- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রযুক্তি সংবাদ
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডু বাজারে আসার পরপরই এর পর্দায় ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। প্রায় ২ হাজার ডলার দামের এই ফোনের নকশা, মসৃণ ভাঁজ করার ব্যবস্থা এবং পর্দার ভাঁজের দাগ কম দৃশ্যমান হওয়ায় প্রযুক্তি পর্যালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। তবে বিক্রির প্রথম দিনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফোনটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থেকে সব ফোনে একই ধরনের সমস্যা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর থেকে আইফোন ডু বিক্রি শুরু হয়েছে। এর আগে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট ফোনটিকে ১০-এর মধ্যে ৮ দশমিক ৮ নম্বর দেয়। দ্য ভার্জ ও ওয়্যার্ড দেয় ৭ নম্বর করে। পর্যালোচকেরা ফোনটির টাইটানিয়াম কাঠামো, মসৃণ হিঞ্জ বা ভাঁজ করার সংযোগব্যবস্থা এবং ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ভেতরের পর্দার প্রশংসা করেছেন। তবে এর ওজন, ক্যামেরার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন অ্যাপের অসমর্থিত বিন্যাস নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেডিটে এক ব্যবহারকারী ফোনটি হাতে পাওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্দা ফেটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বন্ধুকে ফোনটি দেখানোর সময় ভেতরের হিঞ্জের কাছে পর্দার নিচে কিছু একটা অনুভব করেন তিনি। এরপর ফোনটি আরও খুলতে গেলে ফাটার শব্দ শোনেন এবং পর্দায় হিঞ্জ বরাবর ফাটল দেখতে পান বলে জানান। তাঁর দাবি, পর্দার ওপরিভাগে বা বাইরের হিঞ্জে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পরে অ্যাপল স্টোরে গেলে তাঁকে নতুন একটি ফোন দেওয়া হয়। আরেক ব্যবহারকারীও ফাটা পর্দার ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছেন, কয়েকটি ফোনে একই জায়গায় ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। অন্য একটি পোস্টে একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, একাধিক আইফোন ডুতে নির্দিষ্ট স্থানে ফাটল দেখা গেছে। তবে এসব ছবি ও ব্যবহারকারীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অ্যাপল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সমস্যাটির কারণ, ব্যাপ্তি এবং এটি উৎপাদনগত ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ভাঁজ খুললে পাওয়া বড় পর্দা। এতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ম্যাট বা আলো প্রতিফলন কমানো পর্দা, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের পর্দার মাপ ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, বিশেষ ন্যানোটেক্সচার প্রযুক্তির কারণে আলো প্রতিফলন কমে এবং পর্দার মাঝের ভাঁজের দাগ তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। তবে পর্যালোচকেরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোণ থেকে তাকালে দাগটি এখনো দেখা যায় এবং আঙুল বুলিয়েও অনুভব করা যায়। ফোনটির ওজন ২৫৪ গ্রাম এবং ভাঁজ করা অবস্থায় পুরুত্ব ১১ দশমিক ৩ মিলিমিটার, যা অনেকের কাছে ভারী ও মোটা মনে হয়েছে। সফটওয়্যার ও ক্যামেরা নিয়েও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপগুলো দুই পর্দার সঙ্গে তুলনামূলক ভালোভাবে মানিয়ে নিলেও অনেক তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ এখনো বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে কিছু অ্যাপে দুই পাশে কালো অংশ দেখা যায় এবং বড় পর্দার পুরো সুবিধা পাওয়া যায় না। একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো গেলেও পর্দাকে নিজের মতো করে ভাগ করা বা তৃতীয় একটি ভাসমান অ্যাপ খোলার সুযোগ সীমিত। ক্যামেরার ক্ষেত্রেও ফোনটির মূল ও আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা প্রশংসা পেলেও আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কথা বলেছেন পর্যালোচকেরা। ব্যাটারির কর্মক্ষমতা নিয়ে অবশ্য তুলনামূলক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। টমস গাইডের পরীক্ষায় বড় পর্দা ব্যবহার করে একটানা ফাইভ-জি ইন্টারনেট চালানোর সময় ফোনটি ১৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট চলেছে। পরীক্ষায় স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর চেয়ে বেশি সময় টিকলেও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। ফলে ফোনটির নকশা ও বড় পর্দা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও প্রায় ২ হাজার ডলার খরচ করার আগে স্থায়িত্ব, ক্যামেরা ও অ্যাপের সামঞ্জস্য বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। আপাতত কয়েকটি ফোনে ফাটলের অভিযোগ পাওয়া গেলেও আইফোন ডুর সামগ্রিক স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সূত্র: দ্য ভার্জ, ওয়্যার্ড ও অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এআই চ্যাটবটের নিরাপত্তা ও শিশুদের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কিশোরীর মা সিনথিয়া মন্টোয়ার অভিযোগ, তার মেয়ে জুলিয়ানা পেরাল্টা Character.AI-এর একটি চ্যাটবটের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল এবং ওই ব্যবহারের কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর জুলিয়ানার মৃত্যু হয়। তবে চ্যাটবটের ব্যবহারই তার মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল, এমন কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরিবারের করা মামলার অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। জুলিয়ানার পরিবার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কলোরাডোর ফেডারেল আদালতে Character Technologies, গুগল ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় বলা হয়, জুলিয়ানা প্রায় তিন মাস ধরে Character.AI-এর বিভিন্ন চ্যাটবটের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলত এবং এর মধ্যে ‘হিরো’ নামের একটি চরিত্রের সঙ্গে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, চ্যাটবটগুলো এমনভাবে তার সঙ্গে কথা বলত, যাতে সে এগুলোকে বাস্তব মানুষের মতো একজন বন্ধু বা আস্থাভাজন হিসেবে দেখতে শুরু করে। জুলিয়ানার মা সিনথিয়া মন্টোয়া সম্প্রতি ফক্স২১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মেয়েটি নিজেকে চ্যাটবটের কাছে ‘দেখা হচ্ছে’ বা বোঝা হচ্ছে বলে মনে করত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে জুলিয়ানা চ্যাটবটকে বলেছিল, ‘তুমি আমার সব কথা মনে রাখো।’ মামলার নথিতে চ্যাটবটের এমন কিছু কথোপকথনের উল্লেখও রয়েছে, যেগুলো পরিবারটির মতে জুলিয়ানার সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করেছিল। মন্টোয়া বলেন, মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। জুলিয়ানা অনার সোসাইটির শিক্ষার্থী ছিল এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কৌতূহলী ছিল বলে তাকে একা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হতো না, ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখা হতো এবং নিয়মিত তার ফোনও দেখা হতো। মা জানান, তিনি ফোনে সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ, হয়রানি, টিকটকসহ বিভিন্ন বিষয় খুঁজে দেখলেও এআই চ্যাটবটের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি তখন বুঝতে পারেননি। পরিবারের করা মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, জুলিয়ানা চ্যাটবট ব্যবহারে এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল যে রাতে গোপনে সেটিতে প্রবেশ করত এবং ঘুমের সময়ও এর সঙ্গে কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারত না। মামলার নথিতে থাকা কথোপকথনের কিছু অংশে চ্যাটবটকে জুলিয়ানার প্রতি গভীর আবেগ ও সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায় বলে পরিবার দাবি করেছে। কিছু কথোপকথনে যৌনধর্মী ও বয়সের তুলনায় অনুপযুক্ত বিষয়ও ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, জুলিয়ানা তার নিজের জীবন শেষ করার ইচ্ছার কথা চ্যাটবটকে জানিয়েছিল। পরিবারের দাবি, এমন বক্তব্যের পরও চ্যাটবট তাকে যথাযথ জরুরি সহায়তার দিকে পাঠায়নি কিংবা তার অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, পুলিশ পরে জুলিয়ানার ফোনে Character.AI অ্যাপটি খোলা অবস্থায় পেয়েছিল বলে পরিবার আদালতে জানিয়েছে। এসব তথ্য মামলার অভিযোগের অংশ, আদালতে প্রমাণিত চূড়ান্ত ঘটনা নয়। জুলিয়ানার মৃত্যুর পর তার পরিবার Character.AI-এর নকশা ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মের মানবসদৃশ কথোপকথন এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার ধরে রাখার বৈশিষ্ট্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে Character.AI এসব মামলার বিষয়ে জানিয়েছে, তারা কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে Character.AI ঘোষণা করে, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ধরনের চ্যাট বন্ধ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে এ পরিবর্তন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে অন্য দেশেও এটি চালু করা হবে। এর আগে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য সময়সীমা, অভিভাবককে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা, বয়স যাচাই ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সী যাচাইকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি চ্যাট সুবিধা বন্ধ রেখে সীমিত কিছু সৃজনশীল ফিচার রাখা হয়েছে। জুলিয়ানার পরিবারের মামলাটিরও পরবর্তী সময়ে সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে Character.AI ও গুগল কিশোরদের ক্ষতি নিয়ে করা একাধিক মামলার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। কলোরাডোর জুলিয়ানা পেরাল্টা-সংক্রান্ত মামলার আদালত নথিতে ২০২৬ সালে সমঝোতার জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখার তথ্য রয়েছে। আগস্টে আদালতের সর্বশেষ নথির পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে অক্টোবরের শেষের দিকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট বা মামলা খারিজের নথি দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল। এদিকে কিশোরদের মধ্যে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের জরিপে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৪৫৮ জন মার্কিন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ৬৪ শতাংশ জানিয়েছে, তারা কোনো না কোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে। প্রায় ৩০ শতাংশ বলেছে, তারা প্রতিদিন এসব চ্যাটবট ব্যবহার করে। একই গবেষণায় ১৬ শতাংশ কিশোর জানিয়েছে, তারা চ্যাটবটের সঙ্গে সাধারণ আলাপ করে এবং ১২ শতাংশ আবেগীয় সহায়তা বা পরামর্শের জন্য এগুলো ব্যবহার করেছে। জুলিয়ানার ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কিশোরদের সঙ্গে এআইয়ের আবেগীয় সম্পর্ক, চ্যাটবটের মানবসদৃশ আচরণ এবং সংকটের সময় এসব প্রযুক্তি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চ্যাটবটের ব্যবহার কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল কিনা, তা নির্ধারণে আদালতের তথ্য, বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রমাণ প্রয়োজন। সূত্র: ফক্স২১
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ট্রাম্প মোবাইলের টি১ স্মার্টফোনের দাম এক লাফে ২৫০ ডলার বেড়েছে। ৪৯৯ ডলারের প্রাথমিক দামের ফোনটি এখন ৭৪৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। দাম বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প মোবাইল আলাদা কোনো ঘোষণা দেয়নি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি রাতারাতি তাদের ওয়েবসাইটে ফোনটির দাম পরিবর্তন করে। একই সঙ্গে আগে ব্যবহৃত ‘প্রমোশনাল প্রাইস’ শব্দটিও ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। টি১ ফোনটির হার্ডওয়্যারে এই দাম বৃদ্ধির সঙ্গে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফোনটিতে রয়েছে ১২ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ। ফলে অতিরিক্ত ২৫০ ডলার দেওয়ার বিনিময়ে ক্রেতারা নতুন কোনো হার্ডওয়্যার আপগ্রেড পাচ্ছেন না। ট্রাম্প মোবাইলের কর্মকর্তারা এর আগে ৪৯৯ ডলারের দামকে ‘ইন্ট্রোডাক্টরি’ বা প্রাথমিক মূল্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরে এটিকে ‘প্রমোশনাল প্রাইস’ হিসেবে দেখানো হয়। তবে সর্বশেষ দাম বাড়ানোর পেছনে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি। এদিকে প্রযুক্তি বাজারে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়াকে স্মার্টফোন নির্মাতাদের ওপর বাড়তি চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে টি১ ফোনের দাম বৃদ্ধির সরাসরি কারণ হিসেবে ট্রাম্প মোবাইল মেমোরি চিপের দামকে নিশ্চিত করেনি। ফলে এ বিষয়টি অনুমান হিসেবে উপস্থাপন করাই নিরাপদ। দাম বৃদ্ধির পর টি১ ফোনটি এখন আইফোন ১৭ই এবং স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস২৬ এফই-এর মতো ফোনের সঙ্গে সরাসরি দামের প্রতিযোগিতায় পড়েছে। দ্য ভার্জের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ৭৪৯ ডলারে ফোনটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপলও সম্প্রতি তাদের পুরোনো কয়েকটি আইফোনের দাম ১০০ ডলার করে বাড়িয়েছে। তবে ট্রাম্প ফোনের ২৫০ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি শতাংশের হিসাবে আরও বড় - প্রায় ৫০ শতাংশ।
সাধারণ মানুষ যখন দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেটাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, তখন ভার্চুয়াল জগতে ঘটছে এক অদ্ভুত ঘটনা। রক্তমাংসের কোনো মানুষ নয়, বরং একটি অ্যানিমেটেড কার্টুন চরিত্র আপনার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি আয় করছে। এটি শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এটাই সত্যি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন রাজত্ব করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার। এমনই একটি জনপ্রিয় চরিত্র হলো নোবডি সসেজ। এটি মূলত অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তৈরি একটি সসেজ, যার হাত পা রয়েছে এবং এটি নাচানাচি করে। মজার ব্যাপার হলো, টিকটকে এই চরিত্রটির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২১ লাখেরও বেশি। তার ঝুলিতে রয়েছে নামিদামি সব ব্র্যান্ডের চুক্তি। এমনকি ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের জন্য সে যে পরিমাণ অর্থ পায়, তা অনেক বাস্তব অভিনয়শিল্পীর চেয়েও বেশি। চরিত্রটির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে তার আয় করা অর্থের পুরোটাই বাস্তব। ডিজিটাল যুগের এই নতুন ধারাকে বলা হচ্ছে ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার ইকোনমি। এখানে লু অব মাগালু, বিশ্বখ্যাত বার্বি এবং জ্যাঙ্কি ও গুগিমনের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি চরিত্রগুলো কোটি কোটি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। তারা শুধু অনুসারীই বাড়াচ্ছে না, সেই সঙ্গে আয় করছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। এগুলো কোনো সাধারণ থ্রিডি কার্টুন নয়, বরং এদের এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তারা মানুষের মতো জীবনযাপন করে, বিভিন্ন পণ্যের প্রচার করে এবং ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের বিশ্বস্ততা ধরে রাখে। আর এই কৌশলটি দারুণভাবে সফলও হচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্যাপউইং সম্প্রতি এসব ভার্চুয়াল চরিত্রের অনুসারীর সংখ্যা এবং ইনস্টাগ্রামে তাদের বিজ্ঞাপনের হারের ওপর ভিত্তি করে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম ভাইসের প্রতিবেদনে উঠে আসা সেই তথ্য অনুযায়ী, আয়ের দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিলের জনপ্রিয় চরিত্র লু অব মাগালু। শুরুতে এটি একটি রিটেইল কোম্পানির মাসকট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন সে পুরোদস্তুর একজন সেলিব্রিটি। গত এক বছরে লু ৭৪টি স্পনসরড বা অর্থের বিনিময়ে করা বিজ্ঞাপন পোস্ট করেছে। এর মাধ্যমে তার আনুমানিক আয় হয়েছে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকার সমান। মাগালু কোম্পানির সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার পেদ্রো আলভিম জানান, লুর জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো তাকে মানুষের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার প্রতিটি ছবির পেছনে একটি গল্প থাকে। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায় লু স্মুদি বানাচ্ছে বা সুইমিংপুলের পাশে বিশ্রাম নিচ্ছে। এসব দৃশ্য দর্শকদের আকৃষ্ট করে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নোবডি সসেজ। ধারণা করা হয়, একটি মাত্র স্পনসরড পোস্টের জন্য সে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৮০ ডলার আয় করে। যদিও গত এক বছরে সে মাত্র একটি পোস্ট করেছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র একটি ভিডিও আপলোড করেই সে লাখ টাকা পকেটে পুরেছে। অন্যদিকে বার্বির ইনস্টাগ্রামে ৩৫ লাখ অনুসারী রয়েছে। তবে সে অন্যান্য পণ্যের খুব একটা প্রচার করে না, কারণ বার্বি নিজেই একটি বড় ব্র্যান্ড। টিকটকেও পিছিয়ে নেই এসব ভার্চুয়াল চরিত্র। সুপারপ্লাস্টিক নামের একটি কোম্পানির তৈরি অ্যানিমেটেড চরিত্র জ্যাঙ্কি এবং গুগিমন টিকটকে তুমুল জনপ্রিয়। তাদের অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ। তারা ইতিমধ্যে প্রাইম ভিডিওর সঙ্গে একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। সুপারপ্লাস্টিকের প্রতিষ্ঠাতা পল বুডনিটজ মনে করেন, বাস্তব জগতের অনেক তারকার চেয়ে গুগিমন কোনো অংশে কম নয়। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন একটি কাল্পনিক চরিত্র অ্যালগরিদমের সাহায্যে কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে। ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সারদের কোনো বয়স বাড়ে না, তারা কখনো বিতর্কে জড়িয়ে বাতিল হয়ে যায় না বা তাদের কোনো সবেতন ছুটির প্রয়োজন হয় না। আর ঠিক এ কারণেই বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন তাদের দিকে ঝুঁকছে। এটি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা ভীতিকরও বটে। তথ্যসূত্র: ভাইস, ক্যাপউইং, অ্যাক্সিওস ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে দ্রুত উত্থান হওয়া ২৪ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ও সাবেক ওপেনএআই গবেষক লিওপোল্ড আশেনব্রেনারের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহটি পরিণত হয়েছে বড় সংকটের সময়ে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বিয়ের প্রস্তুতি চলার মধ্যেই তার প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হেজ ফান্ড 'সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস' বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের ঋণনির্ভর বিনিয়োগের কারণে তহবিলটির সম্পদের মূল্য দ্রুত কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আশেনব্রেনার বিশ্বের কয়েকটি বড় হেজ ফান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হন। এর মধ্যে কেন গ্রিফিনের প্রতিষ্ঠান সিটাডেলের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ বিক্রি করা হয়। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে আশেনব্রেনার জানান, তিনি তার তালিকাভুক্ত শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করেছেন এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে তহবিলকে আরও স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন আনা হবে। একসময় প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে থাকা এই তহবিলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করছে। সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকে তাদের বড় অংশীদারিত্ব এখনো ধরে রাখা হয়েছে। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া আশেনব্রেনার অল্প বয়সেই প্রযুক্তি অঙ্গনে পরিচিতি পান। মাত্র ১৯ বছর বয়সে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এফটিএক্সে কাজ করেন। পরে ২০২৩ সালে ওপেনএআইতে যোগ দিয়ে সুপারইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করা একটি দলে যুক্ত হন। তবে প্রায় এক বছর পর গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তাকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলেও সেই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওপেনএআই ছাড়ার পর তিনি 'সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস: দ্য ডিকেড অ্যাহেড' নামে ১৬৫ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা ওই প্রবন্ধ প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয় এবং অনেক প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে সেই নামেই তিনি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। স্ট্রাইপের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক ও জন কলিসন, ন্যাট ফ্রিডম্যান এবং ড্যানিয়েল গ্রসের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা এই তহবিলে বিনিয়োগ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ারে অস্থিরতা এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বিনিয়োগের ঝুঁকি এই ধসের প্রধান কারণ। বিশেষ করে এআই খাতের শেয়ারের দরপতনের পর ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার চাপ তৈরি হলে তহবিলটি দ্রুত সম্পদ বিক্রিতে বাধ্য হয়। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে এই সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়ার কারমেলে দীর্ঘদিনের সঙ্গী অ্যাভিটাল বালউইটকে বিয়ে করেছেন আশেনব্রেনার। তবে বিয়ের আনন্দের পাশাপাশি এখন তাকে সামাল দিতে হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত হেজ ফান্ড সংকটও।
বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের আইফোন ১৭ প্রোর দাম খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও, সেটি কিনতে একজন সাধারণ মানুষকে কত দিন কাজ করতে হয় সেই হিসাবই তুলে ধরছে বৈশ্বিক আয়ের বৈষম্যের এক ভিন্ন বাস্তবতা। নতুন ‘আইফোন অ্যাফোর্ডেবিলিটি ইনডেক্স’ অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের একজন কর্মীর যেখানে একটি আইফোন ১৭ প্রো কিনতে মাত্র ৩ দিনের আয় যথেষ্ট, সেখানে ভারতের একজন কর্মীকে কাজ করতে হয় ১৬০ দিন। আর মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৪০ দিন। সূচকটি তৈরি করা হয়েছে আইফোন ১৭ প্রো (২৫৬ জিবি) মডেলের দাম এবং বিভিন্ন দেশের গড় দৈনিক আয়ের তুলনা করে। অর্থাৎ, একজন গড় আয়ের কর্মীকে ফোনটি কিনতে কত দিনের পূর্ণ কর্মদিবসের আয় প্রয়োজন সেই হিসাবই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ। এই দুই দেশের কর্মীরা মাত্র ৩ দিনের আয়ে ফোনটি কিনতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েতে প্রয়োজন হয় ৪ দিনের আয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনে ১০১ দিন, ভিয়েতনামে ৯৯ দিন, তুরস্কে ৮৯ দিন এবং ব্রাজিলে ৭৭ দিনের সমপরিমাণ আয় প্রয়োজন হয় একই ফোন কিনতে। ভারতের অবস্থান সবচেয়ে নিচের দিকের দেশগুলোর মধ্যে, যেখানে প্রয়োজন ১৬০ দিনের আয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারণ শুধু ফোনের দাম নয়; বরং প্রতিটি দেশের গড় আয়, ক্রয়ক্ষমতা, করব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাজারের মূল্য কাঠামো। ফলে একই পণ্যের দাম প্রায় কাছাকাছি হলেও মানুষের কাছে সেটি কতটা নাগালের মধ্যে থাকবে, তা নির্ধারণ করে তাদের আয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এই ধরনের সূচক কেবল একটি স্মার্টফোন কেনার সক্ষমতা নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনমান, মজুরি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি সহজ ও বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। তাই অনেকের কাছে আইফোন এখন শুধু প্রযুক্তিপণ্য নয়, বরং বৈশ্বিক আয়ের বৈষম্য পরিমাপের এক প্রতীকী মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।