- প্রচ্ছদ
- Topic
জোড়া হত্যাকাণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে একটি রোবট কুকুর। আটলান্টার কাছে ডিক্যালব কাউন্টিতে ১৩ বছরের এক কিশোর ও ৪৫ বছরের এক ব্যক্তিকে হত্যার তদন্তে রোবটটির ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ব্যবহার করেছে পুলিশ। সেই ফুটেজের সহায়তায় একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। পরে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ডিক্যালব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ জুলাই ভোরে আটলান্টার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রেশাম পার্ক এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রকলিফ রোডের ২৪০০ ব্লকে অবস্থিত বাড়িটিতে একাধিক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ১৩ বছর বয়সী ডিমার্কাস শার্লি এবং ৪৫ বছর বয়সী চান্সি নিউম্যানকে পাওয়া যায়। দুজনই নিহত হন। গুলিতে একটি কুকুরও মারা যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বাড়িটির ভেতরে আরও কয়েকজন ছিলেন। তবে তাঁরা শারীরিকভাবে আহত হননি। নিহত কিশোর ডিমার্কাস ওই বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা ছিল না। পরিবারের সদস্যদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে রাত কাটানোর জন্য সে সেখানে গিয়েছিল। তার আত্মীয় গ্রেগরি কার্থন জানান, কিশোরটি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে বাড়িটিতে অবস্থান করছিল। হঠাৎ গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করে বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আনডন্টেড রোবোটিক সিকিউরিটির একটি রোবট কুকুর। প্রতিষ্ঠানটি আটলান্টার বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় চার পায়ে চলাচলকারী রোবট দিয়ে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের সেবা দিয়ে থাকে। রোবটগুলোতে ক্যামেরা ও যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সন্দেহভাজনের ভিডিও ধারণ করেছিল প্রতিষ্ঠানটির একটি রোবট। পরে সেই ফুটেজ তদন্তকারীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। ডিক্যালব কাউন্টি পুলিশের মুখপাত্র সার্জেন্ট এলিস ওয়েলস নিউজউইককে জানিয়েছেন, আনডন্টেডের সরবরাহ করা ভিডিও তদন্তে সহায়ক হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ওই ভিডিও ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু রোবটের ফুটেজের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তকারীরা অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি ভিডিওটি পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেন। ফলে রোবট কুকুর নিজে অপরাধীদের ধরে ফেলেছে, এমন দাবি সঠিক নয়। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজন ২১ বছর বয়সী কিশন ওয়েব। অন্যজন ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাকাণ্ড, সাতটি গুরুতর হামলা এবং জর্জিয়ার স্ট্রিট গ্যাংসংক্রান্ত আইনের দুটি ধারায় অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ওয়েবের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাকাণ্ড, অস্ত্র ব্যবহার করে আটটি গুরুতর হামলা, প্রাণীর প্রতি গুরুতর নিষ্ঠুরতা এবং গ্যাংসংক্রান্ত আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের অপরাধ এখনো প্রমাণিত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রোবট কুকুরের ধারণ করা ভিডিও ব্যবহার করে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারের এটি প্রথম পরিচিত ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। তবে এমন প্রযুক্তি আগে কখনো অন্য কোনো হত্যার তদন্তে ব্যবহার করা হয়নি, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করতে চার পায়ে চলাচলকারী রোবট ব্যবহার করেছে। আটলান্টাভিত্তিক আনডন্টেড রোবোটিক সিকিউরিটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ইতিমধ্যে আটলান্টা মহানগর এলাকায় ১০০টির বেশি নিরাপত্তা রোবট মোতায়েন করেছে। এসব রোবটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপি’। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রাহক আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের মালিক বা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান। বাকি গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। রোবটগুলো দেখতে কুকুরের মতো হলেও এগুলো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত নেয় না। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দূর থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে এগুলো পরিচালিত হয়। রোবটের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পর্যবেক্ষণ করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। প্রয়োজন হলে রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রোবটগুলোতে কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র নেই এবং এগুলো কাউকে শারীরিকভাবে আটক করতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটির বেশির ভাগ রোবট পরিচালনাকারী কর্মী কাজ করেন ফিলিপাইন থেকে। সেখানে একটি মিশন কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনার ক্যামেরা ও রোবট পর্যবেক্ষণ করা হয়। আনডন্টেডের জ্যেষ্ঠ টিম লিড ডালিন পাওয়ান নিউজউইককে জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের কেন্দ্রে প্রায় ৭৮ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা রোবট পরিচালনা, ভিডিও পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফলে রোবটের মাধ্যমে কেউ কথা বললে সেটি সব সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি কণ্ঠ নয়, দূরে অবস্থান করা একজন মানুষের কণ্ঠও হতে পারে। আনডন্টেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান ডিনারের দাবি, প্রচলিত নিরাপত্তাকর্মীর তুলনায় তাঁদের রোবটভিত্তিক সেবায় খরচ কম হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক প্যাকেজের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৪০ হাজার ডলার, যেখানে প্রতিদিন আট ঘণ্টা নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়। তাঁর মতে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরাসরি একজন নিরাপত্তাকর্মী পাঠানোর পরিবর্তে রোবট ব্যবহার করলে মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা কমতে পারে। তবে প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থার তুলনায় রোবটের কার্যকারিতা সব পরিস্থিতিতে বেশি, এমন দাবি স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রতিটি রোবট একবার চার্জে প্রায় দুই ঘণ্টা চলতে পারে। এরপর সেটি নিজস্ব চার্জিং স্টেশনে ফিরে যায় এবং পুনরায় চার্জ হতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাহক স্থাপনায় অন্তত দুটি রোবট রাখা হয়। ফলে একটি রোবট চার্জে থাকলে অন্যটি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে একটি রোবট ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে, অন্যটি পুলিশকে প্রবেশপথ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারে। নিরাপত্তা রোবট ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবাসিক এলাকায় ক্যামেরাসংবলিত রোবট নিয়মিত চলাচল করলে বাসিন্দাদের ভিডিও কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিক্যালব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এসব রোবট পুলিশ বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে না। ভিডিওতে পুলিশের প্রবেশাধিকার নির্দিষ্ট নীতি, নিরীক্ষা ও জবাবদিহির ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়। এদিকে আনডন্টেড আটলান্টার বাইরে টেক্সাসের হিউস্টন এবং ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রোবট মোতায়েনের পর কয়েকটি এলাকায় অপরাধ কমেছে। তবে আটলান্টা পুলিশ জানিয়েছে, কোনো এলাকায় অপরাধ কমার কৃতিত্ব শুধু একটি প্রযুক্তি বা নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দেওয়া যায় না। নিউজউইকও প্রতিষ্ঠানটির অপরাধ কমানোর দাবির পক্ষে অতিরিক্ত সরকারি তথ্য চেয়েছে। জর্জিয়ার এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রোবট কুকুরের ভিডিও ব্যবহারের ঘটনা নিরাপত্তা প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে সন্দেহভাজন শনাক্ত, ঘটনার ভিডিও সংগ্রহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দূর থেকে পর্যবেক্ষণের কাজে এমন প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে। তবে রোবট কুকুর মানুষের পরিবর্তে নিজে তদন্ত পরিচালনা বা গ্রেপ্তার করেনি। পুলিশের তদন্তে সংগৃহীত একাধিক প্রমাণের মধ্যে রোবটের ধারণ করা ভিডিও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।