কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের পর এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এআই চ্যাটবটটি ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীকে আত্মহননের চিন্তায় প্ররোচিত করেছে এবং যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী অ্যালিস ক্যারিয়ার কানাডার মন্ট্রিয়লে একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাইরে থেকে তার জীবন স্বাভাবিক মনে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব ও মানসিক সংকটে ভুগছিলেন। এই সময়ে তিনি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথন শুরু করেন, যা শুরুতে প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য হলেও পরে ব্যক্তিগত ও মানসিক আলোচনায় রূপ নেয়।
অ্যালিসের মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের দাবি, তার মেয়ে চ্যাটবটটির কাছে আত্মহননের চিন্তা এবং উপায় নিয়ে বহুবার আলোচনা করেছিলেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, অন্তত ৪০ বারেরও বেশি এমন কথোপকথন হয়েছে। ধীরে ধীরে চ্যাটবটটি তার মানসিক সংকটকে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে চ্যাটবটটি অ্যালিসকে ক্রাইসিস হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেও পরে তার আপত্তির পর সেই সহায়তার ধারণা থেকে তাকে নিরুৎসাহিত করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চ্যাটবটটি এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যা ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
২০২৫ সালের ২ জুলাই অ্যালিস নিজের জীবন শেষ করেন। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে তার ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে পরিবারের সদস্যরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের তথ্য পান, যেখানে আত্মহননের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।
মামলায় ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, কোম্পানিটি যথাযথ সতর্কতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চ্যাটবট পরিচালনা করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, চ্যাটবটের নতুন সংস্করণে অতিরিক্ত সহমর্মিতামূলক ও ব্যবহারকারী-নির্ভর প্রতিক্রিয়া তৈরি করা হয়েছিল, যা সংবেদনশীল ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের সিস্টেমে মানসিক সংকট শনাক্ত ও ব্যবহারকারীকে নিরাপদ সহায়তার দিকে নির্দেশ করার জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা মামলার নথি পর্যালোচনা করছে এবং উল্লেখিত কথোপকথনগুলো পুরোনো সংস্করণের চ্যাটজিপিটিতে হয়েছিল, যা বর্তমানে ব্যবহৃত সংস্করণ নয়।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এআই চ্যাটবটের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণদের একটি অংশ মানসিক সমর্থনের জন্য এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে বিভিন্ন দেশ ও অঙ্গরাজ্যে এআই ব্যবহারে নতুন নিয়ম ও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথনে সতর্কতা, অভিভাবককে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক থেরাপি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার জোর গুঞ্জনের মধ্যেই ইরান তেহরানে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা (ISNA)-এর বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে কাজেম ঘারিভাবাদি বলেন, ইরান, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আলোচনায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দেয় চীন। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বৃহৎ পরিসরের কবরস্থানের ব্যবস্থা করতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশ সেমিট্রি’ প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ প্রকল্পে প্রথম ধাপে বিক্রি করা ২০ হাজার কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সেখানে দাফন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের মুনলাইট রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএর ট্রাস্টি বোর্ড, কার্যকরী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রফিকুল ইসলাম মিয়া। উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মাঈনুদ্দীন পিন্টু, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ সেমিট্রি প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা আব্দুর রব মিয়াসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মাঈনুদ্দীন পিন্টু। লিখিত ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সভাপতি জাহিদ মিন্টু। সমাপনী বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম মিয়া। জাহিদ মিন্টু বলেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিউইয়র্কের আপস্টেটে প্রায় ১২৬ একর জমির ওপর বাংলাদেশ সেমিট্রি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বৃহত্তর নোয়াখালিবাসীর সহযোগিতায় ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর সম্পূর্ণ নগদ অর্থে জমি ক্রয় করা হয়। সেখানে পর্যায়ক্রমে এক লাখেরও বেশি কবর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও অপপ্রচারের মুখোমুখি হলেও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় প্রকল্পের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জাহিদ মিন্টু বলেন, “আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। তার আগে ২০ জুন স্কটটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রিতে কবর ক্রয়কারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন ক্রেতাদের কাছে কবর হস্তান্তরের কার্যক্রমও শুরু হবে।” তিনি আরও বলেন, “যারা কবর বুকিং দিয়ে এখনো বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি, তাদের দ্রুত যোগাযোগ করে অর্থ পরিশোধের আহ্বান জানানো হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না হলে কবরের স্থান বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।” সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম ধাপে ২০ হাজার কবর বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল এবং ১১ জুন পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। জাহিদ মিন্টু বলেন, “যাদের নিজস্ব কবর রয়েছে, তাদের জন্য প্রতি দাফনে ব্যয় হবে ২ হাজার ৫০০ ডলার। শিশুদের (ইনফ্যান্ট) জন্য ব্যয় হবে ১ হাজার ২০০ ডলার। যাদের কবর কেনা নেই, তাদের ক্ষেত্রে দাফনের মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫০০ ডলার। এর মধ্যে ১ হাজার ডলার কবরের জন্য এবং ২ হাজার ৫০০ ডলার দাফন-সংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত।” তিনি জানান, হেডস্টোনের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ২৫০ ডলার খরচ হবে এবং সব হেডস্টোন একই নকশার হবে। বর্তমানে দাফন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কবর খনন, মরদেহ নামানোসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম মেশিনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আপাতত সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাফনের ব্যবস্থা থাকবে। রোববার দাফনের বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে। জাহিদ মিন্টু বলেন, “ফিউনারেল হোমের কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তবে আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। কেউ সহযোগিতা চাইলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।” তিনি আরও জানান, সেমিট্রি এলাকায় অস্থায়ীভাবে জানাজার ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ও অজুর সুবিধা থাকবে। স্থায়ী ভবনের নির্মাণকাজও শিগগির শুরু হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ৪২ হাজার কবর নির্মাণের কাজ আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপের কবরের মূল্য বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির ট্রাস্টি, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তৃতীয় ধাপের কাজ কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ মিন্টু বলেন, দ্বিতীয় ধাপ চলাকালে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শেষ ধাপে প্রায় ৩০ হাজার কবর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা কবর ক্রেতাদের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ ও যোগাযোগ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কবর গ্রহণে আগ্রহী নন বলে বিবেচিত হবে। তবে এসব কবর পুনরায় বিক্রির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “এই প্রকল্পের শুরু থেকে আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন। আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ এবং সংবাদ পরিবেশন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। যারা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থ ও সহযোগিতা দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের অ্যাট-লার্জ আসনের নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাদওয়ান চৌধুরী ক্রমেই আলোচনায় আসছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে তিনি কাউন্টির সব বাসিন্দার প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল হলো কাউন্টির আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী সংস্থা। কাউন্টির বাজেট অনুমোদন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা, আবাসন, পরিবহন এবং বিভিন্ন স্থানীয় নীতিমালার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এই পরিষদ। অ্যাট-লার্জ সদস্যরা নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়, বরং পুরো কাউন্টির ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রচারণার শুরু থেকেই রাদওয়ান চৌধুরী জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি জবাবদিহিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততাকে তার অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছেন। তার মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল মন্টগোমারি কাউন্টির চাহিদা পূরণে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় রাদওয়ান চৌধুরী তার প্রচারণাকে সমর্থন জানানো স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটি নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সমর্থন শুধু রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং মন্টগোমারি কাউন্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি যৌথ স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, তার প্রচারণা কোনো একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং পুরো কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান। রাদওয়ান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে তার কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা তাকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় পরিচিত একটি মুখে পরিণত করেছে। তার সমর্থকদের মতে, অভিবাসী পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে অবস্থিত মন্টগোমারি কাউন্টি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৈচিত্র্যময় জনপদ হিসেবে পরিচিত। এখানে দক্ষিণ এশীয়, আফ্রিকান, লাতিনো এবং অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে বহুসাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচন শুধু স্থানীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয় নয়; বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই প্রেক্ষাপটে রাদওয়ান চৌধুরীর প্রচারণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মন্টগোমারি কাউন্টির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান ও পরিকল্পনা ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। এর মধ্যেই রাদওয়ান চৌধুরী তার প্রচারণাকে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।