- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্ক সিটিতে গত ১ অক্টোবর থেকে সাবস্ক্রিপশন বাতিলের নতুন নিয়ম 'ক্লিক-টু-ক্যানসেল' কার্যকর হয়েছে। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো সেবায় যুক্ত হওয়া যতটা সহজ, তা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিও ঠিক ততটাই সহজ করা। এখন থেকে অনলাইনে সাইন-আপ বা যুক্ত হওয়ার সুবিধা থাকলে, সেই সেবা বাতিলের জন্যও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবশ্যিকভাবে অনলাইনে সরাসরি ক্যানসেল বাটন বা উপায় রাখতে হবে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান সাবস্ক্রিপশন বাতিলের সময় গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত হতে বা ফোনকলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য করতে পারবে না। জিম, স্ট্রিমিং সার্ভিস কিংবা ফ্রি ট্রায়াল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নযোগ্য যেকোনো মেম্বারশিপের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন (DCWP) জানিয়েছে, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য অন্তত ৫২৫ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে। গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য চ্যাটবটের লুপে ফেলে রাখার বদলে সরাসরি কর্মীদের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের বছরে ২ কোটি ১৫ লাখ থেকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি, সাবস্ক্রিপশন বাতিলের জটিলতায় গ্রাহকদের যে হয়রানি হতো, তাতে বছরে অন্তত ৬ লাখ ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। এর আগে ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিলেও একটি আপিল আদালতের রায়ে তা আটকে যায়। এর ফলে নিজস্ব উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করল।
নিউইয়র্ক সিটিতে এবারের হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসব উপলক্ষে পাঁচ বরোর রেকর্ড ১৬০টি সড়ক ও প্লাজা গাড়িমুক্ত রাখা হবে। অক্টোবরজুড়ে ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির আওতায় এসব স্থানে শিশু ও পরিবারের জন্য মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে ছবি আঁকা, খেলাধুলা, সরাসরি বিনোদন এবং বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজন থাকবে। শহরের পরিবহন বিভাগ শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণের পরিকল্পনাও করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগের কমিশনার মাইক ফ্লিন ৩০ সেপ্টেম্বর এবারের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডজুড়ে অক্টোবর মাসে এসব আয়োজন হবে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ১৬০টি স্থান ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকার সড়ক, প্লাজা ও অন্যান্য স্থান সাময়িকভাবে পথচারীবান্ধব উৎসবস্থলে পরিণত হবে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, কমিউনিটি গ্রুপ ও বিদ্যালয়গুলোও আয়োজনে যুক্ত থাকবে। স্থানভেদে মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে ছবি আঁকা, সরাসরি বিনোদন, খেলাধুলা এবং শিশু ও পরিবারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে। এবারের আয়োজনে নতুন কিছু কার্যক্রমও যুক্ত হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল আর্ট সোসাইটি অব নিউইয়র্কের সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে গাইডসহ হাঁটা ভ্রমণের আয়োজন করা হবে। এসব ভ্রমণে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইতিহাস, স্থাপত্য এবং জনসাধারণের ব্যবহারের স্থান সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হবে। এ ছাড়া স্ট্রিট ল্যাবের সহযোগিতায় নিউইয়র্কের নির্বাচিত সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে হ্যালোউইনকেন্দ্রিক খেলাধুলা, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও কুইন্সের একাধিক বিদ্যালয় এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। পাঁচ বরোতে বড় পাঁচটি বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়সূচিও প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগ। ব্রুকলিনের হিলেল প্লাজায় ২২ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ওয়াটার স্ট্রিটে ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আয়োজন চলবে। কুইন্সের অস্টিন স্ট্রিটে ২৫ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ক্যানাল ওপেন স্ট্রিট ও ডিভিশন প্লাজায় ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আয়োজন থাকবে। হ্যালোউইনের দিন ৩১ অক্টোবর ব্রঙ্কসের জেমস বাল্ডউইন প্লাজায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে। নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির মাধ্যমে হ্যালোউইনের আগে এবং হ্যালোউইনের দিনে পথচারীদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করা হয়। হ্যালোউইন শহরের সড়কগুলোর অন্যতম ব্যস্ত সময় হওয়ায় নির্দিষ্ট সড়ক ও প্লাজাকে গাড়িমুক্ত রেখে শিশু ও পরিবারকে উৎসবের জন্য জায়গা দেওয়াই কর্মসূচিটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারের কর্মসূচি গত বছরের তুলনায় আরও বড় হয়েছে। ২০২৫ সালে ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্ক সিটিতে ১৪৮টি গাড়িমুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১৬০টি সড়ক ও প্লাজায় পৌঁছেছে। মেয়র মামদানি জানিয়েছেন, এবারের কর্মসূচিতে শহরের ১৬০টি সড়ক ও প্লাজা মিষ্টি সংগ্রহ, খেলাধুলা, সংগীত ও অন্যান্য আনন্দের আয়োজনে ব্যবহৃত হবে। পরিবহন কমিশনার মাইক ফ্লিনও শিশুদের জন্য ১৬০টি গাড়িমুক্ত স্থান এবং প্রায় ৭৫ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে প্রতিটি এলাকার আয়োজনের ধরন ভিন্ন হতে পারে। কোথাও সরাসরি বিনোদন ও খেলাধুলা থাকবে, আবার কোথাও শিশুদের সৃজনশীল কার্যক্রম কিংবা স্থানীয় এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ থাকবে। সব মিলিয়ে অক্টোবরজুড়ে পাঁচ বরোর বিভিন্ন এলাকায় হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসবের আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬০টি গাড়িমুক্ত সড়ক ও প্লাজাকে কেন্দ্র করে এবারের ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ হবে এখন পর্যন্ত কর্মসূচিটির সবচেয়ে বড় আয়োজন। শিশু ও পরিবারের জন্য মিষ্টি, খেলাধুলা, মুখে ছবি আঁকা, বিনোদন ও অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন হাঁটা ভ্রমণ এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক আয়োজনও যুক্ত হচ্ছে।
নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএর তিনটি সংস্থায় বাস অপারেটর পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ হালনাগাদ করা সরকারি তালিকা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিট, ম্যানহাটন অ্যান্ড ব্রঙ্কস সারফেস ট্রানজিট অপারেটিং অথরিটি বা ম্যাবস্টোয়া এবং এমটিএ বাস কোম্পানির পদগুলো শূন্যপদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। আবেদনকারীদের কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল, অথবা সংশ্লিষ্ট লার্নার পারমিট থাকতে হবে। বর্তমান তালিকায় ম্যাবস্টোয়ার বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬১২১ এবং এমটিএ বাস কোম্পানির নম্বর ৬৩২১। নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের অস্থায়ী বা প্রভিশনাল বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬০১২। ফলে আগের বিজ্ঞপ্তির ৫১০১ বা ৫৩০১ নম্বর দিয়ে বর্তমান নিয়োগের তথ্য খোঁজার পরিবর্তে হালনাগাদ পদের নম্বর অনুসরণ করতে হবে। বেতনের ক্ষেত্রেও সংস্থা ও বিজ্ঞপ্তিভেদে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। এমটিএর নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের ৬৬০৯ নম্বর পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের জন্য প্রারম্ভিক বেতন ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৭৬ ডলার এবং চাকরির ষষ্ঠ বছরে ৪১ দশমিক ০৯ ডলার উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার আবেদনপর্ব ২০২৫ সালের নভেম্বরেই শেষ হয়েছে। তাই সেই বেতনহারকে বর্তমানে খোলা সব পদের নিশ্চিত বেতন হিসেবে ধরা যাবে না। একই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুবিধার মধ্যে রয়েছে রাত ও সপ্তাহান্তে কাজের বাড়তি ভাতা, পেইড হলিডে, ভ্যাকেশন, সিক লিভ, মেডিকেল ও পেনশন প্ল্যান। বর্তমানে খোলা পদের জন্য এসব শর্ত সংশ্লিষ্ট চাকরির বিবরণ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগের আগে পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে হয়। এই শর্তকে শুধু নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলা ঠিক নয়। এমটিএর বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজিতে বুঝতে ও যোগাযোগ করতে পারা এবং বাস অপারেটর ট্রেনিং সফলভাবে শেষ করার শর্তও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চাকরির ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। ম্যাবস্টোয়া ও এমটিএ বাস কোম্পানির বাস অপারেটররা সুবিধা ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিত্ব পেলেও পদ দুটি সিভিল সার্ভিস পদ নয়। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের প্রভিশনাল পদে স্থায়ী হতে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাস করে নির্বাচিত তালিকা থেকে নিয়োগ পেতে হবে। আগ্রহীরা এমটিএর ক্যারিয়ার বিভাগের বর্তমান পরীক্ষার তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট বাস অপারেটর পদ বেছে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদের বেতন, লাইসেন্সের শর্ত, পরীক্ষার ধরন ও প্রযোজ্য ফি পড়তে বলেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদন করলেই নিয়োগ নিশ্চিত হবে না; সংশ্লিষ্ট বাছাই ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ও কুইন্সে তিন দিনের বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ৩৪ শিশু ও কিশোরকে খুঁজে বের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলো। ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী এসব শিশু-কিশোরের নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল ছিল কয়েক দিন থেকে শুরু করে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে কয়েকজন শোষণ ও মানবপাচারের শিকার হয়েছিল। শুক্রবার নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে এই বিশেষ অভিযান। ‘লং আইল্যান্ড মিসিং চাইল্ড রেসকিউ অপারেশন’ নামের এই উদ্যোগের সমন্বয় করা হয় নাসাউ কাউন্টির গার্ডেন সিটিতে স্থাপিত একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার থেকে। সেখানে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা একসঙ্গে বসে নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করেন। উদ্ধার হওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ১৮ জন নাসাউ কাউন্টি, ১২ জন সাফোক কাউন্টি এবং চারজন কুইন্সের নিখোঁজ তালিকায় ছিলেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় থাকা এসব শিশুকে খুঁজে পাওয়ার পর শুধু পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, পরামর্শ, নিরাপদ আশ্রয়, পোশাক, খাবার ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই অভিযানে প্রায় ৪০টি সংস্থা ও সংগঠনের শতাধিক পেশাজীবী অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তকরণে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এতে যুক্ত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, এক জায়গায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার ফলে তথ্য আদান-প্রদান দ্রুত হয়েছে এবং প্রতিটি মামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ন্যাশনাল চাইল্ড প্রোটেকশন টাস্ক ফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন ব্রানজেত্তি বলেন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের প্রতিটি ঘটনা নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে শেষ হয় না। অনেক সময় দ্রুত শিশুটিকে শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সে কোনো বিপদের মুখে পড়ার আগেই নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তিনি বলেন, শিশুকে খুঁজে পাওয়া কেবল প্রথম ধাপ; এরপর কেন সে বাড়ি ছেড়েছিল, নিখোঁজ থাকার সময়ে কী ঘটেছিল এবং তাকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেদিকেও নজর দিতে হয়। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি যে বড় ধরনের উদ্বেগের, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় সরকারি পরিসংখ্যানেও। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন জেমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী ১০ হাজার ৬২৯ শিশুকে নিখোঁজ হিসেবে পুলিশে রিপোর্ট করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৪ শতাংশ ঘটনাকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। একই বছরে ২০২৫ বা তার আগের সময়ে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট হওয়া শিশুদের ১০ হাজার ৬৭২টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। তবে বছরের শেষে অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ৭৯টি সক্রিয় নিখোঁজ শিশু মামলা ছিল। লং আইল্যান্ডের এই অভিযান নিউইয়র্কে এ ধরনের চতুর্থ বড় আকারের শিশু উদ্ধারের উদ্যোগ। এর আগে এরি কাউন্টি, ক্যাপিটাল রিজিয়ন এবং ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে একই ধরনের সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছিল। আগের তিনটি অভিযানে মোট ১৬৮ নিখোঁজ শিশু ও কিশোরকে খুঁজে পাওয়া হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত অভিযানে ৪৩ নিখোঁজ ও বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া শিশু-কিশোরকে খুঁজে পাওয়া যায়। ওই অভিযানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য, ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় ৭০টি সংস্থা যুক্ত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তারা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বেশি ছিল এমন কয়েকটি এলাকায় বিশেষভাবে নজর দিয়েছিলেন। লং আইল্যান্ডের সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিস্থিতি এক ছিল না। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে কিছু শিশু শোষণ ও মানবপাচারের মতো গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। এসব মামলার পৃথক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই কারণে উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক শিশু কোথায় পাওয়া গেছে বা তাদের সবাইকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৪ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার পরও কাজ শেষ হয়নি। লং আইল্যান্ড ও কুইন্সে আরও নিখোঁজ শিশুর মামলা রয়েছে এবং সেগুলোর তদন্ত অব্যাহত থাকবে। কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং শিশুকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিউইয়র্কের এই ধারাবাহিক অভিযানগুলোতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের ক্ষেত্রে শুধু পুলিশি অনুসন্ধান যথেষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিশু সুরক্ষা সংস্থা, সমাজসেবা কর্মী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। লং আইল্যান্ডের অভিযানে প্রায় ৪০টি সংস্থার শতাধিক মানুষকে একই কমান্ড সেন্টার থেকে সমন্বয় করার মাধ্যমে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক গভর্নরের কার্যালয়, নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস ও সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। শরীয়তপুরের এই সন্তান ২৮ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি পান। তখন তিনি এনওয়াইপিডির ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন হুমায়ুন কবির। ২০০৫ সালে পুলিশ ক্যাডেট হিসেবে এনওয়াইপিডিতে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ম্যানহাটনের বারুক কলেজ থেকে ২০০৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পুলিশ অফিসার হন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটন ট্রানজিট পুলিশে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুমায়ুন। ওই সময়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা তিনবার তিনি ‘অফিসার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। পরে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এনওয়াইপিডির ১১৩ প্রিসিঙ্কটের ডিটেকটিভ স্কোয়াডে কাজ করেন। সার্জেন্ট পদে পদোন্নতির পর সপ্তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর যোগ দেন এনওয়াইপিডির ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি ডিভিশনে। ২০২২ সালে সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নিরাপত্তা বিভাগে যোগ দেন হুমায়ুন। ওই বিভাগে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম দুই বাংলাদেশি কর্মকর্তা ছিলেন তাঁরা। ২০২৪ সালে ডিটেকটিভ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান হুমায়ুন। পুলিশে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হুমায়ুন কবিরের পদোন্নতিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাপার সভাপতি একেএম প্রিন্স আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামিল সরোয়ার। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী তানজিলা খান, ছেলে তাসিন কবির ও মেয়ে তাসমিয়া কবিরকে নিয়ে তিনি লং আইল্যান্ডে বসবাস করেন।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গ্রোসারি কেনার আগে দোকানের উইকলি সার্কুলার দেখে নেওয়া সাশ্রয়ের একটি উপায়। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সব দোকানে একই পণ্য বা একই দামে ছাড় চলছে, এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি। তাই বাজারের তালিকা তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট শাখার অফারের মেয়াদ ও পণ্যের দাম মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। ফুড বাজারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে শাখাভিত্তিক উইকলি সার্কুলার দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের দোকানটি ৩৪-২০ জংশন বুলেভার্ডে। প্রতিষ্ঠানটির স্টোর তালিকা অনুযায়ী, শাখাটি সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। দোকানে যাওয়ার আগে এই শাখার সার্কুলার নির্বাচন করে অফার দেখা যাবে। সার্কুলারে শুধু পণ্যের দাম দেখলেই হবে না। কোন তারিখ পর্যন্ত অফার কার্যকর, প্যাকেটের ওজন কত এবং ছাড় পেতে একাধিক পণ্য কিনতে হবে কি না, সেগুলোও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। চাল, তেল বা মসলার দাম তুলনা করার সময় একই ব্র্যান্ড ও একই পরিমাণের পণ্য ধরলে প্রকৃত সাশ্রয় বোঝা সহজ হয়। হালাল মাংসের জন্য এলাকার আরেকটি বিকল্প মিনা বাজার সুপারমার্কেট। শারিয়াহ বোর্ড নিউইয়র্কের তালিকায় দোকানটির ঠিকানা ৭১-১০, ৩৫তম অ্যাভিনিউ। সেখানে দোকানটিকে ২৪ ঘণ্টা খোলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, এর তাজা মুরগি, ভেড়া, খাসি, বাছুর ও গরুর মাংসের হালাল সনদ সক্রিয় রয়েছে; সনদের আওতা তাজা মাংসের মধ্যে সীমিত। একই অ্যাভিনিউয়ের ৭১-০৮ নম্বরে রয়েছে মাছ বাজার। দোকানটির নিজস্ব অনলাইন অর্ডার পেজে স্থানীয় ডেলিভারির ব্যবস্থাও উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পণ্যের দামের সঙ্গে ডেলিভারি ও অন্যান্য ফি যোগ করে মোট খরচ তুলনা করা উচিত। তবে ইলিশ, রূপচাঁদা, কালোজিরা চাল কিংবা খাসির মাংসে এই সপ্তাহে বিশেষ ছাড় রয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা থাকলে দোকানে ফোন করে দাম, মজুত ও অফারের শর্ত জেনে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনের তালিকা ধরে কেনাকাটা করলে ছাড়ের কারণে বাড়তি পণ্য কেনার খরচও এড়ানো যায়। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারী ও তাঁর পরিবারকে বিতাড়নের ভয় দেখানোর ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সাবেক সার্জেন্ট বাংলাদেশি আতিকুল ইসলাম। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে তিনি ভুয়া ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ার অপরাধ স্বীকার করেন। তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৯ মার্চ ওই নারীকে একাধিক টেক্সট মেসেজ পাঠান আতিকুল। ২৯ মার্চের একটি মেসেজে আইসিই ডেকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। নারীর অবস্থান জানেন বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি। প্রায় চার ঘণ্টা পর অপরিচিত নম্বর থেকে আরেকটি মেসেজ পাঠিয়ে নিজেকে আইসিইর নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক দাবি করেন আতিকুল। সেটিকে সরকারি নোটিশ হিসেবে উপস্থাপন করে নারী ও তাঁর পরিবারকে আইসিই অফিসে হাজির হতে বলেন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। অপরাধ স্বীকারের সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর এনওয়াইপিডি থেকে পদত্যাগ করেন আতিকুল। ভবিষ্যতে এনওয়াইপিডি কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় চাকরির আবেদন করতে পারবেন না তিনি। নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে ওই নারীকে মিথ্যা পরিচয় ও বিতাড়নের হুমকি দিয়েছিলেন আতিকুল।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে বান্ধবীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর সাততলা একটি আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩৩ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফার রকওয়ের নিলসন স্ট্রিট ও ডিনসমোর অ্যাভিনিউ এলাকার ভবনটিতে পুলিশ পৌঁছালে তাকে ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ তাকে নিচে নামানোর চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পুলিশ সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, ছাদে থাকা অবস্থায় ওই যুবকের শরীরে রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে তিনি সাততলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাউন্ট সিনাই সাউথ নাসাউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পড়ে যাওয়ার আঘাতের পাশাপাশি তার কবজি, গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা জখম ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর পুলিশ ভবনের ভেতরের ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ৩১ বছর বয়সী ফিওনা প্রেমরাজকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, তার মুখ, ঘাড়, বুক ও পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ঘটনার সময় ওই নারী ও অভিযুক্ত একই অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। স্থানীয় এক প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৬৪ বছর বয়সী ওই প্রতিবেশী বলেন, তারা ভবনে ওঠার প্রথম দিকে ভালোই ছিলেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে ওই যুবক প্রেমরাজকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও প্রতিবেশী দাবি করেন। পুলিশও জানিয়েছে, গত তিন বছরে ওই দম্পতির মধ্যে ‘পারিবারিক বিরোধের’ খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে একাধিকবার ফোন পেয়েছিল তারা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় সর্বশেষ তিন বছরে প্রায় ছয়বার কর্মকর্তারা ওই বাসায় গিয়েছিলেন। তবে এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রতিবেশী আরও জানান, গত এক বছরে তাদের ঝগড়া আরও বেড়েছিল। তবে বুধবার ঘটনার দিন তিনি কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ঝগড়া শুনতে পাননি। তার ভাষ্য, অভিযুক্ত যুবককে সাধারণত ভদ্র বলেই মনে হতো এবং তিনি প্রতিবেশীদের জন্য প্রায়ই লিফটের দরজা ধরে রাখতেন। ফিওনা প্রেমরাজের বাবা এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে চাননি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। হাসপাতালে তার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর ভবনটির আশপাশে পুলিশ তদন্ত চালায়। কেন এই ঘটনা ঘটল এবং হামলার আগে ওই দম্পতির মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের তথ্য সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ ভবনটিতে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণ পরই ছাদ থেকে পড়ে যান ওই যুবক। একই ভবনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে প্রেমরাজের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের জন্য করা ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি এন-৪০০ আবেদন গত ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এপ্রিল থেকে জুন - এই তিন মাসে ইউএসসিআইএস নতুন আবেদন পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি, আর অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ৭০ হাজার ৫৩৯টির। সংস্থাটির ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ হিসাব উঠে এসেছে। অপেক্ষমাণ ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন শুধু ওই তিন মাসে জমা পড়েনি। এটি জুনের শেষ দিনে আগের আবেদনসহ মোট অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা। প্রান্তিকটিতে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি অনুমোদিত এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অফিসভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন অপেক্ষমাণ ছিল টেক্সাসের হিউস্টনে - ৩১ হাজার ৫৭টি। এরপর ডালাসে ২৮ হাজার ৬৬২টি, শিকাগোতে ২৩ হাজার ৬২৩টি, স্যান হোসেতে ২০ হাজার ৮৯৯টি এবং স্যান অ্যান্টোনিওতে ১৮ হাজার ৯৯৯টি। এসব সংখ্যায় সাধারণ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নাগরিকত্বের আবেদনও একসঙ্গে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন অপেক্ষমাণ। শুধু সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন ধরলে নিউইয়র্ক অফিসে ১৭ হাজার ২৮টি, ব্রুকলিনে ১৫ হাজার ৬২৭টি, কুইন্সে ১১ হাজার ৯০৮টি এবং লং আইল্যান্ডে ৯ হাজার ৮০৩টি আবেদন জুনের শেষে অনিষ্পন্ন ছিল। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক অফিসে এই সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৭০। সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দেশজুড়ে মধ্যম সময় ছিল ৯ দশমিক ৫ মাস। এটি জাতীয় হিসাব, কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা আবেদনকারীর জন্য প্রতিশ্রুত সময়সীমা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও একই এন-৪০০ আবেদনপ্রক্রিয়া প্রযোজ্য; প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশিদের আবেদন আলাদা করে দেখানো হয়নি।
নিউইয়র্কে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ন্যূনতম মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ার কথা থাকলেও চাকরির সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই বৃদ্ধি আটকে যাচ্ছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টারে ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ১৭ ডলার এবং অঙ্গরাজ্যের বাকি এলাকায় ১৬ ডলারই থাকার কথা। অঙ্গরাজ্যের শ্রম বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আসার কথা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস ইউনিয়ন। অঙ্গরাজ্যের আইনে ২০২৭ সাল থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিবছর ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা আছে। তবে একই আইনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে বৃদ্ধি স্থগিত রাখার বিধানও রয়েছে। জানুয়ারি ও এপ্রিলের তুলনায় জুলাইয়ে নিউইয়র্কের মৌসুমি সমন্বয় করা মোট কৃষিবহির্ভূত চাকরির সংখ্যা কম থাকলে এই বিধান কার্যকর হয়। এ বছর জানুয়ারিতে অঙ্গরাজ্যে এমন চাকরি ছিল এক কোটির বেশি। এপ্রিল মাসে তা কমে প্রায় ৯৯ লাখ ৭০ হাজার এবং জুলাইয়ে প্রায় ৯৯ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়ায়। জুলাইয়ের সংখ্যা জানুয়ারি ও এপ্রিল - দুই মাসের চেয়েই কম হওয়ায় মজুরি বৃদ্ধির পথে আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। এই হিসাবকে শুধু বেসরকারি খাতের চাকরির সংখ্যা বলা ঠিক হবে না। গভর্নর ক্যাথি হকুল আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাবে সামান্য চাকরি কমলেই মজুরি বৃদ্ধি বন্ধ হওয়ার বদলে চাকরি কমার হার বিবেচনা করা হবে। টাইমস ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নিয়মে নির্দিষ্ট কয়েকটি সময়ের চাকরির হিসাব মিলিয়ে অন্তত শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পতন হয়েছে কি না, তা দেখা হবে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব; আইনসভায় অনুমোদন পায়নি। হকুলের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। চাকরির সংখ্যা কমার পেছনে পর্যটন ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের সমস্যার কথাও বলছে তাঁর প্রশাসন। এগুলো প্রশাসনের ব্যাখ্যা; মজুরি বৃদ্ধি স্থগিতের আইনি কারণ হলো নির্ধারিত মাসগুলোর চাকরির সংখ্যায় পতন। নিউইয়র্কের আইনসভা জানুয়ারিতে পরবর্তী অধিবেশনে ফিরবে। তাই আইন পরিবর্তন না হলে জানুয়ারিতে প্রচলিত মজুরির হারই বহাল থাকার কথা। তবে এই সিদ্ধান্তকে পুরো ২০২৭ সালেই কোনো মজুরি পরিবর্তন হবে না - এমন ঘোষণা হিসেবে ধরা যাবে না; পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের প্রকৌশল পরিচালক জোনাথন ম্যাককিনসি মৃত্যুর আগের বছর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। আদালতের নথিতে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের হেফাজত নিয়ে তাঁর ও স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গত শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর শ্বশুর শোইয়ং ঝাং ও শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে করা আবেদনে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং তাঁদের তিন সন্তানকেও নির্যাতন করেছেন। তাঁর দাবি, শ্বশুর-শাশুড়িও এ ধরনের আচরণে যুক্ত ছিলেন। ম্যাককিনসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসবই আদালতে তোলা অভিযোগ; এগুলো প্রমাণিত তথ্য নয়। অন্যদিকে, জ্যাংও ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে মামলাও হয়; তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ চেয়ে আবেদন করেন। ম্যাককিনসি ও জ্যাংয়ের বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি বিরোধ চলছিল। তবে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তাঁদের দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক গড় খরচ ৫ হাজার ডলারের বেশি। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় খরচ সবচেয়ে বেশি - ৮ হাজার ৪৭১ ডলার। দেশটির গড় ২ হাজার ৮৭২ ডলারের তুলনায় যা প্রায় তিন গুণ। ইন্স্যুরেন্স ডটকমের জন্য সংগ্রহ করা ২০২৬ সালের মূল্যতথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। ফ্লোরিডার পর সবচেয়ে বেশি খরচ নেব্রাস্কায়, বছরে গড়ে ৫ হাজার ৫১৩ ডলার। কলোরাডোয় ৫ হাজার ৫১১, ওকলাহোমায় ৫ হাজার ৩৭৮, কানসাসে ৫ হাজার ২৮৯ এবং লুইজিয়ানায় ৫ হাজার ১৮৫ ডলার। এই ছয় অঙ্গরাজ্যের বাইরে টেক্সাসেও খরচ জাতীয় গড়ের অনেক ওপরে - বছরে ৪ হাজার ৫৮২ ডলার। ফ্লোরিডায় গত বছরের তুলনায় গড় প্রিমিয়াম ৫৪৩ ডলার বেড়েছে। আর নেব্রাস্কায় বেড়েছে ৯৬০ ডলার, যা এই হিসাব অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ডলার বৃদ্ধি। ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও হারিকেনের মতো দুর্যোগের ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ি মেরামত বা পুনর্নির্মাণের ব্যয় ইন্স্যুরেন্সের দাম বাড়াতে পারে। তবে কোনো একটি কারণ দিয়ে সব অঙ্গরাজ্যের মূল্যবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করা যায় না। নিউইয়র্কে একই ধরনের পলিসির বার্ষিক গড় খরচ ১ হাজার ৮৪৪ ডলার। গত বছরের চেয়ে তা ১৩৯ ডলার বেশি। নিউ জার্সিতে গড় ১ হাজার ৪৪৯ ডলার, পেনসিলভানিয়ায় ১ হাজার ৪৩৪ এবং জর্জিয়ায় ২ হাজার ৩০১ ডলার। ফলে ৫ হাজার ডলারের তালিকায় না থাকলেও নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের খরচ বেড়েছে। এই পরিসংখ্যান সব বাড়ির মালিকের প্রকৃত বিলের গড় হিসেবে পড়া ঠিক হবে না। কোয়াড্রান্ট ইনফরমেশন সার্ভিসেস ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের একটি একক পরিবারের বাড়ি এবং একই ধরনের কভারেজ ধরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পলিসির মূল্য সংগ্রহ করেছে। হিসাবে বাড়ির কাঠামোর জন্য ৩ লাখ ডলারের কভারেজ ও সাধারণ ক্ষতির ক্ষেত্রে ১ হাজার ডলার ডিডাক্টিবল ধরা হয়েছে। বাড়ির ঠিকানা, নির্মাণের ধরন এবং বেছে নেওয়া কভারেজ অনুযায়ী কারও প্রিমিয়াম এই অঙ্কের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। অধিকাংশ সাধারণ বাড়ির ইন্স্যুরেন্সে বন্যার ক্ষতি কভার করা হয় না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বন্যা ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি। তাই বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় আলাদা কভারেজ প্রয়োজন হলে বাড়ি রক্ষার মোট খরচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রিমিয়ামের চেয়ে বেশি হতে পারে।
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক দিয়ে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেলের ধাক্কায় আহত রিচি ও’ব্রায়েনের মৃত্যু হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দুই সন্তানের বাবা। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি; চার দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের বরাতে সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ছয়টার কিছু পর পার্কের ৮৪তম স্ট্রিটের কাছে ও’ব্রায়েনের সঙ্গে উত্তর দিকে চলা এক সাইকেল আরোহীর সংঘর্ষ হয়। ধাক্কায় দুজনই মাটিতে পড়ে যান। ৩২ বছর বয়সী সাইকেল আরোহী সামান্য আহত হন। ও’ব্রায়েনের এক সহকর্মী জানান, তিনি মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে স্টিমফিটার হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও দুই সন্তানের সহায়তায় স্বজন ও সহকর্মীরা অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। ঘটনাস্থল পার্কের ইস্ট ড্রাইভ বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। তবে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে ওয়েস্ট ড্রাইভের উল্লেখ রয়েছে। সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সির ঘটনার পর দেওয়া বিবৃতিতে ইস্ট ড্রাইভের কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি পার্কে চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার ও ট্রাফিক নিয়ম প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সাইকেল আরোহীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশের প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়নি।
নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কের মধ্যে হাডসন নদীর নিচ দিয়ে নতুন রেল টানেল নির্মাণে বড় ধাপ এগিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউ জার্সির নর্থ বার্গেনে হাডসন টানেল প্রকল্পের প্রথম টানেল খননযন্ত্র চালুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশন। চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে যন্ত্রটি খননকাজ শুরু করবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউ জার্সি থেকে নদীর নিচ দিয়ে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন পর্যন্ত নতুন দুটি টানেল নির্মাণ করা হবে। নতুন টানেল চালু হলে বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো নর্থ রিভার টানেলের সংস্কার করা যাবে। ওই টানেলটি ১৯১০ সাল থেকে চালু রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে খননযন্ত্রগুলো নর্থ বার্গেনের টনেলি অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে নিউ জার্সির প্যালিসেডস পাহাড়ের নিচে টানেল তৈরি করবে। গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ অংশে দুটি যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রকল্পের অন্যান্য অংশে খনন ও নির্মাণকাজ চলবে। নতুন টানেল চালুর লক্ষ্য ২০৩৫ সাল। পুরোনো টানেলের সংস্কার শেষ করার লক্ষ্য ২০৩৮ সাল। এটি নির্মাণ শেষ হওয়ার খবর নয়; সোমবারের আয়োজনটি ছিল প্রকল্পের প্রথম খননযন্ত্র চালুর আনুষ্ঠানিক ধাপ। এই রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন টানেল চালু এবং পুরোনোটি সংস্কার হলে দুই রাজ্যের মধ্যে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এ ট্রেনের দরজায় ব্যাগ আটকে ট্রেনের সঙ্গে টেনে নেওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃ ত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটের কিছু আগে বেডফোর্ড-স্টাইভেস্যান্ট এলাকার ইউটিকা অ্যাভিনিউ সাবওয়ে স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। এবিসি সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুলটন স্ট্রিটের কাছে স্টেশনটিতে ট্রেনের দরজা বন্ধ হওয়ার সময় ওই ব্যক্তির ব্যাগ আটকে যায়। এরপর ট্রেনটি চলতে শুরু করলে তিনি সেটির সঙ্গে টেনে নেওয়া হন। প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানানো হয়নি। কীভাবে ব্যাগটি দরজায় আটকাল এবং দুর্ঘটনার অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে ১০০ গোল্ড স্ট্রিটের পুরোনো সরকারি ভবনের জায়গায় প্রায় ৪ হাজার বাসা নির্মাণের পরিকল্পনা জনপর্যালোচনার পর্যায়ে নিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। ২২ সেপ্টেম্বর সিটির ঘোষণায় বলা হয়, প্রস্তাবিত বাসাগুলোর প্রায় ১ হাজার স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী ভাড়ার ও রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড হবে। প্রকল্পটি এখনো নির্মাণ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সিটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা এনওয়াইসিইডিসি জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনায় আগের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৩০০টি বাসা বেশি রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসন প্রায় ৩ হাজার ৭০০ বাসা নির্মাণের জন্য জিএফপি রিয়েল এস্টেটকে নির্বাচিত করেছিল। মামদানি প্রশাসন সেই প্রকল্পের পরিসর বাড়িয়ে জনপর্যালোচনা শুরু করেছে। ১০০ গোল্ড স্ট্রিটে বর্তমানে সিটির কয়েকটি দপ্তর এবং বয়স্কদের একটি সেবাকেন্দ্র রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পে সেবাকেন্দ্রটির জন্য নতুন জায়গা, জনসাধারণের ব্যবহারের উন্মুক্ত পরিসর ও অন্যান্য সুবিধা থাকবে। বর্তমানে ভবনটিতে থাকা সরকারি দপ্তরগুলোকে অন্য অফিসে সরানো হবে। সিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে প্রকল্পের পরিবেশগত পর্যালোচনা নিয়ে গণশুনানি হবে। ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রকল্পটি ২০২৭ সালে প্রবেশ করতে পারে। ফলে বাসা নির্মাণের সংখ্যা, সময়সূচি ও চূড়ান্ত রূপ পর্যালোচনার পরই নিশ্চিত হবে।
নিউইয়র্কে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা ঠেকাতে নতুন কৌশল নিয়েছেন কিছু রেস্তোরাঁ মালিক। পুলিশে অভিযোগ করার পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও গ্রাহকদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘটনাটি জনসমক্ষে আনা এবং বকেয়া বিল পরিশোধে অভিযুক্তদের চাপ তৈরি করা। কয়েকটি ঘটনায় এমন পোস্ট প্রকাশের পর দ্রুত বিল পরিশোধও হয়েছে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে কি না, তার নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই, কারণ অনেক রেস্তোরাঁ ছোট অঙ্কের ক্ষতির ঘটনায় পুলিশে অভিযোগই করে না। ব্রঙ্কসের মট হ্যাভেন এলাকায় তালাভেরা ক্যান্টিনার মালিক ব্রিটনি কারিনিও সম্প্রতি এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। গত ৫ মে, যুক্তরাষ্ট্রে সিনকো দে মায়ো উদ্যাপনের দিন, তিন নারী তার রেস্তোরাঁয় এসে টাকোস, চিপস, গুয়াকামোলে এবং চারটি ফ্রোজেন মার্গারিটা অর্ডার করেন। কারিনিওর ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানীয় নেওয়ার পর তারা ১১২ ডলারের বিল পরিশোধ না করে চলে যান। সেদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রেস্তোরাঁর বিল হিসাবের ব্যবস্থা সমস্যায় থাকায় বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়েনি। পরে অফলাইনে সম্পন্ন লেনদেন যাচাই করতে গিয়ে তিনি বকেয়া বিলটি দেখতে পান। এরপর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কারিনিও দেখতে পান, দলটির একজন নারী বিলের ট্রে নিজের ব্যাগের নিচে সরিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে রেস্তোরাঁ পরিচালনার মধ্যে এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম ঘটনা। পুলিশে ফোন করার বদলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছবি ও ফুটেজ প্রকাশ করেন এবং জানান, বিল পরিশোধ করা হলে তিনি বিষয়টি আর এগিয়ে নিতে চান না। পোস্ট দেওয়ার পর ওই দলের একজনের বড় ভাই রেস্তোরাঁয় এসে পুরো ১১২ ডলারের বিল পরিশোধ করেন। কারিনিও নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসায়ীদের এমন ঘটনার কথা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি উপায় তৈরি করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট অঙ্কের বিলের ক্ষেত্রে পুলিশে অভিযোগ করার পর তদন্ত, ফুটেজ দেখানো এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সময় দিতে হয়। তাই তিনি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। লং আইল্যান্ড সিটির ভিয়েতনামি রেস্তোরাঁ শেফ পাপার মালিক জন ট্রুংও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, ফাহমিদা সুলতানা নামে একজন খাদ্যবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্মাতা প্রায় ২০০ ডলারের খাবার ও পানীয়ের বিনিময়ে তার রেস্তোরাঁর প্রচার করবেন বলে একটি সমঝোতা করেছিলেন। ট্রুংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি খাবার গ্রহণের পর কর্মীদের মাত্র ৬ ডলার বকশিশ দিয়ে চলে যান এবং প্রতিশ্রুত প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেননি। পরে ট্রুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনাটি তুলে ধরেন। সেই ভিডিও প্রকাশের পর ওই নারী একটি তীব্র সমালোচনামূলক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছিলেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়। এসব দাবির বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। নিউইয়র্কে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে পেই ‘লু’ চুংয়ের ঘটনাও রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি পিটার লুগার, ফ্রাঁসি ও মিশির মতো রেস্তোরাঁয় বিল না দেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং মোট সাতবার গ্রেপ্তারের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ঘটনায় ওঠা অভিযোগগুলোর বিচারিক ফলাফল আলাদা বিষয়। পরে তাকে বিচার মোকাবিলার উপযুক্ত নয় বলে ঘোষণা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ বাতিল করা হয়েছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছিল। নিউইয়র্ক শহরের বাইরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পকিপসির এরিন ও’নিলস পাব অ্যান্ড গ্রিল সম্প্রতি ৪১ ডলারের একটি বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করে। মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে এক নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক পুরুষকে বিলের সঙ্গে থাকা একটি কার্ড নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। পোস্ট দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে একজন ওই পুরুষের ছবি ও পরিচয় জানিয়ে রেস্তোরাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ভিডিওটি প্রায় ৮ লাখবার দেখা হয় এবং ব্যবসাটির নতুন অনুসারীও বাড়ে। মালিকের মতে, ঘটনাটি তাদের জন্য এক ধরনের বিনামূল্যের প্রচারণায় পরিণত হয়। অন্যদিকে, কিছু প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদলে নিজেদের রেস্তোরাঁয় তথাকথিত ‘ওয়াল অব শেম’ তৈরি করেছে। ব্রঙ্কসের ইউএমআই হটপট সুশি অ্যান্ড সিফুড বুফে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে কিছু গ্রাহকের ছবি ও বকেয়া রসিদ প্রদর্শন করছে। তবে কোনো ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি সত্যিই অর্থ না দিয়ে চলে গেছেন কি না, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করলে বিভ্রান্তি বা অন্য ধরনের আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। নিউইয়র্কের আইনে রেস্তোরাঁর খাবার ও সেবার মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়াকে ‘থেফট অব সার্ভিসেস’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ধরা হয়। নিউইয়র্কের আদালতের নির্দেশিকায় রেস্তোরাঁর বিল না পরিশোধকে নিউইয়র্ক পেনাল ল-এর ১৬৫.১৫ ধারার আওতায় রাখা হয়েছে। এটি ক্লাস এ মিসডিনিমারের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমান আইনে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩৬৪ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে বাস্তবে ছোট অঙ্কের বকেয়া বিল নিয়ে পুলিশি প্রক্রিয়ায় সময় ও শ্রম দেওয়ার বিষয়টি অনেক ব্যবসার জন্য বড় বিবেচনা। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টোফার হারম্যান নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ৭৫ বা ১৫০ ডলারের একটি বিলের জন্য রেস্তোরাঁকে ব্যবসা থামিয়ে পুলিশ ডাকতে হতে পারে, কর্মকর্তাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দিতে হতে পারে এবং কর্মীদের বক্তব্যও দিতে হতে পারে। তাই অনেক মালিক সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় এই প্রক্রিয়ার ব্যয় ও সময় বিবেচনা করে পুলিশে অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে এই সমস্যার প্রকৃত বিস্তার সরকারি অপরাধের পরিসংখ্যানে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে না। হারম্যান বলেন, অনেক রেস্তোরাঁ ঘটনা রিপোর্ট না করায় সরকারি তথ্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্রও নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বিভাগটি এত নির্দিষ্টভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করে না। ফলে এই প্রবণতা কতটা বেড়েছে, সে বিষয়ে বর্তমানে অনেক তথ্যই ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসার সীমিত লাভের কারণে এ ধরনের ছোট ক্ষতিও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ রেস্তোরাঁর কর-পূর্ব মুনাফার হার প্রায় ৫ শতাংশের মতো। একই হিসাবে ১১২ ডলারের সমপরিমাণ কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করতে প্রায় ২ হাজার ২৪০ ডলারের বিক্রি প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ ১১২ ডলারের একটি বিল না দেওয়া কেবল ওই দিনের একটি খাবারের দাম হারানো নয়, এটি সেই অর্থের সমপরিমাণ লাভ অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত বিক্রির প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। হারম্যানের পরামর্শ, এমন ঘটনায় রেস্তোরাঁ মালিকদের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, বিলের রসিদ এবং কর্মীদের বক্তব্য সংরক্ষণ করা উচিত। একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ও তদন্তে কাজে আসতে পারে। তার মতে, আলাদা আলাদা ছোট ঘটনা একত্র হয়ে কোনো পুনরাবৃত্ত আচরণের ধরন স্পষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাও জরুরি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের স্টেটেন আইল্যান্ডে পার্সেল ডেলিভারি দিতে যাওয়া এক নারীকে বন্দুকের মুখে ধর্ষণের অভিযোগে চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডঙ্গান হিলস এলাকায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই নির্মম যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গত সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, সাঁইত্রিশ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী এবং অভিযুক্ত কিশোর একে অপরের সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন। ভয়ংকর এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পুলিশ সন্দেহভাজনের একটি স্কেচ প্রকাশ করে তাকে খুঁজছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে ডঙ্গান হিলস অ্যাভিনিউ এবং জেফারসন স্ট্রিট এলাকায় ওই নারী একটি পার্সেল ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মাস্ক এবং হুডি পরা ওই কিশোর তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। অভিযুক্ত কিশোরের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং ওজন দুইশ পাউন্ডের কাছাকাছি হওয়ায় সে শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিল। আচমকা সে ওই নারীর মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করে এবং এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। জঘন্য এই অপরাধ সংঘটিত করার পরপরই ওই কিশোর ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে ওই নারী ঘটনার সময় নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারি কোম্পানির হয়ে কাজ করছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে বয়স কম হওয়ায় অভিযুক্ত কিশোরের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হামলা, যৌন নিপীড়ন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, জোরপূর্বক স্পর্শ করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের (গ্যাং রেপ) অভিযোগের তদন্ত পুনরায় শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা। সম্প্রতি ভুক্তভোগী নারী নতুন করে একটি দেওয়ানি (সিভিল) মামলা দায়ের করলে ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন নতুন করে তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি জানান, তার কার্যালয় সাতজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ গঠনের জন্য মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির কাছে উপস্থাপন করবে। দুই বছর আগে কেন এই ঘটনার ফৌজদারি তদন্ত এগোয়নি—তার ব্যাখ্যায় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানান, ওই সময় ক্যাম্পাসের পুলিশের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগীর প্রাথমিক জবানবন্দির সঙ্গে বর্তমান মামলার অভিযোগের বেশ পার্থক্য রয়েছে। সে সময় ভুক্তভোগী তার মাদক গ্রহণ ও শারীরিক সম্পর্ককে 'স্বেচ্ছায় এবং সম্মতিসূচক' বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ভুক্তভোগীর আইনজীবী থমাস জিউফ্রা সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশ রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান দাবির কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। শুরুতে যথাযথভাবে ও গভীরভাবে তদন্ত না করার জন্য তিনি উলটো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির 'চি ফি' (Chi Phi) ফ্র্যাটার্নিটির সাত সদস্য এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সময় ২০ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদ ও মাদক পান করিয়ে বেসামাল করে তোলা হয়েছিল। তিনি যখন সম্মতি দেওয়ার মতো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় ছিলেন না, ঠিক তখনই তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। এমনকি স্ন্যাপচ্যাটের একটি গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে অন্যান্য সদস্যদেরও এই পাশবিকতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল বলে মামলায় প্রমাণসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র কাইল কিম্বল জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন করে। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সাল থেকেই অভিযুক্ত ফ্র্যাটার্নিটি সংগঠনটিকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময় নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের একজনের আইনজীবী জেরেমি স্যালান্ড দাবি করেছেন, তার মক্কেল কেবল স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে একটি অপরিণত মন্তব্য করেছিলেন, এর বাইরে তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন। তাই তারা যেকোনো সুষ্ঠু তদন্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাটার্নিটি হলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধাসহ বিশেষ ক্লাব।
নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়। এই বাস্তবতায় ২০২৬ অর্থবছরে শহরজুড়ে ১৮ হাজার ২৬১টি গাছ লাগানোর তথ্য জানিয়েছে পার্কস বিভাগ - ২০১৬ সালের পর এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন গাছের বেশির ভাগ লাগানো হয়েছে প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে। তালিকায় আছে ব্রাউনসভিল, মট হেভেন, ইস্ট হারলেম ও সাউথ ওজোন পার্ক। ব্রাউনসভিল ও ইস্ট হারলেমে গরমের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য এ বছর নতুন শীতল আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কেন এসব এলাকায় গাছ জরুরি, তার ব্যাখ্যা মিলেছে সিটির কম্পট্রোলারের এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের সব এলাকায় গাছের ছায়া সমান নয়। সাউথ ব্রঙ্কস ও সেন্ট্রাল ব্রুকলিনের কিছু এলাকায় গাছের আচ্ছাদন কম, আর সেখানে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি। তবে গাছ লাগানোর সংখ্যা বাড়লেই দ্রুত বেশি ছায়া মিলবে, এমন নয়। কম্পট্রোলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরে গাছের আচ্ছাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে আগে লাগানো গাছের বেড়ে ওঠা। নতুন গাছ টিকিয়ে রাখতে প্রথম কয়েক বছর নিয়মিত পানি দেওয়া, মাটি ও গোড়ার পরিচর্যা জরুরি। পরিচর্যায় কর্মী ও অর্থের ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্কের লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের ৩০ শতাংশ জমি গাছের ছায়ার আওতায় আনা। তাই ১৮ হাজার গাছ লাগানোর পরের প্রশ্ন হলো - গাছগুলো কতটা টিকে থাকবে এবং যেসব পাড়ায় ছায়ার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেখানকার বাসিন্দারা কতটা সুফল পাবেন।
আকাশছোঁয়া আবাসন ব্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে নিউইয়র্কের বাসিন্দারা এখন তাদের পরিচিত প্রতিবেশী শহর ফিলাডেলফিয়াকে বেছে নিচ্ছেন। রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক মেট্রো এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির দাম প্রায় ৮ লাখ ৩২ হাজার ডলার। অন্যদিকে নিউইয়র্ক থেকে মাত্র ৯০ মাইল দক্ষিণের শহর ফিলাডেলফিয়ায় একটি বাড়ির দাম গড়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ডলার। প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ডলারের এই বিশাল ব্যবধানের কারণেই নিউইয়র্কারদের কাছে ফিলাডেলফিয়া এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য। রেডফিনের তথ্যমতে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার খোঁজ করেছেন ২৭ হাজার ১৪৩ জনেরও বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো শহরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শহরত্যাগের হার, যেখানে ২৮ হাজার ৬৫২ জনের শহরত্যাগের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস। তবে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়া মানুষদের কাছে ফিলাডেলফিয়ার পাশাপাশি ফ্লোরিডাও দারুণ জনপ্রিয়। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, মিয়ামি ও টাম্পার মতো রৌদ্রোজ্জ্বল শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিউইয়র্ক থেকে পাড়ি জমাচ্ছেন। রাজ্য হিসেবেও ফ্লোরিডা এখন স্থানান্তরের শীর্ষে রয়েছে; দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৩৮ হাজার ৯২২ জন মানুষ সেখানে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন, যা পরবর্তী তিনটি জনপ্রিয় রাজ্য অ্যারিজোনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেনেসির সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে, রাজ্যভিত্তিক শহরত্যাগের হারে ক্যালিফোর্নিয়ার পরই নিউইয়র্কের অবস্থান। মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমানে ঘরে বসে বা হাইব্রিড মডেলে কাজের সুযোগ প্রসারিত হওয়ার কারণেই আমেরিকানদের মধ্যে নিজেদের রাজ্য ছেড়ে সস্তা ও দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পাড়ি জমানোর এই নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে। রেডফিন জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের ব্যবহারকারীদের ১৮.৭ শতাংশই নিজেদের বর্তমান মেট্রো এলাকার বাইরে বাড়ি খুঁজছেন, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও বাসা খোঁজার এই প্রবণতা বেড়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে বাড়ি কেনার হার ধীর হওয়ায় বাস্তব স্থানান্তরের সংখ্যা এখনো মহামারি চলাকালীন সময়ের তুলনায় কম রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।