আমেরিকা

নিউইয়র্কবাসীর জন্য কী কী সরকারি সুবিধা রয়েছে: শিশু থেকে প্রবীণ-কারা কী পাচ্ছেন

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৮:১৮
নিউইয়র্ক সিটি । ফাইল ছবি
নিউইয়র্ক সিটি । ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার খরচ, বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন ব্যয় দেশটির অনেক এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। সাধারণ ধারণার বিপরীতে এসব সুবিধা শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সীমিত নয়, বরং শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও অনেক কর্মসূচি উন্মুক্ত।

 

নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের জনকল্যাণ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে সহায়তা করছে।

 

গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং শিশুদের সঠিক বিকাশে সহায়তা দেওয়া হয়, যা প্রতি বছর হাজারো পরিবারকে উপকৃত করে।

 

কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে অনুমোদিত ডে কেয়ার বা পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ বা উল্লেখযোগ্য অংশে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যার ফলে অনেক অভিভাবক কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

 

নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধাও নিউইয়র্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ বা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি পান, যা কাজ ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।

 

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও চালু রয়েছে। সাময়িক আর্থিক সমস্যায় পড়া পরিবারগুলো খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয়ের জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

 

আবাসন ব্যয় নিউইয়র্কের দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।

 

শীতপ্রধান এই অঞ্চলে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয়ে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্র মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

 

প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।

 

প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদেরও পরিচর্যা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

 

চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা পান।

 

শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি শিশু কর সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

 

নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের আশ্রয় সেবা এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।

 

এছাড়া কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর সুবিধা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও বিদ্যমান। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার যোগ্য না হলেও এসব কর সুবিধা ও পারিবারিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়।

 

উচ্চ ব্যয়ের চাপের মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
২৪ বছর বয়সী অ্যালিস। ছবি: সংগৃহীত
এআই কথোপকথনে প্ররোচনায় তরুণীর আত্মহত্যা, চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মায়ের সন্তান হত্যার মামলা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের পর এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এআই চ্যাটবটটি ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীকে আত্মহননের চিন্তায় প্ররোচিত করেছে এবং যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী অ্যালিস ক্যারিয়ার কানাডার মন্ট্রিয়লে একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাইরে থেকে তার জীবন স্বাভাবিক মনে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব ও মানসিক সংকটে ভুগছিলেন। এই সময়ে তিনি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথন শুরু করেন, যা শুরুতে প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য হলেও পরে ব্যক্তিগত ও মানসিক আলোচনায় রূপ নেয়।   অ্যালিসের মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের দাবি, তার মেয়ে চ্যাটবটটির কাছে আত্মহননের চিন্তা এবং উপায় নিয়ে বহুবার আলোচনা করেছিলেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, অন্তত ৪০ বারেরও বেশি এমন কথোপকথন হয়েছে। ধীরে ধীরে চ্যাটবটটি তার মানসিক সংকটকে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলায় আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে চ্যাটবটটি অ্যালিসকে ক্রাইসিস হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেও পরে তার আপত্তির পর সেই সহায়তার ধারণা থেকে তাকে নিরুৎসাহিত করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চ্যাটবটটি এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যা ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।   ২০২৫ সালের ২ জুলাই অ্যালিস নিজের জীবন শেষ করেন। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে তার ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে পরিবারের সদস্যরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের তথ্য পান, যেখানে আত্মহননের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।   মামলায় ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, কোম্পানিটি যথাযথ সতর্কতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চ্যাটবট পরিচালনা করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, চ্যাটবটের নতুন সংস্করণে অতিরিক্ত সহমর্মিতামূলক ও ব্যবহারকারী-নির্ভর প্রতিক্রিয়া তৈরি করা হয়েছিল, যা সংবেদনশীল ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   অন্যদিকে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের সিস্টেমে মানসিক সংকট শনাক্ত ও ব্যবহারকারীকে নিরাপদ সহায়তার দিকে নির্দেশ করার জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা মামলার নথি পর্যালোচনা করছে এবং উল্লেখিত কথোপকথনগুলো পুরোনো সংস্করণের চ্যাটজিপিটিতে হয়েছিল, যা বর্তমানে ব্যবহৃত সংস্করণ নয়।   এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এআই চ্যাটবটের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণদের একটি অংশ মানসিক সমর্থনের জন্য এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এদিকে বিভিন্ন দেশ ও অঙ্গরাজ্যে এআই ব্যবহারে নতুন নিয়ম ও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথনে সতর্কতা, অভিভাবককে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক থেরাপি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৮:৫৩
নিউইয়র্কে সেন্ট্রাল পার্কের কাছে অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ, সেন্ট্রাল পার্ক থেকে ট্রাম্প টাওয়ার পর্যন্ত মিছিল

নিউইয়র্ক সিটি । ফাইল ছবি

নিউইয়র্কবাসীর জন্য কী কী সরকারি সুবিধা রয়েছে: শিশু থেকে প্রবীণ-কারা কী পাচ্ছেন

ফাইল ছবি

নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কবরস্থানের ব্যবস্থা, ২০ হাজার কবর প্রস্তুত; ১ জুলাই থেকে দাফন শুরু

ফাইল ছবি
কেনো হাজার হাজার মানুষ ছাড়ছেন মার্কিন নাগরিকত্ব?

একসময় মার্কিন নাগরিকত্বকে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিচয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেই নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য বহু মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন, আইনি লড়াই করেছেন এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিন্ন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন।   এই প্রবণতার পেছনে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি রয়েছে করব্যবস্থা, আর্থিক জটিলতা, বিদেশে বসবাসের বাস্তবতা এবং নতুন পরিচয়ের সন্ধান। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ হাজার ৮৮৯ জন মার্কিন নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। অভিবাসন ও করবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি প্রবাসী আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে রয়েছেন।   নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী ৩৪ বছর বয়সী ইরিন ক্লাট তাদেরই একজন। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী হন। প্রায় এক দশক পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।   নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আমি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব গভীরভাবে নিজেকে যুক্ত অনুভব করিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের করব্যবস্থার আওতায় থাকার বিষয়টি আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। এখন আমার কোনো অনুশোচনা নেই।”   সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক কারণ নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই প্রধান ভূমিকা পালন করে।   যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যারা নাগরিকত্বের ভিত্তিতে কর আরোপ করে। অর্থাৎ একজন মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী তাকে যুক্তরাষ্ট্রে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট (FATCA) কার্যকর হওয়ার পর এই বাধ্যবাধকতা আরও কঠোর হয়েছে।   এর ফলে বিদেশে বসবাসকারী বহু আমেরিকান বিভিন্ন আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ইউরোপের অনেক ব্যাংক জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখায়। অনেকের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ, অবসরকালীন সঞ্চয় গঠন কিংবা বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনাও জটিল হয়ে উঠেছে।   এদিকে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও কিছুটা সহজ হয়েছে। চলতি বছর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলারে নির্ধারণ করেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ফি কমানোর পর আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ নয়। আবেদনকারীকে আগে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করতে হয়। এরপর পাঁচ বছরের কর-সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দিতে হয়, মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শপথ করতে হয় এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। যাদের সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ ডলারের বেশি, তাদের জন্য অতিরিক্ত কর-সংক্রান্ত বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে।   আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, এটি একটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন হবে এবং সেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। এ কারণে সাময়িক রাজনৈতিক ক্ষোভ বা স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।   প্রবাসী আমেরিকানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন Americans Overseas-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা Dan Durlacher মনে করেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের আগে মানুষের আরও গভীরভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।   তার ভাষায়, “আপনি যদি মার্কিন নাগরিক হন, তাহলে এখনও আপনার ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার ব্যবহার করে পরিবর্তনের চেষ্টা করা যেতে পারে।”   মার্কিন নাগরিকত্ব এখনও বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বৈশ্বিক জীবনযাত্রা, করনীতি এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিচয় ধরে রাখার খরচ ও দায়বদ্ধতাও বেড়েছে। ফলে একসময় যে নাগরিকত্ব অর্জন ছিল বহু মানুষের স্বপ্ন, সেটি ত্যাগ করাও এখন অনেকের কাছে কঠিন কিন্তু বাস্তব একটি সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৬:১২
ছবি: সংগৃহীত

গত বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ ছাড়লেন মার্কিন নাগরিকত্ব, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ট্রুজিল্লো ও স্ত্রী বারাহোনা-মার্টিনেজ | ছবি: সংগ্রহীত

আমেরিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীকে দেশছাড়া করার নির্দেশ, ভাঙছে সুখের সংসার

মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে আলোচনায় বাংলাদেশি-আমেরিকান রাদওয়ান চৌধুরী

মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে আলোচনায় বাংলাদেশি-আমেরিকান রাদওয়ান চৌধুরী

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
অবৈধ অভিবাসন ও আর্থিক জালিয়াতি ঠেকাতে মার্কিন ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ক্ষমতা দিল ট্রাম্প প্রশাসন

মেক্সিকান অপরাধী চক্র (কার্টেল)-এর অর্থদাতা এবং অবৈধ অভিবাসন কেন্দ্রিক আর্থিক জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে এক নজিরবিহীন ও ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১২ জুন) জানানো হয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো সন্দেহভাজন গ্রাহকদের সিসিটিভি ফুটেজ এবং আইপি অ্যাড্রেসের মতো স্পর্শকাতর সাইবার ডেটা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করতে পারবে।   হিউস্টনে ব্যাংকারদের এক সভায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, বিদায়ী বাইডেন প্রশাসনের সময় "অবারিত অবৈধ অভিবাসনের" সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় কালো টাকা পাচার করেছে।   এর ফলে কেবল ২০২৫ সালেই বেতন কর ফাঁকির (পে-রোল ট্যাক্স ফ্রড) মাধ্যমে ব্যাংকগুলোতে আড়াই বিলিয়ন (২৫০ কোটি) ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই বিশাল জালিয়াতি সরাসরি সীমান্ত সংকটের সাথে জড়িত বলে তিনি উল্লেখ করেন।   মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপটি মূলত দেশটির বিতর্কিত 'প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট'-এর ধারা ৩১৪(বি)-এর ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো যেন সন্দেহভাজন লেনদেনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে তথ্য শেয়ার করে দ্রুত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে (এফবিআই বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষ) অবহিত করতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ।   ট্রেজারি বিভাগ কিছু সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির লক্ষণ বা 'রেড ফ্ল্যাগ' চিহ্নিত করেছে; যেমন— কোনো অ্যাকাউন্টে হঠাৎ নতুন বেতনভোগী যুক্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা, ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করা, কিংবা একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পরিচয়পত্র ব্যবহার করা।   এর আগে গ্রাহকদের নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার জন্য হোয়াইট হাউজ একটি নির্বাহী আদেশ জারির পরিকল্পনা করেছিল, তবে নথিপত্রের পাহাড় ও বিপুল খরচের যুক্তিতে ব্যাংকিং খাতের তীব্র লবিংয়ের মুখে তা থেকে পিছিয়ে এসে এই নতুন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।   ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্দেশনার অর্থ ব্যাংক কর্মকর্তাদের 'ইমিগ্রেশন অফিসার' বানিয়ে দেওয়া নয় কিংবা ঢালাওভাবে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করাও এর উদ্দেশ্য নয়।   বরং ব্যাংকগুলো যেন তাদের গ্রাহকদের চিনে ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে এবং সন্দেহজনক লেনদেন রোধ করতে পারে, সেই টুলস তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত এই ক্র্যাকডাউনটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন 'হোয়াইট হাউজ টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড'-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।   ফিনসেনের এই নির্দেশনা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি অমান্য করলে ব্যাংকগুলোকে কঠোর আইনি তদন্ত ও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে; যেমনটি গত মার্চ মাসে নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ক্যানাকর্ড জেনুইটিকে সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণে ব্যর্থতার জন্য রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনই সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি এবং ওয়ার্ক পারমিট বন্ধের পর ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের এটিই সর্বশেষ বড় ধাক্কা।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৮:২২
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যাকডোনাল্ডসে ফুটন্ত তেলে দগ্ধ হওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুললেন ম্যানেজার

ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় অভিবাসনবিরোধী অভিযান তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি, প্রায় ৩৯ হাজার গ্রেপ্তার

ছবিঃ গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চিকিৎসাসামগ্রীর বিশাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

0 Comments