বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নিউ বৃন্দাবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কীর্তন মেলা। শনিবার (২০ জুন) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলে পরদিন সকাল পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বিপুলসংখ্যক কৃষ্ণভক্তের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল সমবেত হরিনাম সংকীর্তন। এ ছাড়া পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন এবং প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে নিউ বৃন্দাবন প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আধ্যাত্মিক ও আনন্দঘন পরিবেশ।
আয়োজকেরা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী কলিযুগে আত্মিক উন্নতি ও পরমার্থ লাভের অন্যতম প্রধান উপায় হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন। তাদের মতে, ধ্যান, যজ্ঞ কিংবা বিগ্রহ অর্চনার মতো আধ্যাত্মিক সাধনাও ভগবানের দিব্যনাম কীর্তনের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের বাণী স্মরণ করে ভক্তরা বলেন, কীর্তন মানুষের হৃদয়কে নির্মল করে এবং ভগবানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করে।
এবারের কীর্তন মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রখ্যাত কীর্তনিয়ারা অংশ নেন। তাদের মধ্যে সুমন মজুমদারের নেতৃত্বে আটলান্টিক সিটির কীর্তনীয়া দল বিশেষভাবে উপস্থিত দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। দলের সদস্য তৃপ্তি সরকার, প্রদীপ দে, মেরি দে, গঙ্গা সাহা, চন্দন রায়, দীপা দে জয়া ও সোমা দেবের পরিবেশনায় ভক্তিমূলক আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উৎসবের একপর্যায়ে হাজারো কৃষ্ণভক্তের সম্মিলিত কণ্ঠে ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, হরে রাম হরে রাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নিউ বৃন্দাবন এলাকা। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রবাসে সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাজ্যের (ইউকে) বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার খুব দ্রুতই তার রাষ্ট্রীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিবাসন নীতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নীতি পরিচালনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চরম ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এই দাবি করেন, যা বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। নিজের অফিশিয়াল ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন, স্যার কিয়ার স্টারমার খুব শীঘ্রই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন বা নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন। ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কিয়ার স্টারমার দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রধান বিষয়ে সম্পূর্ণ ও মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—যার একটি হলো দেশের সামগ্রিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যটি হলো জ্বালানি নীতি, বিশেষ করে উত্তর সাগরের উন্মুক্ত তেল উত্তোলন সংক্রান্ত নীতি। এই ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ট্রাম্প তার লেখার শেষে স্টারমারের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের ঠিক কিছু সময় আগে রোববার সকালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকারের ভেতরে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের কারণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবারের মধ্যেই তার পদত্যাগের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের কারণে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মনোভাব এবং দলীয় সমর্থন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওই বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারক ও বিশ্বস্ত সূত্র এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে আগামী সোমবারের মধ্যেই তার চূড়ান্ত পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বিশ্ববাসীর সামনে ঘোষণা করতে পারেন। সরকারের ভেতরের এই চরম অস্থিরতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মূলত ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট এবং উত্তর সাগরের তেল ক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিয়ার স্টারমার সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ভবিষ্যদ্বাণী এবং বিবিসির এই আগাম প্রতিবেদন সত্যি হলে, তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল বড় ধরণের বড় পরিবর্তন ও চরম সাংবিধানিক সংকট নিয়ে আসবে। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ডাউনিং স্ট্রিট বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
নিউইয়র্কে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে ‘শেখ কামাল’ দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এবারের টুর্নামেন্টে মোট চারটি দল অংশ নেয়। দলগুলো হলো শেখ কামাল, শেখ রাসেল, ধানমন্ডি ৩২ এবং জয়বাংলা টাইগার্স। নিউইয়র্কের রেন্ডেল আইল্যান্ডের ৭৪ নম্বর মাঠে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের লড়াই শেষে ফাইনালে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে শিরোপা জিতে নেয় শেখ কামাল দল। রানার্সআপ হয় ধানমন্ডি ৩২। খেলা শেষে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক মহাসচিব শাবান মাহমুদ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রফিকুর রহমান রফিক, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মো. সেবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এইচ এম ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলিট স্পন্সর নুরুল আমিন ভূঁইয়া বাবু, প্ল্যাটিনাম স্পন্সর মহিন উদ্দিন দুলাল, ডায়মন্ড স্পন্সর সাইফুল ইসলাম এবং গোল্ডেন স্পন্সর সোহাগ পাটওয়ারী। অতিথিরা বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, সংগঠনের গতিশীলতা ত্বরান্বিত করা এবং নতুন কমিটির নেতাকর্মীদের একত্রিত করার লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তারা জানান, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে একটি ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করা হয়েছে।
টেক্সাসের ক্যাটি শহরে একটি টেসলা গাড়ি আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘরের ভেতরে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শনিবার হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি তার টেসলা মডেল-৩ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় গাড়িটিতে একটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য, গাড়িটি নির্ধারিত লেনে চলতে ব্যর্থ হয় এবং একপর্যায়ে সড়ক ছেড়ে পাশের একটি আবাসিক বাড়ির দিকে চলে যায়। পরে উচ্চগতিতে বাড়িটির দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন এম. আভিলা নামে এক নারী। গাড়ির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে আবাসিক এলাকার সড়ক দিয়ে ছুটে গিয়ে বাড়িটিতে আঘাত হানে। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও দুর্ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ফলে বাড়িটির সামনের অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইটের দেয়াল ভেঙে গাড়িটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চালক মাইকেল বাটলারও আহত হয়েছেন। তবে তার মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহল সেবনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) টেসলার পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চালনা সহায়তা প্রযুক্তি সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হলেও এসব ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রযুক্তি সক্রিয় থাকলেও চালকের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করছিল এবং চালকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি কর্তৃপক্ষ।