- প্রচ্ছদ
- Topic
#স্বাস্থ্যসচেতনতা
সাশ্রয়ী খরচে মুখের গড়নে নারীত্বের ছাপ আনতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সজেন্ডার নারী রাজি নারিনসিংহ। কিন্তু লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কম খরচে সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর তাঁর মুখে দেখা দেয় গুরুতর বিকৃতি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্ট, খনিজ তেল এবং গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতে ব্যবহৃত এক ধরনের পদার্থ। পরে ক্ষতস্থান বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় সুপার গ্লু। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার। ২০০৫ সালের দিকে মুখের গড়ন পরিবর্তনের আশায় নারিনসিংহ ওনিল রন মরিসের কাছে যান। পরিচিতজনদের মাধ্যমে মরিসের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পেশাদার প্লাস্টিক সার্জনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। কম খরচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আশায় তিনি মরিসের কাছে ইনজেকশন নেন। তবে পরে জানা যায়, যে পদার্থকে তিনি নিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিএস মায়ামির পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিস দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থানে লাইসেন্স ছাড়াই সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দিতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর কাছে যাওয়া কয়েকজনের ধারণা ছিল, তাঁদের শরীরে সিলিকনজাতীয় উপাদান প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিশ্রণে সিমেন্ট, খনিজ তেল, গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতের পদার্থ এবং আঠার মতো উপাদান ছিল। ইনজেকশনের পর নারিনসিংহের মুখে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। গালের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে, ত্বকের নিচে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় এবং থুতনি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক গড়নও বদলে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরে শক্ত হয়ে যাওয়া উপাদান সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনি লাইসেন্সধারী প্লাস্টিক সার্জনের সাহায্য নেন। নারিনসিংহের মুখের ক্ষতি সংশোধনে একাধিক ধাপে চিকিৎসা করতে হয়। তাঁর মুখে জমাট বেঁধে যাওয়া পদার্থের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারে গলফ বলের কাছাকাছি আকারের সিমেন্টের মতো শক্ত পিণ্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এ ধরনের পদার্থ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর তা সম্পূর্ণভাবে সরানো বা আগের গড়ন ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। পরবর্তী সময়ে নারিনসিংহের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বটচড’-এও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জটিলতা তৈরি হওয়া সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার পর রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা দেখানো হয়। নারিনসিংহের ঘটনা আলোচনায় আসে মূলত মুখে জমে থাকা শক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গড়ন সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ কম হলেও অনিরাপদ পদ্ধতির পরিণতি সামলাতে অনেক বেশি অর্থ, সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যে ইনজেকশনের জন্য কয়েকশ ডলার খরচ হয়েছিল, তার পরবর্তী জটিলতা সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, শরীরের টিস্যুতে অপরিচিত পদার্থের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। মরিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ইনজেকশন নেওয়া একাধিক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও উঠে আসে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষতির ধরন একই ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রোগী অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই না করে কেবল পরিচিতজনের সুপারিশ বা কম খরচের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য অনুমোদিত নয়, এমন রাসায়নিক বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পদার্থ টিস্যুর ক্ষতি, সংক্রমণ, বিকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। নারিনসিংহের ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যর্থ সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা ও অজানা উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসাসেবাদাতার লাইসেন্স যাচাই করা এবং ইনজেকশনে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা জরুরি। কাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এ ধরনের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিবিএস মায়ামি ও আপসোকল (Upsocl)।
রাতে দেরি করে খাবার খাওয়া বা ঘুমাতে যাওয়ার পর নাশতা করার অভ্যাস যকৃতের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রায় দুই লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতের খাবারের পর কিংবা ঘুমানোর সময়ের কাছাকাছি আবার খাবার খান, তাঁদের যকৃতে চর্বি জমার রোগ এবং লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ক্লিনিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি-তে। এতে তিনটি বড় গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাতে দেরি করে খাবার খাওয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যকৃতের রোগের ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে রাতে খাবার খেলেই কারও যকৃতের রোগ হবে। গবেষণাটি মূলত খাদ্য গ্রহণের সময় ও রোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক চিহ্নিত করেছে। গবেষণার প্রধান লেখক রবার্ট উইলেচানস্কি যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির যকৃতের রোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, মানুষের শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে যকৃতের কার্যক্রমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাবারের ধরন বা উপাদান পরিবর্তন না করেও কখন খাবার খাওয়া হচ্ছে, তা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব কি না, সেটি নিয়ে গবেষকেরা আগ্রহী। গবেষণায় বিশেষভাবে দুটি রোগের ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে। এর একটি হলো মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ বা এমএএসএলডি। এ রোগে যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমে। অন্যটি হলো লিভার সিরোসিস, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণে যকৃতের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। সিরোসিস গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। গবেষকেরা তিনটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার তথ্য ব্যবহার করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নার্সেস হেলথ স্টাডি, নার্সেস হেলথ স্টাডি-টু এবং হেলথ প্রফেশনালস ফলো-আপ স্টাডি। এসব গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৫৫ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের খাদ্য গ্রহণের অভ্যাসের সঙ্গে যকৃতের রোগের সম্পর্ক খতিয়ে দেখেন গবেষকেরা। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, রাতে দেরি করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এমএএসএলডি ও সিরোসিসের ঝুঁকি বেশি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিয়েও এই সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় বয়স, শরীরের ওজন, দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রম, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গড়ে ১৬ বছর পর্যবেক্ষণকালে ৪ হাজার ৪৭৭ জনের এমএএসএলডি এবং ৩১২ জনের সিরোসিস শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব ফলাফল থেকে গবেষকেরা মনে করছেন, খাবারের সময় যকৃতের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যকৃতে চর্বি জমার রোগে আক্রান্ত হলেই যে সবার সিরোসিস হবে, এমন নয়। প্রধান গবেষক উইলেচানস্কি জানিয়েছেন, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনামূলক অল্পসংখ্যক মানুষের রোগ গুরুতর পর্যায়ে গিয়ে সিরোসিসে রূপ নেয়। তাই গবেষণার ফলাফলকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে না দেখে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত। গবেষকেরা মনে করছেন, ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই দিনের ক্যালরি গ্রহণ শেষ করার অভ্যাস উপকারী হতে পারে। অর্থাৎ রাতের খাবারের পর অপ্রয়োজনে বারবার নাশতা করা বা ঘুমাতে যাওয়ার পর খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমানো নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ঘুম ও জৈবিক ছন্দবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু ম্যাকহিলও খাবার গ্রহণের সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ঘুম, খাবার এবং ব্যায়াম—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি যখন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়, তখন খাবার গ্রহণ করলে শরীরের খাদ্য বিপাকের দক্ষতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং যকৃতের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। মানুষের শরীরের জৈবিক ঘড়ি দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুম ও জেগে থাকার সময়ের পাশাপাশি বিপাকপ্রক্রিয়াতেও এই ছন্দের প্রভাব রয়েছে। রাতের শিফটে কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাজ, ঘুম ও খাবারের সময়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে খাবারের সময় নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে বর্তমান গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলে কে কখন কী পরিমাণ খাবার খেয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্যের নির্ভুলতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, এ ধরনের পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা থেকে দেরিতে খাবার খাওয়াই সরাসরি যকৃতের রোগের কারণ—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। গবেষকেরা এখন খাবারের সময় পরিবর্তন করলে যকৃতের স্বাস্থ্যে বাস্তবে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা পরীক্ষা করতে আরও গবেষণার পরিকল্পনা করছেন। এ গবেষণায় সরাসরি খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে আগে খাবার খাওয়ার ফলে যকৃতের চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসূচকে উন্নতি হয় কি না, তা যাচাই করা হবে। সব মিলিয়ে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সুস্থ থাকতে শুধু কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিই নয়, কখন খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নিয়মিত রাতে দেরি করে নাশতা করার অভ্যাস থাকলে খাবারের সময় নিয়ে সচেতন হওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
ষাট বছর আগের তুলনায় বর্তমানে শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন শস্যে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গম, আপেল ও গাজরের মতো পরিচিত খাবারে কয়েকটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের পরিমাণ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে আগের মতো সমপরিমাণ পুষ্টি পেতে এখন কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ পরিমাণ ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হতে পারে। এর পেছনে মাটির গুণমানের অবনতি এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে কৃষিকাজে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চারসের (ডিএসভি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘হলো হারভেস্টস: রিবিল্ডিং দ্য নিউট্রিশনাল ভ্যালু অব ক্রপস ইন অ্যান এজ অব অ্যাবান্ড্যান্ট ক্যালোরিজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ফসলের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার কারণ, এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শস্য, রুটি, গাজর, আপেল ও মটরশুঁটির মতো খাবারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, তামা, দস্তা ও সেলেনিয়ামের মতো খনিজ উপাদানের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে কৃষির প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রতি হেক্টর জমিতে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। নতুন জাত উদ্ভাবন, উন্নত কৃষিপদ্ধতি এবং অধিক ফলনশীল ফসল চাষের ফলে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে ফসলের ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদানের দিকে তুলনামূলকভাবে কম নজর দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএসভির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের তুলনায় প্রতি হেক্টর জমিতে শস্য উৎপাদন ২১৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে অপুষ্টির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলেই যে শরীর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পাবে, তা নিশ্চিত হচ্ছে না। গবেষকদের হিসাবে, বিশ্বে এখনো ২০০ কোটির বেশি মানুষ অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের ঘাটতিতে ভুগছেন। একে অনেক সময় ‘লুকানো ক্ষুধা’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খাচ্ছেন, এমনটা সব সময় নয়। বরং পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণের পরও খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ সমস্যা দেখা যায়। এসব দেশে অনেকের খাদ্যাভ্যাসে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকলেও সেলেনিয়াম ও ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। ফলে বাইরে থেকে খাবারের পরিমাণ যথেষ্ট মনে হলেও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যেতে পারে। সেলেনিয়ামের উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পূর্ণশস্য ও ব্রাজিল নাটে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। তবে গমের পুষ্টিঘনত্ব কমে যাওয়ার কারণে এখন নারীদের দৈনিক সুপারিশকৃত সেলেনিয়ামের চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করতে চার টুকরা পূর্ণগমের রুটি খেতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে, ১৯৬০-এর দশকের পর বাজারে আসা রুটির জন্য ব্যবহৃত গমের জাতগুলোর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম জাত সুপারিশকৃত দস্তার মাত্রা পূরণ করতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। দস্তার ঘাটতি হলে ত্বক, চুল ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, সেলেনিয়ামের অভাব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফসলের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্যের সম্পর্কও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। মাটিতে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের প্রাপ্যতা কমে গেলে গাছের পক্ষে সেগুলো শোষণ করে খাদ্যশস্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জমা করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ ফলন নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত প্রজনন ও কৃষিপদ্ধতি ফসলের আকার ও উৎপাদন বাড়ালেও পুষ্টির ঘনত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের জনপ্রিয়তা। ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওষুধ ক্ষুধা কমাতে এবং খাবার গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে এসব ওষুধ ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় কম খাবার খেলে প্রতিবার খাবার থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফসলের পুষ্টিমান কমতে থাকার প্রবণতা এবং ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষম বয়সী প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের নিরাপদ মাত্রার নিচে চলে যেতে পারেন। এটি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির হিসাব; বর্তমানে ওই সংখ্যক মানুষ পুষ্টির ঘাটতিতে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন দাবি নয়। ডিএসভির জলবায়ুবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সহযোগী উইল সামার্স বলেন, গত ৬০ বছর ধরে খাদ্যনিরাপত্তা মূল্যায়নে মূলত ক্যালরির পরিমাণ এবং প্রতি হেক্টরে উৎপাদিত ফসলের হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলেও খাবারের ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদানের মান ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তিনি আরও বলেন, ওজন কমানোর ওষুধের কারণে মানুষ যখন কম খাবেন, তখন প্রতিবার খাবার থেকে কতটা পুষ্টি পাওয়া যাচ্ছে, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায়ও রয়েছে। উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন, মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, বাজারব্যবস্থায় পুষ্টিমানকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে ফসলের উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি পুষ্টিমান পরিমাপ ও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষক, খাদ্যশিল্প ও নীতিনির্ধারকেরা যদি পুষ্টিঘনত্ব বাড়ানোর বিষয়টিকে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হতে পারে। গবেষকদের মতে, ফসলের পুষ্টিঘনত্ব ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ানো গেলে ওজন কমানোর ওষুধের কারণে খাবার গ্রহণ কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এতে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের বিদ্যমান ঘাটতির হারও প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব ফলমূল ও শাকসবজির পুষ্টিমান একই হারে কমেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গবেষণাটির মূল বক্তব্য হলো, কয়েক দশক ধরে অনেক ফসলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান কমেছে। তাই খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান নিশ্চিত করাও এখন কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে কিছু অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার অগ্রগতি ধীর করা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের চক্ষুবিদ্যার অধ্যাপক ড. ডগলাস লাজারো। লাজারোর মতে, বংশগত কারণ ও বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের বড় কারণ হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে সাতটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি হলো রোদে বের হলে চোখের সুরক্ষা না নেওয়া। দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া ছানি পড়ার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লাজারো জানিয়েছেন, তাঁর নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় তিন দশক আগের তুলনায় এখন পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেই ছানি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উজ্জ্বল রোদে সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় অভ্যাস হলো কম আলোয় পড়াশোনা বা বই পড়া। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে এবং কোনো কিছুর ওপর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অল্প আলো থেকে উজ্জ্বল আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে অন্ধকারে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। তৃতীয় বিষয়টি হলো অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস। পুষ্টিকর খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এসব রোগ চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লাজারোর মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন। চতুর্থ অভ্যাস হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা বা ড্রাই আই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। এতে চোখ লাল, চুলকানি ও অস্বস্তি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থাকার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। এতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ কর্নিয়া আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে। পঞ্চম অভ্যাস হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন লাজারো। এ ধরনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে গ্লুকোমা এবং চোখের কিছু রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বেশি উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাতে রক্তসঞ্চালনে ওঠানামার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর মত। ষষ্ঠ অভ্যাস হলো বারবার চোখ ঘষা। লাজারোর মতে, চোখ ঘষার অভ্যাস কেরাটোকোনাসের একটি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেরাটোকোনাস এমন একটি চোখের সমস্যা, যেখানে কর্নিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে সামনে দিকে উঁচু হয়ে শঙ্কুর মতো আকৃতি নিতে পারে। চোখ ঘষার অভ্যাস সরাসরি এ রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পুরোপুরি একমত না থাকলেও বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। সপ্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো। গ্লুকোমা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম উপায় বলে জানিয়েছেন লাজারো। তিনি গ্লুকোমাকে এমন একটি রোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দৃষ্টিশক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপও বাড়তে পারে। লাজারো প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। মধ্যবয়সে প্রেসবায়োপিয়া নামের একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কাছের জিনিসে ফোকাস করতে সমস্যা হতে পারে এবং অনেকের পড়ার চশমার প্রয়োজন হয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চোখের পাতায় ত্বকের ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার সঙ্গে ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের পাশাপাশি চোখের পাতার কিছু ক্যানসারের সম্পর্কও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। চোখের রোগের ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোদে চোখের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আলোয় পড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো চোখের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।
তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার গত প্রায় তিন দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের হার কমেছে। গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকি অঞ্চলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছয়টি সময়পর্বের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে মোট ২ হাজার ৭৬টি প্রথমবারের স্ট্রোকের ঘটনা শনাক্ত করেন। গবেষণায় দেখা যায়, তরুণদের মধ্যে প্রতি ১ লাখ মানুষের হিসাবে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৯টি। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২টিতে। এই বৃদ্ধি মূলত ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে হয়েছে। এ ধরনের স্ট্রোক মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে। ইস্কেমিক স্ট্রোকের হারও এই সময়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে এ ধরনের স্ট্রোকের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮টি, যা ২০২০ সালে বেড়ে ৪৭ দশমিক ৩টিতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কয়েক ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি। গবেষণায় তরুণ বয়সে স্ট্রোক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকটি প্রচলিত ঝুঁকিও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন এবং বিভিন্ন ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় পদার্থের ব্যবহার—সবকটির হার বেড়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। স্ট্রোক হওয়া তরুণদের মধ্যে নথিভুক্ত পদার্থ ব্যবহারের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২০ সালে বেড়ে ৪০ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির বড় অংশের সঙ্গে গাঁজা ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই গবেষণা থেকে গাঁজা ব্যবহারই স্ট্রোক বৃদ্ধির কারণ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। গবেষণার সহলেখক ও ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটির স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড রবিনসন বলেছেন, গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজার ব্যবহার অনেক বেড়েছে এবং বিশেষ করে নিয়মিত ব্যবহারের সঙ্গে হৃদ্রোগের সম্পর্ক থাকার কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও কঠোর ও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। গবেষকেরা বলছেন, তরুণ বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং তামাক এড়িয়ে চলার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় অবশ্য একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। তরুণদের স্ট্রোকের পর ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসার উন্নতির কারণে আগের তুলনায় বেশি তরুণ স্ট্রোকের পর বেঁচে থাকছেন। তবে বেশি মানুষ বেঁচে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অক্ষমতা বা অন্যান্য জটিলতা নিয়ে জীবনযাপনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে গবেষণাটির একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে—স্ট্রোক হয়নি এমন মানুষের মধ্যে একই ঝুঁকিগুলোর তুলনামূলক তথ্য না থাকায় এসব ঝুঁকি স্ট্রোক বৃদ্ধির কারণ কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।
ঘুম কতক্ষণ হলো, কখন ঘুমালেন কিংবা প্রতিদিন ঘুমের সময় কতটা নিয়মিত—এসব জানতে এখন অনেকেই স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য ঘুমের ট্র্যাকার ব্যবহার করেন। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ডিভাইস ঘুমের পুরো চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। এমনকি ভালো ঘুম হয়েছে বলেও অনেক সময় ভুল ধারণা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো সময় ঘুমের ট্র্যাকার ব্যবহার করেছেন। এসব ডিভাইস সাধারণত ঘুমের সময়, ঘুমের ধারাবাহিকতা এবং ঘুমের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তথ্য দেয়। তবে গবেষকদের মতে, ঘুমের মান বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—ঘুম থেকে ওঠার পর একজন মানুষ নিজেকে কেমন অনুভব করছেন। এই বিষয়টি ট্র্যাকারগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারে না। ২ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মানুষ নিজের ঘুম সম্পর্কে যে অনুভূতি বা মূল্যায়ন করেন, তার মধ্যে অনেক সময় বড় পার্থক্য থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিধানযোগ্য ডিভাইসের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য একজন মানুষের ঘুমের মান সম্পর্কে তার অনুভূতির মাত্র ২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার ঘুমকে কতটা ভালো বা খারাপ মনে করছেন, সেই পার্থক্যের ৮৪ থেকে ৯৮ শতাংশই ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত একটি পরীক্ষায় ফিটবিটের তথ্যকে পলিসমনোগ্রাফি বা পিএসজির সঙ্গে তুলনা করা হয়। পিএসজি ঘুম পরিমাপের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এতে মস্তিষ্কের তরঙ্গ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং চোখ ও পায়ের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। সুস্থভাবে ঘুমানো মানুষের ক্ষেত্রে ফিটবিটের তথ্য পিএসজির সঙ্গে ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যভাবে মিলে যায়। কিন্তু অনিদ্রায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এই হার নেমে আসে মাত্র ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশে। বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় থাকা মানুষের ক্ষেত্রেও ট্র্যাকারগুলোর তথ্য তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো, কেউ বিছানায় জেগে থাকলেও যদি বেশি নড়াচড়া না করেন, তাহলে ট্র্যাকার সেটিকে ঘুম হিসেবে ধরে নিতে পারে। ফলে ঘুমিয়ে পড়ার আগে বিছানায় জেগে কাটানো সময় কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সময় সঠিকভাবে ধরা নাও পড়তে পারে। গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, একটি ডিভাইস মানুষের মোট ঘুমের সময় প্রায় ৩০ মিনিট বেশি দেখিয়েছে। একই সঙ্গে ঘুমের কার্যকারিতাও প্রায় ৮ শতাংশ বেশি দেখিয়েছে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ভুল তথ্য মানুষকে নিজের ঘুম নিয়ে ভুল ধারণা দিতে পারে। বিশেষ করে অনিদ্রার মতো সমস্যায় ভুগছেন এমন কেউ যদি ট্র্যাকার দেখে মনে করেন যে তার ঘুম স্বাভাবিক, তাহলে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন নাও মনে করতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে গবেষকরা বলছেন, ঘুমের ট্র্যাকার পুরোপুরি অকার্যকর নয়। একজন মানুষ কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন এবং তার ঘুমের সময়সূচি কতটা নিয়মিত—এসব বিষয়ে ডিভাইসগুলো বেশ ভালো ধারণা দিতে পারে। তবে শুধু ট্র্যাকার দেখানো সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজেকে কেমন লাগছে, সেটিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা ঘুমের ট্র্যাকারের পাশাপাশি একটি ঘুমের ডায়েরি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে প্রতিদিন কতক্ষণ ঘুম হয়েছে, সকালে কতটা সতেজ লাগছে এবং রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার কথা মনে আছে কি না—এসব লিখে রাখা যেতে পারে। গবেষকদের মূল বক্তব্য হলো, ঘুমের মান শুধু সংখ্যায় বিচার করা যায় না। ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি নিজের অনুভূতি ও ঘুমের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ৪০ বছর বয়সী রিস উইলার্ড প্রথমে বুঝতেই পারেননি, তার শরীরে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধছে গুরুতর এক রোগ। কয়েক মাস ধরে ক্লান্তি, রাতে অতিরিক্ত ঘাম ও দ্রুত ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও সেগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু হঠাৎ শরীরজুড়ে বড় বড় কালশিটে দেখা দেওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা করাতেই সামনে আসে ভয়ংকর সত্য—তিনি অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় (এএমএল) আক্রান্ত। ডালাসে স্ত্রী সারাহ উইলার্ড ও মেয়েকে নিয়ে থাকেন রিস। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড ক্লান্তিতে ভুগছিলেন তিনি। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গেলেও ক্লান্তি কাটছিল না। পরে শুরু হয় রাতে অতিরিক্ত ঘাম, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া এবং ত্বকে ছোট ছোট লাল দাগ। শুরুতে এসব উপসর্গ খুব একটা গুরুতর মনে হয়নি। একদিন রিসের শরীরের পাশে বেশ কিছু লাল দাগ দেখতে পান তার স্ত্রী। গ্লাস দিয়ে চাপ দিয়ে দেখে ওই জায়গার ছবি তোলেন তিনি। পরে ছবিটি চ্যাটজিপিটিতে দিলে সেটি দাগগুলোকে ‘পিটেকিয়া’ হতে পারে বলে জানায়। ছোট রক্তনালি থেকে ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হলে এমন লাল দাগ দেখা দিতে পারে। তবে তখনও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হননি তারা। পরিস্থিতি বদলে যায় প্রায় ছয় সপ্তাহ পর। রিস নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও আউটডোর কার্যক্রম করতে পছন্দ করেন। একবার ২৭ মাইল বা প্রায় ৪৩ কিলোমিটার হাঁটার পর বাড়ি ফিরে তার শরীরজুড়ে বিশাল বিশাল কালশিটে দেখতে পান সারাহ। মুষ্টির সমান আকারের এসব কালশিটে ছিল তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে। সারাহ বলেন, এতটা শারীরিক পরিশ্রমের পরও এমন কালশিটে হওয়া স্বাভাবিক নয়। তখনই বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর আগের চ্যাটজিপিটি কথোপকথনে রিসের নতুন উপসর্গের কথা জানান সারাহ। এবার দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রিস হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েই তারা বুঝতে পারেন, পরিস্থিতি গুরুতর। তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে আরও পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরদিন একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রিসকে জানান, তার শ্বেত রক্তকণিকার ৮৭ শতাংশই মাইলোব্লাস্ট। এটি লিউকেমিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পরে বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, রিস অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। এএমএল একটি দ্রুতগতির রক্তের ক্যানসার। এই রোগে ক্লান্তি, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ও রাতে ঘামের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রক্তের বিভিন্ন কোষের মাত্রা কমে গেলে সহজেই কালশিটে পড়া, বারবার সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টও হতে পারে। রিসকে পরে বেইলর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শুরু হয় চিকিৎসা। একপর্যায়ে তিনি সেপটিক শকেও আক্রান্ত হন। এএমএলের চিকিৎসায় তাকে অত্যন্ত শক্তিশালী কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এতে তার রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা আরও কমে যায় এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তবে চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছেন রিস। বর্তমানে তিনি গভীর রেমিশনে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে তার রক্তের মাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরছে। টানা ৩০ দিন হাসপাতালে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। এক মাস পর স্বামীকে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সারাহ। এই অভিজ্ঞতার পর রিসের জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। নিজের গল্প শেয়ার করে তিনি অন্যদের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার পরামর্শ, জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের শরীরের সংকেতগুলো যেন কেউ উপেক্ষা না করেন। অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।