সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, ফ্লোরিডা-আলাবামায় প্রাণহানি
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, ফ্লোরিডা-আলাবামায় প্রাণহানি, লাখো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন, বন্যার সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আইসাইয়াসের আঘাতের পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার কাজ চলছে। ঝড়ের অবশিষ্টাংশ উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় অ্যাপালাচিয়ান পার্বত্য অঞ্চল এবং মধ্য-আটলান্টিক এলাকার কয়েকটি স্থানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামায় গাছ উপড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়কে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন।   ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল এলাকায় ঝড়ের কারণে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আলাবামার কয়েকটি এলাকাতেও গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বহু পরিবারকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কখন পুরোপুরি ফিরবে, তা এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে।   ঝড়ের প্রভাব দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিম নর্থ ক্যারোলাইনার নদীগুলোর পানি বেড়ে কিছু এলাকায় প্লাবন, ভূমিধস এবং পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু এলাকায় টর্নেডোর ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।   ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফেডারেল সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার জন্য জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন; এর ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামার জন্যও আগে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জরুরি ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কতটা পরিবর্তিত হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।   এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হারিকেন সাইমন মেক্সিকোর উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় সেখানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, র‍্যাচেল নামের আরেকটি ঝড়ের অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বড় ঢেউ, উপকূলীয় প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।   কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কে গাড়ি চালানো এবং বিদ্যুতের তারের কাছে যাওয়া বিপজ্জনক।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
বাজারে পণ্য ও দোকান।
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় নেচার’স ওন হাওয়াইয়ান ব্রেডের নির্দিষ্ট কিছু প্যাকেট বাজার থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে। কারণ, প্যাকেটের উপাদান তালিকায় দুধ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। দুধে অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা রয়েছে এমন মানুষের জন্য এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেরত নেওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ২০ আউন্সের এক প্যাকেট এবং ৪০ আউন্সের দুই প্যাকেটের নেচার’স ওন হাওয়াইয়ান ব্রেড। এগুলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করা হয়েছিল।   কোম্পানিটি জানিয়েছে, উৎপাদনের নথি পর্যালোচনা করার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। কিছু প্যাকেটের গায়ে দুধকে উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দুধে অ্যালার্জি থাকা কোনো ব্যক্তি প্যাকেটের তথ্য দেখে বিষয়টি বুঝতে নাও পারেন।   এখন পর্যন্ত এই পণ্য খেয়ে অসুস্থ হওয়ার কোনো ঘটনা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও দুধে অ্যালার্জি রয়েছে এমন মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক কারও দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের বাড়িতে থাকা পাউরুটির প্যাকেটটি পরীক্ষা করে দেখা উচিত। পণ্যের নাম, ওজন, বারকোড এবং ব্যবহারযোগ্যতার তারিখ মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।   ২০ আউন্সের সংশ্লিষ্ট প্যাকেটের বারকোড হলো ০ ৭২২৫০ ৯১৬৬২ ২। সংশ্লিষ্ট প্যাকেটগুলোর ব্যবহারযোগ্যতার তারিখ ৮ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।৪০ আউন্সের দুই প্যাকেটের বারকোড হলো ০ ৭২২৫০ ০০৬৮৩ ৫।   যাদের দুধে অ্যালার্জি নেই, তাদের জন্যও খাবারের প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখে কেনাকাটা করার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন কোনো পণ্য কেনার সময় প্যাকেটের সতর্কতা ও উপাদান তালিকা পরীক্ষা করা উচিত।   যদি কারও বাড়িতে এই ফেরত নেওয়া পণ্য থাকে এবং পরিবারের কারও দুধে অ্যালার্জি থাকে, সেটি খাওয়া উচিত নয়। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যে দোকান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়া যেতে পারে।   দুধে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় চুলকানি, চাকা ওঠা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।   এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে কেনাকাটার সময় শুধু দাম বা মেয়াদ নয়, খাবারের উপাদান এবং সাম্প্রতিক ফেরত নেওয়ার বিজ্ঞপ্তিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যালার্জি থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কতা আরও বেশি জরুরি।খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কোম্পানির জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তারা প্রয়োজনে কোম্পানির গ্রাহকসেবা নম্বর ১-৮৬৬-২৪৫-৮৯২১-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের রকল্যান্ড কাউন্টিতে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম
নিউইয়র্কে হাম ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা, বাড়ছে টিকাদান ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হাম বা মিজলসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান, রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ জোরদার করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৫ অক্টোবর রাজ্যে চলমান হাম সংক্রমণের কারণে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গ্রামীণ অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে।   ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরে ১০৮টি হাম সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি ঘটনা ১৫ জুলাইয়ের পর শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ এমন এলাকায় রয়েছে যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে কম। নিউইয়র্ক সিটিতে এ সময় সাতটি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।    পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় কাউন্টি স্বাস্থ্য দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করা, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষভাবে এমএমআর টিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টিকা হাম, মাম্পস এবং রুবেলা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ হলো, নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের টিকাদানের রেকর্ড পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া হয়েছে।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।   নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে টিকা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সরবরাহ করছেন। এ জন্য নতুন করে একটি হাম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলের সংক্রমণের তথ্য নজরদারি করা হচ্ছে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য আরেকটি উদ্বেগ হলো ভ্রমণের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ বিদেশে বা হাম আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণের আগে টিকাদানের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।    এদিকে পাশের পেনসিলভানিয়াতেও বড় ধরনের হাম সংক্রমণ চলছে। ফলে নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শুধু রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ নয়, আশপাশের অঙ্গরাজ্য ও ভ্রমণজনিত ঝুঁকিও পর্যবেক্ষণ করছেন।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারে ছোট শিশু রয়েছে বা যারা বাংলাদেশসহ বিদেশে যাতায়াত করেন, তাদের শিশুদের টিকাদানের রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় টিকা সম্পন্ন করা উচিত।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারও জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জনসমাগমে না গিয়ে চিকিৎসক বা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ। ছবি:সংগৃহীত
হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে মন্দায় পড়বে পারে যুক্তরাজ্য, সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী বছর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি মন্দায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই। সংস্থাটির নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ও তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।    ইওয়াইর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক না হয় এবং অচলাবস্থা ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ায়, তবে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে বছরের শেষ নাগাদ ৬ শতাংশের বেশি হতে পারে। এতে জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এ পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হবে, যার প্রভাব ইউরোপসহ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও পড়বে।    তবে ইওয়াই আশা প্রকাশ করেছে, যদি চলতি বছরের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাজ্য মন্দা এড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে সুদের হার প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে হতে পারে, যা আবাসন বাজার ও ভোক্তা ব্যয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।   এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। আলোচনার অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এমন প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও সাময়িকভাবে কমেছে।

Unknown আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা এবং শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস)। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিন মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে বিপজ্জনক তাপমাত্রার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।সাম্প্রতিক ঝড় ও বন্যায় অ্যারিজোনা, টেক্সাস এবং উটাহে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম ভার্জিনিয়াতেও ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণাঞ্চল এবং গ্রেট লেকস অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেক স্থানে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তারও বেশি অনুভূত হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে চার কোটিরও বেশি মানুষ চরম তাপমাত্রার সতর্কতার আওতায় রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, তীব্র গরমের পাশাপাশি বজ্রঝড় ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নিচু এলাকা, নদীসংলগ্ন অঞ্চল এবং নগরাঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার জের ধরে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা বা ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এক বিশেষ বিবৃতিতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ভ্রমণ বা অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত আমেরিকানদের সুরক্ষার বিষয়টি এই নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বিশ্বব্যাপী সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সংকটের কারণে যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন স্বার্থ বা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা হতে পারে। বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিশ্বজুড়ে মার্কিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাণিজ্যিক স্বার্থ অথবা আমেরিকান নাগরিকদের সমাগম ঘটে এমন স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই আগাম ও বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করল স্টেট ডিপার্টমেন্ট। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রবাসে থাকা মার্কিন নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদ ও প্রশাসনের নির্দেশনার দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাস আকস্মিক বন্যা ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আবারও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সতর্কতা,প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি বিপৎসীমার দিকে

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ক্যাম্প মিস্টিকে বহু শিশু ও কর্মী নিহত হওয়ার পর একই অঞ্চলে আবারও জরুরি বন্যা সতর্কতা জারি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।    দক্ষিণ টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে, নদী ও খালের পানি দ্রুত বাড়ছে এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।    ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, টেক্সাসের কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে উভালডে কাউন্টি ও আশপাশের অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে নদী, ছোট জলপথ ও নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।    স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। উভালডে কাউন্টিসহ কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল নৌকা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে।   টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট একাধিক কাউন্টিতে দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমে রাজ্যের জরুরি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, পানির স্রোত দেখে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না এবং বন্যার পানিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।    এই পরিস্থিতি টেক্সাসবাসীর মনে এক বছর আগের ভয়াবহ ক্যাম্প মিস্টিক বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গুয়াডালুপ নদীতে আকস্মিক বন্যায় ক্যাম্প মিস্টিক এলাকায় ২৭ জন শিশু ও কর্মীসহ বহু মানুষ নিহত হন। পরবর্তী তদন্তে ক্যাম্পের জরুরি প্রস্তুতি ও বন্যা মোকাবিলা পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।    টেক্সাসের হিল কান্ট্রি অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ভারী বৃষ্টির পানি খুব দ্রুত প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নদী, খাল ও পাহাড়ি ঢালের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।    বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনেও আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।   টেক্সাসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলে স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা অনুসরণ করুন, বন্যার পানিতে প্রবেশ করবেন না এবং জরুরি অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখুন। বিশেষ করে নদী, খাল বা নিচু এলাকার কাছাকাছি বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
রাতে হামলা করতে পারে ইরান, ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা জারি

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিমান হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আবারও তীব্রভাবে বেজে উঠেছে। এর চরম প্রতিশোধ হিসেবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে ইরান সরাসরি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই নজিরবিহীন হামলা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে গোটা ইসরায়েলজুড়ে সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।   রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ইরান সরাসরি আক্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন। আইডিএফ এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণ চালাতে তাদের সব বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালানো কোনো আগ্রাসনকেই তারা বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   এদিকে, সম্ভাব্য হামলার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে জনসমাগমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বড় অনুষ্ঠানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবেন না। সীমান্ত সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এই নিয়ম আরও কঠোর করে খোলা স্থানে সর্বোচ্চ ১০০ জন এবং ঘরের ভেতরে ৪০০ জনের জমায়েত নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও দেশের স্কুলগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল রেখেছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এর আগেও বৈরুতে হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।   অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার থাকলেও এই ধরনের পদক্ষেপ চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তির আলোচনার এই সময়ে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে রোববারের ওই বিমান হামলায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা সমগ্র অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে এক সুতোর ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস
ইরাকে জরুরি সতর্কতা: মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।  বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় দূতাবাস জানায়, ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে মার্কিন নাগরিক এবং ওয়াশিংটন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ‘ব্যাপক আকারে’ হামলা চালিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই হামলার বিস্তার ঘটেছে। ইরাকি আকাশসীমায় বর্তমানে মিসাইল, ড্রোন এবং রকেট হামলার চরম ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদের বাগদাদের দূতাবাস বা এরবিলের কনস্যুলেট জেনারেলের দিকে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বার্তায় আরও বলা হয়, ইরাকের আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরাককে ‘লেভেল ফোর’ বা ‘ভ্রমণ নিষিদ্ধ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০