- প্রচ্ছদ
- Topic
জীবনযাত্রা
অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তার অভাবে মাতৃভূমি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মার্কিন নাগরিক। স্বাস্থ্যসেবার আকাশচুম্বী খরচ, বন্দুক সহিংসতার আতঙ্ক এবং কর্মজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে একটু শান্তির খোঁজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থায়ী হচ্ছেন তারা। একসময় যাকে 'আমেরিকান ড্রিম' বলা হতো, বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই সেই স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ভিন্ন দেশে নতুন জীবনের সন্ধান করছেন। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্য থেকে পরিবার নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানো জো রিগ্যান এমন অসংখ্য মার্কিনির একটি নিখুঁত উদাহরণ। দশ বছর পর বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে ইতালির আব্রুজ্জোতে এক শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন শিশু পরিচর্যা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ মেটাতে হিমশিম খেলেও, ইতালিতে তিনি মাত্র ২৪ হাজার ইউরো বা ২৭ হাজার ডলারে একটি বাড়ি কিনেছেন। এখন তাকে চিকিৎসা ব্যয় বা স্কুলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা করতে হয় না। বিদেশে বসবাসরত মার্কিনীদের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও দ্য ফেডারেল ভোটিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের (এফভিএপি) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে প্রায় ৩৩ লাখ মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসবাস করছিলেন, যা ২০১০ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকানস ওভারসিজ-এর হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল ২০২৫ সালেই কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। ফ্লোরেন্স-ভিত্তিক মার্কিন আর্থিক উপদেষ্টা অ্যালেক্স ইনগ্রিম জানান, আগে মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পাড়ি জমালেও, গত কয়েক বছরে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ পরিবারগুলোর মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশ ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতাকে দায়ী করছেন অনেকেই। ২০১২ সালের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে মর্মান্তিক গুলির ঘটনার পর থেকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন। এর পাশাপাশি রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ। সাম্প্রতিক ইকোনমিস্ট/ইউগভ এবং রয়টার্স/ইপসস-এর জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনায় যথাক্রমে ৬৩ এবং ৭০ শতাংশ মার্কিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে স্পেন, পর্তুগাল বা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে ছুটে যাচ্ছেন তারা। জো রিগ্যানের ভাষায়, নতুন জীবনের এই প্রশান্তি ছেড়ে আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন অনেক মার্কিন নাগরিক। তাঁদের কেউ চেয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বাইরে থাকতে, কেউ আবার ইউরোপের উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন দেশে বসবাস করতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজনের সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। চাকরি পাওয়া, উচ্চ কর, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জের কারণে কেউ কেউ এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে ইউরোপে চলে যাওয়া কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘তারা ট্রাম্পের আমেরিকা ছেড়েছিলেন, এখন অনুতপ্ত’। এতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপের জীবনযাত্রা নিয়ে যে আকর্ষণীয় ছবি তুলে ধরা হয়, বাস্তবে তার সঙ্গে অনেকের অভিজ্ঞতা মেলেনি। ‘অ্যানি’ ছদ্মনামে পরিচিত এক নারী জানান, যুক্তরাজ্যে জীবনযাপন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির যে ছবি দেখেছিলেন, বাস্তবতা তার চেয়ে আলাদা। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, জীবনযাত্রার মান এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ যুক্তরাজ্যে কম বলে মনে হয়েছে তাঁর। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা নিয়েই দেশটিতে গিয়েছিলেন অ্যানি। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতায়, কর ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বিষয়টি হিসাবের বাইরে ছিল। ফলে স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি বিনা খরচের বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অ্যানির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কিছু গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি যুক্তরাজ্যে অনেকের কাছে বিলাসী পণ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। ডিশওয়াশার ও কাপড় শুকানোর যন্ত্রের মতো পণ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি দুই দেশের জীবনযাত্রার পার্থক্য তুলে ধরেন। শুধু আর্থিক বিষয় নয়, যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়েও হতাশার কথা জানিয়েছেন অ্যানি। তাঁর অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে কয়েকজন তাঁর মার্কিন উচ্চারণ ও সংস্কৃতি নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। তাঁর ধারণা ছিল, ব্রিটিশ সমাজে ভদ্রতা ও সৌজন্যের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখা যায়, বাস্তবেও তা একই রকম হবে। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। অন্যদিকে, সাংবাদিক ও পরামর্শক সারাহ উড গনজালেজ জানিয়েছেন, ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতির কিছু দিক নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মার্কিন কর্মক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে চায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় কম লাগে। জার্মানিতে চলে যাওয়া জশ নামের এক মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। তিনি জানান, সেখানে চাকরি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা তাঁর হতাশা বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন জীবনযাপনের সহজতা, মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে অভিজ্ঞতা ছিল, তা তিনি মিস করতে শুরু করেন। জশের মতে, স্থানীয় সমাজে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠাও বিদেশিদের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি স্থানীয়দের মতো দেখতে না হন বা সেখানকার সংস্কৃতিতে জন্ম থেকে বেড়ে না ওঠেন, তাহলে নিজেকে সমাজের অংশ মনে করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত জশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে এখন অনেক বেশি ভালো আছেন। ইউরোপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়তো তিনি পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন। তবে ইউরোপে গিয়ে হতাশ হওয়ার কথা প্রকাশ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ছেন কেউ কেউ। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জানালে তাঁদের একাংশকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। কেউ কেউ আবার মনে করেন, নতুন দেশে মানিয়ে নিতে না পারার দায় তাঁদের নিজেদেরই। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থী শহর ও অঙ্গরাজ্যে থাকা বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁদের সামাজিক সম্পর্কের অভাবও অনেকের মধ্যে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। নতুন দেশে জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষ, সামাজিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের গুরুত্ব তাঁরা নতুন করে উপলব্ধি করছেন। ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ডি মার্টিনোও ইউরোপে বসবাসের প্রত্যাশা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ইউরোপের সব দেশকে একইভাবে বিচার করা যায় না। গ্রিসের গড় আয়ের জীবনযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্কের মতো দেশে জীবনযাত্রার মান ভালো হলেও গড় আয় অনেক ক্ষেত্রে মার্কিনদের তুলনায় কম। তিনি বলেন, ইউরোপের কিছু দেশে অপরাধের হার কম এবং খাবারের মান ভালো হওয়ার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে আয়, চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং করের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, অনেক ইউরোপীয় দেশে কর্মী ছাঁটাইয়ের নিয়ম কঠোর হওয়ায় নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন ব্যবস্থার ব্যয় মেটাতে করের বোঝাও বেশি হতে পারে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে কাজ করা থিও ওল্ডও ইউরোপের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন উদারপন্থীদের প্রত্যাশার সমালোচনা করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; এটি ইউরোপে বসবাসকারী সব মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে না। এখানে উল্লেখযোগ্য, ইউরোপে চলে যাওয়া সব মার্কিন নাগরিক যে হতাশ বা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন নয়। প্রতিবেদনে কয়েকজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নতুন দেশে চাকরি, আয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো কিছু মার্কিন নাগরিকের কাছে এখন সেই সিদ্ধান্তের সুবিধা ও অসুবিধা নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, দূর থেকে কোনো দেশকে আকর্ষণীয় মনে হলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। আর সেই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, জ্বালানি এবং ইউটিলিটি বিলের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশ ছুঁয়েছে। একসময় বছরে এক লাখ ডলার বা ছয় অঙ্কের আয়কে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের মাপকাঠি ধরা হলেও, বর্তমান বাস্তবতায় তা আর যথেষ্ট নয়। সম্প্রতি ‘স্মার্টঅ্যাসেট’-এর প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটে একা বসবাসকারী একজন নিঃসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আরামদায়ক জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলার আয় করা প্রয়োজন। এমনকি প্রায় অর্ধেক স্টেটে এই প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ এক লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মধ্যবিত্তের জন্য এক বিশাল আর্থিক চ্যালেঞ্জ। স্মার্টঅ্যাসেটের এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটের জীবনযাত্রার ব্যয় বিশ্লেষণ করতে মূলত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর এবং জনপ্রিয় ‘৫০/৩০/২০’ বাজেট পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে। এই অর্থনৈতিক মডেলে আয়ের ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, খাবার ও পরিবহনের মতো মৌলিক চাহিদা, ৩০ শতাংশ ব্যক্তিগত পছন্দ এবং বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একা বসবাসকারীদের তুলনায় পরিবার নিয়ে বসবাসকারীদের আর্থিক চাপ বহুগুণ বেশি। দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তান নিয়ে গঠিত চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটের মধ্যে ৪০টিতেই স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে দুই লাখ ডলার বা তার বেশি আয় করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেটভেদে এই ব্যয়ের ধরনে ব্যাপক তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। একা বসবাসকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেট হলো হাওয়াই, যেখানে বছরে ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার প্রয়োজন। তবে চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে ম্যাসাচুসেটস সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল; সেখানে বছরে প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। ব্যয়ের এই তালিকায় ম্যাসাচুসেটসের পরেই রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম ব্যয়ের স্টেটগুলোর মধ্যে পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও মিসিসিপি অন্যতম। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় একা বসবাসকারীর বছরে ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার এবং মিসিসিপিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার প্রয়োজন। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৫ সালের তুলনায় নিউইয়র্কে একা বসবাসকারীর প্রয়োজনীয় আয় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মন্টানায় সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়ের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রমাণ করে যে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আরব নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পণ্যের সীমিত সরবরাহ ও প্রবেশে নানা বাধার কারণে খাবার, জ্বালানি, ব্যাটারি ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বড় একটি অংশ যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাজারে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। যুদ্ধের আগে প্রায় ১৪০ ডলারে বিক্রি হওয়া একটি গাড়ির ব্যাটারির দাম এখন ২ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি। একইভাবে সোলার প্যানেলের দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। সিগারেট ও তামাকের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্যাকেটের দাম সাম্প্রতিক সময়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। পূর্ণ অবরোধের সময় দাম আরও অনেক বেশি হয়েছিল। শুধু সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পণ্য নয়, হাসপাতালগুলোও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধার কারণে হাসপাতাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিকল্প পথে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আরব নিউজের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, গাজায় পণ্য পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষকে বাড়তি অর্থ দিতে হয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং সীমান্ত পারাপারের বিভিন্ন ধাপে এই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয় গিয়ে যোগ হচ্ছে পণ্যের দামের সঙ্গে। ইসরায়েল কিছু পণ্যের প্রবেশ সীমিত করেছে এবং কংক্রিট, স্টিলের পাইপ, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও এক্স-রে মেশিনসহ বেশ কিছু পণ্যকে ‘ডুয়াল-ইউজ’ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। ইসরায়েলের দাবি, এসব পণ্য সামরিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে গাজার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকটের মধ্যে সীমিত সরবরাহ, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য প্রবেশের নানা বাধা মিলে গাজার বাজারে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মূল্যচাপ। ফলে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সংকটও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে কেবল একটি চাকরির আয় দিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও গাড়িসহ দৈনন্দিন অন্যান্য খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সামাল দিতে গিয়ে আমেরিকানরা এখন তাদের মূল পেশার পাশাপাশি দ্বিতীয় আয়ের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৫৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করেন যে, আগের বছরের তুলনায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা পণ্যের দাম তাদের আর্থিক অবস্থাকে চরম নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। এমনকি ১৬ শতাংশ মানুষ আগের মাসের সব বিল পরিশোধ করতেও ব্যর্থ হয়েছেন। এই তীব্র আর্থিক চাপের কারণে অনেকেই এখন সন্ধ্যার পর বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত কাজ করছেন। বাড়তি আয়ের আশায় কেউ রাইড শেয়ারিং বা খাবার ডেলিভারির কাজ করছেন, আবার কেউবা ফ্রিল্যান্সিং ও বিভিন্ন খণ্ডকালীন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকদের জন্য এখন আর শুধু আয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য নয়, বরং প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে কোনোমতে তাল মিলিয়ে চলাই পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্যে আরও জানা যায়, গত এক বছরে ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অন্তত একটি বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত খরচের মুখোমুখি হয়েছেন। অন্যদিকে, ৪০০ ডলারের মতো জরুরি খরচ সহজে সামলাতে পারবেন—এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ৬৩ শতাংশ। সার্বিক পরিস্থিতি থেকে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন দ্বিতীয় চাকরি আর কোনো বাড়তি আয়ের শখ বা সুবিধা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক অনিবার্য উপায় হয়ে উঠেছে।
বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং বাড়িভাড়া লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বড় শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া কিংবা মর্টগেজের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে আয়ের একটা বড় অংশ চলে যায়। এই আর্থিক সংকট ও চড়া মূল্যের হাত থেকে বাঁচতে অনেকে এখন ক্রুজ শিপ বা প্রমোদতরীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার বিকল্প ট্রেন্ড বেছে নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ধারণা রয়েছে যে, প্রমোদতরীতে বসবাস করা মানেই কেবল অতিবিত্তশালীদের বিলাসিতা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক তরুণ ও পেশাজীবী হিসাব কষে দেখছেন যে, ডাঙায় স্থায়ী আবাসন বজায় রাখার চেয়ে ক্রুজ শিপের ভাসমান দুনিয়ায় জীবন কাটানো অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাশ্রয়ী। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও রোমাঞ্চকর সব তথ্য। অনেকেই তাদের প্রচলিত ৯টা-৫টার অফিসের ধরাবাঁধা জীবন ছেড়ে কিংবা রিমোট ওয়ার্কের পূর্ণ স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে পাকাপাকিভাবে প্রমোদতরীতে থিতু হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী তরুণ অস্টিন ওয়েলস ‘এমভি ন্যারেটিভ’ নামের একটি বিশাল মেগা প্রমোদতরীতে দীর্ঘ ১২ বছরের জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট লিজ নিয়েছেন। মেটা কোম্পানির অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভাগে কর্মরত এই তরুণ তিন লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে ২৩৭ বর্গফুটের একটি কেবিন কিনেছেন। সান ডিয়েগোতে যেখানে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়াই আকাশচুম্বী, সেখানে ওয়েলস হিসাব করে দেখেছেন যে এই ভাসমান ঠিকানায় তার মাসিক খরচ মাত্র দুই হাজার ডলারের কাছাকাছি দাঁড়ায়। তিনি রিমোট জবের মাধ্যমে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জাহাজে বসেই বিশ্ব ভ্রমণ করছেন। শুধু অস্টিন একা নন, শারন লেন নামের ৭৪ বছর বয়সী এক মার্কিন নারী ‘ভিলা ভি ওডিসি’ নামের একটি আবাসিক ক্রুজ শিপে ১৫ বছরের জন্য কেবিন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। তার মতে, ডাঙার জীবনে নিত্যদিনের বাজার করা বা ঘর পরিষ্কার করার কোনো ঝামেলা জাহাজে পোহাতে হয় না। আইটি পেশাজীবী রায়ান গুট্রিজ বছরের প্রায় ৩০০ দিনই ক্রুজ শিপে কাটিয়ে দেন এবং সেখান থেকেই তার ক্লাউড সলিউশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ পরিচালনা করেন। মার্কিন দম্পতি অ্যাঞ্জেলিন ও রিচার্ড বার্কও নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে স্থায়ীভাবে ক্রুজ লাইফে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৮৯ ডলার খরচে তারা থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, বিনোদন ও বন্দরের বিভিন্ন ফি মিটিয়ে ফেলছেন। তবে প্রমোদতরীর এই ভাসমান জীবন দেখতে জমকালো মনে হলেও এর কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ বা অন্ধকার দিকও রয়েছে। জাহাজে কেবিনগুলোর আকার তুলনামূলক বেশ ছোট হয় এবং দেওয়াল পাতলা হওয়ায় পাশের রুমের আওয়াজ প্রায়ই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সমুদ্র যখন উত্তাল থাকে, তখন মোশন সিকনেস বা লাগাতার বমি ভাব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি জাহাজে হঠাৎ কোনো জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে তার খরচ ডাঙার তুলনায় অনেক বেশি চড়া হতে পারে। সব মিলিয়ে, যাদের রিমোট জব করার স্বাধীনতা রয়েছে এবং যারা চার দেওয়ালের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে ডাঙার উচ্চমূল্যের জীবন ছেড়ে ক্রুজ শিপের ভাসমান জীবন এক দারুণ আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে এক বছর আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিল একটি মার্কিন পরিবার। নতুন দেশে কাটানো এক বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বলছে, সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না, তবে জীবনের মান ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে স্পেনে বসবাস শুরু করেন ওই দম্পতি। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের আগে তারা কখনোই স্পেনে থাকেননি। তবু কর্মব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশে পরিবারকে সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। এক বছর পর নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা জানান, স্পেনে জীবনযাত্রার গতি তুলনামূলক ধীর এবং পরিবারকেন্দ্রিক। কাজের বাইরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং অবসর উপভোগ করার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের ভাষায়, এই পরিবর্তনের ফলে মানসিক চাপ কমেছে এবং পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। দম্পতির দুই সন্তানও নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে। নতুন স্কুলে বন্ধু তৈরি করা এবং স্প্যানিশ ভাষা শেখার মাধ্যমে তারা নতুন জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করেছে বলে পরিবারটি জানায়। তবে সবকিছু যে সহজ ছিল, তা নয়। তারা বলেন, স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ না হওয়ায় সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে শুরুতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এছাড়া গাড়িনির্ভর না হয়ে নতুন পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বসবাসের জন্য উপযুক্ত বাড়ি নির্বাচনও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন বাড়িতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো না থাকায় সেটিকে তারা নিজেদের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া নতুন পরিবেশ ও আবহাওয়ার কারণে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানান। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা মনে করেন, জীবনের গতি কমিয়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু এই পরিবারই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মচাপ এবং উন্নত কর্ম-জীবনের ভারসাম্যের খোঁজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের প্রবণতা কিছু মার্কিন নাগরিকের মধ্যে বাড়ছে। বিশেষ করে স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালির মতো দেশগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশের কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।