগ্য নন বা তা বহন করতে পারেন না, তাঁদের জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচি। সদস্যরা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কম দামে ওষুধ পেতে পারেন। খরচ আয়ের ওপর নির্ভর করে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সদস্য হওয়ার বাধা নয়। জানতে বা আবেদন করতে ফোন করুন ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে; বাংলায় সহায়তা চাইতে পারেন।   দ্বিতীয় ঠিকানা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতাল ও কুইন্স হাসপাতালও এই নেটওয়ার্কের অংশ। ইন্স্যুরেন্স না থাকলে সেখানে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসিসট্যান্স বা ‘অপশনস’ কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী বিল কমতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলতে ৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে ফোন করে ৩ চাপুন। হাসপাতালের সেবা মাত্রেই ফ্রি হবে, এমন ধারণা নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।   তৃতীয় ঠিকানা ম্যানহাটনের উইল কর্নেল কমিউনিটি ক্লিনিক, ৫০৫ ইস্ট ৭০তম স্ট্রিট। ইন্স্যুরেন্সবিহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই স্টুডেন্ট পরিচালিত ক্লিনিকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রাইমারি কেয়ার দেওয়া হয়। বর্তমানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিমেডিসিন এবং নির্দিষ্ট শনিবার সকালে সরাসরি সেবা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। নতুন রোগীকে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আবেদন করতে হয়; অপেক্ষাও থাকতে পারে। ফোন ৬৪৬-৯৬২-৯২২২।   চতুর্থ ঠিকানা ব্রুকলিন ফ্রি ক্লিনিক। ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সেবার ধরন আগে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকটি সরাসরি সেবা দেওয়ার পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রের তথ্য দেয়। তাই সেখানে যাওয়ার আগে নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনটি জানিয়ে যোগাযোগ করা জরুরি।   পঞ্চম ঠিকানা নিউ ইয়র্ক সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্টের ক্লিনিকগুলো। যৌনস্বাস্থ্য, যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং টিকাদানের জন্য আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। এসব সেবার অনেকগুলো বিনামূল্যে বা কম খরচে পাওয়া যায়; তবে এগুলো সাধারণ সব রোগের প্রাইমারি কেয়ার ক্লিনিক নয়। কাছের কেন্দ্র, খরচ ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম জানতে ৩১১ নম্বরে ফোন করা যায়।   এনওয়াইসি কেয়ারে ভর্তির সময় পরিচয়, নিউ ইয়র্ক সিটিতে বসবাস ও আয়ের প্রমাণ চাইতে পারে। পাসপোর্ট বা বিদেশি পরিচয়পত্রও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কাগজপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আগে ফোন করে নিজের পরিস্থিতি জানান। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে চিকিৎসা পাওয়া যাবে না, এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই।   বাংলাভাষী ডাক্তার চাইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় দোভাষী বা বাংলায় সেবার ব্যবস্থা আছে কি না জেনে নিন। বেসরকারি চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার আগে ফি এবং এনওয়াইসি কেয়ারের সেবা সেখানে প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত করুন। আর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সাধারণ ক্লিনিকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা না করে ইমার্জেন্সি রুমে যান বা ৯১১ নম্বরে কল করুন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী
বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে খরচ ৫০ লাখ টাকা, দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী

ঢাকার বনশ্রী এলাকার গৃহিণী জোসনা বেগম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে চিকিৎসার কথা ভাবছিলেন। ভারতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচের কথা জানতে পেরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয় পরিবারকে। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয়। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হওয়া ওই অস্ত্রোপচারে জোসনার জন্য নিজের লিভারের একাংশ দান করেন তাঁর ছেলে মো. সাজ্জাদ। তিনি এই হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম পুনরায় শুরুর পর প্রথম রোগী।   জোসনার অস্ত্রোপচারের পর গত এক বছরে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মোট ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে নিয়মিতভাবে এই জটিল চিকিৎসা চালু করার লক্ষ্যেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আরও চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিএমইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতি মাসে গড়ে দুটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার সক্ষমতা তৈরি করা হবে।   দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোসনার লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে ২০২২ সালে। এরপর তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা লিভার ট্রান্সপ্লান্টের পরামর্শ দেন। পরিবার তখন ভারতের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য খরচ প্রায় ৫০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে এত বড় অর্থের ব্যবস্থা করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।   পরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে জোসনার পরিবার বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যায়। সেখানে প্রায় তিন ধাপে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন শেষে তাঁর ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পর জোসনা প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদ ছিলেন প্রায় ১৫ দিন। পরে দুজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। জোসনা বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন এবং চিকিৎসকদের ফলোআপে রয়েছেন।   জোসনার ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের আওতায় লিভার ট্রান্সপ্লান্টটি বিনামূল্যে করা হয়। তবে পরীক্ষা, ওষুধ ও পরবর্তী চিকিৎসা মিলিয়ে পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে যাতায়াত, থাকা ও চিকিৎসাসহ মোট ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে সরকারি সহায়তায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থের বিনিময়ে এই সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য খরচ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে বিএমইউ জানিয়েছে।   বিএমইউর ছয়টি ট্রান্সপ্লান্টে ১৯টি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দল কাজ করেছে। হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস এবং তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক মহসেন চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের হায়দরাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দলও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।   বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। দেশের প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০১০ সালের জুনে বারডেম জেনারেল হাসপাতালে। এরপর আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচার হলেও নিয়মিতভাবে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বিএমইউ প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করে ২০১৯ সালে এবং পরবর্তী আরেকটি ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০২৩ সালে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত সেবা হিসেবে কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল।   বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহিনুল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর লিভারজনিত রোগে প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান, যাদের বড় একটি অংশ সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় এক হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বিএমইউই দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে এই কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   জোসনার জন্য এই চিকিৎসার অর্থ শুধু বিদেশে যাওয়ার বড় খরচ থেকে বেঁচে যাওয়া নয়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগও। অস্ত্রোপচারের পর নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন জানিয়ে তিনি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদও বলেছেন, দেশেই জটিল চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হলে রোগীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমবে। বিএমইউর ধারাবাহিক ছয়টি সফল ট্রান্সপ্লান্ট এখন সেই সক্ষমতাকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় রূপ দেওয়ার নতুন উদ্যোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: ডেইলি স্টার

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক
ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে ডোরড্যাশের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় ২৮ বছর বয়সী এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গুলি করে আহত করেছেন এক আইসিই কর্মকর্তা। ২০ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনায় ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হলেও পরে তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।   আহত ব্যক্তির নাম উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফার্ব জানিয়েছেন, গুলির সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে একটি ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ডোরড্যাশও নিশ্চিত করেছে, ঘটনার সময় তিনি একটি ডেলিভারির কাজে ছিলেন।   অস্টিন পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তর অস্টিনের অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকায় দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর আগে একটি গাড়ি ধাওয়া ও পরে পায়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পেরেজের শরীরে একটি গুলি লাগে। স্থানীয় পুলিশ ওই গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিল না।   ঘটনার পর পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, চিকিৎসা শেষে তাকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না বলেও আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   পেরেজের অভিবাসন অবস্থান নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবী বলেছেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী পেরেজ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং আগে বৈধ ওয়ার্ক পারমিটও ছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।   ঘটনার তদন্তে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ, সঙ্গে থাকবে এফবিআই। একই সঙ্গে অস্টিনের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হতে চান। মেয়র কার্ক ওয়াটসন বলেছেন, স্থানীয় পুলিশের অংশগ্রহণ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।   ঘটনার সময় গুলির পরিস্থিতি নিয়ে এখনো সব তথ্য প্রকাশ হয়নি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক পর্যায়ে খুব বেশি তথ্য হাতে পায়নি। তাই গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ, ধাওয়া কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং পেরেজের সঙ্গে আইসিই কর্মকর্তাদের ঠিক কী ঘটেছিল - এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।    আইসিইর চলমান অভিবাসন অভিযান নিয়ে অস্টিনে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে তদন্তের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পেরেজের অভিবাসন মামলার পাশাপাশি গুলি চালানোর পরিস্থিতিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। 

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ
গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ, নাকের হাড় স্থানচ্যুত

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি সেন্টারে এক বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সাউচিহল স্ট্রিটের একটি সুপারশপের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ২৭ বছর বয়সী ইফতেখার উল ইসলাম নামের ওই তরুণের দাবি, সিগারেট দিতে অস্বীকার করার পর এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানানো হয়।   ইফতেখারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি সাউচিহল স্ট্রিটে একটি সুপারশপের কাছে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে একটি সিগারেট চান। অতিরিক্ত সিগারেট না থাকায় তিনি দিতে পারেননি। এরপর ওই ব্যক্তি তাকে পানীয় কিনে দেওয়ার কথা বলেন। ইফতেখার জানান, তার কাছে টাকা না থাকায় সেটিও দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।   ইফতেখারের দাবি, সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে তার ব্যাগ ধরে ফেলেন এবং মাথা ও নাকে একাধিক ঘুষি মারেন। এতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং তিনি মাথা ঘোরার মতো অনুভব করেন। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানান।   পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানান। ঘটনার পর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে ইফতেখার জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি জানান।   ইফতেখার ঘটনাটিকে বর্ণবাদী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটি এখনো পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত করেনি। পুলিশ তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে।   পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে গ্লাসগোর সাউচিহল স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার খবর তারা পায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।   ঘটনার পর গ্লাসগোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।   ইফতেখারের দেওয়া তথ্য, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং পুলিশ স্কটল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই হামলাকারীর পরিচয়, উদ্দেশ্য কিংবা সম্ভাব্য বর্ণবাদী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
নারীর পাকস্থলী থেকে বের হলো ১৪ কলম, ৫ কাঠের চামচ ও মোমবাতি
নারীর পাকস্থলী থেকে বের হলো ১৪ কলম, ৫ কাঠের চামচ ও মোমবাতি

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়।   চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে।   উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে।   তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।   অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
সেফেপাইম অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে নতুন গবেষণায় স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে
জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বড় গবেষণা, মৃ ত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

হাসপাতালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সেফেপাইম নিয়ে নতুন এক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একই শ্রেণির কিছু অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইম গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির হার কিছুটা বেশি ছিল।   জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১১০টি র‌্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ২২ হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ই ছিলেন। নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, মেনিনজাইটিসসহ বিভিন্ন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।   গবেষণায় সেফেপাইম গ্রহণকারী ১১ হাজার ৭২৬ রোগীর মধ্যে ৭৭৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসা শুরুর প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা।   বেইজিয়ান মেটা-অ্যানালাইসিসে গবেষকেরা দেখেছেন, অন্যান্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইমের সঙ্গে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শুধু পিয়ার-রিভিউ হওয়া ৭৩টি প্রকাশিত গবেষণা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে এই সম্ভাবনা বেড়ে ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ হয়।   তবে গবেষণাটি সেফেপাইম সরাসরি প্রাণহানির কারণ—এমন প্রমাণ দেয়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণে ওষুধটির ব্যবহার এবং প্রাণহানির মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলোর নকশা, রোগীদের ধরন, ওষুধের মাত্রা এবং তুলনা করা অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে পার্থক্য থাকায় গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।   প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক শিশুদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া ‘ফিব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া’তে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এই সম্পর্ক বেশি ছিল। তবে এসব রোগীর মূল শারীরিক অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় প্রাণহানির পেছনে ওষুধের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।   গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় সেফেপাইম এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।   গবেষকেরা সেফেপাইম ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশ করেননি। বরং ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে অতিরিক্ত গবেষণা এবং চিকিৎসকদের জন্য আরও নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।   গবেষণায় ওষুধের মাত্রার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মাত্রা খুব কম হলে সংক্রমণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ নাও হতে পারে। আবার মাত্রা বেশি হলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও কিডনির সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি, চেতনা কমে যাওয়া বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।   গবেষকদের মতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেফেপাইমের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি মাত্রা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় গবেষণায় অংশ না নেওয়া চিকিৎসক মার্ক সিগেলও পুরোনো গবেষণাগুলো নতুন করে বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে মূল অসুস্থতা, ওষুধের মাত্রা এবং চিকিৎসার ফলাফল—সবকিছু আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করল ইলিনয়, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন আইন

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে জীবনাবসানের ওষুধ নেওয়ার সুযোগ এখন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এমন ওষুধের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা তাঁরা নিজেরাই গ্রহণ করবেন।   ‘অপশনস ফর টার্মিনালি ইল পেশেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনটি ‘ডেব’স ল’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গভর্নর জেবি প্রিটজকার এতে স্বাক্ষর করেন এবং ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আইনটি কার্যকর হয়। ইলিনয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম অঙ্গরাজ্য, যেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের এই পদ্ধতি আইনি অনুমোদন পেয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ধরনের আইন রয়েছে।   আইনটির নাম ‘ডেব’স ল’ রাখা হয়েছে ডেব রবার্টসনের নামে। ইলিনয়ের লম্বার্ড এলাকার সাবেক সমাজকর্মী রবার্টসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ক্যানসারে ভুগছেন এবং মরণাপন্ন রোগীদের নিজের জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রচারণা আইনটি পাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে ইলিনয়ের প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হতে হবে এবং এমন একটি মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হবে, যাতে চিকিৎসকদের হিসাবে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সময় ছয় মাসের কম। একই সঙ্গে রোগীকে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোগীর চিকিৎসক এবং একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।   প্রক্রিয়াটি শুরু করতে রোগীকে নিজের চিকিৎসকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্তত পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি মৌখিক অনুরোধ করতে হবে। দ্বিতীয় চিকিৎসকের অনুমোদনও প্রয়োজন। কোনো রোগীর পাঁচ দিনের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক নির্ধারিত অপেক্ষার সময় কমিয়ে দিতে পারেন।   এই প্রক্রিয়ায় রোগীর হয়ে পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা অন্য কোনো প্রতিনিধি আবেদন করতে পারবেন না। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুরোধটি অবশ্যই রোগীকে নিজেকেই করতে হবে। আগাম স্বাস্থ্য নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেও এই আবেদন করা যাবে না।   চিকিৎসকের দায়িত্বও আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোগীকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, ওষুধ গ্রহণের সম্ভাব্য ফলাফল এবং চাইলে আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে জানাতে হবে যে প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পরও ওষুধটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসক রোগীর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।   আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য নন। কোনো চিকিৎসক রোগীর অনুরোধে প্রেসক্রিপশন দিতে না চাইলে তাঁকে অন্য এমন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতে হবে, যিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার কারণে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও নির্ধারণ করা হয়নি।   তবে আইন কার্যকর হওয়ার পর রোগীদের জন্য চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলিনয়ে এই সেবা দেওয়া চিকিৎসক বা বিশেষায়িত ফার্মেসির কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আইন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অনলাইন আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   অর্থের বিষয়টিও রোগীদের জন্য বাধা হতে পারে। আইনে স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ওষুধের খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই ধরনের ওষুধের জন্য রোগীকে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত নিজ খরচ করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও কিছু রোগীর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিজের ভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় দোভাষীর সুবিধা না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।   আইনটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের কয়েকটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে। তাদের একটি অংশের দাবি, আইনটি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই।   শিকাগোর ক্যাথলিক আর্চবিশপ কার্ডিনাল ব্লেইজ কাপিচও আইনটির বিরুদ্ধে করা একটি ফেডারেল মামলায় যুক্ত হয়েছেন। মামলাকারীদের দাবি, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না চাওয়া প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের ওপর আইনি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আইনটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।   এ ছাড়া মুসলিম চিকিৎসকদের একটি দলও পৃথক মামলায় দাবি করেছে, আইনটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের করা আরেক মামলায় আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   ইলিনয়ের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। ১৯৯৭ সালে ওরেগনে প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কমপ্যাশন অ্যান্ড চয়েসেস নামের একটি জাতীয় সংগঠনের হিসাবে, গত প্রায় তিন দশকে যেখানে এই ব্যবস্থা বৈধ, সেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ তা গ্রহণ করেছেন।   ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন আইনের আওতায় চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট তথ্য রোগীর মৃত্যুর পর ৬০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে।   আদালতে চলমান মামলাগুলোর কারণে ভবিষ্যতে আইনের প্রয়োগে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে আইনটি কার্যকর রয়েছে এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা ইলিনয়ের বাসিন্দারা এর আওতায় আবেদন করতে পারছেন।   সূত্র: শিকাগো সান-টাইমস ও ইলিনয় ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা না থাকলেও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়। সিটির অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা হলো এনওয়াইসি কেয়ার। এটি কোনো স্বাস্থ্যবিমা নয়। যারা মেডিকেইড বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই কিংবা বিমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এনওয়াইসি কেয়ারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, টিকা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায়। পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো খরচ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব। এ কর্মসূচির জন্য কোনো মাসিক সদস্য ফি বা প্রিমিয়াম দিতে হয় না।   এনওয়াইসি কেয়ারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান জানতে চাওয়া হয় না। তবে আবেদনকারীর নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস, পরিচয়, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় বিমার খরচ বহন করতে না পারলে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা যায়। হাসপাতালের আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বললে নিজের যোগ্যতা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব।   ম্যানহাটানে স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এনওয়াইসি ফ্রি ক্লিনিকও একটি বিকল্প। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত এই ক্লিনিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের বিনা খরচে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৬ ইস্ট ১৬তম স্ট্রিটে অবস্থিত এই ক্লিনিকে সাধারণত আগে থেকে সময় নিতে হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান সময়সূচি ও রোগী গ্রহণের নিয়ম নিশ্চিত করা উচিত।   ইস্ট হারলেম এলাকায় মাউন্ট সিনাইয়ের ইস্ট হারলেম হেলথ আউটরিচ পার্টনারশিপও স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়।   নিউইয়র্কে আরও কিছু শিক্ষার্থী পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টেকের পিলার্স এনওয়াইসি কমিউনিটি ফ্রি ক্লিনিক হারলেম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়। স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থানও এসব সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো থেকেও কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা নেওয়া যায়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা, এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ, জরুরি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন। অধিকাংশ সেবা সরাসরি গিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   টিকা ও যক্ষ্মা চিকিৎসার জন্যও সিটির আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদান কেন্দ্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে কম খরচে বা বিনা খরচে কিছু টিকা দেওয়া হয়। যক্ষ্মা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিনা খরচে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে।   কুইন্সসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রথমে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে কথা বলা ভালো। সেখানে এনওয়াইসি কেয়ার, আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার জন্য আপনি যোগ্য কি না, তা যাচাই করে দেওয়া যেতে পারে।   তবে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কম খরচের ক্লিনিকের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা নির্বিশেষে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৯১১ নম্বরে কল করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যেতে হবে।   প্রবাসীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ না করে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা সিটি পরিচালিত আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সময়সূচি, সেবার ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০